কঠিন ৯টি রোগের সহজ প্রতিকার ও সাবধানতা জেনে নিন

থাইরয়েডঃ ৬টি লক্ষন দেখে বুঝুন আপনি আক্রান্ত কিনা ? 

‘হাইপোথাইরয়েডিজম’রোগে পুরুষের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি ভোগেন নারীরা। মস্তিষ্ক ও গলার সংযোগস্থলে রয়েছে পিটুইটারি গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকেই টিএসএইচ হরমোন নিঃসৃত হয়। পিটুইটারিগ্রন্থি যথেষ্ট টিএসএইচ নিঃসরণ না করলে শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কমে যায়।
মেটাবলিজম এবং মস্তিষ্ক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করা থাইরয়েডের প্রধান কাজ। কিন্তু, এই কাজ কোনওভাবে ব্যাহত হলে বহু ধরনের শারীরিক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় আক্রান্তকে।
১. অতিরিক্ত ক্লান্তি— থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণের মাত্রা কমে গেলে শরীরের মেটাবলিজমের উপর প্রভাব ফেলে। এর জেরে শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তি ও আলস্য তৈরি হয়।
২. ওজন বৃদ্ধি— থাইরয়েডের সমস্যায় প্রভাবিত হয় মেটাবলিজম। এই হরমোন নিঃসরণের মাত্রা বেশি হলে মেটাবলিজম কম হয় এবং তার ফলে শরীরে চর্বি জমিয়ে ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৩. অতিরিক্ত চুল পড়া— থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রেঞ্জের বাইরে চলে গেলে এই লক্ষণ দেখা যায়।
৪. ঘুমের সমস্যা— থাইরয়েড হরমোন টি-৩ ও টি ৪-এর মাত্রাতিরিক্ত ক্ষরণে নার্ভ উজ্জীবিত হয়ে পড়ে। ফলে অনিদ্রা রোগ তৈরি হয়।
৫. ঠান্ডা বা তাপ সহ্য করতে না পারা— থাইরয়েডের সমস্যায় ঠান্ডা বা তাপ সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়।
৬. কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি— এক নাগাড়ে কোষ্ঠকাঠিন্য, রুক্ষ ত্বক, হৃৎস্পন্দনের হার বৃদ্ধিতে থাইরয়েড বিভ্রাট কিন্তু জড়িত থাকে।

চুলপাকাঃ  অসময়ে চুল পাকলে কি করবেন ? 

মাথার চুল অসময়ে পেকে যায় প্রধানত ৫ টি কারনে । ভিটামিন B12 এর অভাব ,  মেলানিনের স্বল্পতা , কেমিক্যাল তেল বা হেয়ার জেলের অতিরিক্ত ব্যাবহার অথবা বংশানুক্রমিক চুলের অকালপক্বতা থাকলে । ভারতবর্ষে অতি কম বয়সী ছেলেমেয়ের চুলের অকালপক্কতার মূখ্য কারন খাবারে বি ১২ ভিটামিনের অভাব । আমেরিকার কয়েকজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞের মতে - রান্না করা ঝিনুক খেলে খুব দ্রুত ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব । আমাদের পরিচিত খাবারগুলির মধ্যে সোয়াবিনে  ২০μg / ১০০গ্রামে , ডিমে ২μg / ১০০গ্রাম কুসুমে, ভিটামিন বি ১২  দেখা যায় । কিন্তু রান্নাকরা ঝিনুকে ভিটামিন বি ১২ এর পরিমান ৯৮.৯ μg / ১০০গ্রাম । পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঝিনুক খওয়ার প্রচলন আছে । তবে সব ঝিনুক খাদ্যপযোগী নয় ।  কোন প্রজাতির ঝিনুক খাওয়া যায় জানতে এখানে ক্লিক করুন । 


অপুষ্টিঃ শরীর সুস্থ রাখতে কুমড়োর বীজের কামাল 

সম্প্রতি এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে , শরীরের উপর কুমড়োর বীজের প্রভাব অসমান্য  । কুমড়োর বীজে থাকে ম্যাগনেসিয়াম যা মানব শরীরের এক অতি প্রয়োজনীয় উপাদান । ম্যাগনেসিয়াম হল শরীরের ৩০০ এনজাইমের সহউৎপাদক । এই এনজাইমগুলি শরীরে প্রোটিন সংশ্লেষণ , মাংসপেশির গঠন , স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রন , ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রন , ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রন, প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রধান ভুমিকা গ্রহন করে ।গবেষকদের মতে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ৮/১০ টা কুমড়োর বীজ খেলে দেহে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি কমবে , শরীর থাকবে সুস্থ সবল ।  

