"প্রেম হল বিনিসুতোর মালা" - প্রমথ চৌধুরীর অসাধারন কিছু কথা


☞ অতি বিজ্ঞাপিত জিনিসের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অতিক্রম কারণ মানবহৃদয়ের স্বাভাবিক দুর্বলতা রুপোর বিজ্ঞাপনের বল এবং মানব-মনের সরল বিশ্বাস এর উপর বিজ্ঞাপনের ছল প্রতিষ্ঠিত

☞ অন্ধকারের একটা অটল সৌন্দর্য আছে এবং তার অন্তরের গুপ্ত শক্তি নিহিত থাকে । যে ফুল দিনে ফোটে, রাত্রে তার জন্ম হয় একথা আমরা সকলেই জানি । সুতরাং নবযুগে যে সকল মনোভাব প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে তার অনেক গুলির বীজ মধ্য যুগে বপন করা হয়েছিল । 

☞ আমরা মুখে কি বলি তার চাইতে আমরা মনে কিভাবে তার মূল্য আমাদের কাছে ঢের বেশি কেননা সত্যের জ্ঞান না হলে মানুষ সত্য কথা বলতে পারে না । 

 ☞ ভুল করেছি - এই জ্ঞান জন্মানো মাত্র সেই ভুল তৎক্ষণাৎ সংশোধন করা যায় না কিন্তু মনের স্বাধীনতা একবার লাভ করিতে পারিলে ব্যবহারের অনুরূপ পরিবর্তন শুধু সময় সাপেক্ষ । 

☞ সকলেই মরে, কিন্তু সকলেই আর প্রেমে পড়ে না । 

☞ প্রেম বস্তুটি হচ্ছে মূল্যহীন ফুলের বিনি সুতোর মালা

☞ পুরাকালে মানুষ যা কিছু ঘটে গেছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সমাজ হতে আলগা করা , দু-চার জনকে বহুলোক হতে বিচ্ছিন্ন করা । অপরপক্ষে নব যুগের ধর্ম হচ্ছে মানুষের সাথে মানুষের মিলন করা সমগ্র সমাজকে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ করা ,কাউকেই ছাড়া নয় ,কাউকেই ছাড়তে দেওয়া নয় । 

☞ লেখক এবং পাঠকদের মধ্যে এখন স্কুলমাস্টার দণ্ডায়মান । মধ্যস্থদের কৃপায় আমাদের সঙ্গে কবির মনের মিলন দূরে যায় । চার চক্ষুর মিলন ঘটে না । 

☞ এদেশে লাইব্রেরী সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে কিছু বেশি । 

☞ তাকেই যথার্থ সমালোচক বলে স্বীকার করি যিনি সাহিত্যের যথার্থ রসিক।

☞ সাহিত্যের হাসির শুধু মুখের হাসি নয় মনের হাসি হাসি হচ্ছে সামাজিক জনতার প্রতি প্রাণের বক্রোক্তি সামাজিক মিথ্যার প্রতি বক্রদৃষ্টি 

☞ একমাত্র আনন্দের স্পর্শে মানুষের মন ও প্রাণ সজীব সতেজ হয়ে উঠে সুতরাং সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে জীবনীশক্তি হ্রাস করা । 

☞ শ্রুতির অর্থ হচ্ছে সেই স্বর যা কানে শোনা যায় না ,যেমন দর্শনের অর্থ হচ্ছে সেই সত্য যা চোখে দেখা যায় না । যেমন দর্শন দেখবার জন্য দিব্যচক্ষু চাই । তেমন শ্রুতি শোনার জন্য দিব্যকর্ণ চাই ।

☞ বড়োকে ছোটর ভিতর ধরে রাখাই হচ্ছে আর্ট এর উদ্দেশ্য । 

☞ উকিল সমাজের একটা নীতি অথবা রীতি আছে যা সকলেই মান্য করে । সকলের স্ত্রীকে পরস্ত্রীর মত দেখে অর্থাৎ কেহই প্রকাশ্যে তার দিকে নজর দেয় না । 

☞ উন্নতি যে পথে পথে অবনতি সাপেক্ষ তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে । 

☞ প্রতি কবির মন এক একটি স্বতন্ত্র রসের উৎস। কবির কার্য হচ্ছে সামাজিক মনকে সরস করা । কবির মনের সঙ্গে অবশ্য সামাজিক মনের আদান-প্রদানের সম্পর্ক আছে।  কবি কিন্তু সমাজের নিকট হতে যা গ্রহণ করেন  সমাজকে তার চেয়ে ঢের বেশি দান করেন । যদি কেউ প্রশ্ন করেন যে কবি এই অতিরিক্ত রস কোথা হতে সংগ্রহ করেন , তার উত্তরে আমরা বলব আধ্যাত্মিক জগত হতে । সে জগত অবাস্তবও নয় এবং তা পরম ব্যোমেতে অবস্থিতি করে না । 

"প্রেম হল বিনিসুতোর মালা" - প্রমথ চৌধুরীর অসাধারন কিছু কথা "প্রেম হল বিনিসুতোর মালা" - প্রমথ চৌধুরীর অসাধারন কিছু কথা Reviewed by WisdomApps on ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২১ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.