Featured Posts

[Travel][feat1]

বাড়ির কাছেই - ঘুরে আসুন, চিন্তামনি কর পক্ষী অভয়ারণ্য

February 18, 2019
চিন্তামণি কর পক্ষী অভয়ারণ্য ইট কাঠ পাথরে ঠাসা তিলোত্তমা কলকাতার নাকের ডগায় এক চিলতে সবুজ । আম ,জাম  ,কাঁঠাল  ,তেতুল, জামরুল  সহ জানা গাছেদের ব্রিগেড সমাবেশ করে এই ঘন বন একসময় পরিচিত ছিল 'কয়ালের বাগান' নামে । মানুষের চাহিদা পূরণে আর নজরদারির অভাবে বাগানের আয়তন দিনদিন কম ছিল।  2004 সালের সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাত্র 17 একর বনাঞ্চলকে 'নরেন্দ্রপুর ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি ' নামে সংরক্ষিত করেন । ঠিক তার পরের বছর 2005 সালের অক্টোবরে প্রখ্যাত ভাস্কর চিন্তামণি করের নামে ' চিন্তামণি কর পক্ষী অভয়ারণ্য '  উৎসর্গ করা হয় । 


গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকলো দেখতে পাবেন মেটে বাড়ির অফিস ঘর । বনদপ্তরের এই অফিস থেকেই মেলে জঙ্গলে ভ্রমণের ছাড়পত্র । অনুমতিপত্র নিয়ে সবুজের ইশারায় হারিয়ে যাওয়ার মজাই আলাদা । জঙ্গল বুক চিরে সোজা পথ , তার থেকে ডাইনে বামে দিয়ে গেছে গাছেদের মজলিস ।  আলোছায়া এক মায়াবী পরিবেশে পাখিদের ডাকের কিচিমিচি,  প্রজাপতি আর কতরকমের কীটপতঙ্গ যে উড়ে বেড়ায় তার ঠিক নেই  । পায়ে পায়ে পায়ে চলার পথের ধারে ভেঙে পড়া গাছের কঙ্কালের আলপনাও  চোখে পড়তে পারে । চেনা জানা পাখি ছাড়াও লিনিয়েটর , শিকরা ,ক্রেস্টেড সারপেন্ট ঈগল , বুফাস ঊডপেকার , অ্যাশি ব্রোঞ্জ ড্রেথেটা , গ্রেটার র‍্যাকেট ট্রেইলড প্রজাতির পাখির বাস এখানে । আর বিভিন্ন প্রজাতীর রঙিন প্রজাপতি স্থায়ী ঠিকানা 'চিন্তামণি কর পক্ষী অভয়ারণ্য। । 


 জঙ্গল জুড়ে কাঁটাঝোপ ও মশার কামড়ের উপদ্রব ভালোই । তবে বছরের এপ্রিল মাসে বনের গভীরে দেখা যেতে পারে  গ্রিন ক্রাউন ওয়েব্লার। এটি হিমালয় রিজিয়ান পাখি। বেশ কিছু পাখী আসে শীতের দেশ থেকে কিছুদিনের জন্য। এরা দুর্লভ পাখি। চিন্তামণি করে পাখি দেখতে হলে থাকতে হবে পাখি খোঁজার চোখ। নইলে ফিরতে হবে শুধুই জঙ্গল দেখে। শুধু পাখি নয়, জঙ্গলের পরিবেশ মুহূর্তে-পাল্টে-যাওয়া , আলোর মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক অপরূপ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারবেন এই কোয়েলের বাগান থেকে। 

কিভাবে যাবেনঃ গড়িয়া-নরেন্দ্রপুর-বারুইপুর  রুটে রথতলায় নামতে হবে ।  বাস স্টপেজ থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা পথে চিন্তামণি কর অভয়ারণ্য । কামালগাছি হয়ে বারুইপুরগামী সব বাস ও প্রচুর অটো রথতলা হয়ে যায় ।  সারা বছর প্রতি দিন খোলা থাকে অভয়ারণ্য , সকাল 7 টা থেকে বিকাল 5 টা পর্যন্ত ।  পাঁচ বছর পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের প্রবেশ মূল্য লাগেনা । 


বাড়ির কাছেই - ঘুরে আসুন, চিন্তামনি কর পক্ষী অভয়ারণ্য বাড়ির কাছেই - ঘুরে আসুন, চিন্তামনি কর পক্ষী অভয়ারণ্য Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 18, 2019 Rating: 5

চরম দারিদ্রতা থেকে কীভাবে হোমিওপ্যাথীর জনক হলেন হ্যানিম্যান

February 16, 2019
স্যামুয়েল হ্যানিম্যান (১৭৫৫ - ১৮৪৩)

মাঝরাতে ঘুমটা ভেঙে গেল তার। ঘুম থেকে উঠেই বুঝতে পারলেন, পেটে খিদে চোঁ-চোঁ করছে। অথচ খাবার মতো কিছুই নেই রান্নাঘরে। কি আর করা যায়। ঢকঢক করে খানিকটা জল খেলেন তিনি। আবার ছেঁড়া কম্বল ঢাকা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলেন।
জানালায় কাচের সারশী নেই। হু-হু করে ছুটে আসছে শীতার্ত বাতাস। দূর থেকে রাতজাগা পাখির ডাক শোনা গেল। বেচারি ছটফট করতে পারেন। খিদের জ্বালায় অস্থির হয়ে ওঠেন।
আপনারা হয়ত ভাবছেন , আমি বোধহয় একটা সামাজিক গল্প লিখছি। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। যে মানুষটির কথা এতক্ষণ বলা হয়, প্রায় রাতে তিনি ঘুমোতে পারতেন না খিদের জ্বালায়। তিনি হলেন হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রের জনক স্যামুয়েল ক্রিস্টিয়ান ফ্রেডরিক হ্যানিম্যান। পথেঘাটে তার নামে নামাঙ্কিত অনেক দোকান তোমাদের চোখে পড়বে। সেখানে কাছের শিশিতে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ থরে-বিথরে সাজানো আছে। হ্যানিম্যান মানেই বিশুদ্ধ ওষুধের শেষকথা - এমনটিই মনে করেন ডাক্তারবাবুরা।
ভাবতে অবাক লাগে, যার নামে কোটি কোটি টাকার ওষুধ আজও বিক্রি হয়, জীবনটা তার কেটে গিয়েছিল নিদারুন দারিদ্রতার সঙ্গে নিরন্তর সংগ্রাম করে।
১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দের ১১ই এপ্রিল এক হতদরিদ্র পরিবারে হ্যানিম্যানের জন্ম হয়। জন্মেছিলেন তিনি জার্মানির অন্তর্গত সাক্সলি প্রদেশে।
বাবার নাম ক্রিশ্চিয়ান গটফ্রেড হ্যানিম্যান। তিনি ছিলেন এক গরিব শিল্পী। যখন যা ইচ্ছা হত তাই আঁকতেন। বেশিরভাগ দিন অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাতেন তিনি। অনেকেই বলত, 'গটফ্রেড, এঁকে কি হবে? তার থেকে বরং মুটে হয়ে যাও। রোজ দুশো টাকা আয় করতে পারবে। সংসারটা কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে যাবে। কিন্তু এভাবে ছবি আঁকলে তো পেটের খিদে পেটেই থেকে যাবে।'
এই কথা শুনে হেসে উঠতেন গটফ্রেড হ্যানিম্যান। জীবনে কখনও কোনো কিছুর সাথে আপস করেননি তিনি। এই দারিদ্র্যতা- এ তো ঈশ্বরের দান- এমনটাই বিশ্বাস করতেন তিনি। তারপর আবার নতুন উৎসাহে আবার ছবি আঁকা শুরু করতেন।
হ্যানিম্যানের ছোটবেলা কেটে গিয়েছে এই দুঃখজনক পরিস্থিতির মধ্যে। তিনি ছিলেন মা-বাবার তৃতীয় সন্তান। সুখ বা স্বচ্ছলতা কাকে বলে তা তিনি জানতেন না। 
একটি রুটি সম্বল করে খিদের জ্বালা মেটাতে হত। অর্ধেকটা খেতেন জলে ডুবিয়ে, বাকিটা নুন দিয়ে। রুটির সাথে তরকারি হলে বাড়িতে একটি উৎসবের পরিবেশ তৈরি হত।
অর্থের অভাবে ভালো স্কুলে ভর্তি হতে পারেননি তিনি। পড়তেন স্থানীয় করপোরেশন বিদ্যালয়ে - নিখরচায়। একটিমাত্র পোশাক ছিল তার। ময়লা হলেও সাবান কিনতে পারতেন না। আলু দিয়েই পোশাক পরিষ্কার করতেন।
কঠোর দারিদ্র্যতা তার প্রতিভাকে ঢেকে রাখতে পারেনি। কিভাবে তিনি জীবনে সফল হয়েছিয়েন তা জানলে আমরা অবাক হয়ে যাই ! আমরা নিজেদের ধিক্কার দেই আর ভাবি, হ্যানিম্যানের মতো মানুষ যদি জীবন যুদ্ধে জিততে পারেন, আমরা কেন পারব না? কোনোরকমে লিপিজিগ বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন হ্যানিম্যান। মনের ভেতর ইচ্ছে ছিল চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করবেন। তখনকার দিনে এই বিষয়ে পড়তে গেলে অনেক টাকার দরকার। তত্ত্বগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষা - তা নাহলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান সম্পূর্ন হয়না। বেচারি হ্যানিম্যান, কে তার দিকে বাড়িয়ে দেবে সহযোগিতার হাত?
বাবার পাঠানো সামান্য অর্থ সম্বল করে তিনি ভিয়েনাতে পড়তে গিয়েছিলেন। তখন ভিয়েনার নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কেন্দ্র বলা হচ্ছে ভিয়েনা শহরকে। সেই অপ্রতুল অর্থের ভরসায় শেষ অব্দি আর জীবনযুদ্ধে লড়তে পারেননি হ্যানিম্যান। মাঝপথেই পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল তাকে। চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছিল তাকে।
ঘুরতে ঘুরতেই তার সাথে দেখা হয়ে যায় ট্রানসিলভেনিয়ার গভর্নরের। ভদ্রলোক হ্যানিম্যানকে দেখেই বুঝেছিলেন, এই কিশোরটি আসলে ছাই চাপা আগুন। তিনি হ্যানিম্যানকে তার পরিবারের গৃহচিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ করলেন। 
এবার বোধহয় ভাগ্যের চাকা উল্টোদিকে ঘুরছে। ট্রানসিলভেনিয়ার সেই গভর্নরের বাড়িতে ছিল একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। অনেক মূল্যবান বই ছিল সেই লাইব্রেরিতে।
গভর্নর নিজেও ছিলেন শিক্ষানুরাগী। অন্যান্য প্রশাসকেরা যেমনটি হয়ে থাকেন, বিলাসী জীবনযাত্রার প্রতি সীমাহীন আগ্রহ থাকে তাদের - এই গভর্নর কিন্তু তেমন ছিলেন না।
হ্যানিম্যানের আগ্রহ লক্ষ্য করে তিনি অনুমতি দিলেন, যতক্ষন ইচ্ছে হ্যানিম্যান ওই লাইব্রেরি কক্ষে থাকতে পারেন। শুধু তাই নয়, সুবিশাল এই গ্রন্থাগারটির রক্ষনাবেক্ষনের সমস্ত দায়িত্ব হ্যানিম্যানের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ছোটো থেকেই পড়াশোনাকে ভীষণ ভালোবাসতেন হ্যানিম্যান। মূল্যবান বই কেনার পয়সা ছিল না তার। লাইব্রেরিতে সদস্য হবেন, এটাই ছিল দুরাশা। এতদিনে তার স্বপ্ন সফল হল। কিছু দিনের মধ্যেই তিনি বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রগতিশীল লেখকদের লেখার সাথে পরিচিত হয়ে উঠলেন। এমনকি গভীর অধ্যবসায়সহকারে চারটি ভাষা শিখে ফেললেন।
চিকিৎসাশাস্ত্রই ছিল তার আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। হ্যানিম্যান বিশ্বাস করতেন, এই বিদ্যা টিকে ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারলে আমরা আর্ত-নিপীড়িত মানুষের সেবা করতে পারি। কিছুদিন বাদে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। তিনি ঠিক করেছিলেন, নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করতে হবে, যা স্বল্প খরচে মনুষের রোগের উপশম করবে।
একদিন তিনি মনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলেন গভর্নর সাহেবের কাছে। হ্যানিম্যান ভেবেছিলেন, তার এই অদ্ভুদ ইচ্ছের কথা শুনে গভর্নর হয়তো রেগে যাবেন, হয়তো তাকে কাজ থেকে বরখাস্ত করবেন। কিন্তু শেষ অব্দি সেসব কিছুই হয়নি। বরং বিদ্যানুরাগী গভর্নর হ্যানিম্যানকে উৎসাহিত করলেন। যাতে তার প্রতিভা ঠিক মতো বিকশিত হতে পারে।
ধীরে ধীরে হ্যানিম্যানের সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানিত ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। এভাবেই তার প্রতিভাকে স্বীকার করে নেওয়া হয়। 
সারাজীবন ধরে হ্যানিম্যান নানা গবেষণা করে গেছেন। তার সবথেকে বড়ো কৃতিত্ব ' হোমিওপ্যাথি' নামে একটি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবন করা। অনেকে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ ঠিক মতো নিতে পারেন না। তাদের শরীরে নানা উপসর্গ দেখা যায়। এতদিন বাধ্য হয়ে তারা অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাকে গ্রহণ করতে বাধ্য হত। হ্যানিম্যানের আবিষ্কার তাদের নতুন পথের সন্ধান দিল।
হ্যানিম্যান তাদের বোঝালেন, দেহমনের অভ্যন্তরীন বৈকল্যই হল ব্যাধি। রোগের মূল ধরে চিকিৎসা করলে তবেই তার নিরাময় সম্ভব। হোমিওপ্যাথি সেই বিশৃঙ্খলাই সারিয়ে তোলে। তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে এসো। আমি তোমাদের রোগ সারিয়ে দেব। অথচ এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবে না।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অল্পদিনের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শেষ জীবনে হ্যানিম্যান নিজেও একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। জীবদ্দশাতেই তিনি দেখেছিলেন, হোমিওপ্যাথির অসাধারন জনপ্রিয়তা।
শেষ অব্দি ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দের ২রা জুলাই অষ্টআশি বছর বয়সে হ্যানিম্যান হয়ে গেলেন দূর আকাশের তারা। আজও তার প্রবর্তিত চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের মধ্যে সমান উৎসাহের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে। দুঃস্থ আতুর ব্যক্তিদের মধ্যে এই পদ্ধতি যাতে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সেজন্য সরকারি তরফে কিছু ইতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবেই হ্যানিম্যানের আবিষ্কারের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান জানানো হবে।
চরম দারিদ্রতা থেকে কীভাবে হোমিওপ্যাথীর জনক হলেন হ্যানিম্যান চরম দারিদ্রতা থেকে কীভাবে হোমিওপ্যাথীর জনক হলেন  হ্যানিম্যান Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 16, 2019 Rating: 5

