রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাণী Rabindranath Tagore quotes
✅ বাজে কথাতেই মানুষ আপনাকে ধরা দেয়।
💕 আশা করিবার অধিকারই মানুষের শক্তিকে প্রবল করিয়া তোলে।
🌿 ফুলের মধ্যে যে আনন্দ সে প্রধানত ফলের প্রত্যাশার আনন্দ, এটা অত্যন্ত মোটা কথা। বিশ্বসৃষ্টিতে দেখতে পাই সৃষ্টিতেই আনন্দ, হওয়াটাই চরম কথা। তার ফুলেও আছে হাওয়া, ফলেও আছে হাওয়া। ফুলটা হল উপায় আর ফলটা হল উদ্দেশ্য, তাই বলে উভয়ের মধ্যে মূল্যের কোনো ভেদ দেখতে পাইনে।
💕 আশা করিবার অধিকারই মানুষের শক্তিকে প্রবল করিয়া তোলে।
🌿 ফুলের মধ্যে যে আনন্দ সে প্রধানত ফলের প্রত্যাশার আনন্দ, এটা অত্যন্ত মোটা কথা। বিশ্বসৃষ্টিতে দেখতে পাই সৃষ্টিতেই আনন্দ, হওয়াটাই চরম কথা। তার ফুলেও আছে হাওয়া, ফলেও আছে হাওয়া। ফুলটা হল উপায় আর ফলটা হল উদ্দেশ্য, তাই বলে উভয়ের মধ্যে মূল্যের কোনো ভেদ দেখতে পাইনে।
💕 আশা করিবার অধিকারই মানুষের শক্তিকে প্রবল করিয়া তোলে।
🙏 মানবের মধ্যে দেবতার প্রকাশ, সংসারের মধ্যে দেবতার প্রতিষ্ঠা, আমাদের প্রতি মুহূর্তের সুখ-দুঃখের মধ্যে দেবতার সঞ্চার, ইহাই নব হিন্দুধর্মের মর্মকথা হইয়া উঠল।
👌 যাহার হৃদয়ে যত সৌন্দর্য বিরাজ করিতেছে সে তত সৌন্দর্য উপভোগ করিতে পারে সৌন্দর্যের সহিত তাহার নিজের ঐক্য যতই সে বুঝিতে পারে ততই সে আনন্দ লাভ করে। আমি যে এত ফুল ভালোবাসি তাহার কারণ আর কিছু নয়, ফুলের সহিত আমার হৃদয়ের গূঢ় একটি ঐক্য আছে—আমার মনে হয় ও একই কথা, যে সৌন্দর্য ফুল হইয়া ফুটিয়াছে, সেই সৌন্দর্যই অবস্থাভেদে আমার হৃদয় হইয়া বিকশিত হইয়াছে।
👉বহুবিধ বিষয় পাঠনার ব্যাবস্থা করিলেই যে শিক্ষায় লাভের অঙ্ক অগ্রসর হয় তাহা নহে, মানুষ যে বাড়ে সে’ণ মেধয়া ন বহুনা শ্রুতেন’। যেখানে গোপনে ত্যাগ, যেখানে একান্তে সাধনা, সেখানেই আমারা জ্ঞানের চর্চায় স্বয়ং প্রবৃত্ত সেইখানেই ছাত্রগণ বিদ্যাকে প্রত্যক্ষ দেখিতে পায়। বাহিরে বিশ্বপ্রকৃতির আবির্ভাব যেখানে বাধাহীন অন্তরে সেইখানেই মন সম্পূর্ণ বিকশিত। ব্রহ্মচর্যের সাধনায় চরিত্র যেখানে সুস্থ এবং আত্মবশ, ধর্মশিক্ষা সেইখানেই সরল ও স্বাভাবিক।
👍চোখে দেখিস, প্রাণে কানা , হিয়ার মাঝে দেখ্ না ধরে ভূবনখানা।
✅ পৃথিবীতে যথাসম্ভব স্বাধীনতা পাইতে গেলেই নিজেকে অধীন করিতে হয়।
😊 মানুষের মধ্যেই ভগবানের সত্যকার প্রকাশ, তেমনি দেশের মধ্যে।
💕 সত্যকে যেদিন প্রত্যক্ষ দেখবে সে দিনই উৎসব।
💚 মৃত্যু সবচেয়ে নিশ্চিত—জীবনের সব গতিস্রোতের চরম সমুদ্র, সব ভালোমন্দের নিঃশেষ সমন্বয় তার মধ্যে।
🌷কথা উঠেছে সাহিত্য বিচারে বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি শ্রদ্ধেয় কিনা। এ প্রশ্নের উত্তর দেবার পুর্বে আলোচ্য এই—কী সংগ্রহ করার জন্য এই বিশ্লেষণ। আলোচ্য সাহিত্যের উপাদান-অংশগুলি? আমি বলি সেটা অত্যাবশ্যক নয়, কারণ, উপাদানকে একত্র করার দ্বারা সৃষ্টি হয় না। সমগ্র সৃষ্টি আপন সমস্ত অংশের চেয়ে অনেক বেশি। সেই বেশিটুকু পরিমাণগত নয়। তাকে মাপা যায় না, ওজন করা যায় না, সেটা হল রূপরহস্য, সকল সৃষ্টির মূলে প্রচ্ছন্ন। প্রত্যেক সৃষ্টির মধ্যে সেটাই হল অদ্বৈত, বহুর মধ্যে সে ব্যাপ্ত অথচ বহুর দ্বারা তার পরিমাপ হয় না। সে-কল অর্থাৎ তার মধ্যে সমস্ত অংশ আছে, তবু সে নিষ্কল, তাকে অংশে খণ্ডিত করলেই সে থাকে না। অতএব সাহিত্যে সমগ্র্যকে সমগ্র দৃষ্টি দিয়েই দেখতে হবে।
