মুদি দোকানদারের ' কাঁদুনে ' ছেলেই হয়ে উঠল জগতসেরা বিজ্ঞানী - মেঘনাদ সাহা

মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩ খ্রি. - ১৯৫৬ খ্রি.)


বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জেলার একটি গ্রাম। ঢাকা শহর থেকে গ্রামটির দূরত্ব প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার। দক্ষিণ থেকে উত্তরে আঁকাবাঁকা পথে এগিয়ে গেছে এক ছোট্ট নদী। তার ধার ঘেঁষে গ্রামটি গড়ে উঠেছে।
বর্ষার সময় দুকূল প্লাবিত হয়। জলমগ্ন হয় পথঘাট। তখন নৌকো চেপে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয়। গ্রামটির নাম শেওড়াতলি। আজ থেকে ১১২ বছর আগে এই গ্রামে জন্মেছিলেন মেঘনাদ সাহা। তাঁর জন্মতারিখটি হল ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ৬ই অক্টোবর। তাঁদের বাবার নাম জগন্নাথ সাহা ও মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। পাঁচ কন্যা ও তিন পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম সন্তান। পুত্রদের মধ্যে তৃতীয়।
অশ্বিনের এক ঝড়ের রাতে মেঘনাদের জন্ম হয়েছিল। ঝরজঞ্ঝার মধ্যে জন্ম বলে ঠাকুমা বরুন দেবতাকে স্মরণ করে নাতির নামকরণ করেছিলেন 'মেঘনাদ'। পরবর্তীকালে মেঘনাদ নিজের নামের শেষ অক্ষরটি পাল্টে ছিলেন। সম্ভবত মাইকেল মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত 'মেঘনাদবধ' কাব্য তাঁকে প্রভাবিত করে থাকবে।
জগন্নাথের ছিল মুদির দোকান। দোকানের আয় থেকে এত বড় পরিবারটি সচ্ছলভাবে চলত না। জগন্নাথ ও তাঁর স্ত্রী ভুবনেশ্বরী দেবী উভয়ই ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী। ছেলেমেয়েদের বড়ো করে তোলায় তাঁদের ত্যাগ ছিল অসামান্য।
জগন্নাথ ছিলেন রুক্ষ মেজাজের মানুষ। তুলনায় মা ছিলেন শান্ত, স্থির এবং বুদ্ধিমতী। দারিদ্র্যের সঙ্গে তাঁকে নিরন্তর সংগ্রাম করতে হত। তবুও তাঁর সুনিপুন গৃহিনীপনায় মাটির বাড়িটিতে ছিল শ্রী এবং সুললিত শান্তি।
মায়ের সঙ্গে মেঘনাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। মায়ের বাক্য তিনি বেদবাক্য হিসেবে মানতেন। ছোটবেলায় কোনো একটি কারণে মা তাঁকে পূর্বদিকের জানালাটি খুলে রেখে শুতে বারন করেছিলেন। সেই নিষেধাঞ্জাটি তিনি সারাজীবন মনে রেখেছিলেন। যুক্তিবাদী মানুষদের এই সারল্য লক্ষ্য করার মতো।
মেঘনাদ ছিলেন সুস্থ সবল শিশু। ছোটবেলায় তিনি পাল্লা দিয়ে সাঁতার কাটাতেন, নৌকা চালাতেন, যখন-তখন বন্ধুদের সঙ্গে হই-হুল্লোড়ে মেতে উঠতেন।
সেখানকার পরিবেশ শিক্ষার অনুকূল ছিল না। জগন্নাথ তাঁর বড়ো ছেলে জয়নাথকে ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বড়ো ছেলে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। তাই জগন্নাথ ভেবেছিলেন অন্য ছেলেদের আর লেখাপড়া শেখাবেন না। বড়ো হলেই তাদের মুদিখানায় বসিয়ে দেবেন। 
সেইমতো বর্ণপরিচয় এর পাঠ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘনাদকে দোকানে বসতে হয়েছিল। এছাড়া তিনদিন তাঁকে বিভিন্ন বাজারে জিনিসপত্র বিক্রি করতে যেতে হত। বাবাও সঙ্গে থাকতেন। মাথায় ছাতা, সঙ্গে খাবারদাবার, হাতে বই নিয়ে মেঘনাদ চলছেন দোকান দেখতে, এই ছিল শেওরাতলি গ্রামের অতি পরিচিত দৃশ্য।
তাসত্ত্বেও সাত বছর বয়সে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন মেঘনাদ। সেখানকার শিক্ষকদের মধ্যে শশীভূষণ চক্রবর্তী এবং যতীন চক্রবর্তীর নাম করা যায়। তাঁরা মেঘনাদের অসাধারন স্মৃতিশক্তি এবং মেধার পরিচয় পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ! মেঘনাদ সব বিষয়ে তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করতেন। যা শিখতেন তা ভুলতেন না। যাতে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন সে-বিষয়ে শিক্ষকদের বিশেষ আগ্রহ ছিল।
