Featured Posts

[Travel][feat1]

মাত্র ৫৫৩০ টাকায় ভালোভাবে ২ জন , ২ রাত ৩ দিন কীভাবে দার্জিলিং ঘুরে আসতে পারবেন - দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড

June 18, 2019
এই লেখাটি আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি । খুব কম খরচে দুই জন মানুষ অনায়াসে দার্জিলিং ঘুরে আসতে পারবেন । থাকা , খাওয়া ও সাইট সিন সব নিয়ে ৫৫৩০ টাকার ভিতর বেশ ভালোভাবে হয়ে যাবে ।  কেনাকাটা করার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আপনার , ওটার উপর আমার কিছু করার নেই । তাহলে আসুন স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নিই কীভাবে এত কম খরচে আপনি ঘুরতে পারবেন ? 


ট্রেনের টিকিট ঃ ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান অন্তত ৩ মাস আগে করবেন এবং মনস্থির করার সাথে সাথেই টিকিট কেটে রাখলে সঠিক দামে কনফার্ম টিকিট পাবেন । হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার ভাড়া মাত্র ৩২০ টাকা / হেড । তাহলে দুইজনের ভাড়া পরবে ৬৪০+ ট্যাক্স = ৬৫০ টাকা ধরুন । 
দুইদিনের ট্যুর ধরে নিয়ে রিটার্ন টিকিট টাও কেটে নিন । একই ভাড়া পড়বে । তাহলে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত যাওয়া ও ফেরত আসা = ১৩০০ টাকায় কমপ্লিট । 
চেষ্টা করবেন এমন ট্রেন ধরার যেটা ভোর বেলা নিউ জলপাইগুড়ি পৌছাবে । ভোরের দৃশ্য খুব সুন্দর । 


নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং ঃ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের কাছে আটোস্ট্যান্ড আছে । ২০টাকা করে ভাড়া নেবে , পৌছে যাবেন তেঞ্জিং নোরগে বাসট্যান্ড । এখানেই শেয়ার জিপ পেয়ে যাবেন । ভাড়া মাথা পিছু ১৫০ টাকা । ৩ ঘন্টা জার্নি করে দার্জিলিং পৌছে যাবেন । এখানে দুজনের মোট খরচ - ৩০০+৪০ = ৩৪০ টাকা । 
কোন হোটেলে থাকবেনঃ দার্জিলিং-এ প্রচুর হোটেল আছে । ভ্রমণ সিজন - অর্থাৎ গরম কালে ভিড় বেশী থাকে তাই ঘরের ভাড়া বেড়ে যায় । অন্য সময় বেশ কম । অনলাইনে বুক করলে মাত্র ৪০১ টাকা থেকে ১০০০  টাকার ভিতর অনেক হোটেল পেয়ে যাবেন । ৭০০ - ৮০০ টাকার হোটেলও বেশ ভালো । অ্যাটাচ বাথরুম , গিজার পেয়ে যাবেন ৭০০টাকার রুমে । ধরে নিলাম ৭৫০ টাকা রেটে রুম বুক করলেন । তাহলে দু'দিনে রুম রেন্ট = ১৫০০ টাকা । 


মেন বিষয় , সাইট সিন ঃ দার্জিলিং এ দুই দিনের প্ল্যান নিয়ে গেলে একদিন সাইট-সিন করবেন আর একদিন পায়ে হেটে ঘুরে বেড়াবেন । পায়ে হেটে ম্যাল , ম্যাল মার্কেট , মহাকাল মন্দির , চউক বাজার , নেহেরু মার্কেট , ছোট ছোট মনাস্ট্রি , কৃষ্ণ মন্দির  ঘুরে দেখতে পারেন । এতে কোনো খরচা হবে না । কোথাও কোনো এন্ট্রি টিকিট নেই । 
দ্বিতীয় দিন সাইট সিন করার জন্য আগের দিন  অবশ্যই গাড়ি বুক করতে হবে । একটা গাড়ি বুক করলে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা লাগে । দুজনের জন্য বুক করবেন না । গাড়ির ড্রাইভারদের বললেই তারা আরও এক জোড়া টুরিস্ট খুঁজে দেবে , একটা ৪ সিটার গাড়ি ৪ জন মিলে ২০০০ টাকায় বুক করলে মাথাপিছু মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া লাগবে । 
অতএব , দুই জনের সারাদিন সাইট সিনের খরচ মাত্র ৫০০+৫০০ = ১০০০ টাকা । গাড়ি আপনাকে নিয়ে যাবে , টাইগার হিল , বাতাসিয়া লুপ , ঘুম মনাস্ট্রি , রক গার্ডেন , টি গার্ডেন , চিড়িয়াখানা , রোপওয়ে , তেঞ্জিং রক , পিস প্যাগোডা , বুদ্ধ টেম্পেল  প্রভৃতি জায়গায় । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো টিকিট লাগে না । বাতাসিয়া লুপ ও চিড়িয়াখানা দেখতে টিকিট কাটতে হবে , টিকিট ও ছবি তোলার ৫০ টাকা খরচ ধরে দুজনের মোট ২০০ টাকা খরচ হবে ।  রোপওয়ের খরচ ৩৫০ টাকা / হেড , খরচ বাঁচাতে এটা বাদ দিতে পারেন । যাইহোক , সাইটসিন করতে মোট খরচ = ১২০০ টাকা 

খাওয়া দাওয়া ঃ প্রথমেই মনে রাখবেন , ছাতু , চিড়ে , মুড়ি , বিস্কুট - এগুলো বাড়ি থেকে যথেষ্ট পরিমান সাথে নিয়ে বেরোবেন । দার্জিলিং এ খাবারের দাম বেশ ভালো । মোটামুটি দেখে নিন এই কদিনের খাবার তালিকা - 
প্রথম দিন
১।  ট্রেনে ডিনার - ( বাড়ি থেকে নিয়ে যাবেন )
২। ট্ব্রেরেন থেকে নেমে ব্রেকফাস্ট - ছাতু / চিড়ে খেয়ে নিন 
২। হোটেলে পৌছে দুপুরের খাবার - নিরামিষ ভাত থালি ১০০ টাকা মিনিমাম । দুজন ২০০ টাকা । 
৩। সন্ধ্যের খাবার - মোমো খেতে পারেন । ১ প্লেট ৪০ টাকা 
৪। রাত্রের খাবার - রুটি ১০ টাকা পিস । ৬ পিস রুটি + তরকারী = ১০০ টাকা 
দ্বিতীয় দিন 
১। ব্রেকফাস্ট - ছাতু / মুড়ি / চিড়ে খেয়ে নিন 
২। লাঞ্চ - আমিষ থালি  - ১৫০ টাকা / প্লেট । দুজনের - ৩০০ টাকা 
৩। সন্ধ্যের খাবার - চাউমিন খেতে পারেন । ১ প্লেট ৫০ টাকা - দুজনের হয়ে যাবে 
৪। ডিনার - একই হিসাবে মোট ১০০ টাকা 
ফেরত আসার দিন 
১। ব্রেকফাস্ট - ছাতু / মুড়ি খেয়ে নিন 
২। ট্রেনে খাবার - মালদা স্টেশনে ট্রেন এসে অনেকক্ষণ দাঁড়ায় । ৫ টাকায় পরোটা , ১০ টাকায় দই , ৫ ৩। টাকায় মিস্টি পেয়ে যাবেন । ৫০ টাকায় দুজনের খাওয়া হয়ে যাবে । 

মোট খাবার খরচ - ৭৯০ টাকা + চা'য়ের খরচ = ৮৫০ টাকা ধরা যাক । 



ফেরত আসার দিন ঃ হোটেল যদি ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের কাছে না থাকে তাহলে একটা ট্যাক্সি করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে আসতে হবে - খরচ - ৩০০ টাকা, অন্যথায় এই খরচ লাগবে না  । ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে শেয়ার ট্যাক্সি ডাইরেক্ট নিউ জলপাইগুড়ি আসবে । খরচ দুজনের মিলিয়ে - ৩৪০ টাকা । 


সর্বমোট খরচ ঃ 

যাওয়া আসা ঃ ১৩০০ + ৩৪০ + ৩৪০ = ১৯৮০ টাকা 

সাইট সিন ও টিকিটঃ ১২০০ টাকা 

হোটেল খরচঃ ১৫০০ টাকা 

খাওয়া দাওয়াঃ ৮৫০ টাকা  

দুই জন মানুষের ২ রাত তিন দিনের দার্জিলিং ঘোরা , থাকা , খাওয়ার মোট খরচ  = ৫৫৩০ টাকা 



** রোপওয়ে চড়লে , ৭০০ টাকা জুড়ে নেবেন - মোট ৬২৩০ টাকা 
** কেনাকাটার খরচ সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত ব্যাপার , তবে ৩০০০ টাকায় খুব ভালো কেনাকাটা করা যেতে পারে । বারগারিং করতে হবে । 

দার্জিলিং ঘোরার খুঁটিনাটি বিষয় , যেগুলো না জানলে আপনি ঠকে যাবেন , সেগুলোর উপর আমাদের একটি ভিডিও আছে দেখে নিন - ভীষণ উপকার পাবেন - লিঙ্ক YouTube






লেখাটি ভালো লাগলে , শেয়ার করে আমাদের উতসাহ বাড়াতে পারেন । 







  
মাত্র ৫৫৩০ টাকায় ভালোভাবে ২ জন , ২ রাত ৩ দিন কীভাবে দার্জিলিং ঘুরে আসতে পারবেন - দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড মাত্র ৫৫৩০ টাকায় ভালোভাবে ২ জন , ২ রাত ৩ দিন কীভাবে দার্জিলিং ঘুরে আসতে পারবেন - দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড Reviewed by WisdomApps on June 18, 2019 Rating: 5

রাশিফল বাংলা ১৬-০৬-২০১৯ থেকে ২২-০৬-২০১৯

June 16, 2019


মেষ রাশি: প্রায় নাগালের মধ্যে এসেও কোনো প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। রবিবার ভুল বোঝাবুঝি ও নৈরাশ্য। সোমবার মনের দিক থেকে খুশি থাকবেন না। মঙ্গলে অশুভ প্রভাব অব্যাহত। বুধে আটকে থাকা ক্ষেত্রে সুসংবাদ। বৃহস্পতিবার পরিবেশ কর্ম ও পরিবারের অনুকূলে। শুক্রে প্রয়োজনীয় কাজগুলি অনায়াসে হবে। শনিতে মনের দিক থেকে খুশি থাকবেন। 


বৃষ রাশি: প্রতিপক্ষ আপনার সাহায্য চাইতে পারবে না। রবিবার সুনাম অর্জনের সম্ভাবনা। সোমবার গতানুগতিক ভাবে দিনযাপন। মঙ্গলে বিরূপ পরিবেশ মানিয়ে চলতে হবে। বুধে নিশ্চিত পাওনা আটকে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নেওয়া অনুচিত। শুক্রে দুশ্চিন্তায় দিন কাটবে। শনিতে বহুদিন পর শুভ প্রভাব থাকবে।


মিথুন রাশি: প্রিয়জনের হাবভাব বুঝে দরকারি কথা বলে দিন। রোববার নিজের উদ্যোগে জয়ী হতে পারেন। সোমবার পারিবারিক ঘটনায় আপনার উপস্থিতি প্রয়োজন। মঙ্গলে জরুরি ব্যাপার আপোষে সমাধান করুন। বুধে অর্থকরী সাফল্য। বৃহস্পতিবার ও শুক্রে সমস্যা বাড়তে পারে। শনিতে বাইরের ঝঞ্ঝাট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।


কর্কট রাশি: মূল উদ্দেশ্য থেকে না সরে নিজের বিষয় ভালোভাবে গুছিয়ে নেবেন। রবিবার ব্যস্ততার ভেতরে চলতে হবে। সোমবার অবস্থা বুঝে এগোনো দরকার। মঙ্গলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বেরিয়ে আসার আনন্দ পাবেন। বুধে অপেক্ষার অবসান, ন্যায্য প্রাপ্তি। বৃহস্পতিবার প্রিয়জনের সান্নিধ্য। শুক্রে অনুকূল প্রভাব অব্যাহত। শনিবার পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকম প্রভাবই প্রকট থাকবে। 


সিংহ রাশি: আপনার যুক্তি সবাই মেনে নিতে চাইবে। রবিবার কোনো ঘটনায় দুঃখ পেতে পারেন। সোমবার তাড়াহুড়ো করলে ভুল বেশি হবে। মঙ্গলবার অস্বস্তি বাড়বে। বুধে বিকেলের পর উন্নতির সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার পরিবেশ অনুকূল থাকবে। শুক্রে নানা ঘটনার সমন্বয় দিন কাটবে। শনিবার পারিবারিক জীবনে শান্তিপূর্ন।


