বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ভ্রমনের সম্পূর্ণ গাইড । ২৯ টি স্পট ঘুরুন ১ দিনে । জেনে নিন বিস্তারিত

বিষ্ণুপুর ট্রাভেলের সম্পূর্ণ ভিডিও পেয়ে যাবেন আমাদের চ্যানেলে - এখানে ক্লিক করে দেখুন 

এই লেখা থেকে আপনি জানতে পারবেন বিষ্ণুপুর কিভাবে যাবেন , কি কি দেখবেন ,ঘুরতে খরচ কত হবে এবং বিষ্ণুপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস । ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখে ভালো লাগলে একটি লাইক দিয়ে ও কমেন্টে আপনার মতামত লিখে আমাদের অনুপ্রানিত করবেন । আসুন শুরু করা যাক ।



বাঁকুড়া জেলা পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম ঐতিহাসিক , সাংস্কৃতিক ও ধার্মিক স্থান । এই জেলায় একদিকে আছে পাহাড় , একদিকে ঘন জঙ্গল আর জেলার প্রাণকেন্দ্র বিষ্ণুপুর এক সুপ্রাচীন ঐতিহ্যশালী শিল্পের জন্মস্থান । টেরাকোটা বা পোড়া মাটির কাজের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে লোক বিষ্ণুপুর ঘুরতে আসেন। ভ্রমণের জন্য গ্রীষ্মকাল বাদে বছরের যে কোনো সময়ই সঠিক সময় ।

প্রথমে জেনে নিন কিভাবে বিষ্ণুপুর যাবেন - 
হাওড়া থেকে অনেক ট্রেন আছে । কয়েকটি প্রতিদিন চলে া কয়েকটি সপ্তাহে ১/২ দিন অন্তর চলে , সব ট্রেনের তালিকা এখানে দেওয়া হলো -


 । হাওড়া থেকে বিষ্ণুপুরের দুরত্ব ১৩৪ কিলোমিটার , ট্রেনে সময় লাগে ৩.৩০-৪ ঘন্টা । হাওড়া থেকে ভোরের দিকের ট্রেন ধরে সকাল সকাল বিষ্ণুপুর পৌঁছে গেলে হাতে অনেকটা সময় পাবেন । এছাড়াও ধর্মতলা থেকে বিষ্ণুপুরগামি অনেক বাস পেয়ে যাবেন । প্রাইভেট গাড়ি করে এলে এখানে গাড়ি পারকিং করার জায়গা আছে , নিশ্চিন্তে আসতে পারেন ।

বিষ্ণুপুরের ইতিহাস -
প্রাচীন মল্লভূমের রাজধানী বিষ্ণুপুর। সপ্তম শতাব্দীর শেষের দিকে অর্থাৎ ৬৯৫ খ্রীষ্টাব্দে আদিমল্ল রঘুনাথ মল্ল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর বংশধর জগৎমল্ল বিষুপুরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। পরবর্তীকালে মল্লরাজ বীরহাম্বির বৈষ্ণব পণ্ডিত শ্রীনিবাস আচার্যের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে একজন পরম বৈষুব ভক্তে পরিণত হন। তিনিই মল্ল রাজবংশের কুলদেবতা ‘মদনমোহন’কে বিষুপুরে নিয়ে আসেন এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কালে কালে কৃষ্ণমন্দিরে ভরে যায় আশপাশ।

মল্লরাজাদের উদ্দেশ্য ছিল বিষ্ণুপুরকে ভারতের দ্বিতীয় বৃন্দাবন বানানোর । তাই সারা বিষ্ণুপুরে জুড়ে ছড়িয়ে আছে শতাধিক ছোট বড় মন্দির । কিছু মন্দির সংরক্ষিত আর বাকিগুলো ভগ্নপ্রায় । বিষ্ণুপুরে অনেক মন্দির থাকলেও এই ২৯ টি স্থান দর্শন করলেই মোটামুটি দেখা সম্পূর্ণ হয় ।

