ঠাকুর শ্রীশ্রী অনুকুল চন্দ্রের বাণী - Quotes by Thakur Anukul Chandra

পরমপিতা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণী

quotes_by_thakur-anukul_chandra


মানুষ ঊষা-নিশায় যদি নামধ্যান করে,সকালে উঠে নাম ক'রে কষে ইষ্টভৃতি করে, এবং চলাফেরায় জপ চালায় নিয়মিতভাবে, তার বেকায়দায় পড়া অসুবিধা আছে। মানুষের আদত জিনিষ মাথা, মাথাটা যদি সুস্থ,সাবুদ,সক্রিয় থাকে, আর চলা যদি তদনুপাতিক হয়,তাহলে সে কী করতে পারে আর না পারে, তার কুল-কিনারা নাই।সব experimental fact(পরীক্ষিত সত্য)।

• যে খেয়াল বিবেকের অনুচর, তারই অনুসরণ কর, মঙ্গলের অধিকারী হবে।

• যে-কর্মে মনের প্রসারণ নিয়ে আসে তাই সুকৰ্ম্ম, আর যাতে মনে সংস্কার, গোঁড়ামি ইত্যাদি আনে, ফলকথা, যাতে মন সংকীর্ণ হয় তাই কুকর্ম।

• সংযত হও, কিন্তু নির্ভীক হও। সরল হও, কিন্তু বেকুব হয়াে না। তাই বলে দুৰ্বল হৃদয় হয়াে না।

• পৃথিবীর পূর্ধ্বতন অবতার, প্রেরিত ও মহাপুরুষদিগকে আপ্ত বলিয়া স্বীকার করা এবং সন্ত্ৰমের সহিত তাঁহাদের প্রতি সশ্রদ্ধ থাকা উচিত।

• বিনীত হও,.মানুষের নিজ প্রবৃত্তিগুলির আকাঙ্খপূরণের টানের চাইতে ইষ্টে বা ইঙ্গিতে বেশি টান না থাকিলে অদৃষ্ট বা সঞ্চিত কৰ্ম্মফলের বিরুদ্ধে কিছুতেই কৃতকার্য হওয়া যায় না। 

• অর্থ, মান, যশ ইত্যাদি পাওয়ার আশায় আমাকে ঠাকুর সাজিয়ে ভক্ত হ’য়াে না, সাবধান হওঠকবে; তােমার ঠাকুরত্ব না জাগলে কেহ তােমার কেন্দ্রও নয়, ঠাকুরও নয়—ফাঁকি দিলেই পেতে হবে তা। 

• জগতে মানুষ যত-কিছু দুঃখ পায় তাঁর অধিকাংশই কামিনী-কাঞ্চনে আসক্তি থেকে আসে, ও দুটো থেকে যত দূরে সরে থাকা যায় ততই মঙ্গল।

• যদি সাধনায় উন্নতি লাভ করতে চাও, তবে কপটতা ত্যাগ কর।

anukul thakur bani

• প্রত্যেকের মা-ই জগজ্জননী। প্রত্যেক মেয়েই নিজের মায়ের বিভিন্ন রূপ, এমনতর ভাবতে হয়।

• অমৃতময় বারি কপটের নিকট তিক্ত লবণময়, তীরে যাইয়াও তাঁর তৃষ্ণা নিবারিত হয় না।

• যদি শিক্ষা দিতে চাও তবে কখনই শিক্ষক হতে চেওনা। আমি শিক্ষক, এই অহঙ্কারই কাউকে শিখতে দেয় না।

• অসৎ কথা বলার চেয়ে সৎ কথা বলা ভাল নিশ্চয়, কিন্তু বলার সঙ্গে কাজ করা ও অনুভব না থাকলে কী হ’ললা—বেহালা, বীণা যেমন বাদানুগ্রহে বাজে ভাল, কিন্তু তারা নিজে কিছু অনুভব করতে পারে না।

