Featured Posts

[Travel][feat1]

কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? জানুন ভাগ্যফল - ১২ রাশির রাশিফল - ২৮ নভেঃ থেকে ০৪ই ডিসেম্বর ২০২১

নভেম্বর ২৮, ২০২১

  সাপ্তাহিক রাশিফল বাংলা -জেনে নিন কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? কি লেখা আছে ভাগ্যে ?  ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল । অভিজ্ঞ জ্যোতিষীদের সাহায্যে তৈরি নিখুঁত রাশিফল । 





কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? জানুন ভাগ্যফল - ১২ রাশির রাশিফল - ২৮ নভেঃ থেকে ০৪ই ডিসেম্বর ২০২১ কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? জানুন ভাগ্যফল - ১২ রাশির রাশিফল - ২৮ নভেঃ থেকে ০৪ই ডিসেম্বর ২০২১ Reviewed by WisdomApps on নভেম্বর ২৮, ২০২১ Rating: 5

মোমবাতি তৈরির ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ? কিভাবে বড় করবেন ? জেনে নিন খুঁটিনাটি

নভেম্বর ২৪, ২০২১

অল্প পুঁজিতে ব্যবসা - সাধারন মোমবাতি বা রঙিন  মোমবাতি তৈরি 


মোমবাতি কি কাজে লাগে ? 

যে কোনাে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান থেকে শােকদিবস – সর্বত্র মােমবাতির ব্যবহার হয়। বর্তমানে বিদ্যুতের অভাবে ইলেক্ট্রিসিটির পরিপূরক হিসাবেও ব্যবহার হয় মােমবাতি। সারা বছর চাহিদা থাকলেও সেরা মরসুম: শারদোৎসব ও দীপাবলী। 

মোমবাতি তৈরির ইতিহাস - 

এ রাজ্যে প্রথম মােমবাতি তৈরি হয় নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে ১৮৯২-৯৩ সালে। যেহেতু এইসব অসংগঠিত শিল্পের ইতিহাস রাখার কোনাে পদ্ধতি ছিল না, তাই বিভিন্ন লােকের আত্মজীবনী থেকে খুঁজে পাওয়া যায় এই ছােট শিল্পের ইতিহাস। প্রথমদিকে অবাঙালীরাই এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কলকাতার বড়বাজার, তালতলা, হাটখােলা, শিয়ালদহের ডিমপট্টী – এইসব অঞ্চলে কারখানা গড়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় সরকারের চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় মােমবাতির কাঁচামালের নিয়ন্ত্রিত বাজার প্রথা চালু হওয়ায় উদ্বাস্তু ও বহু বেকার স্ব-উদ্যোগী হতে পারবে এই চিন্তায় জেলা শিল্প কেন্দ্রের মাধ্যমে মােমবাতির ব্যবসায় উৎসাহ দেওয়া হয়। পরে ব্যাপক আকারে মােমবাতি শিল্প ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে মােমবাতি শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্রশিল্প। এই শিল্প ঘিরে প্রচুর তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযােগ আছে। একসময়ে পশ্চিমবঙ্গে ২৩৩৫টি মােমবাতি তৈরির কারখানা ছিল। এর মধ্যে শুধুমাত্র উত্তর ২৪ পরগনায় ছিল ৯২৭টি। আজ গােটা রাজ্য জুড়ে এই শিল্প ছড়িয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও চাহিদার তুলনায় এখনাে যােগান সীমিত। মহারাজা ক্যান্ডেলের কর্ণধার চিরঞ্জয় চক্রবর্তী ও সংহিতা চক্রবর্তি জানান, মােমবাতি তৈরির কারখানায় কারিগরি ও বিপণন ক্ষেত্রে চাকরির সুযােগ আছে। তেমনি উদ্যোগীরা নিজেরা ব্যবসা করতে পারেন। 

মোমবাতির ব্যবসা দু'ভাবে করা যায় - ট্রেডিং ও উৎপাদন। 

মোমবাতির ট্রেডিং কি ?  

ট্রেডিং মানে পণ্য কেনা বেচার ব্যবসা। মােমবাতি তৈরির কারখানা থেকে কিংবা বড়বাজার থেকে পাইকারি দরে মােমবাতি কিনে স্থানীয় দোকানে বিক্রি করতে পারেন। শুরুতে ৩৫-৪০ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করতে পারেন। ভালাে বরাত পেলে বিনিয়ােগ বাড়াবেন। ট্রেডিং ব্যবসায় ১৫%-২০% লাভ রাখা যায়। 

মোমবাতির উৎপাদনমূলক ব্যবসা কি ?  

মােমবাতি তৈরির কারখানা করতে চাইলে প্রথমে পঞ্চায়েত , মিউনিসিপ্যালিটি বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট জেলাশিল্প কেন্দ্রে গিয়ে ক্ষুদ্রশিল্পের জন্য নাম নথিভুক্ত করতে হবে। রাজ্য দূষণ পর্ষদ মােমবাতি তৈরিকে দূষণের বাইরে রেখেছেন। এরপর বৃত্তিকরের জন্য দরখাস্ত করতে হবে। বৃত্তিকর দপ্তর এই শংসাপত্র দেয়। বিক্রয়কর দপ্তর থেকে মূল্যযুক্ত কর নং (VAT No.) নিতে হবে। জাতীয় ক্ষুদ্র শিল্প নিগম থেকে রেজিস্ট্রেশন নিলে কোনাে সরকারি অফিসে বা, আধা সরকারি অফিসে সিকিউরিটি জমা দিতে হবে না। 

বিভিন্ন ধরনের মােমবাতি : 





বিভিন্ন ধরনের মােমবাতি হয়। যেমন জল মােমবাতি, লম্বা চতুষ্কোণ মােমবাতি, নারকোল মালার মােমবাতি,পাস্টিকের পাত্রে মােমবাতি, বালি মােমবাতি, বনজ মােমবাতি, ধাপ মােমবাতি, ফুল মােমবাতি (ভাসমান), ঝাউগাছ মােমবাতি, লম্বা ত্রিকোণ মােমবাতি, ছক্কা মােমবাতি, হৃদয় মােমবাতি ও সাধারণ মােমবাতি। এছাড়াও আছে বাহারি মােমবাতি। ঘরের অন্ধকার দূর করা ছাড়াও ফ্যান্সি বা, ডেকরেটেড বা, বাহারি মােমবাতি আনন্দউৎসবে উপহার কিংবা ঘরের অন্দরমহল সাজাতে শো পিস হিসাবে ব্যবহার হয়। এই ধরনের মােমবাতির আলাে স্নিগ্ধ, নরম ও দূষণমুক্ত। সুগন্ধী জেল মােমবাতি ফ্রিজে রাখলে দুর্গন্ধ চলে যায়। বাহারি মােমবাতি বিভিন্ন আকৃতি ও রং এর হয়। যেমন, বিয়ার রিং, সিলিন্ডার, পেগ গ্লাস, বাটি, প্রদীপ, ভেজিটেবল, হ্যান্ডকেপ, হার্ড জেল ইত্যাদি ১০০-২০০ ধরনের শিল্প নৈপুণ্য মােমবাতিতে ফুটিয়ে তােলা যায়। বাজারে বেশি চাহিদা বিয়ার পেগ, রিং, ল্যান্ডস্ক্যাপ, আইসক্রিম ও ‘হার্ট’ মােমবাতি।

সাধারণ মােমবাতিঃ

 দৈনন্দিন জীবনে যে মােমবাতি ব্যবহার করি সেটাই সাধারণ মােমবাতি। অন্ধকার দূর করতে কালীপুজো বা,দীপাবলীতে বাড়ি সাজাতে বিভিন্ন মাপের লম্বা মােমবাতি ব্যবহৃত হয় । 

সাধারণ মােমবাতি বানানোর প্রয়ােজনীয় সরঞ্জাম কি কি ? 

 ছাঁচ বা, মেশিন, পলতে, বড় কড়াই, ছান্তা,উনােন, ১০ নং বালতি, কঁচি, মগ, মােবিল, তেলের জন্য প্লেট,  ​একটি জুতাের ব্রাশ (৪'' x ৬''), ১টি শক্ত লােহার পাত, প্যাকিং পেপার, লেবেল ও আঠা,দাঁড়িপাল্লা বা, ওজনের যন্ত্র, প্যারাফিন ওয়াক্স, স্টিয়ারিক টাকা অ্যাসিড, মৌমােম, রং ও সুগন্ধী (দরকার হলে)। 

মােমবাতি বানানোর প্রয়ােজনীয় সরঞ্জাম কোথায় কি পাবেন ? 

