জীবনবাদী বইয়ের লেখক ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কিছু বাণী || জীবন বদলে দেবে

স্বনামধন্য লেখক , প্রফেসর , সম্পাদক ও একজন প্রকৃত গাইড ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কিছু বাণী  এখানে দেওয়া হল , আশাকরি চলার পথে ওনার এই কথাগুলো আপনাকে পথ চলতে সাহায্য করবে । 

তর্ক করবেন না
তর্ক করবেন না। আপনি তর্কে জয়ী হলে অপরপক্ষ আপনার শত্রু হবে আর তিনি জয়ী হলে আপনার শত্রু হবেন। তর্ক করে লাভ হয় না, সময় নষ্ট হয়। সম্পর্কও নষ্ট হয়। তার চেয়ে ইচ্ছা করেই হেরে যান। অপরপক্ষকে তার অহংকার নিয়ে থাকতে দিন।

তথ্যের খাতা করুন
নিয়মিত ডায়রি লেখার অভ্যাস না থাকলেও প্রতি বছর যেসব ডায়রি উপহার পান সেগুলিকে হিসাবের খাতা না করে তথ্যের খাতা করুন। বিভিন্ন বই, ম্যাগাজিন ও খবরের কাগজ থেকে প্রয়োজনে লাগবে আমন নানা তথ্য সংগ্রহ করে লিখে রেখে দিন। মনের মধ্যে যেসব চিন্তা-ভাবনা আসবে সেগুলি সঙ্গে সঙ্গে লিখে ফেলুন। সদ্য পরিচিত ব্যাক্তিদের নাম, ঠিকানা, ফোন নং লিখে পাশে লিখুন তিনি কে, কবে আলাপ হয়েছিল। বন্ধু-বান্ধবদের জন্মদিন লিখে রেখে জন্মদিনের দিন তাঁদের ফোন করে দিন। এই ধরনের খাতাকে ইংরিজিতে বলে- 'পিলো' বুক(Pillow Book)।

সময় নেই অজুহাত দেবেন না
কারো কাছে বিস্বস্ত হতে চাইলে কখনো সময় নেই বলে অজুহাত দেবেন না। সবচেয়ে বোকার মতো কথা হল, একদম সময় পাইনি। প্রথম, কেউই সময় পান না। সবাইকেই সময় করে নিতে হয়। সময় করে নেওয়ার ওপরেই নির্ভর করে কাজটিকে কত গুরুত্বপূর্ন ভাবছেন।

ত্রিশঙ্কু হবেন না
কোন গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নেবেন সখন তখন আর পিছনে যাতে হটে আসতে না পারেন তাই পিছনের সেতুটা পুড়িয়ে দিন। হয় মৃত্যুবরণ, না হয় এগিয়ে চলা। ত্রিশঙ্কুর মতো ঝুলে থাকবেন না। মোটর গাড়ির চালকেরা গাড়ি চালাতে চালাতে পিছন ফিরে তাকান না। তারা সামনের আয়নাতেই পিছনটা দেখতে পান। ত্রিশঙ্কুর মতো 'হ্যাঁ' ও 'না' - এর মধ্যে যারা ঝুলে থাকেন, তাঁদের আত্মবিশ্বাস এভাবে ঝুলে থাকে। 'দৈব' সুযোগ এনে দিতে পারে কিন্তু সুযোগকে সুবিধায় পরিণত করা আপনার নিজের হাতে।

ক্ষমতায়নের গুপ্ত কথা
ক্ষমতা কেউ কাউকে দেয় না, ক্ষমতা অর্জন করতে হয়। তেমনি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সব সময়ই উপহার হিসাবে আসে। বাজারে টাকা দিয়ে তা কেনা যায় না। বাব-মা 'এঁকে প্রণাম করো ইনি তোমার আমুক হন।' কিন্তু আমি তাঁদের কিছুই হই না। তাঁদের বাবা-মাও সঙ্গে থাকেন না। তা সত্ত্বেও তরুণ-তরুণীরা অনেকে আমার কাছে আস্লেই আগে প্রণাম করে নেন। অনেকে প্রণাম করেন না। উপহার কখনো পাওনা হতে পারে না। ত ভালোবাসার স্বেচ্ছাকৃত দান।

