Featured Posts

[Travel][feat1]

গ্যালিলিওর অবস্থা দেখে কেঁদেছিলেন এই বিজ্ঞানী - ইভানজেলিস্তা টরিসেলি

September 19, 2018

ইভানজেলিস্তা টরিসেলি (জন্ম : ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দ, মৃত্যু : ১৬৪৭ খ্রিস্টাব্দ)

ছোটোবেলা কেটে গিয়েছিল চার্চের কঠোর শৃঙ্খলাবদ্ধ আবহাওয়ার মধ্যে। মন দিয়ে বাইবেল পড়তে হয়েছিল। ওল্ড টেস্টেমেন্টের এক একটি নির্দেশনামা মুখস্থ করতে হয়েছিল চোখ বন্ধ করে। মাঝে মধ্যে হৃদয় বিদ্রোহী হয়ে উঠত। তবুও কিছু করতে পারতেন না অসহায় টরিসেলি। তখনকার দিনে এটাই ছিল সামাজিক নিয়ম। ভালো ছাত্রদের যেতে হবে জেসুইটদের স্কুলে। খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা তখন নানা জায়গাতে বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। তাঁদের একটি বিশেষ শাখা জেসুইট মনে পরিচিত ছিল । জেসুইটরা ধর্মবিদ্যাকে প্রসারের উদ্দেশ্যে উত্তর ইতালিতে অনেক স্কুল খুলেছিলেন। এমনই একটি স্কুলে টরিসেলির বাল্যশিক্ষা শুরু হয়।
জন্মেছিলেন তিনি উত্তর ইতালির কায়েঞ্জা শহরে। ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই অক্টোবর পৃথিবীর বুকে এসেছিলেন টরিসেলি। মা বাবা ছিলেন নেহাত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কিন্তু সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ছিল ওই পরিবারটির মধ্যে। ছোটো থেকেই তাঁরা চেয়েছিলেন টরিসেলিকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। সুযোগ থাকলে হয়তো তাঁরা টরিসেলিকে অন্য কোথাও পাঠাতেন। কিন্তু তখন বিদ্যাশিক্ষা হত শুধুমাত্র জেসুইটদের স্কুলে। ফায়েঞ্জা শহরে তখন একাধিক জেসুইট স্কুল স্থাপিত হয়েছে।
অসাধারন মেধা নিয়ে জন্মেছিলেন টরিসেলি। যা একবার শুনতেন তা সহজেই ভুলতেন না। যে পড়তেন তা তাঁর মনের ভিতর গেঁথে যেত। এই স্কুলে ধর্মশিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানের সহজ পাঠও শেখানো হত। ছোটোবেলা থেকেই টেরিসেলি বিজ্ঞানের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ বোধ করেছিলেন। স্কুলের সব কটি পরীক্ষাতে প্রথম হতেন তিনি। প্রথম হওয়াটাকে এভাবেই আয়ত্ত করেছিলেন টরিসেলি। প্রত্যেকবার পরীক্ষার শেষে ফল ঘোষণা হত। টেরিসেলি জানতেন প্রথম পদকটি তাঁর বাঁধা।
স্কুলের দিনগুলি শেষ হয়ে গেল। বিজ্ঞানজিজ্ঞাসু মন নিয়ে টরিসেলি ভর্তি হলেন বিখ্যাত কলেজিও দ্য সাপিয়েঞ্চা মহাবিদ্যালয়।
সেখানেই একদিন লাইব্রেরিতে গ্যালিলিওর মহাকাশ তত্ত্বের উপর লেখা একটি বই হাতে পেলেন টরিসেলি। এই বইটি গোগ্রাসে গিলেছিলেন তিনি। কলেজের ক্লাস মাথায় উঠল। রোমের লাইব্রেরিগুলিতে তখন তিনি হানা দিচ্ছেন এক অভিযাত্রীর মতো। গ্যালিলিওর বই কোথায় আছে, অনুসন্ধান করে ফিরছেন তিনি। অনুগ্রহ করে একটি কপি আমাকে পড়তে দেবেন - এটাই ছিল টরিসেলির একান্ত অনুরোধ। লাইব্রেরিয়ান অবাক হয়ে তাকাতেন টরিসেলির মুখের দিকে। শৈশবসুলভ সারল্য এখনো লেগে আছে থুতনিতে। দুটি চোখে অবাক বিস্ময় খেলা করছে। প্রবীণ লাইব্রেরিয়ানের মনে কি এক ভাবনার উদয় হত। তিনি বিশেষ অনুমতি দিতেন টরিসেলিকে। টরিসেলি ঢুকে পড়তেন সেই গ্রন্থাগারের মধ্যে। সারাদিন কেটে যেত গ্যালিলিওর বই পড়ে পড়ে।
রোমে একাধিক গ্রন্থাগার এবং সংগ্রহশালা ছিল। সেখানে ঘুরে ঘুরে গ্যালিলিওর বেশ কয়েকটা বই পেলেন টরিসেলি। পড়ে ফেললেন। অতৃপ্তি আরো বেড়ে গেল। গ্যালিলিও যেন অদৃশ্য আকর্ষনে ঢাক দিচ্ছেন টরিসেলিকে। বলছেন - 'টরিসেলি তুমি আমার কাছে এসো। আমি তোমার জন্যে সাজিয়ে রেখেছি আধুনিক বিজ্ঞানের মনিমুক্ত। তুমি তা গ্রহণ করো। আমাকে উদ্ধার করো কূপমন্ডুকতার অন্ধকার থেকে।'
শেষ অব্দি অবশ্য টরিসেলির এই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। তেত্রিশ বছর বয়সে তিনি ফ্লোরেন্স শহরে এসে গ্যালিলিওর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।
কিন্তু বিজ্ঞানের সেই আগ্নেয়গিরি তখন অনেকখানি নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন। তা থেকে আর ধূম উদগীরণ হচ্ছে না। বোধহয় বিপক্ষ দলের সঙ্গে লড়াই করতে করতে ফুরিয়ে গিয়েছিলেন গ্যালিলিও। প্রিয় বিজ্ঞানীর এই অবস্থা দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন টরিসেলি। তবুও যা আছে, তাই বা কম কি!
এই হলেন ইভান জেলিস্তা টরিসেলি। গ্যালিলিওকে গুরু বলে মেনে বিজ্ঞানের জগতে তার আবির্ভাব। টরিসেলি অনেকগুলি তত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। তার মধ্যে যার জন্য তিনি বিশ্ববিখ্যাত হয়েছেন, সেটি হল বায়ুর চাপ। তার নামেই বায়ুর চাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হয়ে ওঠে টরিসেলি নল। "বায়ুচাপ সম্পর্কিত দিক নির্দেশক" প্রবন্ধটি টরিসেলি লিখেছিলেন ১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে। তিনি বলেছিলেন, 'আমরা বাতাসের মহাসমুদ্রে ডুবে আছি। এই সমুদ্রের গভীরতা পাঁচশো মাইলের বেশি।' তিনি আরো বলেছিলেন যে, 'এই গভীর বায়ুসমুদ্রের একেবারে তলদেশে আমরা আছি। এই বাতাসের ওজন জলের ঘনত্বের আটশো ভাগের একভাগ মাত্র।'
টরিসেলির তত্ত্ব আজও আমরা অভ্রান্ত বলে মেনে চলেছি। যদিও নানা বিজ্ঞানী নানাভাবে এই তত্ত্বের আরো উন্নতিসাধন করেছেন, কিন্তু পথপ্রদর্শক হিসেবে তাকে আমরা নস্যাৎ করতে পারিনা। ব্যারোমিটার আবিষ্কার করার পর গ্যালিলিওর দুরবিনের সংস্কার তার অন্যতম।
আর একটা কথা শুনে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে যাবে, এই টরিসলি প্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নকশা তৈরি করেছিলেন। ভাগ্য সহায় হলে তাকেই আমরা অনুবিক্ষন যন্ত্রের আবিষ্কারকের আসনে বসাতে পারতাম। তিনি প্রথম অনুধাবন করেছিলেন যে এই পৃথিবীতে এমন অনেক বস্তু আছে যাদের আমরা খালি চোখে দেখতে পারি না। তাদের দেখতে বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন।
মাত্র  ৩৯ বছর বয়সে টরিসেলির জীবনে অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসে। বিজ্ঞানী হিসেবে তখন তিনি খ্যাতির সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছেন। প্রকৃতির কি নির্মম পরিহাস, ১৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে ২৪ শে অক্টোবর, মাত্র ৩৯ বসন্তের টরিসেলি মহাকাশের তারা হয়ে গেলেন। পড়ে রইল তার সবকিছু। রইল অসমাপ্ত কবিতা, অগ্রন্থিত গল্প এবং না-বলা ইতিহাস।

গ্যালিলিওর অবস্থা দেখে কেঁদেছিলেন এই বিজ্ঞানী - ইভানজেলিস্তা টরিসেলি গ্যালিলিওর অবস্থা দেখে কেঁদেছিলেন এই বিজ্ঞানী -  ইভানজেলিস্তা টরিসেলি Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 19, 2018 Rating: 5

রহস্যময় মহাবিশ্বের জানা অজানা কথা

September 18, 2018

মহাবিশ্ব কাকে বলে?

---যাবতীয় বস্তু , আলোকরশ্মি, সব ধরনের বিকিরণ, এককথায় স্থান এবং সময়ের নিরিখে দৃশ্যমান অদৃশ্য সব কিছু নিয়ে তৈরি হয়েছে মহাবিশ্ব। এই পৃথিবী, সৌরমণ্ডল সবই মহাবিশ্বের অন্তর্গত। সূর্যসহ সমস্ত জ্যোতিষ্ক মহাবিশ্বের অংশ বিশেষ।

সৌরমণ্ডল বলতে কি বোঝায় ?

---সূর্য তারা গ্রহ, উপগ্রহ, হাজার হাজার ধুমকেতু এবং অসংখ্য ছোটো ছোটো তারা নিয়ে সৌরমণ্ডল গঠিত হয়েছে। মহাবিশ্বে অসংখ্য সৌরমণ্ডল ছড়িয়ে আছে। সূর্যের মতো জ্যোতিষ্কগুলি বিভিন্ন নক্ষত্র পুঞ্জ অথবা গ্যালাক্সির মধ্যে রয়েছে। আমাদের সৌরমণ্ডল যে সর্পিল নক্ষত্র পুঞ্জের মধ্যে অবস্থিত, তাকে মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ বলে।

বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে বিগ ব্যং থিয়োরি কী বলছে  ?

---সাধারণ ভাবে ধরে নেওয়া হয় যে, আমাদের এই মহাবিশ্ব প্রথমে ছিল একটি অতিকায় ঘন গোলক। তার থেকে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গ্রহ, নক্ষত্র এবং সৌরমণ্ডলের।
বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ অ্যাবে জর্জেস লেমেট মহাবিশ্বের ক্রমপ্রসারনের বিগ ব্যাং থিয়োরির সাহায্যে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাজার হাজার কোটি বছর আগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সিঙ্কুচিত ছিল। আদি বিস্ফোরণের মাধ্যমে তার প্রসারণ শুরু হয়। এই বিস্ফোরণ অতি ঘন গোলকটিকে 
ভেঙে ফেলে। গোলকটি টুকরো টুকরো হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। টুকরোগুলি এখনও সেকেন্ডে কয়েক হাজার কিলোমিটার গতিবেগে ছুটে চলেছে। এই গতিশীল বস্তু থেকেই নিহারিকাপুঞ্জ বা ছায়াপথের উৎপত্তি। ছায়াপথ অথবা নক্ষত্রের সৃষ্টি কিন্তু প্রসারনের গতি হ্রাস করতে পারেনি। সম বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে যেমন হয়, এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সব থেকে দুরের টুকরোগুলি সবথেকে বেশি গতিশীল। এই আদি বিস্ফোরণই হল বিগ ব্যাং থিয়োরির মূল কথা।

মহাকাশ সৃষ্টি সম্পর্কে ক্রমাগত সৃষ্টি তত্ত্ব টি ব্যাখা করো।

--- ক্রমাগত সৃষ্টি তত্ত্বটির প্রবক্তা দুজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী--টমাস গোল্ড এবং হারমান বল্ডি। ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ ফ্রেড ইয়েন এই তত্ত্বটি সমর্থন করেছিলেন। এই তত্ত্ব অনুসারে বলা হয়ে থাকে যে নীহারিকাপুঞ্জ এবং ছায়াপথগুলি একে অন্যের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, কিন্তু এদের অবস্থান সংক্রান্ত ঘনত্ব একই রয়ে গেছে। অর্থাৎ যখন পুরনো ছায়াপথ দূরে সরে যায়, তখন নতুন ছায়াপথ এসে তার স্থান দখল করে।


মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে পালসেটিং বা অসিলেটিং অর্থাৎ কম্পমান তত্ত্ব বলতে কি বোঝো ?

---দঃ অ্যালান স্যানডেজ পালসেটিং বা অসিলেটিং মহাকাশ তত্ত্বের প্রবক্তা। এই তত্ত্ব অনুসারে শতকোটি বছর সময় সীমার মধ্যে মহাবিশ্ব সঙ্কুচিত এবং প্রসারিত হয়েছে। ডঃ স্যানডেজের ধারনা অনুসারে ১২০০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বে এক বিপুল বিস্ফোরণ ঘটে গিয়েছিল। তারপর এটি ক্রমশঃ প্রসারিত হয়ে চলেছে। আরও ২৯০০ কোটি বছর ধরে এই প্রসারণ চলবে। তারপর মহাকর্ষের প্রভাবে প্রসারণ বন্ধ হয়ে যাবে এবং প্রচণ্ড চাপের কারনে সমস্ত বস্তু সঙ্কুচিত হতে শুরু করবে। সঙ্কোচন চলবে ৪১০০ কোটি বছর ধরে। এরপর আবার তৈরি হবে অতি ঘনত্ব বিশিষ্ট গোলক এবং ঘটবে মহাবিস্ফোরণ।

মহাবিশ্বের বয়স কত ?


---সম্প্রতি ব্রহ্মাণ্ডের বয়স সম্পর্কে বিঞ্জানসম্মত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নাসার গবেষণারা বলেছেন যে ১৩০৭ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের জন্ম। তাঁরা আরও বলেছেন, বিগ ব্যাং-এর প্রায় ১০ কোটি বছর পরে আকাশময় ছড়িয়ে পড়েছিল অগুনিত নক্ষত্র। সৃষ্টির সেই ঊষাকাল ছিল একেবারে শূন্য, তখন কোন মহাজাগতিক বস্তুর চিহ্ন আমাদের চোখে পড়েনি। তৈরি হয়নি গ্রহ, নক্ষত্র বা ছায়াপথ। বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা উত্তাপের অতি নগণ্য পরিবর্তন হয়েছিল। যার পরিমাপ ১ ডিগ্রীর ১০ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ। উইলকিনসন মাইক্রোওয়েভ অ্যানিসোট্রোপি প্রোব গবেষণা চালিয়েছেন বিগ ব্যংয়ের ৩,০৮,০০০ বছর পরের পৃথিবী নিয়ে। বিঞ্জানীদের একটা বড় অংশের বিশ্বাস ঠিক এই সময়েই নাকি জন্ম ব্রহ্মাণ্ডের।

আমাদের ছায়াপথ সম্পর্কে কী জানো ?

---আমাদের নিজস্ব ছায়াপথে আকাশগঞ্জা বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে বৃত্তাকারে অবস্থিত একটি তীব্র আলোকবন্ধনীর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবী থেকে দেখলে এই আলকবন্ধনিটিকে আলোর ঝর্না বলে মনে হয়। আসলে এটি হল অসংখ্য উজ্জ্বল নক্ষত্রের সমাবেশ পাশ্চাত্য বাসীরা এর নামকরণ করেছেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
ছায়াপথ আমাদের পূর্ব পুরুষদের মোহগ্রস্থ করেছিল। তাঁরা ছায়াপথকে লক্ষ্য করে কত না গল্পকথা লিখেছিলেন। মধ্য এশিয়ার ইয়াকুতার ছায়াপথকে ঈশ্বরের পদচিহ্ন বলা হত। এক্সিমোরা এর নামকরণ করেছিল শুভ্র ভস্ম নামিত পথ। চীনারা বলত স্বর্গীয় নদী আর হিব্রুরা বলত আলোর নদী। ভারতে এর নামকরণ করা হয়েছিল আকাশগঙ্গা বা স্বর্গ গঙ্গা।
ছায়াপথ হল সর্পিল নক্ষত্রপুঞ্জ। এই নক্ষত্রপুঞ্জের মূল অংশটি বা চাকতিটির ব্যাস ১ লক্ষ আলোকবর্ষ। এর কেন্দ্রে আছে দ্বিতীয় কেন্দ্রক, যার ব্যাসার্ধ ২৬ হাজার আলোকবর্ষ, আর আছে অগুনিত দীর্ঘ সর্পিল বাহু যার একটিতে আমাদের সৌরমণ্ডলের অবস্থান। এতে আছে ১০ হাজার কোটিরও বেশি নক্ষত্র, যারা কেন্দ্রের চার পাশে ঘুরছে। এদের ঘূর্ণন কাল গড়ে ২৩ কোটি বছর। 
আমাদের নক্ষত্রপুঞ্জের কেন্দ্র থেকে সূর্য প্রায় ৩২ হাজার  আলোকবর্ষ দূরে। ঐ নক্ষত্রপুঞ্জকে আপাতদৃষ্টিতে ঘূর্ণ্যমান গ্যাসের চাকতি বলে মনে হয়।
এখানে ক্রমাগত নতুন নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে। এই ছায়াপথে তারকার ঘনত্ব প্রতি ঘন পারসেকে অর্থাৎ ৩.২৬ আলোকবর্ষে প্রায় ১০ লক্ষ নক্ষত্র।
ছায়াপথ ছাড়া তিনটি নক্ষত্রপুঞ্জকে পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায়। উত্তর গোলার্ধ থেকে দেখা যায় অ্যান্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জ। এটি প্রায় ২০ লক্ষ্য আলোকবর্ষ দূরে। দক্ষিন গোলার্ধ থেকে দেখা যায় লার্জ ম্যাগেলানিক ক্লাউড(১,৬০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে) ও স্মল ম্যাগেলানিক ক্লাউড(১,৮০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে) 

নক্ষত্র সমাবেশ কেমন হয়ে থাকে ?