ছাঁচ তৈরি হয় লােহা বা, অ্যালুমিনিয়ামের। তৈরি ছাঁচ বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। তাছাড়া নিজেও ছাঁচ তৈরি করতে পারেন। উঁচ বা, ডাইস ৩ ধরনের : সরু, মাঝারি ও বড় সাইজের। ডাইস কিনতে পাওয়া যায় কলকাতার আর. এন. মুখার্জী রোড, হাওড়ার বেলেলিয়াস রােড রঙ ও বেলেঘাটার সরকার বাজার, মধ্য কলকাতার মেছুয়া পট্টিতে। কর্মকাররা মােমবাতির জন্য মার্বেল বিশেষ এক ধরনের কঁচি ও ছুরি, ইত্যাদি তৈরি করে। এছাড়া ওপরের অন্যান্য উপাদানগুলি পাবেন বড়বাজার ও চিনা মার্কেটে।। 



মােমবাতি তৈরির পদ্ধতি : 

উনােনে কড়াই বসিয়ে দিয়ে প্যারাফিনের টুকরােগুলি দিয়ে দিতে হবে। প্যারাফিন গরম কড়াইতে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গলতে শুরু করবে। প্যারাফিন গলতে শুরু, করার পর প্যারাফিনের ১০% স্টিয়ারিক অ্যাসিড আর ৫% মৌমােম দিতে হবে। সবগুলি একসঙ্গে গলতে থাকবে। ছাঁচের পর জুতাের ব্রাশ দিয়ে তেল দু’পাশে ঠান্ডা জল ভরে নেওয়ার লাগিয়ে নিতে হবে। তারপর ওপর নিচ করে পলতে লাগাতে হবে ও দুটো পাল্লা এক করে চাবি  বন্ধ করে দিতে হবে। কড়াইতে প্যারাফিন ও সহযােগীরা সম্পূর্ণ গলে গেলে ছাস্তা দিয়ে অবাঞ্ছিত পদার্থগুলি হেঁকে নিতে হবে। অনেক সময় প্যারাফিনের সঙ্গে চটের বস্তার আশ বা, কাগজের টুকরাে কড়াইয়ের মধ্যে চলে যায়। তাই এই সতর্কতা। এবার তরল প্যারাফিনের দ্রবণ ধীরে ধীরে ছাঁচে ঢালতে হবে। ছাঁচ ভর্তি করে দিতে হবে। ৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর আবার ঢালতে হবে। কারণ, শক্ত হয়ে জমে যাওয়ার পর মােমবাতির ওপরের লাভ অংশ ফাপা থেকে যায়। তাই দ্বিতীয়বার ঢালতে হয়। ১০ মিনিট অপেক্ষা করলে পুরাে শক্ত হয়ে যাবে। তখন ওপরের পলতে কাচি দিয়ে কেটে মােমবাতির তলা ছুরি দিয়ে হেঁটে সমান করে দিতে হবে। এবার পাল্লা দুটো আলাদা করে দিলে মােমবাতিগুলি বের করতে অসুবিধা হবে না। এরপর মোমবাতির পলতে আধ ইঞ্চি রেখে কেটে দিয়ে গায়ের লেগে থাকা থাকা টুকরাে মােমগুলি পরিষ্কার করে দিতে হবে। এবার মােমবাতিগুলি কাগজে মুড়ে লেবেল লাগিয়ে দিন। বাক্সে ভরে দিলে মােমবাতি বাজারে বিক্রির উপযােগী হবে। 

মােমবাতি তৈরির ব্যবসায় বিনিয়ােগ কেমন  ও লাভ কেমন ? 

একটি মােমবাতি তৈরির কারখানা  বিনিয়ােগ করতে হবে অন্তত ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। পণ্য বিপণনে লাভ থাকে ১৫% = ২০% |



ফ্যান্সি মােমবাতি কি ? 

সাধারণ ফ্যান্সি বা, বাহারি মােমবাতি তৈরি ও সরল পদ্ধতিতে ঘরে বসে মােমবাতি করা যায়। এগুলিকে জেল মােমবাতি বলে । এই মোমবাতি তৈরি করতে লাগে জেল ওয়াক্স, পলতে স্টান্ড (পলতে ধরার জন্য), প্যারাফিন, রঙ (ওয়েল সলিউবল), সুগন্ধী। (গােলাপ, জুই, চন্দন), সাজানাের জিনিস (পুঁতি, রাংতা, কাচের মার্বেল, কাপড়, সুতাে, গহনা গিয়ে ইত্যাদি) দু'ধরনের হয়। বিদেশি ও চায়না। বিদেশি প্যারাফিন দিয়ে উন্নত মাপের মােমবাতি হয়। যাবতীয় উপাদান কিনতে পাওয়া যায় বড়বাজারে। 


ফ্যান্সি মােমবাতি বানানোর সরঞ্জাম : 

সরঞ্জামের মধ্যে লাগে মােম গলানাের জন্য পাত্র, গ্যাস থাকলে ওভেন ও বিভিন্ন আকৃতির সুদৃশ্য কাচের পাত্র। 

ফ্যান্সি মােমবাতি বানানোর পদ্ধতি : 

রােজিন ও মিনারেল অয়েলের সংমিশ্রণে তৈরি হয় মােমবাতি তৈরি করতে চান সেই জেল, মােমবাতি। যে ধরনের অনুযায়ী কাচের পাত্রে পছ সই ওভনে জেল ওয়াক্স গলাতে পেইন্টিং করে নিতে হবে। এবার ওভনে জেল ওয়াক্স গলাতে হবে। গলানাের সময় নির্দিষ্ট | অনুপাতে রং মিশিয়ে তারপর | নির্দিষ্ট কাচের পাত্রে ঢালুন। এরপর পলতে পরিয়ে ২০-২৫ মিনিট রেখে দিন। ব্যাস জেল মােমবাতি তৈরি। এবার আকর্ষণীয় প্যাকেজিং করে নিন। সাধারণ মােমবাতির সঙ্গে বাহারি মােমবাতির তফাৎ একটাই, এই ধরনের মােমবাতি তৈরির জন্য ছাঁচের দরকার হয় না। নির্দিষ্ট জায়গা বা, ঘর লাগে না। 

ফ্যান্সি মােমবাতি ব্যাবসায় বিনিয়ােগ কত ? লাভ কেমন ? 

২৫-৩০ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বিক্রি করে আইটেম পিছু ৫%-১০% পর্যন্ত লাভ রাখা যায়।


মােমবাতি ব্যাবসায় কীভাবে বিপণন শুরু করবেন ? 

শুরুতে সেনা পরিচিত বন্ধু, আত্মীয়দের মধ্যে বিক্রি করুন। তারপর দোকানে ১২ দোকানে যােগাযােগ করুন। ব্যাঙ্ক বিপণনের জন্য জেলাভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় গিফট শপ, পিরাণি মলগুলিতে ফ্যান্সি মােমবাতি বিক্রি করতে পারেন।

মোমবাতি তৈরির ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ? কিভাবে বড় করবেন ? জেনে নিন খুঁটিনাটি মোমবাতি তৈরির ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন ? কিভাবে বড় করবেন ? জেনে নিন খুঁটিনাটি Reviewed by WisdomApps on নভেম্বর ২৪, ২০২১ Rating: 5

কেমন কাটতে পারে এই সপ্তাহ ? জেনে নিন ১২ রাশির আগাম রাশিফল ২১/১১ থেকে ২৭/১১/২০২১

নভেম্বর ২১, ২০২১

 সাপ্তাহিক রাশিফল বাংলা -জেনে নিন কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? কি লেখা আছে ভাগ্যে ?  ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল । অভিজ্ঞ জ্যোতিষীদের সাহায্যে তৈরি নিখুঁত রাশিফল । 





কেমন কাটতে পারে এই সপ্তাহ ? জেনে নিন ১২ রাশির আগাম রাশিফল ২১/১১ থেকে ২৭/১১/২০২১ কেমন কাটতে পারে এই সপ্তাহ ? জেনে নিন ১২ রাশির আগাম রাশিফল ২১/১১ থেকে ২৭/১১/২০২১ Reviewed by WisdomApps on নভেম্বর ২১, ২০২১ Rating: 5

সামান্য ১০হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করতে পারেন এই ৩ টি ব্যাবসা - পরিশ্রম করলে টাকার অভাব হবে না - business ideas in bengali

নভেম্বর ১৬, ২০২১

new business ideas in bengali

অল্প পুঁজিতে কাজ শুরু করে ধিরে ধিরে ভালো ইনকাম করতে চান ? (How to earn money?) এই লেখায় (business ideas in bengali) আলোচনা করবো এমন তিনটি ব্যাবসা যা শুরু করতে বেশি টাকা লাগবে না । ব্যাবসা দাঁড়িয়ে গেলে ইনকাম  খুব ভালো হবে । শুরুটা সহজ , বাকিটা আপনার পরিশ্রমের উপর । কোনো ম্যাজিক নয় , কোনো মিরাকেল নয় । তবে একটু কম প্রচলিত হওয়ার কারনে অনেক মানুষ এই ব্যাবসা সম্বন্ধে জানে না । আসুন জেনে নিই - কিভাবে মাসে একটা ভালো টাকা আয় করতে পারবেন ? (Earn money) । অনলাইন (Online business)  ও লোকাল ব্যাবসা (Local business)  দুটোই জানতে পারবেন । 


ব্যাবসার বুদ্ধি ১ঃ  চক বানানোর ব্যবসা 


হ্যাঁ , সাদা ও কালার চক বানানোর ব্যাবসার মার্কেট এখনও সারা ভারতে বেশ ভালো । পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে চক ডাস্টার , ব্ল্যাকবোর্ড ব্যাবহারের চল প্রায় উঠে গেছে বললেই চলে , সাদা বোর্ড , ডিজিটাল স্ক্রীনে চলে ক্লাস । কিন্ত ভারতের প্রায় সব রাজ্যেই স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করা হলেও পড়ানোর সিস্টেমে খুব একটা উন্নতি করা হয়নি । বেশিরভাগ স্কুলেই এখনও ব্ল্যাকবোর্ড , চক আর ডাস্টারেই ক্লাস চলে যাচ্ছে । আগামী ১০ বছরেও এই পদ্ধতির চেঞ্জ হবে বলে মনে হয় না । এই কারনে মাত্র ১০,০০০ টাকা নিয়েই শুরু করতে পারেন চকের ব্যাবসা । 

চক প্রধানত প্লাস্টার ওফ প্যারিস দিয়ে তৈরি হয় । প্লাস্টার অফ প্যারিস  (Plaster of Paris) আসলে জিপ্সাম পাথরের গুড়ো । এর দাম খুবই সস্তা এবং লোকাল মার্কেট ঘুরলেই সস্তায় পেয়ে যাবেন । চক বানাতে যে ছাঁচ লাগে তাও কোলকাতার বিভিন্ন মার্কেটে পেয়ে যাবনে । লোহার বা কাঠের দোকানে অর্ডার দিয়ে নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন । প্রচলিত চকের থেকে একটু আলাদা ডিজাইন করলে সহজে মার্কেটে ঢুকতে পারবেন । বাজারে সব থেকে কমা চকের দাম ১ বাক্স ২০ টাকা , আর ভালো চক ৬০ থেকে ১০০ টাকাতেও বিক্রি হয় । আপনার লোকালিটিতে ১০ টা হাইস্কুল ধরতে পারলে আপনার প্রাথমিক ভাবে মাসে ৬০০ থেকে ১০০০ প্যাকেট বিক্রি করতে পারবেন । ডাইরেক্ট সেল করলে ২০ টাকার প্যাকেটে ৭-৮ টাকা লাভ রাখা যায়  , তার মানে লোকাল স্কুল থেকেই আপনি মাসে ৭০০০ থেকে ৮০০০ টাকা ইনকাম করতে পারেন  স্কুল যত বেশি ধরবেন ইনকাম ততই বেশি হবে । 