খুব ভোরে উঠে মেঘনাদ পড়তে বসতেন। শৈশবের এই অভ্যাস পরিনত বয়স পর্যন্ত বজায় রেখেছিলেন তিনি। যদি কোনোদিন ঘুম ভাঙতে দেরি হত তাহলে মায়ের আঁচল ধরে কাঁদতে বসতেন। স্লেট, পেন্সিল বা বই না পেলেও একই অবস্থা। আঞ্চলিক ভাষায় তাই মেঘনাদকে 'কাঁদুনে' বলে ডাকা হত।
প্রাইমারি স্কুলের পড়া শেষ হয়ে গেল। শিক্ষকেরা এলেন তাঁর বাবার কাছে। মেঘনাদকে হাইস্কুলে ভর্তি করতে হবে। শেওরাতলি গ্রামে হাইস্কুলের ব্যবস্থা নেই। এদিকে দূরে কোথাও ছেলেকে রেখে পড়াবার মতো আর্থিক সঙ্গতি ছিল না বাবা জগন্নাথের। শেষ অবধি বড়দা জয়নাথ এগিয়ে এলেন। তিনি বাবাকে রাজি করলেন।
সেসময় ঢাকা জেলার দক্ষিণ দিকে উচ্চশিক্ষার ইংরাজি বিদ্যালয় ছিল। শিমুলিয়াতে ছিল একটি মিডল ইংরাজি বিদ্যালয়। সেখানেই মেঘনাদকে ভর্তি করা হল। থাকতেন তিনি এক ডাক্তারের বাড়িতে। বিনা ব্যয়ে খাওয়াদাওয়া জুটত। অবশ্য শর্ত ছিল এরজন্য তাঁকে গৃহকর্মে সাহায্য করতে হবে।
শুরু হল মেঘনাদের কঠিন কঠোর জীবনযাত্রা। স্কুল থেকে ফিরে এসে অনেক কাজ করতে হত তাঁকে। এঁটো বাসন মাজতে হত, ঘর পরিষ্কার করতে হত। তবুও কেউ তাঁকে সংকল্প থেকে টলাতে পারেনি।
পরবর্তীকালে তিনি বার বার সেই দিনগুলোর কথা মনে করছেন। তিনি বলেছেন 'ছাত্রজীবনের সূচনায় এই সাহায্য না পেলে তিনি কখনোই বড়ো বিজ্ঞানী হতে পারতেন না।'
শিমুলিয়াতে শ্যামাপ্রসাদ মিডল হাইস্কুলে পড়তেন মেঘনাদ। এখানে তিনি কয়েকজন আদর্শ শিক্ষকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে গণিত শিক্ষক প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তীর নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
সপ্তাহের শেষে সাত মাইল পথ হেঁটে বাড়িতে যেতেন। এই অভ্যাস তিনি জীবনের শেষদিন অব্দি বজায় রেখেছিলেন।
ঢাকা জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম বৃত্তিসহ মিডল স্কুল থেকে পাশ করলেন - ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে। ভর্তি হলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে। বৃত্তির পরিমান ছিল মাসে চার টাকা। এছাড়া দাদা দিতেন পাঁচ টাকা এবং ঢাকার বৈশ্য সমিতি দিত দুটাকা। এই এগারো টাকা দিয়ে তাঁকে সারা মাসের থেকে ও খাওয়া চালাতো হত।
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এসে মেঘনাদ বৃহত্তর পটভূমির মধ্যে পড়লেন। নানা ধরনের বিদগধ মানুষের সংস্পর্শে এলেন। এখানে সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিতের অধ্যাপক নিখিলরঞ্জন সেনকে।
যে বছর তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন সে বছরই কার্জনের নির্দেশে বাংলাদেশকে দ্বিখন্ডিত করা হয়। বঙ্গভঙ্গের এই নির্দেশে বাংলাদেশকে দ্বিখন্ডিত করা হয়। বঙ্গভঙ্গের এই নির্দেশের প্রতিবাদে সারা দেশে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল। দেখতে দেখতে শিমুলিয়ার মতো সুদূর গ্রামাঞ্চলেও সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ল।
একদিন ছোটলাট ফুলার এলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে। ছেলেরা ঠিক করেছিলেন তাঁরা ক্লাস বয়কট করবেন। মেঘনাদও এই আন্দোলনে সামিল হলেন। অবশ্য এই বয়কটের ফল ভালো হয়নি। তাঁকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা হল। স্কলারশিপও বন্ধ হয়ে গেল।