ডায়াবেটিসঃ  প্লাটিপাসের একফোঁটা বিষ সারাতে পারে এই রোগ 


মিলনের ঋতুতে  পুরুষ প্ল্যাটিপাসরা একে অপরকে ভয় দেখানোর জন্য নিজেদের দেহে প্রচুর পরিমান বিষ উৎপাদন করে । এই বিষ নিয়ে গবেষণা করে অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানী দের  দল জানিয়েছেন প্ল্যাটিপাসের বিষ শরীরে শর্রাকরার নিয়ন্ত্রন করতে দক্ষতার সাথে কাজ করে ।যাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস আছে তাদের সুস্থ রাখতে ইনসুলিন ইনজেকশান সবসময় সাফল্য দেয় না , কিন্তু এই স্পেশাল বিষ ১০০% কার্যকর হচ্ছে বলে দাবী বৈজ্ঞানিকদের । সমস্যা হল পৃথিবীতে প্ল্যটিপাসের সংখ্যা খুব কম কিন্তু ডায়াবেটিক রোগির পরিমান কয়েকশো কোটি । 

সিজোফ্রেনিয়াঃ মাছের তেল খেলে সারতে পারে সিজোফ্রেনিয়া রোগ 

সিজোফ্রেনিয়া - এক মারাত্মক মানসিক ব্যাধি । এই রোগে আক্রান্ত মানুষেরা কোনটা আসল কোনটা নকল বুঝতে পারে না । তারা কল্পনার জগতে বসবাস করে আর কল্পনার জগতকেই আসল ভেবে নিয়ে ভয় পেতে থাকে । এই রোগ নিরাময়ের এখনো কোনো যুগান্তকারী ওষুধ আবিষ্কার হয়নি । সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রমান পাওয়া গেছে যে কয়েক মাস ধরে খাবারের সাথে মাছের তেল খেলে  সিজফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত রুগীদের চোখে পড়ার মত উন্নতি হচ্ছে  । কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসার জেফ্রি লিবারম্যান বলেছেন এই বিষয়টির উপর ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে খুব তাড়াতাড়ি নিশ্চিত তথ্য উপস্থাপন করা হবে ।


 কানের ভিতর ঝিঁঝিঁঃ কানের ভিতরে আওয়াজ শুনি কেন  ? 

ফাঁকা ঘরে চুপচাপ বসে থাকলে কানের মধ্যে ঝিঁঝিঁর ডাকের মত শব্দ খুব স্পষ্ট শোনা যায় । এই আওয়াজটি আসলে কিসের ? হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ওটোলেয়ারিঙ্গলজিস্ট Stéphane Maison এর মত অনুযায়ী - কানের ভিতরে কক্লিয়াতে থাকা ছোট ছোট লোম হাওয়ার ঘষা খেয়ে অতি মৃদু স্থির তড়িৎ উৎপন্ন করে । কাছেই থাকা কক্লিয়া এই তড়িৎ সিগন্যাল ক্যাচ করে ব্রেনে শব্দ তরঙ্গ আকারে পাঠিয়ে দেয় । একনাগাড়ে মৃদু তড়িৎ উৎপন্ন হতে থাকায় আমরা ঝিঁঝিঁর ডাকের মতো আওয়াজ শুনতে পাই । 


ভাইরাসঃ  কি ছেলে মেয়ে বিভেদ করে ? 

একই রোগের ভাইরাস মেয়েদের থেকে ছেলেদেরকে অনেক বেশি কষ্ট দেয় ।  লন্ডনের রয়্যাল হলওয়ে ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল গবেষকদের দল সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রমান পেয়েছেন - ভাইরাস লিঙ্গ অনুযায়ী আলাদা আচরন করে । পুরুষ দেহে ভাইরাসের কার্যকলাপ অনেক বেশী আক্রমণাত্মক , কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ভাইরাস একটু শান্ত শিষ্ট থাকতে পছন্দ করে । বিজ্ঞানীরা বলছেন ভাইরাসের এমন আচরনের কারনটি বেশ ভয়াবহ । পুরুষ দেহে প্রবেশকারী ভাইরাসের বৃদ্ধি আর মৃত্যু ঐ দেহের মধ্যে হয়ে যায় , কিন্তু নারী দেহে প্রবেশকারী ভাইরাস সুযোগ পায় পরবর্তী প্রজন্মে প্রবেশ করার এবং প্রভাব বিস্তার করার । এই চরম কারনেই প্রাথমিক ভাবে ভাইরাস নারীদেহে কম চঞ্চলতা দেখায় । 


