Featured Posts

[Travel][feat1]

আজীবন নির্যাতনের শিকার - বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির জীবনী

September 24, 2018

গ্যালিলিও গ্যালিলি (জন্ম : ১৫৬৪ খ্রি., মৃত্যু : ১৬৪২ খ্রি.)


লাতিন ভাষায় ফাদার মন্ত্রউচ্চারণ করছেন। সবটুকু বেচারি গ্যালিলি বুঝতে পারছেন না। কিন্তু সুরটা বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট করছে তাঁকে। আজ বাদে কাল মহামানব যীশুর জন্মদিন। আজ শুরু হয়েছে ক্যারল সংগীত। একটুবাদে রাত বারোটায় একটি একটি করে হাজার খানা প্রদীপ জ্বলে উঠবে। আকাশে শুরু হবে আতশবাজির খেলা। আর তখনই সান্তাক্লজ বের হবেন উপহারের মোজা কাঁধে নিয়ে। এমনটি দেখে আসছেন গ্যালিলিও, সেই ছোটবেলা থেকে। দেখে আসছেন আর ভাবছেন এই ধার্মিক অনুশাসনের অন্তরালে কি যুক্তি আছে? আছে কি এমন কিছু যাকে আমরা বিজ্ঞান বলতে পারি? নাকি এ হল নিছকই আমাদের আজন্মলালিত একমাত্র বিশ্বাস।
ছটফট করতে থাকেন তিনি- পাঁচ বছরের গ্যালিলিও গ্যালিলি। ভালো লাগে না, ভালো লাগেনা ধর্মের নামে অধর্মের এই উদ্ধত অহংকার। ধর্মের আফিম খাইয়ে মানুষকে ঝিমিয়ে রাখা। শোষনের ধারাবাহিকতা। সত্য কি? সত্য কোথায়? সত্যকে কিভাবে উপলব্ধি করব?
সত্যের সন্ধানে পাঁচ বছরের বালক গ্যালিলিও উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে বেড়াচ্ছে। চিরাচরিত ধ্যানধারণার গোলক ধাঁধায়। সাদামাটা ভাবনা নিয়ে পরিচিত প্রিয়জনেরা সামনে এসে দাঁড়াচ্ছেন। অবাক বিস্ময়ে তাঁরা তাকিয়ে থাকছেন এই অবাক বালকের মুখের দিকে। আহা, ঠোঁট দুটো শুকনো ! একমাথা উস্কোখুস্কো চুল ! হ্যাঁরে, কি হয়েছে তোর? মা মেরেছে বুঝি? বাবার সঙ্গে মনোমালিন্য? যেমনটি হয়ে থাকে আর কি !
ওঁরা ভাবতেও পারেননি, এমন কোনো ঘটনা গ্যালিলিওকে আজ ঘরছাড়া করেনি। ঘর ছাড়া করেছে তাঁর নিজস্ব তাগিদ।
তাঁর মনের ভেতর উথলে ওঠা প্রশ্নের উতরোল। তাঁকে যে জানতেই হবে সৃষ্টিরহস্যের শেষ কথা ! তার আগে যদি আমার জীবন ফুরিয়ে যায় তাহলে কি হবে !
বিস্ময়ে আবিষ্ট বালক প্রশ্ন করছেন। 
এক চিররহস্যময় বিজ্ঞানী। পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে। জন্মেছিলেন ইতালির পিসা শহরে। বাবা ছিলেন এক বিখ্যাত সংগীতশিল্পী।
তাঁর ছোট্টবেলার দিনগুলির কথা বলতেই মনে পড়ে যায় গ্যালিলিও চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন। হয়তো একটুবাদে ঘুমের রাজ্যে পা রাখবেন। হঠাৎ চারপাশের আকাশ সহস্র আলোয় ভরে উঠল। পাখিরা গান গেয়ে উঠল। কার সুমধুর কন্ঠসংগীত এভাবে বিদ্ধ করছে হৃদয়কে? এত দুঃখ জমে আছে অথচ বালক গ্যালিলিও তার খবর রাখেননি ! গ্যালিলিও শয্যা ছেড়ে উঠে আসতেন। পায়ে পায়ে চলে যেতেন পাশের ঘরে। অবাক হয়ে দেখতেন বাবাকে। মধ্যবয়সী বাবা চোখ বন্ধ করে পিয়ানোতে সুর তুলছেন। সেই সুরের মধ্যে একটা অদ্ভুত আকুল আর্তির ছাপ আছে। সেই সুর আমাদের হারানো অতীতে নিয়ে যায়। বলে, হে মানুষ, আর কতদিন তুমি মোহান্ধ হয়ে থাকবে। এসো, চোখ দুটি খুলে দাও। এই আমি দাঁড়িয়ে আছি। আমি অমৃতপুরুষ। তুমি কি আমার সাথে সখ্যতার সম্পর্ক পাতাবে না?
ছোট্ট বয়স থেকেই গ্যালিলিও নানা বিষয়ে অনুসন্ধিৎসা জাগিয়ে তুলেছিলেন। চারপাশের সবকিছুকে ভালোভাবে দেখতে হবে, এমন একটা অসীম কৌতহল ছিল তার মনের মধ্যে। অজানাকে জানতে হবে তবেই মানব জীবনের সার্থকতা - মনে প্রাণে তাই বিশ্বাস করতেন তিনি। দিন কাটতে থাকে। শৈশবকাল একসময় হারিয়ে যায়। একঝাঁক রোমাঞ্চ আর রহস্য নিয়ে এসে দাঁড়ায় কিশোরবেলা। কিশোরবেলাতে গ্যালিলিও হাতে - কলমে পরীক্ষা - নিরীক্ষার কাজ শুরু করেছিলেন। নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির মডেল তৈরিতে তিনি ছিলেন খুবই ওস্তাদ। যেটা দেখতেন চট করে সেটারই একটা প্রতিরুপ বানিয়ে ফেলতে পারতেন। এইভাবে তিনি বন্ধুবান্ধবদের তাকে লাগিয়ে দিতেন। আত্মীয় পরিজনরাও কিশোর গ্যালিলিওর এই ক্ষমতা দেখে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতেন। হেডমাস্টার স্বয়ং বাড়িতে এসে বলে গিয়েছিলেন যে, একদিন গ্যালিলিও নিশ্চয়ই হবেন বিশ্বের বিস্ময়।
তার এই বাণী ভবিষ্যৎদ্বাণী পূরন হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ভদ্রলোক তখন বেঁচে ছিলেন না।
উনিশ বছর বয়সে গ্যালিলিওর জীবনে একটি মজার ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। মজার বলব, নাকি রহস্যঘন, তা জানি না অবশ্য। এসো, সংক্ষেপে ঘটনাটি বলি। এই ঘটনাই গ্যালিলিওর পরবর্তী জীবনকে প্রভাবিত করেছিল।
চার্চের মধ্যে ঢুকেছিলেন গ্যালিলিও। বেদির কাছে শিকল দিয়ে ঝুলানো তেলের প্রদীপের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ চমকে উঠলেন তিনি। একটা অসাধারন ব্যাপার চোখে পড়ল তার। অথচ লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ব্যাপারটি প্রতিদিন দেখেছেন। কিন্তু প্রশ্ন কেউ কখনও করেননি। অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন বলেই তিনি গ্যালিলিও, প্রশ্ন তোলেননি বলেই, অন্য লোকদের নাম আজ হারিয়ে গেছে বিস্মৃতির অতলে।
গ্যালিলিও কি দেখলেন ? তিনি দেখলেন, শিকলের দোলার সঙ্গে সঙ্গে বাতিটি দুলছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, একটা নির্দিষ্ট ছন্দ আছে তার দোলুনির।
ব্যাপারটা খেয়াল হতেই তিনি চমকে উঠলেন। প্রদীপের প্রতিটি দোলনের বিস্তার আগের থেকে ক্রমশ কমছে। কিন্তু প্রত্যেক বার সেই একই সময় লাগছে।
প্রশ্নের কাঁটা গেঁথে গেল গ্যালিলিওর অনুসন্ধিৎসু মনের মধ্যে। কেন এমন হচ্ছে? সময় একই লাগছে, অথচ দোলনের বিস্তার কমছে কেমন করে?
এই জিজ্ঞাসার জবাব পেতেই পরবর্তীকালে গ্যালিলিও আবিষ্কার করেছিলেন তার বিশ্ববিখ্যাত ঘড়ির পেন্ডুলামের সূত্র।
এই সূত্র ব্যবহার করে সময়ের গতি নির্ধারণ করা হয়। নিয়ন্ত্রিত হয় ঘড়ির সময়।
এবার এসো, আমরা তার ছোটবেলার পড়াশোনার কথা বলি। তার ছোটবেলায় শিক্ষার সুযোগ ছিল খুবই কম। তখনকার সমাজে বেশি লেখাপড়া করাটাকে খুব একটা সুনজরে দেখা হত না। বেচারি গ্যালিলিও এক জেসুইট মঠে গ্রিক ও লাতিন ভাষা শিক্ষা করেন। সামান্য কিছু অংকবিদ্যাও রপ্ত হয়েছিল তার। সেগুলিকে পুঁজি করে কি আর বিজ্ঞানী হওয়া যায়? হওয়া যায় না। কিন্তু এগিয়ে এসেছিলেন বাবা। বাবা চেয়েছিলেন ছেলের এই প্রতিভাকে কাজে লাগাতে। ছোট্ট থেকেই অসাধারন মেধাসম্পন্ন ছিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলি। পুত্রকে নিয়ে তিনি এলেন পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয় গ্যালিলিওর বৌদ্ধিক জীবনকে একেবারে পাল্টে দিয়েছিলেন। এখানে পড়তে পড়তেই যুক্তিনির্ভর হয়ে ওঠেন। তার মননশীলতার মধ্যে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। গড়ে ওঠে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তার নিজস্ব দৃষ্টিভংগী।
তখন থেকেই তিনি নিয়মিত বিতর্কের আসরে যোগ দিতেন। তার অকাট্য যুক্তির কাছে পরাজিত হতেন প্রতিপক্ষরা। অনেক সময় দেখা দিতে চরম মনোমালিন্য। তবু গ্যালিলিও কখনো তার পথ থেকে বিচ্যুত হননি। এমনই অসমসাহসী ছিলেন তিনি।
গ্যালিলিও প্রাচীন মনীষীদের চিন্তাধারাকেও সমালোচনা করতেন। এ ব্যাপারে কোনো কুন্ঠা ছিলনা তার মনের মধ্যে। তিনি যেভাবে এবং যে ভাষায় অ্যারিস্টটলকে আক্রমন করেছিলেন তা শিক্ষিত সমাজকে ব্যথিত করেছিল।
তখন গ্যালিলিওর বয়স মাত্র ১৯ বছর। তিনি বললেন 'মহাপ্রাজ্ঞ অ্যারিস্টটলের সব সিদ্ধান্তই অভ্রান্ত নয়।' অ্যারিস্টটল বলেছিলেন, কোনো উঁচু জায়গা থেকে একই সময়ে একটি ভারী বস্তু এবং একটি হালকা বস্তু ফেললে ভারী বস্তুটি হালকা বস্তুর আগে মাটিকে স্পর্শ করবে।
ওই বয়সেই গ্যালিলিও পরীক্ষার দ্বারা প্রমান করলেন যে, এই সিদ্ধান্ত ভুল। অথচ হাজার হাজার বছর ধরে আমরা এই সিদ্ধান্তকে অভ্রান্ত সত্য মেনেছি। আর মেনেছি বলেই বিজ্ঞানের ক্ষতি করেছি। এখন থেকে এমনটি আর হতে দেওয়া চলবে না। গ্যালিলিও প্রমান করেছিলেন যে, ওপর থেকে নিচে ফেলা ভারী বস্তু এবং হালকা বস্তু একই সঙ্গে নিচে পড়বে যদি না পতনকালে বায়ুমন্ডলের দ্বারা তাদের গতি বাধা পায়।
তার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে দারুন অসন্তোষ দেখা দিল। শেষ পর্যন্ত সকলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে শুরু করেন। কি! এত বড় কথা ! অ্যারিস্টটলকে অনেকে দেবতার আসনে বসিয়েছিলেন। আর তার বিরুদ্ধে কিনা এই বিদ্রোহ !
শেষ অব্দি গ্যালিলিও শক্তিশালী বিরুদ্ধ পক্ষের সামনে অসহায়, নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেন। পিসা ছেড়ে তাকে আসতে হল পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র থাকাকালীন গণিত শাস্ত্রের প্রতি তার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। ইউক্লিড, আর্কিমিডিস প্রভৃতি গণিতবিশারদদের গবেষণা পত্রগুলি তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তেন।তখন থেকেই তার মনের ভিতর একটা ধারণার জন্ম হয়েছিল, তা হল, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সঙ্গে পরিচিতি অর্জন না করতে পারলে কোনো মানুষের জ্ঞান পূর্ন হবে না। তাই পদার্থবিজ্ঞানই হয়ে দাঁড়াল তার একান্ত প্রেম। চিকিৎসা শাস্ত্রে অধ্যয়ন অবশ্য বেশি দূর এগোল না। আর্থিক কারণে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেল এই পড়াশোনা। কিন্তু তার নিজস্ব গবেষণা বন্ধ হল না। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আর্কিমিডিসের সূত্রের ওপর নতুন একটি আবিষ্কার করে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিলেন। তিনি এমন একটি নিক্তি আবিষ্কার করেছিলেন যার দ্বারা মিশ্রিত ধাতুসমূহের মধ্যে থেকেও যেকোনো একটির পরিমান নির্নয় করা যায়।
গ্যালিলিওর পরবর্তী জীবন ছিল ঘাত-প্রতিঘাতে পরিপূর্ন। তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, নিজস্ব মতবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে তাকে কি ধরনের শারীরিক নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। যাজকসম্প্রদায় তার প্রতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি রক্ষণশীল চার্চের সর্বময় ধ্যানধারণাকে আক্রমন করেছিলেন। সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছিল তীব্র জেহাদ। তাই কুচক্রীরা তাকে 'বিধর্মী এবং বাইবেলবিদ্বেষী' বলে ঘোষণা করেছিলেন। জেসুইটরা তাকে চরম শাস্তি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন।
শেষ অব্দি গ্যালিলিওর জীবন কেটেছিল নিজ গৃহে অন্তরীন অবস্থায়। তখন তার বয়স হয়েছে সত্তর বছর। সেই বন্দি অবস্থাতেও তিনি হল্যান্ড থেকে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন।
১৫৯২ থেকে ১৬১০ সাল পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞানের জগতে বিপ্লব এনেছিলেন। যেমন জ্যোতির্বিজ্ঞানে উন্নত দুরবিনের প্রয়োগ, শনিগ্রহের বলয় আবিষ্কার, বৃহস্পতি গ্রহের তিনটি উপগ্রহের সন্ধান, বহুভূজ আঁকবার যন্ত্র, সেকটার উদ্ভাবন, একাধিক নক্ষত্রের সঠিক অবস্থান নির্নয়, চাঁদের ভূমি অসমতল হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা ইত্যাদি।
জীবনের শেষ কটা দিন অন্ধ হয়েগিয়েছিলেন গ্যালিলিও। দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। তখন অবশ্য গৃহবন্দিত্বের আদেশদন্ড থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন ওই প্রবীণ বিজ্ঞানী।
অন্ধ অবস্থাতেই জীবনের শেষ চারটি বছর অতিবাহিত করেন গ্যালিলিও গ্যালিলি। অবশেষে ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে আটাত্তর বছর বয়সে চিরনিদ্রার কোলে ঢলে পড়েন এই মহান বিজ্ঞানী।
আজীবন নির্যাতনের শিকার - বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির জীবনী আজীবন নির্যাতনের শিকার - বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির জীবনী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 24, 2018 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল ২৩/০৯/১৮ - ২৯/০৯/১৮

September 23, 2018

মেষ রাশি: অর্থের ক্ষেত্রে সামান্য শুভ হলেও কর্মক্ষেত্রে মন জুগিয়ে চলতে হবে। রবিবার পাওনা টাকা পেয়ে যাবেন। সোমবার বিকেলের পর বাধা আসতে পারে। মঙ্গলবার কোনো ঝুঁকি নেবেন না। বুধে অশুভ প্রভাব রয়েছে। বৃহস্পতিবার দরকারি কাজ করার পক্ষে শুভ পরিবেশ। শুক্রে পরিকল্পনা এগিয়ে নিন। শনিতে মাতার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি।

বৃষ রাশি: সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পাবেন। রবিবার পরিবেশ অনুকূল। সোমবার অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি হতে পারে। মঙ্গলে কেনাবেচার ব্যাপারে শুভ। বুধে প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষ হবে না। বৃহস্পতিবার নানা বাধার ভেতর অগ্রগতি। শুক্রে শত্রুপক্ষ কৌতূহল দেখাবে। শনিতে পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি পাবেন।

মিথুন রাশি: প্রতিবাদ না করলে কোনো বিষয় জটিল হবে না। রবিবার যা ঘটবে তাতে পুরো সন্তুষ্টি আসবে না। সোমবার যথাযথ প্রচেষ্টায় শুভ পরিবর্তন। মঙ্গলে কতৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হবে। বুধে কর্তব্য পালন করে যেতে হবে। বৃহস্পতিবার ঘরে বাইরে শুভ প্রভাব অব্যাহত। শুক্রে ন্যায্য প্রাপ্তি আদায় হতে পারে। শনিতে বাধার সম্মুখীন।