• পরনিন্দা করাই পরের দোষ কুড়িয়ে নিয়ে নিজে কলঙ্কিত হওয়া; আর, পরের সুখ্যাতি করা অভ্যাসে নিজের স্বভাব অজ্ঞাতসারে ভালো হয়ে পড়ে। তাই বলে কোনো স্বার্থবুদ্ধি নিয়ে অন্যের সুখ্যাতি করতে নেই। সে তো তোষামোদ। সেক্ষেত্রে মন ও মুখ প্রায়ই এক থাকে না। সেটা কিন্তু বড়ই খারাপ, আর তাতে নিজের স্বাধীন মত প্রকাশের শক্তি হারিয়ে যায়।

• যেমন ডালিম পাকলেই ফেটে যায়, তােমার অন্তরে সৎভাব পাকলেই আপনি ফেটে যাবে—তােমায় মুখে তা প্রকাশ করতে হবে না।

• ধনী—হও ক্ষতি নাই, কিন্তু দীন, এবং দাতা হও। ধনবান যদি অহঙ্কারী হয়, সে দুর্দশায় অবনত হয়।

• সৎ-চিন্তায় নিমজ্জিত থাক, সৎ-কৰ্ম্ম তােমার সহায় হবে এবং তােমার চতুর্দিক সৎ হয়ে সকল সময় তােমাকে রক্ষা করবেই করবে।

• যেরূপ আদর্শে তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে, তােমার স্বভাবও সেইভাবে গঠিত হবে, আর তােমার দর্শনও তদ্রুপ হবে। 


• .নিষ্ঠা রেখাে, কিন্তু গোঁড়া হয়াে না। সাধু সেজো না, সাধু হতে চেষ্টা কর।

• কোন মহাপুরুষের সঙ্গে তােমার নিজের তুলনা করাে না, কিন্তু সর্বদা তাঁর অনুসরণ কর।

• যখনই দেখবে, গুরুর আদেশে শিষ্যের আনন্দ হয়েছে, মুখ প্রফুল্ল হয়ে উঠেছে, তখনই বুঝবে যে তার হৃদয়ে শক্তি এসেছে।

• গুরুকে আমার বলে জানতে হয়—মা, বাপ, পুত্র ইত্যাদি বাড়ির লােককে ভাবতে গেলে যেন তাঁর মুখও মনে পড়ে। গুরুই ভগবানের সাকার মূর্তি, আর তিনিই অখণ্ড।

• নিজ হাতে গুরুসেবা করলে অহঙ্কার পাতলা হয়, অভিমান দূরে যায়, আর প্রেম আসে।

• নাম করলেই হয়,নামে সব আবর্জ্জনা জ্ব'লে যায়।সর্ব্বক্ষণ নাম করতে হয়, কাজকর্ম্ম বাদ না দিয়ে।নাম করতে থাকলে প্রথম একটা জিনিষ হয়,ইষ্টের সান্নিধ্য-প্রলোভন দারুণ বেড়ে যায়।কিন্ত indolent (অলস)সান্নিধ্য-প্রলোভন,যা' সেবা-প্রধান নয়,তা' helpful(সহায়ক)হয় না।সান্নিধ্য -প্রলোভন হওয়া চাই তরতরে সেবাপ্রতুল।নাম খুব চেতানো লাগে অনুরাগ আবেগ নিয়ে--কর্ম্মপ্রবণতাকে প্রবুদ্ধ ক'রে। এতে চরিত্রে জমে ওঠা মলিনতার জটপাকান নীরেট জঞ্জালগুলি পুড়ে যায়,ফেটেফুটে যায়,আবার আসে normal balance ( স্বাভাবিক সমতা)।