--- আমাদের পরিচিত নক্ষত্র সমাবেশ তিনটি আকার দেখা যায়। সর্পিল, উপবৃত্তীয় এবং অসম। সর্পিল নক্ষত্র সমাবেশে নক্ষত্রপুঞ্জে একটি কেন্দ্রক বা নিউক্লিয়াস থাকে। তার চারপাশে থাকে বিশাল বিশাল সর্পিল বাহু। আমাদের ছায়াপথ বা আকাশগঙ্গা এবং অ্যান্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জ এই শ্রেণী ভুক্ত।
নক্ষত্রপুঞ্জের ৮০ শতাংশ হল সর্পিল নক্ষত্রপুঞ্জ। এরপর আমরা উপবৃত্তীয় নক্ষত্রপুঞ্জের কথা বলব। এদের আকার সম্পূর্ণ উপবৃত্তীয়। এতে কোন সর্পিল বস্তু নেই। এরা দখল করে আছে সমস্ত নক্ষত্রপুঞ্জের ১৭%।
অসম আকারের নক্ষত্রপুঞ্জের নামকরণ থেকেই বুঝতে পারা যায় যে, তাদের নির্দিষ্ট কোন আকৃতি নেই। নক্ষত্রপুঞ্জগুল আবার বিভিন্ন গোষ্ঠী বা ক্লাস্টারে একত্রিত হয়। আমাদের ছায়াপথ যে ক্লাস্টারের অংশ তার নাম লোকাল গ্রুপ(Local Group).

রেড জায়েন্ট কাদের বলা হয় ?

 --- যখন কোন নক্ষত্রে হাইড্রোজেনের পরিমাণ নিঃশেষিত  হয়ে আসে, তখন তার বাইরের দিকটা লালচে হয়ে ফুলে ওঠে। এটি হল একটি নক্ষত্রের বয়সের প্রথম লক্ষণ। এই নক্ষত্রগুলিকে বলে লাল দৈত্য বা রেড জায়েন্ট। আগামী ৫০০ কোটি বছর বাদে সূর্য এমন একটি লাল দৈত্য বা রেড জায়েন্টে পরিনত হবে।
রেড জায়েন্ট খুবই উপযোগী নাম। এগুলো  আকারে সুবিশাল। উধাহরন স্বরুপ আমরা 'বিটেলগিইউস'-এর কথা বলতে পারি। এর প্রকৃত ব্যাস ৪৮ কোটি কিমি, বা সূর্যের ব্যাসের ৩৫০ গুন। আর একটি রেড জয়েন্ট মিরার ব্যাস ৬৪ কোটি কিমি।

ভেরিয়াবেল স্টার কাদের বলা হয় ?

---১৭৮৪ সালে ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী জন গুডিরিক এক ধরনের নক্ষত্রের পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি ছিলেন মুক এবং বধির। দিনের পর দিন আকাশ পর্যবেক্ষণ করে তিনি ভ্যারিয়েবল স্টারের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। তিনি দেখেছিলেন, ডেলটা সেফিং নামে নক্ষত্রের  ঔজ্জ্বলের স্কেত্রে ৫ দিন ৯ ঘণ্টা অন্তর পরিবর্তন হচ্ছে।  এই ধরনের নক্ষত্রকেই বলা হয় ভেরিয়েবেল স্টার। 
এই ধরনের কোনো কোনো নক্ষত্রকে কয়েক ঘণ্টা অন্তর উজ্জ্বলতার পরিবর্তন করতে দেখা যায়। আবার কোনটিতে ১০০০ দিন বাদে উজ্জ্বলতার পার্থক্য হয়। সাধারনভাবে বলা যায়, সময়ের হার যত কম হবে, ঔজ্জল্য তত বেশি হবে।

নোভা সুপারনোভা কাদের বলা হয় ?

----হঠাৎ কোনো নক্ষত্রের  ঔজ্জ্বল্য ১০-২০ গুন বেড়ে যায়। তারপর আবার ধীরে ধীরে সে স্বাভাবিক ও সাধারণ উজ্জ্বলতায় ফিরে আসে। এই আকস্মিক উজ্জ্বলতার বৃদ্ধির কারণ কি ? বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, এর অন্তরালে আছে আংশিক বিস্ফোরণ। এই জাতীয় হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে ওঠা তারাকে নোভা এবং সুপারনোভা বলা হয়। নোভার ক্ষেত্রে বাইরের খোলটির বিস্ফোরণ ঘটে। সুপারনোভার তুলনায় নোভা বেশি দেখতে পাওয়া যায়। সেফিও, এমন একটি সুপারনোভা।

ব্ল্যাকহোল কাকে বলা হয় ?

---- ব্ল্যাকহোল একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন নক্ষত্র। এর বস্তু ঘনত্ব এত বেশি যে তার তীব্র মহাকর্ষ বলে কাছাকাছি সমস্ত বস্তু নক্ষত্রের কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয়। এমনকি নক্ষত্রপুঞ্জ কেন্দ্রে ঢুকে যায়। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বরে মহাকর্ষ এত বেশি যে, আলো তা থেকে রক্ষা পায় না। তাই ব্ল্যাকহোল থাকে অন্ধকারে। আর আমরা সরাসরি তাকে দেখতে পাই না।

কোয়াসার কি ?

---মহাবিশ্বে এক ধরনের ঝলমলে অস্বাভাবিক বস্তুর সন্ধান মেলে, এদের কোয়াসার বলা হয়। কোয়াসার পৃথিবী থেকে ১২০০ থেকে ১৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে আছে। কোনো কোনো
বিজ্ঞানীর মতে এক বিশাল ব্ল্যাক হোল আশপাশের নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে গ্যাসীয় মেঘ শোষণ করে এই বিশাল পরিমাণ আলোক শক্তির জন্ম দেয়।

মহাকাশের বিস্তার সম্বন্ধে কী জানো ?

---মহাবিশ্ব অসীম, না সসীম তা কেউ জানেনা। এই প্রসঙ্গে আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন, মহাবিশ্ব সসীম, কিন্তু তার সীমানা দেওয়া যায় না। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সীমারেখা আছে, অথচ সেই সীমারেখাকে আমরা ছুতে পারি না।
ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি যে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, আমরা যে মহাবিশ্ব দেখতে পাই, আসল মহাবিশ্ব তার থেকে ১০ শতাংশ বড়ো। ইউরোপিয়ান স্পেস এজান্সির হিপারকস মিশন মহাকাশে ১ লক্ষ্য ২০ হাজার নক্ষত্রের অবস্থানকে নির্দিষ্ট করার কাজ চলেছে।
১৯১২ সাল থেকে শুরু করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের দূরত্ব স্থির করতেন উজ্জ্বলতার বিচারে। হিপারকাস মিশনের সুত্র থেকে দেখা গেছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এতদিন দূরত্ব মাপতে গিয়ে মাপের ভুল করেছিলেন। হিপারকাস মিশনের দ্বারা নক্ষত্রের দুরত্ব মাপতে গিয়ে বোঝা গেল সেফেইডস ভেরিয়েবলগুলি আসলে আরও অনেক বেশি দুরত্বে অবস্থিত। 


রহস্যময় মহাবিশ্বের জানা অজানা কথা রহস্যময় মহাবিশ্বের জানা অজানা কথা  Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 18, 2018 Rating: 5

তান্ত্রিকের ছেলে থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম জনক - জোহানস কেপলার

September 18, 2018

জোহানস কেপলার (জন্ম : ১৫৭১ খ্রী., মৃত্যু : ১৬৩০ খ্রী.)

তাঁকে বলা হয় বিশ্বের বিজ্ঞান সৌধের অন্যতম স্থপতি। জ্যোতির্বিজ্ঞানে তাঁর অবদান আজও আমরা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি। তিনি হলেন জোহানস কেপলার।
জন্মেছিলেন তিনি ১৫৭১ খ্রিস্টাব্দে, জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমে উইল শহরে। ভাবতে অবাক লাগে, যে জোহান কেপলার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম জনক, তাঁদের পারিবারিক, পেশা ছিল ডাইনিতন্ত্র! তখনকার দিনে এই তন্ত্রটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা হত। অন্ধবিশ্বাসের বিভীষিকাময় স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের মধ্যেই জোহান কেপলারের প্রথম শৈশবের দিনগুলি অতিবাহিত হয়।
তাঁর পিতা এবং পিতামহ ছিলেন কুখ্যাত তান্ত্রিক। মানুষের অজ্ঞতাকে মূলধন করেই তাঁরা অর্থ উপার্জন করতেন। কেপলারের ছোটবেলার দিনগুলির কথা ভাবলে কেমন যেন শিউরে উঠতে হয়। সে এক দারুন দুঃসময় ! চোখের সামনে কেপলার দেখতে পেতেন অন্ধকারে কেমন পাল্টে যাচ্ছে তাঁর আপনজনেদের চেহারা। তাঁর বাবা ও ঠাকুরদা ঢলঢলে কালো আলখাল্লা পরেছেন। মুখের উপর কঙ্কালের মুখোশ, দুটি দাঁত বেরিয়ে আছে গদন্তের মতো। তাঁরা চিৎকার করছেন। তাঁদের হাতে উদ্যত দন্ড। কোনো একটি ছেলেকে হয়তো ভুতে পেয়েছে। বাবা এবং ঠাকুরদা পালাক্রমে ছেলেটিকে আঘাত করছেন। তার মুখ দিয়ে গ্যাজলা উঠছে। মারতে মারতে ছেলেটিকে আধমরা করে দেওয়া হল। তবুও সে চুরির কথা স্বীকার করল না। এবার বাবা সর্বশেষ অস্ত্রটি প্রয়োগ করবেন। ভয়ে বিস্ময়ে জোহান কেপলার চোখ বন্ধ করেছেন। কিন্তু তবুও তাঁকে এই নারকীয় দৃশ্য দেখতে হবে। এইভাবেই নিজের স্নায়ুপুঞ্জকে আরও সাহসী ও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। পরবর্তীকালে তাঁকেই তো এই পরম্পরার উত্তরাধিকার বহন করতে হবে। ছোট থেকে তাই তিনি নিজেকে এই পেশার উপযুক্ত করে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। এটাই ছিল তাঁদের পরিবারের এক অলিখিত নিয়ম।
শেষ অস্ত্র হিসাবে কেপলারের বাবা কি করতেন শুনলে তোমরা অবাক হয়ে যাবে। কেপলারও ভীত চোখে প্রত্যক্ষ করতেন, তার বাবা দুটো ইস্পাতের দন্ড নিয়ে এলেন। গনগনে আগুন-আঁচে তাদের উত্তপ্ত করলেন। তারপর সটান ঢুকিয়ে দিলেন চোর সন্দেহে ধরে আনা ছেলেটির চোখের মধ্যে। এক মুহূর্তে ছেলেটি অন্ধ হয়ে গেল। চোখের মনিটা গেলে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। সমবেত জনতা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। বেচারি জোহান, অসহায় ব্যর্থতায় চোখ বন্ধ করতেন। বিড়বিড় করে অস্ফুট আর্তনাদের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা উচ্চারণ করতেন। কেউ তার কথা শুনতে পেত না। বেজে উঠত ঢাক, কাড়া-নাকাড়া। জিতে গেছেন! জিতে গেছেন তাঁর ডাইনি বাবা ! ছেলেটি কবুল করেছে - 'হ্যাঁ, আমি স্বীকার করছি।' যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সে বলছে, 'আমি চুরি করেছি যবের আটা। আমাকে যা শাস্তি দেবার দিন। এভাবে আর কষ্ট দেবেন না।'
শহরে প্রচুর প্রতিপত্তি ছিল জোহান কেপলারের বাবার। সকলেই তার দিকে ভয়মিশ্রিত চোখে তাকিয়ে থাকত। পথে যেতে যেতে মাঝেমধ্যেই তিনি রাজার মতো খামখেয়ালিপনা প্রদর্শন করতেন। যা খুশি তাই তুলে নিতেন। লোক কিছু মনে করত না। বরং ভাবত, ওই বিখ্যাত তান্ত্রিক আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, এতেই আমার চোদ্দো পুরুষ ধন্য হয়ে গেছে !
কোথা থেকে কোথায় এলেন জোহান কেপলার ! তুকতাক আর জরিবুটির ভাঁওতা থেকে প্রগতিশীল বিজ্ঞানের প্রশস্ত শরনি - কিভাবে ঘটল এই উত্তরণ? এ এক অদ্ভুত কাহিনী ! ছোটবেলা থেকে কেপলার রোগে ভুগতেন। ভীষণ রুগ্ণ ও দুর্বল ছিলেন তিনি। চার বছর বয়সেই পরলোক যাবার ব্যবস্থা প্রায় পাকা করে ফেলেছিলেন। গুতিবসন্তে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। হয়তো ভবিষ্যতে তাঁকে দিয়ে অনেক বড়ো কাজ করানো হবে বলেই, বিধাতা পুরুষ সে-যাত্রা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
এই অস্বাভাবিক রোগমুক্তির পর থেকেই কেপলারের মানসিকতার জগতে দারুন পরিবর্তন ঘটে যায়। সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, বোধহয় তাঁর নবজন্ম হয়েছিল।
পরিবারের লোকেরা তার পড়াশোনার প্রতি বিন্দুমাত্র উৎসাহী ছিলেন না। কিন্তু শিশু জোহান কেপলার পড়াশোনাতে ভীষণভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
এই সময়ে আরমেটবার্গের ডিউক নানা জায়গাতে শিশুশিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় খুলেছিলেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল, ছেলেদের ধর্ম বিষয়ে সচেতন করে তোলা। তা না হলে ভবিষ্যতে সৎ, শোভন নাগরিক পাওয়া সম্ভব হবে না। অবশ্য এই বিদ্যালয় গুলিতে ধর্মশাস্ত্রের পাশাপাশি বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়গুলিও পড়ানো হত।
এমনই একটি স্কুলে একদিন ভর্তি হয়েছিলেন কেপলার। মা-বাবাকে কোনো কথা জানাননি, পাছে তাঁরা বাধার সৃষ্টি করেন।
সেই প্রথম ডাইনি বাড়ির অন্ধকার থেকে বাইরের প্রকৃতির মুক্ত জগতে পা রাখলেন জোহান কেপলার। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলেন সূর্যের আলোককনার দিকে। চারপাশে আলোর এত উৎসার, তবে আমাদের বাড়িটি এখনও মধ্যযুগীয় কুসংস্কারের মধ্যে পড়ে আছে কেন?
ডিউকের স্থাপিত স্কুলে এসে কেপলার নতুন স্বপ্ন দেখতে শিখেছিলেন। প্রকৃতির রহস্যকে অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বিশ্লেষণ করছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হল। কুড়ি বছর বয়সে তিনি টুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। এখানে এসেই তিনি পরিচিত হয়েছিলেন কোপার্নিকাসের জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্যের সঙ্গে। কোপার্নিকাসকে তিনি চোখে দেখেননি, কিন্তু কোপার্নিকাসই হয়ে উঠেছিলেন তাঁর প্রচ্ছন্ন শিক্ষাগুরু।
তখনও কোপারনিকাসের মতবাদকে আইনগতভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়নি। টলেমির সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদটিকেই সকলে নে করেন অভ্রান্ত।
টলেমি বলেছিলেন, 'পৃথিবী স্থির, সূর্য তার চারদিকে ঘোরে।' কোপার্নিকাস বলেছিলেন, 'আকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে সবকিছু ঘোরে, এমনকি পৃথিবীও।' কোপারনিকাসের এই কথার সমর্থন বাইবেলে নেই। সুতরাং, এটি ধর্মবিরুদ্ধে এই অজুহাতে নিষিদ্ধ করা হয়।
কেপলারের মনের বাসনা ছিল ভবিষ্যতে তিনি একজন ধর্মযাজক হবেন। কেন যে তিনি এই বাসনা পোষণ করেছিলেন, তার আসল কারণ আমরা জানিনা। কিন্তু দেখা গেল, ক্রমশই তার মত পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি বুঝতে পারছেন এই শাশ্বত সত্য। তা হল, এইভাবে ধর্মযাজক হলে কোনো লাভ হবে না। মানুষকে আরো বেশি শোষণ করা হয়। বস্তাপচা ধর্মের বাণী কপচানো হয়। তার থেকে অনেক ভালো হবে যদি জোহান কেপলার বিজ্ঞানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।
ইতিমধ্যে কোপারনিকাসের মতবাদকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করেছেন তিনি। তিনি পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলেন যে, টলেমিকে এবার সরে যেতে হবে। কোপারনিকাসকে তাঁর প্রাপ্য জায়গা ছাড়তেই হবে।
টুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলি কেটে গেল। শিক্ষকতার চাকরি পেয়ে গেলেন জোহান কেপলার। শুরু হল নতুন পথে পরিভ্রমন। কলেজে পড়বার সময়, মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে 'দি হিস্ট্রি অফ দ্য ইউনিভার্স' নামে একটি বিতর্কিত বই লিখে আলোড়ন তুলেছিলেন কেপলার।
এই বইটি পড়ে ছুটে এসেছিলেন দুজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিও এবং টাইকো ব্রাহে। তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাকার্যের ধরন দেখে তাঁরা খুব খুশি হয়ে ছিলেন। তারা বিঝতে পেরেছিলেন এইভাবেই নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানের আধুনিকতম চিন্তাভাবনাতে আত্মনিয়োগ করবেন।
কিন্তু কেপলারের বিরুদ্ধবাদীরা সচেষ্ট হয়ে উঠলেন। তাঁর বইয়ের বক্তব্য বিষয়ে ধর্মবিরোধী মনোভাবের প্রকাশ দেখে পাদ্রী সমাজে উষ্মা ছড়িয়ে পড়তে লাগল।
বিপদের গন্ধ পেয়ে কেপলার শহর থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। নিদারুন অনিশ্চয়তার মধ্যে তার দিন কাটছে। দেখা দিয়েছে তার আৰ্থিক অনটন। গবেষণা চালাবেন কি করে স্থির করতে পারছেন না। এই সময় ভগবানের আশীর্বাদের মতো তাঁর ওপর নেমে এল টাইকো ব্রাহের সহানুভূতি। ব্রাহে তাঁকে সহকারী হিসেবে মনোনীত করলেন।
ব্রাহে এবং কেপলার দুজনেই সুদূর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তাদের মনে স্থির বিশ্বাস ছিল, মানুষের জীবনের ভালোমন্দের উপর এই গ্রহ-নক্ষত্রের অসীম প্রভাব আছে। তারাই প্রথম আধুনিক জ্যোতিষশাস্ত্রের চর্চা করেছিলেন। ঘোষনা করেছিলেন - 'জন্ম মুহূর্ত থেকে মৃত্যু অব্দি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে দূর আকাশের ওই নক্ষত্রদল !'
কেপলার ঘোষণা করেছিলেন 'ক্ষুদ্রতিক্ষুদ্র কনা থেকে বিরাট ব্রহ্মান্ড - সবই একই সুরে বাধা।' তখনকার দিনে এ ধরনের মতবাদ প্রকাশ করা যথেষ্ট সাহসিকতার বিষয় ছিল।
ব্রাহের মৃত্যুতে জোহান কেপলার অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। ব্রাহে ছিলেন তাঁর জীবনের দুর্দিনের পথ প্রদর্শক। ঈশ্বরের একটি বিশেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য বোধহয় তারা দুজন এই পৃথিবীতে আবির্ভুত হয়েছিলেন। একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।
শেষ অব্দি কেপলারের সঙ্গে গ্যালিলিও এর মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। কেপলার বিশ্বাস করতেন যে, কুষ্টি এবং ঠিকুজি মানুষের সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গ্যালিলিও এই ব্যাপারে চিয়েন চরম অবিশ্বাসী। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। তারপর আর কখনো তাদের মধ্যে যোগাযোগ ঘটেনি। গ্যালিলিও কিন্তু তার তরুণ বন্ধুকে মনে রেখেছিলেন। দূরবীন যন্ত্র আবিষ্কার করে যে কয়েকজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর কাছে তা পাঠিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কেপলার ছিলেন অন্যতম।
১৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মাত্র আটান্ন বছর বয়সে বরেণ্য বিজ্ঞানী কেপলারের কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে গিয়েছিল।
তান্ত্রিকের ছেলে থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম জনক - জোহানস কেপলার তান্ত্রিকের ছেলে থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম জনক - জোহানস কেপলার Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 18, 2018 Rating: 5

