রহস্যময় মহাবিশ্বের জানা অজানা কথা

মহাবিশ্ব কাকে বলে?

---যাবতীয় বস্তু , আলোকরশ্মি, সব ধরনের বিকিরণ, এককথায় স্থান এবং সময়ের নিরিখে দৃশ্যমান অদৃশ্য সব কিছু নিয়ে তৈরি হয়েছে মহাবিশ্ব। এই পৃথিবী, সৌরমণ্ডল সবই মহাবিশ্বের অন্তর্গত। সূর্যসহ সমস্ত জ্যোতিষ্ক মহাবিশ্বের অংশ বিশেষ।

সৌরমণ্ডল বলতে কি বোঝায় ?

---সূর্য তারা গ্রহ, উপগ্রহ, হাজার হাজার ধুমকেতু এবং অসংখ্য ছোটো ছোটো তারা নিয়ে সৌরমণ্ডল গঠিত হয়েছে। মহাবিশ্বে অসংখ্য সৌরমণ্ডল ছড়িয়ে আছে। সূর্যের মতো জ্যোতিষ্কগুলি বিভিন্ন নক্ষত্র পুঞ্জ অথবা গ্যালাক্সির মধ্যে রয়েছে। আমাদের সৌরমণ্ডল যে সর্পিল নক্ষত্র পুঞ্জের মধ্যে অবস্থিত, তাকে মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ বলে।

বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে বিগ ব্যং থিয়োরি কী বলছে  ?

---সাধারণ ভাবে ধরে নেওয়া হয় যে, আমাদের এই মহাবিশ্ব প্রথমে ছিল একটি অতিকায় ঘন গোলক। তার থেকে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গ্রহ, নক্ষত্র এবং সৌরমণ্ডলের।
বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ অ্যাবে জর্জেস লেমেট মহাবিশ্বের ক্রমপ্রসারনের বিগ ব্যাং থিয়োরির সাহায্যে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাজার হাজার কোটি বছর আগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সিঙ্কুচিত ছিল। আদি বিস্ফোরণের মাধ্যমে তার প্রসারণ শুরু হয়। এই বিস্ফোরণ অতি ঘন গোলকটিকে 
ভেঙে ফেলে। গোলকটি টুকরো টুকরো হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। টুকরোগুলি এখনও সেকেন্ডে কয়েক হাজার কিলোমিটার গতিবেগে ছুটে চলেছে। এই গতিশীল বস্তু থেকেই নিহারিকাপুঞ্জ বা ছায়াপথের উৎপত্তি। ছায়াপথ অথবা নক্ষত্রের সৃষ্টি কিন্তু প্রসারনের গতি হ্রাস করতে পারেনি। সম বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে যেমন হয়, এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সব থেকে দুরের টুকরোগুলি সবথেকে বেশি গতিশীল। এই আদি বিস্ফোরণই হল বিগ ব্যাং থিয়োরির মূল কথা।

মহাকাশ সৃষ্টি সম্পর্কে ক্রমাগত সৃষ্টি তত্ত্ব টি ব্যাখা করো।

--- ক্রমাগত সৃষ্টি তত্ত্বটির প্রবক্তা দুজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী--টমাস গোল্ড এবং হারমান বল্ডি। ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ ফ্রেড ইয়েন এই তত্ত্বটি সমর্থন করেছিলেন। এই তত্ত্ব অনুসারে বলা হয়ে থাকে যে নীহারিকাপুঞ্জ এবং ছায়াপথগুলি একে অন্যের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, কিন্তু এদের অবস্থান সংক্রান্ত ঘনত্ব একই রয়ে গেছে। অর্থাৎ যখন পুরনো ছায়াপথ দূরে সরে যায়, তখন নতুন ছায়াপথ এসে তার স্থান দখল করে।


মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে পালসেটিং বা অসিলেটিং অর্থাৎ কম্পমান তত্ত্ব বলতে কি বোঝো ?