করোনার প্রকোপ কমার দিকে , এখন সব জেলাতেই স্কুল খোলা শুরু করেছে , এই সময় এই চকের ব্যাবসা শুরু করার খুব ভালো সময় । 


ব্যাবসার বুদ্ধি ২ঃ কাগজের প্যাকেট ও খাম তৈরির ব্যাবসা 

সুনে মনে হতে পারে - এই ব্যাবসায় লাভ করা সম্ভব কি ? কিন্ত আশ্চর্য হয়ে যাবেন যখন ঠান্ডা মাথায় এই ব্যাবসার ফিউচার সম্বন্ধে ভাববেন । পরিবেশ সচেতনতার জন্য এবং সরকারী চাপে দোকান পাট - শপিং মলে প্লাস্টিকের প্যাকেট ব্যাবহার করা প্রায় বন্ধ হওয়ার দিকে । প্রচলন হয়েছে প্লাস্টিকের অল্টারনেটিভ কাগজ , পাট , কাপড়ের প্যাকেট । কিন্ত এত চাহিদা থাকা সত্ত্বেও মার্কেটে সাপ্লাই নেই । এই মার্কেট ধরতে পারেন আপনি । শুরু করতে পারেন সব থেকে সস্তা ইনভেসমেন্ট অর্থাৎ কাগজের প্যাকেটে দিয়ে শুরু করে । বাশপেপার বানানো প্যাকেট বা মোটা কাগজ ( ১৭০ জিএসেম ) দিয়ে তৈরি সুতোর হাতলের প্যাকেট তৈরি করতে কোনো মেশিন কিনতে হয় না । ১জন / ২জন কর্মী দিয়ে শুরু করে বা নিজেরাই শুরু করে দেওয়া যেতে প্যাকেট বানানো । ভালো মানের প্যাকেট অপেক্ষাকৃত কম দামে দিলে সহজেই মার্কেটে ঢুকে পড়া যাবে । কোলকাতার নিউ মার্কেটে অনেক জিনিস পেয়ে যাবনে । দমার্কেট বুঝতে পারলে ভালো মেশিন কিনে নিয়ে দৈনিক অনেক বেশি প্রোডাকশান করা সম্ভব হবে । প্রাথমিক ভাবে ৩০০০ - ৫০০০ পুঁজি নিয়ে ব্যাবসা শুরু করে মার্কেট বুঝে নিয়ে ১লাখ - ৫ লাখের বিভিন্ন মেশিন পাওয়া যায় । কাটিং , প্রেসিং , প্যাকেজিং , লেভেলিং - প্রয়োজনীয় মেশিন নিয়ে ব্যাবসা এগনো যেতে পারে । এই প্যাকেটে পিস অনুযায়ী লাভ রাখা কঠিন । ১০০ প্যাকেট/খামের একটা বান্ডিলে সব থেকে বেশি হলে ৮-১০ টাকা লাভ করা যায়  । মাসে ৫০০০ - ১০০০০ প্যাকেট বিক্রি করা খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয় । তবে মনে রাখবেন - প্যাকেট ও খামের কোয়ালিটি ভালো না হলে মার্কেটে বেশিদিন টিকতে পারবেন না । 


ব্যাবসার বুদ্ধি ৩ঃ অনালাইনে সস্তায় বানান ফটো অ্যালবাম 


মনে করা হতো স্মার্ট ফোনের এই সময়ে প্রিন্টেড ফটোর মার্কেট আর থাকবে না কিন্ত ভালোকরে দেখলে বোঝা যায় ব্যাপারটা উলটে গেছে । লোকে ছবি তুলছে বেশী আর প্রিন্ট করছেও বেশি । আগামী ৫ বছরে ফটো প্রিন্টিং বিজনেস আরো বাড়বে বই কমবে না । কিন্ত একটা স্টুডিও খুলে বসতে অনেক খরচ লাগে । কম পুঁজিতে এই ব্যবসা করে বেশী লাভ করবেন কিভাবে ? (How to earn using online platform?) 

সমাধান দেবে অনালাইন প্ল্যাটফর্ম - বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে ( Vistaprint.com) ( Printvenue.com) (zoomin.com)  যেখানে আপনি ফটো প্রিন্ট , ভিজিটিং কার্ড বানানো , অ্যালবাম বানানো , ফটো ল্যামিনেশন করে বাধানো - সহ অনেক ছবি রিলেটেড কাজ করতে পারেন । সাইট গুলো অনেকের চেনা হলেও কিভাবে কাজ করতে হয় তা জানা না থাকায় অনেকে স্টেপ নেন না । 
আপনি যদি অল্প বিস্তর ফটোশপের (Photoshop) কাজ শিখে নিতে পারেন তাহলে কাস্টমারের ফটো এডিট করে সাজিয়ে নিয়ে এই ওয়েবসাইট গুলোর মাধ্যমে অর্ডার  করে কাস্টমারকে ডেলিভারী দিতে পারেন । বাজারে একটা ৬০ পেজের ওয়েডিং অ্যালবাম করাতে ৫০০০-২৫০০০ টাকা পর্যন্ত চার্জ করে সেখানে আপনি ভিস্টাপ্রিন্ট ওয়েবসাইট থেকে ২২০০-২৫০০ টাকায় এমন অ্যালবাম বানিয়ে নিতে পারবেন । অনায়াসে ৪৫০০ - ৭০০০ এ এই অ্যালবাম বিক্রি করতে পারবেন । বাড়ি থেকে অর্ডার ধরে বাড়ি বসেই ইনকাম করতে পারবেন । 

এই best business ideas in West Bengal - গুলো শেয়ার করে বেকার ভাই বন্ধুদের উপকার করুন । 



সামান্য ১০হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করতে পারেন এই ৩ টি ব্যাবসা - পরিশ্রম করলে টাকার অভাব হবে না - business ideas in bengali সামান্য ১০হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করতে পারেন এই ৩ টি ব্যাবসা - পরিশ্রম করলে টাকার অভাব হবে না - business ideas in bengali Reviewed by WisdomApps on নভেম্বর ১৬, ২০২১ Rating: 5

কেমন যেতে পারে এই সপ্তাহ ? জেনে নিন - ১৪ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত রাশিফল

নভেম্বর ১৪, ২০২১

সাপ্তাহিক রাশিফল বাংলা -জেনে নিন কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? কি লেখা আছে ভাগ্যে ?  ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল । অভিজ্ঞ জ্যোতিষীদের সাহায্যে তৈরি নিখুঁত রাশিফল । 



কেমন যেতে পারে এই সপ্তাহ ? জেনে নিন - ১৪ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত রাশিফল কেমন যেতে পারে এই সপ্তাহ ? জেনে নিন - ১৪ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত রাশিফল Reviewed by WisdomApps on নভেম্বর ১৪, ২০২১ Rating: 5

বিনা পুঁজিতে কিভাবে পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করবেন ? জেনে নিন বেকারি ব্যাবসার বিস্তারিত

নভেম্বর ১৩, ২০২১

 পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট তৈরির বেকারির ব্যবসা


বেশিরভাগ শহরে এবং অনেক গ্রামেই এখন সকালের প্রথম খাবার পাউরুটি , সাথে হতে পারে মাখন , জ্যাম , ডিম বা অন্য কিছু কিন্ত বাড়িতে বানানো আতার রুটির চাহিদা বাচ্চা বুড়ো এবং ব্যাস্ত গৃহিণীর কাছে ক্রমশই কমছে । এই সময়ে বড় সমস্যা হলো কোয়ালিটি প্রোডাক্টের । এখোনো গ্রামে-শহরে সর্বত্রই পাউরুটির এত ভালাে চাহিদা থাকা সত্বেও কমা মানের প্রোডাক্টেরই রমরমা । তবে এর নিশ্চিত বাজার থাকায় উদ্যমী বেকাররা সামান্য কয়েক লাখ টাকার পুঁজি নিয়ে পাউরুটি তৈরির বেকারি করতে পারেন। স্বয়ংক্রিয় মেশিন বসিয়ে এই কারখানা করলে প্রতিদিন যে পাউরুটি তৈরি হবে, তার বিক্রির বাজার এখনাে শহরতলি ও গ্রামে অফুরন্ত। পাউরুটির পাশাপাশি ডিসেম্বরে কেক ও প্যাটিসের চাহিদা বাড়বে। এছাড়াও প্যাকেট করা বিস্কুট ও ছোট কেকের চাহিদা সারা বছর থাকেই। কম দামে ভালো মানের ফুড প্রোডাক্টের অভাব ভারতে চিরকাল । অল্প লাভ দিয়ে শুরু করে বড় কিছু করতে চাইলে এই ব্যাবসার তুলনা নেই । 

আসুন জেনে নিন বেকারী ব্যাবসার খুঁটিনাটি 


বেকারির ব্যবসার কাঁচামাল কি কি ? 