রামধনু দেখতে হলে
বৃষ্টি হয়ে গেলে তবেই আকাশে রামধনু ওঠে। আমরা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রামধনুটাই দেখব। কিন্তু বৃষ্টিকে তাহলে পরিহার করতে পারব না। কারণ, রামধনু দেখতে হেলে বৃষ্টি পেতেই হবে। 

সবচেয়ে দামী বস্তু 'সময়'
যে কোনো কাজে দীর্ঘসুত্রতা পরিত্যাগ করতে গেলে ভাবতে হবে জীবন অনিশ্চিত; কে জানে আজকের দিনটাই জীবনের শেষ দিন কিনা। প্রতি বছর পৃথিবীতে ৫ লাখ লোক দুর্ঘটনায় মারা যায়। তাঁরা সকালে উঠেও জানতেন না যে সেই দিনই তাঁরা মারা যাবেন। প্রত্যেকের কাছেই তাই সবচেয়ে দামী বস্তু হল 'সময়'- যা প্রত্যেকেরই আছে কিন্তু কম লোকই তার মূল্য বোঝে। প্রতিটি মিনিটই প্রত্যেকের জীবনে দামী। তাই যে সময় নিজের বা জনগণের উপকারে বা কাজে লাগবে না, সে সময় নষ্ট করবেন না। টি. ভি.' র অধিকাংশ প্রোগ্রাম, খবরের কাগজের অধিকাংশ লেখা, লাইব্রেরীর অর্ধেকের বেশি বই কোন প্রয়োজনে লাগবে না। শুধু প্রয়োজনের অংশটুকু গ্রহণ করুন; অপ্রয়োজনের পিছনে ছুটে সময় নষ্ট করবেন না। 

সময় দিন
স্ত্রী পুত্র ও বন্ধু আপনাকে ভালবাসে কিনা তা বুঝতে আপনাকে রিটায়ারমেন্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। 

যারা আড্ডা দেন
দু'ধরণের লোক আড্ডা দেয়। এক, যাঁদের কাছে সময় থেমে আছে। অকর্মণ্য, হতাশ, অশিক্ষিত কিছু মানুষ অথবা যারা সময়কে থামিয়ে দিয়েছেন সময় মত কাজ করে। লেখক, শিল্পী প্রযুক্তিবিদ, বৈজ্ঞানিক তাঁরা সময়ের উপযুক্ত ব্যবহার করেছেন। নিজেদের যা দেওয়ার তা দিয়েছেন। এখন দউ কাজের মাঝখানে একটু সময় আড্ডা দিয়ে মাথা সাফ করে নিচ্ছেন। 

মন ও জামাকাপড় সাফ রাখুন
সব সময় মন ও পরনের জামা-কাপড় যেন সদ্য কাচা থাকে। বাসি চিন্তা করবেন না। বাসি কাপড়-জামা পরবেন না। পোশাকই মনের প্রতীক। কেমন ও কী রঙের পোশাক পরেন তা দেখে আপনি কেমন লোক তা বলে দেওয়া যায়। সহজ-সরল মানুষরা কখনো জমকালো পোশাক পরেন না, দৃষ্টিধারী নান্দনিক পোশাক পড়েন।

যতটুকু হজম হবে ততটুকু
এমনভাবে রান্না করবেন যাতে সহজেই হজম হয়। ততটুকুই খাবেন যতটুকু হজম করতে পারবেন। খাবারের বৈচিত্রের চেয়ে পরিপাকের শক্তিটাই যেন অগ্রাধিকার পায়। যতটুকু খেতে ইচ্ছে হবে ততটুকুই খাবেন। কিন্তু আগে থেকে এমন বেশি খাদ্য নেবেন না যাতে ভুক্তাবশেষ থেকে যায় বা খাদ্য অপচয় হয়।