দই কচু , সাথে চমকে দেওয়ার মত ৫ টি রেসিপি

September 17, 2018

দই কচু


উপকরণঃ ছোট অথবা গুড়ি কচু ৫০০ গ্রাম, টক দই ২৫০ গ্রাম, তেঁতুল ১টি ছোট গোলা, নুন আন্দাজমতো, জিরে ৫০ গ্রাম, শুকনলঙ্কা ৬/৮টি।
প্রস্তুত প্রণালীঃ কচুগুলো জলে সেদ্ধ করে খোসা ছড়িয়ে ফেলুন। দই ভালো করে ফেটিয়ে নেবেন। তেঁতুলের গোলটা একটু জলে ছেঁকে নিন ও আন্দাজমতো নুন মেশান। জিরে ও লঙ্কা শুকনো কড়াইতে ভেজে গুঁড়ো করে নিন। সেদ্ধ করা কচুগুলোর গায়ে একটা কাঁটার সাহায্যে ছোটছোট গর্ত করে দিন। এবার তেঁতুল গোলা জলে মিনিট পনেরো ভিজিয়ে রাখুন। কচুগুলি জল থেকে তুলে আর একটা পাত্রে রাখুন। ও ফেটানো দই ঢেলে দিন। এবার ওপর থেকে গুঁড়ো মশলা 
 ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

ঝিঙে বাহার

 উপকরণঃ ঝিঙে ৫০০ গ্রাম, নারকেল আধমালা, জিরে ১/২ চা-চামচ, সর্ষে ৩ চা-চামচ, চিনি ৫-৬ চা-চামচ তেল ৫০-৭৫ গ্রাম, নুন আন্দাজ মতো, কাঁচালঙ্কা ৪-৬টি।
প্রস্তুত প্রনালিঃ ঝিঙের খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করে কেটে নিন। নারকেলটা কুরে নিন। কাঁচালঙ্কা মুখ থেকে একটু চিরে নিন। সরষে ভালো করে বেটে নিন। পাত্রে তেল গরম করে জিরে ফোড়ন দিন। ঝিঙেগুলো দিয়ে ভালভাবে ভাজতে থাকুন। একটু ভাজা হলে তাতে দু-কাপ জল, নারকেল কোরা, সরষে বাটা, নুন, চিনি ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে দশ মিনিট ফুটতে দিন। আপনার প্রয়োজন মতো ঝোল হলেই নামিয়ে নেবেন।

দই ফুলকপি 

উপকরণঃ ফুলকপি ১ কেজি, পেঁয়াজ ২ টি (স্লাইস করা), পেঁয়াজের রস ৩-৪ টেবিল চামচ, আদার রস ১ টেবিল চামচ, রসুন ৫ কোয়া(থেঁতো করা), লঙ্কাগুঁড়ো ১ চা চামচ, আস্ত গোলমরিচ ৫-৬টি, গুঁড়োহলুদ ১ চা-চামচ, নারকেল বাটা ১ টেবিল চামচ, পোস্তবাটা ১১/২ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচানো ১ মুঠো, এলাচ ২টি(থেঁতো করা), লবঙ্গ ২টি(থেঁতো করা), দারচিনি ১ ইঞ্চি(থেঁতো করা), তেল, নুন, চিনি পরিমাণমতো, ঘন দই ৩/৪ কাপ, সেদ্ধ কড়াইশুঁটি ২ কাপ।
প্রস্তুত প্রণালীঃ আস্ত ফুলকপি অথবা ফুলকপি বড় বড় আকারে কেটেও তৈরি করতে পারেন। আস্ত বা টুকরো করা যাই হোক না কেন, ফুলকপির ধারের পাতা ডাটা সমান করে কেটে ফুলকপি নুন জলে পনেরো মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। নুন জল থেকে উঠিয়ে পরিস্কার জলে ধুয়ে, শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। কড়াইতে এক কাপ তেল গরম করে, কুচোনো পেঁয়াজ লাল করে ভেজে উঠিয়ে রাখুন। ফুলকপিতে সামান্য নুন, হলুদ মাখিয়ে একই তেলে লাল করে ভেজে নামিয়ে নিন। প্রেসারকুকারে পাঁচ টেবিল চামচ তেল দিয়ে গরম করুন। গরম তেলে থেঁতো করে দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ফোড়ন দিন। সব মশলা, পোস্ত, নারকেল ও স্বাদ অনুযায়ী নুন, চিনি দিয়ে কষে নিন। মাঝে মাঝে জলের ছিটে দেবেন। মশলা ভাল করে আধ কাপ গরম জল দিয়ে প্রেসার কুকার ঢেকে দিন। মিনিট পাঁচেক রান্না হলে অর্থাৎ একটা 'সিটি' দিলেই আঁচ থেকে প্রেসার কুকার নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে দিন। পরিবেশনের পাত্রে ঢেলে, আস্ত ফুলকপিটা হলেও পাত্রে রাখুন। চারধারে কড়াইশুঁটি সেদ্ধ সাজিয়ে, ঘন দই অল্প নুন দিয়ে ফেটিয়ে ফুলকপির উপর ঢেলে, ধনেপাতা কুচি ও পেঁয়াজকুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।



ক্যাপ্সিকাম ডিলাইট 

উপকরণঃ কিমা ১ কাপ (সেদ্ধ), ক্যাপ্সিকাম ৪ টি (বড় মাপের), গাজর ১ কাপ (কুরনো), টম্যাটো ১ টি (লাল্‌, মিহি করে বাটা),  মালাই বা দুধের সর আধকাপ, পেঁয়াজ বাটা ৩ টেবিল চামচ, লঙ্কাগুঁড়ো আধ চা-চামচ, রসুন আধ টেবিল চামচ, আদাবাটা আধ টেবিল চামচ, লঙ্কাগুঁড়ো আধ চা-চামচ, কর্ণফ্লাওয়ার আধ কাপ, ময়দা ৩ টেবিল চামচ, গরম মশলা ২ টেবিল চামচ,ভিনিগার ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ৪ টেবিল-চামচ, নুন স্বাদমতো, হলুদ আন্দাজ মতো।
প্রস্তুত প্রণালীঃ ক্যাপ্সিকামের বোঁটা কেটে দু ফালি করে কেটে নিন। দেখবেন যেন নীচের  অংশটা লেগে থাকে। ভেতরের বীজগুলো ফেলে দেবেন। ক্যাপ্সিকামের ভেতরের খোলাতে ভালো করে কর্নফ্লাওয়ার মাখিয়ে রাখবেন। কিমা সেদ্ধ তাতে ভিনিগার মাখিয়ে রাখুন। গাজর, ধনেপাতা, টোম্যাটোর রস, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, গরমমশলা, নুন, হলুদ সব একসঙ্গে মাখুন। কিমাতে এই আনাজ ও মশলা মিশ্রন বেশ করে মেশান। তৈরি হল পুর। ক্যাপ্সিকামের গায়ের জোড়া জায়গাতে লাগিয়ে দিন। একটা পাত্রে জল ফুটতে দিন। এর মধ্যে আরেকটা পাত্রে এই ক্যাপ্সিকামগুলো সেদ্ধ হতে দিন। দেখবেন জল যেন ক্যাপ্সিকামের পাত্রে এসে না পড়ে। মিনিট দশেক পরে ননস্টিক প্যান সামান্য তেল দিয়ে ক্যাপ্সিকামগুলো ভেজে নিন।

বেকড বাঁধাকপি

উপকরণঃ বাঁধাকপি কচি ১০-১২টা আস্ত পাতা, পনির ২৫০ গ্রাম, কড়াইশুঁটি ১ কাপ(সেদ্ধ করা), টম্যাটো ২ টি (ছোট করে কুচোনো), পার্সলে ১ আঁটি (কুচোনো), কাঁচালঙ্কা ২ টি (বীজ ফেলে কুচোনো), মাখন ৫০ গ্রাম। 
প্রস্তুত প্রণালীঃ বাঁধাকপির পাতা ধুয়ে ফুটন্ত নুন জলে ফেলেই তুলে নিন। ঠাণ্ডা হলে মাঝের শিরাটি একটি ভারী জিনিস দিয়ে সামান্য থেঁতো করুন। পনির চটকিয়ে তার সঙ্গে সামান্য মাখন, কড়াইশুঁটি সেদ্ধ, টম্যাটো কুচি, কাঁচালঙ্কা কুচি, পার্সলে কুচি ও আন্দাজমতো নুন মেখে দিন। বাঁধাকপির পাতার শিরের একপাশে  খানিকটা মিশ্রন দিয়ে অপর পাশটি মুড়ে একসঙ্গে করে একটি টুথ পিক দিয়ে আটকে দিন। এই ভাবে সব পাতা গড়া হলে বেকিং ট্রেতে সামান্য মাখন লাগিয়ে পাতাগুলো সাজিয়ে আগে থেকে গরম করে রাখা ওভেনে ঢুকিয়ে একপাশ দশ মিনিট বেক করুন। ট্রে-টি বার করে স্প্যাটুলা দিয়ে পাতাগুলির অপর পাশে উল্টে দিন এবং আরও দশ মিনিট ওভেনে রাখুন।

পোস্ত টম্যাটো

উপকরণঃ টম্যাটো ৩-৪ টি, গাজর ২ টি(মাঝারি), বিট ১ টি(ছোট), ক্যাপ্সিকাম ১ টি (মাঝারি), নারকেল আধখানা (ইচ্ছে না হলে দেবেন না), পেঁয়াজ ১ টি (ছোট), কাঁচালঙ্কা ৩-৪টি, পোস্ত ৪ টেবিল চামচ, এলাচ ২-৩ টি (আস্ত), নুন ও চিনি স্বাদঅনুযায়ী, তেল প্রয়োজনমতো, জল আন্দাজ মতো।
প্রস্তুত প্রণালীঃ পেঁয়াজ ও কাঁচালঙ্কা একসঙ্গে বেটে নিন। পোস্ত বাটুন। টম্যাটো টুকরো করুন। নারকোল ও ক্যাপ্সিকাম আলাদা করে বাটুন। গাজর কুরে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে এলাচ দিয়ে সামান্য কষুন। এতে ক্যাপ্সিকামবাটাও দেবেন, নারকোল ও গাজর কোরানো দিন। নেড়েচেড়ে টম্যাটো ও আলু দিন। হালকা ভেজে সেদ্ধ হওয়ার জন্য অল্প জল দিন। নুন ও চিনি দিয়ে ঢিমে আঁচে দশ-বারো মিনিট রাখুন। ঘন হলে নামিয়ে দিন।


ভালো লাগলে শেয়ার করুন 

দই কচু , সাথে চমকে দেওয়ার মত ৫ টি রেসিপি দই কচু , সাথে চমকে দেওয়ার মত ৫ টি রেসিপি Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 17, 2018 Rating: 5

রাশিফল ১৬/০৯/১৮ - ২২/০৯/১৮

September 16, 2018


মেষ রাশি: পড়াশোনার ওপর কোনো খারাপ প্রভাব পড়বে না। রবিবার কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। সোমবার নৈরাশ্যজনক পরিবেশ। মঙ্গলবার প্রিয়জনের দ্বারা অনুপ্রাণিত হবেন। বুধে শরীর নিয়ে অস্বস্তি। বৃহস্পতিবার কোনো আশা পূরণ হতে পারে। শুক্রে বুদ্ধি বলে কার্যোদ্ধার করবেন। শনিতে ঘরে বাইরে উৎফুল্ল মেজাজে কাটাবেন।



বৃষ রাশি: ঋণের ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। রবিবার অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি হতে পারে। সোমবার কোনো জটিল ব্যাপারে কারোর ওপর নির্ভর করতে হবে। মঙ্গলে প্রতিবেশী/বন্ধু আপনাকে এড়িয়ে চলতে চাইবে। বুধে তীক্ষ বুদ্ধির দ্বারা অন্যের মনোভাব বুঝে নেবেন। বৃহস্পতিবার কাজের প্রসারতা বৃদ্ধি পাবে। শুক্রে দুদিক দিয়ে প্রাপ্তি হতে পারে। শনিতে প্রয়োজনীয় কাজে সাফল্য


মিথুন রাশি: অকারণ ভুল বোঝাবুঝি দাম্পত্য জীবনে হতে থাকবে। রবিবার জটিল বাধা নেই। সোমবার সহকর্মীর কথাবার্তায় নিশ্চিত হতে পারবেন না। মঙ্গলে কিছু প্রাপ্তি। বুধে পরিবেশ ব্যয় বহুল। বৃহস্পতিবার বেলায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আপসোস হতে পারে। শুক্রে শত্রুপক্ষ সক্রিয় হবার আশঙ্কা। শনিতে আপনার উদ্যমের ওপর প্রাপ্তি নির্ভর করছে।

কর্কট রাশি: শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা করুন। পরিবারের কারও আইনানুগ ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। রবিবার মোটামুটি কাটবে। সোমবার আশানুরূপ সাফল্য। মঙ্গলে জরুরি সংবাদ আসবে। বুধে সহযোগীর দ্বারা উপকৃত হবেন। বৃহস্পতিবার প্রিয়জনের কারোর হজমের সমস্যায় বিব্রত বোধ করবেন। শুক্রে অর্থলাভ। শনি মিশ্রভাবে কাটবে।

সিংহ রাশি: আপাতদৃষ্টি অশুভ মনে হলেও নানা কর্মপ্রবাহ স্বার্থক রূপ নেবে। রবিবার নৈরাশ্যজনক পরিবেশ। সোমবার পুরোনো সমস্যা দেখা দেবার ইঙ্গিত পাবেন। মঙ্গলে অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হবেন। বুধে নতুন প্রচেষ্টায় বিকেলের পর শুভ পরিবর্তন। বৃহস্পতিবার বেলায় কৃতকর্মের জন্য বিরোধী পক্ষ অবদমিত থাকবে। শুক্রে অনুকূল পরিবেশ। শনিতে আটকে থাকা কাজে সাফল্য।

কন্যা রাশি: উদ্বেগ অনিশ্চয়তা থাকবে। রবিবার অধঃস্তন কর্মী সহায়তা করবে। সোমবার প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে জয় সূচিত হতে পারে। মঙ্গলে কর্মে ও গৃহে মিশ্র পরিবেশ। বুধে সমস্যা বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার সন্তানের ব্যাপারে অসন্তোষ বাড়তে পারে। শুক্রে লেনদেন সংক্রান্ত কাজকর্ম বিলম্বিত হবে। শনিতে নতুন যোগাযোগ, প্রাপ্তি।

তুলা রাশি: কোনো সহযোগীর সাথে গোপন বোঝাপড়া করবেন। রবিবার ভ্রমণে বাধা। সোমবার খরচ বাড়বে। মঙ্গলবার দরকারি কাজ এগিয়ে নেবার চেষ্টা করুন। বুধে দুপুরের পর কোনো বাধা কষ্ট দেবে। বৃহস্পতিবার কাউকে বিশ্বাস করে ঠকবেন। শুক্রে অপ্রতিহত বাধায় দেহ, মনে অবসাদ। শনিতে শুভযোগ, সন্তানের সঙ্গে আলোচনায় স্বস্তি।

বৃশ্চিক রাশি: ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আপনার অর্থকরী সমস্যা বিশ্বাস করতে চাইবে না। রবিবার মোটের ওপর শুভ। সোমবার সঞ্চয় নষ্ট করে পরিবারের খরচ সামাল দিতে হবে। মঙ্গলে সহসা বাধা, মনে অবসাদ। বুধে বিকেলের পর শুভ যোগের সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার দরকারি খবর আসবে। শুক্রে গতানুগতিক ভাবে দিনটি কাটবে। শনিতে লোকের সঙ্গে মতান্তর।

