Featured Posts

[Travel][feat1]

হকার থেকে পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানী - আলভা এডিসনের জীবনী

March 16, 2019
টমাস আলভা এডিসন (১৮৪৭ খ্রি. - ১৯৩১ খ্রি.)


বলা হয়, এই বিজ্ঞানী নাকি সবথেকে বেশি আবিষ্কার পেটেন্ট করেছেন। তিনি কে? কিংবা যদি প্রশ্ন করি, এক প্রথিতযশা বৈজ্ঞানিকের শৈশব কেটেছে রাস্তার এক নগন্য ফেরিওয়ালা হিসেবে। তিনি কে? তোমরা কি তার উত্তর দিতে পারবে?
তিনি হলেন টমাস আলভা এডিসন। বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তাঁর দৃপ্ত পদক্ষেপ অঙ্কিত হয়নি। এমন কোনো বিষয় নেই, যাকে তিনি আত্মস্থ করেননি। সর্ব অর্থে তিনি ছিলেন সত্যি সত্যি এক জীবন্ত বিস্ময়। বিজ্ঞানের জাদুকর।
স্কুল-কলেজের প্রথাগত শিক্ষা তিনি নেননি। জীবন শুরু করেছিলেন এক হকার হিসেবে। পরবর্তীকালে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। অর্জন করেছিলেন প্রভূত অর্থ এবং যশ।
জন্ম হয়েছিল তার ওহিও প্রদেশের মেনলোতে, ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১১ই ফেব্রুয়ারি। বাবার আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ছিল। মা স্কুলে পড়াতেন। স্বভাবতই বাড়িতে লেখাপড়ার একটা পরিবেশ ছিল। কিন্তু এডিসন একেবারে অন্য ধাতের ছিলেন। সব ব্যাপারে প্রশ্ন করাটা ছিল তার একটা বাজে স্বভাব। বকবক করতেন আপন মনে, জানতে চাইতেন, কোন বস্তুতে কি আছে। একটা প্রশ্নের উত্তর পাবার সঙ্গে সঙ্গে আবার শুরু হত একের পর এক প্রশ্ন।
স্কুলে গিয়েও তার এই বকবকানি থামেনি। তার প্রশ্নবানে মাঝেমধ্যেই মাস্টারদের পড়ানোতে ছেদ ঘটত। মাস্টাররা বিরক্ত হতেন। অনেকবার তার বাবা-মাকে স্কুলে যেতে হয়েছে। ছেলের হয়ে কৈফিয়ত দিতে হয়েছে। অবশ্য এজন্য তার সহজাত প্রতিভাকেই দায়ি করা চলে। কেন না প্রবল কৌতূহল আর অনুসন্ধিৎসু বিজ্ঞানী মন নিয়েই তিনি জন্মেছিলেন।
শেষ অব্দি বিদ্যালয় যাওয়া বন্ধ করলেন আলফা এডিসন। শিক্ষকরাও তাকে বিদ্রুপ করায় ভীষণভাবে হতাশ ও বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন তিনি প্রথাগত শিক্ষার প্রতি। তবে পিতা বুঝতে পেরেছিলেন, ছেলের মধ্যে লুকানো প্রতিভা আছে। তিনি ছেলের অনুসন্ধিৎসাকে আকাশচুম্বি করার চেষ্টা করতেন। সাধ্যমতো জবাব দিতেন ছেলের প্রশ্নের।
বারো বছর বয়স হবার সঙ্গে সঙ্গে এডিসনকে অর্থ উপার্জনের চেষ্টায় নামতে হয়েছিল। এরজন্য যে শুধু সাংসারিক অসচ্ছলতা দায়ী ছিল, তেমনটি নয়। তখন মার্কিন দেশে নিয়ম ছিল, নিজের পায়ে নিজেকে দাঁড়াতে হবে। আমি শুধু বসে বসে মা বাবার পয়সা ধ্বংস করব, তা কেন হবে? ছোটো থেকেই ছেলেমেয়েদের সেখানে স্বাবলম্বী করে তোলা হত। বিদ্যালয় শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে তারা স্বাধীনভাবে কিছু টাকা রোজগারের চেষ্টা করত।
এডিসনের জীবন শুরু হল নতুন ধারায়। খবরের কাগজের ফেরিওয়ালা হলেন তিনি। নিশুতিরাতে ঘুম ভেঙে যেত এডিসনের। পায়ে পায়ে হাজির হতেন নিউজ পেপার স্ট্যান্ডে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কাগজ নিতেন। ভোরের সূর্য যখন পুব আকাশে উঁকি দিচ্ছে, তখন তিনি এক সুবোধ বালকের মতো বাড়ি বাড়ি টাটকা খবরের কাগজ পৌঁছে দিচ্ছেন। সাড়ে পাঁচটার আগেই এই কাজ শেষ করতে হত তাকে। কারণ, কে কত আগে কাগজটি পৌঁছে দেবে, তা নিয়ে হকারদের মধ্যে একটা অলিখিত লড়াই ছিল।
সেই বয়স থেকেই তিনি নানা ধরনের বিচিত্র কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। প্রতিটি কাজের অন্তরালেই তার উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় ছিল।
পনেরো বছর বয়সে তিনি রেলগাড়ির একটি কামরাতে সাজসরঞ্জাম জুটিয়ে প্রেস তৈরি করলেন। প্রকাশ করলেন নানা মুখরোচক খবরে ঠাসা ট্যাবলয়েড বা সংবাদ পত্রিকা। অচিরেই সেই কাগজটি প্রচন্ড জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু বিপণন পদ্ধতির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। তাঁর বন্ধুবান্ধবেরাই ঘুরে ঘুরে বিক্রি করত। দেখা গেল, কিছুদিনের মধ্যেই কাগজটি পাঠক-পাঠিকার মন জয় করতে সমর্থ হয়েছে। এই সব কাগজে এমন কিছু মুখরোচক খবর থাকত, যা পাঠকরা খুবই পছন্দ করতেন।
কিছুদিন এইভাবে চলল। এরপর এমন একটা ঘটনা ঘটল, যার ফলে আলফা এডিসনের জীবন আবার অন্যখাতে প্রবাহিত হতে শুরু করল।
প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন। বগলে রয়েছে খবরের কাগজের বান্ডিল। গাড়ি এসে দাঁড়ালে কামরায় ঢুকে হেঁকে হেঁকে কাগজ বিক্রি করবেন, এমটাই ছিল তার ইচ্ছে। এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন স্টেশনমাস্টারের ছোটো ছেলেটি রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর ভীষণ শব্দে মাটি কাঁপিয়ে ছুটে আসছে ইস্পাতের দৈত্য।
ছোটো ছেলেটি এই দৃশ্য দেখে একেবারে হতভম্ব হয়ে গেছে। লাইন থেকে লাফিয়ে সরে যাবার কথাও যেন ভুলে গেছে সে।
এডিসন বুঝতে পারলেন, আর এক মুহূর্তের মধ্যেই ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। অমন সুন্দর শিশুটি পরিণত হবে এক তাল রক্তাক্ত মাংসপিন্ড।
তিনি নিজের জীবনের কথা ভাবলেন না। মুহূর্ত মাত্র বিলম্ব না করে লাফ দিয়ে নামলেন লাইনের ওপর। ছুটে গিয়ে একটানে সরিয়ে দিলেন ছেলেটিকে। সঙ্গে সঙ্গে বিপুল গর্জন করতে করতে ছুটে গেল ইস্পাতের ওই দ্রুতগামী ট্রেনটি।
এডিসনের উপস্থিত বৃদ্ধির জোরেই বেঁচে গিয়েছিল স্টেশনমাস্টারের ছেলেটি। কৃতজ্ঞ স্টেশনমাস্টারের চোখে জল এসে গিয়েছিল। তিনি সেদিনের কিশোর এডিসনকে নিজের ঘরে নিয়ে গেলেন। তাকে নিজের কাছে রেখে টেলিগ্রাফের কাজ শেখাতে শুরু করলেন। ওই একটি ঘটনাই এডিসনের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ছোটোবেলাতে তিনি যদি এভাবে সহৃদয় স্টেশনমাস্টারের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ না পেতেন, তাহলে হয়তো তার বৈজ্ঞানিক প্রতিভার জাগরণ ঘটত না। আমরা জানি না, পৃথিবীতে কখন কোথায় কি ঘটবে! মনে হয় কোনো এক অদৃশ্য জাদুকর বুঝি সময় অনুসারে সবকিছু সাজিয়ে রেখেছেন। উপযুক্ত সময়ে তিনি সোনার কাঠি রুপোর কাঠি ছুঁইয়ে দেখাবেন এক একটা অদ্ভুত ম্যাজিক!
অল্পদিনের মধ্যেই ব্যাপারটা ভালোভাবে রপ্ত করে ফেলেছিলেন এডিসন। এবার স্টেশনমাস্টার তাকে ঢুকিয়ে দিলেন টেলিগ্রাফ অপারেটিং-এর চাকরিতে।
আঠারো বছরের কিশোর মন দিয়ে চাকরি করছেন। বেশিরভাগ সময় তাকে অফিসে বসে কাজ করতে হত। যেসব টেলিগ্রাফ অফিসে আসত, সেগুলিকে ধরতে হত। কখনো কখনো একাজে কাজে তাকে বাইরেও যেতে হত।
এখানে যোগ দিয়েও সেই একইরকম প্রশ্ন করা শুরু করলেন এডিসন। অবশ্য এখন আর জোরে জোরে প্রশ্ন করেননা। এখন নিজের কাছে নিজেই জানতে চান, এটা কেন এমন আচরণ করছে, ওর মধ্যে কি আছে, এটা করলে কি ফল পাওয়া যেতে পারে।
তার সাফল্যের পিছনে অনুসন্ধিৎসার সঙ্গে সঙ্গে তার উদ্ভাবনী শক্তিরই একটা বড়ো ভূমিকা ছিল। এবার তিনি নতুন যন্ত্রপাতি নির্মাণের কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। তিনি এমন একটি যন্ত্র বানিয়ে ফেললেন, যাতে সংকেত ধরা সম্ভব হল। এতে তার নিজের কাজের খুব সুবিধা হল। যখন তিনি থকেতেন না, তখন আপনা আপনি কাগজে টেলিগ্রাফ রেকর্ড হয়ে যেত।
অবশ্য এই সুবিধাই তার বিপদ ডেকে আনল। একদিন উঁচু মহলে খবরটা পৌঁছে গেল। এডিসন নাকি কাজে ফাঁকি দিয়ে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, মনের সুখে দিবানিদ্রা দিচ্ছেন, আর তার হয়ে কাজ করছে ওই অদ্ভুদ যন্ত্রটি।
চাকরি গেল এডিসনের। তিনি এলেন নিউইয়র্কে। এক বন্ধুর আস্তানাতে আশ্রয় নিলেন। সেখানে রাতে ঘুমাতেন আর সারাদিন টো টো করে ঘুরে বেড়াতেন চাকরির সন্ধানে। তখন দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। কোথাও চাকরি নেই। হতাশ ক্লান্ত রিক্ত তরুণ এডিসন ভাবছেন, এবার কি করবেন?
বন্ধুটি কাজ করত এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। একদিন তার অফিসের যন্ত্রটি বিকল হয়ে গেল। যন্ত্রটিকে সারাবর জন্য শহরের বড়ো বড়ো মিস্ত্রিকে ডাকা হল। কিন্তু সেই কাজে কেউ সফল হতে পারলনা।
বন্ধুর কাছ থেকে এই খবরটা পেয়েছিলেন এডিসন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি কৌতূহলী হয়ে উঠলেন। যন্ত্র নিয়ে তার চিন্তা ভাবনার বুঝি আর অন্ত নেই। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রত্যেক যন্ত্রের মধ্যে আলাদা জীবন আছে। তারাও মানুষের মতো কিছু বলতে চায়, কিন্তু আমরা তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেই।  প্রতিদানে কিছুই দেইনা। 
যন্ত্রটা পরীক্ষা করলেন এডিসন। বুঝতে পারলেন কোথায় ত্রুটি আছে। তিনি এবিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন, কেবলই তার মনে হলো সময় এবং সুযোগ পেলে তিনি যন্ত্রটিকে সরিয়ে তুলতে পারবেন।
বলি-বলি করে শেষপর্যন্ত কথাটা বলেই ফেললেন তার বন্ধুকে। বন্ধু তাকে নিয়ে হাজির হলেন ম্যানেজারের কাছে।
ষোলো বছরের এই তরুনের আত্মপ্রত্যয় দেখে ম্যানেজার অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কথাটা তার অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছিল। শহরের সেরস বিশেষজ্ঞরা যেখানে হার মেনে চলে গেছেন, সেখানে এই ছেলেটি কোন দুঃসাহস তার কাছে প্রশয় দিচ্ছেন? 
শেষ অব্দি ম্যানেজারের মন গলেছিল। মনে মনে তিনি যতই অবিশ্বাসী হয়ে উঠুন না কেন, মুখে তা প্রকাশ করেননি। হয়তো ভেবেছিলেন, দেখাই যাক না, কি কারিগরি করে ছেলেটি।
এডিসনকে সঙ্গে নিয়ে যন্ত্রের কাছে গেলেন তিনি। এডিসন খুব একটা সময় নিলেন না। গলদটা কোথায়, তা নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতার বলে সহজেই ধরে ফেলেছিলেন। খানিকটা নাড়াচাড়া করতেই যন্ত্রটা আবার আগের মতো কাজ করতে শুরু করল।
আনন্দে কৃতজ্ঞতায় ম্যানেজার এডিসনের প্রশংসা করলেন। এতেই ক্ষান্ত হলেন না তিনি। নির্দ্বিধায় এডিসনকে চাকরিতে বহাল করলেন। তখনকার দিনে সেই চাকরি মাইনে ছিল তিনশো ডলার।
বলা যেতে পারে, এটি ছিল এক দৈব যোগাযোগ। এভাবে এডিসনের আর্থিক দুরাবস্থা দূর হল। এখন তিনি নিশ্চিন্তে মনের মতো কাজ করতে পারছেন। হাতে যা পেতেন তা দিয়ে থাকা খাওয়া ভালোভাবেই চলে যেত। শুধু তাই নয়, সপ্তাহান্তে অবাক হয়ে দেখতেন, হাতে বেশ কিছু ডলার জমেছে। এডিসন তা দিয়ে নানারকমের সরঞ্জাম কিনতেন। অবসর মুহূর্তে যন্ত্রপাতি নির্মাণের কাজও শুরু করে দিলেন।
কয়েক মাসের চেষ্টাতে তিনি এমন একটি মেশিন তৈরি করলেন, যা অফিস কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ে গেল। এই মেশিন ব্যবহার করলে একসঙ্গে অনেক কাজ করা সম্ভব। যার সার্থক প্রয়োগে অকারণ খরচও কমতে বাধ্য। অচিরেই খবর পৌছালো জেনারেল ম্যানেজারের কানে। তিনি নিজে এসে মেশিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করলেন। পরীক্ষা করে অবাক হলেন। এইটুকু ছেলে কিনা এমন একটা যন্ত্র বানিয়ে ফেলল।
সেই মেশিনটি বিক্রি হল চল্লিশ হাজার ডলারে। যন্ত্র নির্মাতা হিসেবে এডিসনের খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
এই অভাবিত অর্থ লাভ করে এডিসন কৃতজ্ঞতায় গদগদ হয়ে উঠলেন। তার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল একটি গবেষণাগার তৈরি করবেন। এবার সেই স্বপ্নটা সফল হল, তৈরি হল নিজস্ব বিক্ষানাগার।
দলে দলে মানুষ আসতে থাকলেন এডিসনের কাছে। কার যন্ত্র কোথায় বিগড়ে গেছে সব কিছু সারাতে হচ্ছে এডিসনকে।
অনেকে আবার নতুন যন্ত্র তৈরির প্রকল্প জমা দিচ্ছেন এডিসনের কাছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাদের মনের মতো যন্ত্র তৈরি করে এডিসন তাকে লাগিয়ে দিল।
এভাবে প্রচুর অর্থ আয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি একদিন বুঝতে পারলেন, এই গন্ডি থেকে তাকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন এক কৃতিত্ব স্থাপন করতে হবে যা তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
শুরু হল অন্য পথে পরিভ্রমন। ইতিমধ্যে তিনি নিউজার্সির মেনলোপার্কে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগার স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে তিনি যা কিছু আবিষ্কার করেছেন তার অন্তরালে আছে এই গবেষণাগারটির উপস্থিতি।
গবেষণা শুরু হল টেলিগ্রাফের মধ্য দিয়ে। এল টেলিফোন।  দুটি যন্ত্রের অশেষ উন্নতি সাধন করেছিলেন তিনি। তারপর এলো ফনোগ্রাফ8, বৈদ্যুতিক বাতি- আরও কত কি!
এইভাবে জীবনের অনেকগুলি বছর কেটে গেল। নিজের কৃতিত্বে তিনি নিজেই বিস্মিত হতেন। মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করা যেতে পারে এমন যন্ত্রও আবিষ্কার করা সম্ভব। সেই চেষ্টাতেই প্রতি মুহূর্তে নিজেকে গবেষণার মধ্যে নিয়োজিত রেখেছিলেন এই বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক। ফোনোগ্রাফ তৈরি করার সময়ই চিত্রের চলমান অবস্থার চিন্তা এডিসনেরঅথায় এসেছিল। অর্ডার দিয়ে তৈরি করলেন সামান্য চওড়া, পঞ্চাশ ফুট দীর্ঘ সেলুলয়েডের  ফিল্ম। তাতে তোলা ছবিকে লেন্সের সাহায্যে পর্দায় প্রদর্শন করলেন। ওই বিশেষ যন্ত্রটির নাম রাখলেন 'কিনেটোস্কোপ'। এডিসনের এই আবিষ্কারের পরিবর্তিত রূপ হল আজকের চলচ্চিত্র।
জানা গেছে, সারা জীবনে ১০০০ বেশি আবিষ্কারের পেটেন্ট নিয়েছিলেন তিনি।
বিজ্ঞানের এই বিস্ময়প্রতিভা ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই অক্টোবর তারিখে ৮৪বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
টমাস আলভা এডিসনের ছোটবেলাকার গল্পকথা আমাদের বার বার পড়া উচিত। তার জীবন সত্যিই যেন এক রূপকথাকার কাহিনি। এডিসনের গল্প শুনলে মনে হয়, উনি যদি পেরে থাকেন আমরা কেন পারব না? চোখ বন্ধ করে একবার ভাবো তো বন্ধুরা, তখনও সকাল হয়নি, প্রচন্ড শীতের শেষ রাত, কাঁপতে কাঁপতে এডিসন চলেছেন খবরের কাগজ আনতে। সেগুলো বিলি করতে হবে, পয়সা উপায় করতে হবে, সংসার দিতে হবে। তারপরও আছে সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি। তবুও কি তিনি নিরাশ হয়েছিলেন? হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন? জীবনে যারা টমাস আলভা এডিসনে মতো কর্মতৎপরতা আর পরিশ্রমী হন। তাই হাল ছেড়োনা বন্ধু, শুধু এগিয়ে চলো সামনের দিকে
 একদিন দেখবে, সফলতাকে তুমি করায়ত্ত করেছ!
হকার থেকে পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানী - আলভা এডিসনের জীবনী হকার থেকে পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানী - আলভা এডিসনের জীবনী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on March 16, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল ১০/০৩/১৯ থেকে ১৬/০৩/১৯