👉ফন্দি জিনিসটা খুব ভালো যদি তার মধ্যে নিজে আটকা না পড়া যায়।
👌অন্য খরচের চেয়ে বাজে খরচেই মানুষকে যথার্থ চেনা যায়। কারণ মানুষ ব্যয় করে বাঁধা নিয়ম অনুসারে, অপব্যায় করে নিজের খেয়ালে।
💗 ভালো জিনিসগুলিকে ঘেঁষাঘেঁষি করে রাখা তাদের অপমান করা—সে যেন সতী স্ত্রীকে সতীনের ঘর করতে দেওয়ার মতো।
💛 আমরা সাধারণ পনেরো-আনা, আমরা নিজেদের যেন হেয় বলিয়ে না জ্ঞান করি। আমরা সংসারের গতি। পৃথিবীতে মানুষের হৃদয়ে আমাদের জীবনস্বত্ব আমার কিছুতেই দখল রাখি না, আকড়িয়া থাকি না, আমার চলিয়ে যাই। সংসারের সমস্ত কলগান আমাদের দ্বারা ধ্বনিত, সমস্ত ছায়ালোক আমাদের উপরই স্পন্দমান। আমরা যে হাসি, কাঁদি, ভালোবাসি, বন্ধুর সঙ্গে অকারণ খেলা করি, স্বজনের সঙ্গে অনাবশ্যক আলাপ করি, দিনের অধিকাংশ সময়ই চারিপাশের লোকের সহিত উদ্দেশ্যহীণভাবে যাপন করি, তারপরে ধুম করিয়া ছেলের বিবাহ দিয়া তাহাকে আপিসে প্রবেশ করাইয়া পৃথিবীতে কোনো খ্যাতি না রখিয়া মারিয়া-পুড়িয়া ছাই হইয়া যাই—আমার বিপুল সংসারের বিচিত্র তরঙ্গলীলার অঙ্গ, আমাদের ছোটোখাটো হাসি-কৌতুকেই সমস্ত জন-প্রবাহ ঝলমল করিতেছে, আমাদের ছোটোখাটো আলাপে-বিলাপে সমস্ত সমাজ মুখরিত।
🙏 স্বাধীন চলাফেরার জন্য অনেকখানি স্থান রাখা আবশ্যক, নতুবা আমাদের স্বাস্থ্য এবং আনন্দের ব্যাঘাত হয়। শিক্ষা সম্বন্ধেও এ কথা খাটে। যতটুকু কেবলমাত্র শিক্ষা, অর্থাৎ অত্যাবশ্যক, তাহারই মধ্যে শিশুদিগকে একান্ত নিবদ্ধ রাখিলে কখনোই তাহাদের মন যথেষ্ট পরিমাণে বাড়িতে পারে না। অত্যাবশ্যক শিক্ষার সহিত স্বাধীন পাঠ না-মিশাইলে ছেলে ভালো করিয়া মানুষ হইতে পারে না- বয়ঃপ্রাপ্ত হইলেও বুদ্ধিবৃত্তি সম্বন্ধে সে অনেকটা পরিমাণে বালকই থাকিয়া যায়।
💚 প্রেমই উৎসবের দেবতা—মিলনই তাহাঁর সজীব সচেতন মন্দির।
👌 চিন্তাশক্তি এবং কল্পনাশক্তি জীবনযাত্রা নির্বাহের পক্ষে দুইটি অত্যাবশ্যক শক্তি, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। অর্থাৎ যদি মানুষের মতো মানুষ হইতে হয় তবে ঐ দুটা পদার্থ জীবন হইতে বাদ দিলে চলে না। অতএব বাল্যকাল হইতে চিন্তা ও কল্পনার চর্চা না করিলে কাজের সময় যে তাহাকে হাতের কাছে পাওয়া যাইবে না, একথা অতি পুরাতন। কিন্তু আমাদের বর্তমান শিক্ষায় সে পথ একপ্রকার রুদ্ধ।
🌿দেখতে কেমন হবে? চেহারাটি বেশ ছিপছিপে, মাটির সঙ্গে অতি অল্পই সম্পর্ক, যেন ‘সঞ্চারিণী পল্লবিনী লাতেব।‘ অর্থাৎ যাকে দেখে মনে হবে অতি ক্ষীণবল- অস্তিত্বটুকু কেবলমাত্র—অথচ ওইটুকুর মধ্যে যে এত লীলা, এত বল, এত কৌতুক তা দেখে পলকে পলকে আশ্চর্য বোধ হবে।


















