Results for Life

মারণ ভাইরাস কোরোনা আমাদের কি কি শিক্ষা দিল ? - এই শিক্ষা ভুলবার নয় ।

June 16, 2020



☞ পৃথিবী ফেরত চেয়েছেন ঈশ্বর।

☞ কি হলো এত পরমাণু বোমা, হাইড্রোজেন বোমা বানিয়ে আমেরিকার বি-স্টেলথ ( B-2 Spirit ) বোমারু বিমান নাকি আলপিনের ডগায় বোমা ফেলতে পারে কয়েক কিলোমিটার উঁচু থেকে, রাশিয়ান S-400 Triumph মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, নাকি পৃথিবীকে কয়েক চক্কর কেটে ফেলার ক্ষমতা ধরে। AK107 ( Russian 5.45 ✘39mm. assault rifle) রাইফেল নাকি আস্ত ট্যাংক উড়িয়ে দেয় এক নিমেষে। 

☞ মানুষ মারার কত আয়োজন। 

☞ মনে আছে, সিরিয়ার সেই ৩ বছরের ছেলেটির কথা ? বোমায় ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে মরে যাবার আগে যে বলেছিল, "আমি ঈশ্বরকে সব বলে দেব।"

☞ সে হয়তো ঈশ্বরকে সব ব'লে দিয়েছে।

☞ হয়তো বলে দিয়েছে,
আমাদের পৈশাচিকতার কথা, লোভের কথা, অসভ্যতার কথা, নির্যাতনের কথা।

☞ আমরা মানুষ মেরেছি হাজারে হাজারে, একে অপরকে ধ্বংস করার জন্য মারণাস্ত্র বানিয়েছি লক্ষ - কোটি। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে গড়ে তুলেছি গগনচুম্বী অট্টালিকা।  মানুষে মানুষে বিভেদ বাড়ানোর জন্য তৈরি করেছি নানান গোপন অস্ত্র।

☞ সুইডেনের ইন্টারন্যাশনাল পীস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে ২০১৮ সালে পৃথিবীতে কেবলমাত্র যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য খরচ হয়েছে ১.৮২২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

☞ সে হয়তো ঈশ্বরকে সব বলে দিয়েছে।

☞ বলেছে সেই পাখিটির কথা, যে আর আকাশে ওড়ে না। বলেছে সেই আকাশের কথা, যা একদিন নীল ছিল। বলেছে সেই বাতাসের কথা, যা একদিন নির্মল ছিল। বলেছে সেই পৃথিবীর কথা, যা একদিন সবার ছিল।

☞ এই সবার পৃথিবীকে আমরা ভাগ করেছি ইচ্ছেমতো।

☞ ধর্মের নামে, দেশের নামে, ভাষার নামে মানুষকে দূরে সরিয়েছি।

☞ চামড়ার রং দিয়ে, গণতন্ত্রের নাম দিয়ে, রাজনৈতিক স্বার্থে স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে, কেটে টুকরো টুকরো করেছি নিজেদের।

☞ সাগর পাড়ে পরে থাকা আ্যালান কুর্দি, কাঁটাতারে ঝুলতে থাকা ফেলানি হয়তো সব বলে দিয়েছে ঈশ্বরকে।

☞ ঈশ্বর তার পৃথিবী ফেরত চেয়েছেন এবার।

☞ তিনি হয়তো শুনেছেন সব অভিযোগ। হয়তো শুনেছেন প্রকৃতির করুণ আর্তনাদ। শুনেছেন সেই পাখিটির কান্না।

☞ এটাই হয়তো ঈশ্বরের মার, কিংবা প্রকৃতির প্রতিশোধ। বৈভবে মোড়া দুবাই - এর ৮২৮ মিটার উঁচু বুর্জ খলিফা নাকি খাঁ খাঁ করছে। সোনা আর পেট্রো ডলারে মুড়ে রাখা অহংকার থরথর করে মৃত্যুভয়ে কাঁপছে। 

☞ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটা ভাইরাসের ভয়ে প্রবল পরাক্রমশালীরা অসহায়ের মত ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন কোটের কলার ফাটা বিজ্ঞানীর দিকে, অথবা রাতজাগা ক্লান্ত অবসন্ন, কিন্তু হার না মানা জেদি ডাক্তার আর নার্সের দিকে।

☞ চরম উন্নাসিকতায় যাদের দিকে কেউ ফিরেও তাকাত না, আজ সেই সাফাইকর্মীদের পুষ্পবৃষ্টি আর শঙ্খধ্বনিতে হচ্ছে আবাহন। 