March 10, 2019


মেষঃ নিম্ন সম্প্রদায়ের লোক জনেরা নানাভাবে সাহায্য করবে। রবিবার প্রয়োজনীয় কাজ গুলি করে ফেলবেন । সোমবার সন্ধ্যার পর সচেতন থাকা ভালো । মঙ্গলে বেড়াতে যাওয়ার মত পরিবেশ থাকবে। বুধে কোন পরিবর্তন নেই ।  বৃহস্পতিতে পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতে পারে ।  শুক্রে সহোদর স্থানীয় কেউ আসতে পারে সে । শনিতে গৃহগত ব্যাপারে চিন্তা হবে ।


বৃষঃ  গুণমুগ্ধরা আপনাকে তারিফ করবেন।  কিন্তু গবেষণায় বিঘ্ন ঘটবে । রবিবার দিনটি শুভ নয়, ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।  সোমবার অপ্রতিহত বাধায় অগ্রগতি ব্যহত । মঙ্গলে বেলায় স্বপক্ষে পরিবেশ, মনের কোন ইচ্ছা পূরণ। বুধে প্রয়োজনীয় কাজ গুলি সাফল্যের সঙ্গে শেষ করবেন।  বৃহস্পতিতে বিকেলের পর কোনো ঝুঁকি নিলে ক্ষতির সম্ভবনা । শুক্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হবে । সন্ধ্যার পর বিশেষ শান্তি পাবেন ।


মিথুনঃ কম পরিশ্রমে অধিক প্রাপ্তি হবে কিন্তু দেনায় জড়িয়ে যেতে পারেন ।  রবিবার অগ্রজ কারোর নির্দেশ মেনে নিন । সোমবার অনুকূল প্রভাব অব্যাহত ।  মঙ্গলে অলসতা করে অনেকটা সময় নষ্ট করবেন। বুধে দূরে গেলে কাউকে জানিয়ে যাবেন।  বৃহস্পতি দুপুরের পর অনেকটা স্বস্তি পাবেন ,অর্থ লাভ হতে পারে। শুক্রে দৈনন্দিন ব্যাপারে মোটামুটি কাটবে । শনিতে দরকারি কাজ সন্ধ্যার পূর্বে শেষ করুন ,পরে আটকে যেতে পারে।


কর্কটঃ মান্য ব্যক্তির সঙ্গে  অপ্রত্যাশিত যোগাযোগের সম্ভাবনা। রবিবার কর্ম ও পরিবার নিয়ে চিন্তার কারন নেই ।  সোমবার নিজের প্রতিভার স্বীকৃতি পেয়ে যাবেন । মঙ্গলে অপ্রত্যাশিত সুসংবাদ আপনাকে স্বস্তি দেবে । প্রয়োজনীয় লেনদেনের কাজগুলো করে ফেলুন।  বৃহস্পতিতে শরীর নিয়ে সন্ধ্যার সময় কষ্টে পড়তে পারেন ।  প্রতিকূল প্রভাব থাকায় মনে চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাবে । শনিতে জটিলতা অব্যাহত , রাতে সমাধানের আশা।



সিংহঃ নিজের কর্তব্য স্থির করতে অধিক সময় লেগে যাবে । রবিবার পরিবারের কারোর আচরণে ক্ষুব্ধ হতে পারেন ।  সোমবার অকারণ দুশ্চিন্তায় কষ্ট পাবেন । মঙ্গলে বেলায় অপ্রত্যাশিত শুভ পরিবর্তন । নতুন কর্মযোগের সম্ভাবনা । অনুকূল পরিবেশ থাকায় অনায়াসে উদ্দেশ্য পূরণ হবে ।  বৃহস্পতিতে আপনার মতাদর্শ সবাই মেনে নেবে । শুক্রে আয় ব্যয় সমান । শনিতে শারীরিক কষ্ট বৃদ্ধি, সহকর্মীরা দোষ ধরবে।


কন্যাঃ কর্মপদ্ধতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নানাভাবে মনের উপর আঘাত আসবে । রবিবার বিরুদ্ধ পরিবেশ আপনাকে স্বস্তি দেবে না ।  সোমবার কোন হুড়োহুড়ি করে সিদ্ধান্ত নেবেন না । মঙ্গলে নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকবেন । বুধে কর্মব্যস্ততা বৃদ্ধি পাবে , পুরনো কাগজ হঠাৎ পেয়ে যাবেন । বৃহস্পতিতে বাণিজ্যিক যোগাযোগ দুপুরের পর হবে । শুক্রে একইভাবে দিনটা কেটে যাবে। শনিতে সুনাম অভ্যাহত থাকবে , বকেয়া অর্থ পেয়ে যাবেন


তুলাঃ স্নেহভাজনের আচরণে কেনাবেচার জন্য আটকে যেতে পারেন । রবিবার দূর থেকে আসা সংবাদে আপনাকে কর্মব্যস্ত করে তুলবে।  সোমবার মোটামুটি যাওয়ার সম্ভাবনা । মঙ্গলে পরিবেশে বিরুদ্ধে থাকায় বিদ্যার্থীদের পক্ষে মধ্যম । বুধে কেউ আপনার কথার কথার ভুল অর্থ করবে ।  বৃহস্পতিতে বিকেলের পর প্রতিকূলতার সম্মুখীন । শুক্রে সন্তানের জন্য উতলা হয়ে উঠবেন । রাতে সুসংবাদ পাবেন ।


বৃশ্চিকঃ আপনার অনুরোধ কর্মক্ষেত্রে গ্রাহ্য হবার সম্ভাবনা কম । রবিবার আপনার বিপক্ষে কেউ যাবে না । সোমবার নিজের উদ্যমে প্রতিপক্ষকে আয়ত্তে রাখবেন । মঙ্গল শুভ পরিবর্তন ঘরে বাইরে আনন্দ বহুল পরিবেশ । বুধে সহকর্মীদের সঙ্গে সুন্দর অভিজ্ঞতা ও ভ্রমণের সম্ভাবনা ।  বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে লেনদেন সংক্রান্ত কাজ শেষ করুন। শুক্রে মাতৃস্থানীয় কারোর সঙ্গে মনোমালিন্য, ঘরে বাইরে নানা ঝামেলায় পড়তে পারেন ।


ধনুঃ সন্তান স্থানীয় কারোর জন্য বেশি উতলা হবেন । রবিবার বিদ্যার্থীদের পক্ষে অত্যন্ত পরিশ্রম করেও ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা । মঙ্গলে কারো উপস্থিতি সামাজিক ঐক্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে । বুধে শত্রুর গোপন ষড়যন্ত্র বুঝে ফেলবেন । বৃহস্পতিতে অর্থ ও পরিবার নিয়ে বাধা নেই । শুক্রে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা সম্ভব হবে । শনিতে দিনের শুরুতে অনুকূল পরিবেশ , পরে বাধাবহুল ।


মকরঃ কোন কিছু পেতে দেরি হবে । তার জন্য কাউকে ভুল বুঝবেন না । রবিবার তুচ্ছ কারণে বেশি টাকা দিয়ে স্বস্তি পাবেন । সোমবার একই রকম পরিবেশ , আপনাকে স্বস্তি দেবে না। মঙ্গলে  মনের মত পরিবেশ পাবেন না তবে ক্ষতির কোনো কারণ নেই । বুধে বিদ্যার্থীদের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে । বৃহস্পতিতে সন্ধ্যার পর পরিবেশ বেশ সহজ হয়ে আসবে । শুক্রে আপনার বাক্য প্রয়োগ এর উপর শত্রুপক্ষের আক্রমণ নির্ভর করছে । শনিতে কোন আটকে থাকা ব্যাপারে স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে


কুম্ভঃ পারিবারিক জীবনের সম্মান রক্ষা হবে । অর্থ নিয়ে সমস্যা নেই । রবিবার চেষ্টার দ্বারা বন্ধু স্থানীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবেন । সোমবার শিক্ষামূলক ক্ষেত্রে সম্মান রক্ষা হবে । মঙ্গলবার পক্ষে ও বিপক্ষে দু রকম প্রভাবই বলবত থাকবে , অর্থ খরচ বাড়বে । বৃহস্পতিতে সন্তানের জন্য উদ্দিগ্ন থাকবেন ।  শুক্রবারে প্রতিকূল প্রভাব আপনাকে ঘিরে থাকবে । শনিবার সন্ধ্যার সুখবর আসতে পারে ।

মীনঃ দাম্পত্য জীবনে স্নায়বিক চাপে কষ্ট পাবেন । ভাগ্যবলে ক্ষতি হবেনা ।  রবিবার কেনাবেচায় সন্তুষ্ট হতে পারবেন না । সোমবার রাতে নিকট আত্মীয়ের প্রতিহিংসায় পড়তে পারেন । মঙ্গলে যাকে খুঁজছেন তার সঙ্গে বেলায় যোগাযোগ হবে ।  বুধবারে স্বাচ্ছন্দ ভাবে দিনটি কাটাবেন । বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বাধার সম্মুখীন হতে হবে । শুক্রবারে অশুভ প্রবাহ অব্যাহত থাকবে । শনিতে অবস্থা বুঝে পদক্ষেপ নিন , বেশি কড়া মনভাব দেখাবেন না ।







সাপ্তাহিক রাশিফল ১০/০৩/১৯ থেকে ১৬/০৩/১৯ সাপ্তাহিক রাশিফল ১০/০৩/১৯ থেকে ১৬/০৩/১৯ Reviewed by Kona Dey Chakraborty on March 10, 2019 Rating: 5

চন্দ্রকেতুগড় গেছেন কখনো ? উত্তর ২৪ পরগনার এই ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরে আসুন

March 05, 2019


প্রায় আড়াই হাজার বছর আগেকার সুপ্রাচীন ঐতিহ্যশালী বন্দরনগরী চন্দ্রকেতুগড় । উত্তর ২৪ পরগনার বেড়াচাঁপা জনপদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই পর্যটনকেন্দ্র । কিংবদন্তি , বিশ্রুত রাজা চন্দ্রকেতুর নামানুসারে মৃৎ-দুর্গপ্রকার পরিবেষ্টিত ক্ষেত্রটির নাম হয় চন্দ্রকেতুগড় । বেড়াচাঁপা থেকে থেকে দু'কিমি দূরে ১৯৫৫ সালে আবিষ্কৃত হয়েছে মহেঞ্জোদারোর সমসাময়িক এক বন্দরনগরী , রাজা চন্দ্রকেতুর গড় । কালিন্দী নদীর তীরে ব্যাবসা বানিজ্যের অন্যতম পীঠস্থান ছিল এই চন্দ্রকেতুগড় । এখানকার ঢিপির নীচে খ্রীস্টপূর্ব চতুর্থ  শতকের প্রাগমৌর্য যুগ থেকে দ্বাদশ শতকের পালযুগ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন জনবসতির নিদর্শন মিলেছে । পাওয়া গেছে অঙ্ক চিহ্নিত রজতমুদ্রা , ঢালাই তাম্রমুদ্রা , কুষান ও গুপ্তযুগের সিলমোহর এবং মৌর্য , শুঙ্গ , কুষাণ ও গুপ্ত যুগের পোড়ামাটির ফলক ও মূর্তি , নানা প্রকার পুঁতি , অস্থিনির্মিত কলাবস্তু সহ অসংখ্য প্রত্নবস্তু । ১৯০৯ সালে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে এসেছিলেন প্রত্নতত্বের সন্ধানে । 