এবার তিনি ভর্তি হলেন কিশোরীলাল জুবিলি স্কুলে। এটি একটি প্রাইভেট স্কুল। এরই পাশাপাশি তিনি ঢাকায় ব্যাপটিস্ট মিশনের বাইবেল ক্লাসে যোগ দিয়েছিলেন। সারা বাংলার সমস্ত শ্রেণীর ছাত্রদের মধ্যে সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তিনি প্রথম হলেন। পুরস্কার স্বরূপ, একটা বড়ো আকারের মুদ্রিত বাইবেল পেলেন। পেলেন নগদ একশো টাকা পুরস্কার।
ছুটি পেলেই তিনি চলে আসতেন গ্রামের বাড়িতে। সহজ গ্রাম্যজীবন এবং গ্রাম্য পরিবেশের মধ্যেই তাঁর শৈশব এবং কৈশোরের দিনগুলি কেটে যায়। বাড়িতে এসে হা-ডু-ডু খেলতেন, নৌকা বাইতেন, সাঁতারে গা ভাসিয়ে সময় কাটাতেন। গৃহস্থালির কাজে সাহায্য করতেন জগন্নাথকে। বাড়ির গোরুগুলিকে মাঠে চড়ানো এবং নদীতে স্নান করানোর কাজে বাবার সঙ্গে থাকতেন। সন্ধ্যের পর ছোটো ভাইদের পড়াতেন।
১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি পূর্ববঙ্গের সমস্ত স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে প্রথম হয়ে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। গণিত, ইংরাজি, বাংলা ও সংস্কৃতে মিলিতভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। স্কুল জীবনে প্রবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত তাঁর ওপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর অসাধারন ব্যুৎপত্তি ছিল। পঞ্জিকা এবং গণিত শাস্ত্রেও তিনি ছিলেন পারদর্শী।
স্কুলে মেঘনাদের ভালো লাগত গণিত এবং ইতিহাস। উৎসাহের সঙ্গে পড়তেন টডের রাজস্থানের কাহিনী। রাজপুত ও মারাঠা যোদ্ধাদের ইতিহাসও তাঁকে বার বার উদবুদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কথা ও কাহিনী' এবং মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' ছিল তাঁর প্রিয় গ্রন্থ।
ভারতীয় যোদ্ধাদের ভুমিকাতেও তিনি অনুপ্রাণিত হতেন, একাত্মবোধ করতেন এইসব আদর্শ চরিত্রের সঙ্গে।
স্কুলের পাঠ শেষ করে তিনি এলেন ঢাকা কলেজে। ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হলেন। তখন রসায়ন পড়াতেন অধ্যাপক ই. সি. ওয়াটসন সাহেব। ইংরাজি পড়াতেন অধ্যক্ষ ডব্লু জি. এ. আর্চপল, পদার্থবিদ্যায় ছিলেন বি এন দাস, গণিতে নরেশচন্দ্র বোস এবং কে পি বোস। এছাড়া মেঘনাদ জার্মান ভাষা শিক্ষা নিতেন অধ্যাপক নরেন্দ্রনাথ সেনের কাছে। এটি ছিল তাঁর অ্যাডিশনাল সাবজেক্ট বা চতুর্থ বিষয়।
ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার আগে মেঘনাদ ভয়ানক বিপদে পড়েছিলেন। ফি-র জন্য যে টাকা জোগাড় করেছিলেন, টেস্ট পরীক্ষার আগে সেই টাকা বালিশের তলা থেকে চুরি হয়ে যায়। পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসছে, ফি কি করে জমা দেবেন? শেষ অবধি মায়ের অবশিষ্ট সোনার গয়না বন্ধক দিয়ে মেঘনাদের পরীক্ষার ফি সংগৃহিত হয়। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষাতে তিনি তৃতীয় হয়েছিলেন। জার্মান ভাষায় আশানুরূপ ফল না হওয়াতে তিনি প্রথম হতে পারেননি। তবে এই ভাষা শিক্ষা ভবিষ্যৎ জীবনে তাঁর কাজে এসেছিল।
রসায়ন এবং অঙ্কে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। এবার তাঁকে ডাক দিয়েছে মহানগরী কলকাতা। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে তিনি গণিতে অনার্স নিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে বি এস সি ক্লাসে ভর্তি হলেন। এর সঙ্গে ছিল পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন। বৃত্তির টাকাই তখন তাঁর একমাত্র সম্বল ছিল। আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য একেবারেই ছিল না। এভাবেই তাঁর ছাত্রজীবন অতিবাহিত হয়।