কর্কট রাশি: সব ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে মনে হবে থমকে যাচ্ছে। রবিবার বিরুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। সোমবার অন্যের কথায় প্ররোচিত হলে ক্ষতির আশঙ্কা। মঙ্গলে ছোট কাজ সম্পন্ন করতে বেশি সময় লেগে যাবে। বুধে অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। বৃহস্পতিবার কাজের সুযোগ বাড়তে পারে। শুক্রে সামাজিক দিকে সুনাম অর্জন। শনিতে অর্থালাভের সম্ভাবনা।

সিংহ রাশি: অত্যন্ত প্রচেষ্টার দ্বারা সাফল্য, পরিবারের কাছে মর্যাদা পাবেন না। রবিবার দরকারি কাজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গুটিয়ে ফেলুন। সোমবার বিকেলের পর সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন। মঙ্গলবার প্রতিপক্ষকে আপনার পরিকল্পনা বুঝতে দেবেন না। বুধে দূরে গিয়ে কাজ করতে হলে চলে যান। বৃহস্পতিবার কেউ আপনাকে ভুল বুঝবে না। শুক্রে কেউ পরামর্শ দিলে কানে নিন। শনিতে নতুন যোগাযোগ।

কন্যা রাশি: কর্ম নিয়ে কোনো বাকবিতণ্ডায় যাবেন না। রোববার উদ্যমের সাথে এগিয়ে যান। সোমবার সহকর্মীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করুন। মঙ্গলবার অগ্রজসম ব্যক্তির দ্বারা প্রয়োজনীয় কাজ হয়ে যেতে পারে। বুধে অনুকূল প্রভাব থাকবে। বৃহস্পতিবার চুলচেরা হিসেব করলে অপ্রিয় হয়ে যেতে পারেন। শুক্রে সিদ্ধান্ত ধীরে নিন। শনিতে ঘরে বাইরে সামাল দিতে হাঁপিয়ে উঠবেন।

তুলা রাশি: ভুল পদক্ষেপ যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। রবিবার নিজের কাজ নিজেকে করতে হবে। সোমবার বিকেলের পর জটিলতা কমতে থাকবে। মঙ্গলবার বুদ্ধি খাটিয়ে দিনটা কাটান। বুধে বিভিন্ন রকম যোগাযোগ আসবে। বৃহস্পতিবার নিজের বুদ্ধিতে চলে পরিবেশকে আয়ত্তে আনবেন। শুক্রে দরকারি কাজগুলি শেষ করুন। শনিতে কেউ আপনার পিছনে সমালোচনা করবেন।

বৃশ্চিক রাশি: গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন না। রবিবার ভুল বোঝাবুঝি কর্মে বাধা। সোমবার সমস্যা বাড়তে পারে। মঙ্গলে সন্তানের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা। বুধে পরিবেশ থেকে বাধা এলেও সতর্ক থাকুন। বৃহস্পতিবার আপনার ওপর বহুজনের আস্থা রয়েছে। শুক্রে শত্রুপক্ষ অবদমিত থাকবে। শনিতে অর্থলাভ।

ধনু রাশি: আটকে গেছে এমন ব্যাপারে অগ্রগতির সম্ভাবনা। রবিবার সুযোগকে কাজে লাগান। সোমবার দুপুরে পর বিতর্ক যাবেন না। মঙ্গলে মন বিক্ষিপ্ত থাকবে। বুধে অপ্রিয় সত্য বলে নিজের ব্যাপারে ক্ষতি করবেন। বৃহস্পতিবার একঘেয়ে পরিবেশ। শুক্রে হিসেব নিকেশ ভুল হবার সম্ভাবনা। শনিতে অপনার মতামত অন্য কাউকে জানাবেন না।

মকর রাশি: মোকদ্দমার ব্যাপারে শুভ ফল আশা করা যায় না। রবিবার বিশ্বস্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করুন। সোমবার বিকেলে পর নতুন পরিবেশ থেকে আনন্দ পাবেন। মঙ্গলে যা সিদ্ধান্ত নেবেন তা কার্যকরী করে তুলতে পারবেন। বুধে অনুকূল পরিবেশ। বৃহস্পতিবার সামান্য মতানৈক্য। শুক্রে প্রতিকূল প্রভাব অব্যাহত। শনিতে ঝামেলা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন।

কুম্ভ রাশি: কোনও বিয়োগান্ত ব্যাপারে স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাহত হবে। রবিবার অনুকূল পরিবেশ। সোমবার দুপুরে পর সময়টা ব্যয়বহুল। মঙ্গলে কারোর মনোভাব বুঝে কথা না বলাই ভালো। বুধে কোথাও যাওয়ার ব্যাপারে বেশি খরচ। বৃহস্পতিবার সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাবেন। শুক্রে কোনো ব্যাপারে বাধা নেই। শনিতে মাতৃস্থানীয়া কারোর কথায় বিচলিত হতে পারেন।

মীন রাশি: দূরের কোনো পরিচিত ব্যক্তি আপনাকে সাহায্য করবেন। রবিবার পরিবারে জটিলতা। সোমবার ব্যয়বহুল। মঙ্গলে সবকিছু গুছিয়ে নিতে সমর্থ হবেন। বুধে কর্মস্থলে বিশ্বাসের জায়গা অক্ষুন্ন থাকবে। বৃহস্পতিবার অর্থকরী দিকটা বিচার করুন। শুক্রে পড়াশোনায় বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা। শনিতে মোটামুটি স্থিতিশীল পরিবেশ। বয়সে ছোট কোনো ব্যক্তির সহায়তা পাবেন।


সাপ্তাহিক রাশিফল ২৩/০৯/১৮ - ২৯/০৯/১৮ সাপ্তাহিক রাশিফল ২৩/০৯/১৮ - ২৯/০৯/১৮ Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 23, 2018 Rating: 5

বইয়ের দোকানের কর্মচারী থেকে - পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানীঃ মাইকেল ফ্যারাডে

September 23, 2018

মাইকেল ফ্যারাডে (জন্ম : ১৭৯১ খ্রি. মৃত্যু : ১৮৬৭ খ্রি.)

১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে ২২শে সেপ্টেম্বর জন্ম হয়েছিল মাইকেল ফ্যারাডের। জন্মেছিলেন তিনি ইংল্যান্ডের নেউইংটন অঞ্চলে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন দরিদ্র কর্মকার।
ছোটোবেলা থেকেই পিতার কারখানাতে ঘোরাফেরা করতেন মাইকেল ফ্যারাডে। কিভাবে কামরার লোহা পেটাচ্ছে, তা দেখতেন অবাক বিস্ময়ে। শিশুসুলভ উৎসাহে একদিন ঘোষণা করেছিলেন - 'বাবা, বড়ো হয়ে আমিও একজন কর্মকার হব। দেখো, সেদিন তোমাকে আর টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না।'
হয়তো কর্মকার হওয়ার স্বপ্ন সফল হয়নি মাইকেল ফ্যারাডের, কিন্তু তিনি যা আবিষ্কার করেছিলেন, তা বিশ্বের বিজ্ঞানীমহল সাদরে বরণ করে নিয়েছেন। তিনি এনেছেন ডায়নামো, বিশ্বের শিল্পক্ষেত্রে যা একটি বিপ্লব সংঘটিত করে। মানব সভ্যতার ক্ষেত্রে হয়ে ওঠে এক নতুন যুগের দিক প্রদর্শক।
বাড়িতে চার দেওয়ালের মধ্যেই ছোটবেলার দিনগুলি কেটে গিয়েছিল মাইকেল ফ্যারাডের। স্কুলের পড়াশোনা কী তা বোঝার সুযোগ ছিল না। যে বয়সে ছেলেরা মন দিয়ে পড়াশোনা করে এবং অবসর সময়ে চুটিয়ে গল্পগুজব করে, সেই বয়সে বেচারি মাইকেল ফ্যারাডেকে কাজ নিতে হয়েছিল এক বইয়ের দোকানে। সারাদিন কাজ করতেন সেখানে। হাড়ভাঙা খাটনি। বইয়ের বান্ডিল মাথায় করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে হত। হিসেব নিকেশ করতে হত। পোকায় খাওয়া বইগুলোকে আলাদা করতে হত। শুধু তাই নয়, কাঁধে বই নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে হত।
এমনকি অবসর সময়ে বই বাঁধাই করতে হত মাইকেল ফ্যারাডেকে।
এভাবেই বইয়ের প্রতি তাঁর সীমাহীন ভালোবাসার জন্ম হয়। মনের ব্যাপ্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে। এখানে তিনি পছন্দমতো বই পড়তে পারতেন। কখনো কখনো সারারাত ধরে বই পড়তেন। বিশেষ ভালোবাসতেন বিজ্ঞান ,তার সহজাত আকর্ষণ। বিশেষ করে বিজ্ঞানের বই পেলে তো আর কথাই নেই। কোথা থেকে সময় কেটে যেত, তা বুঝতেই পারতেন না।
কিন্তু প্রথাগত কোনো শিক্ষা ছিল না তাঁর। তাই বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলি উপলব্ধি করতে পারতেন না। পড়তে পড়তে কোথাও বাধা পেলে নিজের ওপর ভীষণ রাগ হত মাইকেল ফ্যারাডের। ভাগ্যকে দোষারোপ করতেন তিনি। চোখ বন্ধ করে বসে থাকতেন। অংকের জটিল ফর্মুলা কিছুতেই বুঝতে পারতেন না। - কোথায় জ্ঞানের দেবী, আপনি আমার মধ্যে আসুন, আমার তৃতীয় চোখ খুলে দিন। আমি সবকিছু বুঝব। আমি এক বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হব। আকুল আহ্বানে তখন হয়তো একথাই বলতেন মাইকেল ফ্যারাডে।
তখন লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটিতে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানীরা আসতেন বত্তৃতা দিতে। সাধারণ মানুষরা দলে দলে ভিড় করতেন সেই বত্তৃতা শুনবেন বলে। সময় এবং সুযোগ পেলে ফ্যারাডেও হাজির হতেন সেখানে।
সেখানে আসতেন হামফ্রে ডেভি। এক নামজাদা বিজ্ঞানী। ফ্যারাডে ভীষণ ভালোবসতেন ডেভির বত্তৃতা শুনতে। ডেভিকে দেখে তাঁর মনে হত, তিনি বোধহয় স্বর্গ থেকে খসে পড়া এক দেবদূত। যে করেই হোক, ডেভির বত্তৃতা শুনতে যেতেন মাইকেল ফ্যারাডে।
বত্তৃতার সব অংশ তিনি বুঝতে পারতেন না। তবু যতটা সম্ভব দুর্বোধ্য অংশগুলিও বোঝার চেষ্টা করতেন। বত্তৃতাগুলি কাগজে টুকে নিয়ে আসতেন। ঘরে এসে রাতের পর রাত জেগে চিন্তা করতেন। কখনওবা হাতেকলমে ছোটোখাটো পরীক্ষা করতেন। এইভাবেই ডেভির সঙ্গে তাঁর একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
অজানাকে জানার আগ্রহে একদিন দুঃসাহসী হয়ে উঠেছিলেন ফ্যারাডে। সরাসরি ডেভিকে একটি চিঠি লিখলেন তিনি। অশিক্ষিত ফ্যারাডের কাছ থেকে এই চিঠি পেয়ে ডেভি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। ডেভি ভেবেছিলেন, লেখক বোধহয় সাধারণ একজন দপ্তরী। তবুও তিনি এই চিঠিটাকে অবজ্ঞা করেননি। নিজের কাজে খুবই ব্যস্ত থাকতে হত হামফ্রে ডেভিকে। তখন তিনি এক নামজাদা বিজ্ঞানী। তা সত্ত্বেও ফ্যারাডেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি।
আমরা জানি, ডেভি আর ফ্যারাডের সাক্ষাৎকার বিশ্ববিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ন ঘটনা। একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী, আর অন্যজন বইয়ের দোকানের স্বল্পশিক্ষিত কর্মচারী। দুজনের মধ্যে মনের মিল হবে কেমন করে? কিন্তু বিধাতার বোধহয় অন্যরকম অভিপ্রায় ছিল। তাই দেখা গেল, প্রথম সেই সাক্ষাৎকারেই ডেভি অবাক হয়ে গেছেন। ডেভি ভাবতে পারেননি যে, ফ্যারাডের মতো অর্ধশিক্ষিত মানুষ বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলিকে এইভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি আন্তরিকভাবে মাইকেল ফ্যারাডের সঙ্গে করমর্দন করেছিলেন। তিনি, তাঁর জ্ঞানের পরিচয় পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। সদ্য তরুণ মাইকেল ফ্যারাডে সেদিন তাঁর স্বপ্ন সফল করেছিলেন।
ডেভি তাঁকে সহকারীর পদে গ্রহণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, মাইকেল ফ্যারাডের প্রতিভা যাতে অকালে ঝরে না যায়, তারজন্য সবরকম চেষ্টা করেছিলেন ডেভি। শুরু হল মাইকেল ফ্যারাডের নতুন জীবন। রসায়ন বিজ্ঞান নিয়ে ডেভির সঙ্গে গবেষণা করতে শুরু করলেন তিনি।
কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আলাদাভাবে গবেষণা শুরু করেছিলেন। তখন অবশ্য তিনি এক প্রাজ্ঞ যুবকে পরিনত হয়েছেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিরলস গবেষণার মধ্যে মগ্ন ছিলেন এই মহাবিজ্ঞানী। ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ২৫ই আগস্ট তাঁর জীবনাবসান হয়। আজও মাইকেল ফ্যারাডে আমাদের কাছে এক জীবন্ত বিস্ময়। জীবদ্দশাতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তির মহানায়ক - এসো, আমরা তাঁর উদ্দেশ্যে একটি সশ্রদ্ধ প্রনাম নিবেদন করি।

বইয়ের দোকানের কর্মচারী থেকে - পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানীঃ মাইকেল ফ্যারাডে বইয়ের দোকানের কর্মচারী থেকে - পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানীঃ মাইকেল ফ্যারাডে Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 23, 2018 Rating: 5

প্রতিদিনের জীবনে বিজ্ঞানের ১৫ টি অজানা প্রশ্ন উত্তর

September 21, 2018

১। নানা রঙের মেঘ দেখা যাওয়ার কারণ কি ?

মেঘের নিজস্ব কোন রঙ নেই। নানারঙের আলো মেঘের ওপর পড়ার জন্য মেঘে রঙ দেখা যায়। মেঘের ওপর সূর্যের আলো পড়লে মেঘের রঙ সাদা দেখায়। সূর্যাস্তের সময় সূর্যের লাল আভা মেঘের ওপর পড়লে মেঘকে লাল দেখায়। জলভরা মেঘ ভারী হয়ে যখন নীচের দিকে নেমে আসে তখন পৃথিবীর ছায়া মেঘের ওপর পড়ে তাই মেঘকে কালো দেখায়। 

২। বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণ কি ?

বতাস অনবরত আকাশের বুকে ছুটে বেড়ায়। এর মধ্যে কোনটা ঠাণ্ডা, কোনটা গরম। মেঘভরা গরম বাতাস ও ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে ঐ অঞ্চলের মেঘ ঠাণ্ডা হয়ে যায়। মেঘের মধ্যস্থিত জলকনা সমষ্টি তখন ভারী হয়ে শুন্যে বেড়াতে পারে না বৃষ্টির আকারে পৃথিবীর বুকে ঝরে পড়ে। 

৩। পচা ডিম কেন জলে ভাসে ?

---ডিম ভালো কি খারাপ তার পরীক্ষা করার সব থেকে ভালো উপায় হল, একপাত্র জলে ডিমটি ছেড়ে দেওয়া। ডিম যদি খারাপ হয়, তাহলে সেটা জলের ওপর ভাসতে থাকে। এই ডিম কখনো খাওয়া উচিত না।ডিম পচে গেলে কুসুম আর শ্বেতসার পচন ধরে। এই পচনের ফলে ডিমের কুসুম আর শ্বেতসার হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে পরিণত হয়। এই জন্য পচা ডিম জলে ভাসে। কারণ হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জলের থেকে হালকা।

৪। শীতের দিনে উত্তর দিক থেকে বাতাস বয় কেন ?

দক্ষিণায়নে সূর্যের অবস্থানের জন্য শীতকালে দক্ষিণের বাতাস বেশি গরম হয়ে উপরে উঠতে থাকে। শূন্যস্থান পূর্ণ করার জন্য উত্তর দিক থেকে ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে।

৫। জ্বরের সময় মাথায় ও কপালে জল দেওয়া হয় কেন ?

জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা বেশি হওয়ার জন্য মাথা ও কপাল গরম হয়। তখন জল ঢাললে জল বাস্পভুত হয় এবং প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও কপালে সরবরাহ হয়। ফলে দেহের তাপ কমে ও জ্বর কমে যায়।

৬। সরষের তেল বা সাবান চোখে লাগলে জ্বালা করে কেন ?

আমাদের শরীরের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের মধ্যে চোখের অচ্ছেদপটল বেশি স্পর্শকাতর। সাবান বা তেলের মত সামান্য উত্তেজক পদার্থের স্পর্শও সহ্য করতে পারে না তাই জ্বালা করে।

৭। রাত শেষ হলে সকালে ঘুম ভেঙে যায় কেম ?

মস্তিষ্কের ক্লান্ত কোষগুলি বিশ্রাম নিলে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। প্রথম দিকে তাই কোন কিছুর শব্দ বা সামান্য উত্তেজনা আমাদের ঘুম ভাঙাতে পারে না। ঘুমের ফলে কোষগুলি যখন আবার সতেজ হয় তখন ঘুম ক্রমশঃ পাতলা হয়ে যায় এজন্য সামান্য শব্দ বা আলোতেই ঘুম ভেঙে যায়।

৮। মানুষ বামন হয় কেন ?

