Featured Posts

[Travel][feat1]

শিবনিবাস ভ্রমণ গাইড ও ইতিহাস । কি কি দেখবেন ? কবে যাবেন ?

August 12, 2019
 আজকের ডেসটিনেশন নদিয়ার শিবনিবাস ।  প্রথমে জেনে নিন কীভাবে শিবনিবাস যাবেন ?
দুই দিক দিয়ে আসা যায় শিবনিবাসে , শিয়ালদা থেকে গেদে লোকালে করে চলে আসুন মাজদিয়া, সময় লাগবে ২ ঘন্টা ৩০মিনিট  । মাজদিয়া স্টেশন থেকে টুক্টুকি করে অল্প সময়েই পৌঁছে যাবেন শিবনিবাস । অথবা কৃষ্ণনগর লোকাল ধরে কৃষ্ণনগরে চলে আসুন । স্টেশন থেকে টুক্টুকি করে কৃষ্ণনগর বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে , ভাড়া নেবে ১০ টাকা । কৃষ্ণনগর বাস স্ট্যান্ড থেকে মাজদিয়া যাওয়ার 

বাসে চেপে শিবনিবাস আসতে পারবেন ভাড়া পড়বে ২০ টাকারও কম । 
বাসে এলে শিবনিবাস মোড়ে নামতে হবে , মোড় থেকে মন্দির পর্যন্ত হেঁটে যেতে হবে । এই পথে যাওয়ার সময় একটি বাশের ব্রীজ বা সাঁকো পার হতে হবে । সাঁকো পার করে একটু হেঁটে গেলেই মন্দির  । আমরা মন্দির যাওয়ার পথে  এক সাধু বাবার ছাউনি ঘরের নীচে রাখা এই বাচ্চা হনুমানটিকে দেখেছিলাম , মা হারা এই ছোট্ট প্রানীটি এখন এনাদের স্নেহেই বড় হচ্ছে । ছাউনি ছাড়িয়ে এগিয়ে গেলেই মন্দির দেখতে পাবেন । 
 যদি আপনারা ট্রেনে বা নিজস্ব গাড়িতে আসেন তাহলে শিবনিবাস মোড়ে একটি সুন্দর নীল সাদা ব্রীজ দেখতে পাবেন , এই ব্রীজের নীচ দিয়ে বয়ে গেছে চুরনি নদী । মন্দিরে যাওয়ার আগে ব্রীজের উপর কিছুক্ষন দাড়িয়ে আশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন । ছবি তোলার জন্য এটা বেশ ভালো জায়গা । ব্রীজ পার করে এগিয়ে গিয়ে বা হাতে মন্দির যাওয়ার পথ পাবেন ।

মন্দিরের কাছাকাছি পৌছালেই চোখে পড়বে সুউচ্চ " রাজরাজেশ্বর " মন্দিরটি । সাধারন মানুষের কাছে এটি " বুড়োশিবের মন্দির " নামেই খ্যাত । ১৭৫৪ খ্রীস্টাব্দে অর্থাৎ ১৬৭৬ শকাব্দে কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তার প্রথম স্ত্রী'র জন্য এই শিব মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন । উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত এই  মন্দিরটির  চুড়া সমেত উচ্চতা ১২০ ফুট।  খাড়া দেওয়ালের প্রতি কোনে মিনার ধরনের আটটি সরু থাম আছে । প্রবেশদ্বারে খিলান ও অবশিষ্ট দেওয়ালে একই আকৃতির ভরাটকরা নকল খিলান দেখতে পাবেন ।  মন্দিরের ভেতর পূর্ব ভারতের সবথেকে বড় কষ্টিপাথর নির্মিত শিবলিঙ্গ দেখতে পারবেন ।  এই শিবলিঙ্গের উচ্চতা ৯ ফুট আর বেড় ২১ ফুট ১০ ইঞ্চি। এই সুবিশাল শিবলিঙ্গের নাম 'রাজরাজেশ্বর'। শিবলিঙ্গের মাথায় জল , দুধ ইত্যাদি


ঢালবার জন্য সিঁড়ি আছে । দর্শনার্থীরা একদিক দিয়ে উঠে জল ঢেলে অন্যদিক দিয়ে নেমে শিবলিঙ্গ প্রদক্ষিন করে ফেরত আসতে পারেন ।  মন্দিরের আশেপাশে কয়েকটি দোকান আছে , পুজার সামগ্রি কিনে নিয়ে পুজো দিতে পারবেন ।  প্রাচীন কাল থেকে মার্চ মাসের ভীম একাদশি থেকে শুরু হয় মেলা, চলে শিবরাত্রি পর্যন্ত। এই স্থানটির একটি ইতিহাস আছে । জানা যায় এক সময় এখানে নসরত খাঁ নামে দুর্ধর্ষ এক ডাকাত ছিল । তার নামে এই জায়গার নাম ছিল নসরত খাঁর বেড়  । মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র সেই ডাকাতকে দমন করতে মাজদিয়ার এক গভীরে অরন্যে উপস্থিত হন । ডাকাত দমনের পর তিনি এক রাত বিশ্রাম নিয়ে পরের দিন সকালে নদীর জলে মুখ ধুতে যান । এই সময় নদীর স্রোতে একটি রুইমাছ লাফিয়ে এসে রাজার পায়ের কাছে পরে । এই দৃশ্য দেখে ক্রিশ্নরাম নামে মহারাজের আত্মীয় বলেন - " এই স্থানটি অত্যন্ত মনোরম , তার উপরে রাজভোগ্য সামগ্রী নিজে নিজেই রাজার কাছে উপস্থিত হচ্ছে , এই স্থানে বাস করলে মহারাজের নিশ্চয়ই উপকার হবে । " । তৎকালীন বর্গীদের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য মহারাজ একটি ভালো জায়গা খুঁজছিলেন , এই স্থানটি মহারাজের খুব পছন্দ হয় । তিনি নদিয়ার রাজধানী সাময়িকভাবে এখানে স্থানান্তরিত করেন । চুরনি নদীকে নির্দিষ্ট ভাবে কেটে এই স্থানকে সুরক্ষিত করা হয় ,আর এই স্থানের নাম বদলে শিব ঠাকুরের নামে নতুন নাম রাখা হয় শিবনিবাস । এই খানে মহারাজা ১০৮ টি মন্দির ও একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন । বর্তমানে মাত্র ৩ টি মন্দির অবশিষ্ট আছে । 
রাজরাজেশ্বর মন্দিরের পূর্বদিকে ৬০ফুট উঁচু চার চালার ২য়  মন্দিরটি দেখতে পাবেন ।মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তার ২য় স্ত্রী'র জন্য এই শিব মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন । এটিকে 'রাজ্ঞীশ্বর' মন্দির বলে । এর ভিতরের শিবলিঙ্গটি ৭ফুট উঁচু । এটিও তৈরি হয়েছিল ১৭৫৪ সালে। এই মন্দিরটি সব সময় খোলা পাওয়া যায় না । এর পাশে একটি রাম-সীতার মন্দির রয়েছে। পশ্চিমমুখী এই মন্দিরটি ভিত্তিবেদির উপর অবস্থিত , চার চালার এই মন্দিরটির উচ্চতা ৫০ ফুট । এই মন্দিরের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত আছেন কালো পাথরের রামচন্দ্র, অষ্টধাতুর দেবী সীতা সাথে অনুজ লক্ষণ। এছাড়াও শিব, কালী, গনেশ, সরস্বতী ও কৃষ্ণের প্রাচীন মূর্তি এখানে প্রতিষ্ঠিত । এই মন্দির প্রাঙ্গনে ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ । এই মন্দিরটি তৈরি হয় ১৭৬২ সালে।  মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র শিবনিবাসে অগ্নীহোত্রী বাজপেয়ী যজ্ঞ সমপন্ন করেছিলেন । এই যজ্ঞে কাশি , কাঞ্চি প্রভৃতি স্থানের বিজ্ঞ পণ্ডিতরা এসেছিলেন । তারা মহারাজকে  " অগ্নিহোত্রী বাজপেয়ী " আখ্যা দেন । সেই সময় থেকেই শিবনিবাসকে তীর্থস্থান কাশির ন্যায় মর্যাদা দেওয়া হয় । প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার লক্ষাধিক মানুষ নবদ্বিপের গঙ্গা নদী থেকে জল নিয়ে ৪২ কিলোমিটার হেঁটে শিবনিবাসের বুড়োশিবের মাথায় ঢালে । 
এছাড়াও মন্দির গুলির কিছু বিশেষত্ব আছে । প্রতিটি মন্দিরের মাথায় কয়েকশ ফোকর দেখতে পারবেন , ফোকরগুলিতে কয়েকশ টিয়াপাখি বাসা করে। তাদের , বসা , উড়ে যাওয়া ,মারা মারি করা দেখতে দেখতে অনেকটা সময় কেটে যাবে ।  ১৮২৪ সালে বিশপ হেয়ার সাহেব নদিপথে ঢাকা যাওয়ার সময় এই মন্দির ও রাজপ্রাসাদ দেখে মুগ্ধ হন এবং এই মন্দির গুলি সমন্ধে তার একটি লেখা ১৮২৮ সালে লন্ডনের জার্নালে প্রকাশিত হয় । তিনি রাজপ্রাসাদের প্রবেশদ্বারটিকে ক্রেমলিলের প্রধান তোরণের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন " সেই বিস্তীর্ণ প্রাসাদের মনোরম নির্মাণ শৈলী তাঁকে কনওয়ে ক্যাসেল ও বোলটন অ্যাবির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় "। এই মন্দিরগুলিতে কোনো টেরাকোটার কাজ না থাকলেও এর গঠনশৈলী বাংলার মন্দিররীতিতে এক উল্লেখযোগ্য সংগজোজন । বাংলার বুকে শিবনিবাশের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম । মন্দির ছাড়াও শিবনিবাসে একটি রেশম খামার আছে , সময় হলে দেখে আসতে পারেন । রাম মন্দিরের গা ঘেঁসে পাকা রাস্তা ধরে বেশ কিছুটা এগিয়ে গেলে  এই রেশম খামারটি দেখতে পাবেন । 
তুঁত গাছের বাগানে ঘেরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে আশেপাশে রেশম কীট প্রতিপালন দেখতে পারে । বিশেষ অনুমতি নিয়ে গুটি থেকে রেশম তৈরির পদ্ধতিও দেখতে পারবেন । 

মন্দির ও রেশম খামার দেখে আশেপাশের হোটেল থেকে কিছু খেয়ে নিয়ে মাজদিয়া বা কৃষ্ণনগর স্টেশনে ফেরত চলে যান । শিয়ালদহ বা লালগোলা যাওয়ার অনেক ট্রেন পেয়ে যাবেন ।  

শিবনিবাস ভ্রমণ গাইড ও ইতিহাস । কি কি দেখবেন ? কবে যাবেন ? শিবনিবাস ভ্রমণ গাইড ও  ইতিহাস । কি কি দেখবেন ? কবে যাবেন ? Reviewed by WisdomApps on August 12, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল ১১ থেকে ১৭ই আগস্ট ২০১৯

August 12, 2019

মেষ রাশি: ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুক্তি করে বুঝবেন লাভই হয়েছে। রোববার কাজে বিলম্ব। সোমবার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে বিরক্ত। মঙ্গলে বেলায় শুভ যোগ। বুধে গতানুগতিক দিন যাপন। বৃহস্পতিবার গুছিয়ে চলতে পারবেন। শুক্রে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সুযোগ। শনিতে মন রুষ্ট।

বৃষ রাশি: ভুলে যাওয়া ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে সমঝোতা করা লাগবে। রোববার বিরুদ্ধে পরিবেশ, মনঃকষ্ট। সোমবার শত্রুপক্ষ সক্রিয়। মঙ্গলে সমস্যা বাড়তে পারে। বুধে কাজে ভুল। বৃহস্পতিবার রাতে স্বস্তি। শুক্রে শারীরিক কষ্ট। শনিতে বন্ধুর সাহায্য পাবেন।

মিথুন রাশি: কর্মে তেমন সুবিধা করে উঠতে পারবেন না। রোববার লিখিত সমঝোতা হবে। সোমবার প্রতিপক্ষ দেখে বিরূপ ভাব প্রকাশ করবেন না। মঙ্গলবার বেলায় মুশকিলে পড়বেন। বুধে প্রতিকূলতার সম্মুখীন। বৃহস্পতিবার ধৈর্য চ্যুতি। শুক্রে শারীরিক কষ্ট। শনিতে বন্ধুর সাহায্য পাবেন।

কর্কট রাশি: রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলে সময়টা সংগ্রামবহুল। রোববার মোটামুটি শুভ। সোমবার দক্ষতাকে সঠিক কাজে ব্যবহার করুন। মঙ্গলবার উপযুক্ত ব্যক্তিকে পেয়ে যাবেন। বুধে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করুন।  বৃহস্পতিবার কষ্ট পাবেন। শুক্রে মনস্থির করা কঠিন। শনিতে বিনিয়োগে অর্থনষ্ট।

সিংহ রাশি: পরিশ্রমের ফল আশানুরূপ হচ্ছে না। রোববার অপেক্ষায় কাটাতে হবে। সোমবার সন্তানের আবদার মানলে ভুল করবেন। মঙ্গলে বেলায় কারোর সঙ্গে আলোচনা করে দেখতে পারেন। বুধে  পরিবেশ অনুকূল। বৃহস্পতিবার কারোর দ্বারা সুখবর পাবেন। শুক্রে সুযোগ কাজে লাগান। শনিতে কাউকে জোর করা উচিত হবে না।

কন্যা রাশি: দুঃস্থদের জন্য খাবারের দায়িত্ত্ব নিতে পারেন। রোববার মোটামুটি দিনযাপন। সোমবার পরিবারের জন্য কিছু করতে চাইলেও পারবেন না। মঙ্গল ও বুধবার আপনার কথা কেউ শুনতে চাইবে না। বৃহস্পতিবার মানসিক দ্বন্দ্ব। শুক্রে ভালো ভাবে কাটবে না। শনিতে শরীর নিয়ে সমস্যা।

তুলা রাশি: সন্তানের ব্যবহারে অখুশি হবেন। রবিবার অনুরোধ রক্ষা করতে যাবেন। সোমবার যোগ্যতা অনুযায়ী যোগাযোগ। মঙ্গলে কারোর সঙ্গে মনোমালিন্য। বুধে অকারণ ব্যয় ও ভীতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সমস্যা বাড়বে। শুক্রে অর্থ পেয়ে যাবেন। শনিতে দুশ্চিন্তা বাড়বে।

বৃশ্চিক রাশি: পিতার সঙ্গে মতপার্থক্য। রবিবার বকেয়া আদায়ে বিলম্ব। সোমবার কর্মস্থলে কেউ আমল দেবে না। মঙ্গলে সমস্যা কমবে। বুধে কেউ সুবুদ্ধি দিলে গ্রহণ করুন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ঝামেলায় যাবেন না। শুক্রে অশুভ প্রভাব। শনিতে অবস্থার কোনো বদল হবে না।

ধনু রাশি: বিবাহ সংক্রান্ত কোথায় কোনো অনুরোধ ফেলতে পারবেন না। রোববার সপক্ষে পরিবেশ। সোমবার দরকারি কাজ শেষ করুন। মঙ্গলে আপনার কথা অনেকেই বুঝবে না। বুধে শারীরিক অস্থিরতা। বৃহস্পতিবার তোয়াজ করে কাজ করিয়ে নেবেন। শুক্রে বাইরের ঝামেলা কমতে থাকবে। শনিতে অনুকূল যোগাযোগ।

মকর রাশি: কাউকে বিশ্বাস করে দায়িত্ব দেবেন না। রোববার অগ্রগতি ব্যাহত। সোমবার অর্থনষ্ট। মঙ্গলে সুখবর পেতে পারেন। বুধে বাইরের কাজ সেরে ফেলুন। বৃহস্পতিবার লেনদেনে সতর্ক থাকুন। শুক্রে পারিবারিক কারণে সমঝোতা হবে না। শনিতে যা বলবেন উল্টো ফল হবে।

কুম্ভ রাশি: অন্য ক্ষেত্র থেকে আয় তেমন হবে না। সোমবার বেশি খরচ। মঙ্গলে সহ্যশক্তি বাড়িয়ে মানিয়ে চলবেন। বুধে ব্যয় বৃদ্ধি। বৃহস্পতিবার বাধা। শুক্রে পারিবারিক অনুষ্ঠানে জড়িত থাকবেন। শনিতে সম্মানজনক পরিবেশ।

মীন রাশি: পুরোনো শক্তির মুখোমুখি হলেও ক্ষতি নেই। রবিবার বেশ ভালোই কাটাবেন। সোমবার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন। মঙ্গলে পরিবেশ অনুকূল। বুধে উদার মনোভাব। বৃহস্পতিবার শরীর নিয়ে কষ্ট। শুক্রে প্রতিকূল প্রভাব। শনিতে বাজে কথা বলে সম্পর্ক নষ্ট করবেন না।
সাপ্তাহিক রাশিফল ১১ থেকে ১৭ই আগস্ট ২০১৯ সাপ্তাহিক রাশিফল ১১ থেকে ১৭ই আগস্ট ২০১৯ Reviewed by WisdomApps on August 12, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল ০৪/০৮/২০১৯ থেকে ১০/০৮/২০১৯