কিডনিঃ  প্রধান যে ৬টি কারনে কিডনি ড্যামেজ হয় সেগুলি হল  

১। বেগ চাপলেও , অনেকক্ষণ ধরে মূত্রত্যাগ না করা । এক, দু দিনে তেমন ক্ষতি হয় না কিন্তু ঘন ঘন এমন করলে কিডনির ১২ টা বাজতে সময় লাগে না । 
২। সারাদিনে পরিমান মত জল না খওয়া । একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সারাদিনে ৩ লিটারের থেকে কম জল খেলে কিডনি বেশিদিন টিকবে না । মহিলাদের ক্ষেত্রে ২.২ লিটার । 
৩। পাতে অতিরিক্ত লবন , কিডনির জন্য বিষ । 
৪। দৈনিক মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন যুক্ত খাবার খেলে কিডনির চরম সর্বনাশ হয় ।
৫। পেইনকিলার শুধু পেইন কিল করে না , কিডনি কেউ কিল করতে থাকে । ঘন ঘন পেইনকিলার কিডনি ড্যামেজের কারন ।
৬। মদ্যপান - অপরিমিত হলে কিডনি রিপ্লেসমেন্ট করা ছাড়া উপায় নেই ।  


হাড়ক্ষয়ঃ  হাড়ের ক্ষয় কমাতে অ্যা্মনিওটিক তরলের ব্যবহার 


বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমতে থাকে । দ্রূত ক্ষয় হতে থাকে মেরুদন্ড আর পায়ের হাড় । বয়স বাড়ার আগেও কোনো রোগের প্রভাবে হাড় ক্ষয়ে যেতে পারে । এছাড়াও ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের অভাবে বাচ্চাদের হাড় ক্ষয় বা দুর্বল হয়ে যেতে পারে । হাড় ক্ষয়ের মত এমন মারাত্মক সমস্যার সমাধানে আবিষ্কার হল এক জীবন পরিবর্তনকারী ইঞ্জেকশান । গর্ভবতী মহিলার দেহ থেকে নেওয়া কোষের সাহায্যে তৈরি করা হবে এই ইঞ্জেকশান । গর্ভবতী ইঁদুরের জরায়ূর মধ্যে, ভ্রূনের পার্শ্ববর্তী স্থানের অ্যা্মনিওটিক তরল সংগ্রহ করে University College London এবং Great Ormond Street Hospital এর গবেষকরা এই পরীক্ষা করেছেন । এই পরীক্ষায় দেখা গেছে গর্ভের এই তরল দিয়ে তৈরি ইঞ্জেকশান বয়স্ক ইঁদুরের দেহে দিলে হাড়ের ক্ষয় ৭৮% কমে যাচ্ছে । শুধুমাত্র আমেরিকাতেই বছরে ৩০ লক্ষ লোক অস্টিওপরোসিস রোগে আক্রান্ত হয় । গড়ে প্রতি বছর ৫ লক্ষ লোকের হাড় ভাঙে । বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এই ইঞ্জেকশান শরীরে এমন শক্তি তৈরি করবে যা হাড় ক্ষয় রোধ করার সাথে সাথে ভেঙে যাওয়া হাড় সারাতে মূখ্য ভুমিকা গ্রহন করবে । ইউনিভার্সিটির প্রোফেসার Dr Pascale Guillot যিনি এই রিসার্চে মূখ্য ভুমিকা গ্রহন করেছেন তাঁর মতে এই আবিষ্কারে সারা বিশ্বের মানুষ উপকৃত হবে । 



লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন 
কঠিন ৯টি রোগের সহজ প্রতিকার ও সাবধানতা জেনে নিন কঠিন ৯টি রোগের সহজ প্রতিকার ও সাবধানতা জেনে নিন Reviewed by Kona Dey Chakraborty on September 03, 2018 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.