শরীরের হরমোন ঘটিত কারণে মানুষ বেঁটে হয়। মস্তিষ্কের নীচে পিটুইটারি গ্রন্থি থাকে। এই গ্রন্থি থেকে নির্গত বৃদ্ধি পোষক হরমোন শরীরের পেশীকলা ও হাড়কে পুষ্ট করে। এই  গ্রন্থি দুর্বল হলে ব্রিদ্ধিপোষক হরমোন কম খরচ হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ ঠিকমত পুষ্টিলাভ করতে পারে না ফলে মানুষ বেঁটে হয়। আবার এই হরমোন বেশি ক্ষরিত হলেও মানুষ অত্যন্ত বেড়ে যায়।

৯। বদ্ধ ঘরে কাঠ কয়লার ধোঁয়া বিপজ্জনক কেন ?

খোলা ঘরে কাঠ কয়লা পুড়ে যে গ্যাস হয় তা বাতাসের সঙ্গে মিশে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি করে। বদ্ধ ঘরে কাঠ কয়লা পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড নামে এক রকমের বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি করে যার ফলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

১০। পাথুরে চুনে জল দিলে উত্তপ্ত ধোঁয়া বার হয় কেন ?

চুনা পাথর পোড়ালে ক্যালসিয়াম অক্সাইড তৈরি হয়। ইহা জীবাণু শুন্য তাই পাথুরে চুন জলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয় এবং ক্যালসিয়াম হাইড্রঅক্সাইড পরিণত হয় তা থেকে ধোঁয়া বের হয়।

১১। অতিরিক্ত শীতে মানুষ কাঁপে কেন ? 

শীতের দিনে বাইরের ঠাণ্ডা আবহাওয়া শরীরের তাপ অনেকাংশে টেনে নেয়। শরীরে ভারী পোশাক না থাকলে এই আকর্ষণ আরও বেশি হয় ফলে দেহের তাপ কমে গেলে শিত লাগে। অতিরিক্ত শীতে দেহের মাংসপেশী প্রয়োজনীয় তাপ উৎপাদনের চেষ্টা করে ফলে পেশীর সংকোচন ও প্রসারনের জন্য দেখা দেয় কাঁপুনি।

১২। ফুলে সৌন্দর্য ও মধুর সঙ্গে গন্ধের কি প্রয়োজন আছে ?

কাজের জন্য প্রকৃতি ফুলে মধুর সঙ্গে গন্ধের সমাবেশ ঘটিয়েছে। ফুল চলাচল করতে পারে না। পরাগ সংযোগ ঘটার ফলেই ফুল ফলে এবং বীজে পরিণত হয়। ফুলের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছি ও প্রজাপতি মধুর লোভে ফুলে বসে এবং তাদের পায়ে লেগে থাকা রেণু স্ত্রীফুলে মিশে পরাগ-সংযোগ ঘটে। গন্ধের জন্যই ফুল মধুলোভী কীট পতঙ্গকে আকর্ষণ করে। 

১৩। সমতল অপেক্ষা পাহাড় অঞ্চলে ঠাণ্ডা বেশি হয় কেন ?

নীচের দিকের বায়ুস্তর ঘন কিন্তু উপরের দিকে ক্রমশঃ পাতলা। ঘন বায়ুস্তরে সূর্যলোকের উত্তাপ ও পৃথিবীর মধ্যকার উত্তাপ যত বেশি থাকে হাল্কা বায়ুস্তরে ততটা থাকে না সেজন্যই পাহাড়ের ওপর অর্থাৎ সমতলের ওপরের দিকে ঠাণ্ডা বেশি বোধ হয়।

১৪। দিনের আলোয় গাছের পাতা সবুজ দেখা যায় কিন্তু লাল আলোতে কালো দেখায় কেন ?

দিনের আলোয় আলোয় সাতটি রং মিশে থাকে। গাছের পাতা সহযোগী সমস্ত রং শুষে নেয় কেবল সবুজ রংটি প্রতিফলিত হয়। তাই দিনের আলোয় সবুজ পাতা সবুজই দেখায়। লাল আলোতে সবুজ পাতা সব রং শুষে নেয় তাই কোন রং দেখা যায় না কেবল লাল দেখায়। 

১৫। সূর্য উদয় হওয়ার সময় বা অস্ত যাওয়ার সময় সূর্যকে লাল দেখায় কেন ?

বায়ুমণ্ডলে থাকা সূক্ষ ধুলিকনা দ্বারা সূর্যের রশ্মি বিক্ষিপ্ত হয়। যে বর্ণের রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য কম তার বিক্ষেপ বেশী হয়। লাল বর্ণের আলোক-রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য অন্যান্য বর্ণের চেয়ে বেশী। তাই লাল বর্ণের আলোক-রশ্মির বিক্ষেপ অন্যান্য বর্ণের চেয়ে কম হয়। সূর্য উদয় বা অস্তের  সময় সূর্য দিগন্তে থাকে বলে সূর্য রশ্মিকে অনেক বেশী পথ অতিক্রম করতে হয়। এর ফলে লাল বর্ণের অলোক-রশ্মি ছাড়া অন্যান্য বর্ণের রশ্মিগুলি বেশী বিক্ষিপ্ত হয়, ফলে ঐ রশ্মিগুলি আমাদের চোখে এসে পড়ে না। লাল বর্ণের রশ্মিগুলি কম বিক্ষিপ্ত হয় বলে আমাদের চোখে এসে পড়ে। তাই সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় সূর্যকে লাল দেখায়।
প্রতিদিনের জীবনে বিজ্ঞানের ১৫ টি অজানা প্রশ্ন উত্তর প্রতিদিনের জীবনে বিজ্ঞানের ১৫ টি অজানা প্রশ্ন উত্তর Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 21, 2018 Rating: 5

কার্বন ন্যানোটিউব কি ? কীভাবে তৈরি হয় ?

September 20, 2018


কার্বন ন্যানোটিউব কি ? 


আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারনা ছিল যে বিশুদ্ধ কার্বনের সুসজ্জিত গঠন দুট----গ্রাফাইট ও হীরে। দুটোই খুব ভাল করে চিনি আমরা। হীরে আমাদের গহনায়, হীরে কাঁচ কাটার কারখানায়, হীরে গল্পে, হীরে স্বপ্নে। আর গ্রাফাইট পেন্সিলের শীষে। বাকি বিশুদ্ধ কার্বন আমাদের কাছে ধরা দেয় অনিয়মিত রুপে। যেমন ভুসো কালি। এই ধারনা পাল্টে গেল ১৯৮৪ সালে। পরপর কিছু ঘটনার প্রবাহে, পরিক্ষায়, গবেষণায় বেরিয়ে এল বিশুদ্ধ কার্বনের নতুন রুপ----ব্যকিবল(bucky ball) শুধুমাত্র যে একটি নতুন অণু আবিষ্কৃত হল তা নয়, উদ্ভাসিত হল নতুন নতুন অণুর এক অসীম জগৎ। কোনওটাতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা ষাট, কোনওটাতে সত্তর আবার কোনওটাতে চুরাশি এরকম। এরা হল ফুলরিন। প্রত্যেকটা যেন কার্বন পরমাণু দিয়ে তৈরি খাঁচা। সেখানে প্রত্যেক পরমাণু আরও তিনটে কার্বন পরমাণুর সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ। যেমন থাকে গ্রাফাইটে। গ্রাফাইটের সঙ্গে অমিল অবশ্য ঢের। প্রত্যেক ফুলারিন অণুতে ঠিক বারোটা পঞ্চভুজ আর বিভিন্ন সংখ্যক ষড়ভুজ। ব্যকিবল যতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা ষাট, তাতে ষড়ভুজের সংখ্যা কুড়ি।
ফুলারিন গোষ্ঠীর অনুদের আকারও বিভিন্ন রকমের। ব্যকিবলের আকার বলেরই মত। সত্তরটা কার্বন পরমাণু রয়েছে যাতে তার আকার রাগবি বলের মত, একটু লম্বাটে। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ডক্টর রিচার্ড স্মলে ১৯৯০ সালে বলেন, একটা লম্বা নলের মত ঢাকনা দিয়ে। আরও যে বৈশিষ্ট্য থাকবে ঐ নল বা টিউবে তা হল কোনও পঞ্চভুজ থাকবে না, সব হবে ষড়ভুজ। অন্য এক বিজ্ঞানী মিলি ড্রেসেলহস এই ধারনার কথা শুনে প্রস্তাবিত নলের নাম দেন বাকিটিউব। সে নাম অবশ্য টেকেনি।
১৯৯১ সালে জাপানের একজন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ বিশেসজ্ঞ সুমিও ইজিমা খুঁজে পেলেন ন্যানো মাপের কার্বন নল। অনেকটা যেমন বলেছিলেন বিজ্ঞানী স্মলে। তবে সেগুলো বহুস্তরীয় বা বলা যায় অনেকগুলো দেওয়াল বিশিষ্ট। আরও দু'বছর পর তিনি সত্যি খুঁজে পেলেন একটি মাত্র দেওয়াল বিশিষ্ট কার্বন ন্যানো টিউব। ব্যকিটিউব। ন্যানটিউব নামটাই অবশ্য টিকে রয়েছে। ঐ সময়ই আই বি এম কোম্পানির ডেভিড বেথুন খুঁজে পান এক দেওয়ালের ন্যানোটিউব। সম্পূর্ণ পৃথকভাবে। অবশ্য বিজ্ঞজনেরা বলেন যে এঁদের আগেই ন্যানোটিউব আবিষ্কৃত হয়ে গিয়েছিল। কীরকম ?
কার্বন নামের বিজ্ঞান পত্রিকায় ২০০৬ এর এক সংখ্যার সম্পাদকীয়তে দু'জন লেখক, মার্কমন্থিয়ুক্স এবং ভ্লাদিমির কুজনেৎসভ মন্তব্য করেন যে কার্বন ন্যানোটিউব আবিস্কারের কয়েকজন আদি কর্তাকে ভুলে যাওয়া হয়েছে। ১৯৫২ সালে রাশিয়ার জার্নাল আফ ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি'তে রাদুস্কোভিচ এবং লুকিয়ানভিচ একদম পরিস্কার ভাবে রাশিয়া আর আমেরিকার ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলছে। রুশ ভাষায় লেখা ওই প্রবন্ধ পাশ্চাত্যে হয় পৌঁছায়নি নয়ত সে ভাবে কেউ নজর করেনি। ইজিমার আসায় সরাসরি তা  চোখে দেখা যায়নি বা ছবি তৈরি করা যায়নি। ইজিমার কৃতিত্বকে খর্ব করার জন্য আরও তথ্য রয়েছে। ১৯৭৬ সালে ওবারলিন, এন্ডো এবং কোয়ামার প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে পরিস্কারভাবে ফাঁপা কার্বন তন্তুর অস্তিত্বের উল্লেখ করা হয়। এই তন্তুর ব্যাসার্ধও ন্যানো মাপের ছিল। ১৯৮১ সালে ইউক্রেনের এক দল বিজ্ঞানী কার্বন ন্যানোটিউবের মত গঠনের উল্লেখ করেন। ১৯৮৭ সালে এক মার্কিন রাসায়নবিদ হাওয়ার্ড টেনেন্ট মার্কিন দেশের পেটেন্ট পান ন্যানটিউবের মতই গঠন আবিস্কারের জন্য। তবে যেহেতু পেটেন্টের কথা হচ্ছে  সেক্ষেত্রে এখানে 'আবিস্কার' করা যাবে না। আবিস্কারের জন্য কেউ পেটেন্ট পায় না। পায় উদ্ভাবনের জন্য। হাওয়ার্ড টেনেন্ট বস্তুতপক্ষে ন্যানোটিউব তৈরি করেছিলেন। যাই হোক, এই যে ন্যানটিউবের আবিস্কার ঘিরে এত দাবি, এত তথ্যের লড়াই, এর একটা বড় প্রয়োজন দেখা দেবে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সময়। ন্যানটিউবের জন্য যে একটা নোবেল পুরস্কার বাঁধা এমনটা সবাই মনে করেছেন। কে বা কারা সেটা পাবেন তা নির্ভর করবে তথ্যের লড়াইয়ে কে জয়ী হবেন, তার উপর।


কিভাবে তৈরি হয় কার্বন ন্যানোটিউব ?



ন্যানোটিউবটিকে একটু অন্য ভাবে দেখা সম্ভব। যদি গ্রাফাইটের দিকে তাকাই তবে দেখব তা আসলে উপর-নীচে পর পর রাখা কয়েকটা কার্বনের তৈরি চাদর। প্রত্যেকটা চাদরে কার্বন পরমাণুগুলো জুড়ে জুড়ে ষড়ভুজ তৈরি করে। এখানে কোনও পঞ্চভুজ নেই। গ্রাফাইটের এই একটা চাদরই এগরোল বা মটনরোল পাকানোর মত মুড়ে দিলে পাওয়া যায় কার্বনের ন্যানোটিউব। তবে এগরোল বা মটনরোল যেমন গোল পাকানোর পর জোড়ার জায়গাটা স্পষ্ট থাকে, কার্বন ন্যানোটিউবে তেমনটা থাকে না। এখানে কোনও জোড় খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। আবার, এটাও বলা উচিত যে এখানে আমরা রোলের তুলনা দিলেও পারমানবিক স্তরে হাত দিয়ে মোড়ার কাজটা সম্ভব নয়। তাহলে কীভাবে তৈরি হয় ন্যানটিউব।


১৯৯৩ সালে ইজিমা তৈরি করেন কেমিক্যাল ভেপার ডিপোজিশন (CVD) পদ্ধতি। এখানে কার্বন রয়েছে এমন কোনও একটা গ্যাসকে ভেঙে যেতে দেওয়া হয়। ভেঙে যাওয়া মানে তার আনবিক গঠন ভেঙে যাওয়া। এর ফলে বেরিয়ে আসে কার্বন পরমাণু। সেগুলো ফের নিজেরা জোট বেঁধে কার্বন ন্যানোটিউব গড়ে তোলে। এই পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ কার্বন ন্যানোটিউব পাওয়া যায়। অন্য একটা পদ্ধতিতে গ্রাফাইটের দণ্ডে লেসার রশ্মি ফেলা হয় পরিকল্পিতভাবে। যে গঠন বেরিয়ে আসে তারা তিরিশ থেকে সত্তর শতাংশ কার্বন ন্যানোটিউব।বাকিটা নেহাৎই গুঁড়ো অসংগঠিত কার্বন কণা। বিভিন্ন পদ্ধতিতে গঠিত হওয়ার সময় কার্বন ন্যানোটিউব সমতলের সঙ্গে কত কোণে গোল পাকায় তার উপর নির্ভর করে তার তড়িৎ সংক্রান্ত ধর্ম। এই কোণের উপর নির্ভর করে সে পরিবাহী  না অর্ধ পরিবাহীর মতো আচরন করে। উধাহরণ---রুপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। অর্ধপরিবাহী তারাই যাদের তড়িৎ পরিবহনের  ক্ষমতা পরিবাহী এবং কুপরিবাহীর মাঝামাঝি। তবে শুধু এটুকু বললেই অর্ধপরিবাহীকে বোঝা যায় না। তাদের অন্যান্য বিশেষ ধর্মও আছে। বালির মধ্যে পাওয়া যায় যে সিলিকন তা অর্ধপরিবাহীর সবথেকে ভাল  উধহরণ। আরও একটা বহু ব্যবহৃত অর্ধপরিবাহী পদার্থ হল জার্মেনিয়াম। 


ন্যানোটিউব অতি ক্ষুদ্র পরিসরের প্রযুক্তি। তাই  সেখানে সব সময়ই আগ্রহ কত ছোট জিনিস তৈরি করা যায়। এখনও পর্যন্ত সব থেকে ছোট যে কার্বন ন্যানোটিউব তৈরি করা গেছে তার কৃতিত্ব জাপানের এন. ই. সি-র.। সে কার্বন নলের ব্যাস দশমিক চার(০.৪) ন্যানোমিটার। তাত্বিকভাবে মানে অঙ্ক কষে বলা হয়েছে, এর থেকে ছোট ন্যানোটিউব আর সম্ভব  নয়। হংকং ইউনিভারসিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিও এই কৃতিত্বের ভাগীদার।


এখানে একটা কথা বলে দেওয়া প্রয়োজন। ন্যানোটিউব শুধু যে কার্বন পরমাণু দিয়ে তৈরি হয়, তা নয়। আরও অনেক পদার্থ থেকে ন্যানোটিউব তৈরি করা যায়। ব্যবহার করা যেতে পারে সিলিকন, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড এবং ক্যাডমিয়াম সেলেনাইড। কার্বনের সঙ্গে অন্যান্য ধাতুর পরমাণু মিশিয়েও ন্যানোটিউব তৈরি করা সম্ভব। অন্যান্য পদার্থ যেমন অ্যালুমিনিয়াম থেকে ন্যানোটিউব তৈরি করা যায় কিনা তা নিয়েও গবেষণা চলছে। হঠাৎ অ্যালুমিনিয়াম কেন আসলে এই ধাতু তুলনায় হাল্কা অথচ অনেক শক্ত। তবে ন্যানোটিউব অথবা ন্যনোতত্ব কীভাবে আচরণ করবে তা দেখায় আগ্রহ রয়েছে সকলের। 

কার্বন ন্যানোটিউব কি ? কীভাবে তৈরি হয় ? কার্বন ন্যানোটিউব কি ? কীভাবে তৈরি হয় ? Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 20, 2018 Rating: 5