কন্যা রাশি: অজানা কারণে দিনগুলি কাজে লাগাতে পারবেন না। রোববার সহোদরস্থানীয় কাউকে পেয়ে ভালোই কাটবে। সোমবার কর্ম নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে। মঙ্গলবারে অশুভ প্রভাব বর্তমান। বুধে সন্তানের অসন্তোষ বুঝে ওঠা কঠিন। বৃহস্পতিবার প্রতিকূল প্রভাব আপনাকে এগোতে দেবে না। শুক্রে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন। শনিতে বাধা থেকে অব্যাহতি।


তুলা রাশি: শরীর নিয়ে ঝকমারি থাকবে, পরিবেশ থেকে সাহায্য পাবেন। রোববার ভ্রমণের ব্যাপারে বিবেচনা করে কথা দিন। সোমবার বিশ্বাসভাজন ব্যক্তির দ্বারা উপকৃত হবেন। মঙ্গলে বুদ্ধিবলে কার্যোদ্ধার করুন। বুধে সন্ধ্যার আগে দরকারি কাজ শেষ করুন। বৃহস্পতিবার অশুভ পরিবর্তন। শুক্রে অপ্রীতিকর পরিবেশ। শনিবার একইরকম কাটবে।


বৃশ্চিক রাশি: প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আরও ছোট করে বক্তব্য বলুন। রবিবার অনুকূল প্রভাব অব্যাহত। সোমবার কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আরও বিচক্ষণতার দরকার। মঙ্গলে আত্মীয়স্বজনের দোষারোপ করে লাভ নেই। বুধে ঝুঁকি এড়িয়ে চলুন। বৃহস্পতিবার তোয়াজকরে কাজ হাসিল করতে হবে। শুক্রে স্থিতিশীল পরিবেশ। শনিতে পরিবারে বাধা।


ধনু রাশি: আবেগপ্রবণ হয়ে কর্মে যোগ দিতে দেরি করবেন। রবিবার অসুবিধার মধ্যে থাকবে। সোমবার অন্যরকম চিন্তা স্থির সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হবে। মঙ্গলে গবেষণামূলক কাজে শুভ। বুধে প্রয়োজনীয় ব্যাপারে কাজ শেষ করুন। বৃহস্পতিবার সব গুছিয়ে উঠতে হিমশিম খাবেন। শুক্রে কথা দিয়েও রক্ষা করতে পারবেন না। শনিতে শুভ পরিবর্তন।


মকর রাশি: কাল্পনিক দুশ্চিন্তা থাকবে। রবিবার অগ্রজসম কেউ সাহায্য করতে পারে। সোমবার ছোট ব্যাপারেও নিরাশ হবেন। মঙ্গলে বিপক্ষ পরিবেশ থাকায় অগ্রগতি ব্যাহত। বুধে চিন্তামুক্ত হবার সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার অনুকূল যোগাযোগ। শুক্রে শান্তিতেই কাটাবেন। শনিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে সেরকম লাভ হবে না।


কুম্ভ রাশি: বেশ নিশ্চিত ভাবে দিনগুলি কাটবে। রবিবার  গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বিশেষ সম্মান। সোমবার বকেয়া পাওনা পেয়ে যেতে পারেন। মঙ্গলবার আশাপ্রদ যোগাযোগ। বুধে দায়িত্বপূর্ণ কাজগুলি শেষ করুন। বৃহস্পতি, শুক্রে ঝুঁকি নিলে ক্ষতির আশঙ্কা। শনিতে মোটামুটি ভালোই কাটবে।


মীন রাশি: উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ আপনার দাবি মেনে নেবে। রবিবার উদাসীনতার জন্য সুযোগ হাতছাড়া হবার আশঙ্কা। সোমবার কর্মস্থলে অনুকূল যোগাযোগ। মঙ্গলে পরিচিত মহলে যোগাযোগ বাড়বে। বুধবার স্বাধীনভাবে কাজ করে শান্তি পাবেন। বৃহস্পতিবার অর্থযোগ শুভ। শুক্রে সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যস্ততা বাড়বে।  শনিতে স্বস্তি কম থাকবে।
রাশিফল বাংলা ১৬-০৬-২০১৯ থেকে ২২-০৬-২০১৯ রাশিফল বাংলা ১৬-০৬-২০১৯ থেকে ২২-০৬-২০১৯ Reviewed by WisdomApps on June 16, 2019 Rating: 5

যে ৫ টি কারনে - ডিমের খোসা খাওয়া উচিৎ প্রতিদিন

June 12, 2019
আমাদের কাছে পরিচিত সবচেয়ে পুষ্টিকর এবং সুস্থ খাদ্য সামগ্রীগুলির মধ্যে ডিম অন্যতম , এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের  ব্রেকফাস্ট খাদ্যের অংশ হিসাবে ডিম অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয় যে, ডিমগুলির মতোই, ডিমের খোসাগুলি বিভিন্ন পুষ্টির সাথেও আসে এবং স্বাস্থ্য উন্নতির ক্ষেত্রে খাদ্য হিসাবে অসাধারণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম । 

যদিও, ভোজ্য অংশগুলি যেমন ডিমের কুসুম বা ডিমের সাদা অংশ গ্রহণের পরে অধিকাংশ লোক ডিমের বাকি অংশ ফেলে দেয় ।  কিন্তু , ডিম শেলগুলিও খাওয়া যায়। আসুন eggshells-এ থাকা প্রধান স্বাস্থ্য সুবিধার দিকে তাকানো যাক  । 
সামগ্রিক সুস্থ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন - গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে ডিমের খোসা গুলো খাওয়ার সর্বোত্তম উপায় পাউডারের আকারে এবং নিয়মিতভাবে এই পাউডারটি বিভিন্ন খাবারে সাথে যোগ করে গ্রহণ করলে,  সহজেই  সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতা রক্ষা করা যেতে পারে। 


ডিমশেলে উপস্থিত হায়ালুরোনিক এসিড আপনার ত্বককে আলোকিত করতে পারে, তবে চন্দ্রোইটিন, কোলাজেন এবং গ্লুকোজামিনের মতো অন্যান্য উপাদান গুলি গাঁটের যন্ত্রণা দূর করতে সহায়তা করে।

দেহের বিষাক্ত উপাদান নির্মূল করতে - রক্ত ​​পরিষ্কার করা বা রক্ত থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদানগুলি নির্মূল করার জন্য ডিমশেল পাউডার একটি দুর্দান্ত সমাধান হতে পারে। কমপক্ষে তিন গ্লাস  , ডিমশেল পাউডার এবং জলের  মিশ্রণ প্রতিদিন খাদ্য হিসাবে গ্রহন করলে  শরীরের বিষাক্ত এজেন্টকে কার্যকরভাবে মুছে ফেলা যায় ।

থাইরয়েড গ্রন্থিগুলিও চিকিত্সা করতে - থাইরয়েড সমস্যা সমাধানের  জন্য আপনি  ডিমের খোসাগুলোকে চূর্ণ করে, এতে লেবুর রস যোগ করে, কমপক্ষে 7 দিনের জন্য ফ্রিজে এটি সংরক্ষণ করে রাখুন । প্রতিদিন সকালে 1 চা চামচ গুড়ো মধু মিশিয়ে  খালি পেটে খেলে ভীষণ উপকার পাবেন । 


গ্যাস্ট্রিক আলসারের নিরাময়ের উপায় ডিমের খোসা  - গ্যাস্ট্রিক আলসার নিরাময় করার জন্য সর্বাধিক কার্যকরী প্রাকৃতিক প্রতিকারের ক্ষেত্রে ডিমশেলগুলির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিমশেলের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টিকর উপাদান গুলি  গ্যাস্ট্রিক আলসারের অবস্থার উন্নতির জন্য আদর্শ পথ্য হিসাবে কাজ  করে । নরম ডিমশেল পাউডার এবং গরম দুধের মিশ্রণ নিয়মিত নেওয়া হলে আলসার বা গ্যাস্ট্রাইটিস নিরাময় হতে পারে।

হাড়গুলি শক্ত করে তুলুন - ক্যালসিয়াম শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির মধ্যে একটি, হাড়গুলি শক্তিশালী এবং সুস্থ রাখতে, শরীরের দৈনিক ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা জরুরি। ডিমসেলগুলির মধ্যে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়, বিশুদ্ধ ক্যালসিয়ামের এই উত্স  হাড় শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। 
ডিমশেল গুলি খাদ্য হিসাবে গ্রহন করলে স্বাস্থ্যকর দাঁত আজীবন টিকে থাকে । অতএব বলা চলে নিয়মিত খাদ্য হিসাবে এটি গ্রহন  করা যেতে পারে, এবং  স্বাস্থ্য ভাল রক্ষণাবেক্ষণে ডিমশেল বা ডিমের খোসারএকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি মূল্য আছে। 
অতএব, ডিমগুলোকে ব্যাবহার করার পর নিক্ষেপ করার পরিবর্তে মসৃণ ডিমশেল পাউডার তৈরি করে ডিমশেলগুলি ব্যবহার করা এবং খাদ্যতে পাউডার হিসাবে যোগ করা অবশ্যই নিজের স্বাস্থ্যের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সম্ভাবনা সরবরাহ করে।



লেখাটি লিখেছেন - 
ডায়েটেশিয়ান শিখা মহাজন 
[ লেখাটি শেয়ার করুন হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের মাধ্যমে ] 


ইংরাজী লেখার লিঙ্ক - 
যে ৫ টি কারনে - ডিমের খোসা খাওয়া উচিৎ প্রতিদিন যে ৫ টি কারনে - ডিমের খোসা খাওয়া উচিৎ প্রতিদিন Reviewed by WisdomApps on June 12, 2019 Rating: 5

জন্মদিন - পার্থ চক্রবর্তী

June 10, 2019

বাড়িতে মা ষষ্ঠীর পুজোটা বেশ যত্ন নিয়েই করেন সুচতনা দেবী। বিয়ে হয়ে আসার পর থেকেই শাশুড়ি মা বলেছিলেন জামাইষষ্ঠীর দিনে অরন্যষষ্ঠীর ভক্তিভরে পুজো করলে পরিবারের ধন সম্পদ সুখ শান্তি অক্ষয় হয়। ছেলেপুলেদের জীবনও অক্ষয় হয়। সেই দিন আর নেই। শাশুড়িও নেই, আর সুখ শান্তিও অক্ষয় হয়নি সুচেতনার। বিয়ের ৪ বছরের মধ্যেই স্বামীকে হারিয়েছিলেন। সেই শোকেই অল্পদিনের মধ্যেই গেলেন শাশুড়ি। ছোট্ট রঞ্জুকে বুকে নিয়ে জীবন সংগ্রামে নেমেছিলেন তিনি। স্বামীর অফিসের চাকরিটা পেয়ে একটা ভরসা পেয়েছিলেন বুকে। আজ তিনি অবসরের দ্বারপ্রান্তে। ছোট্ট রঞ্জু আজ সরকারী অফিসার। ছেলেটা হয়েছে খুব প্রানবন্ত। চাকরির ফাঁকেই নাটক, বেড়ানো,সমাজসেবা,রক্তদান,গ্রামে গ্রামে গিয়ে ক্যাম্প করা সারাদিন শুধু দৌড় আর দৌড়। এবার বাঁধতে হবে ওকে। সংসারের দায়িত্বে জুতে দিতে হবে। আজও কোথায় বেরিয়েছে বাইক নিয়ে। ঠাকুরের সামনে বসে বসে ষষ্ঠীপুজোর যোগাড় করতে করতে এইসবই ভাবছিলেন সুচেতনা। প্রার্থনা করছিলেন ওকে ভালো রেখো ঠাকুর। ছেলের হাতে বাঁধার জন্য হলুদ সুতোয় দূর্বা বাঁধছিলেন। মা ষষ্ঠীর রক্ষাকবচ।