August 05, 2019



মেষ রাশি: যে সংবাদে খুশি হবেন তা হয়তো এসে যাবে। রবিবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সোমবার একইভাবে কাটাবেন। মঙ্গলে বেশ গুছিয়ে চলবেন। বুধে দরকারি কাজ করে নেবেন। বৃহস্পতিবার চুলচেরা বিশ্লেষণে যাবেন না। শুক্রে বিদ্যার্থীদের সামান্য বাধা। শনিতে সমালোচনা আপোষে মেটানোর চেষ্টা করুন।

বৃষ রাশি: আপনার পছন্দমতো পরিবেশ পাওয়া সম্ভব নয়। রবিবার ঘরোয়া পরিবেশ মানিয়ে নিন। সোমবার পরিশ্রমবহুল দিন। মঙ্গলে পরিস্থিতির সামাল। বুধে গতানুগতিক কাটবে। বৃহস্পতিবার সহকর্মী আপনাকে সাহায্য করবে। শুক্রে প্রয়োজনীয় ব্যাপারে আশার আলো। শনিতে পরিবেশ অনুকূলে থাকবে।

মিথুন রাশি: নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকুন। রবিবার তত শুভ নয়। সোমবার অপছন্দের ব্যক্তিকে কোনো আছিলায় আটকে দিতে পারবেন। মঙ্গলে সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা। বুধে কর্মের ওপর দিনটি নির্ভর করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর কাজ গুছিয়ে নিতে পারবেন। শুক্রে ক্ষমতা বৃদ্ধি। শনিতে অনুকূলে পরিবেশ।

কর্কট রাশি: অতিমাত্রায় খামখেয়ালিপনায় উন্নতি বিলম্ব। রবিবার সহোদরের দ্বারা উপকৃত হবেন। সোমবার দায়িত্ত্বপূর্ন কাজে সাফল্য। মঙ্গলে বেলায় অশুভ পরিবর্তন। বুধে জটিলতার ভেতর কাটবে। বৃহস্পতিবার নতুন উদ্যোগ। শুক্রে আত্মীয়রা ভুল বুঝবে। শনিতে অভিজ্ঞ কারোর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করুন।

সিংহ রাশি: একাধিক পরিবর্তনের মাধ্যমে জয়। রোববার কাউকে কথা দেওয়া ঠিক হবে না। সোমবার অর্থযোগ মধ্যম। মঙ্গলে শুভ পরিবর্তন। বুধে যোগাযোগগুলি তৎপর করে তুলুন। বৃহস্পতিবার অসতর্ক হলে ক্ষতি। শুক্রে সত্যকথা বলতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হবেন। শনিতে ভুল পথে অর্থ নষ্ট হবে।

কন্যা রাশি: কর্মের জন্য সুখ্যাতি বিস্তার করবে। রবিবার দিনটি আশাপ্রদ। সোমবার চিন্তার কারণ নেই। মঙ্গলে বেলায় বাধা। বুধে মনে অবসাদ। বৃহস্পতিবার কেউ সুপরামর্শ দিতে এগিয়ে আসবে। শুক্রে অর্থলাভ। শনিতে স্থিতিশীল পরিবেশ।

তুলা রাশি: অন্যের ওপর ভরসা করে চলতে হবে। রবিবার অগোছালো ভাবে দিন কাটবে। সোমবার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। মঙ্গলে প্রিয়জনের সান্নিধ্য। বুধে প্রয়োজন মতো কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে যা পরিবর্তন মেনে চলুন। শুক্রে সার্বিক ভাবে ভালোই কাটবে। শনিতে নমনীয় বাক্য ব্যবহার করুন।

বৃশ্চিক রাশি: সমস্যা বাড়বে। রবিবার আর্থিক যোগ শুভ। সোমবার দরকারি কাজ সেরে নিন। মঙ্গলে বাধার সম্মুখীন। বুধে একঘেয়ে দিন। বৃহস্পতিবার স্বস্তি পাবেন। শুক্রে নতুন কর্মযোগ। শনিতে অনুকূল পরিবেশ।

ধনু রাশি: আপনার বিরোধিতা যে করবে সে প্রতিহত হবে। রবিবার আশাপ্রদ দিন। সোমবার আপনার ভূমিকা প্রাধান্য পাবে। মঙ্গলে কেউ সাহায্য করতে চাইলে সম্মতি দিন। বুধে গতানুগতিক দিনযাপন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পর বাধা। শুক্রে কোনো অশুভ ঘটবে না। শনিতে অর্থ সমস্যা।

মকর রাশি: খরচের মাত্র বাড়বে। রবিবার প্রতিকূল পরিবেশ। সোমবার যা করতে চাইবেন হবেনা। মঙ্গলে সুযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা। বুধে মোটামুটি ভালোই কাটবে। বৃহস্পতিবার বকেয়া আদায় হবার সম্ভাবনা। শুক্রে প্রিয়জন অসুস্থ হতে পারে। শনিতে কম খরচে দিন গুজরান।

কুম্ভ রাশি: রবিবার অগ্রগতি ব্যাহত। সোমবার অতি আশা ঠিক হবে না। মঙ্গলে দরকারি কাজ সেরে ফেলুন। বুধে ছোট ব্যাপারে সময় বেশি লাগবে। বৃহস্পতিবার বেলায় পরিবেশ বদলাতে থাকবে। শুক্রে সন্তানের কোনো সংবাদে দুঃখিত হবেন। শনিতে ছোট কাজে রাজি হয়ে যান।

মীন রাশি: রবিবার দিনটি শুভ। সোমবার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করুন। মঙ্গলে দিনের শুরু অনুকূল। বুধে দরকারি কাজ নিয়ে সমস্যা। বৃহস্পতিবার কারোর সাহায্যের আশা কম। শুক্রে ন্যায্য পাওনা আদায়। শনিতে  কর্ম নিয়ে অগ্রগতি।
সাপ্তাহিক রাশিফল ০৪/০৮/২০১৯ থেকে ১০/০৮/২০১৯ সাপ্তাহিক রাশিফল ০৪/০৮/২০১৯ থেকে ১০/০৮/২০১৯ Reviewed by WisdomApps on August 05, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল 28/07/2019 থেকে 03/08/2019

July 29, 2019


মেষ রাশি: নতুনের খোঁজে বার বার সিদ্ধান্ত বদল করবেন। রবিবার এলোমেলো ভাবে দিনটি কাটবে। সোমবার শুভ যোগাযোগ। মঙ্গলে আপনার আশ্রিত কেউ সহায়তা করবে। বুধে সংযত থাকলে কোনো সমস্যা নেই। বৃহস্পতিবার মন শান্ত করে দিনটি কাটাবেন। শুক্রে অস্বস্তি। শনিতে বিরুদ্ধ পরিবেশ মানিয়ে চলুন।

বৃষ রাশি: আদর্শের প্রতি আনুগত্যের ফলে ভুল। রবিবার দরকারি কাজ সহজেই হবে। সোমবার কাজের গতি কমবে। মঙ্গলে সমঞ্জস্য রক্ষা হবে। বুধে উদ্যম বৃদ্ধি। বৃহস্পতিবার উপস্থিত বুদ্ধির দ্বারা কার্যোদ্ধার। শুক্রে পরিশ্রম বৃদ্ধি। শনিতে চুক্তিতে সই করলেও পারিশ্রমিক পাবেন না।

মিথুন রাশি: রসিকতাপূর্ন কথায় পরিবেশ হালকা রাখবেন। রবিবার তত শুভ নয়। সোমবার যথাযথ প্রচেষ্টায় অর্থবৃদ্ধি। মঙ্গলে নতুন যোগাযোগ। বুধে অর্থকরী ব্যাপারে সাবধানে থাকুন। বৃহস্পতিবার পশ্চিমে গেলে বেশি খরচ। শুক্রে অনুকূল পরিবেশ। শনিতে পরিশ্রমের দ্বারা ন্যায্য মূল্য আদায় করবেন।

কর্কট রাশি: অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হ্রাসবৃদ্ধির খেলা চলবে। রবিবার সুসংবাদ। সোমবার শরীর নিয়ে ঝকমারি। মঙ্গলে কোনোমতে দিনযাপন। বুধে শুভ পরিবর্তন। বৃহস্পতিবার দরকারি কাজ করাফ সুযোগ পাবেন। শুক্রে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়। শনিতে জীবন সংগ্রামে স্বার্থকতার ইঙ্গিত।

সিংহ রাশি: পাহাড়ের দিকে কর্মজীবনের যোগাযোগ হলে নিয়ে নিতে পারেন। রবিবার কর্মস্থলে নানা সমস্যার সমাধান। সোমবার কোনো ব্যাপারে ঋণ করা লাগতে পারে। মঙ্গলে সন্তানের কৌশল বুঝে যাবেন। বুধে লোকবল নিয়ে সমস্যার সমাধান। বৃহস্পতিবার একইরকম অবস্থা। শুক্রে বেলায় অনুকূল যোগাযোগ। শনিতে দেহভাব শুভ।

কন্যা রাশি: উগ্রতার বিপক্ষে গিয়ে যা করতে চাইবেন করেই ছাড়বেন। রবিবার কারোর প্রভাব আপনাকে চালিত করবে। সোমবার বিবেচনা করে চলতে পারলে বিবাদ থেকে অব্যাহতি। মঙ্গলে পারিবারিক দিক স্থিতিশীল। বুধে অগ্রজসম কারোর কথা মানতে বাধ্য হবেন। বৃহস্পতিবার চালাকি করলে ধরা পড়তে পারেন। শুক্রে বেলায় মনের ভার বাড়বে। শনিতে নিজের ভুল সংশোধনের চেষ্টা করুন।

তুলা রাশি: যোগ অনুশীলনের মাধ্যমে মনের ভীতি কাটতে থাকবে। রোববার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহারে ক্ষুদ্ধ হবেন। সোমবার অপ্রতিহত বাধায় অগ্রগতি ব্যাহত। মঙ্গলে পরিবেশ সহজ রাখার দায়িত্ব আপনার। বুধে সন্তানের কাজে খুশি হবেন। বৃহস্পতিবার ঘরে বাইরে অনুকূল প্রভাব। শুক্রে অর্থনৈতিক দিন আশাপ্রদ। শনিতে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি।

বৃশ্চিক রাশি: বড় দিদি বা দাদার সমস্যার জন্য কঠিন পদক্ষেপ নিন। রোববার সবকিছু ঠিকঠাক। সোমবার যখন যেমন তখন তেমন। মঙ্গলে সাময়িক ভাবে মন খারাপ। বুধে পরিচিত কারোর সঙ্গে মেলামেশা সহজ হবে না। বৃহস্পতিবার বিরোধীপক্ষ সুযোগের চেষ্টা করবে। শুক্রে নতুন যোগাযোগ। শনিতে চিন্তামুক্ত দিন।

ধনু রাশি: বহুজনের সঙ্গে মিলে যা কাজ করবেন তা প্রশংসার যোগ্য হবে। রোববার নিজের উদ্যম একমাত্র সাফল্য আনবে। সোমবার মনে সুখ বৃদ্ধি। মঙ্গলে সহকর্মীর আমন্ত্রণ রক্ষা করা উচিত। বুধে যে বিরোধিতা করবে তাকে সরাসরি কিছু বলবেন না। বৃহস্পতিবার অকারণ জটিলতা। শুক্রে পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকম পরিবেশ উপস্থিত। শনিতে দুরবস্থা নিয়ে বেশি আলোচনা করবেন না।

মকর রাশি: চিকিৎসক এর পরামর্শ নিলে ভালো হবে। রবিবার কাজকর্মে ব্যস্ত। সোমবার কর্তব্যে অটল থাকুন। মঙ্গলে কারোর পরামর্শে ব্যবসা সামলে উঠবেন। বুধে আইনানুগ ক্ষেত্রে পরিবারের সমর্থন পাবেন। বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অগ্রগতি। শুক্রে বেলায় সময় নষ্ট। শনিতে নিজেই নিজের বন্ধনের কারণ হবেন।

কুম্ভ রাশি: সহিষ্ণুতার দ্বারা সমস্ত অশুভ প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসবেন। রবিবার পরিবারগত সমস্যা। সোমবার ঝামেলা অব্যাহত। মঙ্গলে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন। বুধে গতানুগতিক দিনযাপন। বৃহস্পতিবার প্রতিপক্ষ বুঝে উঠতে পারবে না। শুক্রে শুভ প্রভাব অব্যাহত। শনিতে অনুকূল প্রভাব।


মীন রাশি: আইনানুগ ক্ষেত্রে ঠিক থাকুন। রবিবার কারো সাহায্য নিয়ে দিন যাপন। সোমবার গায়ের জোরে আদায় সম্ভব নয়। মঙ্গলে মনে অশান্তি। বুধে কর্ম শুভ। বৃহস্পতিবার ব্যস্ততার ভেতরে সামলে নেবেন। শুক্রে পুরোনো কথার উত্থাপন হলে সরে আসুন। শনিতে সীমিত অর্থ নিয়ে কর্তব্য করে যাবেন।
সাপ্তাহিক রাশিফল 28/07/2019 থেকে 03/08/2019 সাপ্তাহিক রাশিফল 28/07/2019 থেকে 03/08/2019 Reviewed by WisdomApps on July 29, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল ২১শে জুলাই থেকে ২৭শে জুলাই

July 21, 2019

মেষ রাশি: অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সম্পর্ক নষ্ট হবার সম্ভাবনা। রবিবার দিনটি আশানুরূপ। সোমবার তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। মঙ্গলে অপ্রতিহত বাধা রয়েছে। বুধে দুপুরের পর সমস্যা কমতে থাকবে। বৃহস্পতিবার হিসাব সংক্রান্ত কাজ খুঁটিয়ে দেখুন। শুক্রে বিশ্বাস ভঙ্গ হবে এমন কাজ করবেন না। শনিতে প্রিয়জনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা।

বৃষ রাশি: কোনও কাজের জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করবেন। রবিবার উচ্চপদে দায়িত্ত্ব পালন করবেন। সোমবার ব্যবহারিক বুদ্ধিতে পটু থাকায় ক্ষতি হবে না। মঙ্গলে বিজাতীয় ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভ। বুধে বিকেলের পর ঝুঁকি এড়িয়ে চলুন। বৃহস্পতিবার তুচ্ছ কারণে অন্যের শাস্তি পেতে হবে। শুক্রে পরিবেশ তত শুভ নয়। শনিতে যোগাযোগ শুভ।

মিথুন রাশি: রন্ধন শিল্পের জন্য যুক্ত হলে অনেক এগিয়ে যাবেন। রবিবার মনোবলের দ্বারা অশুভ বাধামুক্ত হবেন। সোমবার নীতিগত ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখবেন না। মঙ্গলে পারিবারিক ক্ষেত্রে সংযত থাকবেন। বুধে কর্মক্ষেত্রে বাধা। বৃহস্পতিবার বাইরের কোনো ঘটনায় বিচলিত হবার সম্ভাবনা। শুক্রে গতানুগতিক পরিবেশ। শনিতে শরীর নিয়ে কাবু হবেন।

কর্কট রাশি: অজ্ঞাতশক্তি আপনাকে প্রতিকূল প্রভাব থেকে বের করে আনবে। রবিবার খরচের চাপ বৃদ্ধি পাবে। সোমবার নিয়মের বাইরের ঘটনায় অসন্তুষ্ট হবেন। মঙ্গলে স্থির সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হবে। বুধে সুসংবাদ আসবে। বৃহস্পতিবার নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন। শুক্রে বয়স্ক মহিলার সহায়তা পাবেন। শনিতে ন্যায্য পাওনা পেয়ে যাবেন।

সিংহ রাশি: আয় ও সঞ্চয় পরিবর্তনশীল। রবিবার পরিবেশ মোটামুটি। সোমবার কোনো সুযোগ হাতছাড়া হবে। মঙ্গলে বাইরের প্রভাব অর্থনাশের কারণ। বুধে সমস্যা বাড়বে। বৃহস্পতিবার পরিবেশ আয়ত্তে আনা কঠিন। শুক্রে অতিরিক্ত মানসিক ক্ষমতার দ্বারা আরও এগিয়ে যাবেন। শনিতে অর্থযোগ শুভ।

কন্যা রাশি: নীতিবোধের দ্বারা প্রতিটি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। রবিবার নিজের পরাক্রম এগিয়ে যাবেন। সোমবার বেশ ভালোই কাটবে। মঙ্গলে উদ্যমী হওয়ায় নিজের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা আসবে না। বুধে শত্রুতা বৃদ্ধি। বৃহস্পতিবার মিশ্র পরিবেশে উত্তেজিত হবেন না। শুক্রে অর্থ নিয়ে বচসা। শনিতে পরিস্থিতি সহজ হতে থাকবে।

তুলা রাশি: যে বন্ধুর জন্য ত্যাগ করবে সে বন্ধুই বিরুদ্ধে চলে যাবে।  রবিবার ভুল পদক্ষেপ আফসোসের কারণ হবে। সোমবার কাউকে বুঝিয়ে সমস্যার সমাধান হতে পারে। মঙ্গলে জরুরি নিয়ম পালন করে চলুন। বুধে ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে বুদ্ধিতে এঁটে উঠবেন না। বৃহস্পতিবার কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ অনুকূল। শুক্রে পরিবেশ স্থিতিশীল। শনিতে ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনায় লাভ হবে না।

