ত্রৈলঙ্গ স্বামীর অসাধারন কিছু বাণী - quotes by Trailanga swami



quotes by trailanga swami



 • চঞ্চল স্বভাব মন যে যে বিষয়ে বিচরণ করবে সেই সেই বিষয় থেকে প্রত্যাহার করে আত্মায় নিবিষ্ট করবে।..মনকে আত্মায় নিহিত করে স্থির বুদ্ধির দ্বারা অল্পে অল্পে বিরতি অভ্যাস করবে, অন্য কিছু চিন্তা করবে না।

• সামান্য, বিষয়-সম্পত্তি “আমার” বলতে মানুষের এতাে আহ্লাদ হয়, যদি একবার সরলচিত্তে ভত্তিভাবে অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড, যার তাকে “আমার” বলতে পারা যায়, সেটিতে তাহলে কী অপূর্ব আনন্দ হয়!

• পরমব্রহ্মই এই জগৎ উৎপত্তির নিমিত্ত ও উপাদান কারণ। সেই ব্রহ্ম ব্যতীত অন্য কিছুই নেই।...ব্রহ্ম থেকে উৎপন্ন এই জগৎ ব্রহ্মাই। বস্তুতঃ সমস্তই কেবল ব্রহ্ম।

• ভালােবাসা দ্বারা ক্রোধ জয় করাে, মঙ্গল দ্বারা অমঙ্গল জয় করাে। পরার্থপরতা দ্বারা স্বার্থপরতা জয় করাে। সত্য দ্বারা মিথ্যা জয় করাে।

• মুমুক্ষু ব্যক্তি প্রথমে স্থূলরূপের আশ্রয় নেবে ; ক্রমে ঈশ্বরের অবিনাশী পরম সূক্ষ্মরূপের লক্ষ্যে প্রবৃত্ত হলে বিশ্বরূপ যে কী প্রকার তা অনুভব করতে পারবে।

• যেমন আকাশে কুসুম (ফুল) হয় না। সেই  রূপে আত্মারও কর্তৃত্ব নেই।

• যার যে মতে বিশ্বাস, সে সেই মতেই ধৰ্মলাভে সমর্থ, কখনাে কারাে ধর্মবিশ্বাস ভঙ্গ করা কোনাে মতেই উচিত নয়।...যার যে, ধর্মে বিশ্বাস তার তাতেই মুক্তি। কারাে ধর্মে বিদ্বেষ করাে না।

• এই যে বিশ্বব্যাপী জগৎ, যা একশক্তির দ্বারা চালিত হচ্ছে, তা-ই ঈশ্বরের অনন্তশক্তি। কি স্থূল, কি সূক্ষ্ম, জগতে যতপ্রকার শক্তির ক্রিয়া দেখা যায়, তা সবই ঈশ্বরের শক্তি এবং এই শক্তিই চৈতন্যশক্তি। 

• তিনিই সকল দেহে আছেন, কেবল উপাধিগুণের সংসর্গে তাঁরই “জীব” সংজ্ঞা হয়েছে।

• বিশিষ্ট যােগী স্বীয় আত্মাতে সমগ্র জগৎ কে, এবং সেই এক আত্মাকেই সমগ্র জগৎরূপে দেখেন। এই বিশ্বসংসারে সকল প্রাণীই (স্বরূপতঃ) সমান। কারও হিংসা করা উচিত নয়।...তুমি নিজে যদি হিংসা প্রবৃত্তি ত্যাগ করাে, তবে কোনাে প্রাণীই তােমার প্রতি হিংসা করবে না।

• জগতে অনেক প্রকার সাধক আছেন। তার মধ্যে দুটি শ্রেণির সাধক প্রধান। প্রথমটির সাধক সংসারের বন্ধন ছেদ করে নিজের মুক্তির জন্য যােগ ও তপস্যা করেন। আর দ্বিতীয়টির সাধক মানব-মণ্ডলীকে আপন জ্ঞান করে তাদের মুক্তি নিজের মুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করেন এবং প্রেম সহযােগে তাদের ধর্মপথে আনয়ন করেন।

• ভগবানকে পাওয়ার জন্য যদি প্রাণ কেঁদে ব্যাকুল হয়, তবে নিশ্চয় জানবে, ভগবান স্বয়ং তােমার সহায় হয়ে সদ্গুরু মিলিয়ে দেবেন।

• সমাধি অর্থে ব্ৰহ্মে মন স্থির করা, জীবাত্মা ও পরমাত্মার একীকরণ (বােধ) সমাধি যােগের ফলস্বরূপ। চিত্ত বশীভূত হয়ে সকল কার্যে নিস্পৃহ হয়ে আত্মাতেই যখন অবস্থান করে তাকেই “সমাধি” বলে।

• যে রকম এক আকাশকে ঘটাদি উপাধিভেদে ঘটকাশরূপে ভিন্ন ভিন্ন বােধ হয় এবং ঘট ভগ্ন হলে যে এক আকাশ আছে তা-ই থাকে, (কারণ) আকাশ ভিন্ন ভিন্ন হয় না, তেমনই এক পরমাত্মাকে নানা উপাধিভেদে ভিন্ন ভিন্ন আত্মারূপে বােধ হয়। উপাধি বিনাশ হলে যে এক, পরমাত্মা তাই থাকেন। বদ্ধ কে?—যে বিষয়াসক্ত। মুক্তি হয় কিসে?—আত্মজ্ঞানে। কিসের বিনাশে মােক্ষ হয়?—চিত্তচাঞ্চল্য (বিনাশে)। জাগ্রত কে?—যার সদসৎ বিবেক আছে। জীবন্ত কে?—যে উৎসাহশূন্য। মােহান্ধ কে?—যে কামাতুর। পাশবদ্ধ হয় কিসে?–মমত্ব ও অভিমানে। দুঃখী কে?—যে বিষয়ানুরাগী। মূখ কে?—যে বিবেকহীন। দুস্যা কী?-কু বাসনা। চঞ্চল কী?—মন, ধন, যৌবন ও আয়ু। দিব্যব্রত কী? সকলের কাছে বিনয়ী থাকা। প্রকৃত বন্ধু কে?—যে বিপদকালে সহায়। পরমতীর্থ কে?—শুদ্ধচিত্ত। ধন্য কে?—যে পরােপকারী। পূজ্য কে? যিনি ব্রহ্মজ্ঞ।