টিংটং,টিংটং করে ব্যস্তভাবে বেল বাজাল কে। রঞ্জু এলো? বাইকের আওয়াজ তো পেলামনা। দরজা খুলতেই দেখেন রঞ্জুর বন্ধু সাগর,প্রবাল,শান্তশ্রী দাঁড়িয়ে আছে।"মাসিমা রঞ্জুর অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। বাইকে আসছিল, লরিতে ধাক্কা মেরেছে। ছিটকে পড়েছে রাস্তার ধারে। পাথরে মাথা ঠুকে গেছে সজোরে। হেলমেট ছিটকে গেছে। সেন্স নেই। আমরা লোকাল নার্সিংহোমে নিয়ে গেছিলাম। বলেছে এখানে হবেনা। ব্রেনে হেমারেজ হচ্ছে, জলদি বড় হাসপাতালে নিতে হবে।" মুহূর্তে মাথাটা ঝিমঝিম করে ওঠে সুচেতনার। শরীর অবসন্ন হয়ে আসে। কোনোমতে দরজাটা ধরে সামলান নিজেকে। ওরা তাড়া দেয়, সময় খুব কম। টাকা পয়সা ঘরে যা আছে নিয়ে নিন।আর হেলথ কার্ড কিছু থাকলে নেবেন। আর রিলেটিভদের খবর দেবার থাকলে দিন, আমরা ভাবছি জীবনদান হসপিটালে নিয়ে যাবো। লোকাল নার্সিংহোম বলল ওদের ব্যবস্থাই সবচেয়ে উন্নত। এরপর আপনার ডিসিশান।
দ্রুত হাতে টাকা পয়সা, হেলথ কার্ড ইত্যাদি নিয়ে বেরিয়ে পরেন তিনি। বন্ধুরা খুবই করেছে। নিজেদের উদ্যোগেই ট্রমা কেয়ার এ্যাম্বুলেন্স ডেকেছে। গিয়ে দেখলেন ছেলে তাঁর ঘুমিয়ে আছে। চোট আঘাত কিচ্ছু বোঝাই যাচ্ছেনা। তারপর সারারাত ভেন্টিলেশন, ডাক্তারদের তৎপরতা, যমে মানুষে টানাটানি। উৎকণ্ঠায় রাত্রি জাগরন।সমানে নারায়নকে ডেকেছেন। সকাল ৮টার দিকে খবর এলো বিজ্ঞান, এতো চেষ্টা, ঠাকুরকে ডাকা সব ব্যর্থ হয়েছে। ব্রেন ডেথ হয়ে গেছে রঞ্জুর। সুইচ টিপলে যেমন মুহূর্তে ঘরটা অন্ধকার হয়ে যায়,সেইভাবেই মুহূর্তে সারা পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে গেলো তাঁর সামনে।অজ্ঞান অবস্থায় কতোক্ষন ছিলেন জানা নেই। যখন জ্ঞান ফিরল কয়েকজন আত্মীয় আর রঞ্জুর বন্ধুদের উৎকণ্ঠিত মুখ দেখতে পেলেন। কিছুটা সামলে নিয়ে সোজা হয়ে বসলেন।জল খেলেন একটু। একটু পর একজন আস্তে করে বলল, মাসিমা ডাক্তাররা জিজ্ঞাসা করছেন লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম কি খুলে দেবেন? বাড়ির লোকের পারমিশান চাই। অসহায় ভাবে কী যেন খুঁজলেন চারদিকে। তারপর বললেন, আরেক ঘণ্টা থাকুক। যদি ফিরে আসে। আবার চোখ বুজলেন। এতদিন ঝড় ঝাপটা সহ্য করে জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে আসা মানুষটা বসে রইলেন বজ্রাহতের মতো। শোক দুঃখ চিন্তার বাইরে শুধুই অবসন্নতা শরীর মন জুড়ে।
একটা ফুঁপিয়ে কান্নার অস্ফুট শব্দে চোখ মেললেন তিনি। দেখতে পেলেন আর এক বজ্রাহত মানুষকে। মোটা ফ্রেমের চশমা আর ধুতি পাঞ্জাবীর উসকোখুসকো চেহারার বছর ৬০ এর এক ভদ্রলোক। ধপ করে বসে পড়লেন পাশের চেয়ারে। পাশে তাঁর স্ত্রীই হবে। তিনিও ভেঙে পড়েছেন খুব। আরেকটি ছেলে উঠে এসে বলল, কি বললেন ডাক্তার বাবু? বৃদ্ধ নিজেকে একটু সামলালেন, তার পর বললেন মামনির লিভার একদম নষ্ট। রিকভার করার কোনও উপায় নেই। একমাত্র উপায় কারোর লিভার যদি পাওয়া যায়। কিন্তু ডাক্তার বাবু বললেন লিভার পাওয়া খুব শক্ত। কিডনি দুটো থাকে, অনেকে একটা দিতে রাজি হয়। কিন্তু লিভার পেতে গেলে সদ্যমৃত কারোর থেকে নিতে হবে। একটু দেরি হলেই নষ্ট হয়ে যায়। এদেশে নাকি খুব কম মানুষ দেহ বা অঙ্গ দান করে।মেয়ের আয়ু আর মাস খানেক বড়জোর। ডুকরে কেঁদে উঠলেন ভদ্রলোক।
শুনতে শুনতে আবার অবসন্নতায় ডুবে গেলেন সুচেতনা। মাথাটা কাত হয়ে গেলো। হঠাৎ ডাক মা মা। ধড়মড়িয়ে উঠলেন সুচেতনা। রঞ্জুর ডাক। আমি একটু বেরচ্ছি। এই যাস না, যাস না। কিছু খেয়ে যা। না মা, তাড়া আছে। বাচ্চুর ভাই অ্যাকসিডেন্ট করেছে। রক্ত লাগবে। ও পজেটিভ, আমার গ্রুপ। শোন শোন, এই তো ২ মাস আগে দিলি। এখন তো আর দেওয়া যাবে না। আমার কথা শোন। একটু নিয়ম মান। আমার দিব্যি দিচ্ছি যাস না। দাঁড়িয়ে যায় রঞ্জু। দেখো মা। রক্ত দিলে আবার রক্ত হবে। ভাবো মা, সবাই বাইরে থেকে উপকার করছে। আর আমি ওর মধ্যে ঢুকে যাচ্ছি, রক্তে মিশছি, শিরায় শিরায় বইছি। বাচ্চুর ভাইয়ের শরীরে তোমার ছেলে। ও ভালো হোক, একদিন আনবো ওকে। ছুঁয়ে ফিলিং হবে, তোমার আরেকটা ছেলে বাড়ল। আসলে কি জানো তো মা, যত টাকাই থাকুক, রক্ত কৃত্রিম ভাবে কিছুতেই বানানো যাবে না। আমরা সুস্থ সবল মানুষেরা যদি ফ্রেশ রক্ত না দিই, কারা দেবে মা? যেতে দাও প্লিজ। বয়ে যাই ওর শিরায় শিরায়।যা বাবা, বাঁচা অন্যের প্রান।
আবার চেতনা ফিরল সুচেতনার। ধড়মড় করে উঠে বসলেন। রঞ্জু কোথায়? তিনি তো হাসপাতালে। মনে পড়লো সবটা।রঞ্জুর সেদিনের কথা গুলো মনে পড়ে গেলো আবার। রঞ্জুর এক বন্ধুকে বললেন, পাশের ওই ভদ্রলোক কোথায় গেলেন? বন্ধুটি বলল, তারা তো বেরিয়ে গেছে। চট করে বাইরে যা বাবা, খুঁজে আন। না, বাইরেও পাওয়া গেলো না। হাল ছাড়লেন না সুচেতনা। রঞ্জুকে বাঁচানোর সুযোগ ছাড়বেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে, ঠিকানা জোগাড় করলেন। লিভার সমস্যা নিয়ে ভর্তির তথ্য ঘেঁটে ওরা খোঁজ দিলো সেই পরিবারের। ডাকা হল তাদের। রঞ্জুর লিভার দান করবেন। ডাক্তাররা দেখবে এই লিভারে কাজ হবে কিনা। এই মেয়েটির না হলে অন্য কারোর হবে। ডাক্তার বাবুরা ছুটে এলেন অঙ্গ দানের খবর পেয়ে।মা দাঁড়িয়ে থেকে ছেলের অঙ্গ দান করতে চাইছে এখনও এখানে তা বিরল নিদর্শন। খবর গেলো মিডিয়ায়। দাঁতে দাঁত চেপে কিডনি, হার্ট, লিভার, চোখ এমনকি স্কিন পর্যন্ত দান করলেন তিনি।
এই প্রথম তাঁর বাড়িতে ষষ্ঠীপুজো নেই। সকাল থেকে খালি চোখ ভিজে যাচ্ছে তাঁর। আগের বছর এই দিনেই রঞ্জু চলে গেছিলো। কি নিষ্ঠুর পরিহাস। ছেলের মঙ্গল কামনায় যে পুজো করতেন, সেই পুজোর দিনেই চলে গেলো ছেলেটা।আজ শুধুই শূন্যতা। টিংটং বেল বাজলো।দরজা খুলতেই একে এক করে ঘরে ঢুকল মামনি,রাজা,সংকল্প,আদিত্য, আয়েশা,রবিন্দর,ঝুমুর। একসঙ্গে সবাই জড়িয়ে ধরল তাকে। সবার হাতে রজনীগন্ধার মালা। রঞ্জুর ছবিটাকে ফুলে ফুলে ঢেকে দিলো। আবার চোখ ভিজল তার। এগিয়ে এলো সংকল্প। আমার চোখের দিকে তাকাও মা, দেখো তোমার সঞ্জুর চোখ।সঞ্জুই তোমায় দেখছে।আয়েশা বলল আমার বুকে কান পাতো মা, রঞ্জু ধুকধুক করছে।সারাক্ষন আমার ভেতর থেকে কথা বলে আমার সঙ্গে। ওই রবিকে টাচ করো তোমার ছেলের স্পর্শ পাবে।আমাদের সবার মধ্যে তোমার ছেলে বেঁচে আছে।
ভেতর ঘরে যান সুচেতনা। একটা ভালো শাড়ি পরে বাইরে আসেন। সবাইকে বলেন যা মিষ্টি, মাংস,পনীর নিয়ে আয়। আজ রঞ্জুর জন্মদিন। এই দিনে যেমন ও চলে গেল, তেমনি এই দিনেই তো ও নতুন করে জন্ম নিয়েছিল তোদের সবার শরীরে। আজ কতো আনন্দের দিন। খুব আনন্দ করবো সারাদিন। সারাদিন হাসি গল্পে গানে আনন্দে কাটল। সকলের হাতে সুচেতনা বেঁধে দিলেন হলুদ সুতো। সবাই সংকল্প করবো রঞ্জুর মতোই তারাও অঙ্গীকার করবে অঙ্গদানের। বেঁচে থাকবে মানুষের মধ্যে। দেবতারা অমরত্ব দিতে না পারলেও অমর হবার চাবিকাঠি নিজেদেরই হাতে। মালায় ঢাকা রঞ্জুর ছবিটা ঝলমল করে উঠছিল অমরত্বের গর্বে। বার্তা দিয়ে গেলো অঙ্গ দান, মহৎ দান।
,,,,,,,,
জন্মদিন - পার্থ চক্রবর্তী জন্মদিন - পার্থ চক্রবর্তী Reviewed by WisdomApps on June 10, 2019 Rating: 5

ইতি কথা - কলমেঃ রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী

June 08, 2019

"ওমা সকাল সকাল আবার প্রণাম কেন বাপু?"