মাসে ৩৫ নয় ১৬ টাকাতেই পাবেন ২৮ দিন ভালিডিটি কীভাবে করবেন জেনে নিন

February 13, 2019

সম্প্রতি জিও বাদে ভারতের সমস্ত টেলিকম কোম্পানির গ্রাহক-প্রতি গড় আয় কমেছে অনেকটাই । এর অন্যতম কারন , গ্রাহকের প্রায় প্রত্যেকেই ডুয়াল সিম ব্যবহার করেন । একটি সিম রিচার্জ করালেও বেশিরভাগ গ্রাহক ২য় সিম দীর্ঘদিন রিচার্জ না করেই ইনকামিং কলের সুবিধা নেন। এর ফলেই কোম্পানিরই গ্রাহক প্রতি আয় কমেছে। সেই আয়ে জোয়ার আনতে এয়ারটেল প্রথমে এনেছিল ৩৫ টাকার রিচার্জ প্ল্যান , তারপর আনলো নতুন ২৩ টাকার প্ল্যান । এয়ারটেল প্রিপেড গ্রাহকরা ২৩ টাকা রিচার্জে ২৮ দিন ভ্যালিডিটি পাবেন। তবে এই প্ল্যানে কোন টকটাইম বা ডাটা পাওয়া যায় না। শুধুই ভ্যালিডিটি মিলবে এই রিচার্জে। এর পরে কল ও ডাটা ব্যবহারের জন্য আলাদা করে রিচার্জ করতে হয় । ২৩ টাকা রিচার্জ করলে লোকাল ও ন্যাশানাল কল করতে প্রতি সেকেন্ডে খরচ হবে ২.৫ পয়সা। লোকাল এসএমএস করতে ১ টাকা ও ন্যাশানাল এসএমএস করতে খরচ হবে ১.৫ টাকা। তবে বেশিরভাগ গ্রাহক শুধুমাত্র সিম-টিকে চালু রাখতে চান । কল ও মেসেজ করার জন্য সবারই একটি মেইন সিম থাকে । দ্বিতীয় সিমটি চালু রাখতে অন্তত ২৩ টাকা রিচার্জ করতেই হয় ।  
এই সমস্যা সমাধানে আমাদের টিম একটি পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছে যাতে আপনি মাত্র ১৬ টাকার বিনিময়ে সারা মাস ফোনে ইনকামিং চালু রাখতে পারবেন । কীভাবে করবেন স্টেপ বাই স্টেপ শিখে নিন । 
আপনারা জানেন এয়ারটেল ২৩ টাকা রিচার্জ প্ল্যানের আগে জানিয়েছিল সবাইকে ৩৫ টাকা বাধ্যতামূলক রিচার্জ  করাতে হবে । এই ৩৫ টাকা রিচার্জে এয়ারটেল দেয় ২৬.৬০ টাকা টকটাইম ও ১০০ মেগবাইট ইন্টারনেট ডেটা । এছাড়াও কল চার্জ ১পয়সা/সেকেন্ড ।
প্রথমে আপনাকে আপনার সিমে এই ৩৫ টাকা রিচার্জ করাতে হবে । ৩৫ টাকা রিচার্জ করানোর ফলে আপনি ১ মাস ভ্যালিডিটি পাবেন । নির্দিষ্ট সিমটি থেকে যদি কল করার দরকার না পড়ে তাহলে আপনার ২৬.৬০ টাকা টকটাইম বেঁচে থাকবে । মাস ( ২৮ দিন ) শেষ হলে আপনি নতুন করে রিচার্জ করাবেন না । এর ফলে কোম্পানী হয়ত এক/ দুইদিন আপনাকে কল করবে রিচার্জ করানোর জন্য । আপনি রিচার্জ না করালে মেন ব্যালান্স অর্থাৎ ২৬.৬০ টাকা থেকে ২৩ টাকা কেটে নিয়ে পরবর্তী ২৮ দিনের ভ্যালিডিটি বাড়িয়ে দেবে । তাহলে ৩৫ টাকা রিচার্জ করে আপনার ২ মাস ভ্যালিডিটি পাওয়া হয়ে গেল । খরচ হল ১৭ টাকা ৫০ পয়সা / প্রতি মাস । এছাড়াও মেন ব্যালেন্সে ৩.৬০ টাকা বাকি থেকে যাবে যা জমতে থাকবে । দুই মাস শেষ হলে আবার একবার ৩৫ টাকা রিচার্জ করাবেন । একই সূত্রে  আবার দুই মাস ভ্যালিডিটি পাবেন আর ৩.৬০ টাকা জমতে জমতে সপ্তম মাসে তা ২৫.২০ টাকা হয়ে যাবে , তখন এই টাকা দিয়ে একমাসের ভ্যালিডিটি  বাড়িয়ে নিতে পারবেন ।
অপারেটারদের বছর তো ১৩ মাসে হয় । কারন  রিচার্জের ভ্যালিডিটি ২৮ দিন করে । এবং ২৮x১৩= ৩৬৪ দিন। তাহলে ১৩ মাসের এই বছরে মাত্র ৬ বার আপনি ৩৫ টাকা রিচার্জ করালে ১২ মাসের ভ্যালিডিটি পেয়ে যাচ্ছেন , সাথে অল্প অল্প করে টাকা জমে একমাস ফ্রী হয়ে যাবে অর্থাৎ ১৩ মাসে মাত্র ৬ বার রিচার্জ । সারা বছরে মোট রিচার্জ এর পরিমান দাড়ালো ২১০ টাকা । অর্থাৎ মাসে গড়ে ১৬ টাকা ১৫ পয়সা খরচ । 
আপনি যদি উক্ত সিম থেকে কল বা মেসেজ না করেন তবেই এই ফর্মুলা কাজে লাগবে । 
পদ্ধতিটি ভালো লাগলে এই তথ্যটি শেয়ার করুন । অনেক মানুষ নিশ্চিতভাবে উপকৃত হবেন । নীচের Whatsapp / Facebook  আইকনে ক্লিক করে শেয়ার করতে পারেন । 

মাসে ৩৫ নয় ১৬ টাকাতেই পাবেন ২৮ দিন ভালিডিটি কীভাবে করবেন জেনে নিন মাসে ৩৫ নয় ১৬ টাকাতেই পাবেন ২৮ দিন ভালিডিটি কীভাবে করবেন জেনে নিন  Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 13, 2019 Rating: 5

মুদি দোকানদারের ' কাঁদুনে ' ছেলেই হয়ে উঠল জগতসেরা বিজ্ঞানী - মেঘনাদ সাহা

February 12, 2019
মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩ খ্রি. - ১৯৫৬ খ্রি.)


বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জেলার একটি গ্রাম। ঢাকা শহর থেকে গ্রামটির দূরত্ব প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার। দক্ষিণ থেকে উত্তরে আঁকাবাঁকা পথে এগিয়ে গেছে এক ছোট্ট নদী। তার ধার ঘেঁষে গ্রামটি গড়ে উঠেছে।
বর্ষার সময় দুকূল প্লাবিত হয়। জলমগ্ন হয় পথঘাট। তখন নৌকো চেপে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয়। গ্রামটির নাম শেওড়াতলি। আজ থেকে ১১২ বছর আগে এই গ্রামে জন্মেছিলেন মেঘনাদ সাহা। তাঁর জন্মতারিখটি হল ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ৬ই অক্টোবর। তাঁদের বাবার নাম জগন্নাথ সাহা ও মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। পাঁচ কন্যা ও তিন পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম সন্তান। পুত্রদের মধ্যে তৃতীয়।
অশ্বিনের এক ঝড়ের রাতে মেঘনাদের জন্ম হয়েছিল। ঝরজঞ্ঝার মধ্যে জন্ম বলে ঠাকুমা বরুন দেবতাকে স্মরণ করে নাতির নামকরণ করেছিলেন 'মেঘনাদ'। পরবর্তীকালে মেঘনাদ নিজের নামের শেষ অক্ষরটি পাল্টে ছিলেন। সম্ভবত মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত 'মেঘনাদবধ' কাব্য তাঁকে প্রভাবিত করে থাকবে।
জগন্নাথের ছিল মুদির দোকান। দোকানের আয় থেকে এত বড় পরিবারটি সচ্ছলভাবে চলত না। জগন্নাথ ও তাঁর স্ত্রী ভুবনেশ্বরী দেবী উভয়ই ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী। ছেলেমেয়েদের বড়ো করে তোলায় তাঁদের ত্যাগ ছিল অসামান্য।
জগন্নাথ ছিলেন রুক্ষ মেজাজের মানুষ। তুলনায় মা ছিলেন শান্ত, স্থির এবং বুদ্ধিমতী। দারিদ্র্যের সঙ্গে তাঁকে নিরন্তর সংগ্রাম করতে হত। তবুও তাঁর সুনিপুন গৃহিনীপনায় মাটির বাড়িটিতে ছিল শ্রী এবং সুললিত শান্তি।
মায়ের সঙ্গে মেঘনাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। মায়ের বাক্য তিনি বেদবাক্য হিসেবে মানতেন। ছোটবেলায় কোনো একটি কারণে মা তাঁকে পূর্বদিকের জানালাটি খুলে রেখে শুতে বারন করেছিলেন। সেই নিষেধাঞ্জাটি তিনি সারাজীবন মনে রেখেছিলেন। যুক্তিবাদী মানুষদের এই সারল্য লক্ষ্য করার মতো।
মেঘনাদ ছিলেন সুস্থ সবল শিশু। ছোটবেলায় তিনি পাল্লা দিয়ে সাঁতার কাটাতেন, নৌকা চালাতেন, যখন-তখন বন্ধুদের সঙ্গে হই-হুল্লোড়ে মেতে উঠতেন।
সেখানকার পরিবেশ শিক্ষার অনুকূল ছিল না। জগন্নাথ তাঁর বড়ো ছেলে জয়নাথকে ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বড়ো ছেলে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। তাই জগন্নাথ ভেবেছিলেন অন্য ছেলেদের আর লেখাপড়া শেখাবেন না। বড়ো হলেই তাদের মুদিখানায় বসিয়ে দেবেন। 
সেইমতো বর্ণপরিচয় এর পাঠ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘনাদকে দোকানে বসতে হয়েছিল। এছাড়া তিনদিন তাঁকে বিভিন্ন বাজারে জিনিসপত্র বিক্রি করতে যেতে হত। বাবাও সঙ্গে থাকতেন। মাথায় ছাতা, সঙ্গে খাবারদাবার, হাতে বই নিয়ে মেঘনাদ চলছেন দোকান দেখতে, এই ছিল শেওরাতলি গ্রামের অতি পরিচিত দৃশ্য।
তাসত্ত্বেও সাত বছর বয়সে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন মেঘনাদ। সেখানকার শিক্ষকদের মধ্যে শশীভূষণ চক্রবর্তী এবং যতীন চক্রবর্তীর নাম করা যায়। তাঁরা মেঘনাদের অসাধারন স্মৃতিশক্তি এবং মেধার পরিচয় পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ! মেঘনাদ সব বিষয়ে তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করতেন। যা শিখতেন তা ভুলতেন না। যাতে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন সে-বিষয়ে শিক্ষকদের বিশেষ আগ্রহ ছিল।
খুব ভোরে উঠে মেঘনাদ পড়তে বসতেন। শৈশবের এই অভ্যাস পরিনত বয়স পর্যন্ত বজায় রেখেছিলেন তিনি। যদি কোনোদিন ঘুম ভাঙতে দেরি হত তাহলে মায়ের আঁচল ধরে কাঁদতে বসতেন। স্লেট, পেন্সিল বা বই না পেলেও একই অবস্থা। আঞ্চলিক ভাষায় তাই মেঘনাদকে 'কাঁদুনে' বলে ডাকা হত।
প্রাইমারি স্কুলের পড়া শেষ হয়ে গেল। শিক্ষকেরা এলেন তাঁর বাবার কাছে। মেঘনাদকে হাইস্কুলে ভর্তি করতে হবে। শেওরাতলি গ্রামে হাইস্কুলের ব্যবস্থা নেই। এদিকে দূরে কোথাও ছেলেকে রেখে পড়াবার মতো আর্থিক সঙ্গতি ছিল না বাবা জগন্নাথের। শেষ অবধি বড়দা জয়নাথ এগিয়ে এলেন। তিনি বাবাকে রাজি করলেন।
সেসময় ঢাকা জেলার দক্ষিণ দিকে উচ্চশিক্ষার ইংরাজি বিদ্যালয় ছিল। শিমুলিয়াতে ছিল একটি মিডল ইংরাজি বিদ্যালয়। সেখানেই মেঘনাদকে ভর্তি করা হল। থাকতেন তিনি এক ডাক্তারের বাড়িতে। বিনা ব্যয়ে খাওয়াদাওয়া জুটত। অবশ্য শর্ত ছিল এরজন্য তাঁকে গৃহকর্মে সাহায্য করতে হবে।
শুরু হল মেঘনাদের কঠিন কঠোর জীবনযাত্রা। স্কুল থেকে ফিরে এসে অনেক কাজ করতে হত তাঁকে। এঁটো বাসন মাজতে হত, ঘর পরিষ্কার করতে হত। তবুও কেউ তাঁকে সংকল্প থেকে টলাতে পারেনি।
পরবর্তীকালে তিনি বার বার সেই দিনগুলোর কথা মনে করছেন। তিনি বলেছেন 'ছাত্রজীবনের সূচনায় এই সাহায্য না পেলে তিনি কখনোই বড়ো বিজ্ঞানী হতে পারতেন না।'
শিমুলিয়াতে শ্যামাপ্রসাদ মিডল হাইস্কুলে পড়তেন মেঘনাদ। এখানে তিনি কয়েকজন আদর্শ শিক্ষকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে গণিত শিক্ষক প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তীর নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
সপ্তাহের শেষে সাত মাইল পথ হেঁটে বাড়িতে যেতেন। এই অভ্যাস তিনি জীবনের শেষদিন অব্দি বজায় রেখেছিলেন।
ঢাকা জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম বৃত্তিসহ মিডল স্কুল থেকে পাশ করলেন - ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে। ভর্তি হলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে। বৃত্তির পরিমান ছিল মাসে চার টাকা। এছাড়া দাদা দিতেন পাঁচ টাকা এবং ঢাকার বৈশ্য সমিতি দিত দুটাকা। এই এগারো টাকা দিয়ে তাঁকে সারা মাসের থেকে ও খাওয়া চালাতো হত।
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এসে মেঘনাদ বৃহত্তর পটভূমির মধ্যে পড়লেন। নানা ধরনের বিদগধ মানুষের সংস্পর্শে এলেন। এখানে সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিতের অধ্যাপক নিখিলরঞ্জন সেনকে।
যে বছর তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন সে বছরই কার্জনের নির্দেশে বাংলাদেশকে দ্বিখন্ডিত করা হয়। বঙ্গভঙ্গের এই নির্দেশে বাংলাদেশকে দ্বিখন্ডিত করা হয়। বঙ্গভঙ্গের এই নির্দেশের প্রতিবাদে সারা দেশে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল। দেখতে দেখতে শিমুলিয়ার মতো সুদূর গ্রামাঞ্চলেও সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ল।
একদিন ছোটলাট ফুলার এলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে। ছেলেরা ঠিক করেছিলেন তাঁরা ক্লাস বয়কট করবেন। মেঘনাদও এই আন্দোলনে সামিল হলেন। অবশ্য এই বয়কটের ফল ভালো হয়নি। তাঁকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা হল। স্কলারশিপও বন্ধ হয়ে গেল।
এবার তিনি ভর্তি হলেন কিশোরীলাল জুবিলি স্কুলে। এটি একটি প্রাইভেট স্কুল। এরই পাশাপাশি তিনি ঢাকায় ব্যাপটিস্ট মিশনের বাইবেল ক্লাসে যোগ দিয়েছিলেন। সারা বাংলার সমস্ত শ্রেণীর ছাত্রদের মধ্যে সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তিনি প্রথম হলেন। পুরস্কার স্বরূপ, একটা বড়ো আকারের মুদ্রিত বাইবেল পেলেন। পেলেন নগদ একশো টাকা পুরস্কার।
ছুটি পেলেই তিনি চলে আসতেন গ্রামের বাড়িতে। সহজ গ্রাম্যজীবন এবং গ্রাম্য পরিবেশের মধ্যেই তাঁর শৈশব এবং কৈশোরের দিনগুলি কেটে যায়। বাড়িতে এসে হা-ডু-ডু খেলতেন, নৌকা বাইতেন, সাঁতারে গা ভাসিয়ে সময় কাটাতেন। গৃহস্থালির কাজে সাহায্য করতেন জগন্নাথকে। বাড়ির গোরুগুলিকে মাঠে চড়ানো এবং নদীতে স্নান করানোর কাজে বাবার সঙ্গে থাকতেন। সন্ধ্যের পর ছোটো ভাইদের পড়াতেন।
১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি পূর্ববঙ্গের সমস্ত স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে প্রথম হয়ে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। গণিত, ইংরাজি, বাংলা ও সংস্কৃতে মিলিতভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। স্কুল জীবনে প্রবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত তাঁর ওপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর অসাধারন ব্যুৎপত্তি ছিল। পঞ্জিকা এবং গণিত শাস্ত্রেও তিনি ছিলেন পারদর্শী।
স্কুলে মেঘনাদের ভালো লাগত গণিত এবং ইতিহাস। উৎসাহের সঙ্গে পড়তেন টডের রাজস্থানের কাহিনী। রাজপুত ও মারাঠা যোদ্ধাদের ইতিহাসও তাঁকে বার বার উদবুদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কথা ও কাহিনী' এবং মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' ছিল তাঁর প্রিয় গ্রন্থ।
ভারতীয় যোদ্ধাদের ভুমিকাতেও তিনি অনুপ্রাণিত হতেন, একাত্মবোধ করতেন এইসব আদর্শ চরিত্রের সঙ্গে।
স্কুলের পাঠ শেষ করে তিনি এলেন ঢাকা কলেজে। ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হলেন। তখন রসায়ন পড়াতেন অধ্যাপক ই. সি. ওয়াটসন সাহেব। ইংরাজি পড়াতেন অধ্যক্ষ ডব্লু জি. এ. আর্চপল, পদার্থবিদ্যায় ছিলেন বি এন দাস, গণিতে নরেশচন্দ্র বোস এবং কে পি বোস। এছাড়া মেঘনাদ জার্মান ভাষা শিক্ষা নিতেন অধ্যাপক নরেন্দ্রনাথ সেনের কাছে। এটি ছিল তাঁর অ্যাডিশনাল সাবজেক্ট বা চতুর্থ বিষয়।
ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার আগে মেঘনাদ ভয়ানক বিপদে পড়েছিলেন। ফি-র জন্য যে টাকা জোগাড় করেছিলেন, টেস্ট পরীক্ষার আগে সেই টাকা বালিশের তলা থেকে চুরি হয়ে যায়। পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসছে, ফি কি করে জমা দেবেন? শেষ অবধি মায়ের অবশিষ্ট সোনার গয়না বন্ধক দিয়ে মেঘনাদের পরীক্ষার ফি সংগৃহিত হয়। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষাতে তিনি তৃতীয় হয়েছিলেন। জার্মান ভাষায় আশানুরূপ ফল না হওয়াতে তিনি প্রথম হতে পারেননি। তবে এই ভাষা শিক্ষা ভবিষ্যৎ জীবনে তাঁর কাজে এসেছিল।
রসায়ন এবং অঙ্কে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। এবার তাঁকে ডাক দিয়েছে মহানগরী কলকাতা। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে তিনি গণিতে অনার্স নিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে বি এস সি ক্লাসে ভর্তি হলেন। এর সঙ্গে ছিল পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন। বৃত্তির টাকাই তখন তাঁর একমাত্র সম্বল ছিল। আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য একেবারেই ছিল না। এভাবেই তাঁর ছাত্রজীবন অতিবাহিত হয়।
প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি যে অধ্যাপকমন্ডলী পেয়েছিলেন তা তাঁকে উদ্দীপ্ত করেছিল। পেয়েছিলেন একাধিক কৃতী ছাত্রকে সহপাঠী হিসেবে। পরিচয় হয়েছিল অনেকের সঙ্গে। ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও অন্যান্যরা।
প্রেসিডেন্সিতে পদার্থবিদ্যা পড়াতেন অধ্যাপক জগদীশচন্দ্র বসু, রসায়নে প্রফুল্লচন্দ্র রায়, গণিতে অধ্যাপক ডি এন মল্লিক এবং সি ভি কালিশ।
পড়াশোনাতে পাশাপাশি সামাজিক কাজেও মেঘনাদ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে দামোদরে প্রবল বন্যা হয়েছিল। প্রফুল্লচন্দ্র তাঁর ছাত্রদের নিয়ে ত্রাণকার্য শুরু করলেন। এই প্রথম বন্যার ক্ষয়ক্ষতি চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করলেন মেঘনাদ। তিনি বহুদিন গ্রামে থেকে বন্যার্তদের সাহায্য করেছিলেন।
প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হবার পর তিনি দুবছর হিন্দু হোস্টেলে কাটিয়েছিলেন। এরপর মেসে চলে আসেন। ১৯১৩ সালে তিনি প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেন। প্রথম হয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ।
এরপর ফলিত গণিতে এম এস সি ক্লাসে ভর্তি হলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। সেই পরীক্ষাতেও সত্যেন্দ্রনাথ প্রথম হন, তিনি হলেন দ্বিতীয়।
এবার তাকে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে হবে। একসময় ভেবেছিলেন ভারতীয় ফাইন্যান্সের পরীক্ষায় বসবেন। কিন্তু এই পরীক্ষায় বসার অনুমতি তিনি পেলেন না। বলা হল, তাঁর সঙ্গে বিপ্লবীদের যোগাযোগ আছে। তাই তাকে এই উঁচু পদে কখনোই বসানো যাবে না।
হয়তো ভালোই হল, তা নাহলে আমরা এক দক্ষ প্রশাসক মেঘনাদকে পেতাম, বিজ্ঞানী মেঘনাদ কোথায় হারিয়ে যেতেন।
এর পরে পরেই আমরা অধ্যাপক হিসেবে মেঘনাদকে দেখতে পেলাম। তখন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। মেঘনাদ যোগ দিলেন সেখানে। শুরু হল বৃহত্তর অঙ্গনে তার উৎসাহী পদক্ষেপ।
এই হলেন মেঘনাদ সাহা। সারা জীবন তিনি বিজ্ঞানসাধক হিসেবেই কাটিয়ে দিলেন। বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণা করেছেন। গবেষণা করেছেন জাতীয় সময় পঞ্জিকা নিয়ে। নদীকেন্দ্রিক ভারতবর্ষের চেহারা কেমন হবে তা নির্ধারিত করেছেন। শেষ অব্দি রাজনীতির আবর্তে জড়িয়ে পড়েন। সংসদ হয়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন লোকসভাতে। তার ভাষণ শুনে বিরোধী পক্ষের লোকেরা অবাক হয়ে যেতেন।
পদার্থ বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা সমীকরণ নামে একটি মূল্যবান সূত্র আবিষ্কার করেন। এই সূত্র থেকে বিভিন্ন চাপে এবং উষ্ণতায় কোনো পদার্থের আয়তনের মাত্রা কত হবে সেটা জানা যায়। তার রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ' দি প্রিন্সিপাল অব রিলেটিভিটি', 'ত্রিটাইজ অন মর্ডান ফিজিক্স', 'জুনিয়র টেক্সট বুক অব হিট উইথ মেটিওরোলজি'।
১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ১৬ই ফেব্রুয়ারি তারিখে দিল্লিতে প্ল্যানিং কমিশনের সভায় যোগদান করতে যাওয়ার সময় এই মহান বিজ্ঞানীর আকস্মিক জীবনাপাত হয়।



ভালো জিনিস শেয়ার করে খুব কম লোক , বাঙালীর গর্ব মেঘনাদ সাহা । তাঁর জীবনী শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন । 
মুদি দোকানদারের ' কাঁদুনে ' ছেলেই হয়ে উঠল জগতসেরা বিজ্ঞানী - মেঘনাদ সাহা মুদি দোকানদারের ' কাঁদুনে ' ছেলেই হয়ে উঠল জগতসেরা বিজ্ঞানী - মেঘনাদ সাহা Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 12, 2019 Rating: 5

কীভাবে Meesho অ্যাপ থেকে মাসে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন ভারতীয় গৃহবধূরা ?