চন্দ্রকেতুগড়ের প্রাচীন পুরাকীর্তির আর বিশেষ কিছুই অবশিষ্ট নেই । কাঁটা বেড়া দিয়ে ঘেরা উঁচু ঢিপিই গড়ের সাক্ষ্য বহন করছে । আকাশে হাত বাড়ানো গাছগুলোর ছায়ায় চড়ুইভাতির রমরমা ছিল , বর্তমানে বনভোজন নিষিদ্ধ । বেড়াচাঁপায় দেবালয়ে ১৯৫৬ সালে মাটি খুঁড়ে বহুকোন বিশিষ্ট একটি উত্তরমুখী মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে । প্রাথমিক ভাবে মন্দিরটিকে গুপ্তযুগের বলে অনুমান করা হলেও বাস্তবিক পক্ষে নকশা , স্থাপত্যবিন্যাস ও অলংকরণের নিরিখে এটি পাল যুগের দেবালয় বলেই মনে হয় । এটি ক্ষনা-মিহিরের ঢিপি বা বরাহমিহিরের ঢিপি নামে পরিচিত । বেড়াচাঁপা বাস স্ট্যান্ডের লাগোয়া দিলীপ কুমার মিত্রের সংগ্রহশালায় প্রতি শনিবার ও রবিবার সকাল, বিকেলে দেখে নেওয়া যায় চন্দ্রকেতুগড়ের প্রাচীন নিদর্শন । তামা ও রূপার মুদ্রা , সিল মোহর , পাথরের রাশিচক্র , নকশাকাঁটা ইট , ব্রোঞ্জের নারীমূর্তি , টেরাকোটায় নানান ভঙ্গিমায় গনেশ সহ নানান দেবদেবী , মিথুন মূর্তি , যক্ষিণী মূর্তি , নিত্য ব্যাবহার করার টুকিটাকি , মাটির পাত্র সহ নানান সুক্ষ্ম অমূল্য প্রত্নবস্তু সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে। হাড়োয়ার আব্দুল জব্বরের ব্যক্তিগত সংগ্রহেও বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন সযত্নে রক্ষিত আছে । 

কীভাবে যাবেন ঃ বারাসাত বা বসিরহাট থেকে দেবালয় বেড়াচাঁপা । ট্রেনে গেলে বারাসাত বা বসিরহাট নেমে বাস ধরতে হবে । ক্ষনামিহিরের ঢিপি এবং দিলিপ কুমার মৈতের সংগ্রহশালা বেড়াচাঁপাতেই । চন্দ্রকেতুগড় যেতে হলে হাড়োয়া মুখী রাস্তায় ১ কিমি গিয়ে বাঁয়ে ইট বিছানো রাস্তা ধরে আরও ১ কিমি যেতে হবে । নিকটবর্তী রেলস্টেশন হাড়োয়া । শ্যামবাজার থেকে ৭৯ , ৭৯এ , ৭৯সি বাস , ধর্মতলা থেকে ২৪৮ রুটের লাক্সারী বাস , সরকারী বাসও যায় বেড়াচাঁপায় । 





চন্দ্রকেতুগড় গেছেন কখনো ? উত্তর ২৪ পরগনার এই ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরে আসুন চন্দ্রকেতুগড় গেছেন কখনো ? উত্তর ২৪ পরগনার এই ঐতিহাসিক স্থানে ঘুরে আসুন  Reviewed by Kona Dey Chakraborty on March 05, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল বাংলা ০৩/০৩/১৯ থেকে ০৯/০৩/১৯

March 03, 2019

মেষ রাশি: প্রতিপক্ষ আপনার বর্তমান পরিস্থিতি জানার জন্য উদগ্রীব হবে, ঋণ নেবেন না। রবিবার সবদিক সামলে চলতে পারবেন। সোমবার প্রয়োজনীয় কাজ যতটা সম্ভব করে নিন। বুধে আয় বুঝে ব্যয় করুন। বৃহস্পতিবার বাধা অতিক্রম করার মতো দক্ষতা থাকবে। শুক্রে কাজের জন্য দূরে যেতে হতে পারে। শনিতে শুভযোগ।


বৃষ রাশি: পদস্থ ব্যক্তির সাথে আলোচনার দ্বারা মনের দিক থেকে দায়মুক্ত হবেন। রবিবার জটিলতার ভেতর কাটবে। সোমবার প্রতিকূল প্রভাব অব্যাহত। মঙ্গলে শুভ পরিবর্তন। বুধে যা করতে চাইছেন তা সম্পন্ন করে ফেলবেন। বৃহস্পতিবার অপ্রত্যাশিত সুখবর। শুক্রে ভাগ্যবলে প্রত্যাশাপুরণ। শনিতে স্বাস্থ্য সমস্যা।


মিথুন রাশি: প্রতিদ্বন্দ্বীতার ক্ষেত্রে আপনার যোগ্যতা যাচাইকে কর্মস্থলে অপমানজনক মনে করবেন না। রবিবার অপ্রতিহত বাধায় অগ্রগতি ব্যাহত। সোমবার অনেকটা অর্থ খরচ হবার আশঙ্কা। মঙ্গলে দুশ্চিন্তা বাড়বে। বুধে আপনার কাল্পনিক কথা বলা লাগবে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ক্ষমতা বৃদ্ধি। শুক্রে বৃদ্ধিবলে কাজ এগিয়ে যাবে। শনিতে ঘরে বাইরে শান্ত পরিবেশ।


কর্কট রাশি: ঘটনা প্রবাহে নিজের মর্যাদা রক্ষা হবে। রবিবার গতানুগতিক ভাবে দিনটি কাটবে। সোমবার দরকারি কাজে সহযোগিতা পাবেন। মঙ্গলে বিরুদ্ধ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলবেন। বুধে দক্ষতার বিচারে আপনাকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সক্রিয় থাকলে। পরিবেশকে আয়ত্তে আনতে পারবেন। শুক্রে জেদি ব্যক্তির সঙ্গে বনিবনা কম হবে। শনিতে শুভ পরিবর্তন।


সিংহ রাশি: অর্থের জন্য আপস করা লাগবে, সহকর্মীর জন্য মনোকষ্ট পাবেন। রবিবার যশভাগ্য কম। সোমবার নিজের উদ্যমে পরিবেশকে আয়ত্তে রাখবেন। মঙ্গলে প্রিয়জনকে বলাটা উপযুক্ত হবে। বুধে প্রয়োজনীয় কাজ সহজেই হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার বিদ্যার্থীদের পক্ষে বড়সড় পরিবর্তন আসবে। শুক্রে বুঝে ব্যয় করবেন। শনিতে অব্যবস্থার মধ্যে মাথা ঠান্ডা রাখুন।


কন্যা রাশি: অন্যের কাজ আপনাকে দায়িত্ব নিয়ে সামলানো লাগবে। রবিবার দ্রুততার সঙ্গে সমস্ত কিছু করতে হবে। সোমবার সন্তানের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকবেন। মঙ্গলে বিরোধী পক্ষকে শান্ত করা সম্ভব হবে। বুধে উদ্যোমী মনোভাব। বৃহস্পতিবার পদস্থব্যক্তির অধীনে থাকলে দায়িত্বমুক্ত হবেন। শুক্রে শুভ বিবর্তন। শনিতে প্রতিবাদমূলক কথা বলে ঝামেলা বাড়বে।


তুলা রাশি: অবিশ্বাসী ভৃত্যরা আপনার সঙ্গে কৃত্তিম ব্যবহার করছে বোঝার চেষ্টা করুন। সোমবার মাতৃস্থানিয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা। সোমবার কার্যোদ্ধার সম্ভব নয়। মঙ্গলে সন্তানের সঙ্গে বনিবনা কম হবে। বুধে বাধার সঙ্গে লড়াই করে চলতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শুভ পরিবর্তন। শুক্রে শনিতে পারদর্শীকতা দ্বারা জয়লাভ।


বৃশ্চিক রাশি: হিসাব নিকাশের ক্ষেত্রে অপ্রিয় সত্য প্রকাশ করলে বিপদে পড়বেন। রবিবার সহদরস্থানীয় কাউকে পেয়ে যাবেন। সোমবার প্রয়োজনীয় কাজ করে নিন। মঙ্গলে তুচ্ছ কারণে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা। বুধে অশুভ প্রভাব অব্যাহত। বৃহস্পতিবার শত্রুকে  চিনলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে না। শুক্রে কর্মস্থলে গতানুগতিক ভাবে কাটাবেন। শনিতে শুভ পরিবর্তন।


ধনু রাশি: শারীরিক বাধায় কর্মের বিস্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। রবিবার লেনদেনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। সোমবার জটিল সমস্যা অব্যাহত। মঙ্গলে কাউকে কিছু দেওয়ার থাকলে দিয়ে দিন। বুধে বন্ধুস্থানীয় কারোর পরামর্শ নিতে পারেন। বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। শুক্রে কর্ম নিয়ে দোটানা মনোভাব অগ্রগতি ব্যাহত করবে। শনিতে স্নেহভাজন কেউ আপনাকে আশ্বস্ত করবে।


মকর রাশি: অপরাজেয় মনোভাব। রবিবার সব দিক থেকে মানিয়ে চলে পরিস্থিতি আয়ত্তে রাখবেন। সোমবার প্রয়োজনীয় কাজগুলি হবে। মঙ্গলে অর্থনৈতিক সমস্যায় মনোকষ্ট পাবেন। বুধে উদ্যগ নিলে সফল হওয়া কঠিন। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শুভ পরিবর্তন। শুক্রে সুযোগ মতো দরকারি কাজ সেরে ফেলুন। শনিতে প্রিয়জনের সঙ্গে মনোমালিন্য।


কুম্ভ রাশি: মাথার চুল নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকবেন। রবিবার মোটামুটি নিশ্চিন্তেই কাটাবেন। সোমবার উদ্বিগ্ন হয়ে উঠবেন। মঙ্গলে অপেক্ষা করলে ন্যায্য পাওনা পেয়ে যাবেন। বুধে নানা কারণে ব্যস্ততা বাড়বে। বৃহস্পতিবার পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকম ঘটনার সম্মুখীন হবেন। শুক্রে একইরকম পরিবেশে স্বস্তি পাবেন না। শনিতে ছোট ভাই/বোনের আগমনে খুশি থাকবেন।


মীন রাশি: গৃহগত ঘটনাতে অস্থিরতা বাড়বে। রবিবার পরিবেশ অনুকূল অর্থযোগ শুভ। সোমবার প্রয়োজনীয় কাজ সসম্পন্ন করা সম্ভব হবে। মঙ্গলে অপ্রতিহত বাধায় অগ্রগতি ব্যাহত। বুধে শরীর নিয়ে জটিল সমস্যা, অর্থনাশ। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শুভ পরিবর্তন। শুক্রে কাউকে কথা দিয়ে রাখতে পারবেন। শনিতে কেনা-বেচার কাজে সতর্ক থাকুন।

 আসুন শেয়ার করে সবাইকে জানাই 
সাপ্তাহিক রাশিফল বাংলা ০৩/০৩/১৯ থেকে ০৯/০৩/১৯ সাপ্তাহিক রাশিফল বাংলা ০৩/০৩/১৯ থেকে ০৯/০৩/১৯ Reviewed by Kona Dey Chakraborty on March 03, 2019 Rating: 5

বাড়ির কাছেই - ঘুরে আসুন, চিন্তামনি কর পক্ষী অভয়ারণ্য

February 18, 2019
চিন্তামণি কর পক্ষী অভয়ারণ্য ইট কাঠ পাথরে ঠাসা তিলোত্তমা কলকাতার নাকের ডগায় এক চিলতে সবুজ । আম ,জাম  ,কাঁঠাল  ,তেতুল, জামরুল  সহ জানা গাছেদের ব্রিগেড সমাবেশ করে এই ঘন বন একসময় পরিচিত ছিল 'কয়ালের বাগান' নামে । মানুষের চাহিদা পূরণে আর নজরদারির অভাবে বাগানের আয়তন দিনদিন কম ছিল।  2004 সালের সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাত্র 17 একর বনাঞ্চলকে 'নরেন্দ্রপুর ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি ' নামে সংরক্ষিত করেন । ঠিক তার পরের বছর 2005 সালের অক্টোবরে প্রখ্যাত ভাস্কর চিন্তামণি করের নামে ' চিন্তামণি কর পক্ষী অভয়ারণ্য '  উৎসর্গ করা হয় । 


গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকলো দেখতে পাবেন মেটে বাড়ির অফিস ঘর । বনদপ্তরের এই অফিস থেকেই মেলে জঙ্গলে ভ্রমণের ছাড়পত্র । অনুমতিপত্র নিয়ে সবুজের ইশারায় হারিয়ে যাওয়ার মজাই আলাদা । জঙ্গল বুক চিরে সোজা পথ , তার থেকে ডাইনে বামে দিয়ে গেছে গাছেদের মজলিস ।  আলোছায়া এক মায়াবী পরিবেশে পাখিদের ডাকের কিচিমিচি,  প্রজাপতি আর কতরকমের কীটপতঙ্গ যে উড়ে বেড়ায় তার ঠিক নেই  । পায়ে পায়ে পায়ে চলার পথের ধারে ভেঙে পড়া গাছের কঙ্কালের আলপনাও  চোখে পড়তে পারে । চেনা জানা পাখি ছাড়াও লিনিয়েটর , শিকরা ,ক্রেস্টেড সারপেন্ট ঈগল , বুফাস ঊডপেকার , অ্যাশি ব্রোঞ্জ ড্রেথেটা , গ্রেটার র‍্যাকেট ট্রেইলড প্রজাতির পাখির বাস এখানে । আর বিভিন্ন প্রজাতীর রঙিন প্রজাপতি স্থায়ী ঠিকানা 'চিন্তামণি কর পক্ষী অভয়ারণ্য। । 


 জঙ্গল জুড়ে কাঁটাঝোপ ও মশার কামড়ের উপদ্রব ভালোই । তবে বছরের এপ্রিল মাসে বনের গভীরে দেখা যেতে পারে  গ্রিন ক্রাউন ওয়েব্লার। এটি হিমালয় রিজিয়ান পাখি। বেশ কিছু পাখী আসে শীতের দেশ থেকে কিছুদিনের জন্য। এরা দুর্লভ পাখি। চিন্তামণি করে পাখি দেখতে হলে থাকতে হবে পাখি খোঁজার চোখ। নইলে ফিরতে হবে শুধুই জঙ্গল দেখে। শুধু পাখি নয়, জঙ্গলের পরিবেশ মুহূর্তে-পাল্টে-যাওয়া , আলোর মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক অপরূপ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারবেন এই কোয়েলের বাগান থেকে। 