বৃশ্চিক রাশি: স্বার্থ ব্যাহত হবে। রবিবার তত শুভ নয়। সোমবার বিদ্যার্থীদের পক্ষে রূঢ় ব্যবহার ঠিক হবে না। মঙ্গলে অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার নেই। বুধে ভালো করতে গিয়ে উল্টো হবে। বৃহস্পতিবার আপনার যোগ্যতা বুঝে বিতর্কে এগোবেন। শুক্রে দূরে গিয়ে স্বল্প লাভ। শনিতে পরিচিত কারোর মাধ্যমে প্রাপ্তি।

ধনু রাশি: কেনাবেচার প্রতিষ্ঠানে সুনাম অর্জন হবে। রবিবার সহজ বুদ্ধিতে এগিয়ে যান। সোমবার কর্তব্য স্থির করা কঠিন হবে। মঙ্গলে সুন্দর পোশাক পরিহিত ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলুন। বুধে পড়াশোনার ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিন। বৃহস্পতিবার অনড় মনোভাব রাখুন। শুক্রে প্রতিকূল প্রভাব অব্যাহত। শনিতে ভালো যোগাযোগের ইঙ্গিত।

মকর রাশি: করতলের ওপর প্রাপ্তি নির্ভর করছে। রবিবার কোনো লোভনীয় ক্ষেত্রে রাজি হবেন না। সোমবার উচিত মনে করলে বন্ধুকে সরাসরি বলে ফেলুন। মঙ্গলে দিন যাপন ভালোই হবে। বুধে সন্ধ্যায় পরিবেশ জটিল হবার আশঙ্কা। বৃহস্পতিবার ন্যায্য পাওনা বিলম্বে পাবেন। শুক্রে আয়- ব্যয়ের সমতা রক্ষা করা যাবে না। শনিতে  সন্তানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করুন।

কুম্ভ রাশি: সমালোচনা শোনার জন্য প্রস্তুত থাকুন। রবিবার ভালোই কাটাতে পারবেন। সোমবার ব্যয় করে ঝামেলা মুক্ত হবেন। মঙ্গলে অবসাদ বোধ। বুধে যা প্রয়োজনীয় তাই করুন। বৃহস্পতিবার অচেনা কারোর সহায়তায় কার্যোদ্ধার। শুক্রে ভালোভাবে কাটবে। শনিতে আপনার ব্যবহার বাড়ির কেউ মানবেনা।

মীন রাশি: চরিত্রের দৃঢ়তার জন্য কেউ বিরুদ্ধে যেতে পারবেনা। রবিবার বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিন। সোমবার অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা। মঙ্গলে সাফল্য লাভ। বুধে ঝামেলায় যাবেন না। বৃহস্পতিবার কর্মযোগ শুভ। শুক্রে কাউকে প্ররোচিত করবেন না। শনিতে দরকারি আলোচনার সুযোগ।
সাপ্তাহিক রাশিফল ২১শে জুলাই থেকে ২৭শে জুলাই সাপ্তাহিক রাশিফল ২১শে জুলাই থেকে ২৭শে জুলাই Reviewed by WisdomApps on July 21, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল ৭ই জুলাই থেকে ১৩ই জুলাই ২০১৯

July 07, 2019

মেষ রাশি: স্বাধীনভাবে কাজে সামান্য বাধা। রবিবার পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। সোমবার সুযোগ বুঝে নিজের দাবি আদায় হতে পারে। মঙ্গলে সম্মতি সংক্রান্ত ব্যাপারে মতামত না দেওয়ায় ভালো। বুধবার সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। বৃহস্পতিবার অনুকূল প্রভাব অব্যাহত। শুক্রে বিরুদ্ধ শক্তির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। শনিতে অপরিমিত ব্যয়ের আশঙ্কা।

বৃষ রাশি: বিশেষ কোনো ঘটনা জীবনধারার ওপর আলোকপাত করবে। রবিবার তত শুভ নয়। সোমবার সন্তানের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি। মঙ্গলে যে সহায়তা করতে চাইবে তত উপযুক্ত নয়। বুধে শুভ পরিবর্তন। বৃহস্পতিবার আপনার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। শুক্রে বেলায় সুপ্ত ইচ্ছা পূরণ হবার সম্ভাবনা। শনিতে আনন্দের সঙ্গে দিনটি কাটবে।

মিথুন রাশি: কারোর অনুগ্রহ আপনাকে সহায়তা করবে। রবিবার বন্ধুস্থানীয় কারোর মাধ্যমে সুখবর পাবেন। সোমবার ব্যক্তিগত কারণে উদ্যেশ্য সফল হবে না। মঙ্গলে কাউকে কিছু বিস্তারিত বলা ঠিক হবে না। বুধে অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। বৃহস্পতিবার অদম্য উৎসাহ থাকায় সহজে হেরে যাবেন না। শুক্রে বেলায় শুভ পরিবর্তন। শনিবার কৌশলী বুদ্ধি নিয়ে পরিস্থিতি সামলে নেবেন। 

কর্কট রাশি: রাজনীতিক ক্ষেত্রে অশুভ সূচক। রোববার বেশি খরচ করে পরিস্থিতি সামলে দেবেন। সোমবার পাঁজরে আঘাত লাগার সম্ভাবনা। বুধবার দিনটি নৈরাশ্যজনক। প্রত্যাশিত প্রাপ্তি হবে না। বৃহস্পতিবার অপছন্দের কথাবার্তা নিয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না। শুক্রে সমস্যা বাড়তে পারে। শনিতে শুভ যোগাযোগ।

সিংহ রাশি: গৃহগত ক্ষেত্র অশুভসূচক। রবিবার যা সত্য তাই বলে দিন। সোমবার নিয়মমাফিক খরচ হবে। মঙ্গলে কর্মে বাধা। বুধে কোনো মহিলার মাধ্যমে সুপরামর্শ পেতে পারেন। বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী আপনার সঙ্গে আলোচনা করতে চাইবেন। শুক্রে পুরোনো শত্রুতা বাড়বে। শনিতে গতানুগতিক দিনযাপন।

কন্যা রাশি: অনুকূল আবহাওয়ায় প্রফুল্ল থাকবেন। রবিবার এলোমেলো ভাবে দিনটি কাটবে। সোমবার নিজের চেষ্টায় ঘটনাগুলোকে আয়ত্তে আনবেন। মঙ্গলে অনুকূল পরিবেশ। বুধে দরকারি ব্যাপারে সময়মত পৌঁছানো সম্ভব না। শুক্রে অধস্তন কর্মীর উপস্থিতি আপনার জন্য অনুকূল। শনিতে নিজের জন্য সময় রাখুন।

তুলা রাশি: হিসেব রাখার কাজে সুনাম বৃদ্ধি। রবিবার লেনদেন সংক্রান্ত ব্যাপার শেষ করে নিন। সোমবার কর্মযোগ শুভ। মঙ্গলে সময়মত কাজ শেষ হবে না। বুধে কাজ সুসম্পন্ন হবে। শুক্রে কাউকে কথা দিয়ে রাখতে পারবেন না। শনিতে অন্যের জন্য ব্যস্ত থাকতে হবে।

বৃশ্চিক রাশি: চঞ্চলতার জন্য ব্যক্তিগত জীবনে সময় নষ্ট। রবিবার আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক পথেই এগোবে। সোমবার যতটা আশা করেছিলেন তার চেয়ে কম টাকা পাবেন। মঙ্গলে গোপন বিষয় আলোচনার ফল ভালোই হবে। বুধে সুযোগ হাতছাড়া হবার আশঙ্কা। বৃহস্পতিবার অসতর্ক হলে বদনাম রটবে। শুক্রে বেলায় শুভ পরিবর্তন। শনিতে সবাইকে নিয়ে ভালোই দিন কাটবে।

ধনু রাশি: অতিরিক্ত দুঃসাহস ক্ষতির কারণ হতে পারে। রবিবার কিছু সমস্যা রয়েছে। সোমবার শুভ পরিবর্তন। মঙ্গলে বিশেষ কাজে সাফল্যের ইঙ্গিত। বুধে দরকারি কাজে পরিবারের সাহায্য পাবেন। বৃহস্পতিবার কাজের গতি কমতে পারে। শুক্রে জোর করে সত্য যাচাই করতে যাবেন না। শনিতে অনর্থক ছোটাছুটি করে সময় নষ্ট। 

মকর রাশি: আইন, দর্শনের সঙ্গে যুক্ত দের শুভ সময়। রবিবার প্রতিশোধের চিন্তা করলে ভুল করবেন। সোমবার অজানা কারণে মনে আঘাত। মঙ্গলে কোনো অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ত্ব আপনাকে নিতে হবে। বুধে কর্ম সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রত্যাশপুরণ। বৃহস্পতিবার প্রিয়জনের আচরণ বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। শুক্রে পারিবারিক দিক থেকে খুশি থাকবেন। শনিতে সপক্ষে পরিবেশ।

কুম্ভ রাশি: শিক্ষকতা কাজে বিশেষ সম্মান। রবিবার গতানুগতিক ভাবে দিন কাটবে। সোমবার পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। মঙ্গলবার অজানা বাধায় যাত্রা করা যাবেনা। বুধে ধৈর্য্য ধরে থাকুন। বৃহস্পতিবার খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। শুক্রে সহকর্মীর ওপর আস্থা রাখতে পারেন।শনিতে বিশ্বস্ত কেউ আপনাকে সাহস যোগাবে।

মীন রাশি: পিঠের ওপরের দিকে ব্যথার সম্ভাবনা। রবিবার শত্রুপক্ষকে অবদমিত করা সম্ভৰ। সোমবার পরিচিত কারোর দ্বারা উপকৃত হবেন। মঙ্গলবার যথাযথ পদক্ষেপে সাফল্য। বুধে ভুল হতে পারে। বৃহস্পতিবার অশুভ প্রভাব অব্যাহত। শুক্রে কাল্পনিক দুশ্চিন্তাকে প্রশ্রয় দেবেন না। শনিতে  তর্কে জিতে যেতে পারেন।
সাপ্তাহিক রাশিফল ৭ই জুলাই থেকে ১৩ই জুলাই ২০১৯ সাপ্তাহিক রাশিফল ৭ই জুলাই থেকে ১৩ই জুলাই ২০১৯ Reviewed by WisdomApps on July 07, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল 30 জুন থেকে 06ই জুলাই 2019 পর্যন্ত

July 03, 2019

মেষ রাশি: নৈসর্গিক কারণে কাজে বাধা পড়বে। রবিবার মোটামুটি করে কাটবে। সোমবার সন্ধ্যার পর শুভ পরিবর্তন। মঙ্গলে পরিবারের কারোর এবং বুধবারে প্রতিবেশী দ্বারা উপকৃত হবেন। বৃহস্পতিবার পারিবারিক কারণে উদ্বেগ থাকবে। শুক্রে পরিবেশের খুব একটা বদল হবে না। শনিতে বিদ্যার্থীদের পক্ষে ব্যস্ততার মধ্যে চলতে হবে।


বৃষ রাশি: গুপ্ত শত্রুর মুখোমুখি হয়ে কোনো সমস্যার মোকাবিলা করবেন। রবিবার অনুকূলে থাকায় দরকারি কাজ করে ফেলবেন। সোমবার সন্ধ্যার পর কোনো ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। মঙ্গলে কারোর ভুল ধরে অপ্রিয় হতে পারেন। বুধে কোনো খবরের জন্য অপেক্ষার অবসান। বৃহস্পতিবার অধস্তন কর্মীর মন বুঝে প্রস্তাব দিন। শুক্রে দৈনন্দিন কাজগুলি শেষ করবেন। শনিবার পারিবারিক ঘটনায় দুঃখ পাবেন। 


মিথুন রাশি: সার্বিকভাবে সম্মান অক্ষুন্ন থাকবে। রবিবার যতটা সম্মান পাবেন তার তুলনায় আর্থিক দিক দুর্বল। সোমবার শরীর নিয়ে সমস্যা কমবে। মঙ্গলে অনুকূলে পরিবেশ। বুধে দরকারি আলোচনা করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার বেশি খরচ করে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হবে। শুক্রে কেনাবেচার ব্যাপারে ভালো। শনিবার সহদরস্থানীয় কেউ আপনাকে সাহায্য করবে।


কর্কট রাশি: দূরদেশে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। রবিবার ঘরে  বাইরে শুভ প্রভাব। সোমবার প্রয়োজনীয় কাজ সন্ধ্যের মধ্যে শেষ করুন। মঙ্গলে ঝামেলা অল্পবিস্তর থাকবে। বুধে নানা ধরণের কোথায় বিচলিত হবেন না। বৃহস্পতিবার উদ্দেশ্য সফল হতে পারে। শুক্রে স্থিতিশীল পরিবেশ।  শনিতে কাউকে অর্থ দেওয়া উচিত হবে না।


সিংহ রাশি: পরিচিত আত্মীয়ের মাধ্যমে অর্থ সংক্রান্ত সুরাহা হয়ে যাবে। রবিবার অত্যন্ত শুভ পরিবর্তনের সম্ভাবনা। সোমবার প্রতিবেশীদের মধ্যে সদ্ভাব বজায় রেখে চলুন। মঙ্গলে অগ্রজসম কারোর জন্য বেশি অর্থ খরচ হতে পারে। বুধে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসতে পারেন। বৃহস্পতিবার গবেষণামূলক ক্ষেত্রে সম্মান প্রাপ্তির আশা। শুক্রে বাক্য ব্যবহারের দক্ষতার জন্য সম্মান লাভ। শনিবার অন্যের দ্বারা উপকৃত হবেন।


কন্যা রাশি: জীবিকার ক্ষেত্রে যশ এবং প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে। রোববার প্রভাবশালী ব্যক্তি অনুগত্য লাভ। সোমবার কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে কাজের দায়িত্ব বাড়বে। মঙ্গলে পিতৃস্থানীয় কারোর জন্য চিন্তিত থাকবেন। বুধে পারিবারিক ভ্রমণের সুযোগ অসংখ্য। বৃহস্পতিবার বয়সে বড় কারোর কথা শুনে চলতে হবে। শুক্রে স্বাস্থ্য ভালোই থাকবে। শনিতে আয় ব্যয়ের সমতা রক্ষা কঠিন।


তুলা রাশি: গুরুজনের সাহায্যতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবেন। রোববার বিরুদ্ধে পরিবেশ। সোমবার বিকেলে পর অস্বস্তি বাড়তে পারে। মঙ্গলবার না বুঝে হটাৎ ঠকে যাওয়ার আশঙ্কা। বুধে বাধা কমতে পারে। বৃহস্পতিবার মানসিক দৃঢ়তা বাড়বে। শুক্রে গুরুফলের আশা করতে পারেন। শনিতে আর্থিক যোগ শুভ। 


বৃশ্চিক রাশি: বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্য পূরণ হবে। রোববার প্রয়োজনীয় ব্যাপারে পারিবারিক সহায়তা পাবেন। সোমবার অনৈতিক কোনো তোষামোদ মেনে নেবেন না। মঙ্গলে অপ্রতিহত বাধায় অগ্রগতি ব্যাহত। বুধে মানসিক অশান্তি। বৃহস্পতিবার পশ্চিমদিক থেকে সহায়তা পেয়ে যাবেন। শুক্রে দৈনন্দিন কাজ নিজের মতো এগোবে। শনিতে প্রতিযোগিতা মূলক ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য।


ধনু রাশি: পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলুন। রবিবার মতবিরোধ হতে গিয়েও সামলে নেবেন। 
সোমবার মোটামুটি ভালোই কাটবে। মঙ্গলবার পরিজনেরা আপনাকে সমর্থন করবে। বুধে ন্যায্য পাওনা হাতছাড়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার আপনার কিছু বলার থাকলে শত্রুপক্ষকে বলে দিন। শুক্রে দিনটি মধ্যমপ্রদ কাটবে। শনিতে গতানুগতিক কাজগুলি হয়ে যাবে। 


মকর রাশি: গোপনীয়তা বজায় রেখে মেলামেশা করবেন। রবিবার সন্তানের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি। সোমবার শুভকর্মের জন্য ঋণ চাইলে পেয়ে যাবেন। মঙ্গলবার প্রতিপক্ষকে আপনার ইচ্ছা জানিয়ে দেবেন। বুধে প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিদ্যায় সাফল্য। বৃহস্পতিবার জনসংযোগ মূলক কাজে প্রশংসা বৃদ্ধি। শুক্রে ফাটকা ব্যবসায় টাকা লাগানো ঠিক হবে না। শনিতে সহকর্মীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা। 


কুম্ভ রাশি: ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সাফল্য। রবিবার প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল প্রাপ্তিতে সাফল্য। সোমবার আয়ের চাইতে ব্যয় বেশি হবার আশঙ্কা। মঙ্গলবার চঞ্চলতা থেকে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস। বুধে সাংসারিক কারণে জটিলতা। বৃহস্পতিবার বিতর্কে গেলে আপনি জয়ী হবেন। শুক্রে সুসংবাদ আসার সম্ভাবনা। শনিবার কেনাবেচায় লাভবান হবেন।