ধনু রাশি: উগ্র সিদ্ধান্ত নেবেন না। রবিবার শত্রুপক্ষ দুর্বল। সোমবার নতুন যোগাযোগ। মঙ্গলে অপরিচিত ক্ষেত্র এড়িয়ে চলুন। বুধে পারিবারিক শান্তি রক্ষা করুন। বৃহস্পতিবার দরকারি জিনিষ চুরি হবার আশঙ্কা। শুক্রে পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকমই প্রভাব রয়েছে। শনিতে নতুন প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হতে পারে।

মকর রাশি: নিজের ইচ্ছায় বেশি খরচ হবে। রবিবার অনুকূল পরিবেশ। সোমবার পারিবারিক ঝামেলায় মনোকষ্ট। মঙ্গলে সহকর্মীর কথায় বিচলিত হবেন না। বুধে দুপুরের পর পরিবেশ সপক্ষে চলে আসবে। বৃহস্পতিবার কারোর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। শুক্রে আপনার ভূমিকা প্রাধান্য পাবে। শনিতে পরিশ্রম, হয়রানি।

কুম্ভ রাশি: কোনো ব্যাপারে বঞ্চিত হতে পারে। রবিবার কর্মসূত্রে ভ্রমণ হবার আশঙ্কা। সোমবার পরিবারে বাধা। মঙ্গলে কর্মক্ষেত্রে শুভ যোগ। বুধে ন্যায্য পাওনা আদায় করতে কোথাও বার বার যাওয়া লাগবে। বৃহস্পতিবার চক্ষুকষ্ট। শুক্রে পরিবারের সমস্যা অব্যাহত। শনিতে শুভ পরিবর্তন।

মীন রাশি: কৃতকর্মের জন্য প্রশংসা পেতে পারেন। রবিবার নিজের সুবিধামত দিনটি কাটবে। সোমবার পদস্তব্যক্তির নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হবে। মঙ্গলে শুভ সূচনা ইঙ্গিত পাবেন। বুধে প্রয়োজনীয় কাজগুলি হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার সন্তানের জন্য উদ্বেগ। শুক্রে ক্ষতির কারণ নেই। শনিতে অশান্তি, ভুল বোঝাবুঝি।


রাশিফল ১৬/০৯/১৮ - ২২/০৯/১৮ রাশিফল ১৬/০৯/১৮ - ২২/০৯/১৮ Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 16, 2018 Rating: 5

বনফুল ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের কিছু বাণী

September 15, 2018

বলাইচাদ মুখোপাধ্যায় ওরফে বনফুলের কিছু কথা - 


• অসমাপ্ত জিনিসের না বলা বাণী আছে একটা। তা অব্যক্তরূপেই বিকশিত • ‎পরের মেয়েকে গৃহিণী করার প্রথা শুধু যে প্রজনন বিজ্ঞানের উপযোগীতার জন্য প্রবর্তিত হয়েছিল তা মনে করবার কোনো কারণ নেই। প্রজনন বিজ্ঞান পরের ব্যাপার। রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের সঙ্গে প্রেম জমে না - এই সত্যটাই মানুষ বোধহয় অনেক আগে আবিষ্কার করেছিল। • ‎ক্ষুধাকে অনুসরণ করে চলতে থাক, ঠিক পথে পৌঁছে যাবেই একদিন না একদিন। ক্ষুধাটা যদি সত্যি হয় তবে তার আগুনে অখাদ্যও হজম হয়ে যাবে। • ‎কাব্যই কবির জীবন, কাব্যই তার স্ফূর্তি, কাব্যলোকই তার কাছে একমাত্র আনন্দলোক। কিন্তু কাব্যের আনন্দরূপ কবি মোনে মূর্ত হয় না সব সময়ে, সরসী থাকলেই যেমন কমল ফোটে না। উনপঞ্চাশ বায়ু-বাহিত অপরূপ উপলক্ষ এসে হাজির হয় অকস্মাৎ কোনো অজানা আকাশ থেকে। শিহরণ জাগে, পাখি ডাকে, সাড়া পড়ে যায় কিশলয়দের নিদমহলে, বাঁশি বেজে ওঠে বনে বনে। • ‎সকলেই আনন্দ চায়, নানাভাবে সবাই সেটা পেতে চাইছি। সাধারণ লোকের বাইরে জীবনটাকে যদি বাঁশি বলি তাহলে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ প্রভৃতিকে সেই বাঁশির ছিদ্র বলা যেতে পারে। অধিকাংশ লোকই আনন্দ পাওয়ার আশাতে নানা সুরে আলাপ করছে ওতে।  • ‎আমাদের স্বাধীন ভারতের সাহিত্য, সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ কি? যতটা দেখতে পাচ্ছি তাতে আশার আলোক কিছু নেই। আমরা নিজেদের সংস্কৃতি ক্রমশ হারাচ্ছি, বিদেশাগত সংস্কৃতি ও আমাদের বাঁচাতে পারবে না কারণ সেই সংস্কৃতি ও নিঃস্ব। বিদেশের যে সংস্কৃতির আস্ফালন আমরা অহরহ শুনতে পায় তা পশুর গর্জন, সুসভ্য মানবতার সংগীত নয়। • ‎অনবদ্য সৌন্দর্যের পায়ে লীলাময়ী প্রকৃতির কাছে সম্পূর্ণ রূপে আত্মসমর্পণ করে কৃতার্থ হয় যে, সেই কবি, সেই শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক, সৃষ্টি রহস্যের সারমর্ম সেই বুঝেছে। • ‎পাখিরা যত আধুনিক হচ্ছে তত যেন তারা মানুষের মনোহরণ করে মানুষের বন্ধুত্ব কামনা করছে। মানুষের মধ্যেও যেমন বিশ্বমৈত্রীর ভাব জাগছে ক্রমশ, মানুষ যেমন হিংসার পথ ত্যাগ করে প্রেমের পথ, আনন্দের পথ বেছে নিচ্ছে, আনন্দ দিচ্ছে, আনন্দ পাচ্ছে, পাখিদের মধ্যেও সেরকম কিছু একটা হচ্ছে হয়তো। তা না হলে এত বর্ন বৈচিত্রের কোনো মনে হয় না যেন। • ‎মোহটা হচ্ছে তাকে চেনাবার কষ্টিপাথর। কষ্টিপাথর সোনা নয়। কিন্তু সোনার পরিচয় ওর থেকেই পাওয়া যায়। যেকোনো জিনিসেই আমরা মুগ্ধ হয় না কেন, কিছুদিন পরেই তার নেশাটা কেটে যায়। কারণ মোহ নকল আলো, আসলে ওটা অন্ধকারই। ওই মোহই আমাদের জানিয়ে দেয় আমরা ভুলপথে গেছি। মন বলে ওঠে হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোনো খানে। • ‎চরাচরে সমস্তকিছু বাঁচতে চাইছে, উপভোগ করতে চাইছে নিজের অস্তিত্বকে নানাভাবে এবং তার জন্য না করছে এমন জিনিষ নেই। ভালো-মন্দ, শ্লীল-অশ্লীল, সভ্য-অসভ্য সব কিছুই হচ্ছে সে জীবনকে সার্থক করার প্রেরণায়। • ‎সবাই নিজের নিজের আকাশে ডানা মেলে উড়তে চায়।


প্রেমেন্দ্র মিত্রের কিছু কথা - 


•  প্রেম বস্তুটি হলো মূল্যহীন ফুলের বিনিসুতোর মালা। • ‎আমাদের কাজের কথায় যখন কোনো ফল ধরে না তখন বাজে কথার ফুলের চাষ করলে হানি কি? • ‎আমরা মুখে কি বলি তার চাইতে আমরা মনে কি ভাবি তার মূল্য আমাদের কাছে ঢের বেশি। কেননা সত্যের জ্ঞান না হলে মানুষ সত্য কথা বলতে পারে না। • ‎ভাষার বর্তমান অবস্থা এই যে, এক শব্দ শুধু একটি ভাবের প্রকাশ করেই ক্ষান্ত থাকে না, কিন্তু তার সঙ্গে অস্পষ্ট মনোভাবকে জাগিয়ে তোলে। একটা উপমার সাহায্যে কথাটা পরিষ্কার করা যাক। সেতার, এসরাজ প্রভৃতি যন্ত্রে দেখা যায় যে, এমন অনেকগুলি তার আছে যেগুলোকে বাদক স্পর্শ করে না। এ তারগুলিকে যন্ত্রীরা তরফের তার বলে। যে তার বাদক স্পর্শ করে, সেই তারের ধ্বনি ঐ অদৃশ্য তরফের তারের বেতার বার্তা আনে বলেই স্পষ্ট তারের ধ্বনি তার সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য লাভ করে। নিজ ভাষায় কাব্য আমাদের মনোবিনায় যে ঝঙ্কার তোলে, কোনো বিদেশির মনে সে ঝঙ্কার তুলবে না। কারণ আমাদের মনে সেই সব তরফের তার আছে, বিদেশীর মনে তা নেই। • ‎ভুল করেছি- এই জ্ঞান জন্মানো মাত্র সেই ভুল তৎক্ষণাৎ সংশোধন করা যায় না। কিন্তু মনের স্বাধীনতা একবার লাভ করিতে পারিলে ব্যবহারের অনুরূপ পরিবর্তন শুধু সময়সাপেক্ষ। • ‎অতি বিজ্ঞাপিত জিনিসের প্রতি আমার শ্রদ্ধা খুব কম। কারণ, মানব হৃদয়ের স্বাভাবিক দুর্বলতার ওপর বিজ্ঞাপনের বল এবং মানবমনের সরল বিশ্বাসের উপর বিজ্ঞাপনের ছল প্রতিষ্ঠিত। • ‎সকলেই মরে, কিন্তু সকলেই আর প্রেমে পড়ে না। • ‎অন্ধকারেরও একটা অটল সৌন্দর্য আছে এবং তার অন্তরেও গুপ্তশক্তি নিহিত থাকে। যে ফুল দিনে ফোটে, রাত্রে তার জন্ম হয়- একথা আমরা সকলেই জানি। সুতরাং নবযুগে যেসব মনোভাব প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে মধ্যযুগে সেসব বীজ বপন করা হয়েছিল। • ‎পুরাকালে মানুষ যা কিছু গড়ে গেছে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সমাজ হতে আলাদা করা, দুচার জনকে বহু লোক হতে বিচ্ছিন্ন করা। অপরপক্ষে নবযুগের ধর্ম হচ্ছে মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন করা, সমগ্র সমাজকে ভাতৃবন্ধনে আবদ্ধ করা। • ‎লেখক ও পাঠকের মধ্যে এখন স্কুলমাস্টার দন্ডায়মান। এই মধ্যস্থদের কৃপায় আমাদের সঙ্গে কবির মনের মিলন দূরে যায়। চারচক্ষুর মিলনও ঘটে না। • ‎প্রাচীন ভারতবর্ষও রূপ সম্পর্কে অন্ধ ছিল না কারণ আমরা যা বলিনা কেন সেই সভ্যতাও মানব সভ্যতা- একটা সৃষ্টিছাড়া পদার্থ নয়। সে সভ্যতারও শুধু আত্মা নয়, দেহও ছিল। সে দেহকেও আমাদের পূর্বপুরুষেরা সুন্দর, সুঠাম করে গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। সে দেহ আমাদের চোখের সামনে নেই বলেই আমরা মনে করি যে সেকালে যা ছিল তা হচ্ছে শুধু অশরীরী আত্মা। কিন্তু সংস্কৃত সাহিত্য থেকেই প্রমান পাওয়া যায় যে তাদের কতটা সৌন্দর্য জ্ঞান ছিল। আমরা যাকে সংস্কৃত কাব্য বলি তাতে রূপবর্ণনা ছাড়া বড় কিছু নেই। আর সে রূপবর্ণনাও আসলে দেহের, রমনীদের রূপ বর্ণনা। • ‎এদেশে লাইব্রেরীর স্বার্থকতা হাসপাতালের থেকে কিছু কম নয় এবং স্কুল কলেজের থেকে কিছু বেশি। • ‎তাকেই যথার্থ সমালোচক বলে স্বীকার করি যিনি সাহিত্য রসের যথার্থ রসিক। • ‎সাহিত্যের হাসি শুধু মুখের হাসি নয়, মনেরও হাসি। এ হাসি হচ্ছে সামাজিক জড়তার প্রতি প্রানের বক্রোক্তি, সামাজিক মিথ্যার প্রতি সত্যের বক্রদৃষ্টি।





বনফুল ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের কিছু বাণী বনফুল ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের কিছু বাণী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 15, 2018 Rating: 5

সেলাই মেশিন ও আলকাতরা আবিষ্কারের গল্প

September 14, 2018
সেলাই মেশিন বা সেলাই কলের আবিষ্কারের ইতিহাসটি এক্কেবারে অন্যরকম -সাহসী চাষির ইচ্ছাশক্তির কথা জেনে নিন ভালো লাগবে ।
picture courtesy - American Historama


সেলাই কল (১৮৫৪)- এলিয়াস হাউস (১৮১৯-১৮৬৭)

সেলাইকল বানানোর ইতিহাস শুরু হয়েছিল  দীর্ঘকাল ধরে। প্রথম সেলাইকল তৈরী করেছিলেন ১৭৯০ সালে ইংল্যান্ডের টমাস সেন্ট। এই কালে অবশ্য কেবল চামড়া সেলাই হত। কাপড় সেলাই করার কল বানালেন ফরাসী দরজী টিমোমনিয়ার। আশিটি কল তৈরী করে তিনি একটি কাপড় সেলাই-এর কারখানাও খুলেছিলেন কিন্তু সাধারণ দরজীরা কলের বাহাদুরীকে মেনে নিতে পারল না। নষ্ট করে দিল তারা কারখানাটাকে। ১৮৩৩ সালে আমেরিকার ওয়াল্টার হান্টও উন্নত ধরনের সেলাইকল তৈরী করলেন। কিন্তু তিনি জনসাধারণকে জানালেন না তাঁর আবিস্কারের কথা। ফলে অজানাই রয়ে গেল তাঁর সেলাই কল।
এর কয়েক বছর পর সেলাইকলের ইতিহাসে সাহসের সাথে এগিয়ে এলেন এক দরিদ্র আমেরিকান কৃষক এলিয়াস হাউi। তিন সন্তানের পিতা এলিয়াসের সংসারে নিত্য অভাব। তাই তাঁর স্ত্রীকেও জামা সেলাই করে টাকা রোজগার করতে হত। গভীর রাত পর্যন্ত স্ত্রী সেলাই করেন। অথচ হাতে পান গুটি কয়েক টাকা। স্ত্রীর পরিশ্রম কমানোর ভাবনা থেকেই সেলাই কল বানাবার চিন্তাটা মাথায় আসে এলিয়াসের। সংসারই চলে না, সেলাইকল বানাবার পয়সা কোথায়। তাই এলিয়াস ছুটে গেলেন বন্ধু জর্জ ফিশারের কাছে।
 ১৮৪৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এলিয়াস সেলাইকল বানাবার চেষ্টা করে যেতে লাগলেন। প্রায় সবটা বানিয়ে ফেললেও একটা বিষয়ে মুস্কিলে পড়ে গেলেন তিনি। যে সুঁচ দিয়ে সেলাই করা হয় তাঁর পেছনের ফুটোয় সুতো পরিয়ে আমরা সেলাই করি। কিন্তু সুঁচের সুতোটা যদি পিছনে থাকে তবে সেলাইকলে সেলাই হবে কি করে ? কয়েক বছর ধরে তিনি কোনো উপায় বের করতে পারলেন না। একদিন তিনি দেখলেন একটা অদ্ভুত স্বপ্ন।
এক অসভ্যদেশের রাজা এলিয়াসকে বন্দী করে নিয়ে এসে হুকুম করলেন সেলাইকল বানিয়ে দিতে হবে। না হলে মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু এলিয়াস তো একটুর জন্য সেলাইকলটা পুরোপুরি বানাতে পারছেন না। তাই রাজার আদেশে সেপাই বল্লম নিয়ে মারতে এল তাঁকে। বল্লমটা যখন প্রায় ঠেকে এসেছে তাঁর বুকের কাছে এমন সময় দেখলেন বল্লমের ফলকের মুখে একটা ছোট্ট ফুট। ভয়ে ঘুম ভেঙে গেল তাঁর, তখনি মনে হল যদি সুঁচেরও মুখের কাছে ফুটো করে সুতো পরানো যায় তাহলে কেমন হয় ?
১৮৫৪ সালে এপ্রিল মাসে সেলাইকল পুরোপুরি বানিয়ে নিজের আর বন্ধু ফিশারের জন্য দুটো স্যুট বানিয়ে ফেললেন। এবার তিনি নামলেন প্রচারের কাজে। নানান ঝড়-ঝাপটা  পর আলো দেখলেন। প্রচুর অর্থও রোজগার করতে লাগলেন সেলাইকল থেকে। সেলাইকলের আবিস্কারক হিসাব ছড়িয়ে পড়ল তাঁর নাম।


প্রবাদে বলে বাঙালি নাকি ফ্রি দিলে আলকাতরাও ছাড়ে না । তা ভালো , নষ্ট হওয়ার থেকে ব্যবহার করাকেই আমরা সঠিক মনে করি । আসুন জেনে নি এই আলকাতরার আবিষ্কারের ইতিহাস 

আলকাতরা - উইলিয়াম হেনরী পার্কিনস (১৮৩৮)