নতুন বৌ স্নিগ্ধা শাড়ির আঁচলটা দিয়ে গা ঢাকতে ঢাকতে বলে," আসলে মা আজ আমার জন্মদিন তো তাই। এটাই অভ্যেস হয়ে গেছে আমার,ও বাড়িতে থাকতে মা বাবাকে ঘুম থেকে উঠেই প্রণাম করতাম।"
একটু ছোট হাই তুলে ওর শাশুড়িমা ঊষা বলেছিলেন," তা ভালো থেকো,মানিয়ে গুছিয়ে সংসার কোরো। সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় হোক,শত পুত্রের জননী হও।"
মায়ের আশীর্বাদ শুনে নতুন বৌয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসেছিলো শুভময়। একটু হেসে মাথা নিচু করেছিলো ও।
..." তা শুভ বলেনি তোমাকে আমাদের বাড়িতে মেয়ে বৌদের জন্মদিন টিন হয়না। শুধু ঐ ছেলেদের জন্মদিনে একটু পায়েস মিষ্টি খাওয়াই ঐটুকুই।
সেদিনের একুশের স্নিগ্ধা তারপর এই বাড়িতে শাশুড়িমায়ের সাথে কাটিয়ে দিয়েছে অনেকগুলো বছর। প্রতিবারই যদিও জন্মদিনের দিন একটা প্রণাম করে শাশুড়িকে কিন্তু প্রথম বছরেই জেনে গিয়েছিলো এ বাড়িতে মেয়ে বৌদের জন্মদিন পালন হয়না।
প্রথম দুএকটা বছর খুবই খারাপ লেগেছিলো কারণ বাপের বাড়িতে থাকতে মা বেশি কিছু না পারলেও একটু লুচি ছোলার ডাল আলুরদম আর পায়েস দিয়ে ওদের দুই ভাইবোনের জন্মদিনেই খাওয়াতো। কখনও বা হত পোলাও মাংসও,দুএকজন বন্ধুবান্ধবও আসত ওর আর দাদার।
স্নিগ্ধার বাপের বাড়ি দূরে তাই হুট করে সেখানে চলে যাওয়া যেতনা সংসার ফেলে। তখন এত ফোনেরও চল ছিলোনা। তাই চিঠিই ভরসা,বাবার চিঠিটা ঠিক এসে পৌঁছতো সেই দিন বা আগের দিন ,"স্নিগ্ধা মা জন্মদিনের অনে‌ক আশীর্বাদ রইলো। খুব ভালো থাকিস আর সবাইকে ভালো রাখিস।"..কখনোও পাশে মায়ের লেখা দুচারটে শব্দও থাকতো। আবার যদি কখনও ঐ সময় ওখানে থাকতো তাহলে বাড়িটা লুচিভাজার গন্ধ আর মাংসের গন্ধে ম ম করতো। তার সাথে বাবার দেওয়া শাড়ি,দাদার দেওয়া উপহার।
অবশ্য এই বাড়িতে জন্মদিন পালন বারণ থাকলেও শুভময় প্রতিবারই হাতে করে ওর সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু না কিছু এনে স্নিগ্ধাকে বলত," শুভেচ্ছা, শুভকামনা আর ভালোবাসায় ভরা থাক তোমার জীবন।"..ছোট্ট সেন্টের শিশি কখনও বা একটা ভয়েলের শাড়ি অথবা রাতে শোয়ার পোশাক ভালোবাসায় মুড়িয়ে শুভময় তুলে দিত স্নিগ্ধার হাতে আর তার সাথে একগুচ্ছ গোলাপ। হয়ত স্বামীর এইটুকু ছোট ছোট ভালোবাসার ছোঁয়াই জয় করার সাহস দেয় অনেক প্রতিকূলতাকে।
সেদিনের নতুন বৌ স্নিগ্ধা আজ নিজেও সন্তানের মা, তবুও ভালো ওর সন্তানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান হয়। আর হবেই না বা কেন ও তো ছেলে তাই ঘটা করেই জন্মদিন হয় ওর। মাঝে মাঝে মনে হয় স্নিগ্ধার ওরও ছেলে,শাশুড়িরও দুই ছেলে আবার ওর বরের থেকে দশ বছরের ছোট ভাই মানে ওর দেওরেরও ছেলে তাই শাশুড়ির নিয়ম আর কাউকেই ভাঙতে হয়নি। যদিও শুভময়ের খুব শখ ছিলো আরেকটা কেউ আসুক তবুও কম আয়ের জন্য আর ভাইয়ের পড়াশোনার কিছু খরচও চালানোর জন্য আর ভাবা হয়নি।
বরের সাথে নিভৃত আলাপে আর আদরের ফাঁকে স্নিগ্ধা বলতো,"এই ভালো একটাই ছেলে কোন ঝামেলা নেই। মেয়ে হলে বেচারা কষ্ট পেত।"..শুভময় ওকে কাছে টেনে নিয়ে বলত," মেয়ে হলে আমি জন্মদিন করতামই মাকে ঠিক বুঝিয়ে নিতাম।"..চুপ করে যায় স্নিগ্ধা, হয়ত বুকের সিন্দুকে জমা কথাগুলো ছটফট করে না বলতে পেরে ওখানেই।
স্নিগ্ধার দেওর চাকরি সূত্রে বাইরে থাকে পরিবার নিয়ে। ওরা ওদের নৈহাটির পুরোনো বাড়িতেই থেকে গেছে,বছরে এক বার দেওর জা আসে। কখনও বা কোন দরকারে একা দেওরও চলে আসে। শাশুড়িমার সঙ্গে ওরা থাকলেও ছোটছেলে আর বৌমা ওনার কাছে সেরা। সবার কাছে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন ছোট ছেলের আর বৌমার। স্নিগ্ধার জা হাউসওয়াইফ হলেও উচ্চশিক্ষিতা আর আধুনিকা। যদিও স্নিগ্ধাও বি.এ পাশ,তবে বিয়ের পর সেসব আর কোন কাজে লাগেনি মানে ঐ এপাশ ওপাশ আর ধপাশ। এখন মনে হয় কবে যে কি পড়েছিলো হয়ত আলুপটলের ঝুড়ি গোছাতে গোছাতে ভুলেই গেছে সবই আর ঐগুলোও ছাইপাশ হয়ে গেছে।
ওদের বাড়িটার খুবই দুরবস্থা,পুরোনো আমলের বাড়ি তাই সারানোটা খুব দরকার। কিন্তু বাড়িতে থেকে বাড়ি সারানো মানে ধুলো, ময়লা নানা হ্যাঁপা তারমধ্যে ওর শাশুড়ির আ্যজমা তাই ওনাকে ঐ ধুলোর মধ্যে রেখে..কি করে কি করবে এই নিয়ে ওরা একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে। শেষে শুভময়ই ভাইকে বলে মাসদুয়েকের জন্য মাকে ওদের কাছে নিয়ে রাখতে। দাদার এতটাই অবদান সংসারে যে ভাই না বলতে পারেনা যদিও বৌয়ের কাছে বলতে গিয়ে খুবই একচোট শুনলো। " আমি বরাবরই একা থেকেছি আমার মত। তুমি তো জানো সারাদিন আমি ছেলের পেছনে ছুটোছুটি করি এছাড়া উইকএন্ডে আমার পার্টি ক্লাব বন্ধু বান্ধব এসব না করলে একঘেঁয়ে বোরিং লাইফে বাঁচাই মুশকিল।
" মা চিরকালই তো নৈহাটিতেই থেকেছে,একটা অসুবিধায় পড়ে দাদা বলেছে একটু মানিয়ে নিলে কি হবে? বেশি তো নয় মাত্র দুটো মাস।"
মিতা প্রচন্ড অসন্তুষ্ট হয়ে বললো," দেখো দুমাসের নামে কতদিন রেখে দেয় এখানে। বেশিদিন হলে আমি কিন্তু.."
শাশুড়ির সাথে এতগুলো বছরের সহাবস্থান স্নিগ্ধার কাছে একটা অভ্যেস হয়ে গেছে। তাই ওর মনটা ফাঁকা হয়ে গেলো। তাছাড়া উনি সংসারের কাজে সাহাজ্যও করতেন, অবশ্য কথাও শোনাতেন। তবুও ওটাই অভ্যেস হয়ে গিয়েছিলো,একলা বাড়িতে দুজনেই দিনের বেশ অনেকটা সময় দুজনের সঙ্গী হয়ে থাকতো। ছেলে আর বরেরও মন খারাপ। 
ছোটছেলের হাত ধরে এই প্রথমবার ওদের সংসারে পা রাখলেন ঊষা,এর আগে কতবার বলেছে ছেলে কিন্তু আসা হয়নি। কি সুন্দর সাজানো গোছানো ফ্ল্যাট একদম টিভিতে যেমনটা দেখেন ঠিক তেমনি। সোফায় বসেই ব্যাগটা খুলে বসেছিলেন দাদুভাইয়ের জন্য আনা আমসত্ত্ব,নাড়ু আর মালপোয়া বার করতে।
" মা এগুলো সোফায় রাখবেননা,ইশ্ সব নোংরা হয়ে গেলো,একটু আগেই ঘর মুছে গেলো।"
রান্নাঘরে নিয়ে যত্ন করে ওগুলো খুলে নাতির হাতে দিলেন। তবুও নাতির মুখের হাসিটা উপভোগ করতে পারলেননা। বৌমার গম্ভীর আওয়াজ শুনলেন," এখন পড়াশোনা করো,পরে খাবে।"
ছোটছেলের কাছে এসে বড় বাধো বাধো লাগে ঊষার। একছাদের তলায় পাশাপাশি না থাকলে বোধহয় মানুষকে সবসময় চেনা যায়না।তাই হয়ত তিনিও আলো ভেবে এতদিন আলেয়ার পেছনেই ছুটেছেন। সবসময় অন্যের ভুল ধরতে পটু ঊষার এখানে এসে সবসময়ই মনে হয় এই বোধহয় কিছু ভুল করে ফেললেন। তবুও শুনতে হয়," ইশ্ গামছাটা এখানে রেখেছেন? তোয়ালে আনেননি? উফ্ আমার আর ভালো লাগেনা। সবসময় এত বলা যায়!"
মাঝে কেটে গেছে একমাস,প্রায়দিনই হিসেব করেন ঊষা কবে ফিরে যাবেন নিজের বাড়ি। বড়বৌমার সাথেও ঠোকাঠুকি হত মাঝে মাঝে। তবে কখনও ভয় লাগতোনা,বরং উনিই শুনিয়ে দিতেন দুটো কথা। 
শুভময় বলে," আমাদেরও বড় ফাঁকা লাগছে মা তোমায় ছাড়া,তবে যা অবস্থা তুমি থাকতে পারতেনা। আমাদের শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে ধুলোতে। তোমার বৌমা তো সারাদিন বাড়ি থাকে,ওর খুব নাজেহাল অবস্থা।"
এর মাঝেই একদিন ছোট নাতির কাছে শুনলেন বাড়িতে পার্টি আছে।" কিসের পার্টি গো দাদুভাই? তোমার জন্মদিন?"..নাতিকে হাসতে দেখে ঊষাও হাসেন,সত্যি তিনি বুড়ো হচ্ছেন। আরে ওর জন্ম তো ডিসেম্বরে এখন কি? মায়ের ডাকে চলে যেতে যেতে বলে গেলো,"বিকেলেই দেখতে পাবে।"..ঊষা মাংস খাননা,নিজের বাড়িতে থাকার সময় বড়বৌমা আলাদা বাসনে ওনার রান্নাটা করে সরিয়ে রেখে তারপর মাংসের কড়াইয়ে মাংস র়াঁধে। এখানে ওদের এইসব বালাই নেই সবই নাড়াচাড়া,একদিন বলতে গিয়ে কথা শুনেছেন। তাছাড়া ওনাকে ওরা রান্নাঘরেও ঢুকতে দেয়না। তাই এইসময়টা ঘরেই বসে থাকেন,চোখের বাইরে যা হচ্ছে হোক। রান্নাঘর থেকে মাংসের গন্ধ ভেসে আসছে। দুপুরে খাবার টেবিলে মিতাই বললো," আপনি রাতে কি খাবেন একটু বলে দেবেন রান্নার লোক বিকেলে এলে। আপনি তো আবার মাংস খাবেননা।"
কিন্তু কিন্তু করে জিজ্ঞেসই করে ফেললেন," আজ কেউ আসবে বাড়িতে? কোন অনুষ্ঠান আছে?"
আপনার ছেলে কিছু বলেনি আপনাকে? আমি তো বলেছিলাম বলতে। ইচ্ছে করলে আপনি বিকেলে একটু মঠ থেকে ঘুরে একেবারে সন্ধ্যের পর আসতে পারেন। আমার কয়েকজন বন্ধু আসবে সন্ধ্যেয়, আজ আমার জন্মদিন।"
ঢোক গিললেন ঊষা,অনেক বছর আগে জেদের বশে স্নিগ্ধাকে যা বলেছিলেন আজ আর সে কথা মুখে বলতে সাহস পেলেননা। শুধু বললেন," নাহ্ আজ আর মঠে যেতে ইচ্ছে করছেনা হাঁটুর ব্যাথাটা বেড়েছে। জন্মদিনের জন্য কিছু তো আনা হয়নি আমার,তুমি এই টাকাটা রাখো। ভালো থেকো,সুখে সংসার কোরো।"
শাশুড়িকে প্রণাম টনাম মানে অত ভক্তি মিতার নেই। মনে মনে বললো তা আর মঠে যাবে কেন এদিকে নজর রাখতে হবেনা?
সারাটা সন্ধে দরজা ভিজিয়ে ঘরেই কাটলো ঊষার। ছেলে অফিস থেকে আসার পর কেক কাটার সময় ছেলেই নিয়ে গেলো,সবার সাথে আলাপ করিয়ে দিলো। ওদের খাবার পানীয় সব কিছুর মাঝে নিজেকে বড় বেমানান লাগলো ঊষার। খুব ইচ্ছে করলো একটু নৈহাটিতে ফোন করতে,কিন্তু পারলেননা।কি করে বলবেন আজ ছোটবৌমার জন্মদিনের পার্টি চলছে এখানে। 
নৈহাটির বাড়ির কাজ প্রায় শেষ,আর দিন দশেক বাদেই ঊষার যাবার কথা। ছোটছেলেই পৌঁছে দিয়ে আসবে। হঠাৎই দিন চারেকবাদে একটা দুঃসংবাদ আসে স্নিগ্ধার নাকি স্ট্রোক হয়েছে। আপাতত আই সি ইউতে আছে, বড় অসহায় লাগে শুভময়ের গলা। বড় নাতিটাও খুব অস্থির হয়ে আছে। ঊষাও এদিকে বড় অস্থির হয়ে উঠেছেন। " আমাকে নিয়ে চল বাবা নৈহাটিতে,কে জানে ওখানে কি হচ্ছে? আমার কিছু ভালো লাগছেনা।"
..." মা এত অস্থির হয়োনা,দাদা আমাকে বারবার বলেছে কয়েকটা দিন বাদে তোমায় নিয়ে যেতে। এখন ওদের বাড়ির অবস্থা ভালোনা।"
ঊষা বুঝতে পারেন উনার জন্য বাড়িতে ভীষণ অশান্তি। ওনার যাওয়া হচ্ছেনা শুনে ছোটবৌমাও ভালো করে কথা বলেনা। ছেলেকেও কথা শুনতে হচ্ছে। কদিন ভালো করে খেতে পারেননি ঊষা, ঠাকুরের কাছে শুধু বলেছেন আমার ছেলের সংসারটা ভেঙোনা ঠাকুর। মনে প্রাণে মানত করেছেন বড়বৌমার জন্য। অথচ একটা সময় ওর নিন্দা করে আত্মীয়স্বজনের কাছে কত সুখ পেতেন। সবসময় বলতেন," না আছে রূপ আর না আছে গুণ কি দেখে যে ছেলেটা ভুলেছিলো কে জানে?" ছোটছেলে গিয়ে বৌদিকে দেখে এলেও ঊষার যাওয়া হয়নি। স্নিগ্ধা এখন কিছুটা ভালো আছে বাড়িও এসেছে প্রায় দশদিন নার্সিংহোমে থাকার পর,তবে ডাক্তার অনেক কিছু বারণ করেছেন।
মাঝে কেটে গেছে তিনটে মাস ঊষা ফিরছেন অনেক মাস বাদে নিজের বাড়িতে। হয়ত তেমন সাজানো গোছানো নয়,পুরোনো বাড়ি। তবুও বড় আপনার জায়গা এখানে বড়ই শান্তি আর স্বস্তি।বিয়ের পর থেকে এখানেই তো কেটে গেছে এতগুলো বছর।
শুভময় আর নাতি এসে জড়িয়ে ধরে ওনাকে। হয়ত ছোটছেলের মুখেও স্বস্তির হাসি। সবাইকে দেখতে পেলেও ঊষার চোখদুটো আজ স্নিগ্ধাকেই খুঁজছে। তাড়াতাড়ি করে ঘরে আসেন,স্নিগ্ধার শরীরটা বড় ভেঙে গেছে, বাড়ি ঘর গোছাতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রমেই বোধহয় এমনটা হয়েছে। উঠে দাঁড়ায় স্নিগ্ধা,ওর হাতটা এখনও ঠিক চলছেনা। " থাক বৌমা,আয়ুষ্মতী হও সুস্থ হয়ে ওঠো তাড়াতাড়ি। কি যে চিন্তায় ছিলাম আর বোলোনা। যাক্ ঠাকুর রক্ষা করেছেন।"
আজ ঊষার চোখটা সত্যিই ছলছল করছে কথাগুলো বলতে পেরে। স্নিগ্ধারও ভালো লাগছে আসলে শাশুড়িমায়ের সাথে থাকাটা কখন যে অভ্যেস হয়ে গেছে বুঝতেই পারেনি। ওর মা চলে যাওয়ার পর হয়ত বা অবলম্বনও।
অনেকদিন বাদে আবার নিজের ঘর,রান্নাঘর,অভ্যেসের বিছানায় এসে মনটা বড়ই শান্ত ঊষার। খুব ভালো করেই বাড়িঘর সারিয়েছে ওরা। বেশ নতুন নতুন লাগছে সব। নিঃসঙ্কোচে রান্নাঘরে ঢুকলেন অনেকদিন বাদে পছন্দমত কিছু রান্না করলেন। যদিও বড় ছেলে এসে একবার বকুনি দিয়ে গেলো," রান্নার মেয়েটাকে দেখিয়ে দাও ও করবে,তোমার কি দরকার?"
মাঝে কেটে গেছে একটা মাস,স্নিগ্ধা এখন একটু ভালো। " মাকে দেখেছো তুমি,ঘরে বাগানে কোথাও দেখছিনা তো?"..শুভময় তখনও বিছানায় গড়াচ্ছে ছুটির দিনের আলস্যে। " তুমি এত সকালে উঠেছো কেন? হয়ত ফুল তুলতে গিয়ে কারো সাথে কথা বলছে বাইরে। অত ছটফট কোরনা বিশ্রাম নাও।"
বিছানায় শুয়ে থাকতে আর ভালো লাগেনা স্নিগ্ধার,বাথরুম থেকে একেবারে স্নান করে বেরোয়,অনেকদিনের অভ্যেস এটা। ঘরে ঢোকেন ঊষা। "মা আপনি?"
ওকে হাত দেখিয়ে ঘরে ঢুকে যান। ততক্ষণে স্নিগ্ধার শাড়ি পরা হয়ে গেছে,অনেকদিন বাদে নাইটির বদলে শাড়ি পরলো। শুভময়েরও কেন যেন খুব ভালো লাগলো অনেকদিন বাদে পরিচিত সাজে স্নিগ্ধাকে দেখে।
" বৌমা এদিকে এসো তো দেখি।"
স্নিগ্ধার মাথায় ঠাকুরের ফুলটা ঠেকিয়ে,কপালে ছোঁয়ান ঊষা। "মানত করেছিলাম,তুমি সুস্থ হয়ে গেলে পুজো দেবো। তাই ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছিলাম ভোর ভোর। টেবিলে আয় সবাই এবার।"
সুন্দর করে টেবিলে সাজানো গরম কচুরী তরকারি আর জিলিপি সাথে পায়েস। খুশি হয়ে ওঠে শুভময়," কখন করলে এসব?"
"পায়েসটাই শুধু করেছিরে,ওগুলো গরম ভাজছিলো,ভোলাকে দিয়ে আনালাম।"
স্নিগ্ধার প্লেটে ছোট্ট বাটিতে অল্প পায়েস আর একটা মিষ্টি সাথে দুটো কচুরী। পায়েসের বাটিটা তুলতেই একটা ছোট চিরকুট চোখে পড়লো। 
" বৌমা,
কত যুগ বাদে চিঠি লিখছি তাও আবার তোমাকে। আসলে ভালো কথা বলার অভ্যেস নেই তো তাই মুখে বলতে পারলামনা খুব লজ্জা লাগলো। সবসময়ই তো খারাপ কথা বলে এসেছি। শুভ জন্মদিনে আমার শুভর ঘর আলো করে থেকো। এই পায়েসটুকু তোমার জন্য কম চিনি দিয়ে ভোরবেলাতেই বানিয়েছি।
ইতি..'মা'
চিঠিটা পড়ে চোখটা জলে ভেসে গেলো স্নিগ্ধার, আজকাল অসুস্থতার পর মনটা বড় অন্যরকম হয়ে গেছে। কিন্তু মা গেলো কোথায়? সকাল থেকেই তো ভাবছিলো প্রণাম করবে।
" মা আপনি পায়েস রান্না করেছেন আমার জন্য! কিন্তু এ বাড়ির বৌ মেয়েদের যে.."
বাকিটা আর বলতে পারেনা স্নিগ্ধা, হয়ত এর উত্তর ঊষার কাছেও নেই তাই ওকে কাছে টেনে নিয়ে হাতের মুঠোয় দেন চোখে ছোট্ট চুনী বসানো ওনার জোড়া মাছ দুল আর লকেট। স্নিগ্ধার খুব পছন্দ ছিলো ডিজাইনটা। ভালোবেসে বানানো ছোট্ট একবাটি পরমান্ন হয়ত খুশির পরমায়ু আরও দ্বিগুণ করে দিলো ওদের চারজনের ছোট্ট সংসারে।
©ইচ্ছেখেয়ালে শ্রী: কলমে রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী।
সমাপ্ত:-