মীন রাশি: নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হবেন। রবিবার সহদরস্থানীয় দ্বারা উপকৃত হবেন। সোমবার দরকারি কাজ সকালে শেষ করুন। মঙ্গলবার অপ্রীতিকর পরিবেশ। বুধে প্রতিকূল প্রভাব আপনার কাজে বাধা দেবে। বৃহস্পতিবার বিদ্যার্থীর ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল হবে না। শুক্রে অনুকূল প্রভাব ফিরবে। শনিতে বিদ্যার্থীদের পক্ষে আশাজনক।


সাপ্তাহিক রাশিফল 30 জুন থেকে 06ই জুলাই 2019 পর্যন্ত সাপ্তাহিক রাশিফল 30 জুন থেকে 06ই জুলাই 2019 পর্যন্ত Reviewed by WisdomApps on July 03, 2019 Rating: 5

জল কামান খাওয়া এক প্রাথমিক শিক্ষকের অভিজ্ঞতা

June 27, 2019
দিনটা ২৪ শে জুন ২০১৯ । আগের দিন রাত্রে এক ভাই ফোন করে জিজ্ঞাসা করেছিলো - " দাদা , কাল আমরা শেষ কামড় বসাতে যাবো , তুমি আসবে তো ? " 
হেঁসে বললাম - কাকে আবার কামড়াতে যাবি ভাই ? ভেউ ভেউ করে দুর্নাম করেছিস , এবার কি কামড়ে জলাতঙ্ক করে ছাড়বি ? "
পরের দিন যে এভাবে আমার মুখের কথা জল-আতঙ্কের রূপ নেবে ভাবতে পারিনি । 
যাইহোক - কিছু হাসি ঠাট্টা করার পর বললাম - মায়ের অসুখ , আন্দোলনে যেতে পারবো না । ভাইটা আর কিচ্ছুক্ষন কথা বলে ফোন রেখে দিল । 
রাত তখন ৯ টা হবে ,প্রতিদিন এই সময়ে পাশের বাড়ির মেয়েটি বেশ চিৎকার করে পড়াশুনা করে । কোনো কোনো দিন ওর পড়া কানে আসে । শুনতে বেশ লাগে । পাড়ায় দু'এক জন নতুন সঙ্গীত শিল্পীও হয়েছে  , তাদের বেসুরো গানের চেয়ে পড়ার আওয়াজ বেশ মধুর । সেদিনও মন গেল , কি পড়ছে শুনতে পেলাম ।
 সিপাহী বিদ্রোহের কারন ও ফলাফল । 
 আশ্চর্য , হঠাত মনে হল - কালকের আন্দোলনটা কি সিপাহী বিদ্রোহের থেকে কোনো অংশে কম ? মনের মধ্যে এক আলাদা ভাবের সঞ্চার হল । এই আন্দোলন কি একরকম স্বাধীনতার আন্দোলন নয় ? - স্বল্প বেতনের লজ্জা থেকে স্বাধিনতা , মানুষের হাজারো বাঁকা প্রশ্নের থেকে স্বাধীনতা , মন খুলে বাঁচতে না পারার জ্বালা থেকে স্বাধীনতা । 
সিপাহী বিদ্রোহ একটি চরম অসফল বিদ্রোহ , ইংরেজদের কাছে গো হারা হেরেছিল সিপাহীরা । এমনকি মঙ্গল পান্ডে আত্মহত্যা করতে গেছিলেন । তবু আমরা স্বাধীনতার প্রথম সংগ্রামের কথা ভাবলেই এই বিদ্রোহের কথাই আগে মনে করি । এই বিদ্রোহ যেমন স্ফুলিঙ্গ ছিল পরবর্তী হাজারো সংগ্রামের , তেমনই হয়তো কালকের সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে । 

আর আমি  স্কুলে বসে হটস্টার চালিয়ে লাইভ টিভিতে দেখবো - আন্দোলনের কি পরিস্থিতি ? 
ভাবলাম , আমি কি এতটাই সঙ্কীর্ণ ? 

মন আর মানলনা । ঠিক করলাম যাবই , দেখি কি হয় - 


পরদিন সকাল আট'টার ট্রেন ধরবো ঠিক করেও পারলাম না । পরের ট্রেন সকাল ন'টায় । তাই হোক । বেড়িয়ে পড়লাম , কি হবে জানিনা তাই আলাদা কোনো প্রস্তুতিও নিইনি । জল , ছাতা , মানিব্যাগ , আই কার্ড আর ট্রেনে বসে পড়ার জন্য ব্রাইয়ান ট্রেসির বই ' মাস্টার ইওর টাইম , মাস্টার ইওর লাইফ ' নিয়ে  নিলাম। 
শিয়ালদহ পৌঁছে জানতে পারলাম - সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে যেতে হবে । ওখান থেকেই যাত্রা শুরু হবে । হয়তো শেষ হবে ধর্মতলায় রানী রাসমনী রোডে । উত্তেজনায় টগবগ করছে শরীর । কদিন আগেই একটা স্মার্ট ওয়াচ কিনেছিলাম । ঘড়িটাতে সময় ছাড়াও দিনে কত কিমি হাটলাম , হার্ট রেট কত - এরকম অনেক কিছু দেখা যায় । আন্দোলনে হাঁটতে হবে বলে স্মার্ট ওয়াচ পড়েই এসেছিলাম । শিয়ালদহ থেকে কিছুক্ষন হেটে পৌছালাম সুবোধ মল্লিক স্কয়ার-এ । দেখি কয়েক হাজার শিক্ষক রাস্তা জুড়ে দাড়িয়ে আছেন । পিছনের দিকের কয়েকজন চায়ের দোকানে বসে চা বিস্কুট খেয়ে নিচ্ছেন । অনেকে হাততালি দিয়ে জোড়ে জোড়ে - " পি.আর.টি ,  পি.আর.টি   " বলে চিৎকার করছে । বেশ একটা দুর্গাপুজার মতো পরিবেশ । শুনতে পেলাম টুপি আর ব্যাচ সামনে গেলে পাওয়া যাবে । কয়েক হাজার মানুষকে পাশ কাটিয়ে সামনে গেলাম । ভিড়ের এক্কেবারে সামনে ক্যামেরা হাতে কয়েকজনকে দেখলাম । আর দেখলাম " ইউইউপিটিএ "এর  এক একটি অক্ষর হাতে নিয়ে দারিয়ে আছেন দিদি মনি ও মাস্টারমশাইরা । ব্যাচ পেলাম , সেফটিপিনও; কিন্ত টুপি নেই ।  
এবার পালা চেনাজানা মুখ খোজার । লাইনের শেষ মাথা আর দেখা যায়না । তারই মধ্যে কিভাবে যেন জনা চারেক অতিপরিচিত শিক্ষকমশাইদের পেয়ে গেলাম । কিছুক্ষন অপেক্ষার পর বড় ব্যানার এল । দুটি ম্যাটাডো গাড়িও এলো , নেতৃত্ব যারা দিচ্ছেন তারা গাড়িতে করে রওনা দিলেন , তাদের হাতে মাইক্রোফোন । গাড়ির মাথায় লাগানো মাইক । কাছ থেকে দেখেছিলাম তাই বলতে পারি - নেতৃত্ব প্রদানকারী শিক্ষকদের কয়েকজনের শরীর বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়া গাছের মত হলেও তাদের উদ্যম এক আলাদা স্পার্কের জোগান দিচ্ছিল আমাদের মধ্যে । ১২ টা নাগাদ শুরু হল মিছিল । দুটি লাইন , রাস্তার দু'পাশ দিয়ে হাটা শুরু , সবাই এখানে শিক্ষক বা শিক্ষিকা । হাঁটতে হাঁটতে চলতে লাগলো স্লোগান - " আমরা কারা ? উস্থিয়ান, সামনে কারা - উস্থিয়ান ..." তারপর - " আমরা কি চাই ? পি.আর.টি ... " আরো অনেক কিছু । চলতে চলতে দেখা পাওয়া গেল সার বেধে দাড়ানো কলকাতা পুলিশের । তারা হাসি হাসি মুখ নিয়ে দাড়িয়ে দেখছিল মিছিলের চলমানতা । পুলিশের সামনে দাড়িয়ে গেলেন একদল শিক্ষক , হাতের তালির সাথে সাথে স্লোগান উঠলো - " পুলিশ তোমার ডি.এ বাকি , এই মিছিলে হাটবে নাকি ?"  
দু একজন পুলিশ মুখে এক অসহায় হাসি মেখে আমাদের এগিয়ে যেতে বললেন । আবার সচল হল মিছিল । পৌছালাম ধর্মতলা । নেতৃত্ব থেকে চুপি চুপি বলে গেল - " যতটা পারবেন আস্তে হাটবেন , ঘন্টা খানেক যানচলাচল অচল না হলে আমাদের খবর মিডিয়া নেবে না " । বুঝলাম তো, কিন্তু কত আর আস্তে হাঁটা যায় ? হাঁটতে হাঁটতে চোখ গেল আটকে থাকা গাড়িগুলোর দিকে । বাস , ট্যাক্সি , প্রাইভেট গাড়ি সব সারি বেধে দাঁড়িয়ে আছে । কেন জানিনা , বড় মায়া হল । ভাবলাম - আমরা যখন বাসে থাকি আর সামনে দিয়ে মিছিল যায় , তখন মনে হয় - কখন শেষ হবে ? ।  জানি , অনেক মানুষ ভয়ঙ্কর ব্যাস্ততা নিয়ে বেড়িয়েছেন । তারা হয়ত হা পিত্যেশ করছেন , হয়তো ভগবানের কাছে চাইছেন - এই জ্যাম তাড়াতাড়ি ঠিক করানোর জন্য । আবার এও মনে হল - ওই বাসে যারা বসে আছেন তাদের মধ্যেও হয়ত কেউ প্রাইমারী শিক্ষক বা কোনো শিক্ষকের স্ত্রী বা সন্তান বা পরিবারের কেউ । এই আন্দোলন তাদের জন্যেও । 
জানিনা মিছিলের আর কতক্ষন লেগেছিল রাস্তা পার হতে , তবে দুপুর ১ টা ১৫ নাগাদ আমরা জড়ো হলাম রানী রাসমনী রোডে । সামনের রাস্তা ঘিরে রেখেছে পুলিশ বাহিনী , প্রথমে একটা ব্যারিকেট , তারপর আরো উচু আরেকটি ব্যারিকেট । কথায় কাজ না হলে এই ব্যারিকেট ভাঙতে হবে । এটাই নাকি নিয়ম । এই দুটি ব্যারিকেট ভাঙতে পারলেই আমরা যেতে পারবো বিধানসভা , তারপর নবান্ন । 
ও , এতো অনেক কাজ । শরীরে শক্তির টান পড়েছে তাই পাশের একটি হোটেলে ঢুকে কয়েকটা নান খেয়ে নিলাম । হোটেলের মালিক জিজ্ঞাসা করলেন - " দাদা , এই " পি.আর.টি কি জিনিস ? সবাই দেখছি চাইছেন আপনারা " , বুঝলাম - সাধারন মানুষ অনেকেই আমাদের আন্দোলনের কারন বুঝতে পারেননি । একটু ভেঙ্গে বোঝালাম । ভদ্রলোক বললেন - " আরে দাদা , আপনারা কি পাগল হয়েছেন ? এ সরকার আর থাকবে না , এ শেষ সময়ে লুটেপুটে নিয়ে যাবে । আপনাদের কিচ্ছু দেবে না ।" 
কিছু বললাম না । আমরা রাজনীতি করতে আসিনি । কোনো রঙ নিয়েও আসিনি । শুধুই কয়েকটি দাবি নিয়ে এসেছি । সারা পশ্চিমবঙ্গের প্রায় দুই'লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকাদের মনের কথা সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি মাত্র । এভাবেই তো পরিবর্তন আসে । 


খেয়েদেয়ে শক্তি পেলাম । জড়ো হলাম ব্যারিকেটের কাছে । শুনলাম আমাদের নেতৃত্বদের মধ্যে ৫০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন । কাজেই আর বসে থাকা নয় । ধাক্কা মারো ব্যারিকেটে । 


শুরু তো হল ধাক্কা মারা , কিন্তু লোক কই ? আমরা জনা শ'তেক লোক গায়ের জোড়ে ধাক্কা মেরে চলেছি দড়ি বাঁধা পুলিশ ব্যারিকেটে । উল্টদিক থেকে প্রায় সম সংখ্যক পুলিশ একই তালে উল্টধাক্কা মেরে আটকে রাখছেন ব্যারিকেট । এ যেন  পুলিশ আর শিক্ষকের  - " দোল দোল দুলুনি খেলা " । আস্তে আস্তে যোগ দেওয়া শুরু করলেন আরো শিক্ষক শিক্ষিকা রা । মনে বল পেলাম । শুরু হল অন্তহীন ঠেলাঠেলি । বোঝা গেল - পুলিশের দম ফুরাতে শুরু করেছে । তাই - রেডি করা হল জল কামান । আগে শুধু টিভিতেই দেখেছি তাই বুঝিনি এর কি ক্ষমতা । ঝড়ের বেগে একরাশ জলরাশি  এসে লাগলো বুকের ছাতিতে । পিছিয়ে গেলাম কয়েক হাত । মনে পড়লো , পকেটে আছে কিস্তিতে কেনা ১৩ হাজারের ফোন । পিছিয়ে এলাম বেশ কিছুটা । তখনো জল কামান চলছে পুরোদমে । মোবাইলটাকে ব্যাগে ভরে , ব্যাগটাকে প্লাস্টিকে মুড়ে রেডি হয়ে আবার এগিয়ে গেলাম । নোংরা জলের স্রোত এসে লাগলো কানে , বুঝতে না বুঝতেই আবার , তারপর আবার । অন্য কেউ হলে হয়ত বিরত্ব দেখাতো কিন্তু আমি এক মাস্টারমশাইয়ের ছাতার তলায় গিয়ে কোনোরকমে নিজেকে বাঁচানোর চেস্টা করতে লাগলাম । ছাতার সাথে লড়াই করে জলের তোড় ভিন্ন পথ নিল । এবার শুরু হল হাটু আর মুখে আক্রমন । কিছুক্ষনের জন্য জলের ভয়ে কুকড়ে গেছিলাম । তারপর স্রোত থামল । জল শেষ । রিফিল করতে মিনিট দশেক লাগবে । দেখলাম - বুকের ব্যাচ কোথায় যেন ছিড়ে পড়েছে , জামা , জিন্স , পিঠের ব্যাগ সব ভিজে চুপচুপ করছে । মনে বেশ একটা কষ্ট লাগলো , আমরা প্রাইমারীর মাস্টাররা কি এতটাই অপ্রয়োজনীয় ? এতটাই হেয় ? ন্যায্য দাবির কথা বলায় - গ্রেফতার , জল কামান ? কেমন যেন অবিশ্বাস্য লাগছিল । আরো আশ্চর্য লাগছিল পিছনের কয়েক হাজার শিক্ষকদের দেখে । আমরা খাচ্ছি জল কামান , তাঁরা খাচ্ছেন - চা , সরবত , আখের রস । ভেজা জামাকাপড়েই পিছনের দিকে ছুটে গেলাম - সামনে যাদের পেলাম তাদের বললাম - " আপনারা এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে এগিয়ে আসুন , সবাই মিলে ঝাপিয়ে পড়ি " । তাঁরা অনেকেই আমার ছবি তুলে নিলেন । কয়েকজন পরিস্কার ভাষায় বললেন - " তোমরা লড়  আমরা সাথে আছি ।  বুঝলাম না " এ কেমন সাথে থাকা !!! রাগে শরীরে এনার্জি বেড়ে গেল । আবার গেলাম - ঠেলাঠেলি শুরু । আবার জলকামান শুরু । এবার আর পিছিয়ে আসিনি । বুদ্ধি করে সবাই মিলে ব্যারিকেট না ঠেলে দিলাম এক টান । ব্যাস , আমাদের দিকেই ভেঙ্গে পড়লো ব্যারিকেট । হুড়মুড়িয়ে ব্যারিকেটের উপর উঠতেই টের পেলাম এক মাস্টারমশাইয়ের পা চাপা পড়েছে লোহার ভারী ব্যারিকেটের তলায় । লাফ দিয়ে নেমে গেলাম ।  সামনে আরো বড় ব্যারিকেট  । পিছন ফিরে দেখলাম আহত শিক্ষককে পিছনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । মাস্টারমশাইয়ের চোট কেমন তা দেখার আগেই জল কামান এসে লাগলো গলার কাছে । ছুটে একপাশে চলে গেলাম । সরে গেলাম অনেকটা কোনার দিক , কামানের নাগালের বাইরে । কিছুক্ষন চালিয়ে আবার একটু বিরতি । এই মোক্ষম সময় দ্বিতীয় ব্যারিকেট ভাঙার । 