পাউরুটি তৈরির জন্য দরকার হয় এইসব কাচামাল : ময়দা, ডালডা, খাবার লবণ, চিনি, ইস্ট আর বেকিং পাউডার। তবে শুরুতে বেকিং পাউডার না দিলেও চলে। পাউরুটি তৈরিতে ইস্টের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ইস্ট পাউরুটিকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেয়। ইস্টে রঙ সাদা বা, হাল্কা বাদামি। অধিকাংশ বেকারিতে মাখনের বদলে ডালডা দেওয়া হয়। কারণ মাখন ব্যবহারে পড়তায় আসে না। তবে আপনি চাইলে মাখন ব্যাবহার করতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী মার্কেটিং করতে পারেন । এখন মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মানুষ একটু পয়সা বেশী দিয়ে ভালো স্বাস্থ্যকর খাবার পছন্দ করে । সঠিক ভাবে বাজারে প্রচার করতে পারলে মাখন দেওয়া পাউরুটির চাহিদা আকাশ ছোয়া হতে দেরি লাগবে না। 


বেকারির ব্যবসার কাঁচামাল কোথায় পাবেন ? 

ওপরের যাবতীয় উপাদান পাবেন স্থানীয় মুদিখানার দোকানে। ইস্ট পাইকারি দরে পাবেন পাবেন কলকাতার ক্যানিং স্ট্রিটের (বড়বাজার) বিভিন্ন দোকানে। এছাড়া অনলাইনে খুঁজে দেখতে পারেন । 

বেকারির ব্যবসার যন্ত্রপাতি কি কি ? 

দরকারি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের মধ্যে আছে : (১) ভাটি বা বিদ্যুৎচালিত উনুন, (২) ময়দা মাখার মিক্সচার মেশিন, (৩) স্লাইসড পাউরুটির জন্য স্লাইসিং মেশিন, (৪) ময়দা শিফটার মেশিন, (৫) চিনি গুঁড়াে করার গ্রাইন্ডিং মেশিন, (৬) ব্রেড মােল্ডার মেশিন, (৭) কেক করতে চাইলে কেক তৈরির উপযােগী বিদ্যুচ্চালিত ক্রিম ও ডিম মিক্সচার মেশিন, (৮) ওজন অনুযায়ী বিভিন্ন মাপের মােল্ডার বা, ছাঁচ, (৯) ভাটিতে পাউরুটি ঢােকানাের জন্য নানান মাপের ট্রে। 

বেকারির ব্যবসার যন্ত্রপাতি কোথায় পাবেন? 

যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও ভাটি পাবেন শ্যামবাজারের আর.জি. কর রােডের বিভিন্ন দোকানে। এছাড়াও পাবেন এই ঠিকানায় ওরিয়েন্টাল মেশিনারি, ২৫, আর.এন. মুখার্জি রােড, কলকাতা - ৭০০০০১। ছাঁচ বা, মােল্ড পাবেন গণেশচন্দ্র অ্যাভেনিউ ও দমদমের কৃষ্ণপুর লেনের নানান দোকানে। অনলাইনে বেশ কিছু সাইটে পেয়ে যাবেন । Indiamart এ খুঁজে দেখতে পারেন । 


ভাটি কি ? 

পাউরুটি সেঁকার জন্য ভটি তৈরি করা হয় বিশেষ পদ্ধতিতে। গ্রাম বা, আধা শহরে পাউরুটি, কেক ও প্যাটিস তৈরিতে ছােট ভাটাই যথেষ্ট। এর মাপ হল ৮ ফুট x ১০ ফুট। তাপ ধরে রাখার উপযুক্ত ঝামা ইট দিয়ে তৈরি এটা আসলে বন্ধ কুঠুরি। দুদিকে ঢাল থাকে। ছাদও তৈরি হয় তাপ ধরে রাখার ঝামা ইটে। মাটি থেকে ৪ ফুট উঁচু একটি মাটির বেদির ওপর তৈরি হয় কুঠুরির মেঝে। কুঠুরির উচ্চতা হয় ৫ ফুট। সামনের দিকে ঘুলঘুলির মতাে ফাক দিয়ে পাউরুটি, কেক, প্যাটিস ট্রেতে করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আর এইসব খাদ্যপণ্য তৈরি হলে বের করা হয়। ঘুলঘুলির মতাে ফাঁকা জায়গা টিন বা, অ্যাসবেস্টসের পাল্লা দিয়ে বন্ধ করা যায়। কুঠুরির একটু দূরে পাউরুটি ঢুকিয়ে দেওয়া আর কর্মসৃজন টেনে আনার জন্য তক্তা লাগানাে লম্বা লাঠি ব্যবহার করা হয়। কুঠুরিতে রুটি সেঁকার উপযােগী তাপের জন্য কাঠ ঠেলে দেওয়া হয়। একবার কুঠুরিকে গরম করতে পারলে ৭ দিন গরম থাকে। কুঠুরির ভিতরের ধোঁয়া বাইরে বের করার জন্য ছাদের ওপরে চিমনি বসাতে হয়। 


বেকারির ব্যবসার পাউরুটি তৈরির পদ্ধতি কি ? 

পাউরুটি তৈরির জন্য এইসব উপাদান মেশাতে বেকারিতে হবে এইসব অনুপাতে : ময়দা (২৫ কেজি), ডালডা (২০০ গ্রাম), লবণ পারেন (৪৫০ গ্রাম), জল (১৩.৫ লিটার), ইস্ট(২৫০ গ্রাম), চিনি (৫০০ গ্রাম)। 

প্রথমে গ্রাইন্ডিং মেশিনে চিনি গুঁড়াে করে নিতে হবে। তারপর ওপরের ওইসব উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মাখার পর অন্তত ৩-৪ ঘন্টা ফেলে রাখতে হবে। সময় কমাতে চাইলে ইস্টের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে। এরপর মাখা ময়দায় গেঁজা তুলতে হলে মাখা ময়দাকে গােল বলের মতাে করে নিয়ে মসৃণ আর চকচকে পাত্রে ভরে নিতে হবে, যাতে ওই ময়দার বল শুকিয়ে ফেটে না যায়। ময়দাকে গাঁজানাের সময় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখতে হবে। শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে গরম করতে হতে পারে। ময়দা গাঁজানাের সময় তার মধ্যে নরমভাব কেমন আছে, তা জানতে আঙুল ঢুকিয়ে দেখতে  পারেন। মাখা ময়দায় যাতে গ্যাস না জমে, সেজন্য গাঁজা তােলার পর পাঞ্চ করতে হয়। ময়দা মাখা, গাঁজা তােলার পর নরম ময়দার এমন মাপের লেচি করতে হবে, যাতে লেচি ছাঁচের শুধুমাত্র অর্ধেক জায়গা জুড়ে থাকে। এবার ছাঁচে বা মােল্ডে লেচি ঢুকিয়ে কিছুক্ষণ গাঁজা বা রস বেরােলে মুছে দিন। 

রুটির মাপ অনুযায়ী ছাঁচও হয় বিভিন্ন মাপের। গভীরতা যেমন, ১০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ও ৪০০ গ্রাম। গােলরুটির জন্য লাগে যন্ত্রের গােলাকার ছাঁচ। সেকার জন্য তাপমাত্রা লাগে ১৯৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বা, ৩৮৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। কিছুদিন সেঁকার পর এই তাপমাত্রা সম্পর্কে আন্দাজ এসে যায়। তবে তাপ ওঠাতে হলে গরম ভাটিতে কাঠ গুজতে পারেন আর তাপ কমাতে চাইলে কলাগাছের কাণ্ড ঢােকাতে পারেন। কোয়ার্টার পােশাক অর্থাৎ ১০০ গ্রাম ওজনের পাউরুটি সেঁকে খাওয়ার উপযুক্ত হতে সময় লাগে ৫-৬ মিনিট। ২০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। যখন পাউরুটি ছাঁচের মধ্যে কুঁচকে যাবে ও হাল্কা কালচে লাল রা, বাদামি হবে তখন বুঝতে হবে পাউরুটি তৈরি হয়েছে। 

পাউরুটি তৈরি হয়ে গেলে ছাঁচ ভরতি ট্রে নিয়ে এনে ঠান্ডা করতে হবে। রুটি ঠান্ডা হয়ে গেলে স্লাইসিং মেশিনে স্লাইস করে কেটে প্যাকেটে ভরতে হবে। ক্রেতাদের নজর টানতে হলে কিন্তু প্যাকেজিং ভালাে হওয়া  চাই। বেশি লাভ রাখতে চাইলে পাউরুটির পাশাপাশি কেক ওবিস্কুট তৈরি করতে হবে। 


বেকারি ব্যাবসার জন্য কোথায় টাকা পাবেন ? 

সব মেশিন , জায়গা , পারমিশন , কাঁচামাল দিয়ে মোটামুটি ৬ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকার বাজেট ধরে নেওয়া যেতে পারে । কিন্ত এত টাকা একজন সাধারন ঘরের বেকার ছেলে বা মেয়ে পাবে কোথায় ? এই কারনে বেকার  ছেলেমেয়েরা পাউরুটি তৈরির বেকারি করতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী  কর্মসৃজন প্রকল্প বা, ‘বিবেকানন্দ বাংলা স্বনির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্প’  থেকে ঋণ পেতে পারেন। 


বেকারি ব্যাবসার জন্য ট্রেনিং কোথায় পাবো ? 