সব মন্দির গুলো ঘুরে দেখার জন্য বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে বা বাসট্যান্ড থেকে টোটো বা অটো রিজার্ভ করে নিতে পারেন । ভাড়া পড়বে মোটামুটি ২৫০-৪০০ টাকার মধ্যে । আমরা প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে গিয়ে বাজারের কাছে গ্যারেজে গাড়ি রেখে এই ভাইয়ের টোটো করে ঘুরেছিলাম । গাড়ি পারকিং খরচ ৫০ টাকা । আর টোটো ভাড়া নিয়েছিল ৩০০ টাকা ।

বিষ্ণুপুরের মন্দির গুলো কাছাকাছি হওয়ায় ঘুরতে খুব বেশি সময় লাগে না । এই হলো মন্দিরের একটি ম্যাপ ।



 নিচে একটি লিঙ্ক দেওয়া থাকলো সেখান থেকে এই ম্যাপটি আপনি ডাউনলোড করতে পারবেন । এই ম্যাপ অনুযায়ী ঘুরলে কম সময় আপনি অনেকটা জায়গা ঘুরতে পারবেন ।

টোটো প্রথমেই আপনাকে নিয়ে যাবে রাসমঞ্চে -
১৫৮৭ খ্রীষ্টাব্দে মল্লরাজ বীরহাম্বিরের প্রতিষ্ঠিত অনুপম স্থাপত্যের এই রাসমঞ। পিরামিডাকৃতি অভিনব গঠন শৈলীর এমন মঞ্চ ভারতবর্ষে বিশেষ চোখে পড়ে না। ইটের কার্ভিং-এর কাজ বিস্ময়কর। এটি কিন্তু কোনো মন্দির নয়, তাই এখানে কোনো বিগ্রহ নেই। অতীতে বার্ষিক রাসপর্বের সময়ে সমগ্র মল্লরাজ্যের যাবতীয় রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ এখানে একত্রিত করে মহাধুমধামে রাসোৎসব পালিত হতো। এই মন্দিরের সামনেই একটি টিকিট কাউন্টার পাবেন । মাথাপিছু ৩০ টাকার বিনিময়ে রাসমঞ্চ ঘুরে দেখে টিকিট জত্ন করে রেখে দেবেন , অন্য মন্দিরে প্রবেশ করার সময় এই একটি টিকিট দেখালেই হবে ।

রাসমঞ্চ দেখে টোটো আপনাদের নিয়ে যাবে পঞ্চ রত্ন শ্যামরায় মন্দির দেখাতে । পশ্চিমবঙ্গের যাবতীয় টেরাকোটা মন্দিরের মধ্যে এই পাঁচচূড়া বিশিষ্ট শ্যামরায় মন্দির শিল্প নৈপুণ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে রঘুনাথ সিংহের তৈরি এই পঞ্চরত্ন মন্দিরটির সূক্ষ্ম কারুকাজ হতবাক করে দেয়। মন্দিরের দেওয়ালে পোড়ামাটিতে রচিত হয়েছে রামায়ণ, মহাভারতের মতো মহাকাব্য। বর্গাকার ক্ষেত্রের মধ্যে বৃত্তাকারে শ্রীকৃষ্ণের রাসচক্রের চিত্রে , আরো জানা অজানা অনেক ছবি দেখতে পাবেন মন্দিরের গায়ে । রাজাদের শিকার দৃশ্য ও চিত্রিত আছে মন্দিরের আনাচে কানাচে। এই মন্দিরের কাজ আপনাকে অভিভূত করবে । সময় নিয়ে মনোযোগ দিয়ে দেখবেন , প্রতিটি কারুকাজ আপনাকে আনন্দ দেবে । 
এই শ্যামরায় মন্দিরের সামনে দেখবেন দাদা দিদিরা কাঠের ও পোড়ামাটির জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন । বিভিন্ন দামের হরেক রকম জিনিস , দেখলাম অনলাইন পেমেন্ট করারও সমস্ত ব্যাবস্থা আছে । আমরা এখান থেকে কয়েকটা মাটির কাপ ও মাটির ঘোড়া কিনেছিলাম , একটু দরদাম করতে হলেও জিনিস ভালো ।