উপরের ছবি - লেখিকা রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী
[ লেখিকার অনুমতি নিয়ে বন্ধু পত্রিকায় প্রকাশিত হল ] 
ইতি কথা - কলমেঃ রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী ইতি কথা - কলমেঃ রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী Reviewed by WisdomApps on June 08, 2019 Rating: 5

আমি আর আমগাছ - প্রদীপ নারায়ণ চক্রবর্ত্তী।

May 15, 2019

লিলুয়া স্টেশনের এক আর দু নম্বর প্লাটফর্মের শেষের দিকে, মানে বেলুড় স্টেশনের দিকে একটা বিশাল আম গাছ আছে।গাছটার গঠন ভারি সুন্দর। মোটা গুঁড়ির হাত ছয়েক ওপর থেকে ঘন ডালপালা মন্দিরের মত ওপরের দিকে উঠে গেছে। তলাটা রেল কতৃপক্ষ বেশ ভাল করে খয়েরি টাইল্‌স দিয়ে কোন এক কালে বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাড় বৃদ্ধির সাথে সাথে গাছটার শেকড়গুলো খাবার খোঁজার তাগিদে এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়েছে আর প্রাণের বিপুল সমারোহে, আনন্দে মোটা হয়ে জায়গায় জায়গায় বাঁধানো চাতাল ফাটিয়ে দিয়েছে। এই চাতালটি আমার অফিস থেকে বাড়ি ফেরবার পথে ট্রেনের জন্যে অপেক্ষা করবার প্রিয় জায়গা। আমার অফিস ছুটি হয় বিকেল চারটের সময়। কিন্তু আমি বেরোই পৌনে চারটে বাজলে। অফিস থেকে রিক্সায় লেবেল ক্রসিং অব্দি এসে বাকিটা হেঁটে আমার প্রিয় জায়গাটায় পৌঁছতে সময় লাগে মিনিট পনেরো। ব্যাগটাকে চাতালের পরিস্কার জায়টায় রেখে জলের বোতল বের কোরে একটু জল খাই। তারপর আমগাছের তলায় চাতালটা্র ওপর গুছিয়ে বসি। ছুটির দিন আর বৃষ্টির দিন ছাড়া এটাই আমার প্রাত্যহিক রুটিন। আপ ব্যান্ডেল লোকাল আসার সময় বিকেল চারটে চব্বিশ মিনিটে। ফলে এই সময়টুকু আমি আম গাছের সান্নিধ্যে কাটাই। পরিচিত ডেলি-প্যাসেঞ্জারেরা আসেন চারটে পনেরো নাগাদ। ফলে এই ফাঁকা পনেরোটা মিনিট আমি মোবাইলে ফেস্‌বুকের আপডেট দেখে বা নেটে টাটকা খবর দেখে সময় কাটাতাম।
কিন্তু কয়েক বছর হল আমার এই নিঃসঙ্গ সময়টায় সঙ্গ দেবার একজন সঙ্গী পেয়েছি। বেশ কয়েক বছর আগে আমি বসে বসে ফেসবুকে চোখ বলাচ্ছি, হঠাৎ মনে হল আমার ঘাড়-মাথার ওপর দিয়ে কে একজন আমার মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। চমকে ঘাড় তুলে দেখি গাছটা ডাল পাতা নিয়ে ঝুঁকে যেন আমার মোবাইলটা দেখছে। ভাবলাম মজা মন্দ নয়। এই গাছটার সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান কোরলে কেমন হয়! যেমন ভাবা তেমনি কাজ। মনে মনে গাছটাকে বললাম, “কি হে, কি দেখছ?”
হাওয়ার ফিস্‌ফিস্‌ শব্দে উত্তর এলো, “তোমার ওই যন্ত্রটায় অনেক খবর থাকে, তাই দেখি”।
 (২)
“ধ্যাৎ, তুমি তো একটা গাছ, তুমি খবর পড়বে কি কোরে? তুমি অক্ষর চেনো?”
“খবর পড়ি বলি নি তো, বলেছি খবর দেখি। তোমার ওই যন্ত্রটায় অনেক ছবি থাকে, সেগুলো দেখি আর খানিক বাদে তোমার বন্ধুরা এলে তোমরা যে বক্‌বক্‌ করো, সেগুলোকে জুড়ে নিয়ে আমি খবর পেয়ে যাই”।
“বাবা, তুমি তো বেশ বুদ্ধিমান গাছ হে?”
“কেন, গাছের বুঝি বুদ্ধি থাকতে নেই”।
একটু বিরক্ত হয়ে বলি, “দেখো, গাছের প্রাণ আছে, এটুকু মানতে পারি, কিন্তু, গাছের বুদ্ধি? একটু আষাঢ়ে গল্প হয়ে যাচ্ছে না?”
“বাঃ, তুমি একজন বুদ্ধিমান মানুষ হয়ে একটা গাছের সঙ্গে গল্প কোরছ, এটা যদি তোমার বন্ধুরা শোনে, তাহলে তারাও কি এটাকে আষাঢ়ে গল্প বোলবে না?”
মনে মনে একটু থমকে গেলাম। সত্যিই তো। নির্মলদা, সমাদ্দার, এরা যদি জানতে পারে যে আমি একটা গাছের সঙ্গে কথা বলি, তাহলে ওরা আমায় ব্যান্ডেল অব্দি পৌঁছতে দেবে না, তার আগে মানকুন্ডুতে নামিয়ে পাগ্‌লা-গারদে ভর্তি কোরে দেবে। একটু আমতা আমতা কোরে বলি, “হ্যাঁ--- তা বটে”।
আমগাছ উৎসাহিত হয়ে বলে, “তা হলে?”
আমি বললাম, “তা হলে একজন বুদ্ধিমান মানুষ যদি একটা বুদ্ধিমান আমগাছের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরতে চায়, তবে কি আমগাছ রাজি হবে?”
আমগাছ তার সব ডালপাতা দুলিয়ে বাতাসে ফিস্‌ফিসিয়ে উঠল, “রাজি----রাজি”----
এইরকম কোরে বেশ কয়েক বছর হল আমাদের বন্ধুত্ব ক্রমে গাঢ় হয়েছে। আমি কোন সময় ছুটিতে যাবার আগে গাছকে জানিয়ে যাই, “কদিন থাকব না হে। ছুটিতে যাচ্ছি।
“কেন, কোথাও বেড়াতে যাবে?”
“আরে না, শালির ছেলের বিয়ে, একটু দেখাশোনা কোরতে হবে।“
“ও--- ফিরে এসে বিয়ে বাড়ির গল্প শোনাতে হবে কিন্তু”।