কিন্তু হায় !! এই ব্যারিকেটের ইঞ্জিনিয়ার পরীক্ষায় ফাঁকি মেরে পাশ করেনি । মজবুত ব্যারিকেট । ব্যারিকেটে ধাক্কা মারতে গেলে পাদানীতে চড়তে হচ্ছে , আর পাদানীটা ব্যারিকেটের-ই অংশ । একেই শক্ত স্টিলের ভার , তার উপরে নিজের ওজন , অন্যপাশে পুলিশ বাবাজীরা যুত করে ব্যারিকেটের পাদানির উপর উঠে বসে আছেন । এ ব্যারিকেট ভাঙতে ক্রেন প্রয়োজন । এমনিতেই শক্তি শেষ , তার উপরে ক্রমাগত জল কামান । এই যুদ্ধও চলল ৩০ মিনিট মত । আর পারছিলাম না । শুকনো ড্রেসের শিক্ষকেরা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন । সত্যি বলতে কি ভীষণ রাগ আর হিংসা হচ্ছিল । মনে হচ্ছিল - আমরা এই হাজার খানেক লোক পাগল , আর বাকি সবাই পাগলা গারদে এসেছেন পাগল দেখতে । 


যাইহোক , ব্যারিকেট যুদ্ধে আমাদের অবশ্যম্ভাবী হার যখন মনের ভিতরে জায়গা গেঁড়ে বসেছে তখন খবর পেলাম - " শিক্ষা মন্ত্রী কথা বলতে রাজি হয়েছেন । সুরাহা হবে " । ৩০ মিনিট রেস্ট । উঠে পরলাম । মাথা ঝিম ঝিম করছিল । গা হাত পা কাঁপছিল । এদিক ওদিক খুঁজে গতকালের ভাইটির দেখা পেলাম । তার জিন্স কিছুটা ভিজেছে । জলের ছিটে লেগেছে বোধ হয় । আমার সাথে কয়েকটা ছবি তুলে বলল - " দাদা , আমার কাছে গামছা আছে তুমি গা হাত পা মুছে এক সেট নতুন জামা প্যান্ট পড়ে নাও । " 
বললাম জামা প্যান্ট কোথায় পাবো ? এমন হবে তা তো জানতুম না তাই কিছুই এক্সট্রা আনিনি । 
কাজেই - ধর্মতলা বাজার থেকে একটা নতুন প্যান্ট আর গোল গলা গেঞ্জি কিনে পড়ে ফেললাম । পাশের হোটেলে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করলাম । তারপর ফিরত গিয়ে দেখি সব শান্ত । জল কামান আর নেই , সবাই পেপার পেতে বসে শুয়ে আছেন । মাইকে একজন শিক্ষক গান গাইছেন । এভাবেই কেটে গেল অনেকটা সময় । একজন বিজ্ঞ ব্যাক্তি এসে বললেন - " খবর পেলাম এই অবস্থান বিক্ষোভ না তুললে , গ্রেফতার হওয়া ৫০ জন শিক্ষকদের ছাড়া হবে না  " । 
গভীর এক হতাশা মন টাকে গ্রাস করে নিল । মাথা আর কান ততক্ষনে ব্যাথার চরম সীমায় পৌঁছে গেছিল । আর ওখানে বসে থাকতে পারলাম না । ভেজা বই ,আধ ভেজা মোবাইল আর ভেজা মানিব্যাগ ভরা ভেজা ব্যাগটাকে  কাঁধে নিয়ে উঠে পরলাম শিয়ালদহ যাওয়ার বাসে । মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বললাম - আরে আর কিছু হোক না হোক - এটুকু তো নিশ্চিত হলাম যে আমার স্মার্ট ওয়াচটি সম্পূর্ণ ওয়াটার প্রুফ । 


[ আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম - এক প্রাথমিক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ]

***ভালো লাগলে লেখাটি শেয়ার করতে পারেন 
জল কামান খাওয়া এক প্রাথমিক শিক্ষকের অভিজ্ঞতা  জল কামান খাওয়া এক প্রাথমিক শিক্ষকের অভিজ্ঞতা Reviewed by WisdomApps on June 27, 2019 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল 22/06/19 থেকে 28/06/19 পর্যন্ত

June 23, 2019

মেষ রাশি: কর্মকে বদল করার জন্য মনস্থির করুন। রবিবার কর্ম ও পরিবার অনুকূল। সোমবার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ না করলে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা। মঙ্গলে পরিবেশ মিশ্র। বুধে অর্থকরী বাধা। বৃহস্পতিবার মনে নব আশা। শুক্রে শুভযোগ। শনিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।


বৃষ রাশি: ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ভয় পাবেন না। রবিবার নতুন কাজে সাফল্য। সোমবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে সাফল্য। মঙ্গলে প্রত্যাশপুরণ হতে পারে। বুধে অনুকূল প্রভাব অব্যাহত। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি জটিল। শুক্রে অর্থযোগ শুভ। শনিতে একটু বেলায় শুভ পরিবর্তন।


মিথুন রাশি: এককভাবে এগোতে পারবেন। রবিবার দ্রুত কোনো ঘটনা ঘটবে, চিন্তা করার সময় পাবেন না। সোমবার পদস্থ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত। মঙ্গলে আনন্দবহুল পরিবেশ। বুধে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লাভ। বৃহস্পতিবার অপ্রত্যাশিত যোগাযোগ। শুক্রে সামাজিক ক্ষেত্রে খ্যাতি বৃদ্ধি। শনিতে কোনো চুক্তিতে সই না করাই ভালো।


কর্কট রাশি: স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সিদ্ধান্ত নিন। রবিবার অশান্তির ভেতরে কাটবে। সোমবার অশুভ যোগ। মঙ্গলে কর্মে বাধা। বুধে একইরকম ভাবে কাটবে। বৃহস্পতিবার শুভ পরিবর্তন। শুক্রে মনের আশা পূরণ হবে। শনিতে ধনাগমের আশা।


সিংহ রাশি: মায়ার বাঁধনে কাউকে গিয়ে সমালোচনা শুনতে হবে। রবিবার অনুকূলে পরিবেশ থাকবে। সোমবার বিকেলের পর কোনো ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। মঙ্গলে অকারণ ভীতি সৃষ্টি হবে।  বুধে পরাভব মেনে নিলে জটিল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি। বৃহস্পতিবার হজমের গোলমালে কষ্ট। শুক্রে কারোর জন্য অপেক্ষা করে সময় নষ্ট। শনিতে নতুন যোগাযোগ। 


কন্যা রাশি: ঘরে বাইরে সন্মান, পদমর্যাদা। রবিবার আশানুরূপ পরিবেশ। সোমবার সম্মানজনক ক্ষেত্র থেকে শুভফল আশা করতে পারেন। মঙ্গলে খাদ্য সম্পর্কিত ব্যাপারে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা। বুধে ঘরে বাইরে আশানুরূপ পরিবেশ। বৃহস্পতিবার ধীরে চলা দরকার। শুক্রে সামান্য কাজে পরিশ্রম বেশি হবে। শনিতে দুপুরের পর শুভ পরিবর্তন।


তুলা রাশি: কতগুলো নিয়মের বশবর্তী হয়ে চলতে হবে। রবিবার তত শুভ নয়। সোমবারও অস্থিরতার ভেতর কাটবে। মঙ্গলে বিতর্কিত ক্ষেত্রে জয়লাভের সম্ভাবনা। বুধে কিছু প্রাপ্তি ও সার্থকতা। বৃহস্পতিবার প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ। শুক্রে প্রয়োজনীয় কাজ অল্প প্রয়াসে এগিয়ে যাবে। শনিতে পূর্বের কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে।


বৃশ্চিক রাশি: বিশ্বস্ত কারও ওপর নির্ভর করতে পারেন। রবিবার কাজকর্মে বাধা। সোমবার ঝামেলা অব্যাহত। মঙ্গলে যত পরিচিতই হোক চুক্তির ক্ষেত্র খতিয়ে দেখা দরকার। বুধবার পরিবেশ প্রতিকূল। বৃহস্পতিবার সমস্যা কিছু কমবে। শুক্রে মোটের উপর শুভ। শনিতে কোনো প্রচেষ্টা সার্থক রূপ নেবে। 

ধনু রাশি: সন্তানের ব্যবহারে ক্ষুদ্ধ হবেন। রবিবার প্রতিবেশী কারোর মাধ্যমে দরকারি খবর পাবেন। সোমবার অজ্ঞাতকারণে নিশ্চিত প্রাপ্তি হাতছাড়া। মঙ্গলে বিরোধিপক্ষকে নিয়ে দুশ্চিন্তা। বুধে দিনটি সংগ্রামবহুল। বৃহস্পতিবার সুখবর আসতে পারে। শুক্রে নতুন সমস্যার আশঙ্কা। শনিতে পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন।

মকর রাশি: ভালোয় মন্দয় মিলিয়ে কাটবে। রোববার বেশি দূরে যাওয়ার পক্ষে শুভ নয়। সোমবার অর্থকরী অনিশ্চয়তা। মঙ্গলে অনুকূলতা অব্যাহত। বুধে কর্ম ও পারিবারিক ক্ষেত্রে শুভদায়ক। বৃহস্পতিবার পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকম প্রভাব বর্তমান। শুক্রে বাধা। শনিবার নতুন কিছুর পক্ষে অনুপযুক্ত।


কুম্ভ রাশি: ক্ষমতাবান ব্যক্তি সমস্যা সমাধানের জন্য আপনাকে বলবেন। রবিবার শুভ পরিবর্তনের সম্ভাবনা। সোমবার কাজ কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর আটকে যেতে পারে। মঙ্গলে অনিশ্চয়তার প্রভাব থাকায় কোথাও দেরী হতে পারে। বুধে ভুল পথে অর্থ খরচ। বৃহস্পতিবার কর্মক্ষেত্রে আপনার মতামত গুরুত্ব পাবে। শুক্রে নানাদিক বিশেষ উল্লেখযোগ্য। শনিতে দুপুরের পর জটিলাকার ধারণ করতে পারে।


মীন রাশি: শরীর নিয়ে বাধা। রবিবার আর্থিক ব্যাপারে আশাহত। সোমবার যা আশা করবেন পেতে পেতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। মঙ্গলে শুভ যোগাযোগ। বুধে নতুন কিছু শুরু করে রাখতে পারেন। বৃহস্পতিবার অর্থ, পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটবে। শুক্রে কাউকে কথা দিয়ে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। শণিতে বেলায় শুভ পরিবর্তন।
সাপ্তাহিক রাশিফল 22/06/19 থেকে 28/06/19 পর্যন্ত সাপ্তাহিক রাশিফল 22/06/19 থেকে 28/06/19 পর্যন্ত Reviewed by WisdomApps on June 23, 2019 Rating: 5

মাত্র ৫৫০০ টাকায় ২ জন ,২ রাত ৩ দিন ভালোভাবে দার্জিলিং ঘুরে আসতে পারবেন - দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড

June 18, 2019
এই লেখাটি আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি । খুব কম খরচে দুই জন মানুষ অনায়াসে দার্জিলিং ঘুরে আসতে পারবেন । থাকা , খাওয়া ও সাইট সিন সব নিয়ে ৫৫৩০ টাকার ভিতর বেশ ভালোভাবে হয়ে যাবে ।  কেনাকাটা করার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আপনার , ওটার উপর আমার কিছু করার নেই । তাহলে আসুন স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নিই কীভাবে এত কম খরচে আপনি ঘুরতে পারবেন ? 


ট্রেনের টিকিট ঃ ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান অন্তত ৩ মাস আগে করবেন এবং মনস্থির করার সাথে সাথেই টিকিট কেটে রাখলে সঠিক দামে কনফার্ম টিকিট পাবেন । হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি যাওয়ার ভাড়া মাত্র ৩২০ টাকা / হেড । তাহলে দুইজনের ভাড়া পরবে ৬৪০+ ট্যাক্স = ৬৫০ টাকা ধরুন । 
দুইদিনের ট্যুর ধরে নিয়ে রিটার্ন টিকিট টাও কেটে নিন । একই ভাড়া পড়বে । তাহলে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত যাওয়া ও ফেরত আসা = ১৩০০ টাকায় কমপ্লিট । 
চেষ্টা করবেন এমন ট্রেন ধরার যেটা ভোর বেলা নিউ জলপাইগুড়ি পৌছাবে । ভোরের দৃশ্য খুব সুন্দর । 


নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং ঃ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের কাছে আটোস্ট্যান্ড আছে । ২০টাকা করে ভাড়া নেবে , পৌছে যাবেন তেঞ্জিং নোরগে বাসট্যান্ড । এখানেই শেয়ার জিপ পেয়ে যাবেন । ভাড়া মাথা পিছু ১৫০ টাকা । ৩ ঘন্টা জার্নি করে দার্জিলিং পৌছে যাবেন । এখানে দুজনের মোট খরচ - ৩০০+৪০ = ৩৪০ টাকা । 
কোন হোটেলে থাকবেনঃ দার্জিলিং-এ প্রচুর হোটেল আছে । ভ্রমণ সিজন - অর্থাৎ গরম কালে ভিড় বেশী থাকে তাই ঘরের ভাড়া বেড়ে যায় । অন্য সময় বেশ কম । অনলাইনে বুক করলে মাত্র ৪০১ টাকা থেকে ১০০০  টাকার ভিতর অনেক হোটেল পেয়ে যাবেন । ৭০০ - ৮০০ টাকার হোটেলও বেশ ভালো । অ্যাটাচ বাথরুম , গিজার পেয়ে যাবেন ৭০০টাকার রুমে । ধরে নিলাম ৭৫০ টাকা রেটে রুম বুক করলেন । তাহলে দু'দিনে রুম রেন্ট = ১৫০০ টাকা । 


মেন বিষয় , সাইট সিন ঃ দার্জিলিং এ দুই দিনের প্ল্যান নিয়ে গেলে একদিন সাইট-সিন করবেন আর একদিন পায়ে হেটে ঘুরে বেড়াবেন । পায়ে হেটে ম্যাল , ম্যাল মার্কেট , মহাকাল মন্দির , চউক বাজার , নেহেরু মার্কেট , ছোট ছোট মনাস্ট্রি , কৃষ্ণ মন্দির  ঘুরে দেখতে পারেন । এতে কোনো খরচা হবে না । কোথাও কোনো এন্ট্রি টিকিট নেই । 
দ্বিতীয় দিন সাইট সিন করার জন্য আগের দিন  অবশ্যই গাড়ি বুক করতে হবে । একটা গাড়ি বুক করলে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা লাগে । দুজনের জন্য বুক করবেন না । গাড়ির ড্রাইভারদের বললেই তারা আরও এক জোড়া টুরিস্ট খুঁজে দেবে , একটা ৪ সিটার গাড়ি ৪ জন মিলে ২০০০ টাকায় বুক করলে মাথাপিছু মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া লাগবে । 
অতএব , দুই জনের সারাদিন সাইট সিনের খরচ মাত্র ৫০০+৫০০ = ১০০০ টাকা । গাড়ি আপনাকে নিয়ে যাবে , টাইগার হিল , বাতাসিয়া লুপ , ঘুম মনাস্ট্রি , রক গার্ডেন , টি গার্ডেন , চিড়িয়াখানা , রোপওয়ে , তেঞ্জিং রক , পিস প্যাগোডা , বুদ্ধ টেম্পেল  প্রভৃতি জায়গায় । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো টিকিট লাগে না । বাতাসিয়া লুপ ও চিড়িয়াখানা দেখতে টিকিট কাটতে হবে , টিকিট ও ছবি তোলার ৫০ টাকা খরচ ধরে দুজনের মোট ২০০ টাকা খরচ হবে ।  রোপওয়ের খরচ ৩৫০ টাকা / হেড , খরচ বাঁচাতে এটা বাদ দিতে পারেন । যাইহোক , সাইটসিন করতে মোট খরচ = ১২০০ টাকা 

খাওয়া দাওয়া ঃ প্রথমেই মনে রাখবেন , ছাতু , চিড়ে , মুড়ি , বিস্কুট - এগুলো বাড়ি থেকে যথেষ্ট পরিমান সাথে নিয়ে বেরোবেন । দার্জিলিং এ খাবারের দাম বেশ ভালো । মোটামুটি দেখে নিন এই কদিনের খাবার তালিকা - 
প্রথম দিন
১।  ট্রেনে ডিনার - ( বাড়ি থেকে নিয়ে যাবেন )
২। ট্ব্রেরেন থেকে নেমে ব্রেকফাস্ট - ছাতু / চিড়ে খেয়ে নিন 
২। হোটেলে পৌছে দুপুরের খাবার - নিরামিষ ভাত থালি ১০০ টাকা মিনিমাম । দুজন ২০০ টাকা । 
৩। সন্ধ্যের খাবার - মোমো খেতে পারেন । ১ প্লেট ৪০ টাকা 
৪। রাত্রের খাবার - রুটি ১০ টাকা পিস । ৬ পিস রুটি + তরকারী = ৮৫ টাকা 
দ্বিতীয় দিন 
১। ব্রেকফাস্ট - ছাতু / মুড়ি / চিড়ে খেয়ে নিন 
২। লাঞ্চ - আমিষ থালি  - ১৫০ টাকা / প্লেট । দুজনের - ৩০০ টাকা 
৩। সন্ধ্যের খাবার - চাউমিন খেতে পারেন । ১ প্লেট ৫০ টাকা - দুজনের হয়ে যাবে 
৪। ডিনার - একই হিসাবে মোট ৮৫ টাকা 
ফেরত আসার দিন 
১। ব্রেকফাস্ট - ছাতু / মুড়ি খেয়ে নিন 
২। ট্রেনে খাবার - মালদা স্টেশনে ট্রেন এসে অনেকক্ষণ দাঁড়ায় । ৫ টাকায় পরোটা , ১০ টাকায় দই , ৫ ৩। টাকায় মিস্টি পেয়ে যাবেন । ৫০ টাকায় দুজনের খাওয়া হয়ে যাবে । 