☞ তবে এ যুদ্ধ কি কেবল অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে ? বোধহয় নয়। লকডাউনে খাবারের অভাবে গঙ্গায় পাঁচ সন্তানকে মায়ের বিসর্জন। এক পেট ক্ষিদে নিয়ে, এক বুক কষ্ট নিয়ে, নিজের এক রাশ না পাওয়ার সাম্রাজ্যে ফিরতে চাওয়া, একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু। কোমল রক্তাক্ত পা'য়ে ১১ বছরের জামলোর মৃত্যু। সন্তানের মুখে সামান্য খাবার তুলে দিতে না পারার অব্যক্ত যন্ত্রনায় কর্মহীন পিতার আত্মহত্যা। এইসব কিছুর বিরুদ্ধে আমরা কি প্রতিদিন নিজেদের মনের ভিতরে এক অদৃশ্য লড়াই করছি না ?  

☞ একদিন হয়তো সব ঠিক হবে, কিন্তু আমরা কি সত্যিই মানুষ হবো ?

☞ এই অন্তহীন প্রশ্ন ভবিষ্যতের জন্য রেখে আজ অন্তত বাঁচার স্বপ্ন দেখি।

☞ আমরা রাষ্ট্রের আহ্বানে সম্মিলিতভাবে থালাবাসন না বাজিয়ে, সম্মিলিতভাবে মোমবাতি না জ্বালিয়ে, আতসবাজি না পুড়িয়ে,  ফানুস না উড়িয়ে। নিজেদের অন্তরের আহ্বানে সম্মিলিতভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। 

☞ এ যাত্রায় যদি বেঁচে থাকি, একটি সবুজের বীজ বপন করবো। তাকে সন্তানস্নেহে লালন করে মহীরুহে পরিণত করবো। একটি পাখীর শিকল কেটে উড়তে দেবো। আর নিজের সন্তানকে তথাকথিত শিক্ষিত, ধনী ও স্বার্থপর নাগরিক হওয়ার নয়, দেবো প্রকৃত মানুষ ( মান ও হুঁস ) হয়ে ওঠার শিক্ষা।


সংগৃহীত। লিখেছেন সুব্রত উকিল মহাশয় । 
মারণ ভাইরাস কোরোনা আমাদের কি কি শিক্ষা দিল ? - এই শিক্ষা ভুলবার নয় । মারণ ভাইরাস কোরোনা আমাদের কি কি শিক্ষা দিল ? - এই শিক্ষা ভুলবার নয় ।  Reviewed by Wisdom Apps on June 16, 2020 Rating: 5

লকডাউনে ঘরে বসে বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক - ক্লাস কি চলছে ?

June 14, 2020



আমিএকজনশিক্ষক ।ঘরে বসে দুমাস ধরে যে সরকারের কাছ থেকে বেতন নিচ্ছি।এই বিষয়ে কথা বলার আগে একটা ঘটনা শেয়ার করি আপনাদের সঙ্গে।

একবার হাওড়া থেকে লোকাল ট্রেনে ফেরার সময় বাধ্য হয়ে জেনারেল কামরায় উঠি।ওঠা থেকেই পিছনের দিকে কোনা থেকে কিছু অল্পবয়সী ছেলেদের উল্লাসময় চিৎকার এবং নিজেদের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত ইয়ার্কি ঠাট্টায় সবাই বিরক্ত হই। কিছুক্ষন পর ফিরে তাকাতেই তাদের একজনের দিকে চোখ পড়ে এবং চিনতে পারি সে আমারই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র। সেও চিনতে পারে এবং হাসিমুখে জিজ্ঞাসা করে কেমন আছি।আমি আবার আমার মত থাকি।খানিক পর খেয়াল করি পুরো গ্রূপটাই চুপচাপ। অল্প কিছু কথা ভেসে আসছে তবে বেশ নিচু গলায়।তারকেশ্বর অবধি এটাই চলে।বুঝতে পারি ছাত্রটি বাকিদের নিয়ন্ত্রণ করেছে আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন বশত।
এটা একটিমাত্র নয়।এমন অনেক ঘটনার সাক্ষী আমরা শিক্ষকরা সকলেই কমবেশি।আর যারা শিক্ষক নন তারাও।শিক্ষকদের সুকর্মের সুফলটা কিন্তু সকলেই ভোগ করেন।নিশ্চিন্ত সুষ্ঠ সামাজিক জীবন যাপন করেন।