February 01, 2019
অনলাইন শপিং বিসনেসে এক্কেবারে নতুন একধরনের স্টাইল এনে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপকার করছে Meesho অ্যাপ । অফটাইমে সামান্য সময় দিয়ে প্রোডাক্ট রিসেল এর এত সহজ পদ্ধতি আগে কোনো অ্যাপে দেখা যায়নি । আসুন জেনে নি কীভাবে ভারতীয় গৃহবধূ ও কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা সামান্য সময় দিয়ে হাত খরচের থেকেও বেশি টাকা আয় করে নিতে সমর্থ হয়েছে । 

Meesho- অ্যাপ কি ? 
Meesho এমন একটি অ্যাপ যেখানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যাবসায়ীরা তাদের তৈরি করা প্রোডাক্ট রিটেল প্রাইসে আপলোড করে দিচ্ছে । কোনো মডেলকে দিয়ে ছবি তোলালে খরচ বাড়ে বলে মডেল ছাড়া , জামা কাপড় , জুতো , গয়না - এমন বহু প্রোডাক্টের ছবি তুলে মিনিমাম লাভ রেখে একটা দাম ঠিক করে অনলাইনে Meesho অ্যাপে আপলোড করছেন সেলার রা । 

Meesho অ্যাপে আমরা কীভাবে আয় করবো ? 
- আমরা যারা দিনের অনেকটা সময় ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে সময় কাটাই তাদের জন্য Meesho দুর্দান্ত একটা সিস্টেম তৈরি করেছে । Meesho অ্যাপের যেকোনো প্রোডাক্ট আপনি নিজের পরিচিত সার্কেলে বেচতে পারেন Meesho-এর ব্র্যান্ডিং ছাড়াই । প্রতিটা বিক্রির উপর আপনি নিজের ইচ্ছামত কমিশন ঠিক করে নিতে পারবেন । আপনি ছবি দেখিয়ে প্রোডাক্ট বিক্রি করলে , সেই প্রোডাক্ট সঠিক জায়গায় পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে  Meesho অ্যাপ ।  সেই প্রোডাক্ট বিক্রি করার সময় বিল করা হবে ক্রেতার নামে এবং বিলে দেওয়া থাকবে আপনার ধার্য করা দাম এবং বিক্রেতার জায়গায় দেওয়া থাকবে আপনার ঠিক করে দেওয়া নাম । ঠিক যেন আপনার দোকান থেকেই আপনি পাঠিয়েছেন প্রোডাক্টটি  । [ বিস্তারিত টিউটোরিয়াল নীচে দেওয়া হল ] 

Meesho অ্যাপ টা কি লিগাল ? 
Meesho অ্যাপের প্রতিটি প্রোডাক্ট সেল হবে জিএসটি বিলের মাধ্যমে । আপনি তাদের জন্য কাস্টমার খুঁজে দেবেন আর তার বদলে আপনি বিক্রি প্রতি কমিশন পাবেন । সম্পূর্ণটা লিগাল এবং আপনার বাৎসরিক আয় সীমা পার করলে আপনাকে ট্যাক্স দিতে হবে । 

একবার বিক্রি করার পর লোকে জেনে যাবে Meesho অ্যাপ থেকে বিক্রি করেছি , তখন নিজেই কিনে নেবে না ? 
Meesho তাদের বিল বা প্রোডাক্টের প্যাকেটে Meesho-ব্র্যান্ডিং রাখবে না , আপনার নাম / আপনার দোকানের নাম লেখা থাকবে । ক্রেতা জানতে পারবে না সে Meesho থেকে কিনেছে । 

Meesho-তে কতগুলো প্রোডাক্ট আছে ? কোনগুলো বেচতে পারবো ?
Meeshoতে লক্ষাধিক প্রোডাক্ট আছে , যে কোনো প্রোডাক্ট আপনি বেচতে পারবেন । 



Meesho-অ্যাপ কীভাবে টাকা আয় করছে ? 
Meesho অ্যাপ সেলার দের কাছ থেকে প্রোডাক্ট লিস্টিং করার জন্য কোনো টাকা নিচ্ছে না । কোনো প্রোডাক্ট বিক্রি হলে একটা মিনিমাম টাকা সেল প্রতি নিয়ে নিচ্ছে Meesho । এতেই অনেক টাকা দৈনিক আয় করছে সংস্থা  । 

কোনো প্রোডাক্ট বিক্রিতে কত টাকা লাভ হবে ?
- সেটা আপনার উপর নির্ভর করছে , Meesho অ্যাপ কোনো প্রোডাক্টের যে দাম দেখাচ্ছে সেটা Meesho-নিয়ে নেবে । এর উপরে আপনি যত ইচ্ছা বাড়িয়ে দাম ধার্য করতে পারেন । কিন্তু বুঝে শুনে করতে হবে । 

কাদের কাছে বিক্রি করবো ?
- আপনার বন্ধু , আত্মীয় , বন্ধুর বন্ধু , আত্মীয়ের আত্মীয় , ফেসবুক ফ্রেন্ড - এরা সবাই আপনার পোটেনশিয়াল কাস্টমার । যে কোনো প্রোডাক্টের ছবি এনাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন । 

পদ্ধতিটা কি একটু শিখিয়ে দিন - 

স্টেপ ১ঃ প্রথমে এখানে ক্লিক করে Meesho অ্যাপ ডাউনলোড করে নিন । এরপর ফোন নাম্বার দিয়ে রেজিস্টার করে নেবেন 
স্টেপ ২ ঃ অনেক প্রোডাক্টের মধ্যে ভালো রিভিউ আছে এমন প্রোডাক্ট পছন্দ করুন । দেখে নেবেন দাম কত ও শিপিং চার্জ আছে কিনা । 


যেমন ধরুন আমি এই কুর্তি-প্লাজোর সেটটি বিক্রি করবো ঠিক করেছি । দাম ১১২০ টাকা , শিপিং ফ্রী । এখন আমি এটা শেয়ার করলাম হোয়াটসঅ্যাপএর মাধ্যমে । শুধু ছবি শেয়ার হবে । ১০০ জন ফেসবুক ফ্রেন্ডের সাথে শেয়ার করলে ২/৩ জন দাম জানতে চাইবে । ধরুন আমি লিখলাম ১৩০০ টাকা । ৩ জনের মধ্যে একজন কিনতে চাইলো । তাহলে আপনি তার ফোন নাম্বার , ঠিকানা , এবং কোন সাইজের লাগবে সেটা জেনে নিলেন । এবার Meesho অ্যাপে এসে অর্ডার দেওয়ার পালা । 


স্টেপ ৩ ঃ ক্রেতার পছন্দের প্রোডাক্টটি " Add to Cart " করতে হবে । এরপর  সাইজ ও কোয়ান্টিটী দিয়ে " Done "   করুন । 


স্টেপ ৪ ঃ ক্যাশ অন ডেলিভারী মেথড সিলেক্ট করুন । এর ফলে আপনার টাকা লস হওয়ার সম্ভাবনা নেই । ক্রেতা প্রোডাক্টটি না নিলেও আপনার কোনো ক্ষতি নেই । 

স্টেপ ৫ ঃ  " PROCEED " এ ক্লিক করুন 


স্টেপ ৬ ঃ কার ঠিকানায় ডেলিভারী হবে সেটা সিলেক্ট করুন 

উদাহরন হিসাবে এটা দিয়েছি >>  " PROCEED " এ ক্লিক করুন 


স্টেপ ৭ ঃ বিক্রেতা হিসাবে কার নাম হবে সেটা সিলেক্ট করুন , এটাই বিলে ছাপা হবে । 

 " PROCEED " এ ক্লিক করুন 


ফাইনালি সিলেক্ট করুন কত টাকায় বেচতে চাইছেন । আপনার লাভ কত সেটা দেখিয়ে দেবে অ্যাপ । ৭ থেকে ১০ দিনের ভিতর প্রোডাক্টটি ডেলিভারড হয়ে গেলে আপনার কমিশন আপনার ব্যাঙ্ক আকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে মিশো । 



আপনার যদি ১ হাজার অনলাইন ফ্রেন্ড থাকে এবং দিনে মাত্র ৪ টি করে প্রোডাক্ট বেচতে পারেন তাহলে অনায়াসে মাসে ১৬০০০ - ২০০০০ টাকা আয় করা যায় । আর প্রতি সপ্তাহে সেল-এর উপর থাকে মিসোর তরফ থেকে নগদ পুরষ্কার । এছাড়াও মিসো থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অফার থাকে । যেমন আমাদের ওয়েবসাইটের পাঠকদের জন্য  অফার ঃ 
আপনাদের প্রথম কেনাকাটায় পাবেন ১৫০ টাকা ছাড়  । 
 ডাউনলোড করতে এই লিঙ্ক বা নীচের ছবিতে বা উপরের যেকোনো লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন । 




কোনো সমস্যা হলে বা কোনো জায়গায় বুঝতে না পারলে কমেন্ট করে জানান আমরা অবশ্যই হেল্প করবো । 




হয়তো এই লেখাটি থেকে MEESO বিজেনেস শিখে কেউ তার দারিদ্র কাটিয়ে উঠতে পারে , তাই খুব সমস্যা না হলে একবার শেয়ার করবেন প্লীজ ।

কীভাবে Meesho অ্যাপ থেকে মাসে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন ভারতীয় গৃহবধূরা ? কীভাবে Meesho অ্যাপ থেকে মাসে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন ভারতীয় গৃহবধূরা ? Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 01, 2019 Rating: 5

ঘুরে আসুন, সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর ভারতের এই পার্বত্য অঞ্চলে

January 22, 2019
উত্তরাখন্ডের কৌশানি , আলমোড়া থেকে ৫২ কিমি উত্তরে ৬২০০ ফুট উচ্চতায় পাইনে ছাওয়া অপরূপ কৌশানি। মহাত্মা গান্ধী এখানকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর এই কৌশানি। ধুলো-ধোঁয়ার শহুরে জীবন থেকে পালিয়ে নির্মল প্রকৃতির কোলে কয়েকের মুক্তির আস্বাদ পেতে আদর্শ স্থান এই কৌশানি। পাইন গাছের ফাঁকে ফাঁকে চোখে পড়ে হিমালয়ের রুপালি রেখা। আবহাওয়া ভাল থাকলে, মেঘমুক্ত দিনে দেখা যায় প্রায় ৩০০ কিমি ব্যপ্ত হিমালয়ের তুষারাবৃত পর্বতমালার অপরূপ শোভা। চৌখাম্বা-নীলকণ্ঠ-নন্দাঘুস্টি-নন্দাদেবী-ত্রীশুল-নন্দাকোট-পঞ্চচুল্লি প্রভৃতি শৃঙ্গের মাথায় সূর্যের আলোয় প্রতিফলিত হয় বিচিত্র আভা। ভোরের সূর্যদয়ের চেয়ে কৌশানির সূর্যাস্তের সৌন্দর্য অতুলনীয়। দিনান্তের শেষে আলোর আভায় সৃষ্টি হয় আক মায়াময় জগৎ । সূর্যাস্তের মুহূর্তে শুরু হয় রঙের খেলা। একেক রঙের আবরণ রাঙিয়ে দিয়ে যায় সমস্ত পর্বতমালা---সোনালী থেকে কমলা, তার থেকে নীলাভ। সবশেষে যেন সোনা ঝরা রঙ। মনে হয় কে যেন শাঁকের প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজা করছে পরমা প্রকৃতির। তারপর অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যায় সব কিছু। এখানে বেড়াবার সবচেয়ে ভাল সময় মার্চ থেকে মে, সেপ্টেম্বর নভেম্বর। শীতের সময় প্রবল ঠাণ্ডা।