(৩)
আবার পরপর কয়েকদিন বৃষ্টি হলে শেডের তলা থেকেই ট্রেন ধরতে হয়, তখনও কিন্তু একবার ছাতা মাথায় দিয়ে আমগাছের সঙ্গে দেখা কোরে আসি।
“বড্ড বৃষ্টি হচ্ছে হে, এখন আর তোমার তলায় বোসতে পারছি না। একটু রোদ উঠুক, তখন আসব”।
আমগাছ বিষন্নভাবে মাথা নাড়ে। এ খেলার কথা শুধু আমি আর আমগাছ জানে। সবাইকে একথা বলা যায় না। গাছের সঙ্গে কথা বোলতে হলে খুব অনুভূতিপ্রবন মন হতে হয়, সবার তা হয় না। ফলে জানাজানি হলে ঠাট্টার শিকার হতে হবে।
কদিন আগে প্রচন্ড গরম পড়েছে। ক্লান্ত শরীরে ব্যাগটা রেখে একটু জল খেয়ে গাছতলায় গুছিয়ে বসলাম। অন্য সময় আমি এসে বসলে গাছটাই আগে কথা বলে। আজকে অন্যরকম দেখে জিজ্ঞাসা করলাম, “কি হে, আজ যে বড় চুপ্‌চাপ্‌?”
“মনটা ভাল নেই।“
“কেন, কি হল আবার তোমার?”
“ওই যে সেদিন তোমরা বলছিলে না, রেলের বড়কর্তারা বিভিন্ন ষ্টেশনে শেড তৈরি করার জন্যে বড় বড় গাছের মাথার দিকটা কাটিয়ে দিচ্ছেন আর গুঁড়ি গুলোতে সুন্দর সুন্দর পশু, পাখি, মানুষের ছবি খোদাই করাচ্ছেন। তাই ভাবছিলাম আমারই বা আর কদিন, আমারও মাথাটা কেটে দিয়ে গুঁড়িতে হয়ত মুর্তি খোদাই করা হবে”।
আমি চমকে উঠলাম। তাইতো, এ কথাটা তো আমার মাথায় আসে নি। একটু সান্ত্বনা দেবার জন্যে বললাম, “আরে না না, সব গাছই কি আর কাটা হবে? তুমি তো ষ্টেশনের এক প্রান্তে রয়েছ, তোমাকে ওরা কাটবে না”।
“কিন্তু সেদিন যে তোমরাই বলছিলে এইদিকটায় একটা শেড থাকলে ভাল হয়, বর্ষার সময় খুব অসুবিধে হয় তোমাদের”!
আমার মুখে আর কথা জোগাল না। গাছটা খানিক বাদে হাওয়ায় ফিস্‌ফিস্‌ কোরে বলল, “সেদিন তুমি বন্ধুদের সঙ্গে ফেস্‌বুকে একটা ছবি দেখছিলে। সেই সিরিয়া না কোথায় যেন যুদ্ধের সময় বিষ-বাষ্পের বলি হয়েছে  কটা  বাচ্ছা

(৪)

ছেলে। ওদের ছোখগুলো আধখোলা, মুখগুলো সামান্য হাঁ হয়ে আছে। হয়ত শেষ সময়ে একবার প্রাণপণ নিশ্বাস নেবার চেষ্টা কোরেছে, বাঁচবার চেষ্টা কোরেছে। আমার মাথাটা যখন রেল বাবুরা কাটিয়ে দেবে, তখন আমার গুঁড়িতে ওই বাচ্ছাগুলোর মুখ খোদাই কোরে দিলে বেশ হয়। মরা গাছের গায়ে মরা ছেলেদের মুখ। বেশ সুন্দর হবে না? বেশ ভাল হবে না দেখতে? কি গো, তোমার ভাল লাগবে না? কথা বলছ না কেন? কথা বল। কি গো”-----



 লেখক ঃ
প্রদীপ নারায়ণ চক্রবর্ত্তী।
কাজিডাঙ্গা, পোঃ – দেবানন্দপুর, জিলা – হুগলি,
পিন্‌ - ৭১২১২৩ ,ই-মেল – pradeepchkrbrty@yahoo.co.in





                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                              
আমি আর আমগাছ - প্রদীপ নারায়ণ চক্রবর্ত্তী। আমি আর আমগাছ - প্রদীপ নারায়ণ চক্রবর্ত্তী। Reviewed by WisdomApps on May 15, 2019 Rating: 5

বাঁশি ওয়ালা -- রাহুল মন্ডল

May 08, 2019

একদল শালিখের সঙ্গে ঝগড়া বেঁধেই গেলো বাঁশিওয়ালার । চিত্কার করে বললো , দেখছিস মন ভলো নেই ,তাও তোদের একই আব্দার গান শোনাও আর গান শোনাও ।কাল শিমুল গাছের ময়না টা বলে গেলো , তার বাড়িটা কারা যেন রাতে কেটে নিয়ে গেছে ।কত মিনতি করেছিলো সে ,শোনে নি !সারাদিন এসে সে আমার কাছে কাঁদছে ।দুই ছেলে নিয়ে কোথায় যাবে সে ??
শালিক গুলো একে অপরের দিকে তাকাল ,কিচমিচি য়ে বললো ,এই বাঁশিওয়ালা তুমি তো ভারী লোক ,সবার কষ্টে তোমার মন কাঁদে !!
বাঁশিওয়ালা বললো ,কী করবো ??মন যে মনে না !!
বাঁশিওয়ালা চোখ বন্ধ করে কী যেন ভাবতে লাগল ।বাঁশিওয়ালা সারাদিন লটে পুকুরের পারে বাঁশি বাজায় ,সেই বাঁশি হা করে মাছরাঙ্গা ,শালিখ,ডাহুক ,টিয়া বসে শোনে আর কত প্রসংশা করে তারা ।আর কত গল্প করে বাঁশিওয়ালার সাথে ।কাল ই তো দুটি টিয়া এসে বাঁশিওয়ালা কে বলে গেলো ,ওর দুটি মেয়ে কে শিকারী রা জোর করে ধরে নিয়ে গেলো ।শুনে সে কী ভাবলো কী জানি ,তার চোখ দিয়ে টপটপ জল পড়তে লাগলো ।
রোজ শহর থেকে এ পথ দিয়ে ফেরার সময় বাঁশিওয়ালার বাঁশি শুনে লোকে রা ২পয়সার বাঁশি কিনে নিয়ে যায় ।এতে দিব্বি চলে যায় তাঁর ।
পুকুরের জলে দখিনের বাতাস খেলা করে ।গরমে ক্লান্ত কাক গুলো হা করে তাদের দুঃখের কথা বলতে চায় বাঁশি ওয়ালা কে ।কলের কাল ধোঁয়া ,ধুলো আকাশে ওড়ে ,জোর করে কেড়ে নিতে চায় আকাশের রং ॥আকাশ ডুকরে কেদে ওঠে ।আগে নবান্নের মেঠো সুরে বাতাস কত মিষ্টি গান গাইত ,বর্ষা ই গান গাইতে গাইতে চাষী রা চাষ করতে যেত ,এখন সব ইতিহাস ।সারাদিন চাষ করে ফসলের দাম পায়না তাঁরা ,ফরে রা সব লাভ নিয়ে যায় ।
বাঁশিওয়ালার সব জানা ,যা রোজগার করে তার থেকে খাবার কিনে সে খেতে বসে । কিন্ত কাক ,মইনা ,দোয়েল এসে তাঁকে কী যেন বলে ।একগাল হেসে সব খাবার তাদের দিয়ে দেয় সে ।তার বাঁশি শুনে তাঁরা তো বটেই ,পথচলতি লোকেরাও কেমন সম্মোহিত হয়ে যায় ।পাখি গুলো ,পথচলতি মানুষ গুলো তাদের কাজ কামাই করে কত গল্প করে বাঁশিওয়ালার সাথে !!মাঝে মাঝে হাটে যায় সে ।দুবেলা পুর পেট খাবার জোটে না কিন্তু খুব সুখী সে ।হাটে খাঁচায় বন্দী তিতির ,ময়না ,কাকাতুয়া ,টিয়া তাদের পুরনো বন্ধু কে পেয়ে ছাড়তেই চায়না !!কত গল্প করতে চায় । এখান থেকে নিয়ে যাবার জন্য় কত কাকুতি মিনতি করে !!কিন্ত বাঁশিওয়ালা ফেকাসে ভাবে দেখে ,আর ফিরে এসে আপন মনে বাঁশিতে ফু মারে ,তারপর কী অদ্ভুত মিষ্টি সুর বেরিয়ে আসে তার বাঁশি থেকে !!
সেই কষ্ট ভরা সুরে মাঠের রাখাল , শ্মশানে মড়া খেতে যাওয়া শকুন চোখের জলে বুক ভাসায় ।কিন্তু তাতে কোন ভ্রুখেপ নেই তাঁর ,সে আপন মনে বাঁশি বজায় ।
সেদিন দুপুরে বেজায় রোদ ,চান করতে ইচেছ হল তাঁর ।গিয়ে দেখলো পুকুরের দখিন কোনে একদল গোলাপী শালুক কেঁদে বললো ,ওরা কত বিষ ফেলে জলে ,গোটা গা যেন জলে জলে ওঠে ।আমার ভাই বন্ধুরা সব জলে মরে যাচেছ গো ॥॥
বাঁশিওয়ালা চোখের জল ধরে রাখতে পারল না ।পুকুরের জলে নাচতে নাচতে ফিস ফিসিয়ে বলে গেলো ,তোর খুব কষ্ট না রে ??সে কিছু বললে না ,শুধু আকাশের দিকে চেয়ে কী যেন ভাবলো ,তারপর চান করে চলে এলো ।।
এমনি করে দিন যায় ,বছর যায়...বাঁশিওয়ালার মেঠো সুর আরও পক্কতায় ভরে যায় ।এযেন এক সুরের মহা সাগর...
সেদিন সে বাঁশি শোনাচ্ছিল একদল কোকিল কে ।
ওই পথ দিয়ে রাজা যুদ্ধ জয় করে অনেক দেশ ঘুরে ফিরছিলো ।রাজার কানে গেলো ওই অপূর্ব সুন্দর মেঠো সুর ।মন্ত্রী কে ডেকে রাজা বললো , এই প্রাণ জড়ানো সুর কোথা থেকে আসছে এখুনি দেখ !!!
মন্ত্রী দুজন লোক নিয়ে ছুটল সেই সুরের পিছনে ।গিয়ে দেখে একটি এক ছাতিম তলায় অর্ধ নগ্ন বাঁশিওয়ালা আপন মনে বাঁশি তে ফু দিছেন ,আর সেখান থেকেই বেরুচ্ছে সেই হিদয় নিংরান সুর ।
সেই উসখুস রোগা পাতলা লোকটিকে ধরে নিয়ে যাওয়া হল রাজার কাছে ।
রাজা বললো ,কে তুমি ??কী নাম তোমার ??
উত্তর এলো ,বাঁশিওয়ালা ।
কী দরুন তোমার সুর !!!আমি মুগ্ধ !!!
কত টাকা কমাও বাঁশি বেঁচে ??আমার সাথে চল আমায় গান শোনাবে ।সোনা দিয়ে মুড়ে দেবো তোমায় !! রাজা বললে ।
রাজার হুকুম ,না করে কার সাধধি....
সাদা পাথরের বিরাট রাজ প্রসাদ ।কত লোক ,কত দাস ,দাসী ।যেন এক স্বপ্নপুরি...
হুকুম হল রাজার বিশেষ লোক ,যত্নের যেন কোন খামতি না থাকে ।
দাসি তাঁকে ঘর দেখিয়ে দিল ।ঘরে সোনার আরশি ,চাদির খাট ,বাসন ,খাটে নরম গদি !!
বাঁশিওয়ালার মুখ কিন্তু ফেকাসে..
অনেক খুঁজেও রবি দাদার মুখ দেখা গেলো না ।বিকেলের মিষ্টি বাতাস আর তাঁকে আদর করে না । 
তার বন্ধু রা কী করছে তাঁর জন্য় মন কেঁদে ওঠে ।মাঝে মধ্যে একদল গোলা পায়রা গল্প করে যায় ওতে মন ভরে কিন্তু বুক ভরে না ।
তাঁর চার পাঁচটি ঘর পেরিয়ে রাজার বসার ঘর ,সেখানেই সোনার খাঁচায় বন্দী ময়নাপুরের কাকাতুয়া ।দমবন্ধ জীবনে একটাই বন্ধু বাঁশিওয়ালার ।কত গল্প বলে কাকাতুয়া টা !!
তাদের গ্রামের সেই নদীর গল্প ,যেখানে একদল রাজহাঁস সারাদিন জলকেলি করতো ।দামোদর গোপালের সেই পুরনো মন্দিরের গল্প ।যেখানে বটগাছের উপর কত পাখি গান গাইত ।বাবা ,মা ,ভাই ,বোনেদের সাথে বর্ষার বৃষ্টিতে সবুজ ফাঁকা মাঠে কত খেলা করেছে ,কত গড়াগড়ি খেয়েছে সে !!
গল্প করতে করতে কাকাতুয়া টা তার ফাঁদে পড়ার কথা মনে পড়লেই মাঝে মাঝে আঁতকে ওঠে সে ।
বাঁশিওয়ালা প্রতিদিন রাজাকে বাঁশি শোনায় ।কিন্তু আগের মত আর সুর আসেনা তাঁর ।কত চেষ্টা করে !!কিন্তু সুর কোথায় আসে ??
রাজা ভাবে হইতো কোন কষ্ট হচেছ ।এই নিয়ে মন্ত্রী কে বকা ঝকা করে ।পর পর দুই বছর রাজ্যে খরা ,ফসল  হয় নি ,রাজার মন খারাপ ,ডাক পড়ল বাঁশিওয়ালার ।
এসে বাঁশি তে ফু দিল সে !!!
কিন্তু সুর কই ???
অনেক চেষ্টাতেও সুর বেরুলো না তাঁর !!
কাঁদতে কাঁদতে রাজার পা জড়িয়ে ধরল সে !!
বলল মহারাজ আর পারছি না । 
সব বুঝতে পারল রাজা ,
মন্ত্রী কে বলল ,এক হাজার সোনার টাকা দিয়ে একে মুক্তি দাও!!
বাঁশি ওয়ালা রাজার পা ধরে বলল ,কী হবে মোহরে!!
রাজা বলল ,কী চাও ???
সে আকুল হয়ে বললো ,ময়নাপূরের কাকাতুয়া টা আমায় দেন মহারাজ ।আর আইন করে গাছ কাটা বন্ধ করুন ।দেখবেন খরা আর হবে না ।
পরের দিন খুব সকলে রাজ প্রসাদ থেকে বেরুলো বাঁশিওয়ালা ,হাতে ময়নাপুরের কা কাতুয়া টা !!!
আকাশের দিকে তাকিয়ে বাঁশিওয়ালা বললো , আহ কী আনন্দ.....