এবার বলি কেন এই ঘটনার অবতরণ
আপনারা যারা বলছেন আমরা বিনা শ্রমে বেতন নিচ্ছি তারা একটিবারও ভেবে দেখেছেন 'শিক্ষা' কি?ঘন্টা ধরে সময় মেপে পাঠ্যপুস্তক আউড়ে দেয়াটাই কি শিক্ষা? না।সেটা আপনারাও জানেন। কিন্তু স্মৃতি বিচ্যুতির কারনে আজ রে রে করে উঠছেন শিক্ষকের বিরুদ্ধে।ভেবে দেখেছেন আপনার ছাত্রাবস্থায় আপনি শিক্ষককে কি দিয়ে বিচার করতেন?তাদের মাসমাইনে কত খোঁজ রাখতেন? না।বরং বলব তাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ অভ্যাসগুলো খুঁটিয়ে দেখতেন।তাদের অনুকরণ অনুসরণ করবার কথা ভাবতেন।ভালোবাসে দুষ্টুমি করে তাদের নানান নামকরণ করতেন।তাদের দেওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়েই আজ আপনারা সমাজে সভ্য বলে পরিচিত।যেমন করে ওই ছেলেগুলি সেদিন তার অর্জিত শিক্ষার পরিচয় দিয়েছিল। অর্থাৎ ভাঙিয়ে খাওয়া। শিক্ষকের কাছে থেকে আমরা যা পাই তা আসলে সময়ের মাপদন্ড দিয়ে বিচারযোগ্য নয়। ক্লাস শেষ হয়ে যায় ।স্কুল ছাড়তে হয়।কিন্তু শিক্ষাটা বহন করে নিয়ে যায় ছাত্ররা।ভবিষ্যৎ জীবনে একজন সুনাগরিক হয়ে ওঠে।
তাই আজ যে ছেলেটা রাস্তায় থুথু ফেলছেনা,জল অপচয় করতে গিয়ে একবার থমকাচ্ছে,পরিবেশ নিয়ে ভাবছে,মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়াচ্ছে,কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখছে তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে রয়েছি আমরা। কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো শিক্ষক রয়েছেন একজন ভালো নাগরিক গঠনে। শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব অনুসরণ করতে চাওয়া ছাত্রাবস্থায় খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা যা আপনিও চেয়েছেন।কিন্তু আজ ভুলে গিয়ে বেতন নেওয়াটা দেখছেন।অলক্ষ্যে আমাদের শিক্ষার প্রবাহই যে আপনার সন্তানকে সুসন্তান করে রেখেছে,আপনার প্রতিবেশীকে সুপ্রতিবেশী করে রেখেছে আপনাকে প্রতিবাদমুখর সচেতন করে রেখেছে সেটা দেখতে পাচ্ছেননা।
#সিলেবাস শেষ হবেই।স্কুলও খুলবেই। কিন্তু বই পড়ে কি শিক্ষা সম্পুর্ন হয়?হয়না। হয় শিক্ষকের সান্নিধ্য থেকে। একটা সান্নিধ্য হাজারটা সুশিক্ষার বাহক।
গাছের মূল কোনোদিনই দেখা যায়না। পিতামাতা আর শিক্ষক এই ত্রয়ী আসলে শিকড়ের মত আড়ালে থাকে।কিন্তু এদের পুষ্টি সরবরাহ কখনো বন্ধ থাকতে পারেনা।এ নিরন্তর প্রবাহ। ছাত্রের অন্তরে প্রবাহিত হতে থাকে ।আর সমাজে তার ছাপ পড়তে থাকে।
আমি নিজে সেই কবে ছাত্রাবস্থায় আমার শিক্ষকদের বেতন দিয়েছি ।বিনিময়ে ক্লাস নিয়েছি। কিন্তু ক্লাসের বাইরে তাদের থেকে যা নিয়েছি সেই তাদের শিক্ষাকে ভাঙিয়ে তাদের ব্যক্তিত্বকে অনুসরণ করেই আজও আমার শিক্ষকজীবনকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছি।মেপে তো দেখিনি কতটা দিয়েছি আর কতটা পেয়েছি।
মালির মত গোড়ায় সার জল দিয়ে যে শক্তি সঞ্চয় করে দেন শিক্ষকরা তাই আজীবনের পুঁজি হয় ছাত্রদের। কিছুদিন পর তার প্রয়োজন ফুরোয় ঠিকই কিন্তু তার অবদান ফুরোয়না।