কিভাবে যাবেনঃ গড়িয়া-নরেন্দ্রপুর-বারুইপুর  রুটে রথতলায় নামতে হবে ।  বাস স্টপেজ থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা পথে চিন্তামণি কর অভয়ারণ্য । কামালগাছি হয়ে বারুইপুরগামী সব বাস ও প্রচুর অটো রথতলা হয়ে যায় ।  সারা বছর প্রতি দিন খোলা থাকে অভয়ারণ্য , সকাল 7 টা থেকে বিকাল 5 টা পর্যন্ত ।  পাঁচ বছর পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের প্রবেশ মূল্য লাগেনা । 


বাড়ির কাছেই - ঘুরে আসুন, চিন্তামনি কর পক্ষী অভয়ারণ্য বাড়ির কাছেই - ঘুরে আসুন, চিন্তামনি কর পক্ষী অভয়ারণ্য Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 18, 2019 Rating: 5

চরম দারিদ্রতা থেকে কীভাবে হোমিওপ্যাথীর জনক হলেন হ্যানিম্যান

February 16, 2019
স্যামুয়েল হ্যানিম্যান (১৭৫৫ - ১৮৪৩)

মাঝরাতে ঘুমটা ভেঙে গেল তার। ঘুম থেকে উঠেই বুঝতে পারলেন, পেটে খিদে চোঁ-চোঁ করছে। অথচ খাবার মতো কিছুই নেই রান্নাঘরে। কি আর করা যায়। ঢকঢক করে খানিকটা জল খেলেন তিনি। আবার ছেঁড়া কম্বল ঢাকা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলেন।
জানালায় কাচের সারশী নেই। হু-হু করে ছুটে আসছে শীতার্ত বাতাস। দূর থেকে রাতজাগা পাখির ডাক শোনা গেল। বেচারি ছটফট করতে পারেন। খিদের জ্বালায় অস্থির হয়ে ওঠেন।
আপনারা হয়ত ভাবছেন , আমি বোধহয় একটা সামাজিক গল্প লিখছি। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। যে মানুষটির কথা এতক্ষণ বলা হয়, প্রায় রাতে তিনি ঘুমোতে পারতেন না খিদের জ্বালায়। তিনি হলেন হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রের জনক স্যামুয়েল ক্রিস্টিয়ান ফ্রেডরিক হ্যানিম্যান। পথেঘাটে তার নামে নামাঙ্কিত অনেক দোকান তোমাদের চোখে পড়বে। সেখানে কাছের শিশিতে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ থরে-বিথরে সাজানো আছে। হ্যানিম্যান মানেই বিশুদ্ধ ওষুধের শেষকথা - এমনটিই মনে করেন ডাক্তারবাবুরা।
ভাবতে অবাক লাগে, যার নামে কোটি কোটি টাকার ওষুধ আজও বিক্রি হয়, জীবনটা তার কেটে গিয়েছিল নিদারুন দারিদ্রতার সঙ্গে নিরন্তর সংগ্রাম করে।
১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দের ১১ই এপ্রিল এক হতদরিদ্র পরিবারে হ্যানিম্যানের জন্ম হয়। জন্মেছিলেন তিনি জার্মানির অন্তর্গত সাক্সলি প্রদেশে।
বাবার নাম ক্রিশ্চিয়ান গটফ্রেড হ্যানিম্যান। তিনি ছিলেন এক গরিব শিল্পী। যখন যা ইচ্ছা হত তাই আঁকতেন। বেশিরভাগ দিন অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাতেন তিনি। অনেকেই বলত, 'গটফ্রেড, এঁকে কি হবে? তার থেকে বরং মুটে হয়ে যাও। রোজ দুশো টাকা আয় করতে পারবে। সংসারটা কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে যাবে। কিন্তু এভাবে ছবি আঁকলে তো পেটের খিদে পেটেই থেকে যাবে।'
এই কথা শুনে হেসে উঠতেন গটফ্রেড হ্যানিম্যান। জীবনে কখনও কোনো কিছুর সাথে আপস করেননি তিনি। এই দারিদ্র্যতা- এ তো ঈশ্বরের দান- এমনটাই বিশ্বাস করতেন তিনি। তারপর আবার নতুন উৎসাহে আবার ছবি আঁকা শুরু করতেন।
হ্যানিম্যানের ছোটবেলা কেটে গিয়েছে এই দুঃখজনক পরিস্থিতির মধ্যে। তিনি ছিলেন মা-বাবার তৃতীয় সন্তান। সুখ বা স্বচ্ছলতা কাকে বলে তা তিনি জানতেন না। 
একটি রুটি সম্বল করে খিদের জ্বালা মেটাতে হত। অর্ধেকটা খেতেন জলে ডুবিয়ে, বাকিটা নুন দিয়ে। রুটির সাথে তরকারি হলে বাড়িতে একটি উৎসবের পরিবেশ তৈরি হত।
অর্থের অভাবে ভালো স্কুলে ভর্তি হতে পারেননি তিনি। পড়তেন স্থানীয় করপোরেশন বিদ্যালয়ে - নিখরচায়। একটিমাত্র পোশাক ছিল তার। ময়লা হলেও সাবান কিনতে পারতেন না। আলু দিয়েই পোশাক পরিষ্কার করতেন।
কঠোর দারিদ্র্যতা তার প্রতিভাকে ঢেকে রাখতে পারেনি। কিভাবে তিনি জীবনে সফল হয়েছিয়েন তা জানলে আমরা অবাক হয়ে যাই ! আমরা নিজেদের ধিক্কার দেই আর ভাবি, হ্যানিম্যানের মতো মানুষ যদি জীবন যুদ্ধে জিততে পারেন, আমরা কেন পারব না? কোনোরকমে লিপিজিগ বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন হ্যানিম্যান। মনের ভেতর ইচ্ছে ছিল চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করবেন। তখনকার দিনে এই বিষয়ে পড়তে গেলে অনেক টাকার দরকার। তত্ত্বগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষা - তা নাহলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান সম্পূর্ন হয়না। বেচারি হ্যানিম্যান, কে তার দিকে বাড়িয়ে দেবে সহযোগিতার হাত?
বাবার পাঠানো সামান্য অর্থ সম্বল করে তিনি ভিয়েনাতে পড়তে গিয়েছিলেন। তখন ভিয়েনার নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কেন্দ্র বলা হচ্ছে ভিয়েনা শহরকে। সেই অপ্রতুল অর্থের ভরসায় শেষ অব্দি আর জীবনযুদ্ধে লড়তে পারেননি হ্যানিম্যান। মাঝপথেই পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল তাকে। চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছিল তাকে।
ঘুরতে ঘুরতেই তার সাথে দেখা হয়ে যায় ট্রানসিলভেনিয়ার গভর্নরের। ভদ্রলোক হ্যানিম্যানকে দেখেই বুঝেছিলেন, এই কিশোরটি আসলে ছাই চাপা আগুন। তিনি হ্যানিম্যানকে তার পরিবারের গৃহচিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ করলেন। 
এবার বোধহয় ভাগ্যের চাকা উল্টোদিকে ঘুরছে। ট্রানসিলভেনিয়ার সেই গভর্নরের বাড়িতে ছিল একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। অনেক মূল্যবান বই ছিল সেই লাইব্রেরিতে।
গভর্নর নিজেও ছিলেন শিক্ষানুরাগী। অন্যান্য প্রশাসকেরা যেমনটি হয়ে থাকেন, বিলাসী জীবনযাত্রার প্রতি সীমাহীন আগ্রহ থাকে তাদের - এই গভর্নর কিন্তু তেমন ছিলেন না।
হ্যানিম্যানের আগ্রহ লক্ষ্য করে তিনি অনুমতি দিলেন, যতক্ষন ইচ্ছে হ্যানিম্যান ওই লাইব্রেরি কক্ষে থাকতে পারেন। শুধু তাই নয়, সুবিশাল এই গ্রন্থাগারটির রক্ষনাবেক্ষনের সমস্ত দায়িত্ব হ্যানিম্যানের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ছোটো থেকেই পড়াশোনাকে ভীষণ ভালোবাসতেন হ্যানিম্যান। মূল্যবান বই কেনার পয়সা ছিল না তার। লাইব্রেরিতে সদস্য হবেন, এটাই ছিল দুরাশা। এতদিনে তার স্বপ্ন সফল হল। কিছু দিনের মধ্যেই তিনি বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রগতিশীল লেখকদের লেখার সাথে পরিচিত হয়ে উঠলেন। এমনকি গভীর অধ্যবসায়সহকারে চারটি ভাষা শিখে ফেললেন।
চিকিৎসাশাস্ত্রই ছিল তার আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। হ্যানিম্যান বিশ্বাস করতেন, এই বিদ্যা টিকে ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারলে আমরা আর্ত-নিপীড়িত মানুষের সেবা করতে পারি। কিছুদিন বাদে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। তিনি ঠিক করেছিলেন, নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করতে হবে, যা স্বল্প খরচে মনুষের রোগের উপশম করবে।
একদিন তিনি মনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলেন গভর্নর সাহেবের কাছে। হ্যানিম্যান ভেবেছিলেন, তার এই অদ্ভুদ ইচ্ছের কথা শুনে গভর্নর হয়তো রেগে যাবেন, হয়তো তাকে কাজ থেকে বরখাস্ত করবেন। কিন্তু শেষ অব্দি সেসব কিছুই হয়নি। বরং বিদ্যানুরাগী গভর্নর হ্যানিম্যানকে উৎসাহিত করলেন। যাতে তার প্রতিভা ঠিক মতো বিকশিত হতে পারে।
ধীরে ধীরে হ্যানিম্যানের সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানিত ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। এভাবেই তার প্রতিভাকে স্বীকার করে নেওয়া হয়। 
সারাজীবন ধরে হ্যানিম্যান নানা গবেষণা করে গেছেন। তার সবথেকে বড়ো কৃতিত্ব ' হোমিওপ্যাথি' নামে একটি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবন করা। অনেকে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ ঠিক মতো নিতে পারেন না। তাদের শরীরে নানা উপসর্গ দেখা যায়। এতদিন বাধ্য হয়ে তারা অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাকে গ্রহণ করতে বাধ্য হত। হ্যানিম্যানের আবিষ্কার তাদের নতুন পথের সন্ধান দিল।
হ্যানিম্যান তাদের বোঝালেন, দেহমনের অভ্যন্তরীন বৈকল্যই হল ব্যাধি। রোগের মূল ধরে চিকিৎসা করলে তবেই তার নিরাময় সম্ভব। হোমিওপ্যাথি সেই বিশৃঙ্খলাই সারিয়ে তোলে। তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে এসো। আমি তোমাদের রোগ সারিয়ে দেব। অথচ এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবে না।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অল্পদিনের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শেষ জীবনে হ্যানিম্যান নিজেও একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। জীবদ্দশাতেই তিনি দেখেছিলেন, হোমিওপ্যাথির অসাধারন জনপ্রিয়তা।
শেষ অব্দি ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দের ২রা জুলাই অষ্টআশি বছর বয়সে হ্যানিম্যান হয়ে গেলেন দূর আকাশের তারা। আজও তার প্রবর্তিত চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের মধ্যে সমান উৎসাহের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে। দুঃস্থ আতুর ব্যক্তিদের মধ্যে এই পদ্ধতি যাতে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সেজন্য সরকারি তরফে কিছু ইতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবেই হ্যানিম্যানের আবিষ্কারের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান জানানো হবে।
চরম দারিদ্রতা থেকে কীভাবে হোমিওপ্যাথীর জনক হলেন হ্যানিম্যান চরম দারিদ্রতা থেকে কীভাবে হোমিওপ্যাথীর জনক হলেন  হ্যানিম্যান Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 16, 2019 Rating: 5

মাসে ৩৫ নয় ১৬ টাকাতেই পাবেন ২৮ দিন ভালিডিটি কীভাবে করবেন জেনে নিন

February 13, 2019

সম্প্রতি জিও বাদে ভারতের সমস্ত টেলিকম কোম্পানির গ্রাহক-প্রতি গড় আয় কমেছে অনেকটাই । এর অন্যতম কারন , গ্রাহকের প্রায় প্রত্যেকেই ডুয়াল সিম ব্যবহার করেন । একটি সিম রিচার্জ করালেও বেশিরভাগ গ্রাহক ২য় সিম দীর্ঘদিন রিচার্জ না করেই ইনকামিং কলের সুবিধা নেন। এর ফলেই কোম্পানিরই গ্রাহক প্রতি আয় কমেছে। সেই আয়ে জোয়ার আনতে এয়ারটেল প্রথমে এনেছিল ৩৫ টাকার রিচার্জ প্ল্যান , তারপর আনলো নতুন ২৩ টাকার প্ল্যান । এয়ারটেল প্রিপেড গ্রাহকরা ২৩ টাকা রিচার্জে ২৮ দিন ভ্যালিডিটি পাবেন। তবে এই প্ল্যানে কোন টকটাইম বা ডাটা পাওয়া যায় না। শুধুই ভ্যালিডিটি মিলবে এই রিচার্জে। এর পরে কল ও ডাটা ব্যবহারের জন্য আলাদা করে রিচার্জ করতে হয় । ২৩ টাকা রিচার্জ করলে লোকাল ও ন্যাশানাল কল করতে প্রতি সেকেন্ডে খরচ হবে ২.৫ পয়সা। লোকাল এসএমএস করতে ১ টাকা ও ন্যাশানাল এসএমএস করতে খরচ হবে ১.৫ টাকা। তবে বেশিরভাগ গ্রাহক শুধুমাত্র সিম-টিকে চালু রাখতে চান । কল ও মেসেজ করার জন্য সবারই একটি মেইন সিম থাকে । দ্বিতীয় সিমটি চালু রাখতে অন্তত ২৩ টাকা রিচার্জ করতেই হয় ।  
এই সমস্যা সমাধানে আমাদের টিম একটি পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছে যাতে আপনি মাত্র ১৬ টাকার বিনিময়ে সারা মাস ফোনে ইনকামিং চালু রাখতে পারবেন । কীভাবে করবেন স্টেপ বাই স্টেপ শিখে নিন । 
আপনারা জানেন এয়ারটেল ২৩ টাকা রিচার্জ প্ল্যানের আগে জানিয়েছিল সবাইকে ৩৫ টাকা বাধ্যতামূলক রিচার্জ  করাতে হবে । এই ৩৫ টাকা রিচার্জে এয়ারটেল দেয় ২৬.৬০ টাকা টকটাইম ও ১০০ মেগবাইট ইন্টারনেট ডেটা । এছাড়াও কল চার্জ ১পয়সা/সেকেন্ড ।
প্রথমে আপনাকে আপনার সিমে এই ৩৫ টাকা রিচার্জ করাতে হবে । ৩৫ টাকা রিচার্জ করানোর ফলে আপনি ১ মাস ভ্যালিডিটি পাবেন । নির্দিষ্ট সিমটি থেকে যদি কল করার দরকার না পড়ে তাহলে আপনার ২৬.৬০ টাকা টকটাইম বেঁচে থাকবে । মাস ( ২৮ দিন ) শেষ হলে আপনি নতুন করে রিচার্জ করাবেন না । এর ফলে কোম্পানী হয়ত এক/ দুইদিন আপনাকে কল করবে রিচার্জ করানোর জন্য । আপনি রিচার্জ না করালে মেন ব্যালান্স অর্থাৎ ২৬.৬০ টাকা থেকে ২৩ টাকা কেটে নিয়ে পরবর্তী ২৮ দিনের ভ্যালিডিটি বাড়িয়ে দেবে । তাহলে ৩৫ টাকা রিচার্জ করে আপনার ২ মাস ভ্যালিডিটি পাওয়া হয়ে গেল । খরচ হল ১৭ টাকা ৫০ পয়সা / প্রতি মাস । এছাড়াও মেন ব্যালেন্সে ৩.৬০ টাকা বাকি থেকে যাবে যা জমতে থাকবে । দুই মাস শেষ হলে আবার একবার ৩৫ টাকা রিচার্জ করাবেন । একই সূত্রে  আবার দুই মাস ভ্যালিডিটি পাবেন আর ৩.৬০ টাকা জমতে জমতে সপ্তম মাসে তা ২৫.২০ টাকা হয়ে যাবে , তখন এই টাকা দিয়ে একমাসের ভ্যালিডিটি  বাড়িয়ে নিতে পারবেন ।
অপারেটারদের বছর তো ১৩ মাসে হয় । কারন  রিচার্জের ভ্যালিডিটি ২৮ দিন করে । এবং ২৮x১৩= ৩৬৪ দিন। তাহলে ১৩ মাসের এই বছরে মাত্র ৬ বার আপনি ৩৫ টাকা রিচার্জ করালে ১২ মাসের ভ্যালিডিটি পেয়ে যাচ্ছেন , সাথে অল্প অল্প করে টাকা জমে একমাস ফ্রী হয়ে যাবে অর্থাৎ ১৩ মাসে মাত্র ৬ বার রিচার্জ । সারা বছরে মোট রিচার্জ এর পরিমান দাড়ালো ২১০ টাকা । অর্থাৎ মাসে গড়ে ১৬ টাকা ১৫ পয়সা খরচ । 
আপনি যদি উক্ত সিম থেকে কল বা মেসেজ না করেন তবেই এই ফর্মুলা কাজে লাগবে । 
পদ্ধতিটি ভালো লাগলে এই তথ্যটি শেয়ার করুন । অনেক মানুষ নিশ্চিতভাবে উপকৃত হবেন । নীচের Whatsapp / Facebook  আইকনে ক্লিক করে শেয়ার করতে পারেন । 

