শৈলসুন্দরী দার্জিলিং - ট্রাভেল গাইড


দার্জিলিং
দার্জিলিং নামের উৎস নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। দার্জিলিং এর ইতিহাসও দীর্ঘ। বিশ্ববিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রগুলির মধ্যে দার্জিলিং গন্য করা হয়। দার্জিলিং দেখার বাসনা প্রত্যেক বাঙ্গালির মনে থেকে যায়।
পশ্চিমবঙ্গের শৈলরানী দার্জিলিং-এর উচ্চতা ২১৮৫ মিটার বা ৭১০০ ফুট। দার্জিলিং হিমালয়া রেলওয়ে তো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে মর্যাদা প্রাপ্ত হয়েছে ইউনেস্কোর তরফে। রাজনৈতিক কারনে বারে বারে অশান্ত হয়েছে, বাধা পেয়েছে পর্যটন শিল্প। যখনই শান্তির আভাস আভাস মিলেছে, মানুষ ছুটেছে পাহাড়ে।
নিউ জলপাইগুড়ি জংশন থেকে খেলনা রেলগাড়ি চলে আসছে দার্জিলিং পাহাড়ের বুকে। তারই মধ্যে রয়েছে ছোটো বড়ো নানা স্টেশন, খ্যাত-অখ্যাত জনপদ। এই ট্রেনে চড়ার বাসনা প্রত্যেকটি পর্যটনের মনেই জাগে। বিলাসবহুল চাটার্ড ট্রেন চালানো হয় যাত্রী চাহিদায়। ট্রেন যেখানে এসে থামে, তার থেকে প্রায় ১ কি.মি. দূরে চকবাজার। সেখানেই  শহর বাস-স্ট্যান্ড। সেখান থেকে প্রায় দেড় কিমি. দূরে এবং চড়াইপথে ম্যাল। সকালে-বিকালে ম্যাল ঘিরেই পর্যটকদের ঘোরা-ফেরা। কাঞ্চনজঙ্ঘা বিকশিত হয় ভোর থেকে। ম্যাল থেকে ভালো দেখা যায়। এর ঠিক পাশেই রয়েছে অবজার্ভেটরি হিল। সাখানে আছে মহাকাল গুহা। একপাশে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ও ভাওয়াল রাজার স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি স্টেপ অ্যাসাইড এখন হাসপাতাল। একদিকে এ রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন গভর্নর হাউস। এছাড়া গোর্খা রঙ্গমঞ্চ। ভগিনী নিবেদিতা স্মৃতিবিজাড়িত রয় ভিলা ম্যাল লাগোয়া।
এখান থেকে আরেকটি পথ গিয়েছে একটু নীচে নেমে, সাদা বাঘের ডেরাতে। দার্জিলিং রোপওয়েতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারনে বন্ধ ছিল বহুদিন। চালু হয়েছে পুনরায়। নর্থপয়েন্ট থেকে হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেট ধরে শাটল ট্যাক্সিতে ফেরার পথ। শহর প্রবেশের মুখে নেমে গেছে বোটানিক্যাল গার্ডেন। রোপওয়ের নামটি হল রঙ্গিত ভ্যালি রোপওয়ে। নর্থ পয়েন্টে এদের কার্যালয়ে একদিন আগে থেকে টিকিট মেলে।
পদ্মজা নাইডু জুলজিক্যাল গার্ডেন, তেনজিং নোরগে মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট অবশ্য দ্রষ্টব্য তালিকায় থাকে। এগুলি পায়ে পায়ে ঘোরা শ্রেয়। তবে রক গার্ডেন যেতে গাড়ি লাগে। এটি শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি. দূরে। গঙ্গা-মায়া পার্ক ও চুন্নু সামার ফলস মুগ্ধ করবে এখানে। স্থানীয় আন্দোলনের এরা সব নারী শহীদ ছিল, তাদের নামেই স্মরন করা হয়।