তাই কতটা দিলাম কতক্ষন দিলাম না দেখে সিলেবাসের বাইরে বেরিয়ে ভাবুন কি দিলাম আমরা। আর একটিবার আপনার ছাত্রাবস্থায় ফিরে যান।দেখবেন শিক্ষক আসলে শিক্ষা থেকে বিরত থাকেননি কখনো। প্রতিটা ক্ষেত্রে সফল মানুষের পিছনে একজন না একজন শিক্ষক অবধারিতভাবে আছেন। একবার নির্মল হোন। হিংসামুক্ত হোন আপনার জীবনের সেই সব শিক্ষকদের সম্মানার্থে।
স্কুল মানে একটা বিল্ডিং শুধু নয়। একটা সম্পর্ক।এ অবিচ্ছেদ্য। দুমাস তিনমাস বিরতি থাকতে পারে ঘন্টা বেঁধে ক্লাসরুমে।কিন্তু ঘন্টার বাইরে ক্লাসের বাইরে জানবেন ক্লাস সবসময় চলছে। আর যেটাকে আপনারা বেতন বলছেন সেটা আসলে আমরা জানি সাম্মানিক হিসাবে।যারা কথায় কথায় চাণক্য আওড়ান তারা ভুলে গেছেন তার অমোঘ বাণী।'একটি অক্ষর ও যদি শিক্ষক ছাত্রকে দেন তা কোনো পার্থিব বস্তু দিয়ে পরিশোধযোগ্য নয়'।
শুধু শিক্ষক হিসেবে নিজের কৈফিয়ত দিতে নয় যে লেখা লিখতে বাধ্য হলাম আমার জীবনে যাদের অবদান সেই সকল শিক্ষকদের সম্মান জানাতে। আর সেই সব ছাত্রদের ভালোবাসা জানাতে যারা আমাদের মাথা উঁচু করে দেয় গর্বে।যাদের জন্য চিৎকার করে বিনা দ্বিধায় বলতে পারি আমি একজন শিক্ষক। বলতে পারি ক্লাস চলছে।



- লেখাটি সংগৃহীত 
লকডাউনে ঘরে বসে বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক - ক্লাস কি চলছে ? লকডাউনে ঘরে বসে বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক -  ক্লাস কি চলছে ? Reviewed by Wisdom Apps on June 14, 2020 Rating: 5

স্তব্ধ যাদের জীবন চাকা , কেমন আছেন তাঁরা ? চেনাপরিচিত হকার দের অচেনা গল্প

June 14, 2020



কেমন আছেন তাঁরা ?
লোকাল ট্রেনের সেই বন্ধুরা? যাঁরা হকার নামে পরিচিত। কতো বিচিত্র ভঙ্গি তাঁদের,কতো বৈচিত্রের সমাহার। কেউ কেউ বাচন ভঙ্গি আর স্টাইলে হয়ে ওঠেন অনন্য। তাঁদের মার্কেটিং ম্যানেজার নেই, নিজেরাই তৈরী করেন বিপণনের নানান চিত্তাকর্ষক পদ্ধতি।

ট্রেনে চা বিক্রি করেন ক্ষুদিরামদা। তিনি এসেই বলবেন, হ্যালো, আপনারা চা টা খেয়ে নিন। দাদা বিস্কুটটা ধরুন। বিকেলের দিকের ট্রেন। অনেক ডেলি প্যাসেঞ্জার। ক্ষুদিরামদা জানে কারা চা খাবে।  এই যে দাদা, চা নিন বলে বলে চা দিচ্ছেন পরপর। এক বয়স্ক ভদ্রলোক, তিনি নতুন, ভাবলেন ফ্রিতে চা বুঝি। তিনি নিজে নিলেন, গিন্নিকেও দিলেন। গিন্নির খুব একটা ইচ্ছা ছিলো না। তবুও যেচে দিচ্ছে। খেলেন। এরপর যখন পয়সা দেবার সময় এলো, দেখার মতো হয়েছিলো ভদ্রলোকের মুখটা। না জানি আরো কতোজন এইভাবে ক্ষুদিরামদার চা খেয়েছেন।

এক ফলওয়ালা আছেন। হেভি  মজার লোক। কাঁচা ছোলা বিক্রি করছেন একজন। এই যে ছোলা, এই যে ছোলা। ফলওয়ালা তার পেছন পেছন এলেন, কলা নিয়ে, এই যে আছোলা, এই যে আছোলা বলতে বলতে। লোক হেসেই অস্থির। ছোলাওয়ালা রেগে যেতেই বলেন, কলা ছাড়ানো নয়, তাই আছোলা।