মাসে ৩৫ নয় ১৬ টাকাতেই পাবেন ২৮ দিন ভালিডিটি কীভাবে করবেন জেনে নিন মাসে ৩৫ নয় ১৬ টাকাতেই পাবেন ২৮ দিন ভালিডিটি কীভাবে করবেন জেনে নিন  Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 13, 2019 Rating: 5

মুদি দোকানদারের ' কাঁদুনে ' ছেলেই হয়ে উঠল জগতসেরা বিজ্ঞানী - মেঘনাদ সাহা

February 12, 2019
মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩ খ্রি. - ১৯৫৬ খ্রি.)


বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জেলার একটি গ্রাম। ঢাকা শহর থেকে গ্রামটির দূরত্ব প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার। দক্ষিণ থেকে উত্তরে আঁকাবাঁকা পথে এগিয়ে গেছে এক ছোট্ট নদী। তার ধার ঘেঁষে গ্রামটি গড়ে উঠেছে।
বর্ষার সময় দুকূল প্লাবিত হয়। জলমগ্ন হয় পথঘাট। তখন নৌকো চেপে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয়। গ্রামটির নাম শেওড়াতলি। আজ থেকে ১১২ বছর আগে এই গ্রামে জন্মেছিলেন মেঘনাদ সাহা। তাঁর জন্মতারিখটি হল ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ৬ই অক্টোবর। তাঁদের বাবার নাম জগন্নাথ সাহা ও মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। পাঁচ কন্যা ও তিন পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম সন্তান। পুত্রদের মধ্যে তৃতীয়।
অশ্বিনের এক ঝড়ের রাতে মেঘনাদের জন্ম হয়েছিল। ঝরজঞ্ঝার মধ্যে জন্ম বলে ঠাকুমা বরুন দেবতাকে স্মরণ করে নাতির নামকরণ করেছিলেন 'মেঘনাদ'। পরবর্তীকালে মেঘনাদ নিজের নামের শেষ অক্ষরটি পাল্টে ছিলেন। সম্ভবত মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত 'মেঘনাদবধ' কাব্য তাঁকে প্রভাবিত করে থাকবে।
জগন্নাথের ছিল মুদির দোকান। দোকানের আয় থেকে এত বড় পরিবারটি সচ্ছলভাবে চলত না। জগন্নাথ ও তাঁর স্ত্রী ভুবনেশ্বরী দেবী উভয়ই ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী। ছেলেমেয়েদের বড়ো করে তোলায় তাঁদের ত্যাগ ছিল অসামান্য।
জগন্নাথ ছিলেন রুক্ষ মেজাজের মানুষ। তুলনায় মা ছিলেন শান্ত, স্থির এবং বুদ্ধিমতী। দারিদ্র্যের সঙ্গে তাঁকে নিরন্তর সংগ্রাম করতে হত। তবুও তাঁর সুনিপুন গৃহিনীপনায় মাটির বাড়িটিতে ছিল শ্রী এবং সুললিত শান্তি।
মায়ের সঙ্গে মেঘনাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। মায়ের বাক্য তিনি বেদবাক্য হিসেবে মানতেন। ছোটবেলায় কোনো একটি কারণে মা তাঁকে পূর্বদিকের জানালাটি খুলে রেখে শুতে বারন করেছিলেন। সেই নিষেধাঞ্জাটি তিনি সারাজীবন মনে রেখেছিলেন। যুক্তিবাদী মানুষদের এই সারল্য লক্ষ্য করার মতো।
মেঘনাদ ছিলেন সুস্থ সবল শিশু। ছোটবেলায় তিনি পাল্লা দিয়ে সাঁতার কাটাতেন, নৌকা চালাতেন, যখন-তখন বন্ধুদের সঙ্গে হই-হুল্লোড়ে মেতে উঠতেন।
সেখানকার পরিবেশ শিক্ষার অনুকূল ছিল না। জগন্নাথ তাঁর বড়ো ছেলে জয়নাথকে ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বড়ো ছেলে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। তাই জগন্নাথ ভেবেছিলেন অন্য ছেলেদের আর লেখাপড়া শেখাবেন না। বড়ো হলেই তাদের মুদিখানায় বসিয়ে দেবেন। 
সেইমতো বর্ণপরিচয় এর পাঠ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘনাদকে দোকানে বসতে হয়েছিল। এছাড়া তিনদিন তাঁকে বিভিন্ন বাজারে জিনিসপত্র বিক্রি করতে যেতে হত। বাবাও সঙ্গে থাকতেন। মাথায় ছাতা, সঙ্গে খাবারদাবার, হাতে বই নিয়ে মেঘনাদ চলছেন দোকান দেখতে, এই ছিল শেওরাতলি গ্রামের অতি পরিচিত দৃশ্য।
তাসত্ত্বেও সাত বছর বয়সে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন মেঘনাদ। সেখানকার শিক্ষকদের মধ্যে শশীভূষণ চক্রবর্তী এবং যতীন চক্রবর্তীর নাম করা যায়। তাঁরা মেঘনাদের অসাধারন স্মৃতিশক্তি এবং মেধার পরিচয় পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ! মেঘনাদ সব বিষয়ে তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করতেন। যা শিখতেন তা ভুলতেন না। যাতে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন সে-বিষয়ে শিক্ষকদের বিশেষ আগ্রহ ছিল।
খুব ভোরে উঠে মেঘনাদ পড়তে বসতেন। শৈশবের এই অভ্যাস পরিনত বয়স পর্যন্ত বজায় রেখেছিলেন তিনি। যদি কোনোদিন ঘুম ভাঙতে দেরি হত তাহলে মায়ের আঁচল ধরে কাঁদতে বসতেন। স্লেট, পেন্সিল বা বই না পেলেও একই অবস্থা। আঞ্চলিক ভাষায় তাই মেঘনাদকে 'কাঁদুনে' বলে ডাকা হত।
প্রাইমারি স্কুলের পড়া শেষ হয়ে গেল। শিক্ষকেরা এলেন তাঁর বাবার কাছে। মেঘনাদকে হাইস্কুলে ভর্তি করতে হবে। শেওরাতলি গ্রামে হাইস্কুলের ব্যবস্থা নেই। এদিকে দূরে কোথাও ছেলেকে রেখে পড়াবার মতো আর্থিক সঙ্গতি ছিল না বাবা জগন্নাথের। শেষ অবধি বড়দা জয়নাথ এগিয়ে এলেন। তিনি বাবাকে রাজি করলেন।
সেসময় ঢাকা জেলার দক্ষিণ দিকে উচ্চশিক্ষার ইংরাজি বিদ্যালয় ছিল। শিমুলিয়াতে ছিল একটি মিডল ইংরাজি বিদ্যালয়। সেখানেই মেঘনাদকে ভর্তি করা হল। থাকতেন তিনি এক ডাক্তারের বাড়িতে। বিনা ব্যয়ে খাওয়াদাওয়া জুটত। অবশ্য শর্ত ছিল এরজন্য তাঁকে গৃহকর্মে সাহায্য করতে হবে।
শুরু হল মেঘনাদের কঠিন কঠোর জীবনযাত্রা। স্কুল থেকে ফিরে এসে অনেক কাজ করতে হত তাঁকে। এঁটো বাসন মাজতে হত, ঘর পরিষ্কার করতে হত। তবুও কেউ তাঁকে সংকল্প থেকে টলাতে পারেনি।
পরবর্তীকালে তিনি বার বার সেই দিনগুলোর কথা মনে করছেন। তিনি বলেছেন 'ছাত্রজীবনের সূচনায় এই সাহায্য না পেলে তিনি কখনোই বড়ো বিজ্ঞানী হতে পারতেন না।'
শিমুলিয়াতে শ্যামাপ্রসাদ মিডল হাইস্কুলে পড়তেন মেঘনাদ। এখানে তিনি কয়েকজন আদর্শ শিক্ষকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে গণিত শিক্ষক প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তীর নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
সপ্তাহের শেষে সাত মাইল পথ হেঁটে বাড়িতে যেতেন। এই অভ্যাস তিনি জীবনের শেষদিন অব্দি বজায় রেখেছিলেন।
ঢাকা জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম বৃত্তিসহ মিডল স্কুল থেকে পাশ করলেন - ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে। ভর্তি হলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে। বৃত্তির পরিমান ছিল মাসে চার টাকা। এছাড়া দাদা দিতেন পাঁচ টাকা এবং ঢাকার বৈশ্য সমিতি দিত দুটাকা। এই এগারো টাকা দিয়ে তাঁকে সারা মাসের থেকে ও খাওয়া চালাতো হত।
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এসে মেঘনাদ বৃহত্তর পটভূমির মধ্যে পড়লেন। নানা ধরনের বিদগধ মানুষের সংস্পর্শে এলেন। এখানে সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিতের অধ্যাপক নিখিলরঞ্জন সেনকে।
যে বছর তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন সে বছরই কার্জনের নির্দেশে বাংলাদেশকে দ্বিখন্ডিত করা হয়। বঙ্গভঙ্গের এই নির্দেশে বাংলাদেশকে দ্বিখন্ডিত করা হয়। বঙ্গভঙ্গের এই নির্দেশের প্রতিবাদে সারা দেশে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল। দেখতে দেখতে শিমুলিয়ার মতো সুদূর গ্রামাঞ্চলেও সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ল।
একদিন ছোটলাট ফুলার এলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে। ছেলেরা ঠিক করেছিলেন তাঁরা ক্লাস বয়কট করবেন। মেঘনাদও এই আন্দোলনে সামিল হলেন। অবশ্য এই বয়কটের ফল ভালো হয়নি। তাঁকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা হল। স্কলারশিপও বন্ধ হয়ে গেল।
এবার তিনি ভর্তি হলেন কিশোরীলাল জুবিলি স্কুলে। এটি একটি প্রাইভেট স্কুল। এরই পাশাপাশি তিনি ঢাকায় ব্যাপটিস্ট মিশনের বাইবেল ক্লাসে যোগ দিয়েছিলেন। সারা বাংলার সমস্ত শ্রেণীর ছাত্রদের মধ্যে সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তিনি প্রথম হলেন। পুরস্কার স্বরূপ, একটা বড়ো আকারের মুদ্রিত বাইবেল পেলেন। পেলেন নগদ একশো টাকা পুরস্কার।
ছুটি পেলেই তিনি চলে আসতেন গ্রামের বাড়িতে। সহজ গ্রাম্যজীবন এবং গ্রাম্য পরিবেশের মধ্যেই তাঁর শৈশব এবং কৈশোরের দিনগুলি কেটে যায়। বাড়িতে এসে হা-ডু-ডু খেলতেন, নৌকা বাইতেন, সাঁতারে গা ভাসিয়ে সময় কাটাতেন। গৃহস্থালির কাজে সাহায্য করতেন জগন্নাথকে। বাড়ির গোরুগুলিকে মাঠে চড়ানো এবং নদীতে স্নান করানোর কাজে বাবার সঙ্গে থাকতেন। সন্ধ্যের পর ছোটো ভাইদের পড়াতেন।
১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি পূর্ববঙ্গের সমস্ত স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে প্রথম হয়ে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। গণিত, ইংরাজি, বাংলা ও সংস্কৃতে মিলিতভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। স্কুল জীবনে প্রবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত তাঁর ওপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর অসাধারন ব্যুৎপত্তি ছিল। পঞ্জিকা এবং গণিত শাস্ত্রেও তিনি ছিলেন পারদর্শী।
স্কুলে মেঘনাদের ভালো লাগত গণিত এবং ইতিহাস। উৎসাহের সঙ্গে পড়তেন টডের রাজস্থানের কাহিনী। রাজপুত ও মারাঠা যোদ্ধাদের ইতিহাসও তাঁকে বার বার উদবুদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কথা ও কাহিনী' এবং মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' ছিল তাঁর প্রিয় গ্রন্থ।
ভারতীয় যোদ্ধাদের ভুমিকাতেও তিনি অনুপ্রাণিত হতেন, একাত্মবোধ করতেন এইসব আদর্শ চরিত্রের সঙ্গে।
স্কুলের পাঠ শেষ করে তিনি এলেন ঢাকা কলেজে। ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হলেন। তখন রসায়ন পড়াতেন অধ্যাপক ই. সি. ওয়াটসন সাহেব। ইংরাজি পড়াতেন অধ্যক্ষ ডব্লু জি. এ. আর্চপল, পদার্থবিদ্যায় ছিলেন বি এন দাস, গণিতে নরেশচন্দ্র বোস এবং কে পি বোস। এছাড়া মেঘনাদ জার্মান ভাষা শিক্ষা নিতেন অধ্যাপক নরেন্দ্রনাথ সেনের কাছে। এটি ছিল তাঁর অ্যাডিশনাল সাবজেক্ট বা চতুর্থ বিষয়।
ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার আগে মেঘনাদ ভয়ানক বিপদে পড়েছিলেন। ফি-র জন্য যে টাকা জোগাড় করেছিলেন, টেস্ট পরীক্ষার আগে সেই টাকা বালিশের তলা থেকে চুরি হয়ে যায়। পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসছে, ফি কি করে জমা দেবেন? শেষ অবধি মায়ের অবশিষ্ট সোনার গয়না বন্ধক দিয়ে মেঘনাদের পরীক্ষার ফি সংগৃহিত হয়। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষাতে তিনি তৃতীয় হয়েছিলেন। জার্মান ভাষায় আশানুরূপ ফল না হওয়াতে তিনি প্রথম হতে পারেননি। তবে এই ভাষা শিক্ষা ভবিষ্যৎ জীবনে তাঁর কাজে এসেছিল।
রসায়ন এবং অঙ্কে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। এবার তাঁকে ডাক দিয়েছে মহানগরী কলকাতা। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে তিনি গণিতে অনার্স নিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে বি এস সি ক্লাসে ভর্তি হলেন। এর সঙ্গে ছিল পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন। বৃত্তির টাকাই তখন তাঁর একমাত্র সম্বল ছিল। আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য একেবারেই ছিল না। এভাবেই তাঁর ছাত্রজীবন অতিবাহিত হয়।
প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি যে অধ্যাপকমন্ডলী পেয়েছিলেন তা তাঁকে উদ্দীপ্ত করেছিল। পেয়েছিলেন একাধিক কৃতী ছাত্রকে সহপাঠী হিসেবে। পরিচয় হয়েছিল অনেকের সঙ্গে। ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও অন্যান্যরা।
প্রেসিডেন্সিতে পদার্থবিদ্যা পড়াতেন অধ্যাপক জগদীশচন্দ্র বসু, রসায়নে প্রফুল্লচন্দ্র রায়, গণিতে অধ্যাপক ডি এন মল্লিক এবং সি ভি কালিশ।
পড়াশোনাতে পাশাপাশি সামাজিক কাজেও মেঘনাদ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে দামোদরে প্রবল বন্যা হয়েছিল। প্রফুল্লচন্দ্র তাঁর ছাত্রদের নিয়ে ত্রাণকার্য শুরু করলেন। এই প্রথম বন্যার ক্ষয়ক্ষতি চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করলেন মেঘনাদ। তিনি বহুদিন গ্রামে থেকে বন্যার্তদের সাহায্য করেছিলেন।
প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হবার পর তিনি দুবছর হিন্দু হোস্টেলে কাটিয়েছিলেন। এরপর মেসে চলে আসেন। ১৯১৩ সালে তিনি প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেন। প্রথম হয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ।
এরপর ফলিত গণিতে এম এস সি ক্লাসে ভর্তি হলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। সেই পরীক্ষাতেও সত্যেন্দ্রনাথ প্রথম হন, তিনি হলেন দ্বিতীয়।
এবার তাকে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে হবে। একসময় ভেবেছিলেন ভারতীয় ফাইন্যান্সের পরীক্ষায় বসবেন। কিন্তু এই পরীক্ষায় বসার অনুমতি তিনি পেলেন না। বলা হল, তাঁর সঙ্গে বিপ্লবীদের যোগাযোগ আছে। তাই তাকে এই উঁচু পদে কখনোই বসানো যাবে না।
হয়তো ভালোই হল, তা নাহলে আমরা এক দক্ষ প্রশাসক মেঘনাদকে পেতাম, বিজ্ঞানী মেঘনাদ কোথায় হারিয়ে যেতেন।
এর পরে পরেই আমরা অধ্যাপক হিসেবে মেঘনাদকে দেখতে পেলাম। তখন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। মেঘনাদ যোগ দিলেন সেখানে। শুরু হল বৃহত্তর অঙ্গনে তার উৎসাহী পদক্ষেপ।
এই হলেন মেঘনাদ সাহা। সারা জীবন তিনি বিজ্ঞানসাধক হিসেবেই কাটিয়ে দিলেন। বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণা করেছেন। গবেষণা করেছেন জাতীয় সময় পঞ্জিকা নিয়ে। নদীকেন্দ্রিক ভারতবর্ষের চেহারা কেমন হবে তা নির্ধারিত করেছেন। শেষ অব্দি রাজনীতির আবর্তে জড়িয়ে পড়েন। সংসদ হয়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন লোকসভাতে। তার ভাষণ শুনে বিরোধী পক্ষের লোকেরা অবাক হয়ে যেতেন।
পদার্থ বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা সমীকরণ নামে একটি মূল্যবান সূত্র আবিষ্কার করেন। এই সূত্র থেকে বিভিন্ন চাপে এবং উষ্ণতায় কোনো পদার্থের আয়তনের মাত্রা কত হবে সেটা জানা যায়। তার রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ' দি প্রিন্সিপাল অব রিলেটিভিটি', 'ত্রিটাইজ অন মর্ডান ফিজিক্স', 'জুনিয়র টেক্সট বুক অব হিট উইথ মেটিওরোলজি'।
১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ১৬ই ফেব্রুয়ারি তারিখে দিল্লিতে প্ল্যানিং কমিশনের সভায় যোগদান করতে যাওয়ার সময় এই মহান বিজ্ঞানীর আকস্মিক জীবনাপাত হয়।



