কলকাতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস


কলকাতা
১৬০৮ সালে বড়িষার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পূর্বপুরুষলক্ষ্মীকান্ত রায়চৌধুরী কলকাতার জমিদারীর স্বত্ব পান। তারপরে১৬০৯ সালের ২৮শে আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কর্মাধ্যক্ষ জব চার্নক তার কাছ থেকে সুতানুটি, গোবিন্দপুর, কলিকাতা নামে এই তিনটি গ্রাম নিয়ে কলকাতার গোড়াপত্তন করেন। তবে হাইকোর্টের রায়ে মিলেছে যে জব চার্ণক কলকাতার জনক নন। ১৩০০ টাকায় সাবর্ন রায়চৌধুরীরা কলকাতার স্বত্ব দেন ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে। ১৭১৭ সালে আরও ৩৮ কাটা জমি কিনে সাম্রাজ্যের বনিয়াদ গড়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী অর্থ্যাৎ ব্রিটিশ। ১৭৪২ সালে কলকাতাকে মারাঠা আক্রমন থেকে রক্ষা করতে মারাটা ডিচ্‌ খনন করেন ব্রিটিশরা যেটা আজকের খালপাড়। ১৭৫৭ সালে নবাবের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে নতুন করে দখল পায় ব্রিটিশরা আর ঐ বছরই সিরাজকে হটিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত প্রস্তুত করেন লর্ড ক্লাইভ এই কলকাতায়। বাংলার, মন্বত্বরে এই কলকাতায় বেশ কয়েক হাজার লোকের মৃত্যু হয়। প্রথম গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতে ব্রিটিশ রাজের রাজধানী গড়েন এই কলকাতায়। মুর্শিদাবাদ থেকে রাজ্যপাট তুলে ১৭৯৩ সালে দক্ষিণ ছেড়ে কলকাতায় আসে ব্রিটিশ। বাবু কালচারে মেতে ওঠে কলকাতা।কলকাতা সর্বজনীন শহর। সকল জাতি, সকল ধর্ম, সকল ভাষাভাষির স্থান এই কলকাতায়। সবাই আপন করে নেয় এই শহর। সারা বিশ্ব থেকে লোক আসে এই শহর দেখতে। দুঃখ, দারিদ্রের চাপ মুছে ফেলে আবার আন্তর্জাতিক শহর হিসেবে কলকাতা ফিরে পেতে চলেছে। কলকাতা কল্লোলিনী তিলোত্তমা। কলকাতা অদর্শনে ভারত দর্শন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভারতের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রয়েছে কলকাতায়। উত্তর পূর্ব ভারতের তোরন দ্বার বা গেটওয়ে হল কলকাতা। সারা ভারতের উপেক্ষিতদের ঠাঁই এই কলকাতায়। শুধু ধনী নয়, দরিদ্র ভবঘুরেদেরও আশ্রয়স্থল এই কলকাতায়। তাই কিছু দর্শনীয় স্থানের বিবরন পাশে দেওয়া হল যেগুলো না দেখলে কলকাতা দেখা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

picture courtesy - indiatimes.com 
কলকাতার পরিচয়
গণ্ডগ্রাম থেকে এ-ওয়ান সিটিতে রূপান্তরিত, বর্তমানে এই ব্যস্ত শহর কলকাতা যাকে ঘিরে আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎশা। প্রয়োজনীয় এই শহর কলকাতা যাকে বাদ দিয়ে আজ আমাদের একটা মুহূর্তও চলেনা। গড়ে উঠেছে ধীরে ধিরে, গড়ে উঠেছে অনেক প্রচেষ্টায়, এখনও চলেছে কলকাতাকে আরও আধুনিক করে, আরও সুন্দর করে মেগাসিটিতে রূপান্তরের কাজ। পূর্বেকার ভারতের রাজধানী, তথা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী ও মেকলে সাহেব বর্ণিত “সিটি অফ প্যালেসেস্‌”, এই কলকাতার কথা ভাবলে তাই মনে মনে আনন্দ জাগে, গর্ব অনুভূত হয়, আর প্রয়োজন সে তো অনস্বীকার্য। তাই এই কলকাতা সকলের কাছে ভালবাসার শহর, ভাললাগার শহর, ব্যস্ততার শহর ও মুশকিল আসানের শহর। ১৫৯৬ সালে সাম্রট আকবর রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে একটি নকসা তৈরী করেন। ঐ নকসায় কলিকাটা গ্রামের নাম দেখা যায়। কলিকাটার ইংরেজী নাম ক্যালকাটা হয়েছে। এই ব্যাপারে নানা মত প্রচলিত আছে, কেউ বলেন কালীক্ষেএ কথাটা থেকে কলিকাতা নামের উৎপত্তি। আবার কারও মতে, যে জায়গার নাম ছিল কলিকাটা, সেখানে ছিল আগে জেলেদের বাস, ছিল চুনের ভাটি, চুনকে চলতি কথায় বলা হয় কলি। এই কলি থেকেই কলিকাতা।


পুরাতন কলকাতার সীমানা -বর্তমানের চিৎপুর, বাগবাজার, শোভাবাজার ও হাটখোলা ছিল সুতানুটি নামে পরিচিত। ধর্মতলা, বহুবাজার, সিমলা, জানবাজার প্রভৃতি অঞ্চল ছিল কলকাতার অন্তর্ভুক্ত। আর হেস্টিংস, ময়দান ও ভবানীপুর অঞ্চল জুড়ে ছিল গোবিন্দপুর গ্রাম।


বর্তমান কলকাতার সীমানা - উত্তরে-সিঁথি, কাশীপুর ও ঘুঘুডাঙ্গা। দক্ষিণে-টালিগঞ্জ, খিদিরপুর ও বেহালা। পূর্বে-সল্টলেক, বেলেঘাটা, তপসিয়া আর পশ্চিমে-হুগলী নদী।


বৃহত্তর কলকাতার সীমানা -বারুইপুর থেকে বাঁশবেড়িয়া এবং কল্যানী থেকে বজবজ।


কলকাতার ভৌগোলিক অবস্থান -হুগলী নদীর পূর্বতীরে কলকাতার অবস্থিতি ২২-৩৩’ উত্তরে অক্ষাংশ ও ৮৮-৩০’ পুর্ব দ্রাঘিমায়।


কলকাতার আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও সাক্ষরতার হার -ক্রান্তীয় মৌসুমী আবহাওয়া। বৃষ্টিপাত-১৬০৫ মিলিমিটার (১৬০ সে.মি.)। তাপমাত্রা- গ্রীষ্মকালে ২৪ থেকে ৪২ ও শীতকালে ৮ থেকে ২৬ সেলসিয়াস।
  মাতৃভাষা-বাংলা। সাক্ষরতার হার-৮১.৩১%


সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কলকাতার উচ্চতা ও বঙ্গোপসাগরের দূরত্ব -মাত্র ২০ ফুট(৬.৮মিটার), ও দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিলোমিটার।


কলকাতার স্থান পৃথিবীর বড় বড় শহরেরহরের তুলনায় -আয়তনে পৃথিবীর সপ্তম স্থানে ও জনসংখ্যায় ষষ্ঠ স্থানে। ভারতের মধ্যে তৃতীয়। কলকাতার আয়তন ১৮৫ বর্গ কিমি. ও লোকসংখ্যা ১,৩২,১৬,৫৪৬ জন। (পুরুষ ৭০,৭২,১১৪ জন, মহিলা ৬১,৪৪,৪৩২ জন।


কলকাতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস কলকাতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 01, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.