একজন লেবু বিক্রি করছেন, লেবু রুগী বাচ্চা খাবে। তিনি এসেই শুরু করলেন, আমার লেবু মুরগি বাচ্চা খাবে। আবার হাসি সবার। এছাড়াও নানা আকর্ষণীয় অফার। আপেল নিন, ধান বেচে পয়সা, ডালিম নিন, আলু উঠলে পয়সা। লেবু নিন পুরনো নোটে দাম দিন। বেদানা খান, বেদনা কমান। নানা অফারের ছড়াছড়ি। একজন ফলের দাম শুনে আশ্চর্য হয়ে বললেন, বাবা!! তৎক্ষণাৎ জবাব, বাবা বাড়িতে, ফল গাড়িতে। গুলিয়ে ফেলবেন না।
 
এছাড়া ছিলো মিলনীর চানাচুর। খেলে বেকার ছেলে চাকরি পাবে,ফেল করা পাশ করবে, এক দেখায় মেয়ের বিয়ে হবে। লোক আশ্চর্য হয়ে শুনতো।ইন্দিরা গান্ধী, জ্যোতি বসু কে না খায় সেই চানাচুর।সেই হরিদাসের বুলবুল ভাজা স্টাইল," মহারানী ভিক্টোরিয়া, এ ভাজা খান রোজ কিনিয়া।" বলার গুণে বিক্রিও হতো বেশ। তাদেরই এক ভাই আসতেন, চানাচুর, চানাচুর বলে এগিয়ে যেতেন, পিছন থেকে কেউ যদি চাইতেন, বলতেন আর হবে না।এক অজ্ঞাত কারণে পিছনে ফিরে এসে আর বিক্রি করতেন না। লোকে হেভি মজা নিত।

একজন ছিলেন সন্তোষ চক্রবর্তী। হজমি গুলি বিক্রি করতেন। কি কনফিডেন্স। রাইফেলের গুলি মিস হবে, কিন্তু সন্তোষ চক্রবর্তীর গুলি মিস হবে না। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কামরা শুদ্ধ লোককে ফ্রিতে গুলি খাওয়াতেন। পাবলিকও তেমনি, রোজ হাত পেতে খেতো, কিন্তু বেশিরভাগই কিনত না। কিভাবে চলতো তাঁর কে জানে।

একজন পুরোনো ম্যাগাজিন বিক্রি করতেন। আনন্দমেলা, শুকতারা, দেশ ইত্যাদি 2/5 টাকায় বিক্রি হতো। সে উঠলেই লোক চিৎকার করতো 5 টাকায় দেশ বেচে দিচ্ছ। সেও রাগে চিৎকার করতো। শেষে এমন হলো, যে কামরায় যান, সেখানেই এক প্রশ্ন। বই বিক্রি ছেড়েই দিলেন বেচারা।

একজন গুড় কাঠি বা কাঠি গজা বিক্রি করেন। তিনি এককালে বলতেন, গজা নিন ঘিয়ে ভাজা। একদিন একজন ডাকলো, এই ঘিয়ে ভাজা এদিকে দেখি। তিনি রেগে গেলেন, ঘিয়ে ভাজা বললেন কেন? ব্যাস লোকে খোরাক পেয়ে গেলো। তিনি উঠলেই সমস্বরে চিৎকার, এই ঘিয়ে ভাজা। গালাগালির ঝড়। বেচারা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকলেও ট্রেন থেকে প্রবল চিৎকার ভেসে আসে, ঘিয়ে ভাজা, ঘিয়ে ভাজা।

একজন বই বিক্রি করেন। মানুষকে বশ করার উপায়। দারুণ কায়দা তাঁর। চটি বই পিন আপ করা।সূচিপত্র ছাড়া কিছু দেখা যাবে না। বইটি কিনে ট্রেনে পড়া যাবে না। বাড়িতে একলা পড়তে হবে।কাউকে দিলে কাজ হবে না। দারুণ বিক্রি।লোকে ভাবে মন্ত্র তন্ত্র।আসলে কিচ্ছু না, কিভাবে মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, তার উপায়। প্রচারের কায়দা দেখার মতো। সেই গুণেই হট কেকের মত বিক্রি।