খনি থেকে উত্তোলিত কয়লাকে জ্বালানীর কাজে লাগাতে গেলে কয়লাকে পুড়িয়ে নিতে হয়। পোড়ানোর সময় উৎপন্ন হয় প্রচুর গ্যাস। ১৬৬০ সালে জন ক্লেট্যান ও রবার্ট বয়েল ঐ গ্যাসের পরিচয় জানার জন্য গ্যাসটিকে নলের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করিয়ে ঠাণ্ডা করলেন। তাঁরা দেখলেন নলের গায়ে জমছে কুচকুচে কালো দুর্গন্ধযুক্ত  একটি তরল পদার্থ। কিন্তু পদার্থটি যে কি তার সন্ধান তাঁরা পেলেন না। 
এরপর দীর্ঘ কয়েক শতক কেটে গেছে।লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অফ সায়েন্সের কৃতী ছাত্র উইলিয়াম হেনরী পার্কিনস নতুন পদার্থটির প্রকৃত পরিচয় দিলেন। তরল পদার্থটির নাম দিলেন আলকাতরা। 
আলকাতরা উৎপন্ন করতে গেলে অগ্নিসহ মাটি দিয়ে তৈরী কতকগুলো আবদ্ধ বকযন্ত্রে বায়ুহীন পরিবেশে বিটুমিনাস কয়লাগুঁড়কে প্রডিউসার গ্যাসের সাহায্যে ১০০০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়। উত্তপ্ত কয়লার উদ্বায়ী ও অনুদ্বায়ী দুটি অংশ আলাদা করে নিয়ে উদ্বায়ী গ্যাসীয় পদার্থগুলি বাঁকানো লোহার নলের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করিয়ে তারপর একটি ঠাণ্ডা জলের পাত্রে লোহার নলটিকে রাখা হয়। ঠাণ্ডার সংস্পর্শে এসে গ্যাস থেকে আলকাতরা বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি আলাদা পাত্রে জমা হতে থাকে।
পার্কনসের গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা আলকাতরা নিয়ে গবেষণা চালাতে থাকেন, গবেষণার ফলে জানা যায় আলকাতরায় যেসব পদার্থ মিশ্রিত আছে তাদের স্ফুটনাঙ্ক বিভিন্ন। ১৭০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড উষ্ণতায় আলকাতরা পাতিত করে পাওয়া যায় লঘু তেল। এই লঘু তেলের মধ্যে থেকে পাওয়া যায় বেঞ্জিন, টাইলুন ও জাইলিন। ১৭০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ২৩০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড উষ্ণতায় পাতিত করলে পাওয়া যায় মধ্যম তেল। যার থেকে পাওয়া যায় কার্বলিক অ্যাসিড ও ন্যাপথলিন। ২৩০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড থেকে ২৭০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড উষ্ণতায় পাতিত করলে পাওয়া যায় ভারী তেল বা ক্রিয়াজোট তেল। যার থেকে পাওয়া যায় কেসলস। 
  ২৭০ থেকে ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড ৩৬০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড উষ্ণতায় পাতিত করলে পাওয়া যায় সবুজ তেল বা অ্যান্থ্রাসিন তেল। এর থেকে পাওয়া যায় অ্যান্থ্রাসিন ও ফেনানথ্রিন। অবশেষে বাকি যা পড়ে থাকে তা হল পিচ। আলকাতরায় কার্বন পারমানুগুল বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মিশে থাকে বলে আলকাতরার রঙ কুচকুচে কালো। 
বেঞ্জিন, টাইলুন প্রভৃতি বস্তুকে মোটরগাড়ির জ্বালানী রুপে, ড্রাইওইয়াসে, ওষুধ এবং বিস্ফোরক তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। টাইলুন থেকে আবার স্যাকারিন পাওয়া যায়। কার্বোলিক অ্যাসিড ও ন্যপথলিন ব্যবহৃত হয় ওষুধ ও বিস্ফোরক তৈরীতে এবং প্লাস্টিক শিল্পে। রঞ্জক হিসেবে। কাঠ সংরক্ষণের কাজে, পিচ্ছিল কারক তেল তৈরীতে ক্রিয়জেট তেল ও অ্যান্থ্রাসিন  বা সবুজ তেল ব্যাবহার করা হয়। পিচ ব্যবহৃত হয় রাস্তা তৈরীর কাজে, পোকামাকড়ের হাত থেকে কাঠকে সুরক্ষা দেবার জন্য এবং লোহায়  মরিচা রোধ করার  কাজে।   

সেলাই মেশিন ও আলকাতরা আবিষ্কারের গল্প সেলাই মেশিন ও আলকাতরা আবিষ্কারের গল্প Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 14, 2018 Rating: 5

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে এখনই পড়ুন

September 13, 2018
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করুন
সাবধান বা সতর্কবার্তার প্রশ্ন নয়। শর্তটা জরুরি জীবনযাত্রা অনুসরণের। আর সেটা শুরু করতে পারলে শুধু হার্ট অ্যাটাক নয়, প্রতিরোধ করা যাবে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন এমনকি দুরারোগ্য ক্যানসারের মতো ব্যাধি।
আসলে সমস্যাটা গোড়াটা লুকিয়ে আছে আমাদের মনে। আমরা ভাবি সুস্থ জীবন যাপনের অর্থ ভোগবাসনা ত্যাগ করা। এই ভয়েই সঠিক জীবনপ্রণালি আসলে কেমন হওয়া দরকার তার হদিশ খোঁজার চেষ্টায় করিনা।
এই আলোচনায় সেই চেষ্টায় একবার নতুন করে হয়ে যাক।

আর্নল্ড শোয়াৎজেনেগার আর কুকিজ: শুরুটা করা ভাল, শুরু থেকেই। একটি শিশু ৬ মাস বয়সের পর থেকে ধীরে ধীরে শক্ত খাবার খেতে শুরু করে। তখন থেকেই চেষ্টা করতে হবে অভিভাবকদের ঘরে বানানো খাবার দেওয়ার। কৌটো বন্দি খাবার যতটা সম্ভব না দেওয়ায় ভালো। এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি আর্নল্ড শোয়াৎজেনেগার আমেরিকার একটি শহরের মেয়র ছিলেন। তিনি একসময় ছোটদের জন্য তৈরি কুকিজ বিস্কিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। কুকিজ স্বাদে অতুলনীয় হলেও এতে 'ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড' বা খারাপ ফ্যাট থাকে প্রচুর পরিমানে। এই ধরণের খাদ্যে 'ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড' দেওয়া হয় খাবারের পচন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে। তাই ছোট বেলা থেকে কুকিজ খেলে হার্টের আর্টারি ব্লক হতে শুরু করে। প্যাকেটজাত খাবারেও থাকে ট্রান্স ফ্যাট। তাই ছোট হন বা বড়, যতটা সম্ভব প্যাকেটজাত, প্রিজারভেটিভ দেওয়া খাবার খাওয়া কমাতে হবে সবাইকেই। জোর দিতে হবে আমাদের প্রথাগত খাদ্যের ওপর। ভাত, রুটি, ডালের সঙ্গে বেশি পরিমাণে টাটকা সবজি, মাছ রাখুন ডায়েটে। ঋতু অনুযায়ী দিনে অন্তত দুটো ফল খান। এবং অতি অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপানের অভ্যাস করুন। এই সুঅভ্যাস নিজেও যেমন করবেন, তেমনই সন্তানের ছোট বয়স থেকেই গড়ে তুলবেন। আর শিশু মুখরোচক খাবার খেতে বায়না করলে, মাঝে মধ্যে ঘরে বানানো টাটকা মুখরোচক খাবার স্বল্প পরিমানে দেওয়া যেতে পারে। আর শুধু শিশু নয় অভিভাবকরাও ভালো খাবার খাওয়া অভ্যাস করুন। কারণ আপনি নিজে অতিরিক্ত তেল মশলা দিয়ে খাবার খেতে শুরু করলে, বাড়ির বাচ্চাটিও একই খাবার খেতে চাইবে। মনে রাখবেন, আপনি নিজে যেমন জীবনযাপন করবেন, আপনার সন্তানও সেই ধরণের জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হবে। 
আর বাচ্চাকে প্রথম থেকেই উৎসাহিত করতে হবে খেলাধুলা, শরীরচর্চায়। তাকে কার্টুন চ্যানেল দেখতে অভ্যস্ত করলে সে হয়ে উঠবে ঘরকুনো স্বভাবের। শরীরে অকালেই ফ্যাট জমতে শুরু করবে। মনে রাখবেন ছোট বয়স থেকে খেলাধুলা করলে শরীরের গঠন ভালো হয়, পেশী সবল। ফলে সে সুস্থ সবল হয়ে কৈশোরে পা রেখে। বাইরের খাবার বিশেষত ফাস্টফুড থেকে যতটা সম্ভব তাকে সরিয়ে রাখতে হবে। আর যে সব বাড়িতে হৃদরোগের প্রকোপ আছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি করা প্রয়োজন। বাচ্চার পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে তা চিন্তার বিষয়। শিশুটির ঠাকুমা, ঠাকুরদা বা অন্যকোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় যেমন কাকা, মামা এদের মধ্যেও যদি হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ এর সমস্যা বা ব্লাড সুগার হওয়ার ইতিহাস থেকে তাহলে প্রথম থেকেই সাবধান হওয়া ভালো।
বয়ঃসন্ধির ইচ্ছে: এর পর বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। এই সময় তাদের মানসিক গঠনের সাথে সাথে শারীরিক গঠনের দিকেও নজর দিতে উৎসাহিত করুন। তাকে নিয়ে সকালে জগিং এ বেরিয়ে পড়ুন। বাড়িতে নিজে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন। আপনাকে ফিট দেখলে বাচ্চার মনেও শারীরিক ভাবে সুস্থ হওয়ার ইচ্ছা জাগবেই। 
টিনএজাররা পড়াশোনার কারণে দীর্ঘসময় বাইরে থাকে। টিউশনের ফাঁকে বাড়ি ফেরার সময় থাকে না। খিদে পেলেই রোল চাউমিনে ঝুঁকে পড়ে মন। তাই ওদের পড়ার ব্যাগে পুরে দিন টিফিন বাক্স। সেখানে থাকুক হাতে গড়া রুটি আর সবজি। তবে মাঝে মধ্যে একদিন চাইনিজ খেয়ে মুখের স্বাদ বদল করলে বকাঝকা করবেন না যেন।
চিন্তার ব্যাপার হলো বয়ঃসন্ধিতে অনেকের মধ্যে ধূমপানের অভ্যেস চলে আসে। প্রথমে খেলার ছলে করলেও পরে বদঅভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। সে ব্যাপারে মা, বাবা বা বাড়ির অন্যান্য পরিজনরা শান্তভাবে সন্তানকে বোঝান ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে। আর বাড়ির কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ধূমপান করলে, সেখান থেকেও কিশোররা দেখে শেখে ধূমপান করা। তাই অভিভাবকরা নিজের সন্তানের স্বার্থে ছেড়েদিন ধূমপানের অভ্যেস। 
আর যে সমস্ত পরিবারের সুগার, অতিরিক্ত কোলেস্টেরলে ভোগার ইতিহাস আছে তাদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। এইসব বাড়ির ছেলেমেয়েরা কৈশোরে পড়া মাত্রই সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যৌবনের উপলব্ধি: এরপর কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে প্রবেশ করলে ছেলেমেয়েরা অনেকটাই অভিভাবকদের নাগালের বাইরে চলে যায়। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বা কর্মের তাগিদে থাকতে হয় বাড়ির বাইরে। তাই ছোটথেকে সুঅভ্যাস গড়ে না তুললে পরবর্তী জীবন হয় লাগামহীন। অন্যদিকে যারা এখন বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেন, তাদের বেশিক্ষণ একই জায়গায় বসে কাজ করতে হয়। ফলে এদের মধ্যে লাইফস্টাইল ডিজিজ এর প্রবণতা বাড়ে। শরীরের মধ্যদেশ স্ফীত হয়। একটানা বসে কাজ করার ফলে কোমর ও মেরুদণ্ডের ওপর চাপ বাড়ে। আর হাঁটাচলা ও ঘুম কম হওয়ার ফলে ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি পায় এবং ওজন বৃদ্ধি হওয়ার ফলে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ে। এগুলোই হাত ধরে ডেকে আনে হৃদরোগ। 
আবারও বলি ছোট বাচ্চাদের মধ্যে সুঅভ্যাস গড়ে তুলুন। বেশি করে টাটকা শাকসবজি, ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ খাদ্য তালিকায় রাখুন। আর যেসব পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস আছে তারা শুরু থেকেই রেডিমেট খাওয়া একেবারে বন্ধ করে ফেলুন। 
অনেকে বলেন ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের আওতার বাইরে চলে গেলেই গন্ডগোল শুরু হয়। 
অনেক রাত অবধি জাগা, লেট নাইট পার্টি করা, সিগারেট, অ্যালকোহল আসক্তির কুঅভ্যাস তৈরি হয়। সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠে ব্রেকফাস্টের বালাই থাকে না। একেবারে মধ্যাহ্নভোজ ফলে ওজন বাড়ে। সকালে কিন্তু ৯টার মধ্যে ভারী ব্রেকফাস্টের দরকার। তার পর সারাদিনে অল্প অল্প করে খাওয়া যেতে পারে আর রাত্রি ১০টার মধ্যে খেয়ে নিয়ে পরে কিছুক্ষন জেগে কাজ করা যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের রাত জেগে কাজ করতে হয় মাঝে মধ্যেই, তারা রুটিনে সামান্য হেরফের করে যতটা সম্ভব নিয়ম মেনে চলুন। এভাবেই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব।
ছোট্ট কিছু টিপস:
সমস্যাটা শুরু হয় বাড়ির হেঁসেলে। সেখানে খাবার সুস্বাদু করতে অতিরিক্ত তেল, ঘি, মশলা, নুন ব্যবহার করা হয়। চিকেন কষায় তেল না ভাসলে অনেকের মুখে রোচে না। অনেকেই তো চিকেন বলতে শুধু কাবাব বোঝেন! বহু লোক তো পাতে একটুকরো রেডমিট না পড়লে ভাতে হাত ছোয়ান না। তারপর বাজার থেকে তেলভরা মাছ না কিনলে প্রেস্টিজ জলে ভেসে যায়। আবার অনেকের অভ্যাস একমুঠো কাঁচা নুন নিয়ে খেতে বসা। রাতে খাওয়ার পর দুটো মিষ্টি না খেলে অনেকের মন-পেট দুটোই খালি থেকে যায়। এদের জন্য পরামর্শ - মানুষ খাওয়ার জন্য বাঁচে না বাঁচার জন্য খায়। আর সেই খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা ভাত, ডাল, রুটি, ছোট মাছ, মুড়ি, খই, শাকসবজি, সস্তার ফল দিয়ে অনায়াসে পূরণ করা যায়। এতে শরীর যথেষ্ট কর্মক্ষম থাকে। সুস্থ শরীরে দীর্ঘদিন কাজ করার ক্ষমতা বজায় থাকে। অকালে অথর্ব হয়ে জীবন কাটাতে হয় না।
অনেকেই ভাবেন ওষুধ খাচ্ছি তো, অত ধরাবাঁধা জীবনে থাকার দরকারটা কী? তাদের বুঝতে হবে, ওষুধ শুধু হার্টের রোগের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। একবার খারাপ হয়ে গেলে হার্টকে আগের মতো টগবগ করে তুলতে পারে না কোনো মতেই। তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে হলে জিভ, হেঁসেল ও জীবনযাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আনা ছাড়া কোনো পথ নেই।
এগুলির সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও জরুরি। বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ, ব্লাড সুগার হওয়ার পারিবারিক ইতিহাস আছে এবং যারা ধূমপানে অভ্যস্ত তাদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর পেরোনোর পর থেকে কিছু রুটিন পরীক্ষা যেমন- ১) ব্লাড সুগার ২) ইসিজি ৩) রক্তচাপ ৪) রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা বছরে একবার অন্তত মেপে নেওয়া দরকার। প্রয়োজনে টিএমটি করাতে পারেন। কোনো রকম গরমিল ধরা পড়লেই উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করানো দরকার। এগুলির আসল উদ্দেশ্যই হলো হার্টের অসুখটিকে যতটা সম্ভব ঠেকিয়ে রাখা। যাতে আমরা সুস্থ সবল কর্মক্ষম জীবন কাটাতে পারি।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে এখনই পড়ুন হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে এখনই পড়ুন Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 13, 2018 Rating: 5

আকর্ষ-চিকিৎসা কি ? জেনে নিন

September 11, 2018

আকর্ষ-চিকিৎসা


আমেরিকা ও য়ুরোপে যাঁরা আকর্ষ-চিকিৎসক নামে খ্যাত , প্রাণের নিরাময়শক্তির প্রকাশ তাঁরাও করেছেন। তারা হয়তো এভাবে ভেবে দেখেননি যে, ঐ তথাকথিত ব্যক্তির আকর্ষশক্তি ভারতীয় যোগীদের কথিত 'প্রাণ' নামে অভিহিত জিবনীশক্তির প্রকাশ ছাড়া অন্য কিছুই নয়। সুপ্রাচীন কাল হতে হিন্দু যোগীরা ঐ স্বাভাবিক নিরাময়শক্তির সাহায্যে রোগীর মুখের মধ্য দিয়ে নিঃশ্বাস ফেলে অথবা দেহের রুগ্ন অংশে হাত রেখে, কিমবা শুধুমাত্র অঙ্গুলি পরশের দ্বারা অতি কঠিন ও দুশ্চিকিৎস্য রোগও সারিয়েছেন। একদা যীশু দু'টি অন্ধ লোকের চোখ ছুঁয়ে ঠিক ঐভাবে তাদের অন্ধতা মোচন করেছিলেন। মথি-লিখিত সুসমাচারে কথিত আছে, 'তারপর তোমাদের বিশ্বাস মতো ফললাভ হোক'--- এই কথা ব'লে তাদের চোখ স্পর্শ করতেই তাদের চোখ খুলে গেল। আবার ওখানেই বলা হয়েছে, তারপর করুনা-পরবশ হয়ে যীশু তাদের চোখ স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দৃষ্টি লাভ করল। 