• বিষয়-কার্য অনুরােধে যে কথা না বললে কার্যসিদ্ধি হয় না, কেবল। সেই কথা মাত্র বলবে...বৃথা বাক্য উচ্চারণ করলে তেজ ক্ষয় হয়। আমি কর্তা নই। সুতরাং আমার বন্ধন ও মুক্তি নেই। আমি দেহ নই। সুতরাং আমার জন্ম-মৃত্যুও নেই। আমি প্রাণ নই। সুতরাং আমার ক্ষুধা-তৃষ্ণা নেই। আমি চিত্ত নই। সুতরাং আমার শােক-তাপ মােহাদিও নেই।

• আমি সৎ চিৎ আনন্দ পরমাত্মা। জীবভাব পরিত্যক্ত হলেই আত্মস্ব ভাবরূপ ব্যাপ্তী বােধে এই জাগৃতি হয়।

• (অখণ্ড) ঈশ্বর নির্বিশেষে। তাই তিনি নিগুণ। এই খণ্ডঘােধের জগতে যত প্রকার গুণ আছে, সকলই ঈশ্বরের গুণ থেকে উদ্ভূত হয়েছে, সুতরাং এই গুণটি সেখানে আছে, আর বিপরীত ভাবাপন্ন গুণটি, সেখানে নেই, এই কথা কেউ বলতে পারবে না। যতগুণ আছে সমস্তই তার এই অনির্বচনীয় “গুণের অন্তর্গত”।

• “ইন্দ্রিয়সংযম” শব্দের দ্বারা এমন বুঝতে হবে না যে ইন্দ্রিয় সকলের একেবারে উচ্ছেদ বা ধ্বংস করতে হবে। ইন্দ্রিয়গণকে সংযত অর্থাৎ আপন বশে আনতে হবে; তাদের বশে যাবে না—এরই নাম ইন্দ্রিয় সংযম।

• কোনাে প্রকার একটা পথ অবলম্বন না করলে ধর্ম যে কী তা জানা যায় না।

• যিনি নিজেকে জেনেছেন তিনি ভগবানকেও জেনেছেন এবং সংসার যে কী তাও বেশ বুঝেছেন। বস্তুতঃ (আলাদাভাবে) সংসার বা জগৎ নেই, সমস্তই কেবল ব্ৰহ্ম। 

• ভেকধারী ভণ্ড ধর্মের কলঙ্ক।

• স্বয়ংব্রহ্ম সমস্ত বস্তুর অন্তরে ও বাইরে ব্যাপ্ত থেকে সমস্ত জগৎকে প্রকাশ করেন।

• তার লৌকিক কার্যকলাপ দেখে, তিনি অপ্রত্যক্ষ হলেও তাকে প্রত্যক্ষ বলে বােধ হয়। সব মানুষকেই “আমার” এই কথাটিতে মুগ্ধ করে রেখেছে।...আমি যাকে “আমার” বেশ যত্ন করি কালের বশে তা কার হবে তা কারও বলার সাধ্য নেই।

• সর্বব্যাপী আত্মার স্বীয় মায়াতে সৃষ্টিরূপ দ্বৈতবিস্তার প্রকাশ পায়।

• চিত্তবুদ্ধির প্রথম লক্ষণ অন্তরে শান্তি, দ্বিতীয় লক্ষণ পরকে ভালােবাসা, তৃতীয় লক্ষণ ঈশ্বরে ভক্তি।  যা কিছু দেখছাে সবই আনন্দস্বরূপ চিন্ময় ব্রহ্ম।....এই বিশ্ব (মায়ারচিত অনাদি) দীর্ঘস্বপ্ন বলে জানবে। দ্রষ্টার চৈতন্য—স্বরূপ স্বপ্নকাশের অন্তরে অবস্থিত।

• এই জগৎ বাস্তবিক রচিত নয়। তরঙ্গবৎ এটি স্বতঃসস্তৃত। এর কেউই (আলাদা) কর্তা নেই। আত্মা কেবলমাত্র সাক্ষীরূপে অবস্থিত।

• কেবল সত্যস্বরূপ চৈতন্যই মাত্র আত্মা (ব্রহ্ম)।

• আহার দিতে ধর্মের হানি হয় না, কেবল মুক্তি পেতে বিলম্ব হয়।

• যিনি আকাশের মতাে সর্বব্যাপী, যিনি নিত্য চৈতন্যস্বরূপ তিনিই ব্রহ্ম | 


Tags: quotes by trailanga swami , tailanga swami quotes ,ত্রৈলঙ্গ স্বামীর বানী ,সাধুদের বাণী,তৈলঙ্গ স্বামীর উক্তি ,ত্রৈলঙ্গ স্বামী ,trailanga swami teaching

ত্রৈলঙ্গ স্বামীর অসাধারন কিছু বাণী - quotes by Trailanga swami ত্রৈলঙ্গ স্বামীর অসাধারন কিছু বাণী - quotes by Trailanga swami Reviewed by WisdomApps on জুন ২৬, ২০২১ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.