শ্যামরায় মন্দির দেখার পর যাবেন জোড় বাংলা মন্দিরে - রাসমঞ্চে কাটা টিকিট দেখিয়েই এখানে প্রবেশ করতে পারবেন । ১৬৫৫ খ্রীষ্টাব্দে মল্লরাজ রঘুনাথ সিংহের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি এই জোড় বাংলা মন্দির। অনেকে এটিকে কৃষ্ণরায় মন্দিরও বলেন। দুটি বাংলা চালের উপর একটি শিখর এই মন্দিরের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর দেওয়ালের সর্বত্র আয়তকার পোড়ামাটির ব্লকে রামায়ণ, মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনা, শ্রীকৃষ্ণের লীলা, রাজাদের শিকার ও যুদ্ধ দৃশ্য দেখতে পাবেন । বাংলার টেরাকোটা মূর্তি শিল্পের সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন এখানে পরিলক্ষিত হয়।

এই মন্দিরের বাইরেও ছোট ছোট স্টল দেখতে পারবেন । আমরা ১ জোড়া কাঠের হরিন ও একটি মাটির জলের বোতল কিনেছিলাম। মাটির বোতলের ব্যাপারে একটু সতর্ক করে দিই । বোতলে জল রেখে খাওয়ার ইচ্ছা হলে যে বোতলের গায়ে রং দিয়ে ফুল ফলের ছবি আঁকা সেগুলো নেবেন না । রংএর তীব্র গন্ধের কারনে এতে জল রেখে আমরা একটুও খেতে পারিনি । এর থেকে সাদামাটা বোতল গুলো নেবেন , কাজে দেবে । এই মন্দিরের পাশে টিফিনের দোকান আছে , চা বিস্কুট ম, ডিমটস্ট খেয়ে নিতে পারেন ।

এরপর টোটো আপনাদের নিয়ে যাবে গড় দরজা দেখাতে
সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে মল্লরাজ বীরসিংহ, মাকড়া পাথর দিয়ে এই গড় দরজাটি তৈরি করান , রাজার সৈন্যরা এই বিশালাকার দুর্গের ন্যায় দরজার ভিতরে লুকিয়ে থেকে শত্রু মোকাবিলা করতো । এতো বছর আগে তৈরি তবুও এখনও আশ্চর্য মজবুত এই দরজা । এখানে কোনো কারুকাজ নেই তবে দুর্গের গায়ে যুদ্ধের ইতিহাসের ছাপ দেখতে পাবেন।
এর একটু সামনেই ছোট আরেকটি পাথরের দরজা দেখতে পাবেন - এটি হল ছোট গড় দরজা । এটিও মাকড়া পাথরের তৈরি । ছোট দরজা থেকে একটু গেলেই দেখতে পাবেন এই পাথরের রথ । মল্লরাজ দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহ ১৩০০ শতাব্দীতে মাকড়া পাথর দিয়ে চাকাবিহীন এই রথটি তৈরি করান । সময়ের সাথে সাথে রথের কারুকাজ অনেকটা নস্ট হয়ে গেছে ।