গ্যালিলিওর অবস্থা দেখে কেঁদেছিলেন এই বিজ্ঞানী - ইভানজেলিস্তা টরিসেলি

September 19, 2018

ইভানজেলিস্তা টরিসেলি (জন্ম : ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দ, মৃত্যু : ১৬৪৭ খ্রিস্টাব্দ)

ছোটোবেলা কেটে গিয়েছিল চার্চের কঠোর শৃঙ্খলাবদ্ধ আবহাওয়ার মধ্যে। মন দিয়ে বাইবেল পড়তে হয়েছিল। ওল্ড টেস্টেমেন্টের এক একটি নির্দেশনামা মুখস্থ করতে হয়েছিল চোখ বন্ধ করে। মাঝে মধ্যে হৃদয় বিদ্রোহী হয়ে উঠত। তবুও কিছু করতে পারতেন না অসহায় টরিসেলি। তখনকার দিনে এটাই ছিল সামাজিক নিয়ম। ভালো ছাত্রদের যেতে হবে জেসুইটদের স্কুলে। খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা তখন নানা জায়গাতে বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। তাঁদের একটি বিশেষ শাখা জেসুইট মনে পরিচিত ছিল । জেসুইটরা ধর্মবিদ্যাকে প্রসারের উদ্দেশ্যে উত্তর ইতালিতে অনেক স্কুল খুলেছিলেন। এমনই একটি স্কুলে টরিসেলির বাল্যশিক্ষা শুরু হয়।
জন্মেছিলেন তিনি উত্তর ইতালির কায়েঞ্জা শহরে। ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই অক্টোবর পৃথিবীর বুকে এসেছিলেন টরিসেলি। মা বাবা ছিলেন নেহাত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কিন্তু সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ছিল ওই পরিবারটির মধ্যে। ছোটো থেকেই তাঁরা চেয়েছিলেন টরিসেলিকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। সুযোগ থাকলে হয়তো তাঁরা টরিসেলিকে অন্য কোথাও পাঠাতেন। কিন্তু তখন বিদ্যাশিক্ষা হত শুধুমাত্র জেসুইটদের স্কুলে। ফায়েঞ্জা শহরে তখন একাধিক জেসুইট স্কুল স্থাপিত হয়েছে।
অসাধারন মেধা নিয়ে জন্মেছিলেন টরিসেলি। যা একবার শুনতেন তা সহজেই ভুলতেন না। যে পড়তেন তা তাঁর মনের ভিতর গেঁথে যেত। এই স্কুলে ধর্মশিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানের সহজ পাঠও শেখানো হত। ছোটোবেলা থেকেই টেরিসেলি বিজ্ঞানের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ বোধ করেছিলেন। স্কুলের সব কটি পরীক্ষাতে প্রথম হতেন তিনি। প্রথম হওয়াটাকে এভাবেই আয়ত্ত করেছিলেন টরিসেলি। প্রত্যেকবার পরীক্ষার শেষে ফল ঘোষণা হত। টেরিসেলি জানতেন প্রথম পদকটি তাঁর বাঁধা।
স্কুলের দিনগুলি শেষ হয়ে গেল। বিজ্ঞানজিজ্ঞাসু মন নিয়ে টরিসেলি ভর্তি হলেন বিখ্যাত কলেজিও দ্য সাপিয়েঞ্চা মহাবিদ্যালয়।
সেখানেই একদিন লাইব্রেরিতে গ্যালিলিওর মহাকাশ তত্ত্বের উপর লেখা একটি বই হাতে পেলেন টরিসেলি। এই বইটি গোগ্রাসে গিলেছিলেন তিনি। কলেজের ক্লাস মাথায় উঠল। রোমের লাইব্রেরিগুলিতে তখন তিনি হানা দিচ্ছেন এক অভিযাত্রীর মতো। গ্যালিলিওর বই কোথায় আছে, অনুসন্ধান করে ফিরছেন তিনি। অনুগ্রহ করে একটি কপি আমাকে পড়তে দেবেন - এটাই ছিল টরিসেলির একান্ত অনুরোধ। লাইব্রেরিয়ান অবাক হয়ে তাকাতেন টরিসেলির মুখের দিকে। শৈশবসুলভ সারল্য এখনো লেগে আছে থুতনিতে। দুটি চোখে অবাক বিস্ময় খেলা করছে। প্রবীণ লাইব্রেরিয়ানের মনে কি এক ভাবনার উদয় হত। তিনি বিশেষ অনুমতি দিতেন টরিসেলিকে। টরিসেলি ঢুকে পড়তেন সেই গ্রন্থাগারের মধ্যে। সারাদিন কেটে যেত গ্যালিলিওর বই পড়ে পড়ে।
রোমে একাধিক গ্রন্থাগার এবং সংগ্রহশালা ছিল। সেখানে ঘুরে ঘুরে গ্যালিলিওর বেশ কয়েকটা বই পেলেন টরিসেলি। পড়ে ফেললেন। অতৃপ্তি আরো বেড়ে গেল। গ্যালিলিও যেন অদৃশ্য আকর্ষনে ঢাক দিচ্ছেন টরিসেলিকে। বলছেন - 'টরিসেলি তুমি আমার কাছে এসো। আমি তোমার জন্যে সাজিয়ে রেখেছি আধুনিক বিজ্ঞানের মনিমুক্ত। তুমি তা গ্রহণ করো। আমাকে উদ্ধার করো কূপমন্ডুকতার অন্ধকার থেকে।'
শেষ অব্দি অবশ্য টরিসেলির এই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। তেত্রিশ বছর বয়সে তিনি ফ্লোরেন্স শহরে এসে গ্যালিলিওর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।
কিন্তু বিজ্ঞানের সেই আগ্নেয়গিরি তখন অনেকখানি নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন। তা থেকে আর ধূম উদগীরণ হচ্ছে না। বোধহয় বিপক্ষ দলের সঙ্গে লড়াই করতে করতে ফুরিয়ে গিয়েছিলেন গ্যালিলিও। প্রিয় বিজ্ঞানীর এই অবস্থা দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন টরিসেলি। তবুও যা আছে, তাই বা কম কি!
এই হলেন ইভান জেলিস্তা টরিসেলি। গ্যালিলিওকে গুরু বলে মেনে বিজ্ঞানের জগতে তার আবির্ভাব। টরিসেলি অনেকগুলি তত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। তার মধ্যে যার জন্য তিনি বিশ্ববিখ্যাত হয়েছেন, সেটি হল বায়ুর চাপ। তার নামেই বায়ুর চাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হয়ে ওঠে টরিসেলি নল। "বায়ুচাপ সম্পর্কিত দিক নির্দেশক" প্রবন্ধটি টরিসেলি লিখেছিলেন ১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে। তিনি বলেছিলেন, 'আমরা বাতাসের মহাসমুদ্রে ডুবে আছি। এই সমুদ্রের গভীরতা পাঁচশো মাইলের বেশি।' তিনি আরো বলেছিলেন যে, 'এই গভীর বায়ুসমুদ্রের একেবারে তলদেশে আমরা আছি। এই বাতাসের ওজন জলের ঘনত্বের আটশো ভাগের একভাগ মাত্র।'
টরিসেলির তত্ত্ব আজও আমরা অভ্রান্ত বলে মেনে চলেছি। যদিও নানা বিজ্ঞানী নানাভাবে এই তত্ত্বের আরো উন্নতিসাধন করেছেন, কিন্তু পথপ্রদর্শক হিসেবে তাকে আমরা নস্যাৎ করতে পারিনা। ব্যারোমিটার আবিষ্কার করার পর গ্যালিলিওর দুরবিনের সংস্কার তার অন্যতম।
আর একটা কথা শুনে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে যাবে, এই টরিসলি প্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নকশা তৈরি করেছিলেন। ভাগ্য সহায় হলে তাকেই আমরা অনুবিক্ষন যন্ত্রের আবিষ্কারকের আসনে বসাতে পারতাম। তিনি প্রথম অনুধাবন করেছিলেন যে এই পৃথিবীতে এমন অনেক বস্তু আছে যাদের আমরা খালি চোখে দেখতে পারি না। তাদের দেখতে বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন।
মাত্র  ৩৯ বছর বয়সে টরিসেলির জীবনে অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসে। বিজ্ঞানী হিসেবে তখন তিনি খ্যাতির সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছেন। প্রকৃতির কি নির্মম পরিহাস, ১৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে ২৪ শে অক্টোবর, মাত্র ৩৯ বসন্তের টরিসেলি মহাকাশের তারা হয়ে গেলেন। পড়ে রইল তার সবকিছু। রইল অসমাপ্ত কবিতা, অগ্রন্থিত গল্প এবং না-বলা ইতিহাস।

গ্যালিলিওর অবস্থা দেখে কেঁদেছিলেন এই বিজ্ঞানী - ইভানজেলিস্তা টরিসেলি গ্যালিলিওর অবস্থা দেখে কেঁদেছিলেন এই বিজ্ঞানী -  ইভানজেলিস্তা টরিসেলি Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 19, 2018 Rating: 5

রহস্যময় মহাবিশ্বের জানা অজানা কথা

September 18, 2018

মহাবিশ্ব কাকে বলে?

---যাবতীয় বস্তু , আলোকরশ্মি, সব ধরনের বিকিরণ, এককথায় স্থান এবং সময়ের নিরিখে দৃশ্যমান অদৃশ্য সব কিছু নিয়ে তৈরি হয়েছে মহাবিশ্ব। এই পৃথিবী, সৌরমণ্ডল সবই মহাবিশ্বের অন্তর্গত। সূর্যসহ সমস্ত জ্যোতিষ্ক মহাবিশ্বের অংশ বিশেষ।

সৌরমণ্ডল বলতে কি বোঝায় ?

---সূর্য তারা গ্রহ, উপগ্রহ, হাজার হাজার ধুমকেতু এবং অসংখ্য ছোটো ছোটো তারা নিয়ে সৌরমণ্ডল গঠিত হয়েছে। মহাবিশ্বে অসংখ্য সৌরমণ্ডল ছড়িয়ে আছে। সূর্যের মতো জ্যোতিষ্কগুলি বিভিন্ন নক্ষত্র পুঞ্জ অথবা গ্যালাক্সির মধ্যে রয়েছে। আমাদের সৌরমণ্ডল যে সর্পিল নক্ষত্র পুঞ্জের মধ্যে অবস্থিত, তাকে মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ বলে।

বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে বিগ ব্যং থিয়োরি কী বলছে  ?

---সাধারণ ভাবে ধরে নেওয়া হয় যে, আমাদের এই মহাবিশ্ব প্রথমে ছিল একটি অতিকায় ঘন গোলক। তার থেকে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গ্রহ, নক্ষত্র এবং সৌরমণ্ডলের।
বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ অ্যাবে জর্জেস লেমেট মহাবিশ্বের ক্রমপ্রসারনের বিগ ব্যাং থিয়োরির সাহায্যে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাজার হাজার কোটি বছর আগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সিঙ্কুচিত ছিল। আদি বিস্ফোরণের মাধ্যমে তার প্রসারণ শুরু হয়। এই বিস্ফোরণ অতি ঘন গোলকটিকে 
ভেঙে ফেলে। গোলকটি টুকরো টুকরো হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। টুকরোগুলি এখনও সেকেন্ডে কয়েক হাজার কিলোমিটার গতিবেগে ছুটে চলেছে। এই গতিশীল বস্তু থেকেই নিহারিকাপুঞ্জ বা ছায়াপথের উৎপত্তি। ছায়াপথ অথবা নক্ষত্রের সৃষ্টি কিন্তু প্রসারনের গতি হ্রাস করতে পারেনি। সম বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে যেমন হয়, এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সব থেকে দুরের টুকরোগুলি সবথেকে বেশি গতিশীল। এই আদি বিস্ফোরণই হল বিগ ব্যাং থিয়োরির মূল কথা।

মহাকাশ সৃষ্টি সম্পর্কে ক্রমাগত সৃষ্টি তত্ত্ব টি ব্যাখা করো।

--- ক্রমাগত সৃষ্টি তত্ত্বটির প্রবক্তা দুজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী--টমাস গোল্ড এবং হারমান বল্ডি। ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ ফ্রেড ইয়েন এই তত্ত্বটি সমর্থন করেছিলেন। এই তত্ত্ব অনুসারে বলা হয়ে থাকে যে নীহারিকাপুঞ্জ এবং ছায়াপথগুলি একে অন্যের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, কিন্তু এদের অবস্থান সংক্রান্ত ঘনত্ব একই রয়ে গেছে। অর্থাৎ যখন পুরনো ছায়াপথ দূরে সরে যায়, তখন নতুন ছায়াপথ এসে তার স্থান দখল করে।


মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে পালসেটিং বা অসিলেটিং অর্থাৎ কম্পমান তত্ত্ব বলতে কি বোঝো ?

---দঃ অ্যালান স্যানডেজ পালসেটিং বা অসিলেটিং মহাকাশ তত্ত্বের প্রবক্তা। এই তত্ত্ব অনুসারে শতকোটি বছর সময় সীমার মধ্যে মহাবিশ্ব সঙ্কুচিত এবং প্রসারিত হয়েছে। ডঃ স্যানডেজের ধারনা অনুসারে ১২০০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বে এক বিপুল বিস্ফোরণ ঘটে গিয়েছিল। তারপর এটি ক্রমশঃ প্রসারিত হয়ে চলেছে। আরও ২৯০০ কোটি বছর ধরে এই প্রসারণ চলবে। তারপর মহাকর্ষের প্রভাবে প্রসারণ বন্ধ হয়ে যাবে এবং প্রচণ্ড চাপের কারনে সমস্ত বস্তু সঙ্কুচিত হতে শুরু করবে। সঙ্কোচন চলবে ৪১০০ কোটি বছর ধরে। এরপর আবার তৈরি হবে অতি ঘনত্ব বিশিষ্ট গোলক এবং ঘটবে মহাবিস্ফোরণ।

মহাবিশ্বের বয়স কত ?


---সম্প্রতি ব্রহ্মাণ্ডের বয়স সম্পর্কে বিঞ্জানসম্মত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নাসার গবেষণারা বলেছেন যে ১৩০৭ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের জন্ম। তাঁরা আরও বলেছেন, বিগ ব্যাং-এর প্রায় ১০ কোটি বছর পরে আকাশময় ছড়িয়ে পড়েছিল অগুনিত নক্ষত্র। সৃষ্টির সেই ঊষাকাল ছিল একেবারে শূন্য, তখন কোন মহাজাগতিক বস্তুর চিহ্ন আমাদের চোখে পড়েনি। তৈরি হয়নি গ্রহ, নক্ষত্র বা ছায়াপথ। বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা উত্তাপের অতি নগণ্য পরিবর্তন হয়েছিল। যার পরিমাপ ১ ডিগ্রীর ১০ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ। উইলকিনসন মাইক্রোওয়েভ অ্যানিসোট্রোপি প্রোব গবেষণা চালিয়েছেন বিগ ব্যংয়ের ৩,০৮,০০০ বছর পরের পৃথিবী নিয়ে। বিঞ্জানীদের একটা বড় অংশের বিশ্বাস ঠিক এই সময়েই নাকি জন্ম ব্রহ্মাণ্ডের।

আমাদের ছায়াপথ সম্পর্কে কী জানো ?

---আমাদের নিজস্ব ছায়াপথে আকাশগঞ্জা বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে বৃত্তাকারে অবস্থিত একটি তীব্র আলোকবন্ধনীর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবী থেকে দেখলে এই আলকবন্ধনিটিকে আলোর ঝর্না বলে মনে হয়। আসলে এটি হল অসংখ্য উজ্জ্বল নক্ষত্রের সমাবেশ পাশ্চাত্য বাসীরা এর নামকরণ করেছেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
ছায়াপথ আমাদের পূর্ব পুরুষদের মোহগ্রস্থ করেছিল। তাঁরা ছায়াপথকে লক্ষ্য করে কত না গল্পকথা লিখেছিলেন। মধ্য এশিয়ার ইয়াকুতার ছায়াপথকে ঈশ্বরের পদচিহ্ন বলা হত। এক্সিমোরা এর নামকরণ করেছিল শুভ্র ভস্ম নামিত পথ। চীনারা বলত স্বর্গীয় নদী আর হিব্রুরা বলত আলোর নদী। ভারতে এর নামকরণ করা হয়েছিল আকাশগঙ্গা বা স্বর্গ গঙ্গা।
ছায়াপথ হল সর্পিল নক্ষত্রপুঞ্জ। এই নক্ষত্রপুঞ্জের মূল অংশটি বা চাকতিটির ব্যাস ১ লক্ষ আলোকবর্ষ। এর কেন্দ্রে আছে দ্বিতীয় কেন্দ্রক, যার ব্যাসার্ধ ২৬ হাজার আলোকবর্ষ, আর আছে অগুনিত দীর্ঘ সর্পিল বাহু যার একটিতে আমাদের সৌরমণ্ডলের অবস্থান। এতে আছে ১০ হাজার কোটিরও বেশি নক্ষত্র, যারা কেন্দ্রের চার পাশে ঘুরছে। এদের ঘূর্ণন কাল গড়ে ২৩ কোটি বছর। 
আমাদের নক্ষত্রপুঞ্জের কেন্দ্র থেকে সূর্য প্রায় ৩২ হাজার  আলোকবর্ষ দূরে। ঐ নক্ষত্রপুঞ্জকে আপাতদৃষ্টিতে ঘূর্ণ্যমান গ্যাসের চাকতি বলে মনে হয়।
এখানে ক্রমাগত নতুন নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে। এই ছায়াপথে তারকার ঘনত্ব প্রতি ঘন পারসেকে অর্থাৎ ৩.২৬ আলোকবর্ষে প্রায় ১০ লক্ষ নক্ষত্র।
ছায়াপথ ছাড়া তিনটি নক্ষত্রপুঞ্জকে পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায়। উত্তর গোলার্ধ থেকে দেখা যায় অ্যান্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জ। এটি প্রায় ২০ লক্ষ্য আলোকবর্ষ দূরে। দক্ষিন গোলার্ধ থেকে দেখা যায় লার্জ ম্যাগেলানিক ক্লাউড(১,৬০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে) ও স্মল ম্যাগেলানিক ক্লাউড(১,৮০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে) 

নক্ষত্র সমাবেশ কেমন হয়ে থাকে ?