একজন আসেন চপ নিয়ে। কতো অভুক্ত মানুষের খাদ্য ঐ গরমাগরম চপ আর এক ঠোঙা মুড়ি।সাথে কাঁচা লংকা ফ্রি। কিন্তু তাঁর দোষ, দাদা নিমপাতার চপ আছে বললেই, বিক্রি ছেড়ে ঝগড়ায় মত্ত। মেজাজ গরম, চপ ঠান্ডা।

আর ছিলেন 'প্রাঞ্জল' ভাই। জল চাই জল! জল খেলে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে ওনার দাবি তাই পাবলিকের দেওয়া নাম। ব্যাগের মধ্যে থরে থরে কাঁচের বোতল। অর্ডার পেলেই ওপেনার দিয়ে ধাতব ছিপি খুলতেই ফটাস শব্দ। ভেতরে চাপে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের সাদা ধোঁয়া বেরোনো। জল খেয়ে লোকেদের তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা এ সব এখন অতীত।

আসতেন এক বয়স্ক ব্যক্তি। লজেন্স বিক্রি করতেন। এসেই শুরু করতেন, আর কারো ঠকবার ইচ্ছে আছে? সেই আশি থেকে দু'হাজার কুড়ি, একটানা চল্লিশ বছর, রেল গাড়িতে রেকর্ড।

একজনকে দেখি মাশরুম বিক্রি করেন। সুর করে বলেন মাশরুম আছে, প্রোটিন আছে, ছাতু আছে। খান দাদা খান, খেলেই আপনারা পাবেন প্রোটিন,আমি পাবো ভাত।
আর একজন এসেই বলতেন, স্বপন এসে গেছে। স্বপন আপনাদের সকলের কুশল কামনা করছে। নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবেন না। ঝঞ্ঝাট ঝামেলা সংসারে থাকবেই, ওপরওয়ালার ওপর ভরসা রাখুন, আর মুখে হাসি থাকুক, সব বিপদ কেটে যাবে। স্বপন বাবুর বাচন ভঙ্গি লোককে বেশ স্বস্তি দিতো। তিনি লজেন্স বিক্রি করতেন।খুচরোর আকালের সময়ও 1 টাকার লজেন্স কিনলে 100 টাকার খুচরো করে দিতেন।

একজন এসেই বলতেন দাদারা দিদিরা আপনাদের মাথার চুল থেকে পায়ের নখ, সব দায়িত্ব আমার। চুল আঁচড়ানোর চিরুনি, কপালের টিপ, চোখের কাজল,কানের বাড, পিঠ চুলকানোর প্লাস্টিক হাত, গোড়ালি ঘষা ব্রাশ, নখ কাটার যন্ত্র সব আমি দেবো। আপনার পুরোটাই আমার কাঁধে।

এইরকম বিচিত্র অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে আসেন ট্রেনের হকার দল। কতো বিচিত্র জিনিস, কতো আকর্ষণীয় বাচন ভঙ্গি। দেবো নাকি দাদা, ছাল ছাড়িয়ে নুন মাখিয়ে? কচি শশা। অথবা এই যে দাদারা ছারপোকার বাচ্চারা, বিছের বংশরা, যদি আপনাকে কামড়ায়, লাগান এই বিষহরি তেল। বলার গুণে কামরার হট্টগোল যায় থেমে, আকর্ষণ করার ক্ষমতা আর রসবোধ দেখে অবাক হতে হয়। 

কেনা বেচার সম্পর্ক ছাড়িয়ে অনেকেই হয়ে ওঠেন প্রাণের বন্ধু। খবরাখবর নেন, ভালো আমটা লেবুটা বেছে দেন। ভাঁড় শেষ হবার পর ঢেলে দেন ভালোবাসার ফ্রী চা।

*অনেক দিন দেখিনা তাঁদের। ট্রেন বন্ধ হয়েছে আড়াই মাস পেরিয়ে গেলো। জানিনা কোথায় কেমন আছেন তাঁরা? সেই স্বপনদা হাসি মুখেই আছেন আশা করি। মাশরুমের বিক্রেতার ঘরের ভাত কিভাবে আসছে? চালের পাঁপড় বিক্রেতার ঘরে চাল,আর ঘরের চালের খবর কী? বয়স্ক লজেন্স দাদু নিজেই বুঝি ঠকে যাচ্ছেন রোজ। পাঁচ টাকার দেশ পত্রিকা বেচা মানুষটার খবর কী রাখে দেশ? মজা করে ধান বেচে পয়সা বলা মানুষটার ঘটি বাটি বেচতে হচ্ছে না তো? তাঁরা সবাই আকুল হয়ে তাকিয়ে আছেন শূন্য রেল কামরার দিকে। রেল চললেই চলে তাঁদের সংসার। অচল সংসারের চাকাটা বড়ো ভারী লাগে, টানা বড়ো কষ্টকর। জানিনা কেমন আছেন সেই স্বপ্নের ফেরিওয়ালারা। বড়ো দুঃসময়। ভালো থাকুন।
আমরা অনেকেই জানিনা সেই সমস্ত প্রান্তিক মানুষেরা যারা খুব স্বচ্ছল না হলেও একেবারে গরীব নয়, এখন কিভাবে দিনযাপন করছেন ।