ভালো জিনিস শেয়ার করে খুব কম লোক , বাঙালীর গর্ব মেঘনাদ সাহা । তাঁর জীবনী শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন । 
মুদি দোকানদারের ' কাঁদুনে ' ছেলেই হয়ে উঠল জগতসেরা বিজ্ঞানী - মেঘনাদ সাহা মুদি দোকানদারের ' কাঁদুনে ' ছেলেই হয়ে উঠল জগতসেরা বিজ্ঞানী - মেঘনাদ সাহা Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 12, 2019 Rating: 5

কীভাবে Meesho অ্যাপ থেকে মাসে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন ভারতীয় গৃহবধূরা ?

February 01, 2019
অনলাইন শপিং বিসনেসে এক্কেবারে নতুন একধরনের স্টাইল এনে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপকার করছে Meesho অ্যাপ । অফটাইমে সামান্য সময় দিয়ে প্রোডাক্ট রিসেল এর এত সহজ পদ্ধতি আগে কোনো অ্যাপে দেখা যায়নি । আসুন জেনে নি কীভাবে ভারতীয় গৃহবধূ ও কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা সামান্য সময় দিয়ে হাত খরচের থেকেও বেশি টাকা আয় করে নিতে সমর্থ হয়েছে । 

Meesho- অ্যাপ কি ? 
Meesho এমন একটি অ্যাপ যেখানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যাবসায়ীরা তাদের তৈরি করা প্রোডাক্ট রিটেল প্রাইসে আপলোড করে দিচ্ছে । কোনো মডেলকে দিয়ে ছবি তোলালে খরচ বাড়ে বলে মডেল ছাড়া , জামা কাপড় , জুতো , গয়না - এমন বহু প্রোডাক্টের ছবি তুলে মিনিমাম লাভ রেখে একটা দাম ঠিক করে অনলাইনে Meesho অ্যাপে আপলোড করছেন সেলার রা । 

Meesho অ্যাপে আমরা কীভাবে আয় করবো ? 
- আমরা যারা দিনের অনেকটা সময় ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে সময় কাটাই তাদের জন্য Meesho দুর্দান্ত একটা সিস্টেম তৈরি করেছে । Meesho অ্যাপের যেকোনো প্রোডাক্ট আপনি নিজের পরিচিত সার্কেলে বেচতে পারেন Meesho-এর ব্র্যান্ডিং ছাড়াই । প্রতিটা বিক্রির উপর আপনি নিজের ইচ্ছামত কমিশন ঠিক করে নিতে পারবেন । আপনি ছবি দেখিয়ে প্রোডাক্ট বিক্রি করলে , সেই প্রোডাক্ট সঠিক জায়গায় পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে  Meesho অ্যাপ ।  সেই প্রোডাক্ট বিক্রি করার সময় বিল করা হবে ক্রেতার নামে এবং বিলে দেওয়া থাকবে আপনার ধার্য করা দাম এবং বিক্রেতার জায়গায় দেওয়া থাকবে আপনার ঠিক করে দেওয়া নাম । ঠিক যেন আপনার দোকান থেকেই আপনি পাঠিয়েছেন প্রোডাক্টটি  । [ বিস্তারিত টিউটোরিয়াল নীচে দেওয়া হল ] 

Meesho অ্যাপ টা কি লিগাল ? 
Meesho অ্যাপের প্রতিটি প্রোডাক্ট সেল হবে জিএসটি বিলের মাধ্যমে । আপনি তাদের জন্য কাস্টমার খুঁজে দেবেন আর তার বদলে আপনি বিক্রি প্রতি কমিশন পাবেন । সম্পূর্ণটা লিগাল এবং আপনার বাৎসরিক আয় সীমা পার করলে আপনাকে ট্যাক্স দিতে হবে । 

একবার বিক্রি করার পর লোকে জেনে যাবে Meesho অ্যাপ থেকে বিক্রি করেছি , তখন নিজেই কিনে নেবে না ? 
Meesho তাদের বিল বা প্রোডাক্টের প্যাকেটে Meesho-ব্র্যান্ডিং রাখবে না , আপনার নাম / আপনার দোকানের নাম লেখা থাকবে । ক্রেতা জানতে পারবে না সে Meesho থেকে কিনেছে । 

Meesho-তে কতগুলো প্রোডাক্ট আছে ? কোনগুলো বেচতে পারবো ?
Meeshoতে লক্ষাধিক প্রোডাক্ট আছে , যে কোনো প্রোডাক্ট আপনি বেচতে পারবেন । 



Meesho-অ্যাপ কীভাবে টাকা আয় করছে ? 
Meesho অ্যাপ সেলার দের কাছ থেকে প্রোডাক্ট লিস্টিং করার জন্য কোনো টাকা নিচ্ছে না । কোনো প্রোডাক্ট বিক্রি হলে একটা মিনিমাম টাকা সেল প্রতি নিয়ে নিচ্ছে Meesho । এতেই অনেক টাকা দৈনিক আয় করছে সংস্থা  । 

কোনো প্রোডাক্ট বিক্রিতে কত টাকা লাভ হবে ?
- সেটা আপনার উপর নির্ভর করছে , Meesho অ্যাপ কোনো প্রোডাক্টের যে দাম দেখাচ্ছে সেটা Meesho-নিয়ে নেবে । এর উপরে আপনি যত ইচ্ছা বাড়িয়ে দাম ধার্য করতে পারেন । কিন্তু বুঝে শুনে করতে হবে । 

কাদের কাছে বিক্রি করবো ?
- আপনার বন্ধু , আত্মীয় , বন্ধুর বন্ধু , আত্মীয়ের আত্মীয় , ফেসবুক ফ্রেন্ড - এরা সবাই আপনার পোটেনশিয়াল কাস্টমার । যে কোনো প্রোডাক্টের ছবি এনাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন । 

পদ্ধতিটা কি একটু শিখিয়ে দিন - 

স্টেপ ১ঃ প্রথমে এখানে ক্লিক করে Meesho অ্যাপ ডাউনলোড করে নিন । এরপর ফোন নাম্বার দিয়ে রেজিস্টার করে নেবেন 
স্টেপ ২ ঃ অনেক প্রোডাক্টের মধ্যে ভালো রিভিউ আছে এমন প্রোডাক্ট পছন্দ করুন । দেখে নেবেন দাম কত ও শিপিং চার্জ আছে কিনা । 


যেমন ধরুন আমি এই কুর্তি-প্লাজোর সেটটি বিক্রি করবো ঠিক করেছি । দাম ১১২০ টাকা , শিপিং ফ্রী । এখন আমি এটা শেয়ার করলাম হোয়াটসঅ্যাপএর মাধ্যমে । শুধু ছবি শেয়ার হবে । ১০০ জন ফেসবুক ফ্রেন্ডের সাথে শেয়ার করলে ২/৩ জন দাম জানতে চাইবে । ধরুন আমি লিখলাম ১৩০০ টাকা । ৩ জনের মধ্যে একজন কিনতে চাইলো । তাহলে আপনি তার ফোন নাম্বার , ঠিকানা , এবং কোন সাইজের লাগবে সেটা জেনে নিলেন । এবার Meesho অ্যাপে এসে অর্ডার দেওয়ার পালা । 


স্টেপ ৩ ঃ ক্রেতার পছন্দের প্রোডাক্টটি " Add to Cart " করতে হবে । এরপর  সাইজ ও কোয়ান্টিটী দিয়ে " Done "   করুন । 


স্টেপ ৪ ঃ ক্যাশ অন ডেলিভারী মেথড সিলেক্ট করুন । এর ফলে আপনার টাকা লস হওয়ার সম্ভাবনা নেই । ক্রেতা প্রোডাক্টটি না নিলেও আপনার কোনো ক্ষতি নেই । 

স্টেপ ৫ ঃ  " PROCEED " এ ক্লিক করুন 


স্টেপ ৬ ঃ কার ঠিকানায় ডেলিভারী হবে সেটা সিলেক্ট করুন 

উদাহরন হিসাবে এটা দিয়েছি >>  " PROCEED " এ ক্লিক করুন 


স্টেপ ৭ ঃ বিক্রেতা হিসাবে কার নাম হবে সেটা সিলেক্ট করুন , এটাই বিলে ছাপা হবে । 

 " PROCEED " এ ক্লিক করুন 


ফাইনালি সিলেক্ট করুন কত টাকায় বেচতে চাইছেন । আপনার লাভ কত সেটা দেখিয়ে দেবে অ্যাপ । ৭ থেকে ১০ দিনের ভিতর প্রোডাক্টটি ডেলিভারড হয়ে গেলে আপনার কমিশন আপনার ব্যাঙ্ক আকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে মিশো । 



আপনার যদি ১ হাজার অনলাইন ফ্রেন্ড থাকে এবং দিনে মাত্র ৪ টি করে প্রোডাক্ট বেচতে পারেন তাহলে অনায়াসে মাসে ১৬০০০ - ২০০০০ টাকা আয় করা যায় । আর প্রতি সপ্তাহে সেল-এর উপর থাকে মিসোর তরফ থেকে নগদ পুরষ্কার । এছাড়াও মিসো থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অফার থাকে । যেমন আমাদের ওয়েবসাইটের পাঠকদের জন্য  অফার ঃ 
আপনাদের প্রথম কেনাকাটায় পাবেন ১৫০ টাকা ছাড়  । 
 ডাউনলোড করতে এই লিঙ্ক বা নীচের ছবিতে বা উপরের যেকোনো লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন । 




কোনো সমস্যা হলে বা কোনো জায়গায় বুঝতে না পারলে কমেন্ট করে জানান আমরা অবশ্যই হেল্প করবো । 




হয়তো এই লেখাটি থেকে MEESO বিজেনেস শিখে কেউ তার দারিদ্র কাটিয়ে উঠতে পারে , তাই খুব সমস্যা না হলে একবার শেয়ার করবেন প্লীজ ।

কীভাবে Meesho অ্যাপ থেকে মাসে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন ভারতীয় গৃহবধূরা ? কীভাবে Meesho অ্যাপ থেকে মাসে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন ভারতীয় গৃহবধূরা ? Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 01, 2019 Rating: 5

ঘুরে আসুন, সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর ভারতের এই পার্বত্য অঞ্চলে