কৌশানিতে প্রবেশ পথেই রয়েছে নটরাজের বিশাল মূর্তি, একটু এগিয়ে কালি মন্দির ও সোমেশ্বর মন্দির। অনাশক্তি আশ্রম বা গান্ধী আশ্রম টি মনোরম। এখান থেকে চারপাশের অপরুপ শোভা ফুতে উঠেছে। আশ্রমের ধ্যান গম্ভির পরিবেশ ও মনকে আবিষ্ট করে। ১৯২৯ সালে এখানে ১২ দিন ছিলেন গান্ধীজী। আশ্রম প্রাঙ্গনে বসেই রচনা করেন গীতার অনাসক্তি। প্রার্থনার সময় ভোর ৫টা ও সন্ধ্যা ৬টা। গান্ধীজীর শিস্য সরলা বেনের তৈরি কস্তুরবা গান্ধী আশ্রমটিও সুন্দর। ১৯৬৪ সালে তৈরি এই আশ্রমটি লক্ষ্মী আশ্রম নামেও পরিচিত। এখানকার মেয়েদের তৈরি হস্তশিল্পজাত দ্রব্যের প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখা যায়। খোলা থাকে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। 

হিন্দি সাহিত্যিক মহান কবি সুমিত্রানন্দন পন্থের জন্মভূমি কৌশানি। তার বহু রচনায় ফুটে উঠেছে সংগ্রহশালা। খোলা থাকে সকাল ১০.৩০ থেকে বিকাল ৪.৩০ পর্যন্ত, সোমবার বন্ধ। হাতে সময় থাকলে ঘুরে নেওয়া যায় কৌশানি চা বাগান। পিঙ্গালকোট এই বাগানটি প্রায় ২০৮ বর্গ কিমি ব্যাপ্ত। এই বাগানের চা রফতানি হয় আমেরিকা  ইউরোপে। দাম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। ঘুরে দেখার সময় সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ট পর্যন্ত, দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।।

কৌশানি থেকে মাত্র ৫ কিমি হাটাপথে পিননাথ। গোপালকোট পাহাড়ের এই গ্রামে রয়েছে প্রাচীন ভৈরব মন্দির। মন্দির চিত্রে রয়েছে পঞ্চপাণ্ডবের কাহিনি। ১৯২০ সালে ভুমিকম্নপের ফলে  মন্দিরে বেশ ক্ষতি হয়। বর্ষার পরে যাওয়া যায় এই পথে। অক্টোবর মাসের মেলায় বহু মানুষের সমাগম হয় এখানে। 
কৌশানি থেকে গরুড় হয়ে বাগেশ্বরের পথে ১৯ কিমি দুরত্বে মন্দির নগরী বৈজনাথ। গরুড় উপতক্যায় ১১২৫ মিটার উচ্চতায় গোমতীর তীরে এই জনপদ একসময় কাত্তুরি রাজাদের রাজধানি ছিল, নাম ছিল কার্ত্তিকপুরা। নবম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর ১৮টি মন্দিরে পুজিত হন বৈজনাথ। কথিত আছে কোন এক ব্রাহ্মণী এই মন্দির স্থাপনা করেন। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে রয়েছে বামনি মন্দির। দূরে দূরে চোখে পড়ে পাহাড়ের সারি। গোমতীর তীর ধরে গাছ গাছালীর মধ্যে দিয়ে পথ গিয়েছে মন্দিরের দিকে। একটি দুটি নয়, একগুচ্ছ মন্দির গড়ে উঠেছে গোমতীর তীরে। নির্জনতায় ঢাকা চারপাশের আপরুপ শোভা মনকে ভরিয়ে তোলে। এখানকার মুল আকর্ষণ পার্বতী মন্দির। জনশ্রুতি এখানেই বিবাহ হয়েছিল শিব-পার্বতীর। মন্দিরের স্থাপত্য চোখে পড়ার মত। ভেতরে রয়েছে ৬ ফুট উঁচু দেবি পার্বতীর মূর্তি, এছাড়াও শিব, গনেশ, কার্ত্তিক, নারায়ানের আরও নানান দেব দেবীর মূর্তি। একাধিকবার বিধর্মীদের হাতে লুন্ঠিত হয়েছে মন্দির। চারপাশে সুন্দর প্রকৃতির মাঝে মাঝে নিরালা মন্দির। সিঁড়ি নেমে গিয়েছে গোমতীর তীরে। এখানে শীর্ণকায় গোমতী। এখান থেকে গোয়ালধামের পথে ৮ কিমি দূরে রয়েছে কোটকিমায়ের মন্দির। বৈজনাথ থেকে বাগেশ্বরের দুরত্ব ২১ কিমি।
  
কৌশানির ১২ কিমি দূরে আলমোড়ার পথে ছোট গ্রাম সোমেশ্বর। মুল পথ থেকে আধ কিমি গিয়ে দ্বাদশ শতাব্দীর প্রাচীন শিবমন্দির। রাজা সোম চাঁদের তৈরি এই মন্দির স্থানীয় মানুষের কাছে খুবই পবিত্র। জীর্ণ হয়ে এলেও এর কারুকার্য ভাস্কর্য দর্শনীয়। শিবরাত্রির সময় দূর দুরান্ত থেকে মানুষেরা এখানে আসেন। 

কিভাবে যাবেনঃ  নিকটবর্তী বিমানবন্দর পন্থনগর(১৭৮ কিমি) ও রেলস্টেশন কাঠগোদাম(১৩২কিমি)। বাস ও শোয়ার গাড়ি আসছে আলমোড়া, নৈনিতাল(আলমোড়া হয়ে), বাগেশ্বর, সোমেশ্বর(১২ কিমি) অ গরুড়(১৬ কিমি) থেকে। উৎসাহী পর্যটকরা কৌশানি থেকে দিনে দিনে ঘুরে নিতে পারেন বৈজনাথ-বাগেশ্বর-গোয়ালধাম। 


এই লেখাটি শেয়ার করে ভ্রমণপিপাসু মানুষদের কাছে পৌছে দিন । 


ঘুরে আসুন, সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর ভারতের এই পার্বত্য অঞ্চলে ঘুরে আসুন, সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর ভারতের এই পার্বত্য অঞ্চলে Reviewed by Kona Dey Chakraborty on January 22, 2019 Rating: 5

মদার টেরেসার কিছু অমূল্য বাণী

December 25, 2018

• কেবল টাকা দিয়েই আমাদের খুশি বা সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। টাকায় যথেষ্ঠ নয়, টাকা জোগাড় হয়ে যায়। কিন্তু ওই মানুষগুলির যা দরকার তা হলো আমাদের হৃদয়ভরা ভালোবাসা। তাই, যেখানেই যাও সর্বত্র তোমার ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও।
• ‎আমাদের যদি শান্তি না থাকে তবে আমরা ভুলে গেছি যে আমরা একে অপরের জন্য।
• ‎জীবনের ছোটখাটো বিষয়গুলির প্রতি বিশ্বস্ত থেকো, কারণ তাদের মধ্যেই তোমার শক্তি নিহিত।
• ‎ওদের প্রত্যেকে এক একজন ছদ্মবেশী যীশু।
• ‎এমনকি ধনীরাও ভালোবাসার কাঙ্গাল, যত্নের, ডাকখোঁজের। তারাও নিজের বলে কাউকে চায়।
• ‎প্রথম আমাদের প্রেম, করুনা, বোঝাপড়া ও শান্তির তহবিল গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আরো বেশি করে জোর দেওয়া উচিত। কারণ যদি আমরা ঈশ্বরের রাজ্য খুঁজে পায়, বাকি যা কিছু সব জুটে যাবে।
• ‎আমি চাই আপনি আপনার পাশের দরজার প্রতিবেশীর ব্যাপারে মনোযোগী হোন। আপনি কি আপনার প্রতিবেশীকে চেনেন?
• ‎যদি তুমি হাজার মানুষকে খাওয়াতে না পারো অন্তত একজনকে খাওয়াও।
• ‎যদি তুমি প্রেমের বাণী শুনতে চাও তবে তা কাউকে পাঠাতে হবে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত আমাদের ক্রমাগত তাতে তেল ঢেলে যেতে হবে।
• ‎তীব্র প্রেম মাপা যায়না, তা কেবল দেয়। 
• ‎যে ব্যক্তির খাবার মতো কিছুই নেই তার থেকে অনেক বেশি দরিদ্র হলো সেই ব্যক্তি যে পরিত্যক্ত, অবহেলিত, যাকে কেউ ভালোবাসে না, কিংবা কেউই মনে রাখে না।
• ‎আনন্দ হলো ভালোবাসার এক জাল যার দ্বারা তুমি আত্মাকে ধরতে পারো।
• ‎এসো আমরা সকলে একে অপরের দিকে হাসিমুখে তাকাই, কারণ প্রেমের শুরুই তো হাসি দিয়ে।
• ‎যারা দরিদ্র, যারা পরিত্যক্ত, যারা অবহেলিত, যারা মুমুর্ষ তাদের প্রেমের স্পর্শ দেও। এ কাজে আমরা যেন কেউ লজ্জিত না হয়।
• ‎একাকীত্ব ও অবহেলা হলো সবচেয়ে বড় দরিদ্র।
• ‎ধনীরা টাকার বিনিময়ে যা পেতে পারে আমি চেষ্টা করি তা গরিবদের দিতে ভালোবাসা দ্বারা। না, আমি হাজার পাউন্ডের বিনিময়েও একজন কুষ্ঠ রোগীকে ছোঁব না, তবে প্রভুর প্রতি ভালোবাসা জ্ঞানে তাকে আমি সানন্দে সুস্থ করে তুলবো।
• ‎প্রেম হলো এমন এক ফল যা সব ঋতুতেই পাওয়া যায়, সকলেরই হাতের নাগালে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন 

মদার টেরেসার কিছু অমূল্য বাণী মদার টেরেসার কিছু অমূল্য বাণী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on December 25, 2018 Rating: 5

নিকোলাস কোপারনিকাসের জীবনী

November 27, 2018

নিকোলাস কোপারনিকাস (জন্ম - ১৪৭৩ খ্রি., মৃত্যু - ১৫৪৩ খ্রি.)