প্রাচীনকাল থেকে অধুনাতমকাল অবধি ভারতে বহু যোগী ঐ প্রণালীতে অনেক পীড়িত লোকেদের রোগ সারিয়েছেন। রোগীর সৌভাগ্য থাকলে অনেক সময় রোগী তথাকথিত চিকিৎসকদের নিরাময়করণে অসামর্থ্যের পর কোনও যোগীর দেখা পেয়ে তাঁর প্রাণশক্তি আকর্ষ-নিরাময়তার অদ্ভুত শক্তির সাহায্যে অসুখ সারাতে সুযোগ পেয়েছেন। ভারতে অবশ্য এমন আকর্ষ-চিকিৎসক বহু রকমের আছেন যাঁরা দেশে-দেশে ঘুরে ঘুরে লোকেদের নানা ধরনের রোগ সারিয়ে বেড়ান। 

কোন কোন যোগী-চিকিৎসক এক গেলাস জলে কিমবা একটি ফুলে অথবা এক চিমটি ধুলোতে প্রাণবায়ু- নিঃশ্বাসিত করে তার দ্বারা রোগীকে রোগমুক্ত করতে পারেন। ঐ প্রাণবায়ু- নিঃশ্বাসিত জল পান করলে অথবা দেহের আহত বা ক্ষত স্থানে প্রয়োগ করলে অত্যাশ্চর্য ফল পাওয়া যায়। আর একধরনের আকর্ষ-চিকিৎষক আছেন যাঁরা অনামায়কারী প্রাণপ্রবাহকে ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রিত ক'রে রোগীদেহে ছড়িয়ে দিয়ে রোগ সারাতে পারেন। আকর্ষ-চিকিৎষার কয়েকটি সাধারণ রীতি হচ্ছেঃ দেহের ওপর কর-ঘর্ষণ, অঙ্গুলিদ্বারা দেহের ওপর মৃদু-মৃদু আঘাত, রোগীর মাংস ও মাংসপেশীকে টিপে সুস্থ করা এবং মর্দন বা দলাই-মালাই দিয়ে অস্থি-চিকিৎসা করা। প্রাচীন ও আধুনিক ভারতের যোগীরা ঐসব পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।

খ্রীষ্টানদের অনেকের বিশ্বাস যে, ইশ্বর শুধুমাত্র খ্রিষ্টের ভক্ত-শিষ্যদেরকেই ঐ অনাময়কারী শক্তি দান করেছেন; কিন্তু যোগশাস্ত্র বলে এ-শক্তি প্রানশক্তিরই দানবিশেষ। কারও মধ্যে এ-শক্তি বেশী আছে কারও মধ্যে কম। আরোগ্য দান করার গুঢ়তত্ত্বটি যোগীরা জানেন, তাই দু'-হাজার বছর আগে যীশু যেমন ক'রে রোগ সারিয়ে দিতেন তাঁরাও ঠিক সেইভাবে তা পারেন। ভারতে এ'ব্যাপারটি এতই সাধারণ যে, বহু দীর্ঘপথ হেঁটে লোকেরা যোগীকে রোগ দেখাতে যান। তাই যখনই কোন যোগী ঐ-ব্যাপারে নাম করেন তখনই দিবারাত্রি অসংখ্য রোগী আসেন তাঁর আশীর্বাদ পাবার জন্য।

  ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ অদ্ভুত অনাময়কারী শক্তির অধিকারী ছিলেন, কিন্তু তিনি সচরাচর তা প্রয়োগ বা ব্যবহার করতেন না। একবার আমি তাঁর এই শক্তি দেখবার সৌভাগ্য লাভ করেছিলাম। তিনি তাঁর ভক্তশিষ্য বিবেকানন্দকে  ঐভাবে সুস্থ ক'রে তুলেছিলেন।একদিন সিকালে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর শিষ্যদের নিয়ে রামবাবুর বাড়ীতে এলেন। সেদিন সেখানে বহু লোকের ভিড় জমেছিল। শ্রীরামকৃষ্ণদেব বসে একবার চারিদিকে দেখে নিয়ে জিজ্জাসা করলেন, "নরেন্দ্র(স্বামী বিবেকানন্দ) কোথায়, তাকে যে দেখছিনে ?" রামবাবু বললেন, 'অতিশয় মাথাব্যথার জন্য সে মাথায় বরফ চাপিয়ে অন্ধকার ঘরে শুয়ে আছে, কোনমতেই আলো সহ্য করতে পারছে না'। গুরুদেব নরেন্দ্রকে দেখতে চাইলেন ও কয়েকজন শিষ্যকে বললেন নরেনকে সেখানে নিয়ে আসবার জন্য। তখন আমি ও তাঁর অনান্য শিষ্যরা নরেন্দ্রর বাড়ি তে গেলাম। গিয়ে দেখলাম একটা অন্ধকার ঘরে মাথার ওপর একটা ভিজে তোয়ালে রেখে নরেন্দ্র শুয়ে আছেন। বুঝলাম তিনি খুব কষ্ট পাচ্ছেন। আরাম পাবার জন্যে তিনি অনেক রকম চেষ্টা ক'রে বিফল হয়েছেন। আমরা তাঁকে গুরুদেবের কথা জানালাম। নরেন্দ্র বললেন তাঁর পক্ষে আলোতে বেরনো অসম্ভব; তাছাড়া অতো রুগ্ন অবস্থায় লোকসভায় যাওয়া তাঁর শোভনিও হবে না। আমরা তাঁকে বারবার অনুরোধ করলাম চোখ ও মাথা বেধে আসবার জন্য; তাঁকে হাত ধরে আমরা নিয়ে এলাম। শ্রীরামকৃষ্ণ নরেন্দ্রকে দেখে বিশেষ আনন্দিত হলেন ও নরেন্দ্রর মাথা ছুঁয়ে বললেন, 'কি হয়েছে রে তোর মাথায়?' তৎক্ষণাৎ নরেন্দ্রন ব্যথা কোথায় মিলিয়ে গেল! সকলে এই ব্যাপার দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। সেই জনবহুল সভার মধ্যে বসে নরেন্দ্র তানপুরাসহযগে ভকতিমূলক ভজনগান করতে লাগলেন; গুরুদেব তা শুনে গভীর সমাধিতে মগ্ন হলেন। সেদিন কোনরকম কষ্ট অনুভব না ক'রে নরেন্দ্র চার ঘণ্টা ধরে অচঞ্চলভাবে গান করেছিলেন।

আর একটি ঘটনা আমার মনে আছে। একদিন লাটু মহারাজ (স্বামী অদ্ভুতানন্দ), শ্রীরামকৃষ্ণের এক মহিলাশিষ্য ( গোপাল-মা) ও আমি নৌকায় ক'রে কলকাতা থেকে দক্ষিনেশ্বর ফিরছি। তখন বেলা প্রায় আড়াইটা হবে। আমাদের সকলেরই খুব খিদে পেয়েছিল, গুরুদেবেরও তাই। কিছু খাবার কেনবার জন্য বরানগর-ঘাটে আমরা নোঙর ফেলে দিলুম। সেই মহিলা-ভক্তটির কাছে তখন মাত্র একটি আনি (চার পয়সা) সম্বল ছিল। আমি সেই আনিটা নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পরে সামান্য-কিছু মিষ্টি নিয়ে আমি ফিরে এলাম। গুরুদেব আমার কাছ হ'তে সবটুকু নিয়ে খেয়ে ফেললেন। তারপর আঁজলা ক'রে গঙ্গা হ'তে কিছু জলও খেয়ে নিলেন। আমরা একটি কণিকামাত্রও না পেয়ে পরস্পর তাকাতাকি করলাম। কিন্তু এমন আশ্চর্যের ব্যাপার যে, ঠিক তখন থেকেই আমাদের আর কোন ক্ষুধা বোধ হ'ল না, মনে হ'ল উদর পূর্ণ হয়ে আছে। শুধু তাই নয়, ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ একটুকু করস্পর্শ কিম্বা একটুখানি দৃষ্টি দিয়ে দুঃখিত ও তাপিত জনের দুঃখ-তাপ উপশমিত ক'রে পরমেশ্বরের নিত্যানন্দময় দিব্যধামে নিয়ে যেতে পারতেন। এমনি করেই তিনি ঞ্জান-তরবারির সাহায্যে সকল অজ্ঞানতা মিথ্যামন্দের মল পর্যন্ত দূর ক'রে মানুষকে পূর্ণতায় প্রতিষ্ঠিত করতেন। 

আকর্ষ-চিকিৎসা কি ? জেনে নিন আকর্ষ-চিকিৎসা কি ? জেনে নিন Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 11, 2018 Rating: 5

মাদাম ক্যুরির সংক্ষিপ্ত জীবনী

September 10, 2018

মাদাম ক্যুরি (জন্ম : ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দ, মৃত্যু : ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ)


এ এক আশ্চর্য ঘটনা ! একজন বিজ্ঞানী দুবার নোবেল পুরুষ্কার পেলেন। একবার পদার্থ বিজ্ঞানে, অন্যবার রসায়নে। নোবেল পুরস্কারের একশো পাঁচ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটেনি।
তোমরা নিশ্চয় জানো, উনি হলেন বিশ্ববিজ্ঞানের মহান উদগাতা মেরি ক্যুরি 'মাদাম ক্যুরি' নামেই তিনি আমাদের কাছে অধিক পরিচিতা। রেডিয়াম এবং পোলনিয়াম নামে দুটি তেজস্ক্রিয় মৌল আবিষ্কার করে তিনি পদার্থ এবং রসায়ন বিদ্যার জগতে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত করেছিলেন।
মাদাম ক্যুরির জীবন ছিল সংঘর্ষে ভরা। প্রতি মুহূর্তে হতাশার অন্ধকার তাঁকে গ্রাস করত। ছোটো থেকেই অসম্ভব রুগ্ণ ছিলেন তিনি। মনের ভেতর কোনো আশার সঞ্চারণ ঘটলেও সঙ্গে সঙ্গে তা নিভে যেত। জীবনে কোনোদিন যে সফল হবেন, ভাবতে পারেননি তিনি। তাই তাঁর জীবন-ইতিহাস পাঠ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। এই ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে আছে রোমাঞ্চকর যুদ্ধের কাহিনী। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কিভাবে কাজে লাগাতে হয়, মাদাম তা আমাদের শিখিয়ে গেছেন।
তাঁর সম্পূর্ন নাম মার্জা ক্লোডস্কা। জন্মেছিলেন তিনি পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ-এ। ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ৭ই নভেম্বর তারিখে।
পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে মার্জা ছিলেন সবার ছোটো। বাবা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। মা-ও ছিলেন সুশিক্ষিতা । তবে কোথাও চাকরি করতেন না। একা হাতে সংসারের সব কিছু সামলাতেন তিনি।
শেষে অবশ্য মেয়েদের পড়াবার একটা স্কুল খুলেছিলেন তিনি। কেন-না বাবার অর্জিত অর্থে সংসারের চাকা ঠিকমতো চলত না। তাই মাকেও কাজে নামতে হয়েছিল।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই লেখাপড়াতে অসম্ভব ব্যুৎপত্তি দেখিয়েছিলেন শিশু মার্জা। সেই বয়সেই গড় গড় করে পড়তে পারতেন তিনি। বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে তখন থেকেই উঁকিঝুঁকি দেওয়ার একটা অভ্যাস রপ্ত হয়ে গেছে তাঁর। পড়ার আগ্রহ ছিল প্রবল। পড়তে ভালোবাসতেন অ্যাডভেঞ্চারের গল্প। কিভাবে মানুষ দূর দিগন্তে পাড়ি জমিয়েছে সেই কাহিনী জানবার জন্য মনটা ছটফট করত শিশু মার্জার। রাতের আঁধার ঘনিয়ে এলে কোলের পাশে শুয়ে মায়ের কাছে আবদার করতেন - গল্প বলো না মা, বলো না দক্ষিণমেরু জয়ের কাহিনী! বলো-না কীভাবে মানুষ পাড়ি দিয়েছে অ্যান্টার্কটিকায়!
জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই পড়তে ভালোবাসতেন। গোগ্রাসে গিলতেন আবিষ্কারের গল্পকথা। শুধু কি তাই? রূপকথা অথবা ভূতের গল্প, সবেতেই ছিল তাঁর সমান উৎসাহ।
এগারো বছর বয়সে তাঁদের পরিবারে ঘনিয়ে এল অন্ধকার। যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মা চোখ বন্ধ করলেন। তখনও পর্যন্ত এই রোগের কোনো প্রতিষেধক ছিল না। চোখের সামনে মাকে এইভাবে মৃত্যুবরণ করতে দেখে মনটা কেমন যেন হয়ে গিয়েছিল সেদিনের কিশোরী মার্জার। একবার ভেবেছিলেন সংসার জীবন ত্যাগ করবেন। সন্ন্যাসিনী ব্রত নেবেন। আত্মহননের কথাও ভেবেছিলেন বারকয়েক। মনের এই শোচনীয় অবস্থায় সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর বাবা। বাবার সান্নিধ্যে ধীরে ধীরে মার্জা ওই শোকসন্তপ্ত দিনগুলিকে অতিক্রম করেন। পড়াশোনাতে আরো বেশি মনোযোগ হয়ে ওঠেন। বছর চারেকের চেষ্টায় রুশ এবং জার্মান দুটি ভাষাই ভালোভাবে শিখে নিলেন তিনি।
মার্জার দিদি ব্রনিয়া এবং দাদা জোজিও ছিলেন খুবই ভালো ছাত্রছাত্রী। তারা হাইস্কুলের পরীক্ষায় সেরা ফল করে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। মার্জও একই স্কুলে ভর্তি হলেন। পরীক্ষাতে সবার সেরা হয়ে লাভ করলেন সোনার পদক।
ছেলেমেয়েদের স্কুলের ফলাফলের জন্যই এই পরিবার ওই অঞ্চলে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন। ষোলো বছর বয়সে পড়া শেষ মার্জার। তিনি ঠিক করলেন এবার প্যারিস যাবেন। ছোট্ট থেকে তার মনের মধ্যে একটি স্বপ্ন ছিল। তা হল, বড়ো হয়ে একজন ডাক্তার হতে হবে। হয়তো মায়ের শোচনীয় মৃত্যুটাই তাঁকে ওই স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করেছিল।
বাবার আর্থিক সামর্থ্য ছিল সীমিত। এদিকে বড়দি ব্রনিয়াও চাইছেন প্যারিসে গিয়ে ডাক্তারি পড়বেন। কিন্তু দুই মেয়েকে প্যারিসে পাঠানোর মতো ক্ষমতা নেই বেচারি বাবার। কি আর করা যায়?
একদিন রাতে বাবার মুখ থেকে নিদারুন সত্যি কথাটা জানতে পারলেন মার্জার। ঠিক করলেন, দিদির জন্য জীবনের সমস্ত স্বপ্ন জলাঞ্জলি দেবেন তিনি। বাবাকে আশ্বস্ত করলেন, দিদি আগে প্যারিসে পড়তে যাবে। সেখানকার পড়াশোনার খরচ মার্জারই চালাবেন। এর জন্য দরকার হলে তিনি ছোটোখাটো চাকরি করবেন।
দেখতে দেখতে দিন কেটে যাবে। দিদি ডাক্তার হয়ে ফিরে আসবে। তারপর মার্জা না হয় প্যারিসে যাবে। তখন বোনের পড়াশোনার খরচ যোগাবে ওই দিদি।
জটিল সমস্যার এমন সুন্দর সমাধান! কিশোরী মার্জার মুখ থেকে এই কথাগুলো শুনে অবাক হয়েছিলেন তার বাবা। নীরবে চোখের জল ফেলেছিলেন। হায়, আমার এই দুই মেয়ের মধ্যে মার্জা বেশি বুদ্ধিমতী। কিন্তু এমন পরিবারে সে জন্মালো কেন? আমি তার উচ্চ শিক্ষার সাধ পূর্ন করতে পারলাম না। এই কথা বলে নিজেকে দোষারোপ করেছিলেন তিনি হয়তো।
কথামতো দিদি ব্রনিয়া প্যারিসে গেলেন। তাঁর পড়ার খরচ যোগাবার জন্য মার্জা ওয়ারশ-তেই এক ধনী পরিবারে গভরনেসের চাকরি নিলেন। পরিবারের কর্ত্রী ছিলেন খুবই বদমেজাজি। কথায় কথায় মার্জারকে অপমান করতেন। তিনি দরিদ্র ঘরের কন্যা- এই বলে খোঁটা দিতেন।
সেখানে বেশিদিন কাজ করতে পারেননি মার্জা। বছরখানেকের পর ছেড়ে দিলেন সেই চাকরি। আবার নতুন চাকরির সন্ধানে পথে নামলেন। কাজ তো তাকে একটা করতেই হবে। তা না হলে দিদির পড়ার খরচ জোগাবে কে? নিয়মিত প্যারিসে টাকা পাঠাতে হচ্ছে। শেষ অবধি আর একটি রুচিসম্পন্ন ভদ্র পরিবারে গভরনেসের চাকরি নিয়েছিলেন মার্জা। সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন।
কিন্তু সুখ বেশিদিন কপালে সয় না। মার্জার ক্ষেত্রেও তাই হল। ওই পরিবারের একজন সুদর্শন যুবককে ভালোবাসলেন তিনি। কিন্তু বিয়ে করা সম্ভব হল না। দুজনের মধ্যে সামাজিক ব্যবধান আছে। আছে অর্থনৈতিক সীমারেখা।
অতএব, মনের কষ্ট মনে চেপে রেখে মার্জার চাকরি ছেড়ে দিলেন। চরম হতাশা আর অপমান বুকে নিয়ে নতুন করে পথ চলা শুরু হল তাঁর।
যে বয়সে আমরা স্বপ্নের রামধনু দেখতে পাই নীল আকাশে, মন উড়ে যায় দূর দিগন্তে, সেই বয়সেই মার্জাকে কঠিন বাস্তবের সামনে এসে দাঁড়াতে হয়েছে। তাই হয়তো আবেগশূন্য হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিশোরী সুলভ চঞ্চলতা কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল। সেই বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন তিনি প্রাজ্ঞবতী। তাঁকে দেখে মনে হত, সমস্ত পৃথিবীর বোঝা কেউ যেন তার মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে। সহসা কারো সাথে কথা বলতেন না। নিজেই নিজের জন্য একটি শব্দহীন জগৎ তৈরি করেছিলেন। সেই জগতে তিনি ছিলেন এক একক সম্রাজ্ঞই।
পাঁচ বছর প্যারিসে পড়াশোনা করে দিদি ব্রনিয়া ডাক্তার হলেন। কিন্তু তিনি আর দেশে ফিরলেন না। সেখানকার এক যুবককে বিয়ে করে সংসার পাতলেন।
এইভাবে মার্জার স্বপ্নটা হারিয়ে গেল। কোথায় প্যারিস আর কোথায় ওয়ারশ! ডাক্তারি পড়া বুঝি হলোনা আর এজীবনে। 
উনিশ শতকের শেষের দিকে পোল্যান্ড ছিল রাশিয়ার জারতন্ত্রের শাসনাধীন। তরুণী মার্জা দেখতে পেতেন, সারা দেশে রুষবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে গোপন সংগঠনে নাম লেখাচ্ছেন।
স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর শিক্ষক পিতা ছিলেন অন্যতম পুরোধাপুরুষ। বাবার কাছ থেকে মার্জা শুনতে পেতেন পরাধীনতার লাঞ্ছিত কাহিনী। শৃঙ্খলাবদ্ধ মানুষের কষ্ট তাঁর মনকে আবেগে আপ্লুত করে দিত। তরুণী বয়সেই তিনি গোপন সংগঠনের সদস্যা হয়ে গেলেন।
পোল্যান্ডের নানাস্থানে তখন গোপন স্বদেশী স্কুল খোলা হয়েছে। তেমনই একটি বিদ্যালয়ে মার্জা শিক্ষয়িত্রীর কাজ করতে থাকলেন। তিনি পড়াতেন অঙ্ক, পদার্থবিদ্যা এবং রসায়ন। এইভাবে দুটি বছর কেটে গেল।
১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে প্যারিস থেকে দিদি ব্রনিয়া একটি চিঠি পাঠালেন ছোট বোন মার্জাকে। লিখেছিলেন - বোন, তুই এখনই প্যারিসে চলে আয়। তোর ডাক্তারি পড়ার সব খরচ আমিই জোগাব।
আশার আলো দেখতে পেলেন মার্জা। বুঝি অন্ধকার রাতের অবসান হয়ে গেছে। সকালের সূর্য উঠেছে পুব আকাশে। কোনোরকমে পথের খরচ সংগ্রহ করে প্যারিসের পথে রওনা দিলেন মার্জা। প্যারিসে পৌঁছে তিনি কিন্তু দিদির সঙ্গে দেখা করলেন না। তিনি ছিলেন বুদ্ধিমতী তরুণী। তিনি জানতেন, হয়তো বিবেকের দংশনে এই চিঠি লিখতে দিদি বাধ্য হয়েছে, কিন্তু তার মন বাঁধা পড়ে আছে অন্যত্র। বিয়ে করেছে দিদি, এখন সে সুখী গৃহিনী। একটি সন্তানও হয়েছে তাঁর। এখন কি তাঁর উচিত সেখানে বোঝার মতো উপস্থিত হওয়া?
প্যারিসের আলো বাতাসহীন বস্তি অঞ্চলে শুরু হল মার্জার জীবনসংগ্রাম। লতিন কোয়ার্টারে ছোট্ট একটি চিলতে ঘর পেয়েছেন তিনি। বারো ঘর এক উঠোনের সেই বস্তিতে মার্জা জীবনকে কাছ থেকে দেখেছিলেন। দেখেছিলেন হতদগ্ধ মুখগুলিতে দারিদ্র্যতা কি বিষন্ন ছবি আঁকছে!
নরকতুল্য সেই নোংরা জগৎকে কোনোদিনও ভুলতে পারেননি মার্জা। সেখানে চোর ডাকাত ভবঘুরেদের ভিড়। সকাল আর সন্ধ্যার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দমবন্ধ করা সেই পরিবেশে মানুষের মনে বাঁচার আশা নেই, উদ্দীপনা নেই, নেই জীবনের আলো।
যে স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে এসেছিলেন তা বাতিল করলেন। ভর্তি হলেন সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার ক্লাসে।
এটাই হয়তো ছিল তাঁর ভবিতব্য। তা না হলে ভবিষ্যতে তিনি কেমনভাবে এক বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও রসায়নবিজ্ঞানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন? প্যারিসে এসে নিজের নামটাও পাল্টে ফেলেছিলেন মার্জা। নতুন নাম হল তাঁর - মেরি ক্লোডস্ক!
চরম দরিদ্র্যতার মধ্যে এগিয়ে চলেছে তাঁর সংগ্রামী জীবন। বেশিরভাগ দিন অনাহারে থাকতে হত। মাঝে মাঝে রাস্তার সস্তা খাবার কিনে খায়। দুই বছর এভাবেই কেটে গেল। শরীর একেবারে ভেঙে পড়েছে। জীবন শক্তিও এসে পৌঁছেছে শেষ বিন্দুতে।
একদিন ক্লাস করতে করতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন মেরি। সহপাঠীদের সেবাযত্নে জ্ঞান ফিরে পেলেন। ডাক্তার জানিয়ে দিলেন পুষ্টির অভাবে যেকোনো দিন তিনি দূরারোগ্য যক্ষ্মাতে আক্রান্ত হতে পারেন।
বন্ধুরাই তাঁর ডায়েরি খুঁজে দিদি ব্রনিয়ার ঠিকানা জোগাড় করেছিল। ব্রনিয়া খবর পেয়ে ছুটে এলেন। কঙ্কালসার বোনকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন। দিদির আন্তরিক সেবাযত্নে সেযাত্রায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন মেরি। সুস্থ হয়ে আবার সেই এক জেদ। এখানে থাকব না। আমি আবার আমার ওই লাতিন কোয়ার্টারে ফিরে যাব।
১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে সরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক স্তরের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন মেরি ক্লোডস্কা। পরের বছর গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মাদাম ক্যুরিকে। যেখানে পা রেখেছেন সেই জায়গাটি আলোকিত হয়ে উঠেছে তাঁর প্রতিভার ছটায়। বিশ্ববিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভার ঝলক আমাদের বিস্মিত করে।
এই হলেন মাদাম ক্যুরি। নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রামের এক উৎসাহব্যঞ্জক কাহিনীর নায়িকা। জীবনের শেষ প্রহর পর্যন্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থের গতি প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করেছেন। এই গবেষণার ফলে তাঁর শরীরেও তেজস্ক্রিয় রশ্মি ঢুকে যায়। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি পরলোকের যাত্রীনি হন।
১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে নিভে গিল বিশ্ববিজ্ঞানের এক অত্যাশ্চর্য প্রতিভার জীবনদীপ। কিন্তু একই সঙ্গে জ্বলে উঠল হাজার প্রদীপ। আজও এখানে-সেখানে, নগরপল্লীর অন্তরালে এভাবেই
দাঁতে দাঁত চেপে কঠিন কঠোর সংগ্রাম করছেন আগামী দিনের মাদাম ক্যুরিরা। একদিন তাঁর জয়কে করায়ত্ত করবেনই। এমনই দৃঢ় তাদের মন। মাদাম ক্যুরির আদর্শে এমনই প্রতিজ্ঞার জন্ম হয়েছে তাদের স্বপ্নের আকাশে।
মাদামের কন্যা আইরিন ক্যুরি ও আইরিনের স্বামী ফ্রেডারিক জোলিও ক্যুরিও পেয়েছিলেন নোবেল।
একটি পরিবার থেকে পাঁচটি নোবেল জয় করা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অবর্ননীয় নজির। তার কর্ম প্রতিভার মূল্যায়ন করতে গিয়ে মহান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছেন - ' মেরি ক্যুরি এমনই এক ব্যক্তি, খ্যাতি যাকে ম্লান করতে পারেনি'।
মানবসভ্যতায় নারীজাতির দুরন্ত সংগ্রাম ও সাফল্যের ইতিহাসে অসাধারন কৃতিত্বের জন্যই বিজ্ঞানী মাদাম ক্যুরির নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদিত থাকবে।
মাদাম ক্যুরির সংক্ষিপ্ত জীবনী মাদাম ক্যুরির সংক্ষিপ্ত জীবনী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 10, 2018 Rating: 5