পাথরের রথ দেখে উত্তরে ১ কিমি দূরে মদনমোহন মন্দির  দেখে আসতে পারেন । বিষুপুরের মল্লরাজ বংশের কয়েকশো বছরের উত্থানপতনের ইতিহাসে জড়িয়ে আছে জাগ্রত দেবতা মদনমোহনের নাম। বিষ্ণুপুর মদনমোহনের লীলাক্ষেত্র। লোকমুখে বহুবিচিত্র কাহিনী প্রচলিত আছে প্রাণের ঠাকুরকে ঘিরে। তখন ১৭৪৩ সাল, মারাঠা সর্দার ভাস্কর পণ্ডিত বিষ্ণুপুর আক্রমণ করেন। তৎকালীন রাজা গোপাল সিংহ মদনমোহন
ঠাকুরের ওপর বিশ্বাস রেখে প্রতিরোধের কোনো চেষ্টাই করলেন না। দুদিন বাদে ভীষণ তোপধ্বনির গর্জনে বর্গীরা বিষ্ণুপুর ছেড়ে ভয়ে পালিয়ে ছিল। ভক্তদের বিশ্বাস মদনমোহন ঠাকুরই নিজে দলমাদল কামান দেগে বর্গীদের বিতাড়িত করেছেন। একরত্ন বিশিষ্ট মদনমোহন মন্দিরটি বেশ সুন্দর। সামনের দিকটা খোপ খোপ নক্সা কাটা। এই মন্দিরের বিশেষত্ব থামের অপরূপ কারুশিল্প। গোলাকার থামে খাঁজ কাটা ত্রিমাত্রিক গঠন শৈলী অনবদ্য। পশুপাখি থেকে শুরু করে মানব-মানবী সবই মন্দির গাত্রে জীবন্ত। মদনমোহন মন্দিরের উত্তর-পূর্ব দিকে গোস্বামী পাড়ায় শ্রীনিবাস আচার্য্যের সমাধিস্থল ও নিকটেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাধারমন মন্দিরও দেখে নিতে পারেন । 
এই দেখে ফেরার পথে গড় দরজার পাশেই পাবেন লালজী মন্দির ১৬৫৮ খিস্টাব্দে মল্লরাজ দ্বিতীয় বীর সিংহ এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন । ল্যাটেরাইটের তৈরি এই একরত্ন মন্দিরটি চারিপাশে সুউচ্চ পাঁচিল দিয়ে ঘেরা । পাঁচিলের বাইরের দিকের এই পার্কটি দেখছেন এটির নাম গড় দরজা পার্ক । এই পার্কে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন ।

লালজী মন্দিরের উল্টোদিকে একটু এগুলে রাস্তার ধারেই দেখতে পাবেন জরাজীর্ণ রাজবাড়ী । সময় গ্রাস করেছে সমগ্র রাজবাড়িকে । ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই দেখার নেই । একটু পিছনের দিকে গেলে দেখবেন হাওয়া মহল । রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বট অশ্বত্থ দখল করেছে এক কালের বিশালাকার এই মহলটিকে । সাপ খোপের উৎপাত আছে , বাচ্চা নিয়ে এদিকে না যাওয়াই ভালো ।

রাজবাড়ি ছাড়িয়ে দু'পা হাটলেই পৌঁছে যাবেন মৃন্ময়ী মাতার মন্দিরে , রাজা জগৎমল্ল স্বপ্নাদেশে মাটির তলা থেকে এই দেবীমূর্তি উদ্ধার করে ৯৯৭ খ্রীষ্টাব্দে মন্দিরে দেবী বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন । এই মন্দিরে এখনো নিয়মিত পূজা হয় । মন্দির প্রাঙ্গনে দুটি ডোকরা ও টেরাকোটার জিনিসের দোকান দেখতে পাবেন । কেনাকাটা করতে পারেন ।

মৃন্ময়ী মায়ের মন্দিরের উল্টদিকেই আছে রাধাশ্যাম মন্দির মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ ১৭৫৮ খ্রীষ্টাব্দে বাংলা চালের ধাঁচে এক শিখর বিশিষ্ট ল্যাটেরাইট পাথরে এই একরত্ন মন্দিরটি রাধাশ্যামের চরণে অর্পণ করেন। প্রবল আর্থিক অনটনের মধ্যেও পূর্বপুরুষদের মন্দির নির্মাণের রীতি তিনি বজায় রেখেছিলেন। তারই ফলশ্রুতি রাধাশ্যাম মন্দির। এই মন্দিরে আপনি বিগ্রহ দর্শন করতে পারবেন ।