• আমরা বদভ‍্যাসের কাছে এমনভাবে আত্মসমর্পণ করি যে, মনে হয়, যত ক্ষতি হয় হোক কিন্তু এটা ছাড়ব না। প্রবৃত্তির দাসত্ব হ'লে এমনতরই হয়, আর ইষ্টের প্রতি অনুরাগে আসে একটা wise conscious adjustment and manipulation of all complexes and obstacles (প্রবৃত্তি এবং বাধাগুলির প্রাজ্ঞ সচেতন বিন‍্যাস ও পরিচালনা)। এখানেও উপভোগ, ওখানেও উপভোগ। কিন্তু একটা যেন চিটে গুড় আর একটা যেন মিশ্রীর পানা। অদম‍্য অনুরাগে নিজেকে ইষ্টের সঙ্গে বেঁধে ফেলে সেইভাবে ঝাঁপ দিতে হয়, তবেই অসাধ‍্য সাধন করা যায়। শ্রীকৃষ্ণের বা বুদ্ধদেবের কি ভোগের বস্ত কম ছিল? কিন্তু কিছুই আকর্ষণ বিস্তার করতে পারল না তাঁদের মনের উপর। অত কঠোরতার মধ্যে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানই তাঁদের কাছে প্রীতিপদ মনে হ'ল। এটা একটা প্রেরণাপ্রদীপ্ত উপভোগ। এতে সত্তার যে উল্লাস হয়, উদ্দীপনা হয়, তাতে কষ্টটাও সুখের মনে হয়। আমরা ঐ রস পাইনি ব'লে ওটাকে কষ্ট ব'লে মনে করি। কিন্তু যার মন মাতে, প্রাণ মাতে সে আদর্শের পূরণার্থে চরম দুঃখদুর্দশা হাসি মুখে বরণ ক'রে নেয়। তা যেন তার আনন্দের অপরিহার্য উপাদান।


• বন্ধুকে একটু কম ভালবাসিস্ ক্ষতি নাই, কিন্তু শত্রুকে খুব বেশী । সমুদ্রের জল থেকে লবণ বার করলে জলও খাদ্য, লবণও খাদ্য । 


• তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। তাঁর বিভিন্ন প্রকৃতি আছে। বহুবিদ রকম আছে। সেই বহুদার মধ্য দিয়ে তিনি একধাকে জানতে চাই আমরা। তাই সঙ্গতীশীল কৃতিদীপ্ত অনুচলন ও ইষ্টনিষ্ঠা চাই। তা না হলে ঠিক ঠিক উপভোগই করা যায় না। 


• মানুষের আত্মা যেমন অমর, নিষ্ঠাও তেমনি অমর। আমরা যে অমৃত-অমৃত করি, তার চাবিকাঠি হ’ল ইষ্টনিষ্ঠা। ইষ্টনিষ্ঠা যেই একজনকে পেয়ে বসে, তখন এক-একটা প্রবৃত্তির সিন্দুকের ডালা খুলে যেতে থাকে এবং বিভিন্ন প্রবৃত্তি ইষ্টমুখী অর্থাৎ একমুখী হ'তে থাকে। তখন বােঝা যায় কামের স্বরূপ কী, ক্রোধের স্বরূপ কী লােভ, মােহ,মাৎসর্য্যের স্বরূপ কী! এবং এগুলির প্রত্যেকটির সপরিবেশ নিজের সত্তাপােষণী বিনিয়ােগ করা যায় কিভাবে। তখন মানুষ প্রবৃত্তির হাতে গিয়ে পড়ে না, বরং প্রবৃত্তিগুলি তার হাতে খেলার পুতুলের মত হ'য়ে দাঁড়ায়। বেফাঁস চলন বন্ধ হ'য়ে যায়। এইভাবে মানুষের ভিতরে অখণ্ড ব্যক্তিত্বের প্রতিষ্ঠা হয়। সে প্রাজ্ঞ হ'য়ে ওঠে। বােধিসত্ত্ব হ'য়ে ওঠে।