বাবা শোনাতেন দেশ-বিদেশের সাগর আর বন্দরের কথা। স্তব্ধ বিস্ময়ে অবাক হয়ে শুনত ছেলেটি। চোখ বন্ধ করত, ভেসে যেত কল্পরাজ্যে। এভাবেই তার মনের মধ্যে এক অদ্ভুত আবেগসম্পৃক্ত জগতের জন্ম হয়েছিল।
অন্য কেউ হলে হয়তো হতেন একজন কবি। ছোট্টবেলার এইসব স্মৃতিতে আচ্ছন্ন থাকতেন, যারা জীবন ভরে লিখতেন না-দেখা ভুমিখণ্ডের কল্পিত কবিতা।
কিংবা হতেই পারতেন সৃজনশীল গল্পলেখক। কেন না তার বাবার গল্প বলার ভঙ্গিটি ছিল ভারী চমৎকার। দূর প্রাচ্যের কোথায়, কোন জননীর বুকফাটা আর্তনাদ তিনি শুনেছেন, নিখুঁতভাবে তা উপস্থিত করতেন ছেলের কাছে।
হলেও হতে পারতেন একজন উপন্যাসিক। মানুষের জীবনের ওঠাপরা, আশা আর নিরাশা কে পাথেয় করে লিখতেন মহান উপন্যাস। পৃথিবীর মানুষ যা পরে আনন্দ পেত।
উনি কিন্তু তা হননি। উনি হয়েছিলেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী। শুধু বিজ্ঞানী বললে ভুল হবে। ওনার প্রতিবাদী কন্ঠস্বর উনি পৌঁছে দিয়েছিলেন, পৃথিবীর সর্বত্র। তখনকার সমাজে যা করা হত, উনি তার বিরুদ্ধে অক্লেশে ঘোষণা করেছিলেন সীমাহীন জেহাদ। আর এভাবেই প্রগতিবাদী মানুষের ইতিহাসের সঙ্গে ওনার নাম জড়িয়ে ব্যক্তিত্ব রূপে।
বন্ধুরা, তোমাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে, কোন মহাবিজ্ঞানীর ছোটবেলার গল্পকথা শোনাব বলে তৎপর হয়েছি। নামটা বললে তোমরা সবাই তাকে চিনতে পারবে। শুধু চিনতে পারলে বললে ভুল হবে, তোমরা সবাই তার জীবনকথাও হয়তো বলে দেবে - এতই জনপ্রিয় তিনি আমাদের মধ্যে।
হ্যাঁ, তোমরা হয়তো অনুমান করতে পারছ, তিনি হলেন নিকোলাস কোপারনিকাস।
জন্মেছিলেন তিনি পোল্যান্ডের ভিস্টলা নদীর তীরবর্তী টরুন নামক বন্দর-শহরে, আজ থেকে অনেক বছর আগে - ১৪৭৩ খ্রিস্টাব্দে।
যে পরিবারের হয়ে নিকোলাস পৃথিবীর আলো দেখেন, সেটি ছিল এক বণিক পরিবার। বণিক পরিবারের পুরুষেরা বছরের বেশিরভাগ সময় বাইরে বাইরে কাটান। মাথার ওপর কঠিন কঠোর কর্তব্যের বোঝা চাপানো থাকে তাদের। সেই সঙ্গে থাকে দেশজয়ের নেশা এবং থাকে অর্থ উপার্জনের তাগিদ। সব মিলিয়ে সে এক দারুন ব্যস্ততার জীবন। বাবার সাথে তাই খুব একটা দেখা হত না শিশু নিকোলাসের। বাবা বাণিজ্যে চলে যেতেন। যাবার আগে দুহাত ভরিয়ে দিতেন লজেন্স আর টফিতে। বলতেন, 'নিকোলাস, মন খারাপ করিস না। ফিরে এসে অনেক নতুন নতুন গল্প শোনাব।' ধীরে ধীরে বাবার শরীরটা দূর থেকে আরও দূরে চলে যেত। টমটম গাড়ি চলে যাচ্ছে। ছোট্ট নিকোলাস চোখ বন্ধ করছেন। গল্প শোনার লোভনীয় দিবাস্বপ্নে টফি খেতে ভুলে যাচ্ছেন। ভাবছেন, কখন বাবা ফিরে আসবেন, শোনাবেন সেই সাত মাথাওয়ালা দৈত্যটার কথা - যে আস্ত মানুষ গিলে ফেলতে পারে। কিংবা উড়তে উড়তে যে হাঁস বদলে যায় সুন্দরী রাজকন্যাতে - তার গল্প।
দিন কেটে যেত - বর্ষা, শীত, বসন্ত। বাবা আসছেন না কেন? অভিমানী মন ছটফট করত। মায়ের সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করতেন। বেচারি মা, সংসারের কত কাজ তার। কিকরে সময় দেবেন এই ছোট্ট শিশুকে?
তারপর একদিন ফুরিয়ে যেত প্রতীক্ষার এই দীর্ঘ প্রহর। বাবা আসতেন। কত কি যে জিনিসপত্র এনেছেন তিনি নিকোলাসের জন্য। ছেলেটাকে সত্যিই খুব ভালোবাসতেন বাবা। ভালোবাসতেন তার সরল দুটি চোখের স্বপ্নমাখা চাউনি, ভালোবাসতেন তার অবুঝপনা।
কিন্তু, সুখস্বপ্নের এই ছবিটাও হঠাৎ একদিন আবছা হয়ে গেল। তখন নিকোলাসের বয়স মাত্র দশ বছর, দূর বিদেশেই বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। অনেকদিন বাদে বাবার মৃত্যুসংবাদ পৌঁছেছিল হতভাগ্য ওই পরিবারের কাছে। বাবা নেই, দশ বছরের বালক নিকোলাস ব্যাপারটি ঠিক বুঝতে পারেনি। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়েছিলেন ক্রন্দনশীল মায়ের দিকে। তারপর, একটু একটু করে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, আজ থেকে তার জগৎটা অনেক পাল্টে গেছে। এখন তার কল্পনার সুদুরতম শরনিতে ব্যঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি বসে থাকবে না বিশাল পাকুর গাছের ডালে। রাতের আধার ঘনিয়ে এলে ব্রহ্মদৈত্য এসে ভয় দেখাবে না। এখন থেকে তিনি সত্যি সত্যি নিঃসঙ্গ হলেন।
অনেকে বলেন, সেই বয়সেই নিকোলাস হয়ে উঠেছিলেন প্রতিবাদি। সামাজিক বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, দীর্ঘদিন ধরে সমাজপতিরা নানাভাবে মানুষকে শোষণ করে এসেছেন, এবার তাদের শোষনের দিনের অবসান ঘটাতে হবে- এমনই একটা দৃঢ় প্রত্যয়ের জন্ম হয়েছিল বালক নিকোলাসের মনের মধ্যে।
বাড়ি ছেড়ে নিকোলাসরা চলে এলেন মামাবাড়িতে। মামা ছিলেন বাস্তববাদী। যে-কোনো বিশ্বাসের গভীরে প্রোথিত প্রকৃত সত্যের সন্ধান করা ছিল তার স্বভাব। তিনি ছিলেন পোল্যান্ডের একজন বিশিষ্ট বিশপ। ধর্মের সঙ্গে মানুষের সাধারণ জীবনবোধকে মিশিয়ে দেওয়ার একটা অদ্ভুত প্রবণতা ছিল তার। সে যুগের নিরিখে এটা কিন্তু একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা, বিশেষ করে ধর্মযাজকদের ক্ষেত্রে। ধর্মপ্রচারের স্বভাবতই প্রাচীনপন্থী হয়ে থাকেন। সমাজের বুকে ঘটে যাওয়া যে কোনো বিপলবাত্মক ঘটনাকে তারা নিন্দা করতেন। তারা নিজেদের ঈশ্বরের প্রতিভূ হিসেবে ভাবতে ভালোবাসেন। বোকাসোকা জনসাধারণের ওপর প্রভুত্ব বিস্তার করেন। রাজার আশ্রয়ে পায়ের ওপর পা দিয়ে জীবনের দিনগুলো অনায়াস আরামে কাটিয়ে দেন।
মামার সান্নিধ্যে এই জীবনবোধ সেদিনের কিশোর নিকোলাসের মনের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছিল। বাবার অভাব অনেকটাই পূরণ করেছিলেন ওই প্রগতিপন্থী মামা।
১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে উনিশ বছর বয়সে কোপার্নিকাস ভর্তি হয়েছিলেন পোল্যান্ডের বিখ্যাত ক্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি নানাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু পোল্যান্ড থেকেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে দলে দলে কৃতি ছাত্ররা আসতেন এখানে ভর্তি হবার জন্য। ভর্তি হওয়ার ছাড়পত্রটাও পাওয়া যেত না সহজে। অনেকগুলো কঠিন পরীক্ষার বেড়া টপকে তবেই এই বিশ্বখ্যাত অঙ্গনের প্রবেশের অনুমতি মিলত। ভর্তির প্রতিটি পরীক্ষায় নিকোলাস অসাধারন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। অধ্যাপকেরা তার এই গুনপনায় হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এখানে পড়তে পড়তে নিকোলাসের সঙ্গে পরিচয় হল বিশিষ্ট অধ্যাপক ব্রুদেসকির। উনি ছিলেন অংক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক, আধুনিক মনোভাবাপন্ন বিজ্ঞানী। ওনার সংস্পর্শে এসে নিকোলাসের জীবনাদর্শের রুদ্ধ দুয়ার খুলে গিয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত সব বিষয়ে কেমন একটা ভাসা ভাসা অভিমত ছিল নিকোলাসের। ব্রুদেসকিই তাকে প্রথম বললেন, বিজ্ঞান কখনো 'যদি', 'কিন্তু' ইত্যাদি শব্দকে প্রাধান্য দেয়না। যা সুনিশ্চিত, তাকে প্ৰতিষ্ঠা করাই বিজ্ঞানের একমাত্র লক্ষ্য। তার জন্য যদি জীবনাপাত করতে হয়, তাহলে তাও করতে হবে। তবুও কোনো অনুমানের পিছনে বিজ্ঞান ছুটবেনা।
সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, পরবর্তীকালে কোপার্নিকাস যে কারণে জগৎবিখ্যাত হন, সেই বিষয়ে কৌতূহলের প্রথম বীজটি অঙ্কুরিত করেছিলেন ওই ব্রুদেসকি।
১৪৯২- নিকোলাস এলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাদের ইতিহাসে সেই বছরটি কিন্তু আরও একটি কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে। তোমরা হয়তো ভুলে গেছো, সেই বছরই ইতালিয় নাবিক কলম্বাস অতলান্তিকের ওপারে নতুন ভুমিখন্ড আবিষ্কার করেছিলেন। নাম দিয়েছিলেন - নতুন মহাদেশ। পরবর্তীকালে যা 'আমেরিকা' নামে আত্মপ্রকাশ করে।
সেদিনের এই আবিষ্কারের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। আমেরিকা আবিষ্কৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জ্ঞানভান্ডারের সীমানা একলাফে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছিল। দলে দলে মানুষ তখন চলেছেন আমেরিকার উদ্দেশ্যে। সেখানকার বাতাসে নাকি টাকা উড়ছে, মাটির নিচে তাল তাল সোনা পোঁতা আছে - এমনই একটা গুজব রটে গিয়েছিল সর্বত্র। আর নতুন এই দেশে যাবার যে হিড়িক উঠল, তাতেই পাল্টে গেল মানুষের মন। নতুন সব কিছুকে আঁকড়ে ধরতে হবে, বস্তাপচা পুরানো ভাবধারাকে বিদায় দিতে হবে - এমনই একটা ধারণা জন্মেছিল তরুণতর প্রজন্মের মধ্যে।
বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র থাকাকালীন জ্যোতির্বিজ্ঞানকে আঁকড়ে ধরেছিলেন নিকোলাস কোপার্নিকাস। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। মামার ইচ্ছে ছিল, ভাগ্নেটি হবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী। আর্ত-আতুরদের সেবা করবে। তাই মনের ইচ্ছে চেপে কোপার্নিকাস ভর্তি হতে হল চিকিৎসাবিনজ্ঞানের বিভাগে। মান দিয়ে পড়াশোনা করলেন তিনি। শেষ অব্দি উর্ত্তীণ হলেন ওই পরীক্ষাতে। মামার ইচ্ছে তিনজ অপূর্ন রাখেননি। ডাক্তারি পাশ করার পর আর্ত মানবাত্মার সেবাতে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন তিনি।
এবার বিদেশে যেতে হবে। তখন উচ্চ শিক্ষার জগতে ইতালির খুবই নামডাক। মামার অনুমতি নিয়ে কোপার্নিকাস এলেন ইতালিতে। ভর্তি হলেন বোলগানা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনেক হয়েছে, এবার আর চিকিৎসাশাস্ত্র নয়। এবার আমি আমার মনের মতো বিষয় গণিত এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়ব - এমনই একটা ইচ্ছে জাগল সেদিনের তরুণ নিকোলাস কোপারনিকাসের মনে।
তখনকার দিনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গ্রিক মনীষীদের অবিসংবাদিত প্রাধান্য ছিল। আবার অংক এর ক্ষেত্রে প্রাচীন ধারাটি সযত্নে বহন করতেন আরব পন্ডিতরা। দুটি বিষয়ের মূল ধারার সঙ্গে পরিচিত হবে জন্য নিকোলাস সযত্নে গ্রিক এবং আরবি ভাষা অধ্যয়ন করলেন। এই জাতীয় আত্মনিবেদন এখন ভাবতেই পারা যায় না। এখনকার দিনে আমরা অবুবাদের মাধ্যমে চটজলদি সবকিছু শেখার চেষ্টা করি। কিন্তু নিকোলাস ছিলেন অন্য চরিত্রের মানুষ। যা শিখবেন একেবারে একটা মনোবৃত্তি ছিল তার।
সে এক দারুন কর্মমুখর দিন। সারা রাত বসে বসে পড়া মুখস্থ করছেন। বাইরের প্রকৃতি নিঝুম নিথর হয়ে গেছে। ঘুমন্ত মানুষের বিলম্বিত শ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। রুমমেট কখন ঘুমিয়ে পড়েছে সেদিকে নজর দেবার মতো সামান্য অবসরটুকুও নেই নিকোলাসের, তিনি যা জানেন, জীবনের দিনগুলি হঠাৎ হঠাৎ ফুরিয়ে যায়। বার্ধক্য এসে সময়ের দরজাতে করা নাড়ে। তাকে যে অনেক কাজ করতে হবে। পৃথিবীতে মানুষ এসেছে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ করার জন্য। সেগুলো অসম্পূর্ন রেখে আগে আগে চলে গেলে চলবে কেন?
এভাবেই ফুরিয়ে গেল নিকোলাস কোপারনিকাসের ছোটবেলা আর ছাত্রজীবন। বোলগানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কাজ চলাকালীনই রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বান পেলেন তিনি। এরপর তিনি পরিচিত হয়েছিলেন এক বিশিষ্ট বিতর্কিত বিজ্ঞানী হিসেবে। সে বিষয়ে দু চার কথা না বললে নিকোলাস সম্পর্কে আমরা সবটুকু জানতে পারব না।
তখনকার দিনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি ছিল গ্রিসের দার্শনিক বিজ্ঞানী টলেমির একটি ধারণা। মানবসভ্যতার ঊষালগ্নে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, পৃথিবী হল এই সৌরজগতের কেন্দ্রভূমি। তার চারপাশে সূর্য আছে। আছে চন্দ্র, গ্রহ এবং অসংখ্য নক্ষত্রের পরিমন্ডল। তারা নিজ নিজ কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে।
এই মতবাদকে সকলে অভ্রান্ত হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। অর্থাৎ তখনকার সব চিন্তাই হত এই মতবাদকে আশ্রয় করে। তার মানে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাথমিক পর্বেই আমরা একটা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়েছিলাম। কেউ কিন্তু এগিয়ে এসে টলেমির এই ত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার সাহস কেউ করেননি। টলেমি তখন প্রায় ভগবানের পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।
নিকোলাসই প্রথম এই মতবাদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করলেন। তিনি সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের আবিষ্কার করলেন। এই তত্ত্বের সারকথা হল - সৌরমন্ডলের সকলেই, এমনকি পৃথিবীও স্থির নয়। তারা সবাই নিজস্ব কক্ষপথে চলমান। সূর্যকে ঘিরেই চলে তাদের পরিক্রমণ।
আজ আমরা এই তত্ত্বটিকে নির্ভুল সত্য বলে মনে নিয়েছি। কিন্তু যখন নিকোলাস এটি প্রথম প্রচার করেন, তখনকার অবস্থা ছিল একেবারে আলাদা। অচিরেই নিকোলাস চিহ্নিত হলেন দেশদ্রোহী হিসেবে। তাঁকে নানাভাবে ভৎর্সনা করা হল। শুধু তাই নয়, শারীরিকভাবেও তাঁকে নিগৃহীত হতে হয়েছিল। শেষ অব্দি অবশ্য নিকোলাসের এই তত্ত্ব পন্ডিতসমাজ মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু জীবদ্দশাতে তিনি এই মতবাদের স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেননি। দেখেননি ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে কিভাবে পোপ গ্রেগরি ক্যালেন্ডার সংশোধন করেছেন সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের ভিত্তিতেই।
বিতর্কিত বিজ্ঞানী ছাড়াও তিনি ছিলেন এক বিশিষ্ট সহযোগীরূপে চার্চের কাজে যোগ দেওয়ার পর সপ্তম শতাব্দীর বিখ্যাত বাইজেনটাইন কবি থিয়োফিলাকটাস সীমাকোট্টা-র ৮৫ টি কবিতা গ্রিক থেকে লাতিনে অনুবাদ করেছিলেন তিনি।
১৫৪৩ খ্রিস্টাব্দে এই প্রাণবন্ত জ্ঞানপিপাসু বিজ্ঞানী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাঁকে শুধুমাত্র আমরা একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী বলব না। একাধারে তিনি ছিলেন ভাষাবিদ, চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, পুরোহিত, অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতজ্ঞ। এক মানুষের মধ্যে এতগুলি গুণের সমাহার সত্যি সত্যি আমাদের অবাক করে দেয়।
নিকোলাস কোপারনিকাসের জীবনী নিকোলাস কোপারনিকাসের জীবনী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on November 27, 2018 Rating: 5