মোট খাবার খরচ - ৭৯০ টাকা + চা'য়ের খরচ = ৮২০ টাকা ধরা যাক । 



ফেরত আসার দিন ঃ হোটেল যদি ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের কাছে না থাকে তাহলে একটা ট্যাক্সি করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে আসতে হবে - খরচ - ৩০০ টাকা, অন্যথায় এই খরচ লাগবে না  । ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে শেয়ার ট্যাক্সি ডাইরেক্ট নিউ জলপাইগুড়ি আসবে । খরচ দুজনের মিলিয়ে - ৩৪০ টাকা । 


সর্বমোট খরচ ঃ 

যাওয়া আসা ঃ ১৩০০ + ৩৪০ + ৩৪০ = ১৯৮০ টাকা 

সাইট সিন ও টিকিটঃ ১২০০ টাকা 

হোটেল খরচঃ ১৫০০ টাকা 

খাওয়া দাওয়াঃ ৮২০ টাকা  

দুই জন মানুষের ২ রাত তিন দিনের দার্জিলিং ঘোরা , থাকা , খাওয়ার মোট খরচ  = ৫৫০০ টাকা 


** রোপওয়ে চড়লে , ৭০০ টাকা জুড়ে নেবেন - মোট ৬২৩০ টাকা 
** কেনাকাটার খরচ সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত ব্যাপার , তবে ৩০০০ টাকায় খুব ভালো কেনাকাটা করা যেতে পারে । বারগারিং করতে হবে । 

দার্জিলিং ঘোরার খুঁটিনাটি বিষয় , যেগুলো না জানলে আপনি ঠকে যাবেন , সেগুলোর উপর আমাদের একটি ভিডিও আছে দেখে নিন - ভীষণ উপকার পাবেন - লিঙ্ক YouTube






লেখাটি ভালো লাগলে , শেয়ার করে আমাদের উতসাহ বাড়াতে পারেন । 


[ আমরা যে হোমস্টেতে ছিলাম- রিন্সাং খাংসার হোমস্টে  ] বিস্তারিত দেখে নিন 









  
মাত্র ৫৫০০ টাকায় ২ জন ,২ রাত ৩ দিন ভালোভাবে দার্জিলিং ঘুরে আসতে পারবেন - দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড মাত্র ৫৫০০ টাকায়  ২ জন ,২ রাত ৩ দিন ভালোভাবে দার্জিলিং ঘুরে আসতে পারবেন - দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড Reviewed by WisdomApps on June 18, 2019 Rating: 5

রাশিফল বাংলা ১৬-০৬-২০১৯ থেকে ২২-০৬-২০১৯

June 16, 2019


মেষ রাশি: প্রায় নাগালের মধ্যে এসেও কোনো প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। রবিবার ভুল বোঝাবুঝি ও নৈরাশ্য। সোমবার মনের দিক থেকে খুশি থাকবেন না। মঙ্গলে অশুভ প্রভাব অব্যাহত। বুধে আটকে থাকা ক্ষেত্রে সুসংবাদ। বৃহস্পতিবার পরিবেশ কর্ম ও পরিবারের অনুকূলে। শুক্রে প্রয়োজনীয় কাজগুলি অনায়াসে হবে। শনিতে মনের দিক থেকে খুশি থাকবেন। 


বৃষ রাশি: প্রতিপক্ষ আপনার সাহায্য চাইতে পারবে না। রবিবার সুনাম অর্জনের সম্ভাবনা। সোমবার গতানুগতিক ভাবে দিনযাপন। মঙ্গলে বিরূপ পরিবেশ মানিয়ে চলতে হবে। বুধে নিশ্চিত পাওনা আটকে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নেওয়া অনুচিত। শুক্রে দুশ্চিন্তায় দিন কাটবে। শনিতে বহুদিন পর শুভ প্রভাব থাকবে।


মিথুন রাশি: প্রিয়জনের হাবভাব বুঝে দরকারি কথা বলে দিন। রোববার নিজের উদ্যোগে জয়ী হতে পারেন। সোমবার পারিবারিক ঘটনায় আপনার উপস্থিতি প্রয়োজন। মঙ্গলে জরুরি ব্যাপার আপোষে সমাধান করুন। বুধে অর্থকরী সাফল্য। বৃহস্পতিবার ও শুক্রে সমস্যা বাড়তে পারে। শনিতে বাইরের ঝঞ্ঝাট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।


কর্কট রাশি: মূল উদ্দেশ্য থেকে না সরে নিজের বিষয় ভালোভাবে গুছিয়ে নেবেন। রবিবার ব্যস্ততার ভেতরে চলতে হবে। সোমবার অবস্থা বুঝে এগোনো দরকার। মঙ্গলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বেরিয়ে আসার আনন্দ পাবেন। বুধে অপেক্ষার অবসান, ন্যায্য প্রাপ্তি। বৃহস্পতিবার প্রিয়জনের সান্নিধ্য। শুক্রে অনুকূল প্রভাব অব্যাহত। শনিবার পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকম প্রভাবই প্রকট থাকবে। 


সিংহ রাশি: আপনার যুক্তি সবাই মেনে নিতে চাইবে। রবিবার কোনো ঘটনায় দুঃখ পেতে পারেন। সোমবার তাড়াহুড়ো করলে ভুল বেশি হবে। মঙ্গলবার অস্বস্তি বাড়বে। বুধে বিকেলের পর উন্নতির সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার পরিবেশ অনুকূল থাকবে। শুক্রে নানা ঘটনার সমন্বয় দিন কাটবে। শনিবার পারিবারিক জীবনে শান্তিপূর্ন।


কন্যা রাশি: অজানা কারণে দিনগুলি কাজে লাগাতে পারবেন না। রোববার সহোদরস্থানীয় কাউকে পেয়ে ভালোই কাটবে। সোমবার কর্ম নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হবে। মঙ্গলবারে অশুভ প্রভাব বর্তমান। বুধে সন্তানের অসন্তোষ বুঝে ওঠা কঠিন। বৃহস্পতিবার প্রতিকূল প্রভাব আপনাকে এগোতে দেবে না। শুক্রে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন। শনিতে বাধা থেকে অব্যাহতি।


তুলা রাশি: শরীর নিয়ে ঝকমারি থাকবে, পরিবেশ থেকে সাহায্য পাবেন। রোববার ভ্রমণের ব্যাপারে বিবেচনা করে কথা দিন। সোমবার বিশ্বাসভাজন ব্যক্তির দ্বারা উপকৃত হবেন। মঙ্গলে বুদ্ধিবলে কার্যোদ্ধার করুন। বুধে সন্ধ্যার আগে দরকারি কাজ শেষ করুন। বৃহস্পতিবার অশুভ পরিবর্তন। শুক্রে অপ্রীতিকর পরিবেশ। শনিবার একইরকম কাটবে।


বৃশ্চিক রাশি: প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আরও ছোট করে বক্তব্য বলুন। রবিবার অনুকূল প্রভাব অব্যাহত। সোমবার কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আরও বিচক্ষণতার দরকার। মঙ্গলে আত্মীয়স্বজনের দোষারোপ করে লাভ নেই। বুধে ঝুঁকি এড়িয়ে চলুন। বৃহস্পতিবার তোয়াজকরে কাজ হাসিল করতে হবে। শুক্রে স্থিতিশীল পরিবেশ। শনিতে পরিবারে বাধা।


ধনু রাশি: আবেগপ্রবণ হয়ে কর্মে যোগ দিতে দেরি করবেন। রবিবার অসুবিধার মধ্যে থাকবে। সোমবার অন্যরকম চিন্তা স্থির সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হবে। মঙ্গলে গবেষণামূলক কাজে শুভ। বুধে প্রয়োজনীয় ব্যাপারে কাজ শেষ করুন। বৃহস্পতিবার সব গুছিয়ে উঠতে হিমশিম খাবেন। শুক্রে কথা দিয়েও রক্ষা করতে পারবেন না। শনিতে শুভ পরিবর্তন।


মকর রাশি: কাল্পনিক দুশ্চিন্তা থাকবে। রবিবার অগ্রজসম কেউ সাহায্য করতে পারে। সোমবার ছোট ব্যাপারেও নিরাশ হবেন। মঙ্গলে বিপক্ষ পরিবেশ থাকায় অগ্রগতি ব্যাহত। বুধে চিন্তামুক্ত হবার সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার অনুকূল যোগাযোগ। শুক্রে শান্তিতেই কাটাবেন। শনিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে সেরকম লাভ হবে না।


কুম্ভ রাশি: বেশ নিশ্চিত ভাবে দিনগুলি কাটবে। রবিবার  গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বিশেষ সম্মান। সোমবার বকেয়া পাওনা পেয়ে যেতে পারেন। মঙ্গলবার আশাপ্রদ যোগাযোগ। বুধে দায়িত্বপূর্ণ কাজগুলি শেষ করুন। বৃহস্পতি, শুক্রে ঝুঁকি নিলে ক্ষতির আশঙ্কা। শনিতে মোটামুটি ভালোই কাটবে।


মীন রাশি: উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ আপনার দাবি মেনে নেবে। রবিবার উদাসীনতার জন্য সুযোগ হাতছাড়া হবার আশঙ্কা। সোমবার কর্মস্থলে অনুকূল যোগাযোগ। মঙ্গলে পরিচিত মহলে যোগাযোগ বাড়বে। বুধবার স্বাধীনভাবে কাজ করে শান্তি পাবেন। বৃহস্পতিবার অর্থযোগ শুভ। শুক্রে সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যস্ততা বাড়বে।  শনিতে স্বস্তি কম থাকবে।
রাশিফল বাংলা ১৬-০৬-২০১৯ থেকে ২২-০৬-২০১৯ রাশিফল বাংলা ১৬-০৬-২০১৯ থেকে ২২-০৬-২০১৯ Reviewed by WisdomApps on June 16, 2019 Rating: 5

যে ৫ টি কারনে - ডিমের খোসা খাওয়া উচিৎ প্রতিদিন

June 12, 2019
আমাদের কাছে পরিচিত সবচেয়ে পুষ্টিকর এবং সুস্থ খাদ্য সামগ্রীগুলির মধ্যে ডিম অন্যতম , এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের  ব্রেকফাস্ট খাদ্যের অংশ হিসাবে ডিম অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয় যে, ডিমগুলির মতোই, ডিমের খোসাগুলি বিভিন্ন পুষ্টির সাথেও আসে এবং স্বাস্থ্য উন্নতির ক্ষেত্রে খাদ্য হিসাবে অসাধারণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম । 

যদিও, ভোজ্য অংশগুলি যেমন ডিমের কুসুম বা ডিমের সাদা অংশ গ্রহণের পরে অধিকাংশ লোক ডিমের বাকি অংশ ফেলে দেয় ।  কিন্তু , ডিম শেলগুলিও খাওয়া যায়। আসুন eggshells-এ থাকা প্রধান স্বাস্থ্য সুবিধার দিকে তাকানো যাক  । 
সামগ্রিক সুস্থ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন - গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে ডিমের খোসা গুলো খাওয়ার সর্বোত্তম উপায় পাউডারের আকারে এবং নিয়মিতভাবে এই পাউডারটি বিভিন্ন খাবারে সাথে যোগ করে গ্রহণ করলে,  সহজেই  সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতা রক্ষা করা যেতে পারে। 


ডিমশেলে উপস্থিত হায়ালুরোনিক এসিড আপনার ত্বককে আলোকিত করতে পারে, তবে চন্দ্রোইটিন, কোলাজেন এবং গ্লুকোজামিনের মতো অন্যান্য উপাদান গুলি গাঁটের যন্ত্রণা দূর করতে সহায়তা করে।

দেহের বিষাক্ত উপাদান নির্মূল করতে - রক্ত ​​পরিষ্কার করা বা রক্ত থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদানগুলি নির্মূল করার জন্য ডিমশেল পাউডার একটি দুর্দান্ত সমাধান হতে পারে। কমপক্ষে তিন গ্লাস  , ডিমশেল পাউডার এবং জলের  মিশ্রণ প্রতিদিন খাদ্য হিসাবে গ্রহন করলে  শরীরের বিষাক্ত এজেন্টকে কার্যকরভাবে মুছে ফেলা যায় ।

থাইরয়েড গ্রন্থিগুলিও চিকিত্সা করতে - থাইরয়েড সমস্যা সমাধানের  জন্য আপনি  ডিমের খোসাগুলোকে চূর্ণ করে, এতে লেবুর রস যোগ করে, কমপক্ষে 7 দিনের জন্য ফ্রিজে এটি সংরক্ষণ করে রাখুন । প্রতিদিন সকালে 1 চা চামচ গুড়ো মধু মিশিয়ে  খালি পেটে খেলে ভীষণ উপকার পাবেন । 


গ্যাস্ট্রিক আলসারের নিরাময়ের উপায় ডিমের খোসা  - গ্যাস্ট্রিক আলসার নিরাময় করার জন্য সর্বাধিক কার্যকরী প্রাকৃতিক প্রতিকারের ক্ষেত্রে ডিমশেলগুলির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিমশেলের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টিকর উপাদান গুলি  গ্যাস্ট্রিক আলসারের অবস্থার উন্নতির জন্য আদর্শ পথ্য হিসাবে কাজ  করে । নরম ডিমশেল পাউডার এবং গরম দুধের মিশ্রণ নিয়মিত নেওয়া হলে আলসার বা গ্যাস্ট্রাইটিস নিরাময় হতে পারে।

হাড়গুলি শক্ত করে তুলুন - ক্যালসিয়াম শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির মধ্যে একটি, হাড়গুলি শক্তিশালী এবং সুস্থ রাখতে, শরীরের দৈনিক ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা জরুরি। ডিমসেলগুলির মধ্যে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়, বিশুদ্ধ ক্যালসিয়ামের এই উত্স  হাড় শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। 
ডিমশেল গুলি খাদ্য হিসাবে গ্রহন করলে স্বাস্থ্যকর দাঁত আজীবন টিকে থাকে । অতএব বলা চলে নিয়মিত খাদ্য হিসাবে এটি গ্রহন  করা যেতে পারে, এবং  স্বাস্থ্য ভাল রক্ষণাবেক্ষণে ডিমশেল বা ডিমের খোসারএকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি মূল্য আছে। 
অতএব, ডিমগুলোকে ব্যাবহার করার পর নিক্ষেপ করার পরিবর্তে মসৃণ ডিমশেল পাউডার তৈরি করে ডিমশেলগুলি ব্যবহার করা এবং খাদ্যতে পাউডার হিসাবে যোগ করা অবশ্যই নিজের স্বাস্থ্যের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সম্ভাবনা সরবরাহ করে।



লেখাটি লিখেছেন - 
ডায়েটেশিয়ান শিখা মহাজন 
[ লেখাটি শেয়ার করুন হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের মাধ্যমে ] 


ইংরাজী লেখার লিঙ্ক - 
যে ৫ টি কারনে - ডিমের খোসা খাওয়া উচিৎ প্রতিদিন যে ৫ টি কারনে - ডিমের খোসা খাওয়া উচিৎ প্রতিদিন Reviewed by WisdomApps on June 12, 2019 Rating: 5

জন্মদিন - পার্থ চক্রবর্তী

June 10, 2019

বাড়িতে মা ষষ্ঠীর পুজোটা বেশ যত্ন নিয়েই করেন সুচতনা দেবী। বিয়ে হয়ে আসার পর থেকেই শাশুড়ি মা বলেছিলেন জামাইষষ্ঠীর দিনে অরন্যষষ্ঠীর ভক্তিভরে পুজো করলে পরিবারের ধন সম্পদ সুখ শান্তি অক্ষয় হয়। ছেলেপুলেদের জীবনও অক্ষয় হয়। সেই দিন আর নেই। শাশুড়িও নেই, আর সুখ শান্তিও অক্ষয় হয়নি সুচেতনার। বিয়ের ৪ বছরের মধ্যেই স্বামীকে হারিয়েছিলেন। সেই শোকেই অল্পদিনের মধ্যেই গেলেন শাশুড়ি। ছোট্ট রঞ্জুকে বুকে নিয়ে জীবন সংগ্রামে নেমেছিলেন তিনি। স্বামীর অফিসের চাকরিটা পেয়ে একটা ভরসা পেয়েছিলেন বুকে। আজ তিনি অবসরের দ্বারপ্রান্তে। ছোট্ট রঞ্জু আজ সরকারী অফিসার। ছেলেটা হয়েছে খুব প্রানবন্ত। চাকরির ফাঁকেই নাটক, বেড়ানো,সমাজসেবা,রক্তদান,গ্রামে গ্রামে গিয়ে ক্যাম্প করা সারাদিন শুধু দৌড় আর দৌড়। এবার বাঁধতে হবে ওকে। সংসারের দায়িত্বে জুতে দিতে হবে। আজও কোথায় বেরিয়েছে বাইক নিয়ে। ঠাকুরের সামনে বসে বসে ষষ্ঠীপুজোর যোগাড় করতে করতে এইসবই ভাবছিলেন সুচেতনা। প্রার্থনা করছিলেন ওকে ভালো রেখো ঠাকুর। ছেলের হাতে বাঁধার জন্য হলুদ সুতোয় দূর্বা বাঁধছিলেন। মা ষষ্ঠীর রক্ষাকবচ।