দেবকুন্ড, পঞ্চলিঙ্গেশ্বর, কেওনঝাড়, সিমলিপাল ভ্রমণ গাইড

September 10, 2018
দেবকুন্ড, পঞ্চলিঙ্গেশ্বর, কেওনঝাড়, সিমলিপাল ঘুরতে হলে এই ট্যুরটি বাল্বেশ্বর বা বালাসোর থেকে শুরু করুন। বালাসোর যাবার জন্য হাওড়া থেকে একাধিক ট্রেন রয়েছে। তবে ধৌলি এক্সপ্রেসে গেলে দিনে দিনে পৌঁছে যেতে পারবেন পাঞ্চলিঙ্গেশ্বর। কারন বালাসোর থেকে ঘণ্টা দেড়েকের পথ এই পঞ্চলিঙ্গেশ্বর। নীলগিরি পাহাড়ের গভীর বন, গহীন অরন্য, ঘন জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত। ওড়িশা সরকারের পান্থশালা রয়েছে পাহাড়ের পাদদেশে। সেখান থেকে ২৪০ টি সিঁড়ি বেড়ে পঞ্চলিঙ্গেশ্বর বা পাঁচটি শিবের মন্দিরে পৌছনো। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খুবই জাগ্রত শিব। স্বয়ং মহাভারতের একটি চরিত্র জরাসন্ধ পুজো করেছিলেন দেবতারা। একটি গাড়ী বা অটো ভাড়া করে দেখেনিতে পারেন  পঞ্চলিঙ্গেশ্বর, চসাখন্ড, রেমুনা। 



পঞ্চলিঙ্গেশ্বর থেকে নীলগিরি উদলা হয়ে সিমলিপাল ফরেস্টের উদলা ডিভিশনে দেবকুন্ড। লুলুং থেকে দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। কুলডিয়া থেকে ৬৯, বালাসোর থেকে ৮৭ কিলোমিটার দূরে দেবকুন্ড নিয়মিত বাস যাচ্ছে, বালাসোর থেকে ৫৯ কিলোমিটার দূরে উদলা। উদলা থেকে জিপে ২৮ কিলোমিটার দূরে দেবকুন্ড। পাহাড় আর জঙ্গল-শেষ ৫ কিলোমিটার গভীর জঙ্গল। চারপাশে পাহাড়ে ঘেরা। ৫০ ফুট উঁচু থেকে জলধারা নেমে আসছে। নীচে কুন্ড অর্থাৎ মোট পাঁচটি ধারা রয়েছে। তাই এর নাম পঞ্চকুন্ড বা প্লেস অফ ফাইভ লেকস। দেবকুন্ড থেকে শতাধিক সিঁড়ি উঠে ঝর্না উৎসের দিকে গেছে। দেবী অম্বিকা তথা দুর্গামাতা মন্দিরটিও সেখানকার দ্রষ্টব্য স্থান। ১৯৪০ সালে ময়ুরভঞ্জের রাজাদের তৈরি মন্দিরে পুজো হয় আজও। চোখ মুগ্ধ করা প্রকৃতির মধ্যেই নানা রঙের চেনা-অচেনা পাখির ডাক নানান রঙের প্রজাপতির বর্ণালি, শোভা বাড়িয়ে তোলে এখানকার মাধুর্য্যকে। তবে যাতায়াতের সমস্যা আজও রয়েছে। তাই পর্যটনের মানচিত্রে এর নামডাক কম। সেখানে থাকতে গেলে একটু হতাশ হতে হবে, কারণ থাকার কোন বাব্যস্থা নেই। তবে সাধারন বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা র‍্য়েছে উদালায়।

কেওনঝাড়--- যাজপুর কেওনঝাড় রোড রেল স্টেশন থেকে বাস যায় ১১২ কিলোমিটার দূরে কেওনঝাড়ে। এ ছাড়াও বাস আসে ২২৫ কিলোমিটার দুরের ভুবনেশ্বর ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন দিক থেকে। আবার কোলকাতার বাবুঘাট থেকে ওড়িশা সরকারের বাস যোশীপুর হয়ে কেওনঝর পৌছায়।  পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা শান্ত স্নিগ্ধ ছোট্ট পাহাড়ি শহর এই কেওনঝাড়। নানা ধরনের আদিবাসি দের বাস এখানে। যাদের মধ্যে রয়েছে সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা প্রভৃতি। বিভিন্ন চেনা অচেনা পাখির ডাক দিনের সব সময় শুনতে পাওয়া যায়। শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পায়ে হেটে বা রিক্সায় জগন্নাথ মন্দির ঘুরে আসা যায়। মন্দির চত্তরে রয়েছে আরও নানান দেবদেবীর মন্দির। দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৫.৩০ টা পর্যন্ত অবশ্য মন্দিরগুলির দরজা বন্ধ থাকে। আবার জিপ গাড়ি বা রিক্সা করে সেখানকার ছোট-বড় জলপ্রপাত ঘুরে নেওয়া যেতে পারে। ছোট জলপ্রপাত গুলি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু আর বড় জলপ্রপাতগুলি প্রায় ২০০ ফুট উঁচু। শহরের পানীয় জল এই বড় জলপ্রপাত থেকে আসে। খুবই মনোরম এই জলপ্রপাতগুলি এখানকার পরিবেশ চরুইভাতির জন্য আদর্শ কেওনঝাড়ের ৩০ কিলোমিটার দূরে গো-নাসিক পাহাড়ের গুপ্তগঙ্গায় বৈতরণীর উৎস। এই উৎসস্থলটি দেখতে গরুর নাকের মতো। এখানে ব্রহ্মেশ্বর মহাদেবের মন্দির রয়েছে। পাহাড় থেকে একটি সুন্দর ঝরনাও নেমে আসছে। আবার দেখার মতো যায়গা টি হল গুপ্তগঙ্গা গো-নাসিকা গ্রামে ব্রহ্মেশ্বর মন্দিরের কাছে কুন্ড। ৪০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে যাজপুরের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়ে সাগরে মিলেছে পুন্যতোয়া বৈতরণী। আবার অনেকে বলেন, বৈতরনী এসেছে মলয়গিরি পাহাড় থেকে। জিপ সরসরি নিয়ে যায় পাহাড়ে।কেওনঝাড়ের মাইল দশেক দূরে গন্ধমাদন পাহাড়। আবার যাজপুরের পথে ৩০ কিলোমিটার কাতারবেদা থেকে আরও ৭ কিলোমিটার ডান দিকে যেতে পড়ে সীতা বিঞ্জি পাহাড়ের গায়ে চতুর্থ শতকের ফ্রেস্কো, রুপ তাঁর আধখোলা ছাতার মতো। লোকে বলে রাবনের ছায়া এটি। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানান ধরনের পাহাড়। কারোর নাম লব কারোর নাম কুশ। এ ছাড়া আছে বাল্মিকির আশ্রম, লব-কুশের জন্ম তথা সীতাদেবীর সূতিকাগৃহ ছাড়াও নানা কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। 

৪৫ কিলমিটার দূরে কেওনঝাড় থেকে বেড়িয়ে নেওয়া যায় তারিনী দেবির মন্দির। বৃক্ষতলে এখানে দেবীর পূজা করা হয়। এই দেবী খুবই জাগ্রত। বৈতরিনী নদীর এক পাড়ে কেওনঝাড় অপরপাড়ে ময়ুরভঞ্জ। পাহাড়ের গা দিয়ে আধ কিলোমিটার দূরে কুন্ডরুপী পাথরে ঘেরা দুরন্ত ঘূর্ণি অর্থাৎ ভিমকুন্ড। হালকা সবুজ জলের কুন্ডের গভীরতা ২৬০ ফুট। বৈতরনী এখানে অন্তঃসলিলা। তবে পাহাড়ের ফাটলে অদৃশ্য হয়ে ৩ কিলোমিটার দূরে আবার দৃশ্যমান হয়েছে। বৈতরনী। এখানে মাঝে মধ্যেই ভাল্লুক, হাতির দর্শন মেলা অসম্ভব নয়। বিশেষ করে রাতে। এখানে কাছেই অনুচ্চ পাহাড়ে রয়েছে শিবের মন্দির। শাল-মহুয়া-পিয়াশাল-কেন্দু-অর্জুন গাছেদের ছাওয়ায় মাখামাখি অরন্য। এই অরন্যের পরিবেশে থাকার মতো ২ ঘরের সেচ বাংলো রয়েছে। সিমলিপাল----- এন এইচ ৬ ধরে ৬১ কিলোমিটার গেলে যশীপুর অর্থাৎ সিমলিপাল জাতীয় উদ্যানের গেটওয়ে। উদ্যানের পশ্চিমে যোশীপুর আপ পুর্বে আর এক গেটওয়ে বারিপদা থেকে পিথাবাটা হয়ে পথ গেছে জাতীয় উদ্যানে। পূর্বঘাট পর্বত মালায় ময়ুরভঞ্জ জেলায় ৭৫৭ মিটার থেকে ১১৫৮ মিটার উচ্চতায় মহারাজাদের অতীতে মৃগয়া ভুমি ২৭৫০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ১৯৭৫ সালে গড়ে উঠেছে ভারতের বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান সিমলিপাল। কোর এলাকা ৮৪৫ বর্গ কিলোমিটার। গ্রানাইট পাথরের পাহাড়, গভীর বন, অপরুপ মোহময় পরিবেশ। ভারতের অন্যতম জাতীয় উদ্যান সিমলিপাল। জলপ্রপাত, ঝর্না, নদী নালা, আকর্ষন বাড়িয়েছে উদ্যানের। মহানদিও বয়ে চলেছে উপত্যকা চিরে। উত্তরে আর পশ্চিম ঘিরে এন এইচ ৬ ভারতে প্রথম গড়া ৯ সদস্যের টাইগার রিজার্ভের অন্যতম সদস্য সিমলিপাল। ১৯৭৩ তে কোর এলাকার ৩০০ বর্গ  কিলোমিটার নিয়ে টাইগার রিজার্ভে গড়েছে জাতীয় উদ্যান। ২০০৪ এর শুমারি মতে, ১০১০ টি বাঘ, ১১৯ টি চিতাবাঘের বাস সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভে, তেমনই সিমলিপাল, কুলডিহা, হাড়গাড় ছাড়াও আরও ৫৩ টি জঙ্গলের অংশ জুড়ে ৭০৪৩ বর্গ কিলোমিটার ব্যাপ্ত হস্তী অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। ১৯৯৯-র শুমারি অনুযায়ী ৫৬৫ টি হাতির বাস সিমলিপালে। তবে বর্ষাকালে যাবার আগে জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে  জেনে যাবেন অবশ্যই।  