--- আমাদের পরিচিত নক্ষত্র সমাবেশ তিনটি আকার দেখা যায়। সর্পিল, উপবৃত্তীয় এবং অসম। সর্পিল নক্ষত্র সমাবেশে নক্ষত্রপুঞ্জে একটি কেন্দ্রক বা নিউক্লিয়াস থাকে। তার চারপাশে থাকে বিশাল বিশাল সর্পিল বাহু। আমাদের ছায়াপথ বা আকাশগঙ্গা এবং অ্যান্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জ এই শ্রেণী ভুক্ত।
নক্ষত্রপুঞ্জের ৮০ শতাংশ হল সর্পিল নক্ষত্রপুঞ্জ। এরপর আমরা উপবৃত্তীয় নক্ষত্রপুঞ্জের কথা বলব। এদের আকার সম্পূর্ণ উপবৃত্তীয়। এতে কোন সর্পিল বস্তু নেই। এরা দখল করে আছে সমস্ত নক্ষত্রপুঞ্জের ১৭%।
অসম আকারের নক্ষত্রপুঞ্জের নামকরণ থেকেই বুঝতে পারা যায় যে, তাদের নির্দিষ্ট কোন আকৃতি নেই। নক্ষত্রপুঞ্জগুল আবার বিভিন্ন গোষ্ঠী বা ক্লাস্টারে একত্রিত হয়। আমাদের ছায়াপথ যে ক্লাস্টারের অংশ তার নাম লোকাল গ্রুপ(Local Group).

রেড জায়েন্ট কাদের বলা হয় ?

 --- যখন কোন নক্ষত্রে হাইড্রোজেনের পরিমাণ নিঃশেষিত  হয়ে আসে, তখন তার বাইরের দিকটা লালচে হয়ে ফুলে ওঠে। এটি হল একটি নক্ষত্রের বয়সের প্রথম লক্ষণ। এই নক্ষত্রগুলিকে বলে লাল দৈত্য বা রেড জায়েন্ট। আগামী ৫০০ কোটি বছর বাদে সূর্য এমন একটি লাল দৈত্য বা রেড জায়েন্টে পরিনত হবে।
রেড জায়েন্ট খুবই উপযোগী নাম। এগুলো  আকারে সুবিশাল। উধাহরন স্বরুপ আমরা 'বিটেলগিইউস'-এর কথা বলতে পারি। এর প্রকৃত ব্যাস ৪৮ কোটি কিমি, বা সূর্যের ব্যাসের ৩৫০ গুন। আর একটি রেড জয়েন্ট মিরার ব্যাস ৬৪ কোটি কিমি।

ভেরিয়াবেল স্টার কাদের বলা হয় ?

---১৭৮৪ সালে ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী জন গুডিরিক এক ধরনের নক্ষত্রের পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ছিলেন মুক এবং বধির। দিনের পর দিন আকাশ পর্যবেক্ষণ করে তিনি ভ্যারিয়েবল স্টারের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। তিনি দেখেছিলেন, ডেলটা সেফিং নামে নক্ষত্রের  ঔজ্জ্বলের স্কেত্রে ৫ দিন ৯ ঘণ্টা অন্তর পরিবর্তন হচ্ছে।  এই ধরনের নক্ষত্রকেই বলা হয় ভেরিয়েবেল স্টার। 
এই ধরনের কোনো কোনো নক্ষত্রকে কয়েক ঘণ্টা অন্তর উজ্জ্বলতার পরিবর্তন করতে দেখা যায়। আবার কোনটিতে ১০০০ দিন বাদে উজ্জ্বলতার পার্থক্য হয়। সাধারনভাবে বলা যায়, সময়ের হার যত কম হবে, ঔজ্জল্য তত বেশি হবে।

নোভা সুপারনোভা কাদের বলা হয় ?

----হঠাৎ কোনো নক্ষত্রের  ঔজ্জ্বল্য ১০-২০ গুন বেড়ে যায়। তারপর আবার ধীরে ধীরে সে স্বাভাবিক ও সাধারণ উজ্জ্বলতায় ফিরে আসে। এই আকস্মিক উজ্জ্বলতার বৃদ্ধির কারণ কি ? বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, এর অন্তরালে আছে আংশিক বিস্ফোরণ। এই জাতীয় হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে ওঠা তারাকে নোভা এবং সুপারনোভা বলা হয়। নোভার ক্ষেত্রে বাইরের খোলটির বিস্ফোরণ ঘটে। সুপারনোভার তুলনায় নোভা বেশি দেখতে পাওয়া যায়। সেফিও, এমন একটি সুপারনোভা।

ব্ল্যাকহোল কাকে বলা হয় ?

---- ব্ল্যাকহোল একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন নক্ষত্র। এর বস্তু ঘনত্ব এত বেশি যে তার তীব্র মহাকর্ষ বলে কাছাকাছি সমস্ত বস্তু নক্ষত্রের কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয়। এমনকি নক্ষত্রপুঞ্জ কেন্দ্রে ঢুকে যায়। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বরে মহাকর্ষ এত বেশি যে, আলো তা থেকে রক্ষা পায় না। তাই ব্ল্যাকহোল থাকে অন্ধকারে। আর আমরা সরাসরি তাকে দেখতে পাই না।

কোয়াসার কি ?

---মহাবিশ্বে এক ধরনের ঝলমলে অস্বাভাবিক বস্তুর সন্ধান মেলে, এদের কোয়াসার বলা হয়। কোয়াসার পৃথিবী থেকে ১২০০ থেকে ১৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে আছে। কোনো কোনো
বিজ্ঞানীর মতে এক বিশাল ব্ল্যাক হোল আশপাশের নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে গ্যাসীয় মেঘ শোষণ করে এই বিশাল পরিমাণ আলোক শক্তির জন্ম দেয়।

মহাকাশের বিস্তার সম্বন্ধে কী জানো ?

---মহাবিশ্ব অসীম, না সসীম তা কেউ জানেনা। এই প্রসঙ্গে আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন, মহাবিশ্ব সসীম, কিন্তু তার সীমানা দেওয়া যায় না। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সীমারেখা আছে, অথচ সেই সীমারেখাকে আমরা ছুতে পারি না।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি যে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, আমরা যে মহাবিশ্ব দেখতে পাই, আসল মহাবিশ্ব তার থেকে ১০ শতাংশ বড়ো। ইউরোপিয়ান স্পেস এজান্সির হিপারকস মিশন মহাকাশে ১ লক্ষ্য ২০ হাজার নক্ষত্রের অবস্থানকে নির্দিষ্ট করার কাজ চলেছে।
১৯১২ সাল থেকে শুরু করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের দূরত্ব স্থির করতেন উজ্জ্বলতার বিচারে। হিপারকাস মিশনের সুত্র থেকে দেখা গেছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এতদিন দূরত্ব মাপতে গিয়ে মাপের ভুল করেছিলেন। হিপারকাস মিশনের দ্বারা নক্ষত্রের দুরত্ব মাপতে গিয়ে বোঝা গেল সেফেইডস ভেরিয়েবলগুলি আসলে আরও অনেক বেশি দুরত্বে অবস্থিত। 


রহস্যময় মহাবিশ্বের জানা অজানা কথা রহস্যময় মহাবিশ্বের জানা অজানা কথা  Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 18, 2018 Rating: 5

তান্ত্রিকের ছেলে থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম জনক - জোহানস কেপলার

September 18, 2018

জোহানস কেপলার (জন্ম : ১৫৭১ খ্রী., মৃত্যু : ১৬৩০ খ্রী.)

তাঁকে বলা হয় বিশ্বের বিজ্ঞান সৌধের অন্যতম স্থপতি। জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর অবদান আজও আমরা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি। তিনি হলেন জোহানস কেপলার।
জন্মেছিলেন তিনি ১৫৭১ খ্রিস্টাব্দে, জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমে উইল শহরে। ভাবতে অবাক লাগে, যে জোহান কেপলার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম জনক, তাঁদের পারিবারিক, পেশা ছিল ডাইনিতন্ত্র! তখনকার দিনে এই তন্ত্রটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা হত। অন্ধবিশ্বাসের বিভীষিকাময় স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের মধ্যেই জোহান কেপলারের প্রথম শৈশবের দিনগুলি অতিবাহিত হয়।
তাঁর পিতা এবং পিতামহ ছিলেন কুখ্যাত তান্ত্রিক। মানুষের অজ্ঞতাকে মূলধন করেই তাঁরা অর্থ উপার্জন করতেন। কেপলারের ছোটবেলার দিনগুলির কথা ভাবলে কেমন যেন শিউরে উঠতে হয়। সে এক দারুন দুঃসময় ! চোখের সামনে কেপলার দেখতে পেতেন অন্ধকারে কেমন পাল্টে যাচ্ছে তাঁর আপনজনেদের চেহারা। তাঁর বাবা ও ঠাকুরদা ঢলঢলে কালো আলখাল্লা পরেছেন। মুখের উপর কঙ্কালের মুখোশ, দুটি দাঁত বেরিয়ে আছে গদন্তের মতো। তাঁরা চিৎকার করছেন। তাঁদের হাতে উদ্যত দন্ড। কোনো একটি ছেলেকে হয়তো ভুতে পেয়েছে। বাবা এবং ঠাকুরদা পালাক্রমে ছেলেটিকে আঘাত করছেন। তার মুখ দিয়ে গ্যাজলা উঠছে। মারতে মারতে ছেলেটিকে আধমরা করে দেওয়া হল। তবুও সে চুরির কথা স্বীকার করল না। এবার বাবা সর্বশেষ অস্ত্রটি প্রয়োগ করবেন। ভয়ে বিস্ময়ে জোহান কেপলার চোখ বন্ধ করেছেন। কিন্তু তবুও তাঁকে এই নারকীয় দৃশ্য দেখতে হবে। এইভাবেই নিজের স্নায়ুপুঞ্জকে আরও সাহসী ও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। পরবর্তীকালে তাঁকেই তো এই পরম্পরার উত্তরাধিকার বহন করতে হবে। ছোট থেকে তাই তিনি নিজেকে এই পেশার উপযুক্ত করে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। এটাই ছিল তাঁদের পরিবারের এক অলিখিত নিয়ম।
শেষ অস্ত্র হিসাবে কেপলারের বাবা কি করতেন শুনলে তোমরা অবাক হয়ে যাবে। কেপলারও ভীত চোখে প্রত্যক্ষ করতেন, তার বাবা দুটো ইস্পাতের দন্ড নিয়ে এলেন। গনগনে আগুন-আঁচে তাদের উত্তপ্ত করলেন। তারপর সটান ঢুকিয়ে দিলেন চোর সন্দেহে ধরে আনা ছেলেটির চোখের মধ্যে। এক মুহূর্তে ছেলেটি অন্ধ হয়ে গেল। চোখের মনিটা গেলে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। সমবেত জনতা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। বেচারি জোহান, অসহায় ব্যর্থতায় চোখ বন্ধ করতেন। বিড়বিড় করে অস্ফুট আর্তনাদের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা উচ্চারণ করতেন। কেউ তার কথা শুনতে পেত না। বেজে উঠত ঢাক, কাড়া-নাকাড়া। জিতে গেছেন! জিতে গেছেন তাঁর ডাইনি বাবা ! ছেলেটি কবুল করেছে - 'হ্যাঁ, আমি স্বীকার করছি।' যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সে বলছে, 'আমি চুরি করেছি যবের আটা। আমাকে যা শাস্তি দেবার দিন। এভাবে আর কষ্ট দেবেন না।'
শহরে প্রচুর প্রতিপত্তি ছিল জোহান কেপলারের বাবার। সকলেই তার দিকে ভয়মিশ্রিত চোখে তাকিয়ে থাকত। পথে যেতে যেতে মাঝেমধ্যেই তিনি রাজার মতো খামখেয়ালিপনা প্রদর্শন করতেন। যা খুশি তাই তুলে নিতেন। লোক কিছু মনে করত না। বরং ভাবত, ওই বিখ্যাত তান্ত্রিক আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, এতেই আমার চোদ্দো পুরুষ ধন্য হয়ে গেছে !
কোথা থেকে কোথায় এলেন জোহান কেপলার ! তুকতাক আর জরিবুটির ভাঁওতা থেকে প্রগতিশীল বিজ্ঞানের প্রশস্ত শরনি - কিভাবে ঘটল এই উত্তরণ? এ এক অদ্ভুত কাহিনী ! ছোটবেলা থেকে কেপলার রোগে ভুগতেন। ভীষণ রুগ্ণ ও দুর্বল ছিলেন তিনি। চার বছর বয়সেই পরলোক যাবার ব্যবস্থা প্রায় পাকা করে ফেলেছিলেন। গুতিবসন্তে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। হয়তো ভবিষ্যতে তাঁকে দিয়ে অনেক বড়ো কাজ করানো হবে বলেই, বিধাতা পুরুষ সে-যাত্রা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
এই অস্বাভাবিক রোগমুক্তির পর থেকেই কেপলারের মানসিকতার জগতে দারুন পরিবর্তন ঘটে যায়। সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, বোধহয় তাঁর নবজন্ম হয়েছিল।
পরিবারের লোকেরা তার পড়াশোনার প্রতি বিন্দুমাত্র উৎসাহী ছিলেন না। কিন্তু শিশু জোহান কেপলার পড়াশোনাতে ভীষণভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
এই সময়ে আরমেটবার্গের ডিউক নানা জায়গাতে শিশুশিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় খুলেছিলেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল, ছেলেদের ধর্ম বিষয়ে সচেতন করে তোলা। তা না হলে ভবিষ্যতে সৎ, শোভন নাগরিক পাওয়া সম্ভব হবে না। অবশ্য এই বিদ্যালয় গুলিতে ধর্মশাস্ত্রের পাশাপাশি বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়গুলিও পড়ানো হত।
এমনই একটি স্কুলে একদিন ভর্তি হয়েছিলেন কেপলার। মা-বাবাকে কোনো কথা জানাননি, পাছে তাঁরা বাধার সৃষ্টি করেন।
সেই প্রথম ডাইনি বাড়ির অন্ধকার থেকে বাইরের প্রকৃতির মুক্ত জগতে পা রাখলেন জোহান কেপলার। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলেন সূর্যের আলোককনার দিকে। চারপাশে আলোর এত উৎসার, তবে আমাদের বাড়িটি এখনও মধ্যযুগীয় কুসংস্কারের মধ্যে পড়ে আছে কেন?
ডিউকের স্থাপিত স্কুলে এসে কেপলার নতুন স্বপ্ন দেখতে শিখেছিলেন। প্রকৃতির রহস্যকে অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বিশ্লেষণ করছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হল। কুড়ি বছর বয়সে তিনি টুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। এখানে এসেই তিনি পরিচিত হয়েছিলেন কোপার্নিকাসের জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্যের সঙ্গে। কোপার্নিকাসকে তিনি চোখে দেখেননি, কিন্তু কোপার্নিকাসই হয়ে উঠেছিলেন তাঁর প্রচ্ছন্ন শিক্ষাগুরু।
তখনও কোপারনিকাসের মতবাদকে আইনগতভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়নি। টলেমির সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদটিকেই সকলে নে করেন অভ্রান্ত।
টলেমি বলেছিলেন, 'পৃথিবী স্থির, সূর্য তার চারদিকে ঘোরে।' কোপার্নিকাস বলেছিলেন, 'আকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে সবকিছু ঘোরে, এমনকি পৃথিবীও।' কোপারনিকাসের এই কথার সমর্থন বাইবেলে নেই। সুতরাং, এটি ধর্মবিরুদ্ধে এই অজুহাতে নিষিদ্ধ করা হয়।
কেপলারের মনের বাসনা ছিল ভবিষ্যতে তিনি একজন ধর্মযাজক হবেন। কেন যে তিনি এই বাসনা পোষণ করেছিলেন, তার আসল কারণ আমরা জানিনা। কিন্তু দেখা গেল, ক্রমশই তার মত পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি বুঝতে পারছেন এই শাশ্বত সত্য। তা হল, এইভাবে ধর্মযাজক হলে কোনো লাভ হবে না। মানুষকে আরো বেশি শোষণ করা হয়। বস্তাপচা ধর্মের বাণী কপচানো হয়। তার থেকে অনেক ভালো হবে যদি জোহান কেপলার বিজ্ঞানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।
ইতিমধ্যে কোপারনিকাসের মতবাদকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করেছেন তিনি। তিনি পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলেন যে, টলেমিকে এবার সরে যেতে হবে। কোপারনিকাসকে তাঁর প্রাপ্য জায়গা ছাড়তেই হবে।
টুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলি কেটে গেল। শিক্ষকতার চাকরি পেয়ে গেলেন জোহান কেপলার। শুরু হল নতুন পথে পরিভ্রমন। কলেজে পড়বার সময়, মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে 'দি হিস্ট্রি অফ দ্য ইউনিভার্স' নামে একটি বিতর্কিত বই লিখে আলোড়ন তুলেছিলেন কেপলার।
এই বইটি পড়ে ছুটে এসেছিলেন দুজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিও এবং টাইকো ব্রাহে। তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাকার্যের ধরন দেখে তাঁরা খুব খুশি হয়ে ছিলেন। তারা বিঝতে পেরেছিলেন এইভাবেই নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানের আধুনিকতম চিন্তাভাবনাতে আত্মনিয়োগ করবেন।
কিন্তু কেপলারের বিরুদ্ধবাদীরা সচেষ্ট হয়ে উঠলেন। তাঁর বইয়ের বক্তব্য বিষয়ে ধর্মবিরোধী মনোভাবের প্রকাশ দেখে পাদ্রী সমাজে উষ্মা ছড়িয়ে পড়তে লাগল।
বিপদের গন্ধ পেয়ে কেপলার শহর থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। নিদারুন অনিশ্চয়তার মধ্যে তার দিন কাটছে। দেখা দিয়েছে তার আৰ্থিক অনটন। গবেষণা চালাবেন কি করে স্থির করতে পারছেন না। এই সময় ভগবানের আশীর্বাদের মতো তাঁর ওপর নেমে এল টাইকো ব্রাহের সহানুভূতি। ব্রাহে তাঁকে সহকারী হিসেবে মনোনীত করলেন।
ব্রাহে এবং কেপলার দুজনেই সুদূর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তাদের মনে স্থির বিশ্বাস ছিল, মানুষের জীবনের ভালোমন্দের উপর এই গ্রহ-নক্ষত্রের অসীম প্রভাব আছে। তারাই প্রথম আধুনিক জ্যোতিষশাস্ত্রের চর্চা করেছিলেন। ঘোষনা করেছিলেন - 'জন্ম মুহূর্ত থেকে মৃত্যু অব্দি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে দূর আকাশের ওই নক্ষত্রদল !'
কেপলার ঘোষণা করেছিলেন 'ক্ষুদ্রতিক্ষুদ্র কনা থেকে বিরাট ব্রহ্মান্ড - সবই একই সুরে বাধা।' তখনকার দিনে এ ধরনের মতবাদ প্রকাশ করা যথেষ্ট সাহসিকতার বিষয় ছিল।
ব্রাহের মৃত্যুতে জোহান কেপলার অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। ব্রাহে ছিলেন তাঁর জীবনের দুর্দিনের পথ প্রদর্শক। ঈশ্বরের একটি বিশেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য বোধহয় তারা দুজন এই পৃথিবীতে আবির্ভুত হয়েছিলেন। একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।
শেষ অব্দি কেপলারের সঙ্গে গ্যালিলিও এর মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। কেপলার বিশ্বাস করতেন যে, কুষ্টি এবং ঠিকুজি মানুষের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গ্যালিলিও এই ব্যাপারে চিয়েন চরম অবিশ্বাসী। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। তারপর আর কখনো তাদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটেনি। গ্যালিলিও কিন্তু তার তরুণ বন্ধুকে মনে রেখেছিলেন। দূরবীন যন্ত্র আবিষ্কার করে যে কয়েকজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর কাছে তা পাঠিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কেপলার ছিলেন অন্যতম।
১৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মাত্র আটান্ন বছর বয়সে বরেণ্য বিজ্ঞানী কেপলারের কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে গিয়েছিল।
তান্ত্রিকের ছেলে থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম জনক - জোহানস কেপলার তান্ত্রিকের ছেলে থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম জনক - জোহানস কেপলার Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 18, 2018 Rating: 5