টিংটং,টিংটং করে ব্যস্তভাবে বেল বাজাল কে। রঞ্জু এলো? বাইকের আওয়াজ তো পেলামনা। দরজা খুলতেই দেখেন রঞ্জুর বন্ধু সাগর,প্রবাল,শান্তশ্রী দাঁড়িয়ে আছে।"মাসিমা রঞ্জুর অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। বাইকে আসছিল, লরিতে ধাক্কা মেরেছে। ছিটকে পড়েছে রাস্তার ধারে। পাথরে মাথা ঠুকে গেছে সজোরে। হেলমেট ছিটকে গেছে। সেন্স নেই। আমরা লোকাল নার্সিংহোমে নিয়ে গেছিলাম। বলেছে এখানে হবেনা। ব্রেনে হেমারেজ হচ্ছে, জলদি বড় হাসপাতালে নিতে হবে।" মুহূর্তে মাথাটা ঝিমঝিম করে ওঠে সুচেতনার। শরীর অবসন্ন হয়ে আসে। কোনোমতে দরজাটা ধরে সামলান নিজেকে। ওরা তাড়া দেয়, সময় খুব কম। টাকা পয়সা ঘরে যা আছে নিয়ে নিন।আর হেলথ কার্ড কিছু থাকলে নেবেন। আর রিলেটিভদের খবর দেবার থাকলে দিন, আমরা ভাবছি জীবনদান হসপিটালে নিয়ে যাবো। লোকাল নার্সিংহোম বলল ওদের ব্যবস্থাই সবচেয়ে উন্নত। এরপর আপনার ডিসিশান।
দ্রুত হাতে টাকা পয়সা, হেলথ কার্ড ইত্যাদি নিয়ে বেরিয়ে পরেন তিনি। বন্ধুরা খুবই করেছে। নিজেদের উদ্যোগেই ট্রমা কেয়ার এ্যাম্বুলেন্স ডেকেছে। গিয়ে দেখলেন ছেলে তাঁর ঘুমিয়ে আছে। চোট আঘাত কিচ্ছু বোঝাই যাচ্ছেনা। তারপর সারারাত ভেন্টিলেশন, ডাক্তারদের তৎপরতা, যমে মানুষে টানাটানি। উৎকণ্ঠায় রাত্রি জাগরন।সমানে নারায়নকে ডেকেছেন। সকাল ৮টার দিকে খবর এলো বিজ্ঞান, এতো চেষ্টা, ঠাকুরকে ডাকা সব ব্যর্থ হয়েছে। ব্রেন ডেথ হয়ে গেছে রঞ্জুর। সুইচ টিপলে যেমন মুহূর্তে ঘরটা অন্ধকার হয়ে যায়,সেইভাবেই মুহূর্তে সারা পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে গেলো তাঁর সামনে।অজ্ঞান অবস্থায় কতোক্ষন ছিলেন জানা নেই। যখন জ্ঞান ফিরল কয়েকজন আত্মীয় আর রঞ্জুর বন্ধুদের উৎকণ্ঠিত মুখ দেখতে পেলেন। কিছুটা সামলে নিয়ে সোজা হয়ে বসলেন।জল খেলেন একটু। একটু পর একজন আস্তে করে বলল, মাসিমা ডাক্তাররা জিজ্ঞাসা করছেন লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম কি খুলে দেবেন? বাড়ির লোকের পারমিশান চাই। অসহায় ভাবে কী যেন খুঁজলেন চারদিকে। তারপর বললেন, আরেক ঘণ্টা থাকুক। যদি ফিরে আসে। আবার চোখ বুজলেন। এতদিন ঝড় ঝাপটা সহ্য করে জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে আসা মানুষটা বসে রইলেন বজ্রাহতের মতো। শোক দুঃখ চিন্তার বাইরে শুধুই অবসন্নতা শরীর মন জুড়ে।
একটা ফুঁপিয়ে কান্নার অস্ফুট শব্দে চোখ মেললেন তিনি। দেখতে পেলেন আর এক বজ্রাহত মানুষকে। মোটা ফ্রেমের চশমা আর ধুতি পাঞ্জাবীর উসকোখুসকো চেহারার বছর ৬০ এর এক ভদ্রলোক। ধপ করে বসে পড়লেন পাশের চেয়ারে। পাশে তাঁর স্ত্রীই হবে। তিনিও ভেঙে পড়েছেন খুব। আরেকটি ছেলে উঠে এসে বলল, কি বললেন ডাক্তার বাবু? বৃদ্ধ নিজেকে একটু সামলালেন, তার পর বললেন মামনির লিভার একদম নষ্ট। রিকভার করার কোনও উপায় নেই। একমাত্র উপায় কারোর লিভার যদি পাওয়া যায়। কিন্তু ডাক্তার বাবু বললেন লিভার পাওয়া খুব শক্ত। কিডনি দুটো থাকে, অনেকে একটা দিতে রাজি হয়। কিন্তু লিভার পেতে গেলে সদ্যমৃত কারোর থেকে নিতে হবে। একটু দেরি হলেই নষ্ট হয়ে যায়। এদেশে নাকি খুব কম মানুষ দেহ বা অঙ্গ দান করে।মেয়ের আয়ু আর মাস খানেক বড়জোর। ডুকরে কেঁদে উঠলেন ভদ্রলোক।
শুনতে শুনতে আবার অবসন্নতায় ডুবে গেলেন সুচেতনা। মাথাটা কাত হয়ে গেলো। হঠাৎ ডাক মা মা। ধড়মড়িয়ে উঠলেন সুচেতনা। রঞ্জুর ডাক। আমি একটু বেরচ্ছি। এই যাস না, যাস না। কিছু খেয়ে যা। না মা, তাড়া আছে। বাচ্চুর ভাই অ্যাকসিডেন্ট করেছে। রক্ত লাগবে। ও পজেটিভ, আমার গ্রুপ। শোন শোন, এই তো ২ মাস আগে দিলি। এখন তো আর দেওয়া যাবে না। আমার কথা শোন। একটু নিয়ম মান। আমার দিব্যি দিচ্ছি যাস না। দাঁড়িয়ে যায় রঞ্জু। দেখো মা। রক্ত দিলে আবার রক্ত হবে। ভাবো মা, সবাই বাইরে থেকে উপকার করছে। আর আমি ওর মধ্যে ঢুকে যাচ্ছি, রক্তে মিশছি, শিরায় শিরায় বইছি। বাচ্চুর ভাইয়ের শরীরে তোমার ছেলে। ও ভালো হোক, একদিন আনবো ওকে। ছুঁয়ে ফিলিং হবে, তোমার আরেকটা ছেলে বাড়ল। আসলে কি জানো তো মা, যত টাকাই থাকুক, রক্ত কৃত্রিম ভাবে কিছুতেই বানানো যাবে না। আমরা সুস্থ সবল মানুষেরা যদি ফ্রেশ রক্ত না দিই, কারা দেবে মা? যেতে দাও প্লিজ। বয়ে যাই ওর শিরায় শিরায়।যা বাবা, বাঁচা অন্যের প্রান।
আবার চেতনা ফিরল সুচেতনার। ধড়মড় করে উঠে বসলেন। রঞ্জু কোথায়? তিনি তো হাসপাতালে। মনে পড়লো সবটা।রঞ্জুর সেদিনের কথা গুলো মনে পড়ে গেলো আবার। রঞ্জুর এক বন্ধুকে বললেন, পাশের ওই ভদ্রলোক কোথায় গেলেন? বন্ধুটি বলল, তারা তো বেরিয়ে গেছে। চট করে বাইরে যা বাবা, খুঁজে আন। না, বাইরেও পাওয়া গেলো না। হাল ছাড়লেন না সুচেতনা। রঞ্জুকে বাঁচানোর সুযোগ ছাড়বেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে, ঠিকানা জোগাড় করলেন। লিভার সমস্যা নিয়ে ভর্তির তথ্য ঘেঁটে ওরা খোঁজ দিলো সেই পরিবারের। ডাকা হল তাদের। রঞ্জুর লিভার দান করবেন। ডাক্তাররা দেখবে এই লিভারে কাজ হবে কিনা। এই মেয়েটির না হলে অন্য কারোর হবে। ডাক্তার বাবুরা ছুটে এলেন অঙ্গ দানের খবর পেয়ে।মা দাঁড়িয়ে থেকে ছেলের অঙ্গ দান করতে চাইছে এখনও এখানে তা বিরল নিদর্শন। খবর গেলো মিডিয়ায়। দাঁতে দাঁত চেপে কিডনি, হার্ট, লিভার, চোখ এমনকি স্কিন পর্যন্ত দান করলেন তিনি।
এই প্রথম তাঁর বাড়িতে ষষ্ঠীপুজো নেই। সকাল থেকে খালি চোখ ভিজে যাচ্ছে তাঁর। আগের বছর এই দিনেই রঞ্জু চলে গেছিলো। কি নিষ্ঠুর পরিহাস। ছেলের মঙ্গল কামনায় যে পুজো করতেন, সেই পুজোর দিনেই চলে গেলো ছেলেটা।আজ শুধুই শূন্যতা। টিংটং বেল বাজলো।দরজা খুলতেই একে এক করে ঘরে ঢুকল মামনি,রাজা,সংকল্প,আদিত্য, আয়েশা,রবিন্দর,ঝুমুর। একসঙ্গে সবাই জড়িয়ে ধরল তাকে। সবার হাতে রজনীগন্ধার মালা। রঞ্জুর ছবিটাকে ফুলে ফুলে ঢেকে দিলো। আবার চোখ ভিজল তার। এগিয়ে এলো সংকল্প। আমার চোখের দিকে তাকাও মা, দেখো তোমার সঞ্জুর চোখ।সঞ্জুই তোমায় দেখছে।আয়েশা বলল আমার বুকে কান পাতো মা, রঞ্জু ধুকধুক করছে।সারাক্ষন আমার ভেতর থেকে কথা বলে আমার সঙ্গে। ওই রবিকে টাচ করো তোমার ছেলের স্পর্শ পাবে।আমাদের সবার মধ্যে তোমার ছেলে বেঁচে আছে।
ভেতর ঘরে যান সুচেতনা। একটা ভালো শাড়ি পরে বাইরে আসেন। সবাইকে বলেন যা মিষ্টি, মাংস,পনীর নিয়ে আয়। আজ রঞ্জুর জন্মদিন। এই দিনে যেমন ও চলে গেল, তেমনি এই দিনেই তো ও নতুন করে জন্ম নিয়েছিল তোদের সবার শরীরে। আজ কতো আনন্দের দিন। খুব আনন্দ করবো সারাদিন। সারাদিন হাসি গল্পে গানে আনন্দে কাটল। সকলের হাতে সুচেতনা বেঁধে দিলেন হলুদ সুতো। সবাই সংকল্প করবো রঞ্জুর মতোই তারাও অঙ্গীকার করবে অঙ্গদানের। বেঁচে থাকবে মানুষের মধ্যে। দেবতারা অমরত্ব দিতে না পারলেও অমর হবার চাবিকাঠি নিজেদেরই হাতে। মালায় ঢাকা রঞ্জুর ছবিটা ঝলমল করে উঠছিল অমরত্বের গর্বে। বার্তা দিয়ে গেলো অঙ্গ দান, মহৎ দান।
,,,,,,,,
জন্মদিন - পার্থ চক্রবর্তী জন্মদিন - পার্থ চক্রবর্তী Reviewed by WisdomApps on June 10, 2019 Rating: 5

ইতি কথা - কলমেঃ রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী

June 08, 2019

"ওমা সকাল সকাল আবার প্রণাম কেন বাপু?"