লেখক --

রাহুল মন্ডল

চাঁদনী পাড়া ,সিউরি ,বীরভূম
পশ্চিম বঙ্গ
বাঁশি ওয়ালা -- রাহুল মন্ডল বাঁশি ওয়ালা -- রাহুল মন্ডল Reviewed by WisdomApps on May 08, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল ০৫/০৫/১৯ থেকে ১১/০৫/১৯

May 05, 2019

মেষ রাশি: আপনার মতামতকে কেন্দ্র করে কর্মস্থলে বৈষম্য দেখা দেবে। রবিবার প্রয়োজনীয় কাজ সন্ধ্যার আগে শেষ করুন। সোমবার বেশি ব্যয় করে বন্ধুত্ব রক্ষা করতে যাবেন। মঙ্গলে প্রতিবেশী সাহায্য করবে। বুধবার কেনাবেচার ক্ষেত্রে খুব সুবিধা হবে না। বৃহস্পতিবার অপ্রত্যাশিত শুভযোগ। শুক্রবার অনুকূল প্রভাব অব্যাহত। শনিবার অল্পবিস্তর বাধা রয়েছে।


বৃষ রাশি: কর্মজীবন গর্বের কারণ হবে। রবিবার শারীরিক উন্নতি হবে। সোমবার বেশ হিসাব করে চলুন। মঙ্গলবার দৈনন্দিন ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম বদল পছন্দ হবে না। বুধবার ছোট ভাই বোনের সঙ্গে মনোমালিন্য হলেও সমাধান হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার যা সত্য তার উত্তর কড়া ভাবে দেবেন। শুক্রবার বেলায় অর্থালাভ। শনিবার স্থিতিশীল পরিবেশ।


মিথুন রাশি: অন্যের কথা শুনে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। রবিবার সজাগ না থাকলে রাতে ক্ষতির সম্ভাবনা। সোমবার কোনো কাজই সুষ্ঠ ভাবে হতে চাইবে না। মঙ্গলবার মানসিক দিকে বিব্রত বোধ করবেন। বুধবার পছন্দমতো পরিবেশ পাবেন। বৃহস্পতিবার দরকারি কাজ সেরে ফেলুন। শুক্রবার কাউকে কথা দিয়ে রাখা সম্ভব না। শনিবার কাউকে ভুল বুঝলে আপনার ক্ষতির সম্ভাবনা।


কর্কট রাশি: আপনজনদের মূল উদ্দেশ্য জানানো ঠিক হবে না। রবিবার সম্মানজনক পরিবেশের মধ্যে দিন কাটবে। সোমবার অর্থযোগ শুভ। মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফেলুন। বুধবার নতুন কোনো সমস্যার সৃষ্টি। বৃহস্পতিবার কোনো মতে দিন গুজরান। শুক্রবার বেলায় সমস্যা কমবে। শনিবার নিয়মমাফিক কাটবে।


সিংহ রাশি: তুচ্ছ কারণে পড়াশোনায় বাধা। রবিবার দিনটি ঘটনাবহুল, কর্মে সাফল্য। সোমবার পারিবারিক জীবনে শুভ পরিবর্তন। মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় কাজে পিতার সহায়তা পাবেন। বুধবার আটকে আছে এমন অর্থ পাবার সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার দরকারি কাজ শেষ করুন। শুক্রে দূরের খবরে বিচলিত হবার সম্ভাবনা। শনিবার মোটামুটি কাটবে।


কন্যা রাশি: ভিন্ন ধর্ম, জাতির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়বে। রোববার বিরুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলবেন। সোমবার ভাগ্যবলে অশুভ ক্ষেত্র এড়িয়ে যাবেন। মঙ্গলবার যতটা আশা করছেন পেতে অপেক্ষা করতে হবে। বুধবার পদস্থ ব্যক্তির দ্বারা উপকৃত হবেন। বৃহস্পতিবার নতুন কর্ম নিয়ে খুশি থাকবেন। শুক্রবার উপযুক্ত প্রাপ্য আদায় হবে। শনিবার অগ্রজসম কারোর জন্য ব্যস্ত থাকবেন।


তুলা রাশি: অভিযোগ অভিমান কেউ শুনবে না, প্রেম এর ব্যাপারে সাবধান থাকা উচিত। রবিবার সারাদিন ভালোই কাটবে। সোমবার বিরুদ্ধ পরিবেশ আপনাকে অশান্তি দেবে। মঙ্গলবার অপ্রতিহত বাধায় জেরবার হবেন। বুধবার দুশ্চিন্তা থাকবে। বৃহস্পতিবার কোনো ঝুঁকি নেবেন না। শুক্রবার আয়ব্যায়ের সামঞ্জস্য রক্ষা করা কঠিন। শনিবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে শুভ।


বৃশ্চিক রাশি: সমস্ত ক্ষেত্রে বিতর্কের সৃষ্টি হবে। রবিবার সহকর্মীরা আপনার খোঁজ নিতে আসবে।সোমবার জঙ্গলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। মঙ্গলবার প্রতিদ্বন্দ্বীতায় একধাপ এগোতে পারেন। বুধবার অসন্তোষ বাড়লে শত্রুপক্ষ সক্রিয় হবে। বৃহস্পতিবার যে ঘটনা জানেন না তা নিয়ে মন্তব্য করবেন না। শুক্রবার দাম্পত্যজীবন স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করুন। শনিবার কোনো ঘটনা ছোট করে দেখবেন না।


ধনু রাশি: ধনুলগ্ন হলে আকাঙ্খিত বস্তু পাবেন। রবিবার মন ঠান্ডা করে পদক্ষেপ নিন। সোমবার তুচ্ছ ব্যাপারে অনেক খাটতে হবে। মঙ্গলবার বিরোধীপক্ষ অবদমিত থাকবে। বুধবার প্রিয়জনদের সহায়তায় উদ্যম বাড়বে। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি অনুকূল। শুক্রবার বেলায় কাজের গতি কমতে পারে। শনিবার পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকম প্রভাবই সক্রিয়।


মকর রাশি: অন্যের ব্যাপারে অতিআগ্রহ আপনাকে বিপদে ফেলবে। রবিবার উত্তর খুঁজতে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। সোমবার উৎসাহের ওপর প্রাপ্তি নির্ভর করছে। মঙ্গলবার বিদ্যার্থীদের পক্ষে অনুকূল। বুধবার পূর্বের কোনো ভুল বোঝাবুঝি মিটে যাওয়ার ইঙ্গিত পাবেন। বৃহস্পতিবার ও আশানুরূপ। শুক্রবার সংগঠন মূলক কাজে পরিজনেরা সাহায্য করবে। শনিবার সাফল্য লাভ।


কুম্ভ রাশি: অজানা ভীতি আপনাকে শঙ্কিত করবে। রবিবার প্রয়োজনীয় কাজ সন্ধ্যার মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন। সোমবার অনাড়ম্বর পরিবেশে কর্তব্য সম্পাদন করবেন। মঙ্গলবার অর্থযোগ মধ্যম। বুধবার সন্তানের অনাড়ম্বর মনোভাব মানিয়ে চলতে হবে। বৃহস্পতিবার আমদপুর্ন ক্ষেত্রে অকারণে অর্থ খরচ। শুক্র ও শনিবার যারা শত্রু তারাই সাহায্য করবে।


মীন রাশি: অর্থ শোধ করতে তৎপর হন। রবিবার প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সোমবার সহদরস্থানীয় কেউ আপনার খোঁজ নেবে। মঙ্গলবার বিশ্বস্ত কেউ অর্থের লোভ দেবে। বুধবার অজানা কারণে বাড়িতে সমস্যা। বৃহস্পতিবার খরচের তুলনায় প্রাপ্তি কম। শুক্রবার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সন্তানের কথা বিবেচনা করুন। শনিবার একইরকম যাবে।
সাপ্তাহিক রাশিফল ০৫/০৫/১৯ থেকে ১১/০৫/১৯ সাপ্তাহিক রাশিফল ০৫/০৫/১৯ থেকে ১১/০৫/১৯  Reviewed by WisdomApps on May 05, 2019 Rating: 5

১ দিনের ট্যুরে ঘুরে আসুন নদীতে ঘেরা " টাকি "