দই কচু , সাথে চমকে দেওয়ার মত ৫ টি রেসিপি

September 17, 2018

দই কচু


উপকরণঃ ছোট অথবা গুড়ি কচু ৫০০ গ্রাম, টক দই ২৫০ গ্রাম, তেঁতুল ১টি ছোট গোলা, নুন আন্দাজমতো, জিরে ৫০ গ্রাম, শুকনলঙ্কা ৬/৮টি।
প্রস্তুত প্রণালীঃ কচুগুলো জলে সেদ্ধ করে খোসা ছড়িয়ে ফেলুন। দই ভালো করে ফেটিয়ে নেবেন। তেঁতুলের গোলটা একটু জলে ছেঁকে নিন ও আন্দাজমতো নুন মেশান। জিরে ও লঙ্কা শুকনো কড়াইতে ভেজে গুঁড়ো করে নিন। সেদ্ধ করা কচুগুলোর গায়ে একটা কাঁটার সাহায্যে ছোটছোট গর্ত করে দিন। এবার তেঁতুল গোলা জলে মিনিট পনেরো ভিজিয়ে রাখুন। কচুগুলি জল থেকে তুলে আর একটা পাত্রে রাখুন। ও ফেটানো দই ঢেলে দিন। এবার ওপর থেকে গুঁড়ো মশলা 
 ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

ঝিঙে বাহার

 উপকরণঃ ঝিঙে ৫০০ গ্রাম, নারকেল আধমালা, জিরে ১/২ চা-চামচ, সর্ষে ৩ চা-চামচ, চিনি ৫-৬ চা-চামচ তেল ৫০-৭৫ গ্রাম, নুন আন্দাজ মতো, কাঁচালঙ্কা ৪-৬টি।
প্রস্তুত প্রনালিঃ ঝিঙের খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করে কেটে নিন। নারকেলটা কুরে নিন। কাঁচালঙ্কা মুখ থেকে একটু চিরে নিন। সরষে ভালো করে বেটে নিন। পাত্রে তেল গরম করে জিরে ফোড়ন দিন। ঝিঙেগুলো দিয়ে ভালভাবে ভাজতে থাকুন। একটু ভাজা হলে তাতে দু-কাপ জল, নারকেল কোরা, সরষে বাটা, নুন, চিনি ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে দশ মিনিট ফুটতে দিন। আপনার প্রয়োজন মতো ঝোল হলেই নামিয়ে নেবেন।

দই ফুলকপি 

উপকরণঃ ফুলকপি ১ কেজি, পেঁয়াজ ২ টি (স্লাইস করা), পেঁয়াজের রস ৩-৪ টেবিল চামচ, আদার রস ১ টেবিল চামচ, রসুন ৫ কোয়া(থেঁতো করা), লঙ্কাগুঁড়ো ১ চা চামচ, আস্ত গোলমরিচ ৫-৬টি, গুঁড়োহলুদ ১ চা-চামচ, নারকেল বাটা ১ টেবিল চামচ, পোস্তবাটা ১১/২ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচানো ১ মুঠো, এলাচ ২টি(থেঁতো করা), লবঙ্গ ২টি(থেঁতো করা), দারচিনি ১ ইঞ্চি(থেঁতো করা), তেল, নুন, চিনি পরিমাণমতো, ঘন দই ৩/৪ কাপ, সেদ্ধ কড়াইশুঁটি ২ কাপ।
প্রস্তুত প্রণালীঃ আস্ত ফুলকপি অথবা ফুলকপি বড় বড় আকারে কেটেও তৈরি করতে পারেন। আস্ত বা টুকরো করা যাই হোক না কেন, ফুলকপির ধারের পাতা ডাটা সমান করে কেটে ফুলকপি নুন জলে পনেরো মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। নুন জল থেকে উঠিয়ে পরিস্কার জলে ধুয়ে, শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। কড়াইতে এক কাপ তেল গরম করে, কুচোনো পেঁয়াজ লাল করে ভেজে উঠিয়ে রাখুন। ফুলকপিতে সামান্য নুন, হলুদ মাখিয়ে একই তেলে লাল করে ভেজে নামিয়ে নিন। প্রেসারকুকারে পাঁচ টেবিল চামচ তেল দিয়ে গরম করুন। গরম তেলে থেঁতো করে দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ফোড়ন দিন। সব মশলা, পোস্ত, নারকেল ও স্বাদ অনুযায়ী নুন, চিনি দিয়ে কষে নিন। মাঝে মাঝে জলের ছিটে দেবেন। মশলা ভাল করে আধ কাপ গরম জল দিয়ে প্রেসার কুকার ঢেকে দিন। মিনিট পাঁচেক রান্না হলে অর্থাৎ একটা 'সিটি' দিলেই আঁচ থেকে প্রেসার কুকার নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে দিন। পরিবেশনের পাত্রে ঢেলে, আস্ত ফুলকপিটা হলেও পাত্রে রাখুন। চারধারে কড়াইশুঁটি সেদ্ধ সাজিয়ে, ঘন দই অল্প নুন দিয়ে ফেটিয়ে ফুলকপির উপর ঢেলে, ধনেপাতা কুচি ও পেঁয়াজকুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।



ক্যাপ্সিকাম ডিলাইট 

উপকরণঃ কিমা ১ কাপ (সেদ্ধ), ক্যাপ্সিকাম ৪ টি (বড় মাপের), গাজর ১ কাপ (কুরনো), টম্যাটো ১ টি (লাল্‌, মিহি করে বাটা),  মালাই বা দুধের সর আধকাপ, পেঁয়াজ বাটা ৩ টেবিল চামচ, লঙ্কাগুঁড়ো আধ চা-চামচ, রসুন আধ টেবিল চামচ, আদাবাটা আধ টেবিল চামচ, লঙ্কাগুঁড়ো আধ চা-চামচ, কর্ণফ্লাওয়ার আধ কাপ, ময়দা ৩ টেবিল চামচ, গরম মশলা ২ টেবিল চামচ,ভিনিগার ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ৪ টেবিল-চামচ, নুন স্বাদমতো, হলুদ আন্দাজ মতো।
প্রস্তুত প্রণালীঃ ক্যাপ্সিকামের বোঁটা কেটে দু ফালি করে কেটে নিন। দেখবেন যেন নীচের  অংশটা লেগে থাকে। ভেতরের বীজগুলো ফেলে দেবেন। ক্যাপ্সিকামের ভেতরের খোলাতে ভালো করে কর্নফ্লাওয়ার মাখিয়ে রাখবেন। কিমা সেদ্ধ তাতে ভিনিগার মাখিয়ে রাখুন। গাজর, ধনেপাতা, টোম্যাটোর রস, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, গরমমশলা, নুন, হলুদ সব একসঙ্গে মাখুন। কিমাতে এই আনাজ ও মশলা মিশ্রন বেশ করে মেশান। তৈরি হল পুর। ক্যাপ্সিকামের গায়ের জোড়া জায়গাতে লাগিয়ে দিন। একটা পাত্রে জল ফুটতে দিন। এর মধ্যে আরেকটা পাত্রে এই ক্যাপ্সিকামগুলো সেদ্ধ হতে দিন। দেখবেন জল যেন ক্যাপ্সিকামের পাত্রে এসে না পড়ে। মিনিট দশেক পরে ননস্টিক প্যান সামান্য তেল দিয়ে ক্যাপ্সিকামগুলো ভেজে নিন।

বেকড বাঁধাকপি

উপকরণঃ বাঁধাকপি কচি ১০-১২টা আস্ত পাতা, পনির ২৫০ গ্রাম, কড়াইশুঁটি ১ কাপ(সেদ্ধ করা), টম্যাটো ২ টি (ছোট করে কুচোনো), পার্সলে ১ আঁটি (কুচোনো), কাঁচালঙ্কা ২ টি (বীজ ফেলে কুচোনো), মাখন ৫০ গ্রাম। 
প্রস্তুত প্রণালীঃ বাঁধাকপির পাতা ধুয়ে ফুটন্ত নুন জলে ফেলেই তুলে নিন। ঠাণ্ডা হলে মাঝের শিরাটি একটি ভারী জিনিস দিয়ে সামান্য থেঁতো করুন। পনির চটকিয়ে তার সঙ্গে সামান্য মাখন, কড়াইশুঁটি সেদ্ধ, টম্যাটো কুচি, কাঁচালঙ্কা কুচি, পার্সলে কুচি ও আন্দাজমতো নুন মেখে দিন। বাঁধাকপির পাতার শিরের একপাশে  খানিকটা মিশ্রন দিয়ে অপর পাশটি মুড়ে একসঙ্গে করে একটি টুথ পিক দিয়ে আটকে দিন। এই ভাবে সব পাতা গড়া হলে বেকিং ট্রেতে সামান্য মাখন লাগিয়ে পাতাগুলো সাজিয়ে আগে থেকে গরম করে রাখা ওভেনে ঢুকিয়ে একপাশ দশ মিনিট বেক করুন। ট্রে-টি বার করে স্প্যাটুলা দিয়ে পাতাগুলির অপর পাশে উল্টে দিন এবং আরও দশ মিনিট ওভেনে রাখুন।

পোস্ত টম্যাটো

উপকরণঃ টম্যাটো ৩-৪ টি, গাজর ২ টি(মাঝারি), বিট ১ টি(ছোট), ক্যাপ্সিকাম ১ টি (মাঝারি), নারকেল আধখানা (ইচ্ছে না হলে দেবেন না), পেঁয়াজ ১ টি (ছোট), কাঁচালঙ্কা ৩-৪টি, পোস্ত ৪ টেবিল চামচ, এলাচ ২-৩ টি (আস্ত), নুন ও চিনি স্বাদঅনুযায়ী, তেল প্রয়োজনমতো, জল আন্দাজ মতো।
প্রস্তুত প্রণালীঃ পেঁয়াজ ও কাঁচালঙ্কা একসঙ্গে বেটে নিন। পোস্ত বাটুন। টম্যাটো টুকরো করুন। নারকোল ও ক্যাপ্সিকাম আলাদা করে বাটুন। গাজর কুরে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে এলাচ দিয়ে সামান্য কষুন। এতে ক্যাপ্সিকামবাটাও দেবেন, নারকোল ও গাজর কোরানো দিন। নেড়েচেড়ে টম্যাটো ও আলু দিন। হালকা ভেজে সেদ্ধ হওয়ার জন্য অল্প জল দিন। নুন ও চিনি দিয়ে ঢিমে আঁচে দশ-বারো মিনিট রাখুন। ঘন হলে নামিয়ে দিন।


ভালো লাগলে শেয়ার করুন 

দই কচু , সাথে চমকে দেওয়ার মত ৫ টি রেসিপি দই কচু , সাথে চমকে দেওয়ার মত ৫ টি রেসিপি Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 17, 2018 Rating: 5

রাশিফল ১৬/০৯/১৮ - ২২/০৯/১৮

September 16, 2018


মেষ রাশি: পড়াশোনার ওপর কোনো খারাপ প্রভাব পড়বে না। রবিবার কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। সোমবার নৈরাশ্যজনক পরিবেশ। মঙ্গলবার প্রিয়জনের দ্বারা অনুপ্রাণিত হবেন। বুধে শরীর নিয়ে অস্বস্তি। বৃহস্পতিবার কোনো আশা পূরণ হতে পারে। শুক্রে বুদ্ধি বলে কার্যোদ্ধার করবেন। শনিতে ঘরে বাইরে উৎফুল্ল মেজাজে কাটাবেন।



বৃষ রাশি: ঋণের ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। রবিবার অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি হতে পারে। সোমবার কোনো জটিল ব্যাপারে কারোর ওপর নির্ভর করতে হবে। মঙ্গলে প্রতিবেশী/বন্ধু আপনাকে এড়িয়ে চলতে চাইবে। বুধে তীক্ষ বুদ্ধির দ্বারা অন্যের মনোভাব বুঝে নেবেন। বৃহস্পতিবার কাজের প্রসারতা বৃদ্ধি পাবে। শুক্রে দুদিক দিয়ে প্রাপ্তি হতে পারে। শনিতে প্রয়োজনীয় কাজে সাফল্য


মিথুন রাশি: অকারণ ভুল বোঝাবুঝি দাম্পত্য জীবনে হতে থাকবে। রবিবার জটিল বাধা নেই। সোমবার সহকর্মীর কথাবার্তায় নিশ্চিত হতে পারবেন না। মঙ্গলে কিছু প্রাপ্তি। বুধে পরিবেশ ব্যয় বহুল। বৃহস্পতিবার বেলায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আপসোস হতে পারে। শুক্রে শত্রুপক্ষ সক্রিয় হবার আশঙ্কা। শনিতে আপনার উদ্যমের ওপর প্রাপ্তি নির্ভর করছে।

কর্কট রাশি: শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা করুন। পরিবারের কারও আইনানুগ ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। রবিবার মোটামুটি কাটবে। সোমবার আশানুরূপ সাফল্য। মঙ্গলে জরুরি সংবাদ আসবে। বুধে সহযোগীর দ্বারা উপকৃত হবেন। বৃহস্পতিবার প্রিয়জনের কারোর হজমের সমস্যায় বিব্রত বোধ করবেন। শুক্রে অর্থলাভ। শনি মিশ্রভাবে কাটবে।

সিংহ রাশি: আপাতদৃষ্টি অশুভ মনে হলেও নানা কর্মপ্রবাহ স্বার্থক রূপ নেবে। রবিবার নৈরাশ্যজনক পরিবেশ। সোমবার পুরোনো সমস্যা দেখা দেবার ইঙ্গিত পাবেন। মঙ্গলে অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হবেন। বুধে নতুন প্রচেষ্টায় বিকেলের পর শুভ পরিবর্তন। বৃহস্পতিবার বেলায় কৃতকর্মের জন্য বিরোধী পক্ষ অবদমিত থাকবে। শুক্রে অনুকূল পরিবেশ। শনিতে আটকে থাকা কাজে সাফল্য।

কন্যা রাশি: উদ্বেগ অনিশ্চয়তা থাকবে। রবিবার অধঃস্তন কর্মী সহায়তা করবে। সোমবার প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে জয় সূচিত হতে পারে। মঙ্গলে কর্মে ও গৃহে মিশ্র পরিবেশ। বুধে সমস্যা বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার সন্তানের ব্যাপারে অসন্তোষ বাড়তে পারে। শুক্রে লেনদেন সংক্রান্ত কাজকর্ম বিলম্বিত হবে। শনিতে নতুন যোগাযোগ, প্রাপ্তি।