প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি যে অধ্যাপকমন্ডলী পেয়েছিলেন তা তাঁকে উদ্দীপ্ত করেছিল। পেয়েছিলেন একাধিক কৃতী ছাত্রকে সহপাঠী হিসেবে। পরিচয় হয়েছিল অনেকের সঙ্গে। ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও অন্যান্যরা।
প্রেসিডেন্সিতে পদার্থবিদ্যা পড়াতেন অধ্যাপক জগদীশচন্দ্র বসু, রসায়নে প্রফুল্লচন্দ্র রায়, গণিতে অধ্যাপক ডি এন মল্লিক এবং সি ভি কালিশ।
পড়াশোনাতে পাশাপাশি সামাজিক কাজেও মেঘনাদ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে দামোদরে প্রবল বন্যা হয়েছিল। প্রফুল্লচন্দ্র তাঁর ছাত্রদের নিয়ে ত্রাণকার্য শুরু করলেন। এই প্রথম বন্যার ক্ষয়ক্ষতি চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করলেন মেঘনাদ। তিনি বহুদিন গ্রামে থেকে বন্যার্তদের সাহায্য করেছিলেন।
প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হবার পর তিনি দুবছর হিন্দু হোস্টেলে কাটিয়েছিলেন। এরপর মেসে চলে আসেন। ১৯১৩ সালে তিনি প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেন। প্রথম হয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ।
এরপর ফলিত গণিতে এম এস সি ক্লাসে ভর্তি হলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। সেই পরীক্ষাতেও সত্যেন্দ্রনাথ প্রথম হন, তিনি হলেন দ্বিতীয়।
এবার তাকে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে হবে। একসময় ভেবেছিলেন ভারতীয় ফাইন্যান্সের পরীক্ষায় বসবেন। কিন্তু এই পরীক্ষায় বসার অনুমতি তিনি পেলেন না। বলা হল, তাঁর সঙ্গে বিপ্লবীদের যোগাযোগ আছে। তাই তাকে এই উঁচু পদে কখনোই বসানো যাবে না।
হয়তো ভালোই হল, তা নাহলে আমরা এক দক্ষ প্রশাসক মেঘনাদকে পেতাম, বিজ্ঞানী মেঘনাদ কোথায় হারিয়ে যেতেন।
এর পরে পরেই আমরা অধ্যাপক হিসেবে মেঘনাদকে দেখতে পেলাম। তখন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। মেঘনাদ যোগ দিলেন সেখানে। শুরু হল বৃহত্তর অঙ্গনে তার উৎসাহী পদক্ষেপ।
এই হলেন মেঘনাদ সাহা। সারা জীবন তিনি বিজ্ঞানসাধক হিসেবেই কাটিয়ে দিলেন। বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণা করেছেন। গবেষণা করেছেন জাতীয় সময় পঞ্জিকা নিয়ে। নদীকেন্দ্রিক ভারতবর্ষের চেহারা কেমন হবে তা নির্ধারিত করেছেন। শেষ অব্দি রাজনীতির আবর্তে জড়িয়ে পড়েন। সংসদ হয়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন লোকসভাতে। তার ভাষণ শুনে বিরোধী পক্ষের লোকেরা অবাক হয়ে যেতেন।
পদার্থ বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা সমীকরণ নামে একটি মূল্যবান সূত্র আবিষ্কার করেন। এই সূত্র থেকে বিভিন্ন চাপে এবং উষ্ণতায় কোনো পদার্থের আয়তনের মাত্রা কত হবে সেটা জানা যায়। তার রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ' দি প্রিন্সিপাল অব রিলেটিভিটি', 'ত্রিটাইজ অন মর্ডান ফিজিক্স', 'জুনিয়র টেক্সট বুক অব হিট উইথ মেটিওরোলজি'।
১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে ১৬ই ফেব্রুয়ারি তারিখে দিল্লিতে প্ল্যানিং কমিশনের সভায় যোগদান করতে যাওয়ার সময় এই মহান বিজ্ঞানীর আকস্মিক জীবনাপাত হয়।



ভালো জিনিস শেয়ার করে খুব কম লোক , বাঙালীর গর্ব মেঘনাদ সাহা । তাঁর জীবনী শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন । 
মুদি দোকানদারের ' কাঁদুনে ' ছেলেই হয়ে উঠল জগতসেরা বিজ্ঞানী - মেঘনাদ সাহা মুদি দোকানদারের ' কাঁদুনে ' ছেলেই হয়ে উঠল জগতসেরা বিজ্ঞানী - মেঘনাদ সাহা Reviewed by Kona Dey Chakraborty on February 12, 2019 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.