ফেরার পথে এই কৃষ্ণ বলরাম মন্দির দেখতে পাবেন যা সংরক্ষণের অভাবে জীর্ণদশা প্রাপ্ত হয়েছে । আর একটু এগিয়েই দেখতে পাবেন মহাপ্রভু মন্দির । এর অবস্থাও শোচনীয় ।


আরো কিছুটা এগিয়ে দেখতে পাবনে গুমগড়ঃ অনেকে ভুল করে এটাকে গুম ঘড় বলেন । এটি আসলে দরজা - জানালা বিহীন একটি চৌকো দালান বাড়ি । বলা হয় যুদ্ধ অপরাধী ও রাজ অপরাধীদের এই গুমগরে ফেলে হত্যার সাজা দেওয়া হতো । অবশ্য অনেকে মনে করেন এটা নিছক একটা বড় শস্য ভান্ডার ছিল । যাই হোক , গুমগরের সোজা রাস্তা ধরে কিছুটা এগুলেই পৌঁছে যাবেন আচার্য যোগেশ চন্দ্র পুরাকীর্ত্তি ভবন বা বিষ্ণুপুর মিউসিয়ামে । বিষ্ণুপুর সম্বন্ধে আরো ভালো করে জানতে চাইলে অবশ্যই এই মিউজিয়ামটি ঘুরে নেবেন । অনেক কিছু দেখতে ও জানতে পারবেন ।

মিউজিয়ামের ঢিল ছোড়া দুরত্বে আছে লালবাঁধ । চৌকাকৃতি সুপেয় জলের এই বিশাল সরোবরের নাম লালবাঁধ। এছাড়াও বিষ্ণুপুর জুড়ে যমুনাবাঁধ, পোকাবাঁধ, শ্যামবাঁধ, কালিন্দীবাঁধ নামের আরো কয়েকটি বাঁধ আছে । লালবাঁধের সাথে দ্বিতীয় রঘুনাথের প্রেয়সী লালবাঈয়ের নাম ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। অনেক রকম গল্প কথা এই বাধের সাথে প্রচলিত । অনেকে বলেন এই বাধের নিচে সুরঙ্গ আছে । অনেকে বলে রাজার সম্পত্তি পোঁতা আছে । তবে আর কিছু না হোক এখানে আপনি কিছুটা সময় বিশ্রাম নিয়ে নিতে আপ্রবেন । শীতের দিনে পিকনিকের জমজমাট আড্ডা বসে লালবাঁধের ধারে। 


বাধের উত্তর পাশের বিজয় যোগাশ্রম এবং পশ্চিম পাড়ের খানিকটা দূরে বকুলকুঞ্জের মধ্যে সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দিরও দেখে নিতে পারেন । শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পদধূলিধন্য এই জাগ্রত স্থান ও সংলগ্ন ঘাট রামঠাকুরের ভাব সমাধির সাক্ষী।

লালবাঁধ থেকে টোটো আপনাদের নিয়ে যাবে রাধামাধব মন্দির ও কালাচাঁদ মন্দির । রাধামাধব মন্দির টি মহারাজ গোপাল সিংহ তাঁর জ্যেষ্ঠা পুত্রবধু ধর্মপরায়না চূড়ামণি দেবীকে দিয়ে ১৭৩৭ খ্রিস্টাব্দে  প্রতিষ্ঠা করান । একরত্ন মন্দিরটি রাধামাধবের শ্রী চরনে নিবেদিত । 

এর পাশেই দেখবেন কালাচাঁদ মন্দির - এটি ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ রঘুনাথ সিংহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত । মন্দিরের সামনের দিকে কৃষ্ণলীলা ও পুরানের দৃশ্যাবলী দেখতে পাবেন । কিছুটা সামনে এগিয়ে দেখতে পাবেন জোড় মন্দির । এই মন্দিরের পাশেই পোড়া মাটির হাট বসে । এখান থেকেও টেরাকোটার জিনিস কিনতে পারবেন ।  

