মােহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জীবনী - সংক্ষিপ্ত রচনা Biography of Mahatma Gandhi

Biography of Mohandas Karamchand Gandhi 

Read Bigoraphy of Mohandas Karamchand Gandhi in Hindi - Click here 

জাতির জনক 

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে মােহনদাস করমচঁাদের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। তিনিই প্রকৃত অর্থে এ দেশের প্রথম জননেতা’। তাকে ‘জাতির জনকও বলা হয়। কাথিবাড় প্রদেশের পােরবন্দরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে গান্ধীজির জন্ম ২ অক্টোবর ১৮৬৯ খৃষ্টাব্দে। বাবার নাম কাবা গান্ধী, মা পুতলীবাঈ। স্কুল-কলেজের শিক্ষা স্বদেশে সমাপ্ত করে গান্ধীজি বিলেত যান আইন পড়তে। আইনে ডিগ্রী পাবার পর দেশে ফিরে এসে মুম্বাই হাইকোর্টে ব্যারিস্টারি শুরু করেন। 

১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে তিনি ভারতীয়দের হয়ে একটি মামলা লড়বার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার নাটালে যান। নাটাল থেকে পৌছান ট্রান্সভালে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের অধিকার আদায়ে গান্ধীজি এক ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তােলেন।

কিছু সংখ্যক ভারতীয়দের নিয়ে ১৮৯৪ খৃষ্টাব্দে গান্ধীজি প্রতিষ্ঠা করলেন নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস। এই সংগঠন এশিয়াবাসীদের বিতাড়ন করবার আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় ও জনমত সংগঠিত করতে থাকে। গান্ধীজি সেখানে দ্রুত খ্যাতি অর্জন করেন। 

১৯০২ খৃষ্টাব্দে চেম্বারেল নাটাল পরিদর্শনে এলে গান্ধীজি তাঁর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি পেশ করেন। তিনি তখন ট্রান্সলের সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি। 

১৯০৩ খৃষ্টাব্দে গান্ধীজির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হল ‘ট্রান্সভাল ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসােসিয়েশন। ১৯০৪ খৃষ্টাব্দে জোহানসবার্গে ভারতীয়দের মধ্যে প্লেগরােগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। গান্ধীজি সেখানে ওই রােগের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল গড়ে তােলেন। এর আগে তিনি ট্রান্সভালে জারি করা এশিয়াটিক ল অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্সের বিরুদ্ধে তীব্র অহিংস আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

একদিকে সেবামূলক কাজকর্ম, অন্যদিকে গণ আন্দোলন—গান্ধীজির ভাবমূর্তি খুবই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।ব্রিটিশ সরকার তখন গান্ধীজিকে ‘কাইজার-ই-হিন্দ’ পদক দিয়ে সম্মানিত করে। গান্ধীজি যখন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তিনি বিখ্যাত ব্যক্তি। এ দেশ তার নেতৃত্বের প্রত্যাশী। 

১৯৬৬ খৃষ্টাব্দে বিহারের চম্পারণ জেলায় নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে কৃষকরা চষ্কন্ধ হয়ে উঠলে গান্ধীজি তাদের নেতৃত্ব দেন এবং আলেচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক মীমাংসায় উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়।

ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এই সময় গান্ধীজির নেতৃত্বকে বরণ করে নেয়। ১৯১৮ খৃষ্টাব্দে কুখ্যাত রাউলাট বিল’-এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যে তীব্র আন্দোলন প্রসারিত হয়, গান্ধীজি তার নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ভারতীয়, মুসলমানরা তখন সংঘবদ্ধ খিলাফৎ আন্দোলনের মাধ্যমে। গান্ধীজি ওই আন্দোলনের দিকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। 

ব্রিটিশরাজ নির্মম হাতে আন্দোলন দমন করবার চেষ্টা করে। পাঞ্জাব ও দিল্লীতে গুলি চলে। সংঘটিত হয় নিষ্ঠুরতম ‘জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড। ক্ষুব্ধ গান্ধীজি সরকার প্রদত্ত কাইজার-ই-হিন্দ’ পদক ফিরিয়ে দেন। 

১৯২০ খৃষ্টাব্দে নাগপুর কংগ্রেসে গান্ধীজি দাবি জানালেন ‘পূর্ণ স্বরাজ’-এর জন্য। দেশজুড়ে চলতে থাকে অহিংসা দ্বারা চালিত অসহযােগ আন্দোলন। ১৯২২ খৃষ্টাব্দের মধ্যে গান্ধীজির নেতৃত্বে তামাম  রতজুড়ে জাতীয় জাগরণ ঘটে। 

১৯২২ খৃষ্টাব্দে শুরু হল ভারতব্যাপী গান্দীজির নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন। সেইসঙ্গে চলতে থাকে ব্রিটিশ সরকারের চণ্ড দমননীতি। গান্ধীজি আবার কারারুদ্ধ হলেন। গণপ্রতিরােধ উত্তাল হয়ে ওঠে।

গান্ধীজি দু’বার গােলটেবিলের বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন।  তাঁকে একবার দর্শন করবার জন্য লন্ডনে ইংরেজদের মধ্যেও হুড়ােহুড়ি পড়ে যায়। ১৯৪২ খৃষ্টাব্দে গান্ধীজি ডাক দিলেন ‘ভারত ছাড়' আন্দোলন। সেদিন সমগ্র ভারতবর্ষ যে ভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছিল, ইতিহাসে তার নজির কম। 

১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটলে জাতীয় কংগ্রেস পূর্ণ। স্বাধীনতার দাবি জানায়। ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দে ১৫ই আগস্ট দেশভাগের কুৎসিত মূল্য চুকিয়ে ভারতীয়রা স্বাধীনতা পেল—যে স্বাধীনতা অন্তত গান্ধীজির কাছে অভিপ্রেত ছিল না। শুরু হয়ে যায় মর্মান্তিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যা প্রশমিত করতে গান্ধীজি ননায়াখালি সমেত একাধিক স্থানে বিচলিত হৃদয়ে ছুটে বেড়ান। 

১৯৪৮ খৃষ্টাব্দের ৩০শে জানুয়ারি দিল্লীর এক প্রার্থনা সভায় নাথুরাম গডসে নামক এক আততায়ীর গুলিতে গান্ধীজি প্রাণ হারান।  

মােহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জীবনী - সংক্ষিপ্ত রচনা Biography of Mahatma Gandhi  মােহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জীবনী - সংক্ষিপ্ত রচনা Biography of Mahatma Gandhi Reviewed by WisdomApps on মে ২১, ২০২১ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.