দেখুন আপনি প্রাথমিক ধারনা ইন্টারনেটে অনেক ভিডিও দেখে পেতে পারবেন । কিন্ত প্র্যাক্টিক্যাল কাজ করতে চাইলে পাউরুটি তৈরির পদ্ধতি  ও প্রকরণ জানতে পরিচিত কোনাে বেকারিতে গিয়ে কথা বলতে পারেন। কম্পিটিশন কম থাকায় অনেকেই খোলা মনে পাউরুটি তৈরির পদ্ধতি দেখিয়ে দেবেন । যদি তেমন যোগাযোগ না পান তাহলে এ ব্যাপারে কর্মকেন্দ্র পরামর্শ পেতে যাদবপুর আনন্দপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনােলজি বিভাগের ডেভেলপমেন্ট সেলে (EDP) যােগাযােগ করতে পারেন। প্রকল্প তৈরি ও আর্থিক অনুদান ইত্যাদি জানতে হলে যােগাযােগ করতে হবে সল্ট লেকের ময়ূখ ভবনে রাজ্য সরকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরে।


আপনি নিজে কাজটি করতে না চাইলে কোনো বেকার ভাই বোনের সাথে লেখাটি শেয়ার করে তাঁদের উতসাহিত করতে পারেন । 

বিনা পুঁজিতে কিভাবে পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট তৈরির ব্যবসা করবেন ? জেনে নিন বেকারি ব্যাবসার বিস্তারিত বিনা পুঁজিতে কিভাবে পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট তৈরির ব্যবসা  করবেন ? জেনে নিন বেকারি ব্যাবসার বিস্তারিত Reviewed by WisdomApps on নভেম্বর ১৩, ২০২১ Rating: 5

কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সব রাশির এই সপ্তাহের আগাম রাশিফল ০৭ থেকে ১৩ই নভেম্বর ২০২১

নভেম্বর ০৭, ২০২১

        


রাশিফল - কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? কি লেখা আছে ভাগ্যে ? জেনে নিন ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল । অভিজ্ঞ জ্যোতিষীদের সাহায্যে তৈরি নিখুঁত রাশিফল । 

কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সব রাশির এই সপ্তাহের আগাম রাশিফল ০৭ থেকে ১৩ই নভেম্বর ২০২১ কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সব রাশির এই সপ্তাহের আগাম রাশিফল ০৭ থেকে ১৩ই নভেম্বর ২০২১ Reviewed by WisdomApps on নভেম্বর ০৭, ২০২১ Rating: 5

কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সব রাশির সাপ্তাহিক রাশিফল ৩১ অক্টোবর থেকে ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত

অক্টোবর ৩১, ২০২১

       

রাশিফল - কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? কি লেখা আছে ভাগ্যে ? জেনে নিন ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল । অভিজ্ঞ জ্যোতিষীদের সাহায্যে তৈরি নিখুঁত রাশিফল । 

কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সব রাশির সাপ্তাহিক রাশিফল ৩১ অক্টোবর থেকে ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সব রাশির সাপ্তাহিক রাশিফল ৩১ অক্টোবর থেকে ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ৩১, ২০২১ Rating: 5

কেমন যেতে পারে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সব রাশির রাশিফল ২৪ থেকে ৩০শে অক্টোবর' ২০২১ পর্যন্ত

অক্টোবর ২৪, ২০২১

      


রাশিফল - ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল পড়ে নিন । অভিজ্ঞ জ্যোতিষীদের সাহায্যে তৈরি নিখুঁত রাশিফল । 

কেমন যেতে পারে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সব রাশির রাশিফল ২৪ থেকে ৩০শে অক্টোবর' ২০২১ পর্যন্ত কেমন যেতে পারে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সব রাশির রাশিফল ২৪ থেকে ৩০শে অক্টোবর' ২০২১ পর্যন্ত Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ২৪, ২০২১ Rating: 5

সংক্ষেপে জেনে নিন সত্যজিৎ রায়ের জীবনী

অক্টোবর ২২, ২০২১

 সত্যজিৎ রায়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী 

বায়োগ্রাফী অফ সত্যজিৎ রয়


"পথের পাঁচালীর তুল্য ছবি বিশ্বে এ যাবৎ নির্মিত হয়নি।"

সত্যজিৎ রায় যে বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ চিত্রপরিচালকদের একজন, এ ব্যাপারে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ কম। তিনি সামগ্রিকভাবে বাঙ্গালী জাতিকে বিশ্বের দরবারে গৌরবান্বিত করেছেন। ১৯৫৯ খৃষ্টাব্দে দুনিয়ার সর্বকালের শ্রেষ্ঠতম চিত্রপরিচালক আইজেনস্টাইনের স্ত্রী ও সহকারিণী মেরী সিটন কলকাতায় এসে বলেন, “পথের পাঁচালীর তুল্য ছবি বিশ্বে এ যাবৎ নির্মিত হয়নি। " 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট স্বয়ং কলকাতায় এসে সত্যজিৎ রায়কে তাদের দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করে যান। চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে সত্যজিৎ যতবার যতভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন, তার দ্বিতীয় নিদর্শন এ দেশে নেই।

জন্মঃ ১৯২১ খৃষ্টাব্দে ২রা মে সত্যজিৎ রায়ের জন্ম কলকাতার এক সুপরিচিত সাংস্কৃতিক পরিবারে। তার বাবা সুকুমার রায় বাংলা সাহিত্যের এক দিকপাল কবি-লেখক। তাঁর ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশাের রায়চৌধুরিও একজন স্বনামধন্য শিশুসাহিত্যিক। মা সুপ্রভা রায় একজন শিক্ষিকা। সত্যজিৎ মাত্র আড়াই বছর বয়সে পিতৃহারা হন।

পড়াশুনাঃ  সত্যজিৎ রায় ১৯৩৬ খৃষ্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৪০ খৃষ্টাব্দে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক।কম বয়সেই ফটোগ্রাফিতে চমৎকার হাত। এর জন্য এক প্রতিযােগিতায় তিনি পুরস্কৃতও হন। শান্তিনিকেতনে তিনি যখন চিত্রশিল্পের ছাত্র, রবীন্দ্রনাথ তখন জীবিত। রবিঠাকুরের স্নেহধন্য হয়েছিলেন তিনি।

চিত্রাঙ্কনে ডিপ্লোমা পাবার পর সত্যজিৎ সে সময়ের বিখ্যাত বাংলা প্রকাশন সংস্থা সিগনেট প্রেসের সঙ্গে যুক্ত হন। সিগনেট থেকে প্রকাশিত প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের গ্রন্থের প্রচ্ছদ আঁকাই তখন তার কাজ। সেই সময় তিনি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ পাঠ করেন ও গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তাঁর মনে বাসনা জাগে উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ন করবার।

১৯৫০ খৃষ্টাব্দে কলকাতায় তার সঙ্গে পরিচয় হয় এখানে আউটডাের শুটিং করতে আসা বিশ্বখ্যাত ফরাসী চিত্রপরিচালক জাঁ রেনােয়ার সঙ্গে । কথা বলে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। 

কাজঃ ১৯৫১ খৃষ্টাব্দে সত্যজিৎ ডি, জে, কিমার কোম্পানিতে আর্ট ডিরেক্টরের চাকরি নেন ও সেই সুবাদে ইংল্যান্ডে যান। বিলেতে গিয়ে প্রচুর বিখ্যাত সিনেমা দেখেন। তাঁর চিত্রপরিচালক হবার স্বপ্ন আরও ঘনীভূত হয়। দেশে ফিরে ‘পথের পাঁচালী’-র সচিত্র চিত্রনাট্য রচনা করেন। কিন্তু সিনেমা বানাতে গেলে যে পরিমাণ টাকার দরকার, সত্যজিতের তা ছিল না। তিনি তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের সঙ্গে দেখা করে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান ও সরকারি সাহায্য প্রার্থনা করেন। নব বাংলার রূপকার বিধানচন্দ্র রায় তাকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেন।

সত্যজিৎ নিজের যতটুকু সম্বল ছিল, সবই ব্যয় করলেন সেই ছবি তৈরি করতে। তারপর এল সরকারি সাহায্য। ১৯৫৫ খৃষ্টাব্দের শেষের দিকে ‘পথের পাঁচালী’ নির্মিত হল। প্রথম প্রদর্শনের পর বাংলার শিক্ষিত জনগােষ্ঠী সত্যজিৎকে বিপুলভাবে অভিনন্দন জানান। ১৯৫৬ খৃষ্টাব্দে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘পথের পাঁচালী’ পুরস্কৃত হয় ‘শ্রেষ্ঠ মানবিক আবেদনসমৃদ্ধ চলচিত্র’ রূপে।শুরু হয়ে গেল সত্যজিৎ রায়ের জয়যাত্রা।

‘পথের পাঁচালী’-র পর একে একে তার পরিচালনায় বেরিয়ে এল ‘অপরাজিত’ ‘অপুর সংসার’ ‘জলসাঘর’ ‘পরশপাথর’ ‘তিন কন্যা’ ‘মহানগর’ ‘অশনি সংকেত’ ‘নায়ক’ ‘অভিযান’ ‘গণশত্রু’ ‘সােনার কেল্লা' , 'শতরঞ্জ কা খিলাড়ি' , 'শাখা-প্রশাখা’ ‘গুপি গায়েন বাঘা বায়েন’ ‘আগন্তুক’-এর মত ছবি। বেশির ভাগ ছবিরই তিনি একাধারে পরিচালক, চিত্র নাট্যকার ও সঙ্গীত পরিচালক। ‘অপরাজিত’ ছবি ভেনিস থেকে নিয়ে এল ‘গােল্ডেন লায়ন' । 

সত্যজিৎ একজন কুশলী সাহিত্যিকও। ফেলুদা’ ও ‘প্রফেসর শঙ্কু' তার সৃষ্টি দুটি অনবদ্য বুদ্ধিদীপ্ত চরিত্র। তাঁর রচিত প্রতিটি গ্রন্থ আজও খুব পাঠকপ্রিয়। সত্যজিৎ রায় রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীতে রবীন্দ্রনাথের ওপর একটি অসাধারণ তথ্যচিত্রও নির্মাণ করেন—যেখানে ভাষ্যকারের ভূমিকা তিনি স্বয়ং পালন করেন।

তিনি সারা বিশ্ব থেকে এত পুরস্কার পান যে তার তালিকা করতে বসলে অবাক হতে হয়। মৃত্যুর পূর্বে তার সমগ্র কীর্তির জন্য সত্যজিৎকে ‘অস্কার’ পুরস্কারও দেওয়া হয়। ভারতবর্ষের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’ও তিনি লাভ করেন। 

১৯৯২ খৃষ্টাব্দের ২৩শে এপ্রিল বাংলার এই অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভা পরলােকের পথে যাত্রা করেন।


সংক্ষেপে জেনে নিন সত্যজিৎ রায়ের জীবনী সংক্ষেপে জেনে নিন সত্যজিৎ রায়ের জীবনী Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ২২, ২০২১ Rating: 5