January 22, 2019
উত্তরাখন্ডের কৌশানি , আলমোড়া থেকে ৫২ কিমি উত্তরে ৬২০০ ফুট উচ্চতায় পাইনে ছাওয়া অপরূপ কৌশানি। মহাত্মা গান্ধী এখানকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর এই কৌশানি। ধুলো-ধোঁয়ার শহুরে জীবন থেকে পালিয়ে নির্মল প্রকৃতির কোলে কয়েকের মুক্তির আস্বাদ পেতে আদর্শ স্থান এই কৌশানি। পাইন গাছের ফাঁকে ফাঁকে চোখে পড়ে হিমালয়ের রুপালি রেখা। আবহাওয়া ভাল থাকলে, মেঘমুক্ত দিনে দেখা যায় প্রায় ৩০০ কিমি ব্যপ্ত হিমালয়ের তুষারাবৃত পর্বতমালার অপরূপ শোভা। চৌখাম্বা-নীলকণ্ঠ-নন্দাঘুস্টি-নন্দাদেবী-ত্রীশুল-নন্দাকোট-পঞ্চচুল্লি প্রভৃতি শৃঙ্গের মাথায় সূর্যের আলোয় প্রতিফলিত হয় বিচিত্র আভা। ভোরের সূর্যদয়ের চেয়ে কৌশানির সূর্যাস্তের সৌন্দর্য অতুলনীয়। দিনান্তের শেষে আলোর আভায় সৃষ্টি হয় আক মায়াময় জগৎ । সূর্যাস্তের মুহূর্তে শুরু হয় রঙের খেলা। একেক রঙের আবরণ রাঙিয়ে দিয়ে যায় সমস্ত পর্বতমালা---সোনালী থেকে কমলা, তার থেকে নীলাভ। সবশেষে যেন সোনা ঝরা রঙ। মনে হয় কে যেন শাঁকের প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজা করছে পরমা প্রকৃতির। তারপর অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায় সব কিছু। এখানে বেড়াবার সবচেয়ে ভাল সময় মার্চ থেকে মে, সেপ্টেম্বর নভেম্বর। শীতের সময় প্রবল ঠাণ্ডা।

কৌশানিতে প্রবেশ পথেই রয়েছে নটরাজের বিশাল মূর্তি, একটু এগিয়ে কালি মন্দির ও সোমেশ্বর মন্দির। অনাশক্তি আশ্রম বা গান্ধী আশ্রম টি মনোরম। এখান থেকে চারপাশের অপরুপ শোভা ফুতে উঠেছে। আশ্রমের ধ্যান গম্ভির পরিবেশ ও মনকে আবিষ্ট করে। ১৯২৯ সালে এখানে ১২ দিন ছিলেন গান্ধীজী। আশ্রম প্রাঙ্গনে বসেই রচনা করেন গীতার অনাসক্তি। প্রার্থনার সময় ভোর ৫টা ও সন্ধ্যা ৬টা। গান্ধীজীর শিস্য সরলা বেনের তৈরি কস্তুরবা গান্ধী আশ্রমটিও সুন্দর। ১৯৬৪ সালে তৈরি এই আশ্রমটি লক্ষ্মী আশ্রম নামেও পরিচিত। এখানকার মেয়েদের তৈরি হস্তশিল্পজাত দ্রব্যের প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখা যায়। খোলা থাকে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। 

হিন্দি সাহিত্যিক মহান কবি সুমিত্রানন্দন পন্থের জন্মভূমি কৌশানি। তার বহু রচনায় ফুটে উঠেছে সংগ্রহশালা। খোলা থাকে সকাল ১০.৩০ থেকে বিকাল ৪.৩০ পর্যন্ত, সোমবার বন্ধ। হাতে সময় থাকলে ঘুরে নেওয়া যায় কৌশানি চা বাগান। পিঙ্গালকোট এই বাগানটি প্রায় ২০৮ বর্গ কিমি ব্যাপ্ত। এই বাগানের চা রফতানি হয় আমেরিকা  ইউরোপে। দাম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। ঘুরে দেখার সময় সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ট পর্যন্ত, দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।।

কৌশানি থেকে মাত্র ৫ কিমি হাটাপথে পিননাথ। গোপালকোট পাহাড়ের এই গ্রামে রয়েছে প্রাচীন ভৈরব মন্দির। মন্দির চিত্রে রয়েছে পঞ্চপাণ্ডবের কাহিনি। ১৯২০ সালে ভুমিকম্নপের ফলে  মন্দিরে বেশ ক্ষতি হয়। বর্ষার পরে যাওয়া যায় এই পথে। অক্টোবর মাসের মেলায় বহু মানুষের সমাগম হয় এখানে। 
কৌশানি থেকে গরুড় হয়ে বাগেশ্বরের পথে ১৯ কিমি দুরত্বে মন্দির নগরী বৈজনাথ। গরুড় উপতক্যায় ১১২৫ মিটার উচ্চতায় গোমতীর তীরে এই জনপদ একসময় কাত্তুরি রাজাদের রাজধানি ছিল, নাম ছিল কার্ত্তিকপুরা। নবম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর ১৮টি মন্দিরে পুজিত হন বৈজনাথ। কথিত আছে কোন এক ব্রাহ্মণী এই মন্দির স্থাপনা করেন। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে রয়েছে বামনি মন্দির। দূরে দূরে চোখে পড়ে পাহাড়ের সারি। গোমতীর তীর ধরে গাছ গাছালীর মধ্যে দিয়ে পথ গিয়েছে মন্দিরের দিকে। একটি দুটি নয়, একগুচ্ছ মন্দির গড়ে উঠেছে গোমতীর তীরে। নির্জনতায় ঢাকা চারপাশের আপরুপ শোভা মনকে ভরিয়ে তোলে। এখানকার মুল আকর্ষণ পার্বতী মন্দির। জনশ্রুতি এখানেই বিবাহ হয়েছিল শিব-পার্বতীর। মন্দিরের স্থাপত্য চোখে পড়ার মত। ভেতরে রয়েছে ৬ ফুট উঁচু দেবি পার্বতীর মূর্তি, এছাড়াও শিব, গনেশ, কার্ত্তিক, নারায়ানের আরও নানান দেব দেবীর মূর্তি। একাধিকবার বিধর্মীদের হাতে লুন্ঠিত হয়েছে মন্দির। চারপাশে সুন্দর প্রকৃতির মাঝে মাঝে নিরালা মন্দির। সিঁড়ি নেমে গিয়েছে গোমতীর তীরে। এখানে শীর্ণকায় গোমতী। এখান থেকে গোয়ালধামের পথে ৮ কিমি দূরে রয়েছে কোটকিমায়ের মন্দির। বৈজনাথ থেকে বাগেশ্বরের দুরত্ব ২১ কিমি।
  
কৌশানির ১২ কিমি দূরে আলমোড়ার পথে ছোট গ্রাম সোমেশ্বর। মুল পথ থেকে আধ কিমি গিয়ে দ্বাদশ শতাব্দীর প্রাচীন শিবমন্দির। রাজা সোম চাঁদের তৈরি এই মন্দির স্থানীয় মানুষের কাছে খুবই পবিত্র। জীর্ণ হয়ে এলেও এর কারুকার্য ভাস্কর্য দর্শনীয়। শিবরাত্রির সময় দূর দুরান্ত থেকে মানুষেরা এখানে আসেন। 

কিভাবে যাবেনঃ  নিকটবর্তী বিমানবন্দর পন্থনগর(১৭৮ কিমি) ও রেলস্টেশন কাঠগোদাম(১৩২কিমি)। বাস ও শোয়ার গাড়ি আসছে আলমোড়া, নৈনিতাল(আলমোড়া হয়ে), বাগেশ্বর, সোমেশ্বর(১২ কিমি) অ গরুড়(১৬ কিমি) থেকে। উৎসাহী পর্যটকরা কৌশানি থেকে দিনে দিনে ঘুরে নিতে পারেন বৈজনাথ-বাগেশ্বর-গোয়ালধাম। 


এই লেখাটি শেয়ার করে ভ্রমণপিপাসু মানুষদের কাছে পৌছে দিন । 


ঘুরে আসুন, সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর ভারতের এই পার্বত্য অঞ্চলে ঘুরে আসুন, সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর ভারতের এই পার্বত্য অঞ্চলে Reviewed by Kona Dey Chakraborty on January 22, 2019 Rating: 5

মদার টেরেসার কিছু অমূল্য বাণী

December 25, 2018

• কেবল টাকা দিয়েই আমাদের খুশি বা সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। টাকায় যথেষ্ঠ নয়, টাকা জোগাড় হয়ে যায়। কিন্তু ওই মানুষগুলির যা দরকার তা হলো আমাদের হৃদয়ভরা ভালোবাসা। তাই, যেখানেই যাও সর্বত্র তোমার ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও।
• ‎আমাদের যদি শান্তি না থাকে তবে আমরা ভুলে গেছি যে আমরা একে অপরের জন্য।
• ‎জীবনের ছোটখাটো বিষয়গুলির প্রতি বিশ্বস্ত থেকো, কারণ তাদের মধ্যেই তোমার শক্তি নিহিত।
• ‎ওদের প্রত্যেকে এক একজন ছদ্মবেশী যীশু।
• ‎এমনকি ধনীরাও ভালোবাসার কাঙ্গাল, যত্নের, ডাকখোঁজের। তারাও নিজের বলে কাউকে চায়।
• ‎প্রথম আমাদের প্রেম, করুনা, বোঝাপড়া ও শান্তির তহবিল গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আরো বেশি করে জোর দেওয়া উচিত। কারণ যদি আমরা ঈশ্বরের রাজ্য খুঁজে পায়, বাকি যা কিছু সব জুটে যাবে।
• ‎আমি চাই আপনি আপনার পাশের দরজার প্রতিবেশীর ব্যাপারে মনোযোগী হোন। আপনি কি আপনার প্রতিবেশীকে চেনেন?
• ‎যদি তুমি হাজার মানুষকে খাওয়াতে না পারো অন্তত একজনকে খাওয়াও।
• ‎যদি তুমি প্রেমের বাণী শুনতে চাও তবে তা কাউকে পাঠাতে হবে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত আমাদের ক্রমাগত তাতে তেল ঢেলে যেতে হবে।
• ‎তীব্র প্রেম মাপা যায়না, তা কেবল দেয়। 
• ‎যে ব্যক্তির খাবার মতো কিছুই নেই তার থেকে অনেক বেশি দরিদ্র হলো সেই ব্যক্তি যে পরিত্যক্ত, অবহেলিত, যাকে কেউ ভালোবাসে না, কিংবা কেউই মনে রাখে না।
• ‎আনন্দ হলো ভালোবাসার এক জাল যার দ্বারা তুমি আত্মাকে ধরতে পারো।
• ‎এসো আমরা সকলে একে অপরের দিকে হাসিমুখে তাকাই, কারণ প্রেমের শুরুই তো হাসি দিয়ে।
• ‎যারা দরিদ্র, যারা পরিত্যক্ত, যারা অবহেলিত, যারা মুমুর্ষ তাদের প্রেমের স্পর্শ দেও। এ কাজে আমরা যেন কেউ লজ্জিত না হয়।
• ‎একাকীত্ব ও অবহেলা হলো সবচেয়ে বড় দরিদ্র।
• ‎ধনীরা টাকার বিনিময়ে যা পেতে পারে আমি চেষ্টা করি তা গরিবদের দিতে ভালোবাসা দ্বারা। না, আমি হাজার পাউন্ডের বিনিময়েও একজন কুষ্ঠ রোগীকে ছোঁব না, তবে প্রভুর প্রতি ভালোবাসা জ্ঞানে তাকে আমি সানন্দে সুস্থ করে তুলবো।
• ‎প্রেম হলো এমন এক ফল যা সব ঋতুতেই পাওয়া যায়, সকলেরই হাতের নাগালে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন 

মদার টেরেসার কিছু অমূল্য বাণী মদার টেরেসার কিছু অমূল্য বাণী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on December 25, 2018 Rating: 5

নিকোলাস কোপারনিকাসের জীবনী

November 27, 2018

নিকোলাস কোপারনিকাস (জন্ম - ১৪৭৩ খ্রি., মৃত্যু - ১৫৪৩ খ্রি.)