বাবা নিজের হাতে মেয়ের নামের ট্যাটু করার পর মেয়ে কি করলো ? - দিপা নাইডুর ঘটনাটা পড়ুন

October 23, 2018
জীবনের ছোট ছোট ঘটনা গুলো জীবনে আশ্চর্য রকমের প্রভাব ফেলতে পারে - নীচের এই ঘটনাটি থেকে আপনি বুঝতে পারবেন । ঘটনাটি শেয়ার করেছেন তামিলনাড়ুর এক গৃহবধূ  দিপা নাইডু। ঘটনাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন -

"আমার নাম দিপা, দু বছর আগে আমার স্বামী তার বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গিয়ে হাতের কব্জিতে আমাদের মেয়ের নামে একটি ট্যাটু করে আনেন। তিনি বাড়ি এসে আমাদের সবাইকে ট্যাটুটি দেখান। 
আমাদের ছেলে যখন জানতে পারলো যে তার বাবা শুধুমাত্র তার বোনের নাম ট্যাটু করে এসেছে  তখন তার মুখ গোমড়া হয়ে গেল অবশ্য তার জন্যে আনা চকলেট, খেলনা পাওয়ার পরেই সে সেসব ভুলে গেলো। আমাদের মেয়ে ট্যাটু দেখে খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে গেলো, সে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরলো, কপালে চুমু খেলো এবং তার বাবাকে প্রশ্ন করলো যে তার এটি করতে গিয়ে ব্যাথা লেগেছে কিনা ?

এর উত্তরে আমার স্বামী বললেন, "আমি তোমার জন্য সব ব্যাথা সহ্য করতে পারি.।"
আমি জানিনা এর পর কি হলো, তার বাবার প্রতি তার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে গেল । 
সে তার বাবার প্রতি মায়ের মতো আচরণ শুরু করলো। যদিও আগে থেকে সে তার ভাইয়ের প্রতি মায়ের মতো আচরণ করতো এখন বাবার সাথে শুরু করলো। (আমি মনে মনে ভাবলাম তাহলে আমার ভূমিকা কি?)
সে তার বাবার খেয়াল রাখা, যত্ন নেওয়া শুরু করলো। তার বাবা তার ওপর রাগ করলেও সে রাগ করতো না। সে তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করতো 'তার দিন কেমন কাটলো?, সে কি খাবার খেয়েছে?' তার হাঁচি হলে সে তার বাবার বুকে ভিক্স মালিশ করে দেওয়া শুরু করলো । সে তার বাবার কাছ থেকে কিছুই চায় না, কখনও কখনও আমার ছেলে যখন কিছু চায় তখন সে বলে, "অর্জুন, বাবাকে জ্বালাতন করো না, বাবার যখন ব্যস্ততা কমবে তখন তুমি না চাও তোমাকে দেবেন।"

প্রথমে আমি ভাবলাম এটি কেবল কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের জন্য হবে, কয়েক মাস পরে সে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে, যখন তার চাওয়া কোনো জিনিস তার বাবা দিতে প্রত্যাখ্যান করবে।

9-10 মাস আগে, একদিন, সে আস্তে আস্তে স্কুলের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। আমার স্বামী খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠেন , সেদিন আমাদের মেয়ে স্কুলে যাওয়ার দেরি দেখে উনি চিৎকার করে উঠলেন। তিনি বলেন, "আমি এই সঞ্জনাকে ঘৃণা করি, দিনের শুরুতে তুমি এত অলস হতে পারো কিভাবে তবে দিনটা কেমন কাটবে"।
সে শুধুমাত্র হাসলো এবং স্কুলের জন্য প্রস্তুত হলো। 
আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম,শরীর ঠিক আছে কিনা, সে শুধু মাথা নাড়িয়ে স্কুলে চলে গেল।
1 ঘন্টা পরে, আমি স্কুল থেকে একটি ফোন পেয়েছিলাম। রিসেপশনিস্ট বলেছিলেন যে আমার মেয়ের জ্বর হয়েছে এবং দুবার বমি হয়ে গেছে। তারা আমাকে স্কুল থেকে নিয়ে যেতে বলেছিল। আমি কথাটা জানানোর জন্য তার বাবার কাছে একটা ফোন করি তাকে নিয়ে আসার জন্য, কিন্তু 4-5 বার চেষ্টা করার পরও তাকে ফোনে পাইনি। আমি আমার স্কুটার নিয়ে তাকে নিতে গিয়েছিলাম। আসার সময় আমি ওকে বলেছিলাম, " তোমার ভালো না লাগলে বলতে পারতে, আমি তোমাকে স্কুলে পাঠাতাম না। তোমার কি খারাপ লেগেছিলো তোমার বাবা বকেছিলেন বলে, তাই কি তুমি কিছু না বলে স্কুলে গেছিলে?"
তার উত্তর আক্ষরিক অর্থে আমার চোখে জল এনে দিয়েছিল।

সে আমাকে জাপটে ধরে আমার পাশে বসে ও বলে, "না মা আমি কোনোদিন বাবার কোনো কথায় রাগ করবো না, এটা সত্যি যে বাবা কিছু সময় না বুঝেই চেঁচামেচি করে, কিন্তু বাবা আমাকে খুব ভালোবাসে। যদি তাই না হতো তাহলে বাবা কি অতো ব্যাথা সহ্য করে আমার নামের ট্যাটু করতো?"(সে তখনও প্রসব ব্যাথা সম্মন্ধে কিছু জানতোনা তাই হয়তো ওর বাবার ব্যাথাটা তার কাছে অনেক বেশি মনে হয়েছিলো।)  যে মুহূর্তে সে কথাটি বলেছিলো আমার চোখে আপনাআপনি জল চলে আসে এটা ভেবে যে একটি আট বছর বয়সের মেয়ে কিকরে এতটা ভাবতে পারে? সে কিভাবে ভালবাসা আদর এত গভীর ভাবে বুঝতে পারে?


হ্যাঁ, কখনো এই ছোট জিনিষ গুলি অনেক কিছু প্রকাশ করে। এই ছোট্ট ট্যাটুটি বাবা এবং মেয়ে দুজনের কাছেই অতি মূল্যবান। জীবন সুন্দর। এটা কে আরো বেশি সুন্দর করা যাক এই রকম মুহূর্ত ও স্মৃতি গুলি দিয়ে।

ভাবছেন , আমার ছেলে এমন কিছু করেছে কিনা ? গতবার ওর জন্মদিনে আমি একটি মেলেটারী ড্রেস কিনে দিয়েছিলাম । ওর খুব শখ বড় হয়ে মেলেটারী হওয়া । এই কারনে ওর জামায় সেলাই করে ওর নামের একটা ব্যাজ লাগিয়ে দিয়েছিলাম । জামাটা পড়ে , আমার ছেলে যেভাবে কেঁদেছিল , এখনও ভাবলে আমার আশ্চর্য লাগে । হাসি খুশি একটা বাচ্চা যে আনন্দে এত আবেগপ্রবন হয়ে উঠতে পারে আমি কোনোদনিও ভাবিনি ।

উপরে আমাদের পরিবারের ছবি দিলাম - আমার স্বামী , মেয়ে , ছেলে আর আমাকে নিয়ে আমাদের ছোট্ট পরিবার । আমার এই ঘটনাটি আপনার ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই শেয়ার করবেন -


বাবা নিজের হাতে মেয়ের নামের ট্যাটু করার পর মেয়ে কি করলো ? - দিপা নাইডুর ঘটনাটা পড়ুন বাবা নিজের হাতে মেয়ের নামের ট্যাটু করার পর মেয়ে কি করলো ? - দিপা নাইডুর ঘটনাটা পড়ুন Reviewed by Kona Dey Chakraborty on October 23, 2018 Rating: 5

ছোটবেলায় বিজ্ঞানে কোন আগ্রহ ছিল না পরমানু বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গীরের

October 17, 2018

হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা (জন্ম : ১৯০৯ খ্রি.,মৃত্যু : ১৯৬৬ খ্রি.)


তাঁকে বলা হয় ভারতের পরমাণু শক্তি গবেষণার পথিকৃৎ। বিশ্ববিজ্ঞানের ইতিহাসে তিনি এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।


অথচ ছোটবেলার দিনগুলিতে কখনোই তিনি বিজ্ঞানকে ভালোবাসেননি। ভালোবেসেছিলেন সাহিত্য। লুকিয়ে লুকিয়ে সুন্দর কবিতা লিখতেন। সেই কবিতার মধ্যে ছন্দের বাহার থাকত। থাকত অলঙ্কারের বহিঃপ্রকাশ। শব্দচয়নে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন সেদিনের কিশোর হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা। চারপাশের পৃথীবিতে যেসব ঘটনা ঘটছে, তাকে কেন্দ্র করেই কবিতা লিখতে ভালোবাসতেন তিনি। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতেন সূর্যাস্তের দিকে। এক লহমাতে পৃথিবীর বুকে বিরাট পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। আলোর উৎসার এবার বন্ধ হল। পৃথিবীতে নেমে আসছে রাত্রির অন্ধকার। প্রাকৃতিক এইসব ঘটনা সেদিনের কিশোর হোমি জাহাঙ্গীর ভাবাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করত। যা দেখতেন চোখের সামনে, তাই লিখে রাখতেন খাতার পাতায়। এইভাবেই ষোলো বছর বয়সে অনেকগুলি ভালো কবিতার জনক হয়েছিলেন তিনি।


কবিতার সঙ্গে সঙ্গে ছিল ছবি আঁকার ঝোঁক। রং-তুলি নিয়ে ছবি আঁকতেন বসতেন। স্কুলের পাঠ্যক্রম মোটেই ভালো লাগত না তাঁর। তবুও কৃতিত্বের সঙ্গেই পড়াশোনা শেষ করেছিলেন।


কবিতা জাহাঙ্গীরের অসম্ভব আগ্রহ ছিল। আর ছিল উচ্চাঙ্গ সংগীতে ভালোবাসা। গাইতে পারতেন খুব ভালো। রোজ সকালে ভৈরবীতে গলা সাধতেন। প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে যেত। তাঁরা তন্ময় হয়ে যেতেন সেই সুরের খেলাতে।


শ্রোতা হিসেবেও তিনি ছিলেন চমৎকার। বিশেষ করে ভালো লাগত পশ্চিম দেশের গান।


জন্মেছিলেন তিনি ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে অক্টোবর। বোম্বের এক ব্যবসায়ী পারসি পরিবারে। তাঁর বাবা ব্যবসায়ী হলে কি হবে, বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁক ছিল ভদ্রলোকের। নানা বিষয়ের বই নিয়ে একটি সুন্দর লাইব্রেরি গড়ে তুলেছিলেন বাড়ির মধ্যে। কাজের অবসরে লাইব্রেরিতেই ডুবে থাকতেন তিনি।