নিরক্ষর বাবার প্রি ম্যাচুওর চাইল্ড থেকে জগতসেরা বিজ্ঞানী - স্যার আইজ্যাক নিউটন । পড়ুন আইজ্যাক নিউটনের জীবনী

অক্টোবর ২০, ২০২১

 স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী 

biography of sir isaac newton bangla


এক অনিশ্চিত টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাঁর শৈশবকালের সূচনা,তিনিই উত্তরকালে নিজের অনন্য বৈজ্ঞানিক প্রতিভার দ্বারা মানুষের সভ্যতাকে বৃহত্তাবে সমৃদ্ধ করে যান। 

বিজ্ঞানের আশ্চর্য প্রতিভা আইজ্যাক নিউটন। তাঁর মায়ের নাম Hannah এবং বাবার নাম আইজ্যাক নিউটন সিনিয়র । জন্ম ১৬৪২ খৃষ্টাব্দে। তিনি অকালজাত। মাতৃগর্ভে মাত্র সাত মাস থাকবার পর ভূমিষ্ঠ হন। তার জন্মের তিন মাস আগেই বাবা মারা যান । তাঁর বাবা ছিলেন নিরক্ষর । আর নিউটনের বয়স যখন মাত্র দু’বছর, তার মা হ্যানা নিউটন একজন জমিদার পাদ্রীকে বিয়ে করে বসলেন। সেই পাদ্রী আবার রুগ্ন নিউটনের দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকার করলেন। অর্থাৎ এক অনিশ্চিত, টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাঁর শৈশব কালের সূচনা, তিনিই উত্তরকালে নিজের অনন্য বৈজ্ঞানিক প্রতিভার দ্বারা মানুষের সভ্যতাকে বৃহভাবে সমৃদ্ধ করে যান।

কিশাের নিউটন বেশ কয়েকবছর তার ঠাকুরমার কাছে থাকেন। বারাে বছর বয়স হলে তাকে আশ্রয় দেন ক্লার্ক নামক এক ভদ্রলােক। ক্লার্কের স্ত্রী ছিলেন নিউটনের মার বান্ধবী। তিনি নিউটনকে মাতৃস্নেহ দান করেন। ক্লার্কের বাড়িতে ছিল ওষুধ তৈরি কারখানা। আর ছিল রসায়ন ও পদার্থ বিদ্যার ওপর রচিত প্রচুর বই। কিশাের নিউটন ওই বইগুলি গভীর আগ্রহে পড়ে ফেলেন। ওষুধ তৈরির ব্যাপারটাও খেয়াল করেন। ক্লার্কের বাড়িতে থাকবার সময় নিউটন নিজের চেষ্টায় কয়েকটি জলঘড়ি ও বাতাসঘড়ি তৈরি করে পরিচিতদের তাক লাগিয়ে দেন।

ষােল বছর বয়সে নিউটন তার জন্মদাত্রী মার কাছে ফিরে গেলেন; কারণ, ইতিমধ্যে হ্যানার দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু ঘটেছে। প্রথমে নিউটনের মা চেয়েছিলেন ছেলে একজন চাষি হয়ে চাষবাস করে জীবন চালাক । সেই মতো স্কুল ছাড়িয়ে তিনি নিউটনকে চাষের কাজে যুক্ত করে দেন কিন্ত নিউটন চাষের কাজে কোনো আগ্রহ না দেখানোয় শেষ পর্যন্ত মা ছেলেকে ভর্তি করে দেন ট্রিনিটি কলেজে। সেখানে অঙ্কের অধ্যাপক আইজাক ব্যারাে নিউটনের মধ্যে বিরাট সম্ভাবনার সন্ধান পান। বেশ কম সময়ের মধ্যেই নিউটন গণিতে তার বিশেষ ব্যুৎপত্তি দেখালেন।

১৬৬৪ খৃষ্টাব্দে নিউটন তার মেধার জন্য সরকারি বৃত্তি পান। এই সময় ভয়ঙ্কর প্লেগরােগ মহামারীর আকার নেওয়ায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিউটন তখন তার মায়ের আশ্রয় উলসথরপে ফিরে আসেন। উলসথরপে বছর দেড়েক অবস্থানকালে নিউটন একের পর এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সম্পূর্ণ করেন। তিনটিই গণিত বিষয়ক। প্রথমটির নাম বাইনােমিয়াল থিয়ােরেম, দ্বিতীয়টি ডিফারেনশিয়াল ক্যালকুলেশন এবং তৃতীয়টি ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস

নিউটনের সবচেয়ে চমকপ্রদ আবিষ্কার হল মাধ্যাকর্ষণ সূত্র বা Law of gravitation কে খুঁজে বার করা । যে কারণে পৃথিবীর তাবৎ বস্তুর গতি নিয়ন্ত্রিত হয় সেই একই শক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখে সৌরজগতের গ্রহ তারকাদের। যে বলের টানে গাছের আপেল শূন্যে না উঠে মাটিতে পতিত হয়, সেই একই কারণে সূর্য, গ্ৰহসকল, নক্ষত্রাদি নিজেদের পারস্পরিক আকর্ষণের সূত্রে সংঘর্ষ এড়াতে পারছে। এটা ছিল এক যুগান্ত কারী আবিস্কার । 

১৬৬৬ খৃষ্টাব্দে নিউটন আবিষ্কার করলেন আলাের প্রতিসরণ সূত্র বা Law of Refraction of light. নিউটন দূরবীন যন্ত্রের উন্নতি ঘটান। তার দূরবীনে বর্ণ ঘটিত বিভ্রান্তি বা Chromatic Aberration নেই। এই দূরবীনের সাহায্যে গ্রহণক্ষত্রদের প্রকৃত দূরত্ব নির্ণয় সম্ভব হল।

১৬৬৭ খৃষ্টাব্দে নিউটন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কের অধ্যাপক হলেন। আশ্চর্য ব্যাপার হলো , অধ্যাপক হিসাবে তিনি একেবারেই জনপ্রিয় ছিলেন না , তিনি পড়াতে খুব একটা ভালো বাসতেন না , ফলে ওনার ক্লাসে বেশিরভাগ সময় ছাত্র ছাত্রীরা আসতেন না । উনি নিজের রিসার্চ ওয়ার্কেই বেশী মন দিতেন ।  

১৬৮৪ খৃষ্টাব্দে সৌরবিজ্ঞানী এডমান্ড হ্যালির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। এই হ্যালির নামানুসারেই পরবর্তীকালে হ্যালির ধূমকেতু নাম রাখা হয়। নিউটন তার গবেষণাকে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধে লিখে রাখেন। নাম Mathematical Principle of Natural Philosophy তিনটি সূত্র নিয়ে গ্রন্থিত হল ‘প্রিন্সিপিয়া। 

ছোটবেলার পারিবারিক সমস্যার কারনেই হয়ত স্যার আইজ্যাক নিউটন কোনোদিনো বিয়ে করেননি । সারাজীবন রিসার্চ ওয়ার্ককেই নিজের ধ্যান জ্ঞান করে রাখেন ।

নিউটনের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। ১৭০১ খৃষ্টাব্দে তাঁকে করা হল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য। ১৭০২ খৃষ্টাব্দে তাকে করা হল দেশের নােট ছাপবার ব্যবস্থাপনার অধ্যক্ষ। এই সময় তিনি নতুন নতুন পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে এমন নোট ও কয়েন তৈরি করান জেগুলো জাল করা প্রায় অসম্ভব ছিলো। তিনি অ্যাল্কেমী তে ইন্টারেস্টেড ছিলেন এবং অন্য ধাতু থেকে সোনা তৈরির জন্য বিভিন্ন গবেষণা করেছিলেন ।   ১৭০৩ খৃষ্টাব্দে তাকে বরণ করে নেওয়া হয় রয়্যাল সােসাইটির সভাপতির পদে। ১৭০৫ খৃষ্টাব্দে ইংল্যান্ডের মহারানী অ্যান আইজ্যাক নিউটনকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

১৭২৭ খৃষ্টাব্দে পঁচাশি বছর বয়সে এই মহা বিজ্ঞানী ধরাধাম ত্যাগ করেন।

নিরক্ষর বাবার প্রি ম্যাচুওর চাইল্ড থেকে জগতসেরা বিজ্ঞানী - স্যার আইজ্যাক নিউটন । পড়ুন আইজ্যাক নিউটনের জীবনী নিরক্ষর বাবার প্রি ম্যাচুওর চাইল্ড থেকে জগতসেরা বিজ্ঞানী - স্যার আইজ্যাক নিউটন । পড়ুন আইজ্যাক নিউটনের জীবনী Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ২০, ২০২১ Rating: 5

কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সাপ্তাহিক রাশিফল ১৭ থেকে ২৪শে অক্টোবর ২০২১

অক্টোবর ১৭, ২০২১

     


রাশিফল - ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল পড়ে নিন । অভিজ্ঞ জ্যোতিষীদের সাহায্যে তৈরি নিখুঁত রাশিফল । 

কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সাপ্তাহিক রাশিফল ১৭ থেকে ২৪শে অক্টোবর ২০২১ কেমন কাটবে এই সপ্তাহ ? পড়ুন সাপ্তাহিক রাশিফল ১৭ থেকে ২৪শে অক্টোবর ২০২১ Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ১৭, ২০২১ Rating: 5

অল্প কথায় জেনে নিন - জৈন ধর্ম কি ? জৈন ধর্মের নীতি গুলি কি ? জৈন ধর্ম ও বুদ্ধ ধর্ম কি এক ?

অক্টোবর ১৬, ২০২১

 জৈন ধর্ম কি ?  জৈন ধর্মের নীতি গুলি কি ? 



