আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর কিছু অমূল্য বাণী

 আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু

• যে যায়, সে তো আর ফিরে না; তবে কি অনন্তকালের জন্য লুপ্ত হয়? মৃত্যুতেই কি জীবনের পরিসমাপ্তি! যে যায় সে কোথা যায়? • ‎রিক্ত হস্তে আসিয়াছিলাম। রিক্ত হস্তেই ফিরে যাইব; ইতিমধ্যে যদি কিছু সম্পাদিত হয় তা দেবতার প্রসাদ বলিয়া মনিব। • ‎আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন প্রত্যেক দেশের মতো আমাদের কর্তব্য উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশির মুখাপেক্ষী না হওয়া। • ‎বৈষম্যের মধ্যেও ভারতীয় চিন্তাপ্রণালী একতার সন্ধানে ছুটিয়া জড়, উদ্ভিদ ও জীবের মধ্যে সেতু তৈরি করিয়াছে। • ‎আমাদের যুবকেরা অনেক সময় অল্পেই নিরাশ হইয়া পড়ে। সামান্য আঘাতেই নুইয়ে পড়ে, সহজেই সিদ্ধিলাভ করিতে চায়। কিন্তু জগতের যে সব মহৎ কার্য হইয়াছে, বৃহৎ আবিষ্কার হইয়াছে তাহার মূলে কত ত্যাগ, কত সাধনা, কত সুদীর্ঘকাল অধ্যবসায়, কত চিন্তা নিহিত রহিয়াছে। • ‎আমার যখন শিক্ষারম্ভ হয় সৌভাগ্যক্রমে আমার পিতা আমাকে কোনো ইংরেজি বিদ্যালয়ে না পাঠাইয়া বাংলা পাঠশালায় পাঠাইয়াছিলেন। তথায় কৃষক পুত্ররা ছিল আমার সহপাঠী। তাহাদের নিকট হইতে আমি শ্রমের প্রতি প্রকৃত মর্যাদা উপলব্ধি করিতে পরিয়াছিলাম।  • ‎যদি কেউ কোনো বৃহৎ কার্যে জীবন উৎসর্গ করতে উন্মুখ হন তিনি যেন ফলাফলে নিরপেক্ষ হইয়া থাকেন। যদি অসীম ধৈর্য্য থাকে কেবল তাহা হইলেই বিশ্বাস নয়নে কোনোদিন দেখিতে পাইবেন। বারংবার পরাজিত হইয়াও যে পরাম্মুখ হয় নাই সেই একদিন বিজয়ী হইবে।  • ‎বিজ্ঞানের অনুশীলন সম্পুর্ন পাশ্চাত্য, ভারতীয় সভ্যতার সহিত তাহার সামঞ্জস্য নেই। এই সমস্ত উক্তি সম্পুর্ন ভিত্তিহীন।  • ‎কাপুরুষেরাই সর্বদা আশাহীন।  • ‎যাহারা দুঃখ স্বীকারে পরাম্মুখ তাহারা কোনোদিনও জাতির দুর্গতি দূর করিতে সমর্থ হইবে না। • ‎শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ওপর আমাদের কর্তব্য বিদেশের ওপর নির্ভর না করা। • ‎আমাদের অনেক অসুবিধা আছে, অনেক প্রতিবন্ধক আছে সত্য, কিন্তু পরের ঐশ্বর্যে ঈর্ষা করিয়া কি লাভ? অবসাদ ঘুচাও। দুর্বলতা পরিত্যাগ করো। মনে করো, আমরা যে অবস্থাতেই পড়িনা কেন সেই আমাদের প্রকৃষ্ট অবস্থা। ভারতই আমাদের জন্মভূমি, এইখানেই আমাদের কর্তব্য সমাধা করিতে হইবে।  • ‎বিজ্ঞানের প্রকৃষ্ট উদ্দেশ্যে মানুষের দুর্বলতা লাঘব করা। দৈন এবং অভাব আসিয়া জীবনকে মৃত্যুপথে লইয়া যাইতেছে। দেশের আর্থিক উন্নতি সাধক করিতে হইলে কৃষি এবং শিল্প উভয়েরই উন্নতি সাধন আবশ্যক। ইহা করিতে হইলে বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করিতেই হইবে। • ‎মানুষ যখন তাহার কোনো জীবন ও আরাধনা কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নিবেদন করে, সেই উদ্দেশ্য কখনো বিফল হয় না, তখন অসম্ভবরাও সম্ভব হইয়া থাকে। • ‎ছেলের মুখ দেখিয়া মা বুঝতে পারেন ছেলে কী চায়। অনেক সময় কথারও আবশ্যক হয় না। ভালবাসিয়া দেখিলেই অনেক গুন দেখিতে পাওয়া যায়, অনেক কথা শুনিতে পাওয়া যায়। • ‎মানুষের অঙ্গভঙ্গি হইতে তাহার ভিতরের অবস্থা বুঝিতে পারে যায়। সকাল বেলা তাহার যে আকৃতি থাকে দিনের শেষে সারাদিনের ক্লান্তিহেতু তাহা পরিবর্তিত হইতেছে। সুখে সে উৎফুল্ল, দুঃখে সে বিমর্ষ। • ‎কৃষিকার্যে সাফল্য লাভ করিতে হইলে উদ্ভিদের পরিবর্তনের ধারা অবগত হওয়া অবশ্য প্রয়োজনীয়। • ‎ভারতবাসী কোনো কাজেই অগ্রণী হতে অক্ষম- এই কলঙ্ক ভারতীয়গণকে আচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছে। • ‎আমাদের মানুষ হইতে হইবে- দৃঢ় ও শক্তিশালী হইতে হইবে। ভয়ের অতীত হইতে হইবে। সহস্র প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিতে হইবে। তবে এই দৈন, দুর্দশা ঘুচিবে, জীবনের শক্তি মৃত্যুঞ্জয়ী হইবে। • ‎দুঃখ ও দুঃখের কারণ নিবারণই ক্ষত্রধর্ম। প্রত্যেকে ক্ষত্রিয় হও। পৃথিবী মানুষের দুঃখের রণক্ষেত্র, সে দুঃখের অংশ কে লইবে? গুরুভার বহন করিবে দুর্বল না সবল? • ‎পরের কর্তব্য কি তাহা নিষ্পত্তি করিবার আমি কে? আমি কি করিতে পারি ইহাই কেবল আমার ভাবনার বিষয়। • ‎ভারতবর্ষের যদি কোনো স্থায়ী কল্যাণ করিতে হয়, তাহা হইলে ভারতবর্ষের সভ্যতার মধ্যে যাহা নিজস্ব তাহা জাগ্রত করিতে হইবে। • ‎শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য আমাদের কর্তব্য বিদেশের ওপর নির্ভর না করা। • ‎বিজ্ঞান প্রাচ্যের ও নয়, পাশ্চাত্য এরও নয়, ইহা বিশ্বজনীন।

আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর কিছু অমূল্য বাণী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর কিছু অমূল্য বাণী Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 03, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.