হাসুন, কেন না...
আপনি কী অন্যের হাসিমুখ আশা করেন? তাহলে কাউকে দেখে হাসুন। প্রত্যূত্তরে তিনি যতই গোমড়ামুখো হন, তিনিও হাসবেন। আর যদি অন্যের গোমড়া মুখ দেখে আপনিও মুখ গোমড়া করে চলে যান, তাহলে তাঁর কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, তিনি তো গোমড়ামুখে থাকতেই অভ্যস্ত। ক্ষতি হবে আপনার। কারণ, আপনাকে কষ্ট করে রামগরুড়ের ছানার মতো মুখ করতে হবে, যাতে আপনি অভ্যস্ত নন। হাসি প্রত্যেকেরই আছে কিন্তু খুব কম লোকই তা খরচ করে। 

অন্যকে সমালোচনার আগে
কখনো সরকার ও সমাজ ব্যাবস্থার ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইলে তার আগে একবার ভেবে নিন ওই ব্যাপারে আপনি কতটুকু কি করেছেন বা কতটুকু করতে রাজি আছেন।

সমাধান আছে
এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান নেই। তবে এমন কোনো সমাধান নেই যাতে সব সমস্যার শেষ হয়ে যায়। একটি সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে আরো সমস্যা আসতে পারে।

রাজার মতো : গরিবের মতো
আপনি গরিব হলে রাজার মতো আচরণ করুন। আপনি ধনী হলে গরিবের মতো খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। Rich mind-এর বাংলা 'উন্নত মন'। কিন্তু Rich food-এর অর্থ 'তেল মশলা দেওয়া মুখরোচক খাবার', যা আপনার কাছে বিষ বলে গন্য হতে পারে। 

ভুলো মাৎ 
অর্থ ও ক্ষমতার শীর্সে উঠে গেলে দুর্দিনের গরিব বন্ধুদের ভুলে যাবেন না। কারণ, তাঁরা আপনার কাছে বিমার টাকার মতো। আবার খ্যাতি ও প্রতিপত্তির চূড়া থেকে নেমে আসার সময় এঁরাই বড় সম্পদ হবে।

জীবনবাদী বই 
৫০ টাকার একটি নোট পেলে তা দিয়ে বাঁচার জন্য খাদ্য কিনুন। আরেকটা ৫০ টাকার নোট পেলে তা দিয়ে একটি জীবনবাদী বই কিনুন। যা পড়ে কেন বাঁচবেন তা বুঝতে পারবেন।

আরম্ভ করে দিন
যে কোন কাজ একবার আরম্ভ করে দেওয়াটাই বড় কথা। ল্যাটিন প্রবাদ : Initium est dimidium dact আরম্ভ করে দেওয়া মানে কাজের অর্ধেকটাই শেষ করে দেওয়া। তাই অনেক কিছু করার স্বপ্ন না দেখে আজই একটা কিছু শুরু করে দিন।

আজই, এখনই
বই লিখবেন। আজই প্রথম পাতাটা লিখে ফেলুন। ফ্ল্যাট কিনবেন? আজই বিজ্ঞাপনদাতা প্রমোটারকে ফোন করুন। ছুটিতে পুরী যাবেন? আজই হোটেল বুক করে দিন। ব্যবসা করবেন। আজই একটি কোম্পানি তৈরির জন্য পরামর্শ দিন। কোনো একটি মেয়েকে মনে মনে ভলবাসেন? আজই তাকে ফোন করুন অথবা চিঠি লিখুন। শুরু না করে কোনো বাসনা শেষ করবেন না। এখনই শুরু করুন। দৌড়াতে গেলে দৌড়ানোটা শুরু করতে হয়। 

ধর্ম বনাম ধর্মান্ধকতা
প্রকৃত ধার্মিক তিনিই, যিনি মনে করেন না তাঁর ধর্মই শ্রেষ্ঠ। তিনি মনে করেন সব ধর্মই শ্রেষ্ঠ। কারণ জীবনের শ্রেষ্ঠ উপাদানগুলিকে নিয়েই ধর্ম তৈরি হয় যেমন- নিষ্ঠা সততা ও ভক্তি। এককথায় ধর্মের ওপর নাম মানবতা। পরধর্ম বিদ্বেষই হল অধর্ম।