লেখাটি সংগৃহীত - 

নিশ্চিন্তে শেয়ার করতে পারেন । 
স্তব্ধ যাদের জীবন চাকা , কেমন আছেন তাঁরা ? চেনাপরিচিত হকার দের অচেনা গল্প স্তব্ধ যাদের জীবন চাকা , কেমন আছেন তাঁরা ? চেনাপরিচিত হকার দের অচেনা গল্প Reviewed by Wisdom Apps on June 14, 2020 Rating: 5

বাবা নিজের হাতে মেয়ের নামের ট্যাটু করার পর মেয়ে কি করলো ? - দিপা নাইডুর ঘটনাটা পড়ুন

October 23, 2018
জীবনের ছোট ছোট ঘটনা গুলো জীবনে আশ্চর্য রকমের প্রভাব ফেলতে পারে - নীচের এই ঘটনাটি থেকে আপনি বুঝতে পারবেন । ঘটনাটি শেয়ার করেছেন তামিলনাড়ুর এক গৃহবধূ  দিপা নাইডু। ঘটনাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন -

"আমার নাম দিপা, দু বছর আগে আমার স্বামী তার বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গিয়ে হাতের কব্জিতে আমাদের মেয়ের নামে একটি ট্যাটু করে আনেন। তিনি বাড়ি এসে আমাদের সবাইকে ট্যাটুটি দেখান। 
আমাদের ছেলে যখন জানতে পারলো যে তার বাবা শুধুমাত্র তার বোনের নাম ট্যাটু করে এসেছে  তখন তার মুখ গোমড়া হয়ে গেল অবশ্য তার জন্যে আনা চকলেট, খেলনা পাওয়ার পরেই সে সেসব ভুলে গেলো। আমাদের মেয়ে ট্যাটু দেখে খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে গেলো, সে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরলো, কপালে চুমু খেলো এবং তার বাবাকে প্রশ্ন করলো যে তার এটি করতে গিয়ে ব্যাথা লেগেছে কিনা ?

এর উত্তরে আমার স্বামী বললেন, "আমি তোমার জন্য সব ব্যাথা সহ্য করতে পারি.।"
আমি জানিনা এর পর কি হলো, তার বাবার প্রতি তার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে গেল । 
সে তার বাবার প্রতি মায়ের মতো আচরণ শুরু করলো। যদিও আগে থেকে সে তার ভাইয়ের প্রতি মায়ের মতো আচরণ করতো এখন বাবার সাথে শুরু করলো। (আমি মনে মনে ভাবলাম তাহলে আমার ভূমিকা কি?)
সে তার বাবার খেয়াল রাখা, যত্ন নেওয়া শুরু করলো। তার বাবা তার ওপর রাগ করলেও সে রাগ করতো না। সে তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করতো 'তার দিন কেমন কাটলো?, সে কি খাবার খেয়েছে?' তার হাঁচি হলে সে তার বাবার বুকে ভিক্স মালিশ করে দেওয়া শুরু করলো । সে তার বাবার কাছ থেকে কিছুই চায় না, কখনও কখনও আমার ছেলে যখন কিছু চায় তখন সে বলে, "অর্জুন, বাবাকে জ্বালাতন করো না, বাবার যখন ব্যস্ততা কমবে তখন তুমি না চাও তোমাকে দেবেন।"

প্রথমে আমি ভাবলাম এটি কেবল কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের জন্য হবে, কয়েক মাস পরে সে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে, যখন তার চাওয়া কোনো জিনিস তার বাবা দিতে প্রত্যাখ্যান করবে।