জৈনধর্ম মূলত অহিংসা, অপরিগ্রহ এবং অনেকান্তবাদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এবং এই ধর্ম আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরমত সহিষ্ণুতা বৃদ্ধির সহায়ক। জৈনধর্ম অতি প্রাচীন। এই ধর্মের প্রাচীনত্ব-প্রতিপাদক কিছু বৈশিষ্ট্য হল

১। সর্বপ্রাণবাদ—জৈনধর্মে গাছপালা, উদ্ভিদ, জল, বায়ু, অগ্নি সমস্তকেই জীবন্ত বলে গণ্য করা হয়। এটা হল প্রাচীন সংস্কৃতির বিশুদ্ধতাজ্ঞাপক এবং এটাই জৈনধর্মের সর্বোচ্চ বিশ্বাস। ফলে সমগ্র জীবজগৎকে সম্মান করবার জন্য এই ধর্ম হল আদর্শস্বরূপ।

২। প্রতিমাপূজা—এটিও জৈনধর্মের প্রাচীনত্বের পরিচায়ক। জৈনরা মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের সম্মান করেন এবং তাঁদের জীবন থেকে নিজেদের আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধিলাভের প্রেরণা পান।

৩। কর্মবাদ—জৈনধর্মে রয়েছে— জীবাত্মা কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে এবং সাময়িক জীবনের আবরণের ভিতর পরমাত্মা অধিষ্ঠান করেন। এই তত্ত্ব প্রাক-আর্যদর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৪। দিগম্বরত্ব - নগ্নতা এই ধর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং এটি জৈনধর্মে কঠোর তপশ্চর্যার সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত।

৫। অনন্তের ধারণা—জৈনমতে জগৎ প্রাচীন, শাশ্বত ও স্থায়ী। জৈনধর্ম স্বীকার করে জগৎ অকার্য বা বন্ধ্যা এবং তপস্যায় নিহিত।

 মহাবীর কততম তীর্থঙ্কর ? 

মহাবীরের আবির্ভাবের আগে জৈনধর্মে তেইশ জন তীর্থংকর আচার্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাবীর সেই পরম্পরার চব্বিশতম তীর্থংকর। মানবজাতির কল্যাণের জন্য তিল তিল দুঃখ বরণ করে মহাবীর নিজের সাধনলব্ধ ঐশ্বর্যের দ্বারা হাজার হাজার আর্ত ও মুমুক্ষু প্রাণে নতুন আশা ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিলেন। মহাবীরের জ্বলন্ত বৈরাগ্য ও অমৃতময় বাণী সেযুগে সত্যই আলােড়ন সৃষ্টি করেছিল। কঠোর তপশ্চর্যার দ্বারা তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, কৈবল্য বা মােক্ষলাভে প্রত্যেক মানুষেরই জন্মগত অধিকার আছে। 

মহাবীরের প্রধান বানী কি ? 

মহাবীর বললেন, আত্মদর্শনই জগতের দুঃখ-দৈন্য থেকে মুক্তিলাভের উপায়। মােক্ষলাভই জৈনধর্মের প্রধান লক্ষ্য। নিজেকে নতুনভাবে গড়তে হবে। আর তার জন্য চাই কঠোরতা ও সংযম। তার ফলে অতীত কর্মের জন্য আসবে অনুশােচনা। এইভাবে মানুষ ধীরে ধীরে কর্মবন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে পরিশেষে মােক্ষ লাভ করবে এবং সফল হবেতাদের মানবজীবন ধারণের উদ্দেশ্য।

জৈন ধর্ম ও বুদ্ধ ধর্ম কি এক ? 

এই সময়ে ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্মেরও অত্যন্ত প্রভাব ছিল। জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্মে বিশেষ বৈসাদৃশ্য নেই। বস্তুত উভয় ধর্মই অনেকাংশে হিন্দুধর্মের মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। উভয় ধর্মের ‘কর্মবাদ’ এবং বৌদ্ধধর্মের ‘আত্মার দেহান্তরবাদ’ হিন্দুধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই জৈন ও বৌদ্ধধর্ম একই সময়ে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও উভয়েই জনগণের সমর্থন লাভ করে।

শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর কি ? 

 খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে জৈনগণের মধ্যে মতবিরােধ হয়। এর ফলে এই ধর্ম দুটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে—শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর। শ্বেতাম্বরগণ শ্বেতবস্ত্র পরিধানের পক্ষপাতী এবং তারা এই মত পােষণ করতেন যে,সাধনার দ্বারা স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই মােক্ষলাভের অধিকারী হতে পারে। কিন্তু দিগম্বরগণ নগ্ন থাকার পক্ষপাতী ছিলেন এবং একমাত্র পুরুষকেই মােক্ষলাভের আধার বলে মনে করতেন। এই মতভেদের ফলেই এই দুটি সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়। ভদ্রবাহু দিগম্বরদের এবং স্থলভদ্র শ্বেতাম্বরদের নেতা ছিলেন। এই সময়ে পাটলিপুত্রে জৈনগণের একটি সম্মেলন হয়। এরপর থেকে মহাবীরের উপদেশাবলি ‘দ্বাদশ-অঙ্গ’ বা‘সিদ্ধান্ত’ নামে পরিচিত হয়। কিন্তু দিগম্বরগণ একে প্রামাণ্য গ্রন্থ বলে স্বীকার করেন না।

অল্প কথায় জেনে নিন - জৈন ধর্ম কি ? জৈন ধর্মের নীতি গুলি কি ? জৈন ধর্ম ও বুদ্ধ ধর্ম কি এক ? অল্প কথায় জেনে নিন - জৈন ধর্ম কি ?  জৈন ধর্মের নীতি গুলি কি ? জৈন ধর্ম ও বুদ্ধ ধর্ম কি এক ? Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ১৬, ২০২১ Rating: 5

কেমন যেতে পারে এই সপ্তাহ ? ১০ থেকে ১৬ই অক্টোবর ২০২১ - সাপ্তাহিক রাশিফল

অক্টোবর ১০, ২০২১

    

রাশিফল - ১২ রাশির এই সপ্তাহের রাশিফল পড়ে নিন । অভিজ্ঞ জ্যোতিষীদের সাহায্যে তৈরি নিখুঁত রাশিফল । 

কেমন যেতে পারে এই সপ্তাহ ? ১০ থেকে ১৬ই অক্টোবর ২০২১ - সাপ্তাহিক রাশিফল কেমন যেতে পারে এই সপ্তাহ ? ১০ থেকে ১৬ই অক্টোবর ২০২১ - সাপ্তাহিক রাশিফল Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ১০, ২০২১ Rating: 5

এক সপ্তাহে ৩ কেজি ওজন কমাতে চান ? জেনে নিন কিটো ডায়েট কি ? এই ডায়েটে কি খাবেন , কি খাবেন না ? কি উপকার ? কি ক্ষতি ? - Keto Diet in Bengali

অক্টোবর ০৬, ২০২১
what is keto diet bangla

কিটো ডায়েট কী?

দ্রুত ওজন কমাতে সেলিব্রেটিদের প্রথম পছন্দ কিটো ডায়েট। গত দুবছর ধরে এই ডায়েটের চাহিদা বেশ তুঙ্গে। আমাদের শরীরে শক্তির মূল উপাদান হল গ্লুকোজ। শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে দেহে প্রয়ােজনীয় পরিমাণ গ্লুকোজ সরবরাহ করা হয়। দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে এই গ্লুকোজ শক্তি সরবরাহ করে। এভাবে যেটুকু গ্লুকোজ দরকার তা ব্যবহৃত হওয়ার পর অতিরিক্ত অংশটুকু শরীরে জমা হতে শুরু করে। আর এভাবেই দেহে ওজন বাড়তে থাকে।

কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার বেশি খেলে শরীরে বেশি পরিমাণে ফ্যাট জমা হয়। আবার কম খেলে শরীরে প্রয়ােজনীয় ফ্যাটটুকুও থাকে না। খেয়াল করলে দেখা যায় যে, দেহের ওজন বাড়ানাের জন্য চর্বি জাতীয় খাদ্য যতটুকু দায়ী, তার থেকে বেশি দায়ী শর্করা জাতীয় খাদ্য। 

কিটো ডায়েটে আসলে এই শর্করা জাতীয় খাদ্য সেবনের মাত্রা একেবারে কমিয়ে দেওয়া হয়। আর বেশি জোর দেওয়া হয় চর্বি ও প্রােটিন রয়েছে, এমন খাদ্যের উপর।  কিটো ডায়েটের ক্ষেত্রে ওজন কমানাের জন্য ঘি এক কার্যকরী হাতিয়ার হতে পারে। যেহেতু ঘি ঘরের তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে। তাই একে আমরা বলছি সম্পৃক্ত ফ্যাট। ঘি তৈরি হয় গােরু, মহিষের দুধ থেকে। ১০০ গ্রাম ঘিতে থাকে ১০০ গ্রাম ফ্যাট। তাই যিনি কিটো ডায়েট মেনে চলছেন তাঁকে ৭০ গ্রাম ঘি প্রতিদিন খেতেই হবে।

কিটো ডায়েট কম কার্বোহাইড্রেট যুক্ত ডায়েট হিসেবে পরিচিত। ফলে এই ডায়েট প্ল্যানে কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে বেশি করে প্রােটিন এবং ফ্যাট জাতীয় খাবার খেতে বলা হয়। একটানা অতিরিক্ত প্রােটিন খেলে লিভারে কিটোন উৎপন্ন হয়। রােজ আমরা ভাত বা রুটি থেকে যে কার্বোহাইড্রেট খাই তা থেকে তৈরি হয় গ্লুকোজ। আর প্রত্যেক দিন যে কাজ করি তার জন্য প্রয়ােজনীয় শক্তি আসে শরীরে থাকা গ্লুকোজ থেকে। যখন দেহে শর্করার পরিমাণ কমে যায় তখন শক্তি পাওয়ার জন্য শরীরে ভাঙতে শুরু করবে আমাদের ফ্যাট সেলগুলাে। এই ফ্যাট সেলগুলাে যত ভাঙবে শরীরে ততই তৈরি হতে থাকবে ফ্যাটি অ্যাসিড। আর এই ফ্যাটি অ্যাসিডই লিভারে এসে তৈরি করবে কিটোন বডি। এই পুরাে প্রক্রিয়াটাকেই কিটোসিস বলা হয়। কিটোজেনিক ডায়েটের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট, ২৫ শতাংশ প্রােটিন এবং ৭০ শতাংশ ফ্যাট জাতীয় খাবার রাখা হয় ডায়েটে। ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টেরলের সমস্যা না থাকলে এই ডায়েটের পরামর্শ দেওয়া হয়। 

