• শ্রীমৎ বিজয়কৃষ্ণ গােস্বামীর অমৃতবাণী
1️⃣ যথার্থ সত্যলাভ করতে হলে সকল প্রকার সংস্কার বর্জিত হতে হয়। সংস্কার সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ হলে মনটি একেবারে নির্মল হয়ে যায়। যারা কোনও মতামতের বা সংস্কারের অধীন না হয়ে কেবলমাত্র নিজের অন্তরে সত্যেরই অনুসন্ধান করেন, তাদের কোনাে দলও নেই, সম্প্রদায়ও নেই।
2️⃣ বৈধভাবে...ইন্দ্রিয় চরিতার্থ করে নাও..তবে তাে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে।...“কাম” নষ্ট হােক...একথা ঠিক না। কাম থাকুক, কিন্তু (আত্মবোেধ থাকুক) ত্রিগুণাতীত হয়ে। এই কামই উপাসনা, ভজন, যা কিছু; তখন তার নাম প্রেম।
3️⃣ জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন হলে তখন আত্মা নিজেকে (স্বতন্ত্রবােধে ধারণ করা) ভুলে যায়, যা দেখে ব্রহ্মসত্তাই দেখে ....অন্যেরা ভাবে সে ভগবানের সঙ্গে মিলে গেছে, কিন্তু তখনও তার পার্থক্য বােধ থাকে—ভগবানের রাসলীলা দেখতে থাকে ও ধন্য হয়।
4️⃣ ভগবান ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিবরূপে যেমন মায়িক সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয়ের কর্তা হয়ে আছেন, সেইরূপ অপ্রকৃত বৈকুণ্ঠ-শিবলােকাদি ধামেও তার ওই প্রকার সচ্চিদানন্দ রূপ আছে। ভগবানই এক এক রূপে ভক্তের নিকট লীলা করেন।
.
5️⃣ মানুষের মনুষ্যত্বকেই মানবীয় ধর্ম বলে। প্রত্যেক মানুষ সাধনা করলে এই মানবীয় ধর্ম অতিক্রম করে “দেবত্ব লাভ করে।...এই দেবত্ব থেকে উন্নত হলে (মানুষ) জীবাত্মা পরব্রহ্মের অসীম সত্তায় প্রবেশ করে লীলারস সম্ভোগ করে।
6️⃣ সদগুরু প্রদত্ত নাম, অক্ষয় নয় বা একটা শব্দ নয়। এই নামেই অনন্ত শক্তি। শিষ্যের ভেতরে এই শক্তি সঞ্চারই সদ্গুরুর দীক্ষা। ঈশ্বরের শক্তি সকলের মধ্যেই আছে। একটি মহাপুরুষের শক্তি দ্বারা সেই শক্তিকে জাগরিত করে দেওয়াকেই শক্তিসঞ্চার বলে।
7️⃣ সমস্ত জীব কেবল (মায়িক) উপাধিতে আবৃত বলে (স্বরূপে) অন্ধবৎ আছে।' যত কাটে, ততই দেবত্ব লাভ করে। এই জন্য জীবকে “চিৎকণ” বলেছে। জীব (উপাধি) মুক্ত হলেই “শিব” (স্বরূপ)।
8️⃣ একটি কাজ নিতান্ত অনিচ্ছা থাকলেও এবং পুনঃ পুনঃ বিরত হতে চেষ্টা করেও যখন অবশ হয়ে তা করে ফেলাে, তখন তা প্রারন্ধবশতই হল জানবে।...অনিচ্ছাসত্ত্বেও যখন কোনাে কাজে প্রবৃত্ত হতে হয় জানবে, ওই কর্ম “প্রারব্ধ”।
9️⃣ পাপ ও পূণ্য-সবেরই একটা স্বরূপ আছে, সেটি দর্শন হলেই... লােকে ঠিক বুঝতে পারে।...এখন যা পাপ-পূণ্য মনে করছাে, সমস্তই একটা সংস্কারমাত্র।
🔟“অন্নময় কোষ” ভেদ হলে পার্থিব বস্তুতে আকর্ষণ থাকে না। “প্রাণময় কোষ” ভেদে শারীরিক উত্তেজনা (আর) থাকে না। “মনােময় কোষ” ভেদে সঙ্কল্প— বিকল্প যায়। বিজ্ঞানময় কোষ” ভেদে সংশয় বুদ্ধি থাকে না। “আনন্দময় কোষ” ভেদে পার্থিব আনন্দে (আর) মুগ্ধ করতে পারে না। তত্ত্বজ্ঞানের উদয়ে “মােহ’ নষ্ট হয়।
1️⃣1️⃣জ্ঞান ও ভক্তি উভয়ই প্রয়ােজন। জ্ঞান না হলে ভক্তি প্রকাশ হয় না। কারণ যাকে ভক্তি করবে, তার বিষয়ে না জানলে কাকে ভক্তি করব? ভগবানের পদাশ্রিত ভগবৎ-জন মহাপুরুষেরাই সদ্গুরু।
কর্তৃত্বাভিমান না গেলে মানুষ মুক্ত হয় না।
1️⃣2️⃣ ...ভগবানই সর্বময় কর্তা।...তার অজ্ঞাতসারে বা তার ইচ্ছা না হলে একটি তৃণও নড়ে না।..কর্তৃত্বাভিমান যতকাল আছে, ততকাল তাপও আছে। কর্তৃত্বাভিমান না থাকলে কোনাে তাপই স্পর্শ করে না।..তিনিই সব করেছেন, তিনি সমস্ত করিয়ে নিচ্ছেন—এটি বুঝলেই শান্তি।
1️⃣3️⃣ মহাপুরুষদের কথা তাে শাস্ত্র বিরুদ্ধ হয় না, তবে শাস্ত্রের সাধারণ ব্যবস্থার সঙ্গে মিল নাও হতে পারে। বিশেষ বিশেষ অবস্থায়, বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থা—এ তাে শাস্ত্রেই আছে।
1️⃣4️⃣ শ্রদ্ধা-ভক্তি ভালােবাসা এই তিনটি পিঠের ওপর মানুষের জীবন দাঁড়িয়ে আছে। যে কোনাে একটি যদি অবসান ঘটে যায় তাহলে বাকি দুটি আর ক্রিয়াশীল থাকতে পারে না।
1️⃣5️⃣ অপরের ওপর বিনা কারণে কতৃত্ব করবে না। দুর্বলের ওপর অত্যাচার করবে না। সকলকে বেশি শ্রদ্ধা-ভক্তি দেখাবে না। এই সবকটি ত্যাগ করা উচিত।