নতুন বৌ স্নিগ্ধা শাড়ির আঁচলটা দিয়ে গা ঢাকতে ঢাকতে বলে," আসলে মা আজ আমার জন্মদিন তো তাই। এটাই অভ্যেস হয়ে গেছে আমার,ও বাড়িতে থাকতে মা বাবাকে ঘুম থেকে উঠেই প্রণাম করতাম।"
একটু ছোট হাই তুলে ওর শাশুড়িমা ঊষা বলেছিলেন," তা ভালো থেকো,মানিয়ে গুছিয়ে সংসার কোরো। সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় হোক,শত পুত্রের জননী হও।"
মায়ের আশীর্বাদ শুনে নতুন বৌয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসেছিলো শুভময়। একটু হেসে মাথা নিচু করেছিলো ও।
..." তা শুভ বলেনি তোমাকে আমাদের বাড়িতে মেয়ে বৌদের জন্মদিন টিন হয়না। শুধু ঐ ছেলেদের জন্মদিনে একটু পায়েস মিষ্টি খাওয়াই ঐটুকুই।
সেদিনের একুশের স্নিগ্ধা তারপর এই বাড়িতে শাশুড়িমায়ের সাথে কাটিয়ে দিয়েছে অনেকগুলো বছর। প্রতিবারই যদিও জন্মদিনের দিন একটা প্রণাম করে শাশুড়িকে কিন্তু প্রথম বছরেই জেনে গিয়েছিলো এ বাড়িতে মেয়ে বৌদের জন্মদিন পালন হয়না।
প্রথম দুএকটা বছর খুবই খারাপ লেগেছিলো কারণ বাপের বাড়িতে থাকতে মা বেশি কিছু না পারলেও একটু লুচি ছোলার ডাল আলুরদম আর পায়েস দিয়ে ওদের দুই ভাইবোনের জন্মদিনেই খাওয়াতো। কখনও বা হত পোলাও মাংসও,দুএকজন বন্ধুবান্ধবও আসত ওর আর দাদার।
স্নিগ্ধার বাপের বাড়ি দূরে তাই হুট করে সেখানে চলে যাওয়া যেতনা সংসার ফেলে। তখন এত ফোনেরও চল ছিলোনা। তাই চিঠিই ভরসা,বাবার চিঠিটা ঠিক এসে পৌঁছতো সেই দিন বা আগের দিন ,"স্নিগ্ধা মা জন্মদিনের অনে‌ক আশীর্বাদ রইলো। খুব ভালো থাকিস আর সবাইকে ভালো রাখিস।"..কখনোও পাশে মায়ের লেখা দুচারটে শব্দও থাকতো। আবার যদি কখনও ঐ সময় ওখানে থাকতো তাহলে বাড়িটা লুচিভাজার গন্ধ আর মাংসের গন্ধে ম ম করতো। তার সাথে বাবার দেওয়া শাড়ি,দাদার দেওয়া উপহার।
অবশ্য এই বাড়িতে জন্মদিন পালন বারণ থাকলেও শুভময় প্রতিবারই হাতে করে ওর সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু না কিছু এনে স্নিগ্ধাকে বলত," শুভেচ্ছা, শুভকামনা আর ভালোবাসায় ভরা থাক তোমার জীবন।"..ছোট্ট সেন্টের শিশি কখনও বা একটা ভয়েলের শাড়ি অথবা রাতে শোয়ার পোশাক ভালোবাসায় মুড়িয়ে শুভময় তুলে দিত স্নিগ্ধার হাতে আর তার সাথে একগুচ্ছ গোলাপ। হয়ত স্বামীর এইটুকু ছোট ছোট ভালোবাসার ছোঁয়াই জয় করার সাহস দেয় অনেক প্রতিকূলতাকে।
সেদিনের নতুন বৌ স্নিগ্ধা আজ নিজেও সন্তানের মা, তবুও ভালো ওর সন্তানের জন্মদিনের অনুষ্ঠান হয়। আর হবেই না বা কেন ও তো ছেলে তাই ঘটা করেই জন্মদিন হয় ওর। মাঝে মাঝে মনে হয় স্নিগ্ধার ওরও ছেলে,শাশুড়িরও দুই ছেলে আবার ওর বরের থেকে দশ বছরের ছোট ভাই মানে ওর দেওরেরও ছেলে তাই শাশুড়ির নিয়ম আর কাউকেই ভাঙতে হয়নি। যদিও শুভময়ের খুব শখ ছিলো আরেকটা কেউ আসুক তবুও কম আয়ের জন্য আর ভাইয়ের পড়াশোনার কিছু খরচও চালানোর জন্য আর ভাবা হয়নি।
বরের সাথে নিভৃত আলাপে আর আদরের ফাঁকে স্নিগ্ধা বলতো,"এই ভালো একটাই ছেলে কোন ঝামেলা নেই। মেয়ে হলে বেচারা কষ্ট পেত।"..শুভময় ওকে কাছে টেনে নিয়ে বলত," মেয়ে হলে আমি জন্মদিন করতামই মাকে ঠিক বুঝিয়ে নিতাম।"..চুপ করে যায় স্নিগ্ধা, হয়ত বুকের সিন্দুকে জমা কথাগুলো ছটফট করে না বলতে পেরে ওখানেই।
স্নিগ্ধার দেওর চাকরি সূত্রে বাইরে থাকে পরিবার নিয়ে। ওরা ওদের নৈহাটির পুরোনো বাড়িতেই থেকে গেছে,বছরে এক বার দেওর জা আসে। কখনও বা কোন দরকারে একা দেওরও চলে আসে। শাশুড়িমার সঙ্গে ওরা থাকলেও ছোটছেলে আর বৌমা ওনার কাছে সেরা। সবার কাছে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন ছোট ছেলের আর বৌমার। স্নিগ্ধার জা হাউসওয়াইফ হলেও উচ্চশিক্ষিতা আর আধুনিকা। যদিও স্নিগ্ধাও বি.এ পাশ,তবে বিয়ের পর সেসব আর কোন কাজে লাগেনি মানে ঐ এপাশ ওপাশ আর ধপাশ। এখন মনে হয় কবে যে কি পড়েছিলো হয়ত আলুপটলের ঝুড়ি গোছাতে গোছাতে ভুলেই গেছে সবই আর ঐগুলোও ছাইপাশ হয়ে গেছে।
ওদের বাড়িটার খুবই দুরবস্থা,পুরোনো আমলের বাড়ি তাই সারানোটা খুব দরকার। কিন্তু বাড়িতে থেকে বাড়ি সারানো মানে ধুলো, ময়লা নানা হ্যাঁপা তারমধ্যে ওর শাশুড়ির আ্যজমা তাই ওনাকে ঐ ধুলোর মধ্যে রেখে..কি করে কি করবে এই নিয়ে ওরা একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে। শেষে শুভময়ই ভাইকে বলে মাসদুয়েকের জন্য মাকে ওদের কাছে নিয়ে রাখতে। দাদার এতটাই অবদান সংসারে যে ভাই না বলতে পারেনা যদিও বৌয়ের কাছে বলতে গিয়ে খুবই একচোট শুনলো। " আমি বরাবরই একা থেকেছি আমার মত। তুমি তো জানো সারাদিন আমি ছেলের পেছনে ছুটোছুটি করি এছাড়া উইকএন্ডে আমার পার্টি ক্লাব বন্ধু বান্ধব এসব না করলে একঘেঁয়ে বোরিং লাইফে বাঁচাই মুশকিল।
" মা চিরকালই তো নৈহাটিতেই থেকেছে,একটা অসুবিধায় পড়ে দাদা বলেছে একটু মানিয়ে নিলে কি হবে? বেশি তো নয় মাত্র দুটো মাস।"
মিতা প্রচন্ড অসন্তুষ্ট হয়ে বললো," দেখো দুমাসের নামে কতদিন রেখে দেয় এখানে। বেশিদিন হলে আমি কিন্তু.."
শাশুড়ির সাথে এতগুলো বছরের সহাবস্থান স্নিগ্ধার কাছে একটা অভ্যেস হয়ে গেছে। তাই ওর মনটা ফাঁকা হয়ে গেলো। তাছাড়া উনি সংসারের কাজে সাহাজ্যও করতেন, অবশ্য কথাও শোনাতেন। তবুও ওটাই অভ্যেস হয়ে গিয়েছিলো,একলা বাড়িতে দুজনেই দিনের বেশ অনেকটা সময় দুজনের সঙ্গী হয়ে থাকতো। ছেলে আর বরেরও মন খারাপ। 
ছোটছেলের হাত ধরে এই প্রথমবার ওদের সংসারে পা রাখলেন ঊষা,এর আগে কতবার বলেছে ছেলে কিন্তু আসা হয়নি। কি সুন্দর সাজানো গোছানো ফ্ল্যাট একদম টিভিতে যেমনটা দেখেন ঠিক তেমনি। সোফায় বসেই ব্যাগটা খুলে বসেছিলেন দাদুভাইয়ের জন্য আনা আমসত্ত্ব,নাড়ু আর মালপোয়া বার করতে।
" মা এগুলো সোফায় রাখবেননা,ইশ্ সব নোংরা হয়ে গেলো,একটু আগেই ঘর মুছে গেলো।"
রান্নাঘরে নিয়ে যত্ন করে ওগুলো খুলে নাতির হাতে দিলেন। তবুও নাতির মুখের হাসিটা উপভোগ করতে পারলেননা। বৌমার গম্ভীর আওয়াজ শুনলেন," এখন পড়াশোনা করো,পরে খাবে।"
ছোটছেলের কাছে এসে বড় বাধো বাধো লাগে ঊষার। একছাদের তলায় পাশাপাশি না থাকলে বোধহয় মানুষকে সবসময় চেনা যায়না।তাই হয়ত তিনিও আলো ভেবে এতদিন আলেয়ার পেছনেই ছুটেছেন। সবসময় অন্যের ভুল ধরতে পটু ঊষার এখানে এসে সবসময়ই মনে হয় এই বোধহয় কিছু ভুল করে ফেললেন। তবুও শুনতে হয়," ইশ্ গামছাটা এখানে রেখেছেন? তোয়ালে আনেননি? উফ্ আমার আর ভালো লাগেনা। সবসময় এত বলা যায়!"
মাঝে কেটে গেছে একমাস,প্রায়দিনই হিসেব করেন ঊষা কবে ফিরে যাবেন নিজের বাড়ি। বড়বৌমার সাথেও ঠোকাঠুকি হত মাঝে মাঝে। তবে কখনও ভয় লাগতোনা,বরং উনিই শুনিয়ে দিতেন দুটো কথা। 
শুভময় বলে," আমাদেরও বড় ফাঁকা লাগছে মা তোমায় ছাড়া,তবে যা অবস্থা তুমি থাকতে পারতেনা। আমাদের শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে ধুলোতে। তোমার বৌমা তো সারাদিন বাড়ি থাকে,ওর খুব নাজেহাল অবস্থা।"
এর মাঝেই একদিন ছোট নাতির কাছে শুনলেন বাড়িতে পার্টি আছে।" কিসের পার্টি গো দাদুভাই? তোমার জন্মদিন?"..নাতিকে হাসতে দেখে ঊষাও হাসেন,সত্যি তিনি বুড়ো হচ্ছেন। আরে ওর জন্ম তো ডিসেম্বরে এখন কি? মায়ের ডাকে চলে যেতে যেতে বলে গেলো,"বিকেলেই দেখতে পাবে।"..ঊষা মাংস খাননা,নিজের বাড়িতে থাকার সময় বড়বৌমা আলাদা বাসনে ওনার রান্নাটা করে সরিয়ে রেখে তারপর মাংসের কড়াইয়ে মাংস র়াঁধে। এখানে ওদের এইসব বালাই নেই সবই নাড়াচাড়া,একদিন বলতে গিয়ে কথা শুনেছেন। তাছাড়া ওনাকে ওরা রান্নাঘরেও ঢুকতে দেয়না। তাই এইসময়টা ঘরেই বসে থাকেন,চোখের বাইরে যা হচ্ছে হোক। রান্নাঘর থেকে মাংসের গন্ধ ভেসে আসছে। দুপুরে খাবার টেবিলে মিতাই বললো," আপনি রাতে কি খাবেন একটু বলে দেবেন রান্নার লোক বিকেলে এলে। আপনি তো আবার মাংস খাবেননা।"
কিন্তু কিন্তু করে জিজ্ঞেসই করে ফেললেন," আজ কেউ আসবে বাড়িতে? কোন অনুষ্ঠান আছে?"
আপনার ছেলে কিছু বলেনি আপনাকে? আমি তো বলেছিলাম বলতে। ইচ্ছে করলে আপনি বিকেলে একটু মঠ থেকে ঘুরে একেবারে সন্ধ্যের পর আসতে পারেন। আমার কয়েকজন বন্ধু আসবে সন্ধ্যেয়, আজ আমার জন্মদিন।"
ঢোক গিললেন ঊষা,অনেক বছর আগে জেদের বশে স্নিগ্ধাকে যা বলেছিলেন আজ আর সে কথা মুখে বলতে সাহস পেলেননা। শুধু বললেন," নাহ্ আজ আর মঠে যেতে ইচ্ছে করছেনা হাঁটুর ব্যাথাটা বেড়েছে। জন্মদিনের জন্য কিছু তো আনা হয়নি আমার,তুমি এই টাকাটা রাখো। ভালো থেকো,সুখে সংসার কোরো।"
শাশুড়িকে প্রণাম টনাম মানে অত ভক্তি মিতার নেই। মনে মনে বললো তা আর মঠে যাবে কেন এদিকে নজর রাখতে হবেনা?
সারাটা সন্ধে দরজা ভিজিয়ে ঘরেই কাটলো ঊষার। ছেলে অফিস থেকে আসার পর কেক কাটার সময় ছেলেই নিয়ে গেলো,সবার সাথে আলাপ করিয়ে দিলো। ওদের খাবার পানীয় সব কিছুর মাঝে নিজেকে বড় বেমানান লাগলো ঊষার। খুব ইচ্ছে করলো একটু নৈহাটিতে ফোন করতে,কিন্তু পারলেননা।কি করে বলবেন আজ ছোটবৌমার জন্মদিনের পার্টি চলছে এখানে। 
নৈহাটির বাড়ির কাজ প্রায় শেষ,আর দিন দশেক বাদেই ঊষার যাবার কথা। ছোটছেলেই পৌঁছে দিয়ে আসবে। হঠাৎই দিন চারেকবাদে একটা দুঃসংবাদ আসে স্নিগ্ধার নাকি স্ট্রোক হয়েছে। আপাতত আই সি ইউতে আছে, বড় অসহায় লাগে শুভময়ের গলা। বড় নাতিটাও খুব অস্থির হয়ে আছে। ঊষাও এদিকে বড় অস্থির হয়ে উঠেছেন। " আমাকে নিয়ে চল বাবা নৈহাটিতে,কে জানে ওখানে কি হচ্ছে? আমার কিছু ভালো লাগছেনা।"
..." মা এত অস্থির হয়োনা,দাদা আমাকে বারবার বলেছে কয়েকটা দিন বাদে তোমায় নিয়ে যেতে। এখন ওদের বাড়ির অবস্থা ভালোনা।"
ঊষা বুঝতে পারেন উনার জন্য বাড়িতে ভীষণ অশান্তি। ওনার যাওয়া হচ্ছেনা শুনে ছোটবৌমাও ভালো করে কথা বলেনা। ছেলেকেও কথা শুনতে হচ্ছে। কদিন ভালো করে খেতে পারেননি ঊষা, ঠাকুরের কাছে শুধু বলেছেন আমার ছেলের সংসারটা ভেঙোনা ঠাকুর। মনে প্রাণে মানত করেছেন বড়বৌমার জন্য। অথচ একটা সময় ওর নিন্দা করে আত্মীয়স্বজনের কাছে কত সুখ পেতেন। সবসময় বলতেন," না আছে রূপ আর না আছে গুণ কি দেখে যে ছেলেটা ভুলেছিলো কে জানে?" ছোটছেলে গিয়ে বৌদিকে দেখে এলেও ঊষার যাওয়া হয়নি। স্নিগ্ধা এখন কিছুটা ভালো আছে বাড়িও এসেছে প্রায় দশদিন নার্সিংহোমে থাকার পর,তবে ডাক্তার অনেক কিছু বারণ করেছেন।
মাঝে কেটে গেছে তিনটে মাস ঊষা ফিরছেন অনেক মাস বাদে নিজের বাড়িতে। হয়ত তেমন সাজানো গোছানো নয়,পুরোনো বাড়ি। তবুও বড় আপনার জায়গা এখানে বড়ই শান্তি আর স্বস্তি।বিয়ের পর থেকে এখানেই তো কেটে গেছে এতগুলো বছর।
শুভময় আর নাতি এসে জড়িয়ে ধরে ওনাকে। হয়ত ছোটছেলের মুখেও স্বস্তির হাসি। সবাইকে দেখতে পেলেও ঊষার চোখদুটো আজ স্নিগ্ধাকেই খুঁজছে। তাড়াতাড়ি করে ঘরে আসেন,স্নিগ্ধার শরীরটা বড় ভেঙে গেছে, বাড়ি ঘর গোছাতে গিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রমেই বোধহয় এমনটা হয়েছে। উঠে দাঁড়ায় স্নিগ্ধা,ওর হাতটা এখনও ঠিক চলছেনা। " থাক বৌমা,আয়ুষ্মতী হও সুস্থ হয়ে ওঠো তাড়াতাড়ি। কি যে চিন্তায় ছিলাম আর বোলোনা। যাক্ ঠাকুর রক্ষা করেছেন।"
আজ ঊষার চোখটা সত্যিই ছলছল করছে কথাগুলো বলতে পেরে। স্নিগ্ধারও ভালো লাগছে আসলে শাশুড়িমায়ের সাথে থাকাটা কখন যে অভ্যেস হয়ে গেছে বুঝতেই পারেনি। ওর মা চলে যাওয়ার পর হয়ত বা অবলম্বনও।
অনেকদিন বাদে আবার নিজের ঘর,রান্নাঘর,অভ্যেসের বিছানায় এসে মনটা বড়ই শান্ত ঊষার। খুব ভালো করেই বাড়িঘর সারিয়েছে ওরা। বেশ নতুন নতুন লাগছে সব। নিঃসঙ্কোচে রান্নাঘরে ঢুকলেন অনেকদিন বাদে পছন্দমত কিছু রান্না করলেন। যদিও বড় ছেলে এসে একবার বকুনি দিয়ে গেলো," রান্নার মেয়েটাকে দেখিয়ে দাও ও করবে,তোমার কি দরকার?"
মাঝে কেটে গেছে একটা মাস,স্নিগ্ধা এখন একটু ভালো। " মাকে দেখেছো তুমি,ঘরে বাগানে কোথাও দেখছিনা তো?"..শুভময় তখনও বিছানায় গড়াচ্ছে ছুটির দিনের আলস্যে। " তুমি এত সকালে উঠেছো কেন? হয়ত ফুল তুলতে গিয়ে কারো সাথে কথা বলছে বাইরে। অত ছটফট কোরনা বিশ্রাম নাও।"
বিছানায় শুয়ে থাকতে আর ভালো লাগেনা স্নিগ্ধার,বাথরুম থেকে একেবারে স্নান করে বেরোয়,অনেকদিনের অভ্যেস এটা। ঘরে ঢোকেন ঊষা। "মা আপনি?"
ওকে হাত দেখিয়ে ঘরে ঢুকে যান। ততক্ষণে স্নিগ্ধার শাড়ি পরা হয়ে গেছে,অনেকদিন বাদে নাইটির বদলে শাড়ি পরলো। শুভময়েরও কেন যেন খুব ভালো লাগলো অনেকদিন বাদে পরিচিত সাজে স্নিগ্ধাকে দেখে।
" বৌমা এদিকে এসো তো দেখি।"
স্নিগ্ধার মাথায় ঠাকুরের ফুলটা ঠেকিয়ে,কপালে ছোঁয়ান ঊষা। "মানত করেছিলাম,তুমি সুস্থ হয়ে গেলে পুজো দেবো। তাই ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছিলাম ভোর ভোর। টেবিলে আয় সবাই এবার।"
সুন্দর করে টেবিলে সাজানো গরম কচুরী তরকারি আর জিলিপি সাথে পায়েস। খুশি হয়ে ওঠে শুভময়," কখন করলে এসব?"
"পায়েসটাই শুধু করেছিরে,ওগুলো গরম ভাজছিলো,ভোলাকে দিয়ে আনালাম।"
স্নিগ্ধার প্লেটে ছোট্ট বাটিতে অল্প পায়েস আর একটা মিষ্টি সাথে দুটো কচুরী। পায়েসের বাটিটা তুলতেই একটা ছোট চিরকুট চোখে পড়লো। 
" বৌমা,
কত যুগ বাদে চিঠি লিখছি তাও আবার তোমাকে। আসলে ভালো কথা বলার অভ্যেস নেই তো তাই মুখে বলতে পারলামনা খুব লজ্জা লাগলো। সবসময়ই তো খারাপ কথা বলে এসেছি। শুভ জন্মদিনে আমার শুভর ঘর আলো করে থেকো। এই পায়েসটুকু তোমার জন্য কম চিনি দিয়ে ভোরবেলাতেই বানিয়েছি।
ইতি..'মা'
চিঠিটা পড়ে চোখটা জলে ভেসে গেলো স্নিগ্ধার, আজকাল অসুস্থতার পর মনটা বড় অন্যরকম হয়ে গেছে। কিন্তু মা গেলো কোথায়? সকাল থেকেই তো ভাবছিলো প্রণাম করবে।
" মা আপনি পায়েস রান্না করেছেন আমার জন্য! কিন্তু এ বাড়ির বৌ মেয়েদের যে.."
বাকিটা আর বলতে পারেনা স্নিগ্ধা, হয়ত এর উত্তর ঊষার কাছেও নেই তাই ওকে কাছে টেনে নিয়ে হাতের মুঠোয় দেন চোখে ছোট্ট চুনী বসানো ওনার জোড়া মাছ দুল আর লকেট। স্নিগ্ধার খুব পছন্দ ছিলো ডিজাইনটা। ভালোবেসে বানানো ছোট্ট একবাটি পরমান্ন হয়ত খুশির পরমায়ু আরও দ্বিগুণ করে দিলো ওদের চারজনের ছোট্ট সংসারে।
©ইচ্ছেখেয়ালে শ্রী: কলমে রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী।
সমাপ্ত:-


উপরের ছবি - লেখিকা রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী
[ লেখিকার অনুমতি নিয়ে বন্ধু পত্রিকায় প্রকাশিত হল ] 
ইতি কথা - কলমেঃ রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী ইতি কথা - কলমেঃ রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী Reviewed by WisdomApps on June 08, 2019 Rating: 5
Powered by Blogger.