উপভোগ করতে না পারলে
চাকরি বা পেশা যদি আপনি উপভোগ না করেন বুঝতে হবে ভুল ঠিকানায় এসে পড়েছেন। কর্মশক্তি বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত থাকতে পারে কিন্তু ঔৎসুক্য আর কল্পনাবিধ চল্লিশের পর কমতে বাধ্য। আর এ দুটো হারালে নতুন চাকরি পেলেও আর লাভ নেই। তাই সময় থাকতেই আনন্দহীন চাকরি বা পেশা ছাড়ুন। হয় এমন চাকরি বা পেশায় চলে যান যেখানে কাজের আনন্দ আছে। নয়ত ভি. আর. এস. নিন।

সুখী বনাম অবসাদগ্রস্ত
সুখী ও অবসাদ্গ্রস্ত ব্যাক্তির মধ্যে তফাৎ হল, একজন সুখী একা নির্জনতার মধ্যে এসে আনন্দ পান, একজন অবসাদ্গ্রস্ত জনতার মধ্যে থেকেও একাকীত্ব বোধ করেন। আবসাদ কাটিয়ে উঠতে গেলে জনতা ও নির্জনতা উভয়কেই সমান ভালোবাসতে হবে।

অল্প খান, হাসুন বেশি
অল্প খান কিন্তু বেশি হাসুন। শক্ত মানুষ হতে গেলে গম্ভীর মানুষ হতে হবে, তার কোনো মানে নেই। 

আশা করবেন না
মানুষের কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করবেন না। আশা করে আশাভঙ্গ হলেই দুঃখ। এ দুঃখটা একান্ত আপনার। অন্যের তাতে কিছুই এসে যাবে না। তার চেয়ে প্রত্যাশার অতিরিক্ত কেউ কিছু দিলে আনন্দটা অনেক বেশি হয়।

প্রশ্ন ও উত্তর 
আপনার ছেলেমেয়েদের ছোটবেলা থেকে প্রশ্ন করতে শেখান আর স্ত্রীকে শেখান সে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে। পৃথিবীর সবচেয়ে দুটি বিখ্যাত গ্রন্থই প্রশ্নোত্তর। একটি 'শ্রিমদ্ভাগবতা গীতা' অন্যটি প্লেটোর 'রিপাবলিক'। অনুসন্ধানকামী মন সমস্ত জ্ঞানের উৎস।

বাঁচার অভিজ্ঞতা
কোনো অভিজ্ঞতা তা সে যতই খারাপ হোক না কেন বৃথা যায় না। তবে সেটা উপলব্ধি করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য বেঁচে থাকা চাই।

কোনো কাজ ফেলে রাখবেন না
কখনো কালকের জন্য ফেলে রাখবেন না যে সব কাজ : (১) পোস্টকার্ডে লেখা চিঠির উত্তর, (২) হাসপাতালে অসুস্থ আত্মীয় বা বন্ধুকে দেখে আসা, (৩) বকেয়া বিল, (৪) দিনের খবরের কাগজ পড়া, (৫) ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন পতে ওষুধ খাওয়া, (৬) প্রাতঃকৃত্য ও স্নান, (৭) জুতো পালিশ করা। 

তবু মানুষ
মানুষের চেয়ে গরু অনেক উপকারি, কুকুর অনেক বিশ্বস্ত, ঘোড়া অনেক পরিশ্রমী, পিঁপড়ে অনেক শৃঙ্খলাপরায়ণ, মৌমাছি অনেক সঞ্চয়ী, গাধা অনেক সহনশীল। তবু মানুষকে ভালবাসতে হবে কারণ একই মানুষ চেষ্টা করলে ও ইচ্ছা করলে সবগুলো গুণই আয়ত্ত করতে পারে। মানুষকে ভালবাসুন।




জীবনবাদী বইয়ের লেখক ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কিছু বাণী || জীবন বদলে দেবে জীবনবাদী বইয়ের লেখক ডঃ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কিছু বাণী || জীবন বদলে দেবে Reviewed by WisdomApps on March 25, 2020 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.