এর উল্টোদিকে আছে নন্দলাল মন্দির । একচালার এই মন্দিরটিতে তেমন কোনো কারুকার্য নেই । সঠিক কোন সালে তৈরি সেটাও জানা যায়নি । তবে মন্দিরের গায়ে চুনের কাজ দেখে অনুমান করা হয় সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এটা তৈরি করা হয়েছে । 

এরপর টোটো আপনাদের নিয়ে যাবে দলমাদল কামান দেখতে । বিষ্ণুপুরের রাজাদের প্রতিরক্ষার জন্য কামান ব্যাবহারের প্রচলন ছিলো । বিষ্ণুপুরে আরো অনেক কামান ছিলো । বর্তমানে এই একটিই অবশিষ্ট আছে , বাকিগুলি ইংরেজ বাবুরা নিয়ে গেছেন বা নস্ট করে ফেলেছেন । এই দলমাদল কামানটি ৬৩ টি বিশালাকার লোহার আংটা ঢালাই করে তৈরি । এর ওজন প্রায় তিনশো মন । কামানের দৈর্ঘ্য ১২ ফুট আর মুখের ব্যাস ১ ফুট । এত বছর পুরানো লোহার জিনিস অথচ মরচে পড়েনি । দেখে ভালো লাগবে । আমি বাবা মামা আর মেশো এই কামানের সামনে একটা গ্রুপ ফটোও নিয়েছিলাম । 

দলমাদল কামানের পাশেই ছিন্নমস্তা মায়ের মন্দিরে । মেদিনীপুরের বিখ্যাত ব্যবসায়ী শ্রীযুক্ত কৃষ্ণচন্দ্র গুই ১৯৭৩ সালে এখানে মা ছিন্নমস্তার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মার্বেল ও টাইলস দ্বারা নির্মিত আধুনিক মন্দিরে মহামায়া মা ছিন্নমস্তারূপে পূজিতা। রাজস্থানের পাথরে তৈরী রক্তবর্ণ দেবীমূর্তিটি অপূর্ব। এইখানে আপনি ছিন্নমস্তা মায়ের পুজো দিতে পারেন , সমস্ত ব্যাবস্থা আছে । 

মন্দিরের উল্টোদিকে ভাত খাওয়ার হোটেল পাবেন । দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে পারেন । 

মোটামুটি এইখানেই আপনার বিষ্ণুপুর দর্শন সম্পূর্ণ হবে । 

হাতে সময় থাকলে ছোট খাটো আরো কিছু মন্দির দর্শন করতে পারেন । তবে তেমন বিশেষ কিছু পাবেন না । পরের দিন মুকুট্মনিপুর , বা শুশুনিয়া পাহাড় বা গনগনি যাওয়ার প্ল্যান থাকলে রাত্রে থাকতে পারেন বিষ্ণুপুর সরকারী গেস্ট হাউসে  বা অন্যান্য যেকোনো হোটেলে । কিছু হোটেলের ফোন নাম্বার ডেসক্রিপশনে দেওয়া লিঙ্ক থেকে পেয়ে যাবেন । আর থাকতে না চাইলে সন্ধ্যের দিকে ট্রেন ধরে রাতের আগে হাওড়া ফেরত চলে আসতে পারবেন । বাসে করে আসতে চাইলে বিষ্ণুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নাইট সার্ভিস বাস পেয়ে যাবেন ।  


বিষ্ণুপুর ট্রাভেলের সম্পূর্ণ ভিডিও পেয়ে যাবেন আমাদের চ্যানেলে - এখানে ক্লিক করে দেখুন 

বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ভ্রমনের সম্পূর্ণ গাইড । ২৯ টি স্পট ঘুরুন ১ দিনে । জেনে নিন বিস্তারিত বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ভ্রমনের সম্পূর্ণ গাইড । ২৯ টি স্পট ঘুরুন ১ দিনে । জেনে নিন বিস্তারিত Reviewed by WisdomApps on জুন ১২, ২০২২ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.