লাে-ফ্যাট ডায়েটের তুলনায় এই ডায়েটে বেশি ওজন কমানাে যায়। এই ডায়েট শুরু করার কিছুদিনের মধ্যে খিদে কমে যায়। এভাবে শর্করা না পেয়ে দেহ অতিরিক্ত চর্বি পােড়াতে শুরু করে এবং আমাদের ওজনও দ্রুত হ্রাস পায়। এমন ডায়েট সূক্ষ্মভাবে অনুসরণ করলে মাত্র দুই সপ্তাহেই ওজন কমানাে সম্ভব। তবে এর জন্য যেমন  খাদ্যের ব্যাপারে বেশ কড়া নিয়ম পালন করতে হয়, সেটাই এর বেশ কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও রয়েছে। তাই যাঁরা বিভিন্ন রােগে আক্রান্ত, তাঁদের ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত নিজে নিজে এমন ডায়েট অনুসরণ করা উচিত নয়।


কিটো ডায়েটে যা যা খাওয়া যায়  ?

সব ধরনের মাংস পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। সকল প্রকার মাছ, বিশেষ করে প্রচুর চর্বি বা তেল রয়েছে, এমন মাছ খাওয়া ভালাে। খাদ্য তালিকায় মাখন ও ঘি যােগ করা যায়। রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে। কিটো ডায়েটের খাদ্য তালিকার এক প্রধান খাবার হল ডিম। মাখন ও ঘি ছাড়াও পনির খাওয়া যাবে। সকল প্রকার বাদাম ও বাদাম থেকে তৈরি অন্যান্য খাদ্য, যেমন পিনাট বাটার খাওয়া যাবে। খাদ্যে সয়াবিন তেলের পরিমাণ একেবারে কমিয়ে দিতে হবে। আর সয়াবিনের পরিবর্তে রান্নার জন্য ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্রিম, পনির, আখরােট, স্যালাড, চিজ, নারকেল তেল, ঘি, মাখন ইত্যাদি বেশি খেতে হবে।


কিটো ডায়েটে কী কী খাওয়া যাবে না ? 

ভাত বাদ দিলে সবার আগে রুটি খাওয়ার চিন্তা আমাদের মাথায় আসবে। তবে চাল, আটা, ময়দা দিয়ে তৈরি সকল খাবারে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ থাকে। তাই আটা ও ময়দা দিয়ে তৈরি খাদ্য, যেমন-রুটি, পাস্তা, সিরিয়াল ইত্যাদি খাবার বাদ দিতে হবে। গম, ভুট্টা, চা, ডালিয়া, চিনি একদম খাওয়া যাবে না। ডাল, মটর এবং অন্যান্য দানা জাতীয় শস্য খাওয়া যাবে না। সব রকম ফলমূল খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এটা সত্যি যে, অনেক ডায়েটে ফল খাওয়ার পেছনে জোর দেওয়া হয়। ফলে প্রচুর পরিমাণে চিনি বা গ্লুকোজ থাকে। তাই ফল খাওয়াও কমিয়ে দিতে হবে। ফলের মধ্যে বাদ দিতে হবে কলা, আপেল, কমলালেবু। এছাড়াও সজির মধ্যে বাদ থাকবে আলু। 


কিটো ডায়েটের উপকারিতা কি ? 

ওজন কমাতে এই ডায়েটের জুড়ি নেই। এছাড়াও ওজন কমতে শুরু করলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়। পিসিওএস, সুগার, স্থূলতা এসব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 


কিটো ডায়েটের অপকারিতা কি ? 

এই ডায়েট সবার জন্য নয়। এতে ধমনীর গায়ে ফ্যাট জমে। হার্ট ব্লক হয়ে যায়। তার থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কিটোজেনিক ডায়েট স্বল্প সময়ে ওজন কমানাের জন্য বেশ কার্যকরী হলেও এটি দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা উচিত নয়। অনেকদিন ধরে এই খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে কিডনিতে পাথর, রক্তে প্রােটিনের আধিক্য, শরীরে খনিজ উপাদান ও ভিটামিনের অভাব এবং যকৃতে চর্বি জমতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি কিটো ডায়েটের কারণে ‘কিটো ফু’ নামক এক বিশেষ রােগ হয়। ক্লান্তি, অনিদ্রা, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য হবে, মাথা ঘােরার মতাে সমস্যা দেখা দেবে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে ও ইনসুলিনের উপর নির্ভর করতে হয়, কিডনির রােগ, ইটিং ডিজঅর্ডার রয়েছে তাদের জন্যও কিটো ডায়েট উপযুক্ত নয়। তাই নিজ উদ্যোগে এ ডায়েট শুরু না করাই ভালাে। এটি শুরুর আগে নিজের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অথবা একজন ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে আলােচনা করা উচিত। 

কিটো ডায়েট ডেকে আনতে পারে ফ্যাটি লিভার। হাইপো পােপ্রােটেনিয়া হতে পারে। ডেনসিটি লাইপােপ্রােটিন কোলেস্টেরল বাড়ায়। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়, টাইপ টু ডায়াবেটিস হয় কিটো ডায়েটের ফলে কিটোসিস হতে পারে। আমাদের মস্তিষ্ক গ্লুকোজকে অনুসরণ করে। গ্লুকোজ না পেলে ব্রেন স্টোক পর্যন্ত হতে পারে। একে বলে কিটোসিস। সম্প্রতি কিটো ডায়েটের বলি হয়েছেন এক বাঙালি অভিনেত্রী। বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিডনির অসুখ নিয়ে ভর্তি হন তিনি। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ডায়েটে মাসলের শক্তিক্ষয় হয়। যার প্রভাব সরাসরি পড়ে হার্টে। প্রচুর ফ্যাট হার্টে ট্রাইগ্লিসারিন জমায়, ফলে হৃদযন্ত্র ব্লক,ইসকেমিয়ার মতাে রােগে মৃত্যু হতে পারে। কিটো ডায়েট এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত মেনে চলা যায়। কিন্তু দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে কিটো ডায়েট কখনওই কাম্য নয়। শরীরের শক্তি আসে ক্যালােরি থেকে। হঠাৎ কম ক্যালােরি খেলে শরীরের পেশির উপর প্রভাব পড়ে। পেশির শক্তি ক্ষয় হয়। শুধু তাই নয়, দেহে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন আর মিনারেলের অভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। চুল পড়ে যায়।

কিটো ডায়েটে ঘি খাওয়া যাবে ? 

ঘি অল্প খাওয়া যেতে পারে কারণ ঘি-তে থাকা কোলেস্টেরল পুরুষদের টেস্টোটেরন হরমােন নিয়ন্ত্রণ করে, পিত্ত থলির কার্যকরিতা বাড়ায়। কিন্তু অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হিমােগ্লোবিন বাড়ায়, শরীরে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বাড়ায়। এগুলি সবকটিই অতিরিক্ত ভালাে নয়। যাঁরা খেলােয়াড় তাঁরা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। তবে কোনও পুষ্টি বিশেষজ্ঞই অনেকদিন কিটো ডায়েট চালাতে বলবেন না। তিনি রােগীর রক্ত পরীক্ষা করে শরীরের প্রয়ােজন অনুযায়ী ফ্যাট গ্রহণের মাত্রা ঠিক করে দেবেন। তবে সাবধান! অতিরিক্ত যে কোনও কিছুই কিন্তু ক্ষতিকর। তাই ওজন কমানাের চক্করে বেশি বেশি ঘি খেলেই কিন্তু বিপদে পড়তে হতে পারে। রােজ ঘি খেতেই পারেন। কিন্তু সামান্য পরিমাণে। ঘি দিয়ে যদি দেহের ওজন কমাতে হয়, তাহলে। ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন। সঠিক ডায়েট আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।


পরিশেষে বলা যায় যে, বাঙালির খাদ্যাভ্যাস আর কিটো ডায়েটের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। চাল-ডাল ও আটাময়দা মিলিয়ে আমরা দৈনিক প্রচুর কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করি। কাজেই কিটো ডায়েট শতভাগ অনুসরণ করা অনেক কষ্টকর একটা ব্যাপার। তাই এই খাবারগুলাে একেবারে পরিত্যাগ না করে বরং তার পরিমাণ কমিয়ে আনা উচিত। তাছাড়া আমরা যেভাবে অতিরিক্ত তেল দিয়ে মাছ-মাংস রান্না করি, তাও খুব স্বাস্থ্যকর নয়। কাজেই সবকিছুর মাঝে ভারসাম্য রেখে পুষ্টিবিদদের সহায়তায় একটি ডায়েট চার্ট তৈরি করে তবেই ওজন কমানাের মতাে প্রক্রিয়ায় নামুন।


এক সপ্তাহে ৩ কেজি ওজন কমাতে চান ? জেনে নিন কিটো ডায়েট কি ? এই ডায়েটে কি খাবেন , কি খাবেন না ? কি উপকার ? কি ক্ষতি ? - Keto Diet in Bengali এক সপ্তাহে ৩ কেজি ওজন কমাতে চান ? জেনে নিন কিটো ডায়েট কি ? এই ডায়েটে কি খাবেন , কি খাবেন না ? কি উপকার ? কি ক্ষতি ?  - Keto Diet in Bengali Reviewed by WisdomApps on অক্টোবর ০৬, ২০২১ Rating: 5
Blogger দ্বারা পরিচালিত.