বাবা শোনাতেন দেশ-বিদেশের সাগর আর বন্দরের কথা। স্তব্ধ বিস্ময়ে অবাক হয়ে শুনত ছেলেটি। চোখ বন্ধ করত, ভেসে যেত কল্পরাজ্যে। এভাবেই তার মনের মধ্যে এক অদ্ভুত আবেগসম্পৃক্ত জগতের জন্ম হয়েছিল।
অন্য কেউ হলে হয়তো হতেন একজন কবি। ছোট্টবেলার এইসব স্মৃতিতে আচ্ছন্ন থাকতেন, যারা জীবন ভরে লিখতেন না-দেখা ভুমিখণ্ডের কল্পিত কবিতা।
কিংবা হতেই পারতেন সৃজনশীল গল্পলেখক। কেন না তার বাবার গল্প বলার ভঙ্গিটি ছিল ভারী চমৎকার। দূর প্রাচ্যের কোথায়, কোন জননীর বুকফাটা আর্তনাদ তিনি শুনেছেন, নিখুঁতভাবে তা উপস্থিত করতেন ছেলের কাছে।
হলেও হতে পারতেন একজন উপন্যাসিক। মানুষের জীবনের ওঠাপরা, আশা আর নিরাশা কে পাথেয় করে লিখতেন মহান উপন্যাস। পৃথিবীর মানুষ যা পরে আনন্দ পেত।
উনি কিন্তু তা হননি। উনি হয়েছিলেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী। শুধু বিজ্ঞানী বললে ভুল হবে। ওনার প্রতিবাদী কন্ঠস্বর উনি পৌঁছে দিয়েছিলেন, পৃথিবীর সর্বত্র। তখনকার সমাজে যা করা হত, উনি তার বিরুদ্ধে অক্লেশে ঘোষণা করেছিলেন সীমাহীন জেহাদ। আর এভাবেই প্রগতিবাদী মানুষের ইতিহাসের সঙ্গে ওনার নাম জড়িয়ে ব্যক্তিত্ব রূপে।
বন্ধুরা, তোমাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে, কোন মহাবিজ্ঞানীর ছোটবেলার গল্পকথা শোনাব বলে তৎপর হয়েছি। নামটা বললে তোমরা সবাই তাকে চিনতে পারবে। শুধু চিনতে পারলে বললে ভুল হবে, তোমরা সবাই তার জীবনকথাও হয়তো বলে দেবে - এতই জনপ্রিয় তিনি আমাদের মধ্যে।
হ্যাঁ, তোমরা হয়তো অনুমান করতে পারছ, তিনি হলেন নিকোলাস কোপারনিকাস।
জন্মেছিলেন তিনি পোল্যান্ডের ভিস্টলা নদীর তীরবর্তী টরুন নামক বন্দর-শহরে, আজ থেকে অনেক বছর আগে - ১৪৭৩ খ্রিস্টাব্দে।
যে পরিবারের হয়ে নিকোলাস পৃথিবীর আলো দেখেন, সেটি ছিল এক বণিক পরিবার। বণিক পরিবারের পুরুষেরা বছরের বেশিরভাগ সময় বাইরে বাইরে কাটান। মাথার ওপর কঠিন কঠোর কর্তব্যের বোঝা চাপানো থাকে তাদের। সেই সঙ্গে থাকে দেশজয়ের নেশা এবং থাকে অর্থ উপার্জনের তাগিদ। সব মিলিয়ে সে এক দারুন ব্যস্ততার জীবন। বাবার সাথে তাই খুব একটা দেখা হত না শিশু নিকোলাসের। বাবা বাণিজ্যে চলে যেতেন। যাবার আগে দুহাত ভরিয়ে দিতেন লজেন্স আর টফিতে। বলতেন, 'নিকোলাস, মন খারাপ করিস না। ফিরে এসে অনেক নতুন নতুন গল্প শোনাব।' ধীরে ধীরে বাবার শরীরটা দূর থেকে আরও দূরে চলে যেত। টমটম গাড়ি চলে যাচ্ছে। ছোট্ট নিকোলাস চোখ বন্ধ করছেন। গল্প শোনার লোভনীয় দিবাস্বপ্নে টফি খেতে ভুলে যাচ্ছেন। ভাবছেন, কখন বাবা ফিরে আসবেন, শোনাবেন সেই সাত মাথাওয়ালা দৈত্যটার কথা - যে আস্ত মানুষ গিলে ফেলতে পারে। কিংবা উড়তে উড়তে যে হাঁস বদলে যায় সুন্দরী রাজকন্যাতে - তার গল্প।
দিন কেটে যেত - বর্ষা, শীত, বসন্ত। বাবা আসছেন না কেন? অভিমানী মন ছটফট করত। মায়ের সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করতেন। বেচারি মা, সংসারের কত কাজ তার। কিকরে সময় দেবেন এই ছোট্ট শিশুকে?
তারপর একদিন ফুরিয়ে যেত প্রতীক্ষার এই দীর্ঘ প্রহর। বাবা আসতেন। কত কি যে জিনিসপত্র এনেছেন তিনি নিকোলাসের জন্য। ছেলেটাকে সত্যিই খুব ভালোবাসতেন বাবা। ভালোবাসতেন তার সরল দুটি চোখের স্বপ্নমাখা চাউনি, ভালোবাসতেন তার অবুঝপনা।
কিন্তু, সুখস্বপ্নের এই ছবিটাও হঠাৎ একদিন আবছা হয়ে গেল। তখন নিকোলাসের বয়স মাত্র দশ বছর, দূর বিদেশেই বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। অনেকদিন বাদে বাবার মৃত্যুসংবাদ পৌঁছেছিল হতভাগ্য ওই পরিবারের কাছে। বাবা নেই, দশ বছরের বালক নিকোলাস ব্যাপারটি ঠিক বুঝতে পারেনি। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়েছিলেন ক্রন্দনশীল মায়ের দিকে। তারপর, একটু একটু করে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, আজ থেকে তার জগৎটা অনেক পাল্টে গেছে। এখন তার কল্পনার সুদুরতম শরনিতে ব্যঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি বসে থাকবে না বিশাল পাকুর গাছের ডালে। রাতের আধার ঘনিয়ে এলে ব্রহ্মদৈত্য এসে ভয় দেখাবে না। এখন থেকে তিনি সত্যি সত্যি নিঃসঙ্গ হলেন।
অনেকে বলেন, সেই বয়সেই নিকোলাস হয়ে উঠেছিলেন প্রতিবাদি। সামাজিক বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, দীর্ঘদিন ধরে সমাজপতিরা নানাভাবে মানুষকে শোষণ করে এসেছেন, এবার তাদের শোষনের দিনের অবসান ঘটাতে হবে- এমনই একটা দৃঢ় প্রত্যয়ের জন্ম হয়েছিল বালক নিকোলাসের মনের মধ্যে।
বাড়ি ছেড়ে নিকোলাসরা চলে এলেন মামাবাড়িতে। মামা ছিলেন বাস্তববাদী। যে-কোনো বিশ্বাসের গভীরে প্রোথিত প্রকৃত সত্যের সন্ধান করা ছিল তার স্বভাব। তিনি ছিলেন পোল্যান্ডের একজন বিশিষ্ট বিশপ। ধর্মের সঙ্গে মানুষের সাধারণ জীবনবোধকে মিশিয়ে দেওয়ার একটা অদ্ভুত প্রবণতা ছিল তার। সে যুগের নিরিখে এটা কিন্তু একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা, বিশেষ করে ধর্মযাজকদের ক্ষেত্রে। ধর্মপ্রচারের স্বভাবতই প্রাচীনপন্থী হয়ে থাকেন। সমাজের বুকে ঘটে যাওয়া যে কোনো বিপলবাত্মক ঘটনাকে তারা নিন্দা করতেন। তারা নিজেদের ঈশ্বরের প্রতিভূ হিসেবে ভাবতে ভালোবাসেন। বোকাসোকা জনসাধারণের ওপর প্রভুত্ব বিস্তার করেন। রাজার আশ্রয়ে পায়ের ওপর পা দিয়ে জীবনের দিনগুলো অনায়াস আরামে কাটিয়ে দেন।
মামার সান্নিধ্যে এই জীবনবোধ সেদিনের কিশোর নিকোলাসের মনের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছিল। বাবার অভাব অনেকটাই পূরণ করেছিলেন ওই প্রগতিপন্থী মামা।
১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে উনিশ বছর বয়সে কোপার্নিকাস ভর্তি হয়েছিলেন পোল্যান্ডের বিখ্যাত ক্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি নানাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু পোল্যান্ড থেকেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে দলে দলে কৃতি ছাত্ররা আসতেন এখানে ভর্তি হবার জন্য। ভর্তি হওয়ার ছাড়পত্রটাও পাওয়া যেত না সহজে। অনেকগুলো কঠিন পরীক্ষার বেড়া টপকে তবেই এই বিশ্বখ্যাত অঙ্গনের প্রবেশের অনুমতি মিলত। ভর্তির প্রতিটি পরীক্ষায় নিকোলাস অসাধারন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। অধ্যাপকেরা তার এই গুনপনায় হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এখানে পড়তে পড়তে নিকোলাসের সঙ্গে পরিচয় হল বিশিষ্ট অধ্যাপক ব্রুদেসকির। উনি ছিলেন অংক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক, আধুনিক মনোভাবাপন্ন বিজ্ঞানী। ওনার সংস্পর্শে এসে নিকোলাসের জীবনাদর্শের রুদ্ধ দুয়ার খুলে গিয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত সব বিষয়ে কেমন একটা ভাসা ভাসা অভিমত ছিল নিকোলাসের। ব্রুদেসকিই তাকে প্রথম বললেন, বিজ্ঞান কখনো 'যদি', 'কিন্তু' ইত্যাদি শব্দকে প্রাধান্য দেয়না। যা সুনিশ্চিত, তাকে প্ৰতিষ্ঠা করাই বিজ্ঞানের একমাত্র লক্ষ্য। তার জন্য যদি জীবনাপাত করতে হয়, তাহলে তাও করতে হবে। তবুও কোনো অনুমানের পিছনে বিজ্ঞান ছুটবেনা।
সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, পরবর্তীকালে কোপার্নিকাস যে কারণে জগৎবিখ্যাত হন, সেই বিষয়ে কৌতূহলের প্রথম বীজটি অঙ্কুরিত করেছিলেন ওই ব্রুদেসকি।
১৪৯২- নিকোলাস এলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাদের ইতিহাসে সেই বছরটি কিন্তু আরও একটি কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে। তোমরা হয়তো ভুলে গেছো, সেই বছরই ইতালিয় নাবিক কলম্বাস অতলান্তিকের ওপারে নতুন ভুমিখন্ড আবিষ্কার করেছিলেন। নাম দিয়েছিলেন - নতুন মহাদেশ। পরবর্তীকালে যা 'আমেরিকা' নামে আত্মপ্রকাশ করে।
সেদিনের এই আবিষ্কারের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। আমেরিকা আবিষ্কৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জ্ঞানভান্ডারের সীমানা একলাফে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছিল। দলে দলে মানুষ তখন চলেছেন আমেরিকার উদ্দেশ্যে। সেখানকার বাতাসে নাকি টাকা উড়ছে, মাটির নিচে তাল তাল সোনা পোঁতা আছে - এমনই একটা গুজব রটে গিয়েছিল সর্বত্র। আর নতুন এই দেশে যাবার যে হিড়িক উঠল, তাতেই পাল্টে গেল মানুষের মন। নতুন সব কিছুকে আঁকড়ে ধরতে হবে, বস্তাপচা পুরানো ভাবধারাকে বিদায় দিতে হবে - এমনই একটা ধারণা জন্মেছিল তরুণতর প্রজন্মের মধ্যে।
বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র থাকাকালীন জ্যোতির্বিজ্ঞানকে আঁকড়ে ধরেছিলেন নিকোলাস কোপার্নিকাস। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। মামার ইচ্ছে ছিল, ভাগ্নেটি হবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী। আর্ত-আতুরদের সেবা করবে। তাই মনের ইচ্ছে চেপে কোপার্নিকাস ভর্তি হতে হল চিকিৎসাবিনজ্ঞানের বিভাগে। মান দিয়ে পড়াশোনা করলেন তিনি। শেষ অব্দি উর্ত্তীণ হলেন ওই পরীক্ষাতে। মামার ইচ্ছে তিনজ অপূর্ন রাখেননি। ডাক্তারি পাশ করার পর আর্ত মানবাত্মার সেবাতে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন তিনি।
এবার বিদেশে যেতে হবে। তখন উচ্চ শিক্ষার জগতে ইতালির খুবই নামডাক। মামার অনুমতি নিয়ে কোপার্নিকাস এলেন ইতালিতে। ভর্তি হলেন বোলগানা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনেক হয়েছে, এবার আর চিকিৎসাশাস্ত্র নয়। এবার আমি আমার মনের মতো বিষয় গণিত এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়ব - এমনই একটা ইচ্ছে জাগল সেদিনের তরুণ নিকোলাস কোপারনিকাসের মনে।
তখনকার দিনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গ্রিক মনীষীদের অবিসংবাদিত প্রাধান্য ছিল। আবার অংক এর ক্ষেত্রে প্রাচীন ধারাটি সযত্নে বহন করতেন আরব পন্ডিতরা। দুটি বিষয়ের মূল ধারার সঙ্গে পরিচিত হবে জন্য নিকোলাস সযত্নে গ্রিক এবং আরবি ভাষা অধ্যয়ন করলেন। এই জাতীয় আত্মনিবেদন এখন ভাবতেই পারা যায় না। এখনকার দিনে আমরা অবুবাদের মাধ্যমে চটজলদি সবকিছু শেখার চেষ্টা করি। কিন্তু নিকোলাস ছিলেন অন্য চরিত্রের মানুষ। যা শিখবেন একেবারে একটা মনোবৃত্তি ছিল তার।
সে এক দারুন কর্মমুখর দিন। সারা রাত বসে বসে পড়া মুখস্থ করছেন। বাইরের প্রকৃতি নিঝুম নিথর হয়ে গেছে। ঘুমন্ত মানুষের বিলম্বিত শ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। রুমমেট কখন ঘুমিয়ে পড়েছে সেদিকে নজর দেবার মতো সামান্য অবসরটুকুও নেই নিকোলাসের, তিনি যা জানেন, জীবনের দিনগুলি হঠাৎ হঠাৎ ফুরিয়ে যায়। বার্ধক্য এসে সময়ের দরজাতে করা নাড়ে। তাকে যে অনেক কাজ করতে হবে। পৃথিবীতে মানুষ এসেছে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ করার জন্য। সেগুলো অসম্পূর্ন রেখে আগে আগে চলে গেলে চলবে কেন?
এভাবেই ফুরিয়ে গেল নিকোলাস কোপারনিকাসের ছোটবেলা আর ছাত্রজীবন। বোলগানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজ চলাকালীনই রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বান পেলেন তিনি। এরপর তিনি পরিচিত হয়েছিলেন এক বিশিষ্ট বিতর্কিত বিজ্ঞানী হিসেবে। সে বিষয়ে দু চার কথা না বললে নিকোলাস সম্পর্কে আমরা সবটুকু জানতে পারব না।
তখনকার দিনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি ছিল গ্রিসের দার্শনিক বিজ্ঞানী টলেমির একটি ধারণা। মানবসভ্যতার ঊষালগ্নে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, পৃথিবী হল এই সৌরজগতের কেন্দ্রভূমি। তার চারপাশে সূর্য আছে। আছে চন্দ্র, গ্রহ এবং অসংখ্য নক্ষত্রের পরিমন্ডল। তারা নিজ নিজ কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে।
এই মতবাদকে সকলে অভ্রান্ত হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। অর্থাৎ তখনকার সব চিন্তাই হত এই মতবাদকে আশ্রয় করে। তার মানে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাথমিক পর্বেই আমরা একটা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়েছিলাম। কেউ কিন্তু এগিয়ে এসে টলেমির এই ত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার সাহস কেউ করেননি। টলেমি তখন প্রায় ভগবানের পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।
নিকোলাসই প্রথম এই মতবাদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করলেন। তিনি সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের আবিষ্কার করলেন। এই তত্ত্বের সারকথা হল - সৌরমন্ডলের সকলেই, এমনকি পৃথিবীও স্থির নয়। তারা সবাই নিজস্ব কক্ষপথে চলমান। সূর্যকে ঘিরেই চলে তাদের পরিক্রমণ।
আজ আমরা এই তত্ত্বটিকে নির্ভুল সত্য বলে মনে নিয়েছি। কিন্তু যখন নিকোলাস এটি প্রথম প্রচার করেন, তখনকার অবস্থা ছিল একেবারে আলাদা। অচিরেই নিকোলাস চিহ্নিত হলেন দেশদ্রোহী হিসেবে। তাঁকে নানাভাবে ভৎর্সনা করা হল। শুধু তাই নয়, শারীরিকভাবেও তাঁকে নিগৃহীত হতে হয়েছিল। শেষ অব্দি অবশ্য নিকোলাসের এই তত্ত্ব পন্ডিতসমাজ মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু জীবদ্দশাতে তিনি এই মতবাদের স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেননি। দেখেননি ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে কিভাবে পোপ গ্রেগরি ক্যালেন্ডার সংশোধন করেছেন সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের ভিত্তিতেই।
বিতর্কিত বিজ্ঞানী ছাড়াও তিনি ছিলেন এক বিশিষ্ট সহযোগীরূপে চার্চের কাজে যোগ দেওয়ার পর সপ্তম শতাব্দীর বিখ্যাত বাইজেনটাইন কবি থিয়োফিলাকটাস সীমাকোট্টা-র ৮৫ টি কবিতা গ্রিক থেকে লাতিনে অনুবাদ করেছিলেন তিনি।
১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে এই প্রাণবন্ত জ্ঞানপিপাসু বিজ্ঞানী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাঁকে শুধুমাত্র আমরা একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী বলব না। একাধারে তিনি ছিলেন ভাষাবিদ, চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, পুরোহিত, অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতজ্ঞ। এক মানুষের মধ্যে এতগুলি গুণের সমাহার সত্যি সত্যি আমাদের অবাক করে দেয়।
নিকোলাস কোপারনিকাসের জীবনী নিকোলাস কোপারনিকাসের জীবনী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on November 27, 2018 Rating: 5
Powered by Blogger.