• একটা মেয়ে যদি ভ্রষ্টচরিত্রাও হয়, আর সে যদি পরে শ্রেষ্ঠপরায়ণা হ'য়ে ওঠে, তাহ'লে তার বরং নিস্তার আছে। কিন্তু কোন মেয়ে যদি দৈহিক পবিত্রতা বজায় রেখেও মানসিক অপবিত্রতা নিয়ে চলে, অথচ উদ্ধত দাম্ভিকতায় নিজের চাইতে শ্রেষ্ঠ ব'লে কাউকে ভাবতে না পারে, নিজের হামবড়াই প্রতিষ্ঠার খেয়ালই তা'র যথাসর্বস্ব হয়, তা'র ইহকাল- পরকালে গতি নেই। কতজনের বেলায় দেখা গেছে, শ্রেয়নিষ্ঠার ফলে তারা অমর হ'য়ে আছে। মেরী ম্যাগডালিন, আম্রপালী, পিঙ্গলা বেশ্যা। এদের জীবনের দিকে চেয়ে দেখ না?" 


• ভাগ্য মানে ভজনফল বা কর্ম্মফল।ভাগ্য এসেছে ভজ-ধাতু থেকে।ভজ-ধাতু মানে ভক্তি, অনুরাগ, সেবা,আশ্রয়, প্রাপ্তি, বিভাগ, দান ইত্যাদি।অনেকের পূর্ব্বজন্মে অনেকখানি করা থাকে, যার ফল এ-জন্মে পায়।তাই মনে হয় কিছু না ক'রেও পেল।কিন্তু পেতে গেলেই করতে হয়।অবশ্য দাগাবাজি ক'রে পাওয়ার কথা,বলছি না।পূর্ব্বজন্মের সুকৃতির কথা যা' বললাম, ওর উপর নির্ভরশীল না হ'য়ে যা' পেতে গেলে যা করতে হয়, বর্ত্তমানকালে তা' বিধিমতো করার তালে থাকাই ভাল।ঐ করাই পাইয়ে দেয়।অদৃষ্টবাদী ও আলস্যপরায়ণ হ'লে মানুষ পদে-পদেই ঠ'কে যায়।যে যা' পায় তা' করেই পায়।আগের করা এগোন থাকলে কর্ম্মদক্ষতা, বুদ্ধি ও চরিত্র তদনুযায়ী বিকশিত হয়।তার বিহিত প্রয়োগে মানুষ এ-জন্মে অপেক্ষাকৃত কম চেষ্টায় কৃতকার্য্যতা লাভ করে।


আমার বাবা বলতেন, "মানুষকে দিও, কিন্তু খুব বেশী দিও না, বেশী দিলে তার ক্ষতি হবে। আমি বলি, ততটুকু দিও যাতে সে বেঁচে থাকে। কিন্তু অভাব পুরোপুরি না ঘোচে, সেই অভাব পূরণের জন্য কিছু-কিছু খাটে, একেবারে আলসে যেন না হয়ে যায়। আর এমনভাবে দেওয়া ভাল যাতে ঐ দেওয়াটাই তোমার ক্ষতির কারণ না হয়।" কিন্তু মা বলতেন-"তা কেন? দেব তো যত পারব দেব, উজাড় ক'রে দেব, এমনভাবে দেব যে ডান হাতে দেব বাঁ হাত জানবে না-দেওয়ার মধ্যে আবার বিবেচনা কী?" -আমি এখন দেখছি-বাবার কথাই ঠিক। কিন্তু আমার প্রকৃতি এমন যে মা'র ধরণে না চ'লে পারি না।

ঠাকুর শ্রীশ্রী অনুকুল চন্দ্রের বাণী - Quotes by Thakur Anukul Chandra ঠাকুর শ্রীশ্রী অনুকুল চন্দ্রের বাণী -  Quotes by Thakur Anukul Chandra Reviewed by WisdomApps on জুলাই ১৩, ২০২১ Rating: 5

1 টি মন্তব্য:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.