দার্জিলিং-এ প্রতিদিন ভোর রাতে পর্যটকদের তুলে বেড-টি দিয়ে দেয়। তারপরে নিয়ে যায় শেয়ার জীপে টাইগার হিলে সূর্যদয় দেখাতে। ফেরার পথে দূরে সিঞ্চল লেক। ঘুম মনাস্ট্রি, বাতাসিয়া লুপ দেখা যায়। এটা থ্রিপয়েন্টস ট্যুর। বাতাসিয়া লুপ হল সেই স্থান, যেখানে খেলনা রেলগাড়ির লাইনটি জিলিপির মতো প্যাচ কষেছে। এখন আবার টাইগার হিলেও মানুষের মন মানছে না। ছুটছে ছত্তাকপুরের পথে। আরো উচ্চ, আরো নিসর্গের টানে, আরো নিসর্গের টানে, আরো নির্জনে। এছাড়া ফাইভ পয়েন্টস ও সেভেন পয়েন্টস ট্যুর অপারেট হয়।
এছাড়া ঘুমের পথে বাসে যেতে পড়ে আভা আর্ট গ্যালারী। বাসে ন্যুনতম ভাড়া গুনে ঘুরে আসা যায়। রেল স্টেশনের পাশে ধীরধাম। অন্যপথে পথচলতি লালকুঠি। যা আজকের পার্বত্য পরিষদ ভবন। ওটা পাশে রেখে এগিয়ে বৌদ্ধস্তুপ ঘুরে ফেরা যায়। জলাপাহাড় এখন সামরিক সংরক্ষিত এলাকা, যেতে দেওয়া হয় না।
এর বাইরে অত্যুৎসাহী হলে ঘুরে নেবেন লেবং রেস কোর্স। আর হস্তষিল্প দেখা ও কেনার জন্য টিবেটিয়ান রিফিউজি শেল্ফ হেলথ সেন্টারে ভিড় জমাতে পারেন। ভুটিয়া মনাস্ট্রু রয়েছে ইয়ুথ হোস্টেল ছাড়িয়ে জলাপাহাড়ের পথে।
যাওয়াঃ- নিউ জলপাইগুড়ি থেকে রিকসা/ অটোরিকশা ধ্রে শিলিগুড়ির জীপস্ট্যান্ড বা তেনজিং নোরগে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস, মহানন্দা পারে। এবার জীপ নয়তো বাস ধরে দার্জিলিং ৩/৪ ঘন্টার পথ। পথ গিয়েছে ২/৩ টি। যারা শিলিগুড়ি আসবেন ট্রেনে/ বাসে তাদের আরো সুবিধা হবে। নিউজলপাইগুড়ি থেকে আসার ঝক্কিটা কমবে।
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছোট ট্রেন চলছে না পুরো পথে। নিয়মিত চলাচল করে কার্শিয়াং-দার্জিলিং পথে। এ পথের উচ্চতম স্টেশন হলো ঘুম তবে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে কখনো সখনো তিনধরিয়া পর্যন্ত জঙ্গল সাফারি হয় ট্রেনে। ওটা কার্শিয়াং-এর আগেই পড়ে। এই তিনধরিয়া-কার্শিয়াং পথটাই বিচ্ছিন্ন বেশ কয়েক বছর। দার্জিলিং ঘুম পথে একটা জয়রাইড ট্রেন চালানো হয় বিশেষভাবে। ঘুম স্টেশনের উচ্চতা ৭৪০৭ ফুট যা পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম রেলস্টেশন। কলকাতার বাসযাত্রীরা উত্তরবঙ্গ পরিবহনের বাসে দার্জিলিং পৌছে যেতে পারেন একই টিকিটে শিলিগুড়িতে লিঙ্কবাস বদল করে। কারন দার্জিলিং পাহাড়ের বাস আকারে ছোটো হয়। কলকাতা ময়দান থেকে এই সংস্থা সহ নানা সংস্থার বাস যায়। দ্রুততম রকেট বাস চলে। শিলিগুড়ির সঙ্গে নানা সংস্থার বাস যোগ রাজ্যের নানা বড়ো শহরে।
শৈলসুন্দরী দার্জিলিং - ট্রাভেল গাইড শৈলসুন্দরী দার্জিলিং - ট্রাভেল গাইড Reviewed by Kona Dey Chakraborty on August 15, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.