তুলা রাশি: কোনো সহযোগীর সাথে গোপন বোঝাপড়া করবেন। রবিবার ভ্রমণে বাধা। সোমবার খরচ বাড়বে। মঙ্গলবার দরকারি কাজ এগিয়ে নেবার চেষ্টা করুন। বুধে দুপুরের পর কোনো বাধা কষ্ট দেবে। বৃহস্পতিবার কাউকে বিশ্বাস করে ঠকবেন। শুক্রে অপ্রতিহত বাধায় দেহ, মনে অবসাদ। শনিতে শুভযোগ, সন্তানের সঙ্গে আলোচনায় স্বস্তি।

বৃশ্চিক রাশি: ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আপনার অর্থকরী সমস্যা বিশ্বাস করতে চাইবে না। রবিবার মোটের ওপর শুভ। সোমবার সঞ্চয় নষ্ট করে পরিবারের খরচ সামাল দিতে হবে। মঙ্গলে সহসা বাধা, মনে অবসাদ। বুধে বিকেলের পর শুভ যোগের সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার দরকারি খবর আসবে। শুক্রে গতানুগতিক ভাবে দিনটি কাটবে। শনিতে লোকের সঙ্গে মতান্তর।

ধনু রাশি: উগ্র সিদ্ধান্ত নেবেন না। রবিবার শত্রুপক্ষ দুর্বল। সোমবার নতুন যোগাযোগ। মঙ্গলে অপরিচিত ক্ষেত্র এড়িয়ে চলুন। বুধে পারিবারিক শান্তি রক্ষা করুন। বৃহস্পতিবার দরকারি জিনিষ চুরি হবার আশঙ্কা। শুক্রে পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকমই প্রভাব রয়েছে। শনিতে নতুন প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হতে পারে।

মকর রাশি: নিজের ইচ্ছায় বেশি খরচ হবে। রবিবার অনুকূল পরিবেশ। সোমবার পারিবারিক ঝামেলায় মনোকষ্ট। মঙ্গলে সহকর্মীর কথায় বিচলিত হবেন না। বুধে দুপুরের পর পরিবেশ সপক্ষে চলে আসবে। বৃহস্পতিবার কারোর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। শুক্রে আপনার ভূমিকা প্রাধান্য পাবে। শনিতে পরিশ্রম, হয়রানি।

কুম্ভ রাশি: কোনো ব্যাপারে বঞ্চিত হতে পারে। রবিবার কর্মসূত্রে ভ্রমণ হবার আশঙ্কা। সোমবার পরিবারে বাধা। মঙ্গলে কর্মক্ষেত্রে শুভ যোগ। বুধে ন্যায্য পাওনা আদায় করতে কোথাও বার বার যাওয়া লাগবে। বৃহস্পতিবার চক্ষুকষ্ট। শুক্রে পরিবারের সমস্যা অব্যাহত। শনিতে শুভ পরিবর্তন।

মীন রাশি: কৃতকর্মের জন্য প্রশংসা পেতে পারেন। রবিবার নিজের সুবিধামত দিনটি কাটবে। সোমবার পদস্তব্যক্তির নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হবে। মঙ্গলে শুভ সূচনা ইঙ্গিত পাবেন। বুধে প্রয়োজনীয় কাজগুলি হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার সন্তানের জন্য উদ্বেগ। শুক্রে ক্ষতির কারণ নেই। শনিতে অশান্তি, ভুল বোঝাবুঝি।


রাশিফল ১৬/০৯/১৮ - ২২/০৯/১৮ রাশিফল ১৬/০৯/১৮ - ২২/০৯/১৮ Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 16, 2018 Rating: 5

বনফুল ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের কিছু বাণী

September 15, 2018

বলাইচাদ মুখোপাধ্যায় ওরফে বনফুলের কিছু কথা - 


• অসমাপ্ত জিনিসের না বলা বাণী আছে একটা। তা অব্যক্তরূপেই বিকশিত • ‎পরের মেয়েকে গৃহিণী করার প্রথা শুধু যে প্রজনন বিজ্ঞানের উপযোগীতার জন্য প্রবর্তিত হয়েছিল তা মনে করবার কোনো কারণ নেই। প্রজনন বিজ্ঞান পরের ব্যাপার। রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের সঙ্গে প্রেম জমে না - এই সত্যটাই মানুষ বোধহয় অনেক আগে আবিষ্কার করেছিল। • ‎ক্ষুধাকে অনুসরণ করে চলতে থাক, ঠিক পথে পৌঁছে যাবেই একদিন না একদিন। ক্ষুধাটা যদি সত্যি হয় তবে তার আগুনে অখাদ্যও হজম হয়ে যাবে। • ‎কাব্যই কবির জীবন, কাব্যই তার স্ফূর্তি, কাব্যলোকই তার কাছে একমাত্র আনন্দলোক। কিন্তু কাব্যের আনন্দরূপ কবি মোনে মূর্ত হয় না সব সময়ে, সরসী থাকলেই যেমন কমল ফোটে না। উনপঞ্চাশ বায়ু-বাহিত অপরূপ উপলক্ষ এসে হাজির হয় অকস্মাৎ কোনো অজানা আকাশ থেকে। শিহরণ জাগে, পাখি ডাকে, সাড়া পড়ে যায় কিশলয়দের নিদমহলে, বাঁশি বেজে ওঠে বনে বনে। • ‎সকলেই আনন্দ চায়, নানাভাবে সবাই সেটা পেতে চাইছি। সাধারণ লোকের বাইরে জীবনটাকে যদি বাঁশি বলি তাহলে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ প্রভৃতিকে সেই বাঁশির ছিদ্র বলা যেতে পারে। অধিকাংশ লোকই আনন্দ পাওয়ার আশাতে নানা সুরে আলাপ করছে ওতে।  • ‎আমাদের স্বাধীন ভারতের সাহিত্য, সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ কি? যতটা দেখতে পাচ্ছি তাতে আশার আলোক কিছু নেই। আমরা নিজেদের সংস্কৃতি ক্রমশ হারাচ্ছি, বিদেশাগত সংস্কৃতি ও আমাদের বাঁচাতে পারবে না কারণ সেই সংস্কৃতি ও নিঃস্ব। বিদেশের যে সংস্কৃতির আস্ফালন আমরা অহরহ শুনতে পায় তা পশুর গর্জন, সুসভ্য মানবতার সংগীত নয়। • ‎অনবদ্য সৌন্দর্যের পায়ে লীলাময়ী প্রকৃতির কাছে সম্পূর্ণ রূপে আত্মসমর্পণ করে কৃতার্থ হয় যে, সেই কবি, সেই শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক, সৃষ্টি রহস্যের সারমর্ম সেই বুঝেছে। • ‎পাখিরা যত আধুনিক হচ্ছে তত যেন তারা মানুষের মনোহরণ করে মানুষের বন্ধুত্ব কামনা করছে। মানুষের মধ্যেও যেমন বিশ্বমৈত্রীর ভাব জাগছে ক্রমশ, মানুষ যেমন হিংসার পথ ত্যাগ করে প্রেমের পথ, আনন্দের পথ বেছে নিচ্ছে, আনন্দ দিচ্ছে, আনন্দ পাচ্ছে, পাখিদের মধ্যেও সেরকম কিছু একটা হচ্ছে হয়তো। তা না হলে এত বর্ন বৈচিত্রের কোনো মনে হয় না যেন। • ‎মোহটা হচ্ছে তাকে চেনাবার কষ্টিপাথর। কষ্টিপাথর সোনা নয়। কিন্তু সোনার পরিচয় ওর থেকেই পাওয়া যায়। যেকোনো জিনিসেই আমরা মুগ্ধ হয় না কেন, কিছুদিন পরেই তার নেশাটা কেটে যায়। কারণ মোহ নকল আলো, আসলে ওটা অন্ধকারই। ওই মোহই আমাদের জানিয়ে দেয় আমরা ভুলপথে গেছি। মন বলে ওঠে হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোনো খানে। • ‎চরাচরে সমস্তকিছু বাঁচতে চাইছে, উপভোগ করতে চাইছে নিজের অস্তিত্বকে নানাভাবে এবং তার জন্য না করছে এমন জিনিষ নেই। ভালো-মন্দ, শ্লীল-অশ্লীল, সভ্য-অসভ্য সব কিছুই হচ্ছে সে জীবনকে সার্থক করার প্রেরণায়। • ‎সবাই নিজের নিজের আকাশে ডানা মেলে উড়তে চায়।


প্রেমেন্দ্র মিত্রের কিছু কথা - 


•  প্রেম বস্তুটি হলো মূল্যহীন ফুলের বিনিসুতোর মালা। • ‎আমাদের কাজের কথায় যখন কোনো ফল ধরে না তখন বাজে কথার ফুলের চাষ করলে হানি কি? • ‎আমরা মুখে কি বলি তার চাইতে আমরা মনে কি ভাবি তার মূল্য আমাদের কাছে ঢের বেশি। কেননা সত্যের জ্ঞান না হলে মানুষ সত্য কথা বলতে পারে না। • ‎ভাষার বর্তমান অবস্থা এই যে, এক শব্দ শুধু একটি ভাবের প্রকাশ করেই ক্ষান্ত থাকে না, কিন্তু তার সঙ্গে অস্পষ্ট মনোভাবকে জাগিয়ে তোলে। একটা উপমার সাহায্যে কথাটা পরিষ্কার করা যাক। সেতার, এসরাজ প্রভৃতি যন্ত্রে দেখা যায় যে, এমন অনেকগুলি তার আছে যেগুলোকে বাদক স্পর্শ করে না। এ তারগুলিকে যন্ত্রীরা তরফের তার বলে। যে তার বাদক স্পর্শ করে, সেই তারের ধ্বনি ঐ অদৃশ্য তরফের তারের বেতার বার্তা আনে বলেই স্পষ্ট তারের ধ্বনি তার সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য লাভ করে। নিজ ভাষায় কাব্য আমাদের মনোবিনায় যে ঝঙ্কার তোলে, কোনো বিদেশির মনে সে ঝঙ্কার তুলবে না। কারণ আমাদের মনে সেই সব তরফের তার আছে, বিদেশীর মনে তা নেই। • ‎ভুল করেছি- এই জ্ঞান জন্মানো মাত্র সেই ভুল তৎক্ষণাৎ সংশোধন করা যায় না। কিন্তু মনের স্বাধীনতা একবার লাভ করিতে পারিলে ব্যবহারের অনুরূপ পরিবর্তন শুধু সময়সাপেক্ষ। • ‎অতি বিজ্ঞাপিত জিনিসের প্রতি আমার শ্রদ্ধা খুব কম। কারণ, মানব হৃদয়ের স্বাভাবিক দুর্বলতার ওপর বিজ্ঞাপনের বল এবং মানবমনের সরল বিশ্বাসের উপর বিজ্ঞাপনের ছল প্রতিষ্ঠিত। • ‎সকলেই মরে, কিন্তু সকলেই আর প্রেমে পড়ে না। • ‎অন্ধকারেরও একটা অটল সৌন্দর্য আছে এবং তার অন্তরেও গুপ্তশক্তি নিহিত থাকে। যে ফুল দিনে ফোটে, রাত্রে তার জন্ম হয়- একথা আমরা সকলেই জানি। সুতরাং নবযুগে যেসব মনোভাব প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে মধ্যযুগে সেসব বীজ বপন করা হয়েছিল। • ‎পুরাকালে মানুষ যা কিছু গড়ে গেছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সমাজ হতে আলাদা করা, দুচার জনকে বহু লোক হতে বিচ্ছিন্ন করা। অপরপক্ষে নবযুগের ধর্ম হচ্ছে মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন করা, সমগ্র সমাজকে ভাতৃবন্ধনে আবদ্ধ করা। • ‎লেখক ও পাঠকের মধ্যে এখন স্কুলমাস্টার দন্ডায়মান। এই মধ্যস্থদের কৃপায় আমাদের সঙ্গে কবির মনের মিলন দূরে যায়। চারচক্ষুর মিলনও ঘটে না। • ‎প্রাচীন ভারতবর্ষও রূপ সম্পর্কে অন্ধ ছিল না কারণ আমরা যা বলিনা কেন সেই সভ্যতাও মানব সভ্যতা- একটা সৃষ্টিছাড়া পদার্থ নয়। সে সভ্যতারও শুধু আত্মা নয়, দেহও ছিল। সে দেহকেও আমাদের পূর্বপুরুষেরা সুন্দর, সুঠাম করে গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। সে দেহ আমাদের চোখের সামনে নেই বলেই আমরা মনে করি যে সেকালে যা ছিল তা হচ্ছে শুধু অশরীরী আত্মা। কিন্তু সংস্কৃত সাহিত্য থেকেই প্রমান পাওয়া যায় যে তাদের কতটা সৌন্দর্য জ্ঞান ছিল। আমরা যাকে সংস্কৃত কাব্য বলি তাতে রূপবর্ণনা ছাড়া বড় কিছু নেই। আর সে রূপবর্ণনাও আসলে দেহের, রমনীদের রূপ বর্ণনা। • ‎এদেশে লাইব্রেরীর স্বার্থকতা হাসপাতালের থেকে কিছু কম নয় এবং স্কুল কলেজের থেকে কিছু বেশি। • ‎তাকেই যথার্থ সমালোচক বলে স্বীকার করি যিনি সাহিত্য রসের যথার্থ রসিক। • ‎সাহিত্যের হাসি শুধু মুখের হাসি নয়, মনেরও হাসি। এ হাসি হচ্ছে সামাজিক জড়তার প্রতি প্রানের বক্রোক্তি, সামাজিক মিথ্যার প্রতি সত্যের বক্রদৃষ্টি।





বনফুল ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের কিছু বাণী বনফুল ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের কিছু বাণী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 15, 2018 Rating: 5

সেলাই মেশিন ও আলকাতরা আবিষ্কারের গল্প

September 14, 2018
সেলাই মেশিন বা সেলাই কলের আবিষ্কারের ইতিহাসটি এক্কেবারে অন্যরকম -সাহসী চাষির ইচ্ছাশক্তির কথা জেনে নিন ভালো লাগবে ।
picture courtesy - American Historama


সেলাই কল (১৮৫৪)- এলিয়াস হাউস (১৮১৯-১৮৬৭)

সেলাইকল বানানোর ইতিহাস শুরু হয়েছিল  দীর্ঘকাল ধরে। প্রথম সেলাইকল তৈরী করেছিলেন ১৭৯০ সালে ইংল্যান্ডের টমাস সেন্ট। এই কালে অবশ্য কেবল চামড়া সেলাই হত। কাপড় সেলাই করার কল বানালেন ফরাসী দরজী টিমোমনিয়ার। আশিটি কল তৈরী করে তিনি একটি কাপড় সেলাই-এর কারখানাও খুলেছিলেন কিন্তু সাধারণ দরজীরা কলের বাহাদুরীকে মেনে নিতে পারল না। নষ্ট করে দিল তারা কারখানাটাকে। ১৮৩৩ সালে আমেরিকার ওয়াল্টার হান্টও উন্নত ধরনের সেলাইকল তৈরী করলেন। কিন্তু তিনি জনসাধারণকে জানালেন না তাঁর আবিস্কারের কথা। ফলে অজানাই রয়ে গেল তাঁর সেলাই কল।
এর কয়েক বছর পর সেলাইকলের ইতিহাসে সাহসের সাথে এগিয়ে এলেন এক দরিদ্র আমেরিকান কৃষক এলিয়াস হাউi। তিন সন্তানের পিতা এলিয়াসের সংসারে নিত্য অভাব। তাই তাঁর স্ত্রীকেও জামা সেলাই করে টাকা রোজগার করতে হত। গভীর রাত পর্যন্ত স্ত্রী সেলাই করেন। অথচ হাতে পান গুটি কয়েক টাকা। স্ত্রীর পরিশ্রম কমানোর ভাবনা থেকেই সেলাই কল বানাবার চিন্তাটা মাথায় আসে এলিয়াসের। সংসারই চলে না, সেলাইকল বানাবার পয়সা কোথায়। তাই এলিয়াস ছুটে গেলেন বন্ধু জর্জ ফিশারের কাছে।
 ১৮৪৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এলিয়াস সেলাইকল বানাবার চেষ্টা করে যেতে লাগলেন। প্রায় সবটা বানিয়ে ফেললেও একটা বিষয়ে মুস্কিলে পড়ে গেলেন তিনি। যে সুঁচ দিয়ে সেলাই করা হয় তাঁর পেছনের ফুটোয় সুতো পরিয়ে আমরা সেলাই করি। কিন্তু সুঁচের সুতোটা যদি পিছনে থাকে তবে সেলাইকলে সেলাই হবে কি করে ? কয়েক বছর ধরে তিনি কোনো উপায় বের করতে পারলেন না। একদিন তিনি দেখলেন একটা অদ্ভুত স্বপ্ন।
এক অসভ্যদেশের রাজা এলিয়াসকে বন্দী করে নিয়ে এসে হুকুম করলেন সেলাইকল বানিয়ে দিতে হবে। না হলে মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু এলিয়াস তো একটুর জন্য সেলাইকলটা পুরোপুরি বানাতে পারছেন না। তাই রাজার আদেশে সেপাই বল্লম নিয়ে মারতে এল তাঁকে। বল্লমটা যখন প্রায় ঠেকে এসেছে তাঁর বুকের কাছে এমন সময় দেখলেন বল্লমের ফলকের মুখে একটা ছোট্ট ফুট। ভয়ে ঘুম ভেঙে গেল তাঁর, তখনি মনে হল যদি সুঁচেরও মুখের কাছে ফুটো করে সুতো পরানো যায় তাহলে কেমন হয় ?
১৮৫৪ সালে এপ্রিল মাসে সেলাইকল পুরোপুরি বানিয়ে নিজের আর বন্ধু ফিশারের জন্য দুটো স্যুট বানিয়ে ফেললেন। এবার তিনি নামলেন প্রচারের কাজে। নানান ঝড়-ঝাপটা  পর আলো দেখলেন। প্রচুর অর্থও রোজগার করতে লাগলেন সেলাইকল থেকে। সেলাইকলের আবিস্কারক হিসাব ছড়িয়ে পড়ল তাঁর নাম।