9-10 মাস আগে, একদিন, সে আস্তে আস্তে স্কুলের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। আমার স্বামী খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠেন , সেদিন আমাদের মেয়ে স্কুলে যাওয়ার দেরি দেখে উনি চিৎকার করে উঠলেন। তিনি বলেন, "আমি এই সঞ্জনাকে ঘৃণা করি, দিনের শুরুতে তুমি এত অলস হতে পারো কিভাবে তবে দিনটা কেমন কাটবে"।
সে শুধুমাত্র হাসলো এবং স্কুলের জন্য প্রস্তুত হলো। 
আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম,শরীর ঠিক আছে কিনা, সে শুধু মাথা নাড়িয়ে স্কুলে চলে গেল।
1 ঘন্টা পরে, আমি স্কুল থেকে একটি ফোন পেয়েছিলাম। রিসেপশনিস্ট বলেছিলেন যে আমার মেয়ের জ্বর হয়েছে এবং দুবার বমি হয়ে গেছে। তারা আমাকে স্কুল থেকে নিয়ে যেতে বলেছিল। আমি কথাটা জানানোর জন্য তার বাবার কাছে একটা ফোন করি তাকে নিয়ে আসার জন্য, কিন্তু 4-5 বার চেষ্টা করার পরও তাকে ফোনে পাইনি। আমি আমার স্কুটার নিয়ে তাকে নিতে গিয়েছিলাম। আসার সময় আমি ওকে বলেছিলাম, " তোমার ভালো না লাগলে বলতে পারতে, আমি তোমাকে স্কুলে পাঠাতাম না। তোমার কি খারাপ লেগেছিলো তোমার বাবা বকেছিলেন বলে, তাই কি তুমি কিছু না বলে স্কুলে গেছিলে?"
তার উত্তর আক্ষরিক অর্থে আমার চোখে জল এনে দিয়েছিল।

সে আমাকে জাপটে ধরে আমার পাশে বসে ও বলে, "না মা আমি কোনোদিন বাবার কোনো কথায় রাগ করবো না, এটা সত্যি যে বাবা কিছু সময় না বুঝেই চেঁচামেচি করে, কিন্তু বাবা আমাকে খুব ভালোবাসে। যদি তাই না হতো তাহলে বাবা কি অতো ব্যাথা সহ্য করে আমার নামের ট্যাটু করতো?"(সে তখনও প্রসব ব্যাথা সম্মন্ধে কিছু জানতোনা তাই হয়তো ওর বাবার ব্যাথাটা তার কাছে অনেক বেশি মনে হয়েছিলো।)  যে মুহূর্তে সে কথাটি বলেছিলো আমার চোখে আপনাআপনি জল চলে আসে এটা ভেবে যে একটি আট বছর বয়সের মেয়ে কিকরে এতটা ভাবতে পারে? সে কিভাবে ভালবাসা আদর এত গভীর ভাবে বুঝতে পারে?


হ্যাঁ, কখনো এই ছোট জিনিষ গুলি অনেক কিছু প্রকাশ করে। এই ছোট্ট ট্যাটুটি বাবা এবং মেয়ে দুজনের কাছেই অতি মূল্যবান। জীবন সুন্দর। এটা কে আরো বেশি সুন্দর করা যাক এই রকম মুহূর্ত ও স্মৃতি গুলি দিয়ে।

ভাবছেন , আমার ছেলে এমন কিছু করেছে কিনা ? গতবার ওর জন্মদিনে আমি একটি মেলেটারী ড্রেস কিনে দিয়েছিলাম । ওর খুব শখ বড় হয়ে মেলেটারী হওয়া । এই কারনে ওর জামায় সেলাই করে ওর নামের একটা ব্যাজ লাগিয়ে দিয়েছিলাম । জামাটা পড়ে , আমার ছেলে যেভাবে কেঁদেছিল , এখনও ভাবলে আমার আশ্চর্য লাগে । হাসি খুশি একটা বাচ্চা যে আনন্দে এত আবেগপ্রবন হয়ে উঠতে পারে আমি কোনোদনিও ভাবিনি ।

উপরে আমাদের পরিবারের ছবি দিলাম - আমার স্বামী , মেয়ে , ছেলে আর আমাকে নিয়ে আমাদের ছোট্ট পরিবার । আমার এই ঘটনাটি আপনার ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই শেয়ার করবেন -


বাবা নিজের হাতে মেয়ের নামের ট্যাটু করার পর মেয়ে কি করলো ? - দিপা নাইডুর ঘটনাটা পড়ুন বাবা নিজের হাতে মেয়ের নামের ট্যাটু করার পর মেয়ে কি করলো ? - দিপা নাইডুর ঘটনাটা পড়ুন Reviewed by Wisdom Apps on October 23, 2018 Rating: 5
Powered by Blogger.