দেবকুন্ড, পঞ্চলিঙ্গেশ্বর, কেওনঝাড়, সিমলিপাল ভ্রমণ গাইড দেবকুন্ড, পঞ্চলিঙ্গেশ্বর, কেওনঝাড়, সিমলিপাল ভ্রমণ গাইড Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 10, 2018 Rating: 5

সাপ্তাহিক রাশিফল ০৯/০৯/১৮ - ১৫/০৯/১৮

September 09, 2018


মেষ রাশি: বিশেষ প্রাপ্তিকে স্থায়ী ভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করুন। রোববার সন্তানের ব্যাপারে ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার সম্ভাবনা। সোমবার বেলায় অন্যান্য ধরণের ব্যাপারে আপনার উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা। মঙ্গলবার গৃহগত ক্ষেত্র যেমন রয়েছে তেমনই থাকেন। বুধে দুপুরের পর কারোর খবরে নিশ্চিত হবেন। বৃহস্পতিবার স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কাটাবেন। শুক্রে সন্ধ্যার আগে কাজ শেষ করুন। শনি মধ্যমপ্রদ।

বৃষ রাশি: সংগ্রামী শক্তিকে এমনভাবে প্রয়োগ করবেন যাতে সবাই উদ্বুদ্ধ হবে। রবিবার ব্যস্ততার মধ্যে কাটবে। সোমবার বেলায় স্বস্তি পাবেন। মঙ্গলে শত্রুপক্ষ তত ঝামেলা করবেনা। বুধে দুপুরের পর কর্মসংক্রান্ত যোগাযোগের সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার অনুকূল প্রভাব রয়েছে। শুক্রে পরিচিত কেউ সন্ধ্যায় আপনার খোঁজ নেবে। শনিতে ঘরে বাইরে অনুকূল প্রভাব।

মিথুন রাশি: গুরুত্বপূর্ণ কাজে বসার আগে নিজের অনুশীলন দরকার। রবিবার সহজভাবে দিনটি কাটবে। সোমবার বেলায় অশুভ পরিবর্তন। মঙ্গলে যথাযথ প্রচেষ্টায় বিবাদ বাড়তে দেবেন না। বুধে পারিবারিক ঝামেলা অব্যাহত। বৃহস্পতিবার কোনোমতে কাটবে। শুক্রে বেলায় কর্মসংক্রান্ত শুভ ইঙ্গিত। শনিতে শত্রুপক্ষ ঝামেলা করতে আসবেনা।

কর্কট রাশি: উচ্চবিদ্যা অথবা কর্মের জন্য এগিয়ে যত খরচ হবে মনে সন্তুষ্টি তত আসবেনা। রবিবার অনেকেই আপনার কথা বুঝতে পারবেনা। সোমবার বেলায় অধঃস্তন কর্মীর সহায়তা পাবেন। মঙ্গলে দরকারি কাজ করে নেবার পক্ষে অনুকূল। বুধে দুপুরের পর কাজের চাপ বাড়বে। বৃহস্পতিবার প্রিয়জনের সান্নিধ্যে সময় কাটানো সম্ভব হবে। শুক্রে খরচের মাত্রা বাড়িয়ে সন্ধ্যায় আপসোস হবে। শনিবার মোটামুটি যাবে।

সিংহ রাশি: আপনার কর্মপ্রচেষ্টাকে বন্ধুরা সেরকম গ্রহণযোগ্য মনে করবে না। রবিবার শুভ যোগাযোগ। সোমবার কাউকে কথা দিয়ে কথা রাখা সম্ভব হবে না। মঙ্গলে বেশি অর্থ খরচ হয়ে যাবে। বুধে সহদরস্থানীয় কেউ যোগাযোগ করবে। বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করুন। শুক্রে বিকেলের পর কর্মে বাধা। শনিতে ঝুঁকি নিলে ক্ষতির সম্ভাবনা।

কন্যা রাশি: প্রাথমিক বাধা কাটিয়ে বেশ উৎফুল্ল থাকবেন। রবিবার আয়-ব্যয়ের সমতা রক্ষা করা হবেনা। সোমবার বেলায় আটকে থাকা অর্থ পেয়ে যাবেন। মঙ্গলে দরকারি কাজে অগ্রগতি। বুধে অপছন্দের ক্ষেত্র এড়িয়ে যাওয়া ভালো। বৃহস্পতিবার সন্তানের সঙ্গে হিসেবপত্র বুঝে নিন। শুক্রে বিচলিত হলে চলবেনা। শনিতে অনুকূল প্রভাব অব্যাহত।

তুলা রাশি: সামান্য ভুলে বিশাল সমালোচনা মন বিষিয়ে তুলবে। রবিবার যতটা সম্ভব কাজ এগিয়ে নিন। সোমবার শরীর নিয়ে কষ্ট। মঙ্গলবার অশান্তিতে কাটার সম্ভাবনা। বুধে শারীরিক সমস্যা কমতে থাকবে। বৃহস্পতিবার কর্মযোগ শুভ। শুক্রে সারাটা দিন স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে কাটবে। শনিতে কাউকে কিছু দেওয়া ঠিক হবে না।

বৃশ্চিক রাশি: প্রচুর পরিশ্রম করে উর্ধতন ক্ষেত্রে চাকরি বজায় থাকলে যথেষ্ট ভাববেন। রবিবার অনুকূল যোগাযোগ। সোমবার দরকারি কাজগুলি শেষ করুন। মঙ্গলে নিয়ম মেনে চললে খরচ বাড়তে দেবেন না। বুধে অংশীদারি ক্ষেত্রে যুক্ত থাকলে অন্যের প্রাপ্য শোধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার শারীরিক সমস্যার জেরবার হবেন। শুক্রে মনের দিকে অসন্তুষ্ট থাকবেন। শনিতে শুভ পরিবর্তন।

ধনু রাশি: অশুভ শক্তি আপনার ক্ষতি করতে পারবে না। রবিবার পক্ষে ও বিপক্ষে দুরকম প্রভাব সক্রিয় থাকবে। সোমবার নতুন যোগাযোগ মনে উদ্যম। মঙ্গলে একইরকম পরিবেশ থাকবে। বুধে দুপুরের সময় কেউ সাহায্য করতে চাইলে এড়িয়ে যান। বৃহস্পতিবার স্বল্প প্রাপ্তি।শুক্রে শত্রুতা নয়, অকারণ বাধায় বিব্রত। শনিতে জটিলতাপূর্ন।

মকর রাশি: অনাবশ্যক কথা বললে সুসম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। রবিবার পারিবারিক অস্থিরতা বৃদ্ধি। সোমবার বেলায় ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি শান্ত করুন। মঙ্গলে প্রতিকূলতার ভেতরে কাটাতে হবে। বুধে দুপুরের পর শুভ পরিবর্তন। বৃহস্পতিবার পদস্থ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনায় সাফল্য। শুক্রে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করুন। শনিতে শুভ প্রভাব থাকায় মনে উদ্যম।

কুম্ভ রাশি: বিস্তর খরচ বিনোদন বা গৃহসংস্কার হবার সম্ভাবনা। রবিবার বেশ ব্যস্ততার মধ্যে কাটবে। সোমবার বেলায় বিরুদ্ধে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলুন। মঙ্গলে কর্মের গতি কমবে। বুধে দুপুরের পর সমস্যা হালকা হবে। বৃহস্পতিবার হিসাব করে চললেও ব্যয় আটকানো যাবে না। শুক্রে সুসংবাদ আসবে। শনিতে অর্থযোগ মধ্যম।

মীন রাশি: আটকে থাকা কাজগুলি ধীরে ধীরে এগোতে থাকবে। রবিবার উদ্যম নিয়ে কাজগুলি শেষ করবেন। সোমবার সহকর্মী সাহায্য করতে এগিয়ে আসবেন। মঙ্গলে স্থিতিশীল পরিবেশ। বুধে দুপুরের পর ঝুঁকি নিয়ে চলার জন্য প্রস্তুত থাকুন। বৃহস্পতিবার নানা অসুবিধার মধ্যে কাটাতে হবে। শুক্রে এমন ব্যক্তি শত্রুতা করবে যাকে অপ্রিয় সত্য বলে যাবে না। শনিতে কোনোমতে দিন গুজরান।


সাপ্তাহিক রাশিফল ০৯/০৯/১৮ - ১৫/০৯/১৮ সাপ্তাহিক রাশিফল ০৯/০৯/১৮ - ১৫/০৯/১৮ Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 09, 2018 Rating: 5

আর্কিমিডিসের কাহিনী ও তাঁর তত্ত্ব - পড়ে নিন

September 09, 2018

আর্কিমিডিস (খ্রীঃপূঃ২৮৭-খ্রীঃপূঃ২১২)

প্রাচীনকালে গ্রীস দেশের সাইরাকিউজ নামে একটি রাজ্য ছিল। এই দেশে খ্রীস্টপূর্ব ২৮৭ আব্দে জন্ম হয় আর্কিমিডিসের। তাঁর বাবা ছিলেন বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতিরবিজ্ঞানী ফিডিয়াস। বাবার মতই আর্কিমিডিসও ছিলেন আসাধারণ পণ্ডিত। তাঁর খ্যাতি ছিল জগৎজোড়া। দিনের পর দিন তিনি কাটিয়ে দিতেন বই পড়ে আর অঙ্ক কষে। আলেকজান্দ্রিয়ার মিউজিয়ামে বিখ্যাত পণ্ডিতদের কাছে তিনি শিক্ষা লাভ করেন।  আর্কিমিডিসের বন্ধু ছিলেন সাইরাকিউজের রাজা হিয়েরো। 

রাজা হিয়েরো আর্কিমিডিসকে মাঝে মাঝেই বলতেন "কি যে দিনরাত বই পড়। লোকেতো তোমায় কদর দেয় না। মানুষের কাজে লাগে এরকম কোন যন্ত্র বানিয়ে সবাইকে যদি তাক লাগিয়ে দিতে পারো তবেই বুঝব তুমি একটা পণ্ডিতের মতো পণ্ডিত!" রাজার কথা তো আর আর্কিমিডিস ফেলতে পারবে না, তাই নানারকম স্ক্রু, জল তুলবার কপিকল, পাখা টানবার দেয়ালে লাগানো চাকার পুলি, এসব তো আবিস্কার করলেনই, আবার অঙ্ক কষার সুবিধার জন্য গোলক, পিরামিড, শঙ্কু প্রভৃতি বস্তুর ঘনফল ও ক্ষেত্রফলও বের করলেন। রাজা তো খুব খুশী।

রাজা হিয়েরো একবার এক স্যাকরার কাছে একটি সোনার মুকুট তৈরি করতে দিয়াছিলেন। মুকুটটা নির্দিষ্ট দিনে স্যাকরা রাজার হাতে তুলে দিলেন। মুকুটটি দেখেতে চমৎকার হয়েছে। কিন্তু রাজার মনে সন্দেহ হল স্যাকরা বুঝি সোনা চুরি করে খাদ মিশিয়েছে।

তাঁর সন্দেহ সত্যি কিনা তা মুকুট ভেঙে পরীক্ষা করলেই হত। কিন্তু মুকুটটা এতই সুন্দর দেখতে হয়েছে যে সেটা ভাঙতে মন চাইলে না রাজার। তাহলে কে তাঁর সন্দেহ মেটাবেন ? রাজার মানে পড়ল বন্ধু আর্কিমিডিসের কথা। বন্ধুকে ডেকে তিনি বললেন 'মুকুটটা না ভেঙে সোনায় খাদ মেশানো আছে কিলা জানাও'। মুকুট না ভেঙে যে কি করে খাদের পরিমান বের করবেন তা তো ভেবেই পেলেন না আর্কিমিডিস। কিন্তু একে বন্ধু তায় রাজার কথা, সে কি আর এককথায় নাচক করা যায় ! তাই বললেন 'কয়েকটা দিন সময় পেলে এর একটা উপায় হয়ত খুঁজে পাব।' রাজা বললেন, 'বেশ। তবে উপায় না খুঁজে পেলে রক্ষা নেই তোমার।'

কয়েকদিন কেটে গেল। উপায় যে কি খুঁজে বের করবেন মাথায় আসে না আর্কিমিডিসের। খালি ভাবেন যদি উপায় না পাই তবে আর রক্ষে নেই। সর্বক্ষণ একই চিন্তা তাঁর মাথায়। অন্যমনস্ক হয়েই খান, ঘুমনো, স্নান করেন।

আর্কিমিডিস স্নান ঘরে ছিল একটি জল ভরতি স্নানের টাব। রোজ সেখানে নেমেই স্নান করতেন তিনি। একদিন মুকুটের কথা ভাবতে ভাবতে স্নানের টবে নেমেছেন। সেদিন টবটা ছিল জলে পরিপূর্ণ। যেই তিনি সেই টবে নামলেন অমনি বেশ কিছুটা জল উপচে মেঝেতে পড়ে গলে। সেই ঘটনা দেখে বিদ্যুৎ চমকের মত তাঁর হঠাত মনে হল জলপূর্ণ টবে তিনি নামলেন বলেই জল উপচে পড়ল, তাহলে জলপূর্ণ পাত্রে কোনো বস্তুকে ডোবাল নিশ্চয়ই কিছু না কিছু জল উপচে পড়বেই। এই উপচে পড়া জলের ওজন আর বস্তুর ওজনের তুলনা করলেই বস্তুর ঘনত্ব পাওয়া যাবে। এভাবে হঠাৎ মুকুটে খাদ মেশানো আছে কিনা তাঁর উপায় বের  করার পথ খুঁজে পেয়ে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন, স্নানের কথা ভুলে গেলেন তিনি। ঐ ভিজে অবস্থাতেই তিনি 'ইউরেকা ইউরেকা' বলতে বলতে ছুটলেন রাজসভার দিকে।

রাজসভায় গিয়ে আর্কিমিডিস রাজাকে বললেন সেই মুকুট, একটি জল ভর্তি পাত্র এবং কিছু পরিমান খাঁটি সোনা দিতে। এবার তিনি সোনার মুকুটটিকে নিয়ে ওজন করে তারপরে সেটিকে জলে ডুবিয়ে তার অপসারিত জলের ওজন নিলেন এবং ঐ দুই ওজনের তুলনা করে ঘনত্ব বের করলেন মুকটির। এবার ঐ খাঁটি সোনাকে ওজন করে, জলে ডুবিয়ে তার অপসারিত জলের ওজন করে সোনার ঘনত্ব বের করলেন। এভাবে তিনি খাঁটি সোনার ঘনত্বের সাথে মুকুটের সোনার ঘনত্বের তফাত দেখিয়ে প্রমান করে দিলেন যে মুকুটটিতে খাদ মেশানো আছে। 

মুকুটের সমস্যা সমাধানের থেকেই আর্কিমিডিস আবিস্কার করলেন এক সুত্র। এই সুত্র থেকে জানা যায় কোন বস্তুকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে জলে বা অন্য কোন তরলে নিমজ্জিত করলে বস্তু তার নিজ আয়তনের সমান জল বা তরল অপসারন করে। নিমজ্জিত করার ফলে বস্তুর যে পরিমাণ ওজন হ্রাস হয়, অপসারিত জলের ওজন ঠিক ততখানি। এই বিখ্যাত সুত্রকে বলে আর্কিমিডিসের সুত্র।

আর্কিমিডিস এভাবে তাঁর জ্ঞান ও বুদ্ধিতে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞান চর্চার নানান উন্নিতি ঘটিয়েছিলেন। রোমান সৈন্যদের হাত থেকে রক্ষা করাছিলেন তাঁর জন্মভূমি সাইরাকিউজকে।

কিন্তু তাঁর বহু প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোমান সেনাপতি মার্সেলাস দীর্ঘ আটমাস ধরে আক্রমন ও অবরোধ চালিয়ে খ্রিস্টপূর্ব ২১২ অব্দে সাইরাকিউজ দখল করেন। 

মার্সেলাস শুনাছিলেন বিখ্যত পন্ডিত আর্কিমিডিসের নাম। তাই সৈন্যদের নগর লুঠ করার সম্মতি দিলেও বলে দিয়েছিলেন তারা যেন আর্কিমিডিসের কোন ক্ষতি না করে। সৈন্যরা তো আর আর্কিমিডিসের চিনত না। তাই শহরের লোকেদের ধরে ধরে তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করছিল তারা। এমন সময় প্রায় পঁচাত্তর বছরের এক বৃদ্ধ লোককে বলির ওপর ছক কাটতে দেখে তারা জিজ্ঞাসা করে আপনি কি আর্কিমিডিস? কিন্তু আর্কিমিডিস তখন তাঁর গবেষণায় এতই ডুবে গেছিলেন যে হাত তুলে তাদের বিরক্ত করতে বারন করলেন। সৈন্যরা সকলের ওপর কতৃত্ব করতে অভ্যস্ত। কোন এক পাগল বুড়োর কথা তারা মানবে কেন ? সঙ্গে সঙ্গে আর্কিমিডিসের মাথা তাঁর দেহ থেকে ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
এখবর শুনে দুঃখে-লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে গিয়েছিল সেনাপতি মার্সেলাসের। তাঁর পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই তিনি আর্কিমিডিসকে অতিযত্নে কবরে শায়িত করে তাঁর কবরের ওপর একটি সুন্দর সমাধি তৈরি করেছিলেন।

আর্কিমিডিসের কাহিনী ও তাঁর তত্ত্ব - পড়ে নিন আর্কিমিডিসের কাহিনী ও তাঁর তত্ত্ব - পড়ে নিন Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 09, 2018 Rating: 5
Powered by Blogger.