এই পরিবেশে বড়ো হয়ে ওঠা ভাবা কিন্তু ছোটোবেলার বিজ্ঞানের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ প্রকাশ করেননি।


যথাসময়ে তাঁর স্কুলের পড়া শেষ হল। ভাবা সত্যিকারের সমস্যার সামনে এসে দাঁড়ালেন। বিজ্ঞানকে খুব একটা লাগে নি নাকি? ভালো লাগে আঁকা, কবিতাচর্চা এবং সংগীত? অবশেষে তাঁর বাবাই সব সমস্যার সমাধান করলেন। তিনি ছেলেকে পাঠিয়ে দিলেন বিলেতে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি করে দিলেন।


হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা কিন্তু বেশিদিন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ক্লাস করেননি। নীরস কলকব্জা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে তার মোটেই ভালো লাগত না। মাঝপথেই তিনি এই পড়া ছেড়ে দিলেন। এলেন পদার্থবিদ্যার ক্লাসে।


১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে মাত্র একুশ বছর বয়সে কেমব্রিজ থেকে পদার্থবিদ্যায় বি এ পাশ করলেন তিনি। তখন ভাবার মনে নতুন ভাবনার স্পন্দন ঘটে গেছে। না, আর কবিতা লেখা নয়, সংগীত-সাগরে অবগাহন করা নয়, এবার আমাকে একজন ব্যবহারিক পদার্থবিদ হয়ে উঠতে হবে, এমনটিই সংকল্প করেছেন ভাবা।


তখন পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন ডির‍্যাক, পাউলি, হিজেনবার্গ, বন এবং শ্রয়া ডিংগার-এর মতো দিকপাল পদার্থবিদেরা। এঁদের নেতৃত্বে ছিলেন ডির‍্যাক।


ডির‍্যাকের মতবাদটিকেই গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছিল সেদিনের সদ্য তরুণ হোমি জাহাঙ্গীরের ভাবার। কেমব্রিজে বিএ পড়তে পড়তেই তিনি ডির‍্যাকের গবেষণার প্রতি অতিমাত্রায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কেমব্রিজের সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে পদার্থবিদ্যার বই নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যেত তাঁর।


১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে কেমব্রিজ থেকে তিনি পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করলেন। পরবর্তীকালে ডঃ হোমি জাহাঙ্গির ভাবাকে আমরা একজন বিশিষ্ট  পদার্থবিদ হিসেবে চিনেছি। ভাবতে অবাক লাগে, ছোটোবেলায় যিনি কবিতা লেখা আর গানের মধ্যেই জীবনের আসল মানে খুঁজে পেয়েছিলেন, তিনি হয়ে উঠলেন একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী! সত্যিই মানুষের জীবনে কখন কোন পরিবর্তন ঘটে আমরা তা জানতেই পারি না !


স্বাধীন ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানের ইতিহাসে ভাবা একটি স্মরণযোগ্য নাম। তিনি ভারতের পরমাণুশক্তি কমিশনের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি ভারত সরকারের পরমাণু শক্তি বিভাগের সচিব পদে মনোনীত হন। তাঁর প্রেরনাতেই ভারতের পরমাণু শক্তির উন্নয়নসংক্রান্ত গবেষণা শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দেশের প্রথম পরমাণু শক্তি চুল্লি বা অ্যাটমিক রি-অ্যাক্টর।


মুম্বাই শহরের অদূরে তারাপুরে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয় ভারতের প্রথম পরমাণু শক্তি কেন্দ্রটি। দু-বছর পর এখানেই গড়ে ওঠে প্লুটোনিয়াম প্ল্যান্ট। এইসব প্রয়াসের অন্তরালে ছিলেন ওই নিরলস সংগ্রামী-বিজ্ঞানী ডঃ হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা।


এরই পাশাপাশি তিনি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকাকে উজ্জ্বলতর করেছেন। তাঁরই উদ্যোগে শুরু হয়েছিল তেজঃসৌরবিদ্যা এবং জীবাণুবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণা। স্থাপিত হয়েছিল উৎকামন্ডের রেডিও টেলিস্কোপ।



১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে এক বিমান দুর্ঘটনাতে অকাল প্রয়াত হলেন এই মহান বিজ্ঞানী। ভারতীয় বিজ্ঞানী সাধনায় অক্ষয়কীর্তি স্থাপন করে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

ছোটবেলায় বিজ্ঞানে কোন আগ্রহ ছিল না পরমানু বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গীরের ছোটবেলায় বিজ্ঞানে কোন আগ্রহ ছিল না পরমানু বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গীরের Reviewed by Kona Dey Chakraborty on October 17, 2018 Rating: 5

বিগ ব্যাং থিয়োরি সম্বন্ধে আজনা তথ্য জানিয়ে নোবেল পেয়েছিলেন এই দুই বিজ্ঞানী

October 13, 2018

জন সি. ম্যাথার ও জর্জ এফ. স্মুট

Jhon C Mather 
২০০৬ খ্রিস্টাব্দে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে একজন জন সি ম্যাথার ও অন্যজনের নাম জর্জ এফ. স্মুট। ছোট্টবেলা থেকে ম্যাথার ছিলেন এক আদ্যন্ত বিজ্ঞানপিপাসু মানুষ। সম্প্রতি এক স্মৃতিচারণে তিনি তাঁর ফেলে আসা দিনযাপনের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। সমবয়সী বন্ধুরা যখন মাছ ধরা কিংবা সাইকেলে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতেন, তখন জন সি ম্যাথার অংকের আকিবুঁকির মধ্যে মুখ গুঁজে বসে থাকতেন। তখন থেকেই তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য তথা উদ্দেশ্য ছিল কিভাবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি রহস্যের আবরণ উন্মোচিত করা যায়।
তারপর একটু বড়ো হলেন ম্যাথার। এলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়ার অবসরে ছেলেমেয়েরা ঠাট্টা আনন্দে মশগুল হয়ে ওঠেন, কিন্তু ম্যাথারের সেদিকে নজর নেই। তিনি লাইব্রেরিতে বসে মোটা মোটা বই পড়তেন। মাথার ভিতরে চিন্তার পোকার কিলবিল করে। ভাবতে থাকেন এই যে বিশাল ব্রহ্মান্ড,  এর আদি কোথায়, অন্ত কোথায় ? যদিও ইতিমধ্যে আলবার্ট আইনস্টাইন প্রমুখ অনেক বিজ্ঞানী এই বিশ্বরহস্য উন্মোচনে উল্লেখযোগ্য গবেষণা করে গেছেন। কিন্তু ম্যাথারের কেবলই মনে হয়, কোথায় যেন একটা ফাঁক থেকে গেছে। কিছুতেই আমরা পৃথিবীর আসল রহস্যটাকে বুঝতে পারছিনা। কবে সেই রহস্য উন্মোচিত হবে ? একুশ বছরের ম্যাথারের এই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি একটি সংবাদপত্রে এই বিষয়ে প্রতিবেদন লেখেন। তখন থেকেই তাঁর নাম বিজ্ঞানী মহলে ঘুরতে থাকে। 
মার্কিন দেশে জন্মগ্রহণ করায় আধুনিকতম সুযোগ সুবিধা তিনি পেয়েছিলেন। সেই সুবিধাগুলিকে কাজে লাগিয়ে অল্প বয়সেই তিনি এক বিশিষ্ট গবেষক হিসাবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন শক্তিশালী টেলিস্কোপের লেন্সের দিকে। বিশাল মহাবিশ্বের বুকে কত-না ঘটনা ঘটে চলেছে। পৃথিবীর মানুষ হয়ে আমরা তার কতটুকু খবর রাখতে পারছি? ম্যাথার তখন থেকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, একদিন তিনি মহাবিশ্বের এই রহস্য উন্মোচন করবেনই।
শেষপর্যন্ত বিগব্যাং থিয়োরি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন গবেষণা করে জন সি ম্যাথার পেলেন বিজ্ঞানে নোবেল পুরুষ্কার। অনেকদিন থেকেই আমরা বলে থাকি, ব্রহ্মান্ড আসলে একটি মহা বিস্ফোরণের ফল, যাকে বলে বিগ ব্যাং থিয়োরি। কিন্তু অনেক বছর আগে এই পৃথিবী কেমন ছিল? নাসার কৃত্রিম উপগ্রহ কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এক্সপ্লোরারে সাহায্যে ম্যাথার এই গবেষণা করলেন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন তার এক সহযোগী আর-এক বিজ্ঞানী। তিনি হলেন জর্জ এফ. স্মুট। তাঁদের যুগ্ম গবেষণায় আমরা জানতে পারি, আজ থেকে অনেক লক্ষ বছর আগে মহাবিশ্ব ঠিক কিরকম ছিল। উপগ্রহের সাহায্যে গবেষণা চালিয়ে তাঁরা এই গুরুত্বপূর্ন তথ্য আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বিগ ব্যাং-এর ফলে তৈরি শক্তি এখনো বিশ্বব্রহ্মান্ডে ছড়িয়ে আছে। কিন্তু সব জায়গাতে তা সমান ভাবে ছড়িয়ে নেই। এর কারণও জানিয়েছেন ওই দুই গবেষক। জানিয়েছেন কোথায় ওই শক্তির পরিমান কম এবং কোথায় ওই শক্তির পরিমান কিছুটা বেশি।
তাঁদের আর-একটি গবেষণার কথাও প্রসঙ্গে বলা উচিত। তাঁরা অনেকদিন থেকেই অনুমান করেছিলেন যে, ওই বিস্ফোরণের অন্তরালে কোনো একটা অদৃশ্য শক্তি নিহিত ছিল। এই শক্তিটি আসলে কি, তা এখনো পর্যন্ত কেউ বের করতে পারেননি। কিন্তু এই দুই বিজ্ঞানী বললেন, এই শক্তি হল প্রচন্ড সঙ্কুচিত বীজ যা বস্তু। তারা নানাদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিজগুলির আকর্ষনে পদার্থ জমতে থাকে। তৈরি হয় নতুন বস্তুপিন্ড। 
কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড এক্সপ্লোরারকে তাঁরা নানাভাবে কাজে লাগিয়েছেন। অসংখ্য ছবি তুলেছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন যে মহাবিশ্বের বুকে এখনও নিরন্তর পরিবর্তন ঘটে চলেছে। ভবিষ্যৎকালে তাঁদের এই গবেষণার পথ ধরে আরও অনেক নতুন বিজ্ঞানী এগিয়ে আসবেন, এবিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
George Smoot 
এবার জর্জ এফ. স্মুটের কথা বলি। আত্মভোলা স্বভাবের এই মানুষটিকে দেখলেই মনে হয় না যে, তিনি মার্কিন দেশের বাসিন্দা। নামকরা বিজ্ঞানী হলে কি হবে, তার দিন কাটে একান্ত নিঃসঙ্গতার মধ্যে। সকলে যখন ঘুমে অচেতন, তখনও তিনি ল্যাবরেটরিতে আত্মনিমগ্ন থাকেন নিত্যনতুন গবেষণায়। এই প্রসঙ্গে স্ফুট তাঁর ফেলে আসা দিনযাপনের কথা স্বীকার করেছেন। মোটামুটি সম্পন্ন পরিবারের সন্তান হয়ে পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি উৎসুক ছিল ঘুমিয়ে। বড়ো হবার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। তুখোর ছাত্র হিসাবে খুব একটা পরিচিত ছিল না। মোটামুটি মেধাবী মানের ছাত্র ছিলেন তিনি। কিন্তু পরীক্ষাতে ফল করতেন খুবই ভালো। অচিরেই অধ্যাপকদের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করার পর প্রথমদিকে ছিলেন নিষ্প্রভ অবস্থায়। চুপচাপ একা একা বসে ভাবতে ভালোবাসতেন। আত্মপ্রচার করা থেকে শত হাত দূরে থাকতেন। পরবর্তীকালে অবশ্য তাঁর চরিত্রের মধ্যে একটা লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটে যায়। তিনি হয়ে ওঠেন এক বিগদ্ধ বিজ্ঞানী।
এই দুই বিজ্ঞানসাধকের ছেলেবেলার দিনযাপনের কথা মনে করলে আমাদের অনেক কথাই মনে পড়ে যায়। আমরা অবাক হয়ে ভাবতে থাকি পরবর্তীকালে যাঁরা কিংবদন্তির মানুষ হয়ে ওঠেন, ছোট্টবেলা থেকেই বোধহয় শুরু হয় তাঁদের নীরব এবং কঠিন অনুশীলন। তা না হলে তাঁরা কিভাবে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকবেন এই পৃথিবীর বুকে? 

বিগ ব্যাং থিয়োরি সম্বন্ধে আজনা তথ্য জানিয়ে নোবেল পেয়েছিলেন এই দুই বিজ্ঞানী বিগ ব্যাং থিয়োরি সম্বন্ধে আজনা তথ্য জানিয়ে নোবেল পেয়েছিলেন এই দুই বিজ্ঞানী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on October 13, 2018 Rating: 5
Powered by Blogger.