প্রবাদে বলে বাঙালি নাকি ফ্রি দিলে আলকাতরাও ছাড়ে না । তা ভালো , নষ্ট হওয়ার থেকে ব্যবহার করাকেই আমরা সঠিক মনে করি । আসুন জেনে নি এই আলকাতরার আবিষ্কারের ইতিহাস 

আলকাতরা - উইলিয়াম হেনরী পার্কিনস (১৮৩৮)


খনি থেকে উত্তোলিত কয়লাকে জ্বালানীর কাজে লাগাতে গেলে কয়লাকে পুড়িয়ে নিতে হয়। পোড়ানোর সময় উৎপন্ন হয় প্রচুর গ্যাস। ১৬৬০ সালে জন ক্লেট্যান ও রবার্ট বয়েল ঐ গ্যাসের পরিচয় জানার জন্য গ্যাসটিকে নলের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করিয়ে ঠাণ্ডা করলেন। তাঁরা দেখলেন নলের গায়ে জমছে কুচকুচে কালো দুর্গন্ধযুক্ত  একটি তরল পদার্থ। কিন্তু পদার্থটি যে কি তার সন্ধান তাঁরা পেলেন না। 
এরপর দীর্ঘ কয়েক শতক কেটে গেছে।লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অফ সায়েন্সের কৃতী ছাত্র উইলিয়াম হেনরী পার্কিনস নতুন পদার্থটির প্রকৃত পরিচয় দিলেন। তরল পদার্থটির নাম দিলেন আলকাতরা। 
আলকাতরা উৎপন্ন করতে গেলে অগ্নিসহ মাটি দিয়ে তৈরী কতকগুলো আবদ্ধ বকযন্ত্রে বায়ুহীন পরিবেশে বিটুমিনাস কয়লাগুঁড়কে প্রডিউসার গ্যাসের সাহায্যে ১০০০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়। উত্তপ্ত কয়লার উদ্বায়ী ও অনুদ্বায়ী দুটি অংশ আলাদা করে নিয়ে উদ্বায়ী গ্যাসীয় পদার্থগুলি বাঁকানো লোহার নলের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করিয়ে তারপর একটি ঠাণ্ডা জলের পাত্রে লোহার নলটিকে রাখা হয়। ঠাণ্ডার সংস্পর্শে এসে গ্যাস থেকে আলকাতরা বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি আলাদা পাত্রে জমা হতে থাকে।
পার্কনসের গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা আলকাতরা নিয়ে গবেষণা চালাতে থাকেন, গবেষণার ফলে জানা যায় আলকাতরায় যেসব পদার্থ মিশ্রিত আছে তাদের স্ফুটনাঙ্ক বিভিন্ন। ১৭০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড উষ্ণতায় আলকাতরা পাতিত করে পাওয়া যায় লঘু তেল। এই লঘু তেলের মধ্যে থেকে পাওয়া যায় বেঞ্জিন, টাইলুন ও জাইলিন। ১৭০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ২৩০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড উষ্ণতায় পাতিত করলে পাওয়া যায় মধ্যম তেল। যার থেকে পাওয়া যায় কার্বলিক অ্যাসিড ও ন্যাপথলিন। ২৩০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ২৭০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড উষ্ণতায় পাতিত করলে পাওয়া যায় ভারী তেল বা ক্রিয়াজোট তেল। যার থেকে পাওয়া যায় কেসলস। 
  ২৭০ থেকে ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড ৩৬০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড উষ্ণতায় পাতিত করলে পাওয়া যায় সবুজ তেল বা অ্যান্থ্রাসিন তেল। এর থেকে পাওয়া যায় অ্যান্থ্রাসিন ও ফেনানথ্রিন। অবশেষে বাকি যা পড়ে থাকে তা হল পিচ। আলকাতরায় কার্বন পারমানুগুল বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মিশে থাকে বলে আলকাতরার রঙ কুচকুচে কালো। 
বেঞ্জিন, টাইলুন প্রভৃতি বস্তুকে মোটরগাড়ির জ্বালানী রুপে, ড্রাইওইয়াসে, ওষুধ এবং বিস্ফোরক তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। টাইলুন থেকে আবার স্যাকারিন পাওয়া যায়। কার্বোলিক অ্যাসিড ও ন্যপথলিন ব্যবহৃত হয় ওষুধ ও বিস্ফোরক তৈরীতে এবং প্লাস্টিক শিল্পে। রঞ্জক হিসেবে। কাঠ সংরক্ষণের কাজে, পিচ্ছিল কারক তেল তৈরীতে ক্রিয়জেট তেল ও অ্যান্থ্রাসিন  বা সবুজ তেল ব্যাবহার করা হয়। পিচ ব্যবহৃত হয় রাস্তা তৈরীর কাজে, পোকামাকড়ের হাত থেকে কাঠকে সুরক্ষা দেবার জন্য এবং লোহায়  মরিচা রোধ করার  কাজে।   

সেলাই মেশিন ও আলকাতরা আবিষ্কারের গল্প সেলাই মেশিন ও আলকাতরা আবিষ্কারের গল্প Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 14, 2018 Rating: 5

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে এখনই পড়ুন

September 13, 2018
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করুন
সাবধান বা সতর্কবার্তার প্রশ্ন নয়। শর্তটা জরুরি জীবনযাত্রা অনুসরণের। আর সেটা শুরু করতে পারলে শুধু হার্ট অ্যাটাক নয়, প্রতিরোধ করা যাবে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন এমনকি দুরারোগ্য ক্যানসারের মতো ব্যাধি।
আসলে সমস্যাটা গোড়াটা লুকিয়ে আছে আমাদের মনে। আমরা ভাবি সুস্থ জীবন যাপনের অর্থ ভোগবাসনা ত্যাগ করা। এই ভয়েই সঠিক জীবনপ্রণালি আসলে কেমন হওয়া দরকার তার হদিশ খোঁজার চেষ্টায় করিনা।
এই আলোচনায় সেই চেষ্টায় একবার নতুন করে হয়ে যাক।

আর্নল্ড শোয়াৎজেনেগার আর কুকিজ: শুরুটা করা ভাল, শুরু থেকেই। একটি শিশু ৬ মাস বয়সের পর থেকে ধীরে ধীরে শক্ত খাবার খেতে শুরু করে। তখন থেকেই চেষ্টা করতে হবে অভিভাবকদের ঘরে বানানো খাবার দেওয়ার। কৌটো বন্দি খাবার যতটা সম্ভব না দেওয়ায় ভালো। এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি আর্নল্ড শোয়াৎজেনেগার আমেরিকার একটি শহরের মেয়র ছিলেন। তিনি একসময় ছোটদের জন্য তৈরি কুকিজ বিস্কিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। কুকিজ স্বাদে অতুলনীয় হলেও এতে 'ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড' বা খারাপ ফ্যাট থাকে প্রচুর পরিমানে। এই ধরণের খাদ্যে 'ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড' দেওয়া হয় খাবারের পচন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে। তাই ছোট বেলা থেকে কুকিজ খেলে হার্টের আর্টারি ব্লক হতে শুরু করে। প্যাকেটজাত খাবারেও থাকে ট্রান্স ফ্যাট। তাই ছোট হন বা বড়, যতটা সম্ভব প্যাকেটজাত, প্রিজারভেটিভ দেওয়া খাবার খাওয়া কমাতে হবে সবাইকেই। জোর দিতে হবে আমাদের প্রথাগত খাদ্যের ওপর। ভাত, রুটি, ডালের সঙ্গে বেশি পরিমাণে টাটকা সবজি, মাছ রাখুন ডায়েটে। ঋতু অনুযায়ী দিনে অন্তত দুটো ফল খান। এবং অতি অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপানের অভ্যাস করুন। এই সুঅভ্যাস নিজেও যেমন করবেন, তেমনই সন্তানের ছোট বয়স থেকেই গড়ে তুলবেন। আর শিশু মুখরোচক খাবার খেতে বায়না করলে, মাঝে মধ্যে ঘরে বানানো টাটকা মুখরোচক খাবার স্বল্প পরিমানে দেওয়া যেতে পারে। আর শুধু শিশু নয় অভিভাবকরাও ভালো খাবার খাওয়া অভ্যাস করুন। কারণ আপনি নিজে অতিরিক্ত তেল মশলা দিয়ে খাবার খেতে শুরু করলে, বাড়ির বাচ্চাটিও একই খাবার খেতে চাইবে। মনে রাখবেন, আপনি নিজে যেমন জীবনযাপন করবেন, আপনার সন্তানও সেই ধরণের জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হবে। 
আর বাচ্চাকে প্রথম থেকেই উৎসাহিত করতে হবে খেলাধুলা, শরীরচর্চায়। তাকে কার্টুন চ্যানেল দেখতে অভ্যস্ত করলে সে হয়ে উঠবে ঘরকুনো স্বভাবের। শরীরে অকালেই ফ্যাট জমতে শুরু করবে। মনে রাখবেন ছোট বয়স থেকে খেলাধুলা করলে শরীরের গঠন ভালো হয়, পেশী সবল। ফলে সে সুস্থ সবল হয়ে কৈশোরে পা রেখে। বাইরের খাবার বিশেষত ফাস্টফুড থেকে যতটা সম্ভব তাকে সরিয়ে রাখতে হবে। আর যে সব বাড়িতে হৃদরোগের প্রকোপ আছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি করা প্রয়োজন। বাচ্চার পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে তা চিন্তার বিষয়। শিশুটির ঠাকুমা, ঠাকুরদা বা অন্যকোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যেমন কাকা, মামা এদের মধ্যেও যদি হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ এর সমস্যা বা ব্লাড সুগার হওয়ার ইতিহাস থেকে তাহলে প্রথম থেকেই সাবধান হওয়া ভালো।
বয়ঃসন্ধির ইচ্ছে: এর পর বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। এই সময় তাদের মানসিক গঠনের সাথে সাথে শারীরিক গঠনের দিকেও নজর দিতে উৎসাহিত করুন। তাকে নিয়ে সকালে জগিং এ বেরিয়ে পড়ুন। বাড়িতে নিজে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন। আপনাকে ফিট দেখলে বাচ্চার মনেও শারীরিক ভাবে সুস্থ হওয়ার ইচ্ছা জাগবেই। 
টিনএজাররা পড়াশোনার কারণে দীর্ঘসময় বাইরে থাকে। টিউশনের ফাঁকে বাড়ি ফেরার সময় থাকে না। খিদে পেলেই রোল চাউমিনে ঝুঁকে পড়ে মন। তাই ওদের পড়ার ব্যাগে পুরে দিন টিফিন বাক্স। সেখানে থাকুক হাতে গড়া রুটি আর সবজি। তবে মাঝে মধ্যে একদিন চাইনিজ খেয়ে মুখের স্বাদ বদল করলে বকাঝকা করবেন না যেন।
চিন্তার ব্যাপার হলো বয়ঃসন্ধিতে অনেকের মধ্যে ধূমপানের অভ্যেস চলে আসে। প্রথমে খেলার ছলে করলেও পরে বদঅভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। সে ব্যাপারে মা, বাবা বা বাড়ির অন্যান্য পরিজনরা শান্তভাবে সন্তানকে বোঝান ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে। আর বাড়ির কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ধূমপান করলে, সেখান থেকেও কিশোররা দেখে শেখে ধূমপান করা। তাই অভিভাবকরা নিজের সন্তানের স্বার্থে ছেড়েদিন ধূমপানের অভ্যেস। 
আর যে সমস্ত পরিবারের সুগার, অতিরিক্ত কোলেস্টেরলে ভোগার ইতিহাস আছে তাদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। এইসব বাড়ির ছেলেমেয়েরা কৈশোরে পড়া মাত্রই সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যৌবনের উপলব্ধি: এরপর কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে প্রবেশ করলে ছেলেমেয়েরা অনেকটাই অভিভাবকদের নাগালের বাইরে চলে যায়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বা কর্মের তাগিদে থাকতে হয় বাড়ির বাইরে। তাই ছোটথেকে সুঅভ্যাস গড়ে না তুললে পরবর্তী জীবন হয় লাগামহীন। অন্যদিকে যারা এখন বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেন, তাদের বেশিক্ষণ একই জায়গায় বসে কাজ করতে হয়। ফলে এদের মধ্যে লাইফস্টাইল ডিজিজ এর প্রবণতা বাড়ে। শরীরের মধ্যদেশ স্ফীত হয়। একটানা বসে কাজ করার ফলে কোমর ও মেরুদণ্ডের ওপর চাপ বাড়ে। আর হাঁটাচলা ও ঘুম কম হওয়ার ফলে ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি পায় এবং ওজন বৃদ্ধি হওয়ার ফলে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ে। এগুলোই হাত ধরে ডেকে আনে হৃদরোগ। 
আবারও বলি ছোট বাচ্চাদের মধ্যে সুঅভ্যাস গড়ে তুলুন। বেশি করে টাটকা শাকসবজি, ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ খাদ্য তালিকায় রাখুন। আর যেসব পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস আছে তারা শুরু থেকেই রেডিমেট খাওয়া একেবারে বন্ধ করে ফেলুন। 
অনেকে বলেন ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের আওতার বাইরে চলে গেলেই গন্ডগোল শুরু হয়। 
অনেক রাত অবধি জাগা, লেট নাইট পার্টি করা, সিগারেট, অ্যালকোহল আসক্তির কুঅভ্যাস তৈরি হয়। সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠে ব্রেকফাস্টের বালাই থাকে না। একেবারে মধ্যাহ্নভোজ ফলে ওজন বাড়ে। সকালে কিন্তু ৯টার মধ্যে ভারী ব্রেকফাস্টের দরকার। তার পর সারাদিনে অল্প অল্প করে খাওয়া যেতে পারে আর রাত্রি ১০টার মধ্যে খেয়ে নিয়ে পরে কিছুক্ষন জেগে কাজ করা যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের রাত জেগে কাজ করতে হয় মাঝে মধ্যেই, তারা রুটিনে সামান্য হেরফের করে যতটা সম্ভব নিয়ম মেনে চলুন। এভাবেই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব।
ছোট্ট কিছু টিপস:
সমস্যাটা শুরু হয় বাড়ির হেঁসেলে। সেখানে খাবার সুস্বাদু করতে অতিরিক্ত তেল, ঘি, মশলা, নুন ব্যবহার করা হয়। চিকেন কষায় তেল না ভাসলে অনেকের মুখে রোচে না। অনেকেই তো চিকেন বলতে শুধু কাবাব বোঝেন! বহু লোক তো পাতে একটুকরো রেডমিট না পড়লে ভাতে হাত ছোয়ান না। তারপর বাজার থেকে তেলভরা মাছ না কিনলে প্রেস্টিজ জলে ভেসে যায়। আবার অনেকের অভ্যাস একমুঠো কাঁচা নুন নিয়ে খেতে বসা। রাতে খাওয়ার পর দুটো মিষ্টি না খেলে অনেকের মন-পেট দুটোই খালি থেকে যায়। এদের জন্য পরামর্শ - মানুষ খাওয়ার জন্য বাঁচে না বাঁচার জন্য খায়। আর সেই খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা ভাত, ডাল, রুটি, ছোট মাছ, মুড়ি, খই, শাকসবজি, সস্তার ফল দিয়ে অনায়াসে পূরণ করা যায়। এতে শরীর যথেষ্ট কর্মক্ষম থাকে। সুস্থ শরীরে দীর্ঘদিন কাজ করার ক্ষমতা বজায় থাকে। অকালে অথর্ব হয়ে জীবন কাটাতে হয় না।
অনেকেই ভাবেন ওষুধ খাচ্ছি তো, অত ধরাবাঁধা জীবনে থাকার দরকারটা কী? তাদের বুঝতে হবে, ওষুধ শুধু হার্টের রোগের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। একবার খারাপ হয়ে গেলে হার্টকে আগের মতো টগবগ করে তুলতে পারে না কোনো মতেই। তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে হলে জিভ, হেঁসেল ও জীবনযাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আনা ছাড়া কোনো পথ নেই।
এগুলির সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও জরুরি। বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ, ব্লাড সুগার হওয়ার পারিবারিক ইতিহাস আছে এবং যারা ধূমপানে অভ্যস্ত তাদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর পেরোনোর পর থেকে কিছু রুটিন পরীক্ষা যেমন- ১) ব্লাড সুগার ২) ইসিজি ৩) রক্তচাপ ৪) রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা বছরে একবার অন্তত মেপে নেওয়া দরকার। প্রয়োজনে টিএমটি করাতে পারেন। কোনো রকম গরমিল ধরা পড়লেই উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করানো দরকার। এগুলির আসল উদ্দেশ্যই হলো হার্টের অসুখটিকে যতটা সম্ভব ঠেকিয়ে রাখা। যাতে আমরা সুস্থ সবল কর্মক্ষম জীবন কাটাতে পারি।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে এখনই পড়ুন হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে এখনই পড়ুন Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 13, 2018 Rating: 5
Powered by Blogger.