April 30, 2019

টাকি ভ্রমণ গাইড 


উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় নদীতে ঘেরা একটি সুন্দর ভ্রমণস্থল "টাকি" । ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে ইচ্ছামতী নদী তীরের এই ভ্রমণ কেন্দ্র ইদানিং অনেকেরই মনে ধরেছে । নদীর ওপারে বাংলাদেশের মাটি অনেককেই ভাবুক করে তোলে , নৌকা বিহারে গিয়ে জলের মাঝে দেখা হতেই পারে ওপারের বাঙালি মানুষের সাথে । দুর্গাপূজার ভাসান এর সময় একাকার হয়ে যায় দুই দেশের মানুষ , একসাথে দুপারের মানুষজন নদী তীরে একত্রিত হয় বিসর্জনের জন্য ।  শীতের সময় দেখা মেলে বহু পরিযায়ী পাখির । বর্ষায় যখন নদীতে জলোচ্ছ্বাস ভয়ের কারণ হয় তখনও অনেকে ছুটে যায় টাটকা ইলিশের তাড়নায় ।


হাতে সময় নিয়ে ঘুরে দেখা যায় রামকৃষ্ণ মিশন , তিনশো বছরের ,  পুরনো জোড়া শিব মন্দির ,  কালী মন্দির নন্দদুলাল মন্দির , পুরনো জমিদার বাড়ি ধ্বংসস্তূপ ও একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের স্মারক । তবে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মাছরাঙ্গা দ্বীপ ।  টাকি থেকে কুড়ি থেকে 25 মিনিটে নৌকায় পৌঁছে যাওয়া যায় এই দ্বীপে ,  সবুজে মোড়া এই দিক থেকে দেখা যায় অনতিদূরের বাংলাদেশের গ্রাম । 
টাকিতে থাকার জন্য যোগাযোগ করুন পঞ্চায়েত সমিতির সাথে ফোন নাম্বার( ০৩২১৭ ২৩৩২৭৬ ) । 

 কিভাবে যাবেনঃ শিয়ালদা থেকে হাসনাবাদ লোকাল ট্রেনে বারাসাত হয়ে সহজেই পৌঁছানো যায় টাকি । রেলপথের দূরত্ব 74 কিলোমিটার, সময় লাগে দুই ঘণ্টার মত শিয়ালদা থেকে লোকাল ট্রেন ছাড়াও বারাসাত থেকে সারা দিনে ছয় জোড়া লোকাল ট্রেন আসছে টাকিতে । স্টেশন থেকে ভ্যান রিক্সা , টোটো ও অটো পেয়ে যাবেন । 

ইতিহাসঃ ১৮৬৯ সালে টাকি পুরসভার প্রতিষ্ঠা হয়। ওই সময়ে টাকির বেশির ভাগ জায়গা ছিল জঙ্গলে ভরা। রাজা প্রতাপাদিত্যের বংশধর কৃষ্ণদাস রায়চৌধুরী টাকিতে বসতি স্থাপন করেন। বর্তমান ইছামতি নদী সে সময়ে নাম ছিল যমুনা-ইছামতী। কৃষ্ণদাসের চেষ্টায় টাকি সম্ভ্রান্ত এবং ব্রাহ্মণ পরিবারের বাসভূমিতে পরিণত হয়। নন্দদুলালের বিগ্রহ স্থাপনের জন্য টাকিতে জালালপুর গ্রামের বেশ নামডাক ছিল। রাজা মানসিংহ প্রতাপাদিত্যের সাম্রাজ্যে আক্রমণ শানানোর জন্য টাকিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দু’পক্ষের লড়াই হয় বসিরহাটের সংগ্রামপুরে। প্রতাপাদিত্যের সৈন্যদলকে তাড়া করে মানসিংহের বাহিনী। টাকি শ্মশানের পাশ দিয়ে ইছামতী পার হয়ে রক্ষা পায় প্রতাপাদিত্যের দলবল। সেই ইতিহাসকে মনে রেখেই শ্মশান-সংলগ্ন রাস্তার নাম পরে রাখা হয় মানসিংহ রোড। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আমলে টাকি কুলেশ্বরী কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠা হয়।
টাকির কাছেই ইছামতী নদীর তীরে সোলাদানার বাগুন্ডিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লবণ ব্যবসার কেন্দ্র স্থাপন করে। যেটি বর্তমানে বসিরহাট হিসেবে খ্যাত।
রাজা রামমোহন রায়ে পরামর্শে এবং খ্রিস্টান মিশনারি আলেকজান্ডার ডাফের পরিচালনায় জমিদার কালীনাথ ১৮৩২ সালের ১৪ জুন টাকিতে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল স্থাপন করেন। তাঁর চেষ্টায় টাকিতে শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটে। ১৮৫১ সালে টাকি সরকারী স্কুল ও ১৮৬২ সালে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন হয়।
 ( তঃসূঃ উইকিপিডিয়া ) 


টাকি ভ্রমনের ভিডিও দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন 

লেখাটি শেয়ার করতে ভুলবেন না 
১ দিনের ট্যুরে ঘুরে আসুন নদীতে ঘেরা " টাকি " ১ দিনের ট্যুরে ঘুরে আসুন নদীতে ঘেরা " টাকি " Reviewed by WisdomApps on April 30, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল ২৮-০৪-১৯ থেকে ০৪-০৫-১৯ পর্যন্ত

April 29, 2019

মেষ রাশি: অনেক ব্যাপার এড়িয়ে নেওয়ার মতো পরিবেশ পাবেন। রবিবার অনুকূল পরিবেশ অর্থালাভ। সোমবার যার সাহায্য পাবেন তাকে এড়িয়ে চলুন। মঙ্গলবার মোটামুটি ভালোই কাটবে। বুধবার সহকর্মীর কথা পুরো বুঝে উঠতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শুভ সংবাদ আসতে পারে। শুক্রবার দরকারি কাজ সেরে নেওয়ার জন্য অত্যন্ত শুভ। শনিবার ভালোই কাটবে। 

বৃষ রাশি: সন্তানের ব্যাপারে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। রবিবার মাঝে মধ্যে বিরক্ত হলেও পরে সামলে নেবেন। সোমবারের পরিবেশ আপনাকে আনন্দ দেবে। মঙ্গলবার অনুকূল প্রভাব অব্যাহত। বুধবার অগ্রজসম কারোর সাথে ভালোই সময় কাটাবেন। বৃহস্পতিবার আপনার উদ্দেশ্য পূরণ হবে। শুক্রবার নিজের কাজে ব্যস্ততা। শনিবার সহদরস্থানীয় কারোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়বে।

মিথুন রাশি: পিতার সঙ্গে মতবিরোধ। রবিবার দুপুরের পর সমস্যা বাড়তে পারে। সোমবার বয়সে বড় কারোর সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবেন না। মঙ্গলবার অপ্রতিহত বাধায় অগ্রগতি ব্যাহত। বুধবার পদস্থ ব্যক্তির সুনজরে পড়বেন। বৃহস্পতিবার অনুকূল প্রভাব অব্যাহত। শুক্রে আটকে থাকা টাকা পেয়ে যাবেন। শনিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

কর্কট রাশি: কোনও মহিলার নির্দেশে বড় পদক্ষেপ নেবেন। রবিবার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করে নিন। সোমবার ছোট ছোট আঘাত আপনাকে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। মঙ্গলবার পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। বুধবার অপ্রত্যাশিত যোগাযোগ আপনার অগ্রগতি ঘটাবে। বৃহস্পতিবার আপনার দরকারি জিনিস গুছিয়ে নিন। শুক্রবার নতুন উপার্জনের ক্ষেত্রের খোঁজ। শনিবার মনোবাসনা পূরণ ঘটতে পারে। 

সিংহ রাশি: নীতিচ্যুত কাজ করবেন না। রবিবার দুপুরের পর পরিজনের সঙ্গে আলোচনা করে নিন। সোমবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সাহায্য পেয়ে যাবেন। মঙ্গলবার দূরের কাজে অর্থকরী বাধা থাকবে না। বুধবার তত শুভ নয়। বৃহস্পতিবার হয়রানি মিটিয়ে চলতে হবে। শুক্রবার দুপুরে পর স্বস্তি। শনিবার মোটামুটি দিনযাপন।

কন্যা রাশি: সঞ্চয়ী মনোভাব থাকায় ঋণের জালে জড়াবেন না। রবিবার বাধামুক্ত থাকার আভাস পাবেন। সোমবার সন্তানের সঙ্গে ঐক্যমত হওয়া কঠিন। মঙ্গলে বাধাহীন। বুধবার অপ্রত্যাশিত যোগাযোগ। বৃহস্পতিবার অনুকূল পরিবেশ। শুক্রবার কেনাবেচার ব্যাপারে লাভ। শনিবার অর্থআদায় করতে পারবেন।

তুলা রাশি: প্রানপনে নিজের কাজ নিজে করবেন। অন্যভাষায় বই লেখার প্রস্তুতি নিতে পারেন। রবিবার কাজকর্মের ব্যাপারে অধৈর্য হবেন। সোমবার মানসিক অস্বস্তি। মঙ্গলবার সন্তানের জন্য আইনসংক্রান্ত মীমাংসা নাও হতে পারে। বুধবার মিশ্র পরিবেশ। বৃহস্পতিবার প্রিয়জনের সঙ্গে মতান্তর। শুক্রবার দুপুরে পর পরিস্থিতির উন্নতি। শনিবার সম্পত্তিগত ঝামেলায় আপনার প্রাপ্তি যথাযথ।

বৃশ্চিক রাশি: পোকামাকড় এর উপদ্রোপে শরীরে সমস্যা। রবিবার পারিবারিক দিক জটিলতাপূর্ন। সোমবার অপ্রতিহত বাধায় অগ্রগতি ব্যাহত। মঙ্গলে কর্ম ও অর্থ নিয়ে জটিলতা। বুধে যতটা আশা করবেন তত নাও পেতে পারেন। বৃহস্পতিবার সন্তানের পড়াশোনায় অগ্রগতি। শুক্রবার বেলায় শুভ পরিবর্তন। শনিবার শত্রুরা সাধুবাদ জানাবে।

ধনু রাশি: গান বাজনার সাথে যুক্ত থাকলে প্রতিভার স্বীকৃতি পাবেন। রবিবার খরচ করে কোথাও গেলে আপনার লাভ হবে। সোমবার কর্ম নিয়ে অস্থিরতা। মঙ্গলবার দৈনন্দিন জীবনের ভেতরে কাটবে। বুধবার নিজে কিছু করার সুযোগ পাবেন না।  বৃহস্পতিবার আবেগপ্রবণ হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা। শুক্রবার দূরে গিয়ে উপার্জন সেমন হবে না। শনিবার মানসিক চঞ্চলতা বাড়বে। 

মকর রাশি: বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগ করতে হবে। রবিবার স্বামী স্ত্রী কারোর স্বাস্থ্যহানি। সোমবার ক্ষমতাসম্পন্ন মহিলার সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবেন না। মঙ্গলবার দিনটি সুখদায়ক নয়। বুধবার প্রতিবেশীর সমর্থন পাবেন। বৃহস্পতিবার সজ্জন ব্যক্তির দ্বারা উপকৃত হবেন। শুক্রবার পারিবারিক সমস্যা কর্মে প্রভাব ফেলবে। শনিবার মন বিষাদগ্রস্থ থাকবে। 

কুম্ভ রাশি: ভালো করে কথা না শুনে পদক্ষেপ নিয়ে আফসোস হবে। রবিবার আপনার কথা শোনার জন্য সুযোগ পাবেন। সোমবার ভ্রাতৃস্থানিয়ের বুদ্ধি আপনার কাজে লাগবে। মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় কাজে অগ্রগতি। বুধবার লাভ ক্ষতি কিছুই বুঝতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার আর্থিক সমস্যা প্রকট। শুক্রবার পরিবেশ আনন্দবহুল থাকার সম্ভাবনা। শনিবার অনুকূল প্রভাব অব্যাহত।

মীন রাশি: দাম্পত্যজীবনে তুচ্ছ কারণে মর্মাহত হবেন। রবিবার কাউকে কথা দেওয়ার আগে সময় চেয়ে নিন। সোমবার পারিবারিক পরিবেশ নিয়ে চিন্তিত থাকবেন। মঙ্গলবার প্রতিকূল প্রভাব অব্যাহত। বুধবার দিনটি মধ্যমপ্রদ। বৃহস্পতিবার বিশ্বস্ত ব্যক্তির থেকে অর্থ নিয়ে সমস্যার সমাধান। শুক্রবার যথেচ্ছ প্রচেষ্টায় ফল পেয়ে যাবেন। শনিবার নিজেকে সুমিষ্ট ব্যবহারে প্রতিপন্ন করবেন।
সাপ্তাহিক রাশিফল ২৮-০৪-১৯ থেকে ০৪-০৫-১৯ পর্যন্ত সাপ্তাহিক রাশিফল ২৮-০৪-১৯ থেকে ০৪-০৫-১৯ পর্যন্ত Reviewed by WisdomApps on April 29, 2019 Rating: 5
Powered by Blogger.