---দঃ অ্যালান স্যানডেজ পালসেটিং বা অসিলেটিং মহাকাশ তত্ত্বের প্রবক্তা। এই তত্ত্ব অনুসারে শতকোটি বছর সময় সীমার মধ্যে মহাবিশ্ব সঙ্কুচিত এবং প্রসারিত হয়েছে। ডঃ স্যানডেজের ধারনা অনুসারে ১২০০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বে এক বিপুল বিস্ফোরণ ঘটে গিয়েছিল। তারপর এটি ক্রমশঃ প্রসারিত হয়ে চলেছে। আরও ২৯০০ কোটি বছর ধরে এই প্রসারণ চলবে। তারপর মহাকর্ষের প্রভাবে প্রসারণ বন্ধ হয়ে যাবে এবং প্রচণ্ড চাপের কারনে সমস্ত বস্তু সঙ্কুচিত হতে শুরু করবে। সঙ্কোচন চলবে ৪১০০ কোটি বছর ধরে। এরপর আবার তৈরি হবে অতি ঘনত্ব বিশিষ্ট গোলক এবং ঘটবে মহাবিস্ফোরণ।

মহাবিশ্বের বয়স কত ?


---সম্প্রতি ব্রহ্মাণ্ডের বয়স সম্পর্কে বিঞ্জানসম্মত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নাসার গবেষণারা বলেছেন যে ১৩০৭ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের জন্ম। তাঁরা আরও বলেছেন, বিগ ব্যাং-এর প্রায় ১০ কোটি বছর পরে আকাশময় ছড়িয়ে পড়েছিল অগুনিত নক্ষত্র। সৃষ্টির সেই ঊষাকাল ছিল একেবারে শূন্য, তখন কোন মহাজাগতিক বস্তুর চিহ্ন আমাদের চোখে পড়েনি। তৈরি হয়নি গ্রহ, নক্ষত্র বা ছায়াপথ। বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা উত্তাপের অতি নগণ্য পরিবর্তন হয়েছিল। যার পরিমাপ ১ ডিগ্রীর ১০ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ। উইলকিনসন মাইক্রোওয়েভ অ্যানিসোট্রোপি প্রোব গবেষণা চালিয়েছেন বিগ ব্যংয়ের ৩,০৮,০০০ বছর পরের পৃথিবী নিয়ে। বিঞ্জানীদের একটা বড় অংশের বিশ্বাস ঠিক এই সময়েই নাকি জন্ম ব্রহ্মাণ্ডের।

আমাদের ছায়াপথ সম্পর্কে কী জানো ?

---আমাদের নিজস্ব ছায়াপথে আকাশগঞ্জা বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে বৃত্তাকারে অবস্থিত একটি তীব্র আলোকবন্ধনীর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবী থেকে দেখলে এই আলকবন্ধনিটিকে আলোর ঝর্না বলে মনে হয়। আসলে এটি হল অসংখ্য উজ্জ্বল নক্ষত্রের সমাবেশ পাশ্চাত্য বাসীরা এর নামকরণ করেছেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
ছায়াপথ আমাদের পূর্ব পুরুষদের মোহগ্রস্থ করেছিল। তাঁরা ছায়াপথকে লক্ষ্য করে কত না গল্পকথা লিখেছিলেন। মধ্য এশিয়ার ইয়াকুতার ছায়াপথকে ঈশ্বরের পদচিহ্ন বলা হত। এক্সিমোরা এর নামকরণ করেছিল শুভ্র ভস্ম নামিত পথ। চীনারা বলত স্বর্গীয় নদী আর হিব্রুরা বলত আলোর নদী। ভারতে এর নামকরণ করা হয়েছিল আকাশগঙ্গা বা স্বর্গ গঙ্গা।
ছায়াপথ হল সর্পিল নক্ষত্রপুঞ্জ। এই নক্ষত্রপুঞ্জের মূল অংশটি বা চাকতিটির ব্যাস ১ লক্ষ আলোকবর্ষ। এর কেন্দ্রে আছে দ্বিতীয় কেন্দ্রক, যার ব্যাসার্ধ ২৬ হাজার আলোকবর্ষ, আর আছে অগুনিত দীর্ঘ সর্পিল বাহু যার একটিতে আমাদের সৌরমণ্ডলের অবস্থান। এতে আছে ১০ হাজার কোটিরও বেশি নক্ষত্র, যারা কেন্দ্রের চার পাশে ঘুরছে। এদের ঘূর্ণন কাল গড়ে ২৩ কোটি বছর। 
আমাদের নক্ষত্রপুঞ্জের কেন্দ্র থেকে সূর্য প্রায় ৩২ হাজার  আলোকবর্ষ দূরে। ঐ নক্ষত্রপুঞ্জকে আপাতদৃষ্টিতে ঘূর্ণ্যমান গ্যাসের চাকতি বলে মনে হয়।
এখানে ক্রমাগত নতুন নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে। এই ছায়াপথে তারকার ঘনত্ব প্রতি ঘন পারসেকে অর্থাৎ ৩.২৬ আলোকবর্ষে প্রায় ১০ লক্ষ নক্ষত্র।
ছায়াপথ ছাড়া তিনটি নক্ষত্রপুঞ্জকে পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায়। উত্তর গোলার্ধ থেকে দেখা যায় অ্যান্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জ। এটি প্রায় ২০ লক্ষ্য আলোকবর্ষ দূরে। দক্ষিন গোলার্ধ থেকে দেখা যায় লার্জ ম্যাগেলানিক ক্লাউড(১,৬০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে) ও স্মল ম্যাগেলানিক ক্লাউড(১,৮০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে) 

নক্ষত্র সমাবেশ কেমন হয়ে থাকে ?

--- আমাদের পরিচিত নক্ষত্র সমাবেশ তিনটি আকার দেখা যায়। সর্পিল, উপবৃত্তীয় এবং অসম। সর্পিল নক্ষত্র সমাবেশে নক্ষত্রপুঞ্জে একটি কেন্দ্রক বা নিউক্লিয়াস থাকে। তার চারপাশে থাকে বিশাল বিশাল সর্পিল বাহু। আমাদের ছায়াপথ বা আকাশগঙ্গা এবং অ্যান্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জ এই শ্রেণী ভুক্ত।
নক্ষত্রপুঞ্জের ৮০ শতাংশ হল সর্পিল নক্ষত্রপুঞ্জ। এরপর আমরা উপবৃত্তীয় নক্ষত্রপুঞ্জের কথা বলব। এদের আকার সম্পূর্ণ উপবৃত্তীয়। এতে কোন সর্পিল বস্তু নেই। এরা দখল করে আছে সমস্ত নক্ষত্রপুঞ্জের ১৭%।
অসম আকারের নক্ষত্রপুঞ্জের নামকরণ থেকেই বুঝতে পারা যায় যে, তাদের নির্দিষ্ট কোন আকৃতি নেই। নক্ষত্রপুঞ্জগুল আবার বিভিন্ন গোষ্ঠী বা ক্লাস্টারে একত্রিত হয়। আমাদের ছায়াপথ যে ক্লাস্টারের অংশ তার নাম লোকাল গ্রুপ(Local Group).

রেড জায়েন্ট কাদের বলা হয় ?

 --- যখন কোন নক্ষত্রে হাইড্রোজেনের পরিমাণ নিঃশেষিত  হয়ে আসে, তখন তার বাইরের দিকটা লালচে হয়ে ফুলে ওঠে। এটি হল একটি নক্ষত্রের বয়সের প্রথম লক্ষণ। এই নক্ষত্রগুলিকে বলে লাল দৈত্য বা রেড জায়েন্ট। আগামী ৫০০ কোটি বছর বাদে সূর্য এমন একটি লাল দৈত্য বা রেড জায়েন্টে পরিনত হবে।
রেড জায়েন্ট খুবই উপযোগী নাম। এগুলো  আকারে সুবিশাল। উধাহরন স্বরুপ আমরা 'বিটেলগিইউস'-এর কথা বলতে পারি। এর প্রকৃত ব্যাস ৪৮ কোটি কিমি, বা সূর্যের ব্যাসের ৩৫০ গুন। আর একটি রেড জয়েন্ট মিরার ব্যাস ৬৪ কোটি কিমি।

ভেরিয়াবেল স্টার কাদের বলা হয় ?

---১৭৮৪ সালে ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী জন গুডিরিক এক ধরনের নক্ষত্রের পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ছিলেন মুক এবং বধির। দিনের পর দিন আকাশ পর্যবেক্ষণ করে তিনি ভ্যারিয়েবল স্টারের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। তিনি দেখেছিলেন, ডেলটা সেফিং নামে নক্ষত্রের  ঔজ্জ্বলের স্কেত্রে ৫ দিন ৯ ঘণ্টা অন্তর পরিবর্তন হচ্ছে।  এই ধরনের নক্ষত্রকেই বলা হয় ভেরিয়েবেল স্টার। 
এই ধরনের কোনো কোনো নক্ষত্রকে কয়েক ঘণ্টা অন্তর উজ্জ্বলতার পরিবর্তন করতে দেখা যায়। আবার কোনটিতে ১০০০ দিন বাদে উজ্জ্বলতার পার্থক্য হয়। সাধারনভাবে বলা যায়, সময়ের হার যত কম হবে, ঔজ্জল্য তত বেশি হবে।

নোভা সুপারনোভা কাদের বলা হয় ?

----হঠাৎ কোনো নক্ষত্রের  ঔজ্জ্বল্য ১০-২০ গুন বেড়ে যায়। তারপর আবার ধীরে ধীরে সে স্বাভাবিক ও সাধারণ উজ্জ্বলতায় ফিরে আসে। এই আকস্মিক উজ্জ্বলতার বৃদ্ধির কারণ কি ? বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, এর অন্তরালে আছে আংশিক বিস্ফোরণ। এই জাতীয় হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে ওঠা তারাকে নোভা এবং সুপারনোভা বলা হয়। নোভার ক্ষেত্রে বাইরের খোলটির বিস্ফোরণ ঘটে। সুপারনোভার তুলনায় নোভা বেশি দেখতে পাওয়া যায়। সেফিও, এমন একটি সুপারনোভা।

ব্ল্যাকহোল কাকে বলা হয় ?

---- ব্ল্যাকহোল একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন নক্ষত্র। এর বস্তু ঘনত্ব এত বেশি যে তার তীব্র মহাকর্ষ বলে কাছাকাছি সমস্ত বস্তু নক্ষত্রের কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয়। এমনকি নক্ষত্রপুঞ্জ কেন্দ্রে ঢুকে যায়। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বরে মহাকর্ষ এত বেশি যে, আলো তা থেকে রক্ষা পায় না। তাই ব্ল্যাকহোল থাকে অন্ধকারে। আর আমরা সরাসরি তাকে দেখতে পাই না।

কোয়াসার কি ?

---মহাবিশ্বে এক ধরনের ঝলমলে অস্বাভাবিক বস্তুর সন্ধান মেলে, এদের কোয়াসার বলা হয়। কোয়াসার পৃথিবী থেকে ১২০০ থেকে ১৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে আছে। কোনো কোনো
বিজ্ঞানীর মতে এক বিশাল ব্ল্যাক হোল আশপাশের নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে গ্যাসীয় মেঘ শোষণ করে এই বিশাল পরিমাণ আলোক শক্তির জন্ম দেয়।

মহাকাশের বিস্তার সম্বন্ধে কী জানো ?

---মহাবিশ্ব অসীম, না সসীম তা কেউ জানেনা। এই প্রসঙ্গে আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন, মহাবিশ্ব সসীম, কিন্তু তার সীমানা দেওয়া যায় না। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সীমারেখা আছে, অথচ সেই সীমারেখাকে আমরা ছুতে পারি না।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি যে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, আমরা যে মহাবিশ্ব দেখতে পাই, আসল মহাবিশ্ব তার থেকে ১০ শতাংশ বড়ো। ইউরোপিয়ান স্পেস এজান্সির হিপারকস মিশন মহাকাশে ১ লক্ষ্য ২০ হাজার নক্ষত্রের অবস্থানকে নির্দিষ্ট করার কাজ চলেছে।
১৯১২ সাল থেকে শুরু করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের দূরত্ব স্থির করতেন উজ্জ্বলতার বিচারে। হিপারকাস মিশনের সুত্র থেকে দেখা গেছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এতদিন দূরত্ব মাপতে গিয়ে মাপের ভুল করেছিলেন। হিপারকাস মিশনের দ্বারা নক্ষত্রের দুরত্ব মাপতে গিয়ে বোঝা গেল সেফেইডস ভেরিয়েবলগুলি আসলে আরও অনেক বেশি দুরত্বে অবস্থিত। 


রহস্যময় মহাবিশ্বের জানা অজানা কথা রহস্যময় মহাবিশ্বের